Blog

  • খালিশপুরে দারুল কুরআন দাখিল মাদ্রাসার ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় পুরস্কার বিতরণ

    খালিশপুরে দারুল কুরআন দাখিল মাদ্রাসার ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় পুরস্কার বিতরণ

    খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বুধবার দুপুরে খালিশপুরে কেসিসি পরিচালিত দারুল কুরআন দাখিল মাদ্রাসার বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বলেছেন, ধর্মীয় শিক্ষা জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একজন মুসলিম হিসেবে শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষায় গড়ে তোলা প্রয়োজন, কারণ ধর্মীয় শিক্ষাই তাদের নৈতিক ও মানবিক গুণাবলি গড়ে তুলতে সহায়তা করে।

    মাদ্রাসাটিকে একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক ও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে—এমনটাই তার আহ্বান। তিনি উপস্থিত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, শিক্ষাদানে আরও আন্তরিক হলে প্রতিষ্ঠানটি সমাজে আরও বেশি আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করবে।

    মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, দারুল কুরআন দাখিল মাদ্রাসায় প্রথম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৪০০জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। চলতি বছরে পঞ্চম শ্রেণির ৯জন এবং অষ্টম শ্রেণির ২জন শিক্ষার্থী ট্যালেন্ট পুল ও সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে, যাদের মধ্যে কৃতি শিক্ষার্থীদের কৃতিত্ব বিশেষভাবে সম্মানিত করা হয়।

    প্রশাসক নিজে বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থী ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন এবং মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।

    অনুষ্ঠানটি মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার নাজমুন্নাহার বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেসিসি’র সাবেক কাউন্সিলর আবু সালেক, মাস্টার শফিকুল আলম, সাবেক শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা এসকেএম তাছাদুজ্জামান, খালিশপুর কলেজিয়েট গার্লস স্কুলের অধ্যক্ষ মোঃ শহিদুল আলম এবং সমাজসেবক মোঃ জাহিদুর রহমান রিপন। স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

  • হত্যাচেষ্টা মামলায় আরএস ফাহিমকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে

    হত্যাচেষ্টা মামলায় আরএস ফাহিমকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে

    কনটেন্ট ক্রিয়েটর আরএস ফাহিমকে হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। আজ সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম শুনানি শেষে মোহাম্মদপুর থানায় দায়ের করা ওই হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখান।

    আদালতে হাজির করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক মমিনুল ইসলাম তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমনও সেই আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন। শুনানি শেষে-magistrate তাকে গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ দেন। এরপর পুলিশ তাকে আদালতের হাজতখানায় নিয়ে যায়।

    পূর্বে রোববার (২৯ মার্চ) বিকাল চারটার দিকে রাজধানীর মিরপুর চিড়িয়াখানার সামনে থেকে জনতা ও একদল শিক্ষার্থী আরএস ফাহিমকে আটক করে। পরে তারা তাকে শাহআলি থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে; পরে তাকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ৩০ মার্চ গুলশান থানা তাকে মো. ইমরান হত্যার মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠায়।

    সূত্র জানায়, গত ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় মোহাম্মদপুরের বছিলা এলাকার র‌্যাব কোয়ার্টারের সামনে এক মিছিলে বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় মাসুদ হোসাইন আহত হন এবং হাসপাতালে চিকিৎসা নেন; পরে বুকে সংক্রমণের সমস্যা দেখা দেওয়ায় তাকে অপারেশনও করতে হয়।

    এর আগে গত বছরের ২৪ আগস্ট আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও টেলিভিশনের এক প্রতিষ্ঠানের মালিক নাসির উদ্দিন সাথীর ছেলে তৌহিদ আফ্রিদের বরিশাল থেকে আটক করে যাত্রাবাড়ী থানার একটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। সেই ঘটনায় এবং চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে তরুণ স্টান্ট রাইডার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর আরএস ফাহিমের নামও বারবার আলোচনায় উঠে আসে। তদন্তমুখী ধারায় তার প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকা অবস্থান নিয়েও বিতর্ক রয়েছে।

  • পানমশলা বিজ্ঞাপন মামলায় সাময়িক রেহাই পেলেন সালমান খান

    পানমশলা বিজ্ঞাপন মামলায় সাময়িক রেহাই পেলেন সালমান খান

    পানমশলা বিজ্ঞাপনের মামলায় προσωριν রেহাই পেলেন নায়ক সালমান খান। অনুপস্থিতির কারণে একাধিক শুনানির পর আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করলেও এবার রাজস্থান হাই কোর্ট ওই আদেশে স্থগিতাদেশ দিয়েছে। ফলে ১৩ এপ্রিল জয়পুর জেলা উপভোক্তা কমিশন-২-এ হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ পালন করতে এখন তার বাধ্যবাধকতা নেই।

    অভিযোগকারী যোগেন্দ্র সিংহ বদিয়াল দোষিয়ার করেছেন যে সালমান একটি পানমশলার বিজ্ঞাপনে কাজ করেছিলেন, যেখানে পণ্যটি ‘জাফরান বা এলাচ মিশ্রিত’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, অথচ প্রকৃতপক্ষে তা বাস্তবসঙ্গত নয়—এতে ক্রেতারা বিভ্রান্ত হচ্ছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই বছরের শুরুতে উপভোক্তা কমিশন ওই পণ্যের প্রচারে অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল।

    তবু পরে জয়পুর ও কোটার মতো শহরে বিলবোর্ডসহ বিজ্ঞাপন দেখা যাওয়ায় কমিশন মনে করে তাদের নির্দেশনা উপেক্ষা করা হয়েছে। অনুপস্থিত থাকার কারণে সালমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পর আদালতে আপিল করে তিনি সাময়িকভাবে রেহাই পেয়েছেন।

    ব্যক্তিগতভাবে বর্তমানে সালমান তার নতুন ছবি ‘মাতৃভূমি’ নিয়ে ব্যস্ত; শুটিং ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। এই ছবির প্রাথমিক শিরোনাম ছিল ‘ব্যাটল অফ গলওয়ান’।

  • জাতির পিতার পরিবারের বিশেষ নিরাপত্তা আইন বাতিল

    জাতির পিতার পরিবারের বিশেষ নিরাপত্তা আইন বাতিল

    জাতীয় সংসদ ‘জাতির পিতার পরিবার-সদস্যগণের নিরাপত্তা আইন, ২০০৯’ রহিত করে বিল পাস করেছে। এ নিয়ে শেখ পরিবারের জন্য বরাদ্দকৃত বিশেষ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও অন্যান্য সুবিধা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

    বুধবার (৮ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ১১তম দিনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) সভাপতি থাকায় রহিতকরণ বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ; অধ্যাদেশ আকারে জারি হওয়া নীতিটির বিলীতে রূপান্তর এভাবেই সম্পন্ন হলো।

    বিলটির কারণবিহিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ১৫ অক্টোবর ২০০৯ সালে গেজেট আকারে জারি করা ওই আইন ও পরে ২৫ মে ২০১৫ সালে প্রদত্ত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কেবল একটি পরিবারের সদস্যদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ও সুবিধা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এ ধরনের একতরফা রাষ্ট্রীয় সুবিধা প্রদানকে বিবৃতিতে ‘স্পষ্ট বৈষম্য’ হিসেবে উল্লেখ করে তা দূর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

    অন্তর্বর্তী সরকারের তৎপরতায় নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির অনুমোদনে ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ‘জাতির পিতার পরিবার-সদস্যগণের নিরাপত্তা (রহিতকরণ) অধ্যাদেশ, ২০২৪’ জারি করা হয়। সেই অধ্যাদেশকে এখন সংসদ স্থায়ী বিল আকারে অনুমোদন করেছে।

    উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সংশ্লিষ্ট আইনের আওতায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবিত দুই কন্যা ও তাঁদের সন্তানদের জন্য আজীবন বিশেষ নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় বাসভবনসহ বিভিন্ন সুবিধা প্রদানের ব্যবস্থা ছিল। বুধবার বিল পাসের মাধ্যমে ওই আইনি বাধ্যবাধকতা ও বিশেষ সুবিধাগুলো বিলুপ্ত হয়ে গেল।

  • সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহ: বিসিবি এখন ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’ হয়ে গেছে

    সংসদে হাসনাত আবদুল্লাহ: বিসিবি এখন ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’ হয়ে গেছে

    কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নগন্যভাবে দলীয়করণ করা হচ্ছে। তিনি মনে করছেন এটি শুধু একক কোনো সংস্থার নয়, দেশের সংবিধান-প্রতিষ্ঠানের গভীর সংকটের ইঙ্গিত।

    বুধবার (৮ এপ্রিল) সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১১ দিনের বিকেলের সেশনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) আইন, ২০২৬’ উত্থাপনের পর দাঁড়িয়ে তিনি এসব কথা বলেন। তাঁর ভাষ্য, ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ ব্যাংক দখল করা হয়েছে এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান থেকে ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’ হিসেবে পরিণত হয়েছে।

    হাসনাত বলেন, বলাবলি করা হচ্ছে যে বিলটিতে ‘কমিশন’ বলতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে বুঝানো হয়েছে। বিলের সংজ্ঞায় ‘বিশৃঙ্খলার পরিস্থিতির অপরাধমূলক অপব্যবহার’—এর মতো পর্যায়বোধগুলো আছে, যেখানে রাজনৈতিক প্রতিরোধ ও গণতান্ত্রিক পুনরুদ্ধারের উদ্দেশ্যে সংঘটিত কার্যক্রমগুলোকেও একই চিমটে ধরা হতে পারে। অর্থাৎ সংকীর্ণ বা ব্যক্তিগত স্বার্থে সংঘটিত অপরাধ-মূলক কার্যক্রম ও গণতান্ত্রিক পুনরুদ্ধারমূলক কর্মসূচির মধ্যে পার্থক্য করা হলেও আইন প্রয়োগে তা অস্পষ্টভাবে দেখানো যেতে পারে।

    তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সংকীর্ণ স্বার্থে সংঘটিত যে হত্যাকাণ্ড বা সহিংসতার ধারা আছে—সেগুলোকে কে কিভাবে সংজ্ঞায়িত করবে? এই দায়িত্ব পড়বে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ওপর। চাকরিভিত্তিক ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি কমিশন কীভাবে নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যায়।

    হাসনাত আরও উল্লেখ করেন, ওই কমিশনের উপর যে অধ্যাদেশ বা বিধান রয়েছে সেগুলো ল্যাপস করে দেওয়ার প্রস্তাব চলছে। যদি কমিশন ২০০৯ সালের মডেলে ফের ফিরে যায়, তাহলে সেটি কার্যত সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন হবে—এমনকি বিরোধী দল কিংবা অনুচিত মতকে দমনের জন্যও ব্যবহৃত হতে পারে। তিনি বললেন, এর ফলে ভিকটিম ব্লেমিং, গুম বা হত্যার ‘বৈধতা’ তৈরির মতো অনুচিত ব্যবহারও সম্ভব।

    তিনি বলেন, যদি আমরা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে কোনো মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাখি—বিশেষত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের—তাহলে যে অনুসন্ধানগুলো পরিচালিত হবে সেগুলো নিরপেক্ষ হবে কি না, সে বিষয়ে আমরা সন্দিহিত। তাঁদের মতে, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নিরীক্ষণ নিশ্চিত করতে হলে কমিশনকে অবশ্যই স্বায়ত্তশাসিত করে তোলা দরকার।

    একদিকে তিনি জানান, যারা সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত ও নিপীড়িত হয়েছেন, তারাই কমিশনকে মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাখতে চায়—তাকে তারা নিরাপদ মনে করে। অন্যদিকে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘এই অজুহাতে যদি কমিশন অটোনমাস করা হয়, তাহলে তার জবাবদিহিতা কিভাবে নিশ্চিত করা হবে?’—এমন দ্ব্যর্থহীন প্রশ্নও উত্থাপিত হয়।

    শেষে হাসনাত আবদুল্লাহ সতর্ক করে বলেন, বাস্তবে যদি আমরা এখনকার মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর দলীয়করণের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নি, তাহলে ভবিষ্যতে আমরা আবার দেখতে পারি বিসিবির মতো ‘বাপের দোয়া’ কমিশন, বাংলাদেশের মতো ব্যাংকগুলোর দলীয়করণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে চলতি সেই একপক্ষীয় দলীয়করণ। তাই বিল পাসের আগে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের স্বচ্ছতা ও স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা কঠোরভাবে জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

  • সংবিধান সংস্কার ও গণভোট রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় জোটের চার দিনের কর্মসূচি

    সংবিধান সংস্কার ও গণভোট রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় জোটের চার দিনের কর্মসূচি

    সংবিধান সংস্কার পরিষদ আহ্বান ও গণভোটের রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবিতে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোট দেশব্যাপী চার দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাজধানীর মগবাজারে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।

    মাওলানা মামুনুল হক বলেন, সরকার মানুষের ম্যান্ডেটকে উপেক্ষা করে যাচ্ছেন এবং সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে নির্বাচনের আগে যে ঐকমত্য ছিল, তা ধীরে ধীরে ভাঙাচোরা করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার জনআকাঙ্ক্ষাকে অগ্রাহ্য করে একদলীয় ফ্যাসিবাদী নীতির পথে এগোচ্ছে এবং সরকারের সমালোচনায় নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। তিনি জানান, নব্য ফ্যাসিবাদকে যেকোনো মূল্যে রুখে দেবে ১১ দলীয় ঐক্য।

    জোটের কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ৯ এপ্রিল বিকেলে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পক্ষে সপ্তাহব্যাপী লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে। তারপর ১১ এপ্রিল সারা দেশের উপজেলা ও থানায় বিক্ষোভ মিছিল, ১২ এপ্রিল প্রতিটি জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল এবং ১৩ এপ্রিল ঢাকায় গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পক্ষে একটি জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে—এমনটাই জানানো হয়েছে।

    এ সময় জামায়াতে ইসলামের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার মন্তব্য করে বলেন, সরকারই বিরোধীদলকে রাজপথে আন্দোলনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি বলেন, বিএনপির কর্মকাণ্ড জাতিকে হতবাক ও বিস্মিত করে তুলেছে; গণভোটের রায়ে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট পরিস্থিতি ইতিমধ্যেই স্থগিত করে দিয়েছে এবং সংসদে মাত্র একজন ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের কারণে সংবিধান নিয়ে সংকট সৃষ্টি হচ্ছে।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও অভিযোগ করেন, জ্বালানি সংকট নিয়ে সংসদে বিরোধীদলকে কথা বলতে দেয়া হচ্ছে না এবং দিল্লির বিরুদ্ধে যারা অবস্থান নিচ্ছেন তাদের সরকার ‘‘রাজাকার’’ হিসেবে ট্যাগ দিচ্ছে। তিনি বিএনপিকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ করেকা এগিয়ে আসুক এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করুক।

    জোট নেতারা আশা প্রকাশ করেছেন যে তাদের ঘোষিত দেশব্যাপী কর্মসূচি সরকারের নীতির বিরুদ্ধে জনমত তুলে ধরবে এবং সংবিধান সংস্কারের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি আরও জোরালোভাবে উপস্থাপন করবে।

  • মির্জা ফখরুল: বিভাজন ঠেকিয়ে ভ্রাতৃত্ববোধ বাড়াতে হবে

    মির্জা ফখরুল: বিভাজন ঠেকিয়ে ভ্রাতৃত্ববোধ বাড়াতে হবে

    বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সমাজে বিদ্বেষ ও বিভাজন ছড়ানোর চেষ্টা রুখে দিয়ে পারস্পরিক ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ববোধের ওপর দাঁড়ানো একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, কিছু শক্তি সমাজে বিভাজন সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে, যা সবাই মিলে প্রতিহত করতে হবে।

    রোববার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর মাদানি অ্যাভিনিউতে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সমাজ থেকে ঘৃণা শব্দটিকে চিরতরে বিদায় করতে হবে। ঘৃণা নয়, মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও সৌহার্দ্যই হোক আমাদের পথচলার শক্তি।’

    ফখরুল আরো বলেন, বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষকে ধারণ করার এক অনন্য উদাহরণ। এখানে ইসলামসহ সনাতন ধর্মাবলম্বী, খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারীরাও এই মাটির অবিচ্ছেদ্য অংশ। অতীতকাল থেকেই এই দেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করে এসেছে এবং সেই ঐতিহ্য বজায় রাখতে হবে।

    তিনি উল্লেখ করেন, এক সময় ধর্মভিত্তিক বিভাজনের চেষ্টা চালানো হয়েছিল; সেই ধরনের অপচেষ্টা থেকে সকলকে মুক্তি পেতে হবে।ান

    খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনাদের সমর্থন ও সহযোগিতায় আমরা একসম্ভাব্যভাবে একটি সমৃদ্ধ সরকার গঠন করতে চাই। আমাদের সামনে কাজ অনেক — সেগুলো সবাইকে নিয়ে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’

