খুলনায় অভিভাবকহীন ছাত্রদল, সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা: পদপ্রত্যাশীদের লবিং চলছে

খুলনা মহানগর ও জেলা ছাত্রদলের দীর্ঘ সময় ধরে কমিটি না থাকার কারণে সংগঠনের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে, যদিও ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর কিছু চাঞ্চল্য দেখা গেছে। তবে, এখনো চূড়ান্ত নেতৃত্বের অভাব রয়েছে, তাই কর্মী ও নেতাকর্মীরা নতুন নেতৃত্বের জন্য অপেক্ষা করছেন। খুলনায় ছাত্রদলের নেতৃত্বের জন্য ডজনখানেক নেতার মধ্যে আলোচনা চলছে। কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সম্পর্কিত সূত্র জানায়, বিএনপির কেন্দ্রীয় ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল, যিনি খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য এবং আর্থিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হুইপ, তার ওপর অধিকাংশ সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে।

২০১৯১ সালের ২৪ মার্চ ইশতিয়াক আহমেদ ইস্তিককে খুলনা মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক এবং তাজিম বিশ্বাসকে সদস্য সচিব করে কমিটি গঠন হয়। এই কমিটি ১৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ৫টি থানার অন্তর্ভুক্ত ৩১টি ওয়ার্ডে নতুন কমিটি গঠন করে সংগঠনের ভিত্তি শক্ত করার চেষ্টা করেছিল। তবে, তিন বছর পার হয়ে ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর এই কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। একইভাবে, জেলা ছাত্রদলের কমিটিও দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর নয়। ২০১৬ সালে মান্নান মিস্ত্রি সভাপতি ও গোলাম মোস্তফা তুহিন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে গঠিত কমিটি তার দায়িত্ব আট বছর ধরে পালন করে। এই সময়ে তারা ৩১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ৯টি থানার অন্দরে ইউনিট কমিটি গঠন করেছিল। তবে, ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর একই দিনে জেলা কমিটিও অবসরে যায়।

চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে, কেন্দ্রীয় নেতারা ৫ আগস্ট থেকে খুলনা মহানগর ও জেলা ছাত্রদলের কমিটিগুলো বিলুপ্ত ঘোষণা করেন, তাদের মেয়াদ শেষ বলে মনে করে। তবে, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে নতুন কমিটি গঠনে দেরি হচ্ছে। বর্তমানে মাঠের ইউনিটগুলো কার্যকর থাকলেও, স্থানীয় পর্যায়ে কোনও অভিভাবক বা শীর্ষ নেতৃত্ব না থাকার কারণে খুলনায় ছাত্রদলের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সূত্র বলছে, নতুন নেতৃত্বের জন্য ব্যাপক যাচাই ও অনুসন্ধান চলছে, এবং এই প্রক্রিয়ার তদারকি করছেন কেন্দ্রীয় ছাত্র দলের সদস্য ও খোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল। ভবিষ্যত নেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মহানগর ছাত্রদলের শীর্ষে আছেন সাবেক সদস্য সচিব তাজিম বিশ্বাস, আরিফুল ইসলাম আরিফ, হেদায়েত উল্লাহ দিপু, মো. শাকিল আহমেদ, মাজহারুল ইসলাম রাসেল, আব্দুল হক শাহিন, হাসান ফকির, সৈয়দ ইমরান, নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া, রাজু আহমেদ, আব্দুস সালাম, রাশিউর রহমান রুবেল, রাজিবুল ইসলাম বাপ্পি, নাজমুল ইসলাম ও মুশফিকুর রহমান অভি প্রমুখ।

অপরদিকে, জেলা নেতৃত্বের জন্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আছেন গাজী শহিদুল, মাসুম বিল্লাহ, মশিউর রহমান শফিক, ফিরোজ আহমেদ আদল, অনিক আহমেদ, ইয়ামিন ইসলাম, ইসমাইল হোসেন খান, আবু জাফর ও ইমতিয়াজ সুজন।

জেলার সাবেক নেতা অনিক আহমেদ বলেন, মামলার বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে যদি নতুন কমিটি গঠন হয়, তবে প্রকৃত ত্যাগী নেতারা নেতৃত্বে আসবেন। ঝঞ্ঝাটের মধ্যে এক ধরনের আশার আলো দেখছে তারা। তাজিম বিশ্বাস উল্লেখ করেন, ছাত্রদল বিএনপি’র একটি গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন। এই সংগঠনের মাধ্যমে নতুন কর্মীরা দলের সাথে যুক্ত হয়। বর্তমানে সংসদে বেশিরভাগ মন্ত্রী ও এমপির আগের ছাত্রনেতা থাকায়, দলের গতিশীলতা বাড়াতে দ্রুত নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজন রয়েছে।