শেরপুর ও বগুড়ায় উপনির্বাচনে ব্যাপক ভোট কারচুপি, কেন্দ্র দখল এবং প্রতিপক্ষের লোকজনের ওপর হামলার ঘাটনাটি ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, এসব অরাজকতা বিএনপির জন্য এক নতুন নজির সৃষ্টি করেছে, যা একদিকে সরকার ও অন্যদিকে আওয়ামী লীগকে হার মানিয়েছে।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) বাদ জুমা, বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে ঢাকা মহানগর জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। শেরপুর-৩ আসনের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের পরিবর্তে বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনের ফলাফল বাতিলের দাবিতে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
গোলাম পরওয়ার মন্তব্য করেন, নির্বাচন পূর্বে বিএনপি বলেছিল, গণভোট জয়যুক্ত হলে তারা দুর্বারভাবে তা মানবে। কিন্তু ভোটের ফলাফল আসার পর তারা গোপনভাবে এই ভোটের ফলাফলের সাথে বেঈমানি করছে এবং আদেশ বাতিলের মাধ্যমে দেশপ্রেমের ওপর চরম আঘাত হানছে। তিনি এতে গণতন্ত্রের অন্তর্নিহিত মূল্যবোধের পরিপন্থী এবং শহীদদের রক্তের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা বলে মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি শাসনামলে ‘মাগুরা মার্কা’ নামে পরিচিত নির্বাচন কAgain ফিরে এসেছে শেরপুর ও বগুড়ার উপনির্বাচনে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জাল ভোট, কেন্দ্র দখল এবং প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী প্রার্থীর নেতাকর্মীদের ওপর হামলার দৃশ্য মিডিয়ায় প্রকাশ পাওয়ার পরও কমিশন দাবি করেন নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে, যা দেশবাসীর সঙ্গে তামাশা।
জামায়াতের এই নেতা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী রাখা সম্ভব নয়। জনগণের স্বার্থে ও দেশের স্বার্থে বিএনপিকে বর্তমান রাজনৈতিক সংকট সমাধানে এগিয়ে আসতে হবে।
সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির ড. হেলাল উদ্দিন। এ ছাড়াও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান, মহানগরী দক্ষিণের অফিস সেক্রেটারি কামরুল আহসান হোসান, সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন ও মিডিয়া সম্পাদক আশরাফুল আলম ইমনসহ আরও অনেক নেতাকর্মী।
নামাজের পরে, বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয় যা পল্টন মোড় এবং বিজয়নগর গোলচত্বরের দিকে গড়ায়। এই বিক্ষোভের মঞ্চ থেকে শেরপুর ও বগুড়া উপনির্বাচনের ফল বাতিলের দাবি জানানো হয়।