  • সোনার দামে বড় লাফ: ভরিতে ৬,৫৯০ টাকা বেড়েছে

    সোনার দামে বড় লাফ: ভরিতে ৬,৫৯০ টাকা বেড়েছে

    দেশের বাজারে আবারও সোনার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে বলা হয়েছে, ভরিতে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লক্ষ ৫২ হাজার ৪০৯ টাকা। নতুন এই দাম আজ থেকেই কার্যকর হবে।

    বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) মূল্যের ওঠানামা এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন মূল্য표 অনুযায়ী অন্যান্য শ্রেণির দামও এভাবে নির্ধারিত হয়েছে: ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি—২ লাখ ৪০ হাজার ৯২০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি—২ লাখ ৬ হাজার ৫১১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম—১ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৫ টাকা।

    সোনার পাশাপাশি রুপার দামও বেড়েছে। প্রতি ভরিতে ৩৫০ টাকা বাড়িয়ে রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে—২২ ক্যারেটের এক ভরি ৫ হাজার ৮৯০ টাকা। অন্যান্য হিসেবে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৫৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৭৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৬১৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    বাজুস জানিয়েছে, এই নতুন দাম স্থানীয় বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি প্রতিফলিত করে এবং তা আজ থেকেই কার্যকর থাকবে।

  • ১৭ ব্যাংক লোকসানে, সিএসআর ব্যয় প্রায় অর্ধেকে নেমে গেল

    ১৭ ব্যাংক লোকসানে, সিএসআর ব্যয় প্রায় অর্ধেকে নেমে গেল

    ২০২৪ সালে দেশের ব্যাংক খাত আর্থিক মন্দার মুখে পড়ে; নিকট হিসেবেই ১৭টি ব্যাংক নিট মুনাফা করতে পারেনি। এ আর্থিক চাপে কর্পোরেট সামাজিক দায়িত্ব (সিএসআর) খাতে ব্যয়ও দ্রুত কমে এসেছে — বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৫ সালের (জানুয়ারি–ডিসেম্বর) সময়ে ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের সিএসআর ব্যয় ছিল মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা বা প্রায় ৪২ শতাংশ কম।

    এটি গত এক দশকের মধ্যে সিএসআর ব্যয়ের সর্বনিম্ন স্তর। আগে সর্বনিম্ন ছিল ২০১৫ সালে ৫২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা; সেই তুলনায় এবার খাতে প্রায় ১৮২ কোটি টাকা বা ৩৪.৫৭ শতাংশ কম হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে দ্রুত পতন লক্ষ্য করা যায়: ২০২২ সালে সিএসআর ব্যয় ছিল ১,১২৯ কোটি টাকা, ২০২৩ সালে তা নামল ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ টাকায় এবং ২০২৪ সালে দাঁড়াল ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকায়। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে সিএসআর ব্যয় প্রায় ৫১৩ কোটি টাকা বা ৪৫ শতাংশেরও বেশি কমেছে।

    ক্যা­­রেন্ট অব দ্য সেক্টর বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ছাত্র আন্দোলন (জুন–জুলাই) এবং এরপর আগস্টে সরকারের পরিবর্তন ব্যাংকিং খাতে বড় ধাক্কা দিয়েছে। সেই সময় কয়েকটি ব্যাংকের অনিয়ম ও অর্থ পাচারের তথ্য প্রকাশ্যে আসায় কাগজে-কলমে দেখানো ‘মুনাফা’ থেকে প্রকৃত আর্থিক চিত্র উন্মোচিত হয়; খেলাপি ঋণ বাড়ায় প্রকৃত ক্ষতি সামনে আসে। বিশেষ করে শরীয়াভিত্তিক কিছু ব্যাংক এই ঝটকায় বেশি দুর্বল হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকারও কিছু ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ নেয়।

