Blog

  • নেতানিয়াহু: ইরানে ইসরায়েলের অভিযান এখনও শেষ হয়নি

    নেতানিয়াহু: ইরানে ইসরায়েলের অভিযান এখনও শেষ হয়নি

    ইরায়েনের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এখনও বন্ধ হয়নি—এভাবেই সতর্ক করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে চলা বৈঠকের সময় শনিবার এক ভিডিওবার্তায় তিনি এই ঘোষণা দেন।

    ভিডিওবার্তায় হিব্রু ভাষায় কথা বলা নেতানিয়াহু বলেছেন, “ইরানে ইসরায়েলের অভিযান এখনও শেষ হয়নি, আমাদের এখনও অনেক কিছু করার আছে। তবে এটা স্পষ্টভাবে বলা যেতে পারে যে এ পর্যন্ত যা যা অর্জন হয়েছে, তা ঐতিহাসিক।”

    নেতানিয়াহু বার্তায় ইরানে সামরিক অভিযান চালানোর কারণও ব্যাখ্যা করেছেন। তার ভাষ্য—ইরান তখন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির যোগ্যতার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল, আর একবার তারা সেই সক্ষমতা অর্জন করলে প্রতিদিনই শতশত পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে পারত, যা ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াত।

    তিনি আরও বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি চেয়েছিলেন দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ও পরমাণু কর্মসূচিকে মাটির নিচে বহুদূর সরিয়ে দেয়া—তখনকার যুক্তরাষ্ট্রের বি-২ বোমারু বিমানও সেগুলোর অবস্থান শনাক্ত করতে পারবে না। এমন পরিস্থিতিতে চুপ করে থাকা ইসরায়েলের জন্য গ্রহণযোগ্য ছিল না বলেই তারা ব্যবস্থা নিয়েছে, যোগ করেন নেতানিয়াহু।

    পটভূমি হিসেবে বলা হয়েছে, ইরানের পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি গত কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইস্রায়েলের সঙ্গে অবিরত বিতর্কের কারণ হয়ে আসছে। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলা আলোচনা চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন চলে, কিন্তু ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো সমঝোতায় পৌঁছায়নি।

    এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ ঘোষণা করলে, একই সময়ে ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে। যুদ্ধের প্রথম দিনই নিহত হন আয়াতুল্লাহ খামেনি, যিনি লীগের ৩৭ বছর ধরে দেশের সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন। ওই হামলায় খামেনির স্ত্রী, কন্যা, নাতি এবং তার ছেলে মোজতবার স্ত্রীর মৃত্যু হয়; মোজতবা নিজে গুরুতর আহত হন।

    উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে। এরপর ১১ এপ্রিল দুই দেশের কর্মকর্তারা সংলাপে বসেন, তবে সেটাও কোনো চুক্তি না করে শেষ হয়।

    শনিবারের ভিডিওবার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, “ইরানে অভিযান চালিয়ে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী ইতোমধ্যে অনেক সাফল্য অর্জন করেছে এবং সামনে আরও সাফল্য অর্জন করবে।” তিনি উল্লেখ করেন, ইরানে এখনও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মতো উপাদান রয়ে গেছে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেমন বলেছেন, ইসরায়েলও সেটাই সমর্থন করে—চুক্তির মাধ্যমে অপসারণ না হলে অন্য পথে তা অপসারণ করা হবে।

    সূত্র: বিবিসি, এএফপি

  • কুষ্টিয়ায় নিহত দরবার প্রধান আব্দুর রহমানের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন

    কুষ্টিয়ায় নিহত দরবার প্রধান আব্দুর রহমানের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন

    কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে নিহত হওয়া দরবার প্রধান আব্দুর রহমান ