সংবিধান সংস্কার পরিষদ আহ্বান ও গণভোটের রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবিতে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোট দেশব্যাপী চার দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাজধানীর মগবাজারে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।
মাওলানা মামুনুল হক বলেন, সরকার মানুষের ম্যান্ডেটকে উপেক্ষা করে যাচ্ছেন এবং সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে নির্বাচনের আগে যে ঐকমত্য ছিল, তা ধীরে ধীরে ভাঙাচোরা করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার জনআকাঙ্ক্ষাকে অগ্রাহ্য করে একদলীয় ফ্যাসিবাদী নীতির পথে এগোচ্ছে এবং সরকারের সমালোচনায় নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। তিনি জানান, নব্য ফ্যাসিবাদকে যেকোনো মূল্যে রুখে দেবে ১১ দলীয় ঐক্য।
জোটের কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ৯ এপ্রিল বিকেলে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পক্ষে সপ্তাহব্যাপী লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে। তারপর ১১ এপ্রিল সারা দেশের উপজেলা ও থানায় বিক্ষোভ মিছিল, ১২ এপ্রিল প্রতিটি জেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল এবং ১৩ এপ্রিল ঢাকায় গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পক্ষে একটি জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে—এমনটাই জানানো হয়েছে।
এ সময় জামায়াতে ইসলামের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার মন্তব্য করে বলেন, সরকারই বিরোধীদলকে রাজপথে আন্দোলনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি বলেন, বিএনপির কর্মকাণ্ড জাতিকে হতবাক ও বিস্মিত করে তুলেছে; গণভোটের রায়ে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট পরিস্থিতি ইতিমধ্যেই স্থগিত করে দিয়েছে এবং সংসদে মাত্র একজন ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের কারণে সংবিধান নিয়ে সংকট সৃষ্টি হচ্ছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও অভিযোগ করেন, জ্বালানি সংকট নিয়ে সংসদে বিরোধীদলকে কথা বলতে দেয়া হচ্ছে না এবং দিল্লির বিরুদ্ধে যারা অবস্থান নিচ্ছেন তাদের সরকার ‘‘রাজাকার’’ হিসেবে ট্যাগ দিচ্ছে। তিনি বিএনপিকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ করেকা এগিয়ে আসুক এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করুক।
জোট নেতারা আশা প্রকাশ করেছেন যে তাদের ঘোষিত দেশব্যাপী কর্মসূচি সরকারের নীতির বিরুদ্ধে জনমত তুলে ধরবে এবং সংবিধান সংস্কারের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি আরও জোরালোভাবে উপস্থাপন করবে।