    ব্যাংকারদের মতে, রাজনৈতিক চাপও সিএসআর ব্যয় কমানোর একটি বড় কারণ। রাজনৈতিক সরকারের সময়ে নানা স্তর থেকে অনুদান-সহায়তার চাপে ব্যাংকগুলোকে অনবরত খরচ করতে হত; অনেক সময় তা প্রকৃত সিএসআর কার্যক্রমের বাইরেও গিয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের আন্দোলন ও পরবর্তী সরকার পরিবর্তনের পর ওই ধরনের চাপ অনেকটাই কমে গিয়েছে, ফলে ব্যাংকগুলো এখন ব্যয়ের বিষয়ে বেশি সক্রিয় ও সংযমী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সিএসআর খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জরুরি। রাজনৈতিক প্রভাব বা অনিবার্য চাপে অনুৎপাদনশীল খাতে অর্থ ব্যয় হলে সামাজিক দায়বদ্ধতার উদ্দেশ্য ক্ষুণ্ন হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা আছে—ব্যাংকগুলোকে তাদের নিট মুনাফার একটি অংশ সিএসআর হিসেবে ব্যয় করতে হবে; এর মধ্যে ৩০% শিক্ষা, ৩০% স্বাস্থ্য, ২০% পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় এবং বাকি ২০% অন্যান্য খাতে ব্যয় করার কথা।

    তবে বাস্তবে নির্দেশনার সঙ্গে মিল নেই। ২০২৫ সালে দেখা গেছে, ব্যাংকগুলো সর্বাধিক ৩৬% সিএসআর ব্যয় করেছে ‘অন্যান্য’ খাতে; শিক্ষায় ব্যয় হয়েছে ২৮.৫৩%, স্বাস্থ্যখাতে উল্লেখযোগ্য অংশ এবং পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে মাত্র ১০% ব্যয় হয়েছে—যা নীতিগত লক্ষ্য থেকে অনেক পিছিয়ে।

    রিপোর্টে আরও দেখা যায়, আলোচিত সময়কালে ১১টি ব্যাংক সিএসআরে একটাও টাকা খরচ করেনি। সেই তালিকায় রয়েছে: জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    এছাড়া ২০২৪ সালে লোকসানে থাকা ব্যাংকের তালিকায় রয়েছে জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান। এইগুলোর মধ্যে ছয়টি—এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক—লোকসানে থেকেও সিএসআর খাতে কিছু ব্যয় রেখেছিল।

    সংক্ষেপে, ব্যাংক খাতের অনিশ্চয়তা ও রাজনৈতিক পরিবর্তন মিলিয়ে সিএসআর ব্যয়ের ধারাবাহিক সঙ্কোচ হচ্ছে। এটি শুধু অঙ্কের হিসেব নয়—সামাজিক শিক্ষাবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবেশ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোও প্রভাবিত হচ্ছে। তাই বিশ্লেষকরা বলছেন, নীতিগত স্পষ্টতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে সিএসআর কার্যক্রমকে পুনরুজ্জীবিত করার এখনই সময়।

  • রাশিয়া: ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ‘চূড়ান্ত পরাজয়’ হয়েছে

    রাশিয়া: ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ‘চূড়ান্ত পরাজয়’ হয়েছে

    রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের একমুখী ও আগ্রাসী কৌশলটি চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা স্পুটনিক রেডিওকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেন।

    জাখারোভা বলেন, “আরও আক্রমণাত্মক হওয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও সক্রিয় হয়ে ‘জয় খুব কাছেই’—এ ধরনের উসকানিমূলক ও একপক্ষীয় বাগযুদ্ধ ব্যর্থ হয়েছে। একই সঙ্গে বিনা উসকানিতে চালানো আক্রমণের কৌশলও ফলপ্রসূ হয়নি।”

    তিনি আরও জানান, শুরু থেকেই রাশিয়া দাবি করে আসছে যে ইরানের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আগ্রাসন বন্ধ করা উচিত এবং একটি বাস্তব রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের পথে বলাৎকার করা উচিত। মস্কোর অবস্থান, তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এই জটিল সমস্যার সামরিকভাবে কোনো স্থায়ী সমাধান নেই।

    স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, তিনি ইরানের ওপর বোমা হামলা ও আরও কোনো প্রতিশোধমূলক আক্রমণ দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখবেন।

    এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথ অভিযান শুরু করার পর আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই সংঘর্ষে কমপক্ষে ১,৩৪০ জনের অধিক নিহত হওয়ার খবর এসেছে।

    প্রতিবাদের জবাবে ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়, যেখানে লক্ষ্যবস্তুতে জর্ডান, ইরাক ও উপসাগরীয় দেশে অবস্থিত কিছু ঘাঁটি ছিল। পাশাপাশি তেহরান হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে সীমাবদ্ধতা আরোপ করে।

    এই ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে রাশিয়া মস্কোতে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়েছে এবং সম্প্রতি সংঘটিত ঘটনাগুলোকে নিয়ে পুরোদমে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

    সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি