Blog

  • আর্জেন্টিনার ৫৫ সদস্যের প্রাথমিক বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা, ২৬ জনের ২২ জন প্রায় চূড়ান্ত

    আর্জেন্টিনার ৫৫ সদস্যের প্রাথমিক বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা, ২৬ জনের ২২ জন প্রায় চূড়ান্ত

    মাত্র দু’মাস পর শুরু হতে যাচ্ছে ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ। এই বড় মঞ্চের জন্য আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের কোচ লিওনেল স্কালোনি তার পরিকল্পনা কার্যত চূড়ান্তমুখী রেখে দিয়েছেন। স্থানীয় সময় মে মাসের ১১ তারিখে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)-কে ৫৫ জনের একটি প্রাথমিক তালিকা জমা দেয়া বাধ্যতামূলক ছিল এবং টিওয়াইসি স্পোর্টসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে স্কালোনি সেই তালিকাটি ইতিমধ্যে জমা দিয়েছেন।

    টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াডের মধ্যে প্রায় ২২ জনের নাম প্রায় নিশ্চিত। কোচ স্কালোনি কেবল বর্তমান তারকাদের ওপর ভরসা রাখছেন না, তরুণ উজ্জ্বল প্রতিভাদেরও সুযোগ দিচ্ছেন—তাতে দলের ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। প্রতিবেদনে উল্লেখিত বহু পরিচিত নাম থেকে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য: এমিলিয়ানো মার্টিনেজ, গেরোনিমো রুল্লি, নাহুয়েল মলিনা, গনজালো মন্টিয়েল, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, নিকোলাস ওতামেন্দি, নিকোলাস ট্যাগলিয়াফিকো, রদ্রিগো ডি পল, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, এনজো ফার্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, লিওনেল মেসি, লাউতারো মার্টিনেজ, জুলিয়ান আলভারেজ ও নিকোলাস গনজালেজ।

    চূড়ান্ত ২৬ জনের মধ্যে যে ৪টি জায়গা এখনও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, সেগুলোতে কারা লড়ছেন তা নিয়েও প্রতিবেদনে বিস্তারিত ছিল। তৃতীয় গোলরক্ষকের পদে বর্তমানে জুয়ান মুসো (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ) ওয়াল্টার বেনিতেজের চেয়ে এগিয়ে আছেন। ব্যাকআপ লেফট-ব্যাকের দাবিদার হিসেবে মার্কোস অ্যাকুনা ও গ্যাব্রিয়েল রোজাসের নাম সামনে; কোলো বার্কোও বিবেচনায় আছেন। চতুর্থ সেন্টার-ব্যাকের লড়াইয়ে মার্কোস সেনেসি ও ফ্যাকুন্ডো মেদিনার নাম উঠে এসেছে। আর শেষ একটিমাত্র খালি হয়ে থাকা স্পটের জন্য জিওভানি লো সেলসো (ফিটনেস বিবেচ্য), ভ্যালেন্টিন বার্কো, ফ্রাঙ্কো মাস্তান্তুয়োনো, জিয়ানলুকা প্রেস্টিয়ান্নি ও ম্যাক্সিমো পেরোনি প্রভৃতি খেলোয়াড় লড়ছেন।

    প্রাথমিক তালিকায় অনেক অভিজ্ঞ খেলোয়াড় রয়েছে যাদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স কিছুটা অনিয়মিত বা কমও থাকতে পারে; আবার তরুণরা সুযোগ পেতে পারে—কিন্তু চোট বা খারাপ ফর্ম দেখা দিলে প্রাথমিক তালিকার মধ্য থেকেও পরিবর্তন আসতে পারে। বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও রিফর্ম দেখে স্কালোনিই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। দুইবারের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আর্জেন্টিনা ট্রফি ধরে রাখার স্বপ্নের সঙ্গে মর্যাদা রক্ষার লক্ষ্যে জোরাত্মক প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে।

  • পিএসএলে খেলতে শরিফুল-রানার এনওসি একদিন বাড়াল বিসিবি

    পিএসএলে খেলতে শরিফুল-রানার এনওসি একদিন বাড়াল বিসিবি

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) খেলতে থাকা দুই পেসার শরিফুল ইসলাম ও নাহিদ রানার জন্য দেওয়া অনাপত্তি পত্র (এনওসি) একদিন বাড়িয়েছে। পেশোয়ার জালমি ফ্র্যাঞ্চাইজি ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের অনুরোধে এই সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যাতে তাদের পেশোয়ারের পরবর্তী ম্যাচ খেলতে আরও এক দিন পাকিস্তানে থাকা সম্ভব হয়।

    বিসিবি আগে দেশের সব ক্রিকেটারকে পিএসএল খেলতে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত এনওসি দিয়েছিল। কিন্তু পেশোয়ারের আগামী ম্যাচকে সামনে রেখে পাকিস্তান থেকে আরেকদিন থাকা অনুরোধ আসায় বিসিবি সেই অনুরোধ মেনে এনওসির মেয়াদ বাড়িয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে শরিফুল ও রানা ১৪ এপ্রিল দেশে ফিরে জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দেবেন।

    অন্যদিকে, একইভাবে এনওসি পেয়েও খেলা ছেড়ে দেশে ফিরে এসেছেন পারভেজ হোসেন ইমন। তার মেয়াদ সাধারণত ২১ এপ্রিল পর্যন্ত থাকলেও কাঁধের লিগামেন্টের চোট পাওয়ায় আগেভাগেই দেশে ফিরতে হয়েছে তাকে। পিএসএল দলের ফিজিও বিসিবিকে জানিয়েছেন, এই চোট থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ হতে প্রায় তিন সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। আজ (রোববার) বিসিবির ফিজিওরা পরীক্ষা করে দেখবেন; এরপরই পরিষ্কার হবে– নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন টি-টোয়েন্টি সিরিজে ইমন খেলতে পারবেন কি না।

    ফ্র্যাঞ্চাইজি পর্যায়ের পারফরম্যান্স নিয়ে বললে, শুরুর দুই ম্যাচে উইকেট না পেলেও পরের দুই ম্যাচে দুটি উইকেট তুলেছেন শরিফুল। নাহিদের শুরুটা কিছুটা হতাশাজনক ছিল—প্রথম ম্যাচে তিন ওভারে ৩০ রানের বেশি দিয়েছেন—তবে পরের দুই ম্যাচে কার্যকর বোলিং করে পাঁচটি উইকেট নিয়েছেন তিনি। রিশাদ হোসেন এবারের আসরে চার ম্যাচে মাত্র দুই উইকেট নিয়েছেন। তানজিদ হাসান তামিমও পেশোয়ার জালমির ঠিকানায় ছিলেন, কিন্তু বিদেশি কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে গিয়ে এখনও কোনো ম্যাচের একাদশে সুযোগ পাননি।

    ইমন পেশোলে ভালো কিছু ইনিংস খেলেছিলেন—প্রথম দুই ম্যাচে যথাক্রমে ১২ ও ১৪ রানে আউট হলেও তৃতীয় ম্যাচে ১৯ বলে ৪৫ রানের ঝটিকা ইনিংস খেলেছিলেন, যার মধ্যে ছিল পাঁচটি ছক্কা। তবে চোটের কারণে তিনি আগেভাগেই দেশে ফিরে আসতে হয়েছে।

    বিসিবি-র এই নিষ্পত্তি দেখিয়ে দিচ্ছে— দেশে থাকা জাতীয় টিমের প্রস্তুতি ও বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের দাবির মধ্যে সমন্বয় করার চেষ্টা চলছে যাতে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ও জাতীয় দায়িত্ব দুটোই বিবেচনায় আসে।

  • ‘এমন শিল্পী আর জন্মাবে না’, আশা ভোঁসলের প্রয়াণে রুনা লায়লার শোক

    ‘এমন শিল্পী আর জন্মাবে না’, আশা ভোঁসলের প্রয়াণে রুনা লায়লার শোক

    ভারতের কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে সংগীতাঙ্গনে। রোববার (১২ এপ্রিল) ৯২ বছর বয়সে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

    আশা ভোঁসলের প্রয়াণের খবর প্রকাশ্যে আসে মাত্রই উপমহাদেশের বরেণ্য কণ্ঠশিল্পীরা, সহকর্মী ও ভক্তরা গভীর শোক প্রকাশ করেন। এ তালিকায় ছিলেন বাংলাদেশি কিংবদন্তি গায়িকা রুনা লায়লাও—যিনি আশা দিদিকে হারিয়ে গভীরভাবে আহত বলে জানান।

    রুনা লায়লা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘পৃথিবীর বড় বড় দুইজন কিংবদন্তি পরপর চলে গেলেন। লতা মঙ্গেশকর দিদি ২০২২ সালে চলে গিয়েছিলেন, আর এখন আশা দিদিও চলে গেলেন। এমন শিল্পী আর এই পৃথিবীতে জন্মাবে না। আমার কাছে মনে হচ্ছে আমার পৃথিবীটাই শূন্য হয়ে গেল।’

    নিজের ব্যক্তিগত সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তারা দুজনেই আমাকে ভীষণ স্নেহ করতেন—মায়ের মতো। এই কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমার শেষ দেখা হয়েছিল আমার সুর করা গান “চলে যাওয়া ঢেউগুলো আর ফিরে আসেনি”-এর রেকর্ডিংয়ের সময়। এরপর ফোনে যোগাযোগ হয়েছিল, কিন্তু কিছুদিন ধরে ভাবছিলাম—আবার কথা বলব, আজ করব, কাল করব—সব সময় তাই ভেবেই শেষমেশ হয়নি। শেষ কথাটাও বলা রইল।’

    রুনা লায়লা আরও নীরাশা কণ্ঠে বলেন, ‘যদি তখনই ফোন করে দিদিকে জিজ্ঞেস করে নিই, হয়তো আজ এই আফসোসটা এতটা তীব্র হত না। নিজের ভেতরে এত কষ্ট হচ্ছে—এটা সত্যিই ভাষায় বলা সম্ভব নয়।’

    আশা ভোঁসল শনিবার সন্ধ্যায় বুকে ব্যথা নিয়ে ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি হন এবং চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিলেন। চিকিৎসা সত্ত্বেও রোববার তাঁর মৃত্যু ঘটে। টানা সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি ভারতীয় গানে রাজত্ব করেছেন—হাজার হাজার গান আর একাধিক কালজয়ী সুরের মাধ্যমে তিনি বহু প্রজন্মের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছিলেন। তাঁর প্রয়াণকে অনেকেই একটি সোনালি অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসেবে দেখছেন।

  • কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলে প্রয়াত; শেষকৃত্য সোমবার শিবাজি পার্কে

    কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলে প্রয়াত; শেষকৃত্য সোমবার শিবাজি পার্কে

    কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই। রোববার (১২ এপ্রিল) মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। হাসপাতাল সূত্র ও পরিবার জানায়, বার্ধক্যজনিত জটিলতায় তিনি মারা গেছেন।

    আনন্দ ভোঁসলে — আশা ভোঁসলের ছেলে — জানিয়েছেন, সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকাল ১১টায় লোয়ার প্যারেলের তাঁদের বাসভবন ‘কাসা গ্রান্দে’-তে তাঁর মরদেহ রাখা হবে, যেখানে ভক্তরা শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন। এরপর বিকাল ৪টায় মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।

    দীর্ঘ আট দশকের বেশি সময় ধরে ভারতীয় সংগীতজগতকে সমৃদ্ধ করেছেন আশা ভোঁসলে। ১৯৪৩ সালে শুরু হওয়া তাঁর ক্যারিয়ারে তিনি ১২ হাজারেরও বেশি গান রেকর্ড করেছেন। মিনা কুমারী, মধুবালা-র আমল থেকে শুরু করে কাজল, ঊর্মিলা মাতন্ডকরসহ বহু প্রজন্মের নায়িকাদের জন্য তাঁর কণ্ঠে স্মরণীয় গান রেকর্ড হয়েছে।

    ‘দম মারো দম’, ‘চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে’, ‘পিয়া তু আব তো আজা’, ‘দিল চিজ কেয়া হ্যায়’—এসব গান বহু দশক ধরে শ্রোতাদের কণ্ঠে, কোলজুড়ে গেঁথে আছে। গজল থেকে পপ, শাস্ত্রীয় ধারা—প্রায় সব শৈলীতে তিনি ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসেও তিনি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি স্টুডিও রেকর্ড করা শিল্পী হিসেবে নাম রয়েছে।

    চলচ্চিত্র ও সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আশা ভোঁসলে দুইবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, দাদা সাহেব ফালকে পুরস্কার এবং পদ্মবিভূষণসহ বহু সম্মান পেয়েছেন।

    আশা ভোঁসলের সুরিল শব্দ ও বহুমুখী প্রতিভা ভারতীয় সংগীতাঙ্গনে এক অম্লান অধ্যায় হিসেবে থাকবে। তাঁর প্রয়াণে শিল্পীবৃন্দ, শ্রোতারা এবং অনুরাগীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

  • মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলে দেওয়ার চেষ্টা জোরদার করছে সরকার: মাহদী আমিন

    মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলে দেওয়ার চেষ্টা জোরদার করছে সরকার: মাহদী আমিন

    প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিক পাঠানোর কার্যক্রম দ্রুত পুনরায় শুরু করতে সরকার সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। রোববার (১২ এপ্রিল) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।

    উপদেষ্টা বলেন, শ্রমিক পাঠানোর প্রক্রিয়াটি কম খরচে এবং সর্বোচ্চ স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালিত হবে—এটি নিশ্চিত করতে সরকার ইতোমধ্যেই নানা উদ্যোগ নিয়েছে। যাতে কোনো সিন্ডিকেট বা অনিয়ম প্রবেশ করতে না পারে, সে লক্ষ্যে মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

    তিনি জানান, বিষয়টি দুই দেশের সরকারের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ এবং উভয় পক্ষই ইতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যেমন আগ্রহী, তেমনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীও সহযোগিতামূলক নিরাপত্তা ও বিধি-বিধানের তাগিদ দিয়েছেন।

    শ্রমিক পাঠানো কখন থেকে শুরু হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমিন বলেন, পুরো প্রক্রিয়াটি এখনও চলমান। তবে যত দ্রুত সম্ভব কার্যক্রম পুনরায় চালু করার জন্য সব সংশ্লিষ্ট দিক মাথায় রেখে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

    মামলা সংক্রান্ত প্রসঙ্গ ছোঁড়া হলে তিনি বলেন, দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত রয়েছে এবং বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করছে; অপরাধে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে এবং নির্দোষদের ন্যায়বিচার পাওয়া যাবে।

    ক্রেডিবল রিক্রুটমেন্ট এজেন্সির প্রসঙ্গে তিনি জানান, এটি কোনো নতুন সিন্ডিকেট গঠনের উদ্যোগ নয়। মালয়েশিয়ার জন্য শ্রমিক নিয়োগসহ সব দেশের ক্ষেত্রে একই মানদণ্ড প্রয়োগ করা হবে এবং এজেন্সি নির্বাচন নির্দিষ্ট যোগ্যতার ভিত্তিতেই করা হবে।

    উপদেষ্টা আরও বলেন, স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত নিয়োগপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে ধীরে ধীরে প্রবাসী ব্যয়ের বোঝা কমানো হবে এবং বেশি মানুষের বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে। সরকারের লক্ষ্যই হল সিন্ডিকেট ভেঙে দেয়া এবং প্রবাসী কর্মসংস্থানের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।

  • জয় ও পলকের বিরুদ্ধে পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণ ১৬ এপ্রিল নির্ধারণ

    জয় ও পলকের বিরুদ্ধে পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণ ১৬ এপ্রিল নির্ধারণ

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আগামী ১৬ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ও সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, দেশের গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে হত্যাযজ্ঞকে সহজতর করা হয়েছিল।

    রোববার (১২ এপ্রিল) ট্রাইব্যুনালে তৃতীয় সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ইমদাদুল হক মোল্লা। তিনি বলেন, চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের সময় ইন্টারনেট সেবা সরকারী সিদ্ধান্তে বন্ধ ছিল।

    ইমদাদুল জবানবন্দিতে আরও জানান, আগুন লেগেছিল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ভবনে; সরাসরি কোনো ডাটা সেন্টারে নয়। তবে কিছু ফাইবার অপটিক ক্যাবল পুড়ে যাওয়ার ফলে ট্রান্সমিশনে বাধা দেখা দিয়েছিল। তার যুক্তি ছিল, একটি ডাটা সেন্টার বন্ধ হলেও সারাদেশে সম্পূর্ণ ইন্টারনেট ব্যাহত হওয়া উচিৎ ছিল না, কারণ দেশে আরও ১৫-১৬টি ডাটা সেন্টার রয়েছে।

    জবানবন্দি শেষে সাক্ষীকে জেরা করেন পলকের আইনজীবী লিটন আহমেদ। এই মামলায় সজীব ওয়াজেদ জয় পলাতক রয়েছেন; তার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মনজুর আলম আইনি লড়াই করছেন। অপর আসামি জুনায়েদ আহমেদ পলক বর্তমানে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।

    পেছনের ঘটনাপট: গত ১৮ ফেব্রুয়ারি এই মামলায় প্রসিকিউশন পক্ষে আদালতে সূচনা বক্তব্য পেশ করা হয়, যেখানে জয় ও পলককে জুলাই গণহত্যার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। এর আগে ২১ জানুয়ারি আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে এবং মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।

    প্রসিকিউশনের দাবি, গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ সজীব ওয়াজেদ জয়ের কাছ থেকেই চলে এবং তা বাস্তবায়ন করতেন জুনায়েদ আহমেদ পলক; তাদের এই কর্মকাণ্ড মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় পড়ে। কিন্তু আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

    ট্রাইব্যুনাল ৪ ডিসেম্বর এই মামলার অভিযোগ গ্রহণ করে; ওই দিন জয়ের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়া্না জারি করা হয় এবং পলককে ওই ঘটনার মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার দেখানো হয়। ট্রাইব্যুনালে তাদের বিরুদ্ধে মোট তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১৬ এপ্রিল।

  • ক্ষমতার স্বাদে বিএনপি জনগণকে ভুলে গেছে: নাহিদ ইসলাম

    ক্ষমতার স্বাদে বিএনপি জনগণকে ভুলে গেছে: নাহিদ ইসলাম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, ক্ষমতার স্বাদ পাইয়ে দিয়ে বিএনপি জনগণের কথা ভুলে গেছে। তিনি এই মন্তব্যটি করেছেন ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায়।

    নাহিদ বলেন, আমাদের দেশের ইতিহাসে বহুবার দেখা গেছে—শ্রমিকরা রক্ত দিয়েছে, জীবন দিয়েছে। ১৯৪৭-এর স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং বিভিন্ন গণ-অভ্যুত্থানে বহু শ্রমজীবী মানুষ সামনে থেকে লড়াই করেছে। তিনি বলেন, ‘‘চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের অধিকাংশই শ্রমজীবী ছিলেন।’’

    তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘‘শ্রমজীবীদের রক্তে ক্ষমতায় এসে বিএনপি এক মাসের মধ্যে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। নতুন যে সরকার তৈরি হয়েছে, তারা শ্রমিকদের রক্তের ওপর ক্ষমতায় বসল—কিন্তু এক মাসের মধ্যেই নতুন বাংলাদেশের প্রতি বেইমানি করেছে। গণভোটের গণরায়কে উপেক্ষা করা হয়েছে। এটি একটি গণবিরোধী সরকার। ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের রক্ত ও স্বার্থ ভুলে গেছে।’’

    নাহিদ আরো বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে আইন করে সংস্কার বাস্তবায়নের যে প্রতিশ্রুতি ছিল, সেটি বিএনপি ভঙ্গ করেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘‘এই দেশের রাজনীতিতে ওয়াদা ভঙ্গের ফলাফল ভালো হবে না। আমরা গণ-আন্দোলন গড়ে শ্রমিকদের অধিকারসহ প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নে বাধ্য করব।’’

    অন্যদিকে তিনি নতুন জাতীয় ঐক্যের গুরুত্বে জোর দিয়ে বলেন, ‘‘আমরা একটি নতুন জাতীয় ঐক্য গড়েছি। জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের সময় বাংলাদেশের শ্রমিকদের যে আশা ছিল—একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা, রাজনীতি-অর্থনীতি-সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা এবং শ্রমজীবীদের জন্য নতুন বন্দোবস্ত নিশ্চিত করা—এই লক্ষ্য অর্জনে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’’

    নাহিদ বলেন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, জাতীয় নাগরিক পার্টি ও জাতীয় শ্রমিক শক্তি ঐক্যের পথে রয়েছে এবং এই আন্দোলনকে শক্তিশালী রাখা হবে।

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ শ্রমিকদের কাছে বলেন, ‘‘ঐক্যবদ্ধ হোন। আপনাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে নেতৃত্ব দিতে হবে। নতুন বাংলাদেশের পথে, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের চেতনায় আমাদের দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।’’

    তিনি শুধু সংসদেই সীমাবদ্ধ না থেকে রাজপথেও প্রস্তুতি নেওয়ার কথাও বলেন। নাহিদ বলেন, ‘‘এবার শুধু জাতীয় সংসদ নয়, আমাদের রাজপথেরও প্রস্তুতি নিতে হবে। রাজপথ ও গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা বর্তমান সরকারকে বাধ্য করব—জুলাই সনদ, গণভোটসহ শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রতিটি দাবি বাস্তবায়ন করাব।’’

  • লোকসানে ১৭ ব্যাংক; সিএসআর ব্যয় প্রায় অর্ধেকে নেমে গেল

    লোকসানে ১৭ ব্যাংক; সিএসআর ব্যয় প্রায় অর্ধেকে নেমে গেল

    ২০২৪ সালে দেশের বেশ কিছু বাণিজ্যিক ব্যাংক আর্থিক চাপে পড়ার প্রভাব ২০২৫ সালের কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) ব্যয়েও পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের (জানুয়ারি–ডিসেম্বর) মধ্যে দেশের ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক সিএসআর খাতে মোট মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয় করেছে—আগের বছরের তুলনায় এটি প্রায় ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা বা প্রায় ৪২ শতাংশ কম।

    অর্থাৎ ব্যাংকগুলোর সামাজিক বিনিয়োগ গত এক বছরে খাড়া অনুঘটকে পড়েছে। গত এক দশকে এটি সিএসআর খাতে সর্বনিম্ন ব্যয়; এর আগে ২০১৫ সালে সর্বনিম্ন ছিল ৫২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এ বছর ২০১৫ সালের তুলনায় ব্যয় প্রায় ১৮২ কোটি টাকা বা ৩৪.৫৭ শতাংশ কমে গেছে।

    বহু বছরের ধারাবাহিক রেকর্ড দেখালে দেখা যায় সিএসআর ব্যয় ধীরে ধীরে কমছে — ২০২২ সালে ছিল ১,১২৯ কোটি টাকা, ২০২৩ সালে ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা, ২০২৪ সালে ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা এবং ২০২৫ সালে কমে দাঁড়িয়েছে ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকায়।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশ্লেষণ বলছে, ২০২৪ সালে ১৭টি ব্যাংক নিট মুনাফা অর্জন করতে পারেনি; যেসব ব্যাংক মুনাফা করেছে, তাদেরও আয় প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম। এই আর্থিক দুর্বলতার ফলে সিএসআর বাজেট ছোট করা এবং ব্যয় পুনর্বিবেচনা করা হয়েছে।

    খাত সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেছেন, ২০২৪ সালের জুন–জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও রাজনৈতিক অস্থিরতা, এরপর সরকার পরিবর্তনের প্রভাব এবং একই সময়ে কয়েকটি ব্যাংকের অনিয়ম ও অর্থ পাচারের তথ্যের বহুল প্রকাশ ব্যাংকিং সেক্টরে বড় ধাক্কা দিয়েছে। কাগজে-কলমে দেখানো মুনাফার বিপরীতে প্রকৃত আর্থিক চিত্র উন্মোচিত হওয়ায় খেলাপি ঋণ বাড়তে থাকে এবং প্রকৃত লোকসান সামনে আসে। দুর্বল হলে পড়া কয়েকটি ব্যাংক সরকারি উদ্যোগে একীভূত করেও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করা হয়েছে।

    ব্যাংকারদের কথায়, রাজনৈতিক চাপও আগে সিএসআর ব্যয়ে বাড়তি ভূমিকা রাখত—শিক্ষা, স্বাস্থ্য বা ইভেন্টের জন্য রাজনৈতিক ও সামাজিক অনুরোধে ব্যাংকগুলোকে অতিরিক্ত ব্যয় করতে হত; অনেকে এমন ব্যয়কে সিএসআর হিসেবে দেখাতেই স্বচ্ছতার সমস্যা দেখা যেত। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি আন্দোলন এবং আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পর সেই প্রথা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, ফলে এখন ব্যাংকগুলো তুলনামূলকভাবে কটা ব্যয় করবেন তা বেশি পরিমাপ করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সিএসআর খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। রাজনৈতিক প্রভাব বা অনিয়মভিত্তিক ব্যয় সমাজকল্যাণের মূল উদ্দেশ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং জনফান্ডের অপচয় ঘটায়।

    বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশনা দিয়েছে, ব্যাংকগুলোর নিট মুনাফার একটি অংশ সিএসআর খাতে ব্যয় করতে হবে এবং তা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ভাগ করে নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে—শিক্ষায় ৩০ শতাংশ, স্বাস্থ্যখাতে ৩০ শতাংশ, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ২০ শতাংশ এবং বাকি ২০ শতাংশ অন্যান্য খাতে। বাস্তবে তবে এই অনুপাতে ব্যয় হচ্ছে না: ২০২৫ সালে ব্যাংকগুলো সবচেয়ে বেশি, ৩৬ শতাংশ, ‘অন্যান্য’ খাতে ব্যয় করেছে; শিক্ষায় ব্যয় হয়েছে ২৮.৫৩ শতাংশ এবং পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে মাত্র ১০ শতাংশ। স্বাস্থ্যখাতে তুলনামূলকভাবে উল্লেখযোগ্য অংশ থাকলেও সরকারি নির্দেশনার কাঠামো অনুযায়ী সামঞ্জস্যের ঘাটতি স্পষ্ট।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আলোচিত সময়ে ১১টি ব্যাংক সিএসআর খাতে একটাও টাকা ব্যয় করেনি। সেই ব্যাংকগুলো হল— জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    একই প্রতিবেদনে ২০২৪ সালে লোকসানে থাকা ব্যাংকগুলোর তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে; এতে জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান-এর নাম রয়েছে।

    উল্লেখ্য, লোকসানে থাকা ছয়টি ব্যাংক সত্ত্বেও সিএসআর খাতে অর্থ বরাদ্দ করেছে—এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক।

    সমগ্র পরিস্থিতি থেকে স্পষ্ট হচ্ছে, ব্যাংকিং খাতের আর্থিক সুরক্ষা ও সিএসআর নীতির কার্যকর বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত সামাজিক বিনিয়োগে স্থায়ী বৃদ্ধি আশা করা কঠিন। বিশ্লেষকরা বলছেন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নির্ধারিত নীতিমালা মেনে ব্যয় নিশ্চিতে বিধি-কাঠামো শক্ত করা অপরিহার্য।

  • ৮ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি দুই লাখ কোটি টাকার ওপরে

    ৮ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি দুই লাখ কোটি টাকার ওপরে

    চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) প্রথম আট মাসে রপ্তানির তুলনায় আমদানির দ্রুত বৃদ্ধির কারণে দেশের পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি বৃদ্ধিপেতে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ৬৯১ কোটি ডলারে — যা বাংলাদেশি টাকায় দুই লাখ সাত হাজার কোটি টাকারও বেশি। আগের অর্থবছরের একই সময়ের ঘাটতি ছিল ১ হাজার ৩৭১ কোটি ডলার।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক ব্যালেন্স অব পেমেন্ট (বিওপি) হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই চিত্রটি উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূল কারণ হলো জ্বালানিসহ বেশিরভাগ পণ্যের বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং বিশেষ করে রমজানকে সামনে রেখে ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, ডাল ও খেজুরের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানির তীব্র উত্থান। ফলে সামগ্রিক আমদানির পরিমাণ দ্রুত বাড়লেও রপ্তানি আয় সেই তুলনায় ধীর গতিতে বাড়েছে বা স্থিতিশীল থেকেছে, ফলে ঘাটতি বড় হয়েছে।

    পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুলাই-ফেব্রুয়ারি পর্যায়ে দেশের ব্যবসায়ীরা মোট প্রায় ৪,৬১৭ কোটি ডলার (প্রায় ৪৬.১৭ বিলিয়ন ডলার) মূল্যের পণ্য আমদানি করেছেন, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৫.৬ শতাংশ বেশি। এই সময়ের পণ্য রপ্তানি আয় ছিল প্রায় ৩০.০৩ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৩,০০৩ কোটি ডলার), যা আগের বছরের ২৯.২৬ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় প্রায় ২.৬ শতাংশ বেশি। আমদানি ও রপ্তানির এই অনুকূলমানের ব্যবধান থেকেই পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি বেড়েছে।

    অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সামগ্রিকভাবে দেশে ব্যয়ে নিয়ন্ত্রণ না আনলে এবং রপ্তানি বহুগুণ বাড়াতে না পারলে অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়বে। তারা সতর্ক করেন স্বল্পমেয়াদি ভোগ্যপণ্য আমদানি নিয়ন্ত্রণ, ভ্যালু-অ্যাডেড রপ্তানি বাড়ানো ও বহুমুখী বাজার নির্ভরতা বাড়ানো এই বিষয়গুলো জরুরি।

    ব্যালেন্স অব পেমেন্টের অন্যান্য সূচকেও মিশ্র চিত্র দেখা যায়। চলতি হিসাবে (কারেন্ট অ্যাকাউন্ট) সামান্য ঋণাত্মক অবস্থায় আছে; ফেব্রুয়ারির শেষে চলতি হিসাব ঘাটতি ছিল প্রায় ১০০ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের ১৪৭ কোটি ডলারের তুলনায় কম। মোট সামগ্রিক লেনদেন (ওভারঅল ব্যালান্স) ভালো অবস্থায় রয়েছে; আলোচিত সময়ে ওভারঅল ব্যালান্স দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৪৩ কোটি ডলার, যেখানে আগের বছর একই সময়ে এটি ঋণাত্মক ছিল প্রায় ১১৫ কোটি ডলার।

    প্রবাসী বাংলাদেশিদের রেমিট্যান্স উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েছে — এই অর্থবছরের প্রথম আট মাসে প্রায় ২ হাজার ২৪৫ কোটি ডলার (প্রায় ২২.৪৫ বিলিয়ন ডলার) রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২১.৪ শতাংশ বৃদ্ধি।

    প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) কিছুটা কমেছে; গত অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়কালীন এফডিআই ছিল প্রায় ১০৬ কোটি ডলার, চলতি সময়ে প্রাপ্তি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৭ কোটি ডলারে। অপরদিকে শেয়ারবাজারে পোর্টফোলিও বিনিয়োগ নিট হিসেবে ঋণাত্মক অবস্থায় রয়েছে — এ খাতে(net) প্রায় ৮ কোটি ডলার বেরিয়ে গেছে, যা আগের বছরও প্রায় সমপরিমাণ ঋণাত্মক ছিল।

    সংক্ষেপে, রপ্তানি বাড়লেও আমদানির তীব্রতা এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি দেশের বাণিজ্য ঘাটতি বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মনেহয়, স্থায়ীভাবে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আমদানির দক্ষ নিয়ন্ত্রণ, রপ্তানি পণ্য বৈচিত্র্য ও নতুন বাজার অন্বেষণ অপরিহার্য।

  • আলোচনা চালিয়ে নেওয়ার আগ্রহ দুই পক্ষেই, সিদ্ধান্তে নজর ট্রাম্পের দিকে

    আলোচনা চালিয়ে নেওয়ার আগ্রহ দুই পক্ষেই, সিদ্ধান্তে নজর ট্রাম্পের দিকে

    ইসলামাবাদে সমাপ্ত আলোচনা কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইতিমধ্যেই পাকিস্তান ত্যাগ করেছেন, ফলে আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। তবু বিশ্লেষকরা মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের আসল চাহিদা যুদ্ধ থামানোই — তাদের সামনে অন্য কার্যকর বিকল্প মেলে না।

    আন্তরিকতা দেখানোর লক্ষ্যে ভ্যান্সকে পাঠানো হয়েছিল; ওয়াশিংটন বারবার জানিয়েছে তারা বিষয়টি নিয়ে গম্ভীর। কিন্তু জেডি ভ্যান্স ফিরে যাওয়ার পর থেকেই আলোচনা কি স্থগিত, নাকি দূর থেকে চালানো হবে—এই প্রশ্ন উঠেছে। আল জাজিরার জন হেনড্রেন বলছেন, ভ্যান্সের প্রত্যাগমনই আলোচনা বন্ধের নিশ্চয়তা নয়; দীর্ঘ দর-কষাকষি প্রয়োজনে দূর থেকে চালিয়ে নেয়া যায়।

    প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন, যেই ফল আসুক না কেন আমেরিকা সামরিকভাবে বিজয়ী হয়েছে এবং তিনি এতে খুব বেশি উদ্বিগ্ন নন। অনেকে এই বক্তব্যকে আড়োচোখে দেখছেন। কারণ চলমান সংঘাতটি আমেরিকার জনমতে বেশ অজনপ্রিয়—এক-তৃতীয়াংশেরও কম নাগরিক এটিকে সমর্থন করছেন। শেয়ারবাজারে পতন এবং জ্বালানির দাম বাড়ায় ট্রাম্পের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

    চ্যালেঞ্জের মধ্যে সবচেয়ে বড়টি হলো হরমুজ প্রণালী — যা কার্যত ইরানের নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। ট্রাম্প চাইছেন এই অবস্থা বদলাতে; কিন্তু এই مسئয়টাই আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার আগে বড় ব্যাধি হিসেবে দাঁড়িয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে দুই মার্কিন যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি ইঙ্গিত করছে যে ওয়াশিংটন বিকল্প পথ সম্পর্কে ভাবছে।

    আলোচনায় মূল বিষয় ছিল না শুধু পরমাণু কর্মসূচি বা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের সঞ্চয়, বরং এবার আলোচনার পরিধি অনেক বড়—নিরাপত্তা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ করা সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়া—এসব জটিল ইস্যুও তালিকায় রয়েছে। মার্কিন পক্ষ ইরানকে কেবল বলে দিচ্ছে না যে পরমাণু অস্ত্র বানানো যাবে না, বরং চায় ইরান সেই প্রযুক্তি অর্জনের চেষ্টা থেকেই বিরত থাকার অঙ্গীকারও করবে। এমন ধরনের বিষয় সমাধান করতে সময় লাগে—২০১৫ সালের ঐতিহাসিক চুক্তিতেও প্রায় দুই বছর সময় লেগেছিল।

    মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের রস হ্যারিসন সতর্ক করে বলেছেন, যদি আমেরিকার কড়া শর্তগুলো কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ না থেকে পর্দার আড়ালেও একই রকম বলিষ্ঠতা বজায় থাকে, তাহলে সমঝোতার সম্ভাবনা কম। তার মতে, ইরান ইতিমধ্যেই এই সংঘাতে ব্যয়বহুল ক্ষতির সম্মুখীন — বিশেষ করে জনগণকে বড় মূল্য দিতে হয়েছে। তাই ইরান সহজে আগের অবস্থায় ফিরে যাবে না।

    আলোচনার অবসান πολλকে অবাক করেছে, কারণ দুই পক্ষকে একই টেবিলে আনতে বড় কূটনৈতিক শ্রম লেগেছিল। তবে এক প্রবীণ কূটনীতিক জানিয়েছেন যোগাযোগের চ্যানেল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়নি। পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতা আঞ্চলিক ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে বসিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে, এবং পাকিস্তান এই সূত্র বজায় রাখার পক্ষে।

    পাকিস্তান সরকার দাবি করেছে, লেবাননসহ হুতি ও ইরাকি সশস্ত্রগোষ্ঠীগুলো যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে বলে জানিয়েছিল; কিন্তু বৈরুতেতে ইসরায়েলি হামলা সেই সূক্ষ্ম সমীকরণকে তছনছ করে দিয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে।

    দুই পক্ষই আলোচনার খুঁটিনাটি গোপন রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল; কৌশলগত ও কারিগরি বিষয়ের বিষয়ে তেমন বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। যাইহোক, আলোচনায় ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালী নিয়ে নতুন নিয়ম চালুর বিষয়টি প্রথমবারের মতো কেন্দ্রে এসেছে — ইরান বলছে তারা ওই পথ শত্রুদের জন্য বন্ধ রাখতে পারে, যার ফলে বিশ্ব জ্বালানির বাজারে বড় প্রভাব পড়েছে।

    একই সঙ্গে ইরান সব যুদ্ধক্ষেত্রে একযোগে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি দাবিও তুলেছে, যা আমেরিকা ও ইসরায়েলের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। ইরানের ১০ দফা ও মার্কিন ১৫ দফা দাবির মধ্যে মিল কম; তাই বিবাদ কেবল এক-দুই বিষয়ে সীমাবদ্ধ থেকেছে না।

    ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, কূটনীতি কখনোই শেষ হয় না; কূটনৈতিক কাঠামো জাতীয় স্বার্থ রক্ষা ও নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। তিনি জানিয়েছেন, ইরান, পাকিস্তান ও অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবে।

    এখন প্রশ্ন—এরপর কী? গত বুধবার যে যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছিল, তা মার্কিন প্রেসিডেন্টের কড়া বিবৃতির পর ভূমিকা পেয়েছিল; কিন্তু পুনরায় হামলার সম্ভাবনা নিষ্ক্রিয় নেই। পাকিস্তান জানাচ্ছে যোগাযোগের পথ খোলা রাখা জরুরি এবং তারা যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে আগ্রহী। তবু আলোচনার ভবিষ্যৎ এখন বড় অংশেই ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। বিশ্বজুড়ে নজর এখন ট্রাম্পের পরবর্তী কথাবার্তার দিকে।

    (তথ্যসূত্র: আল জাজিরা, বিবিসি)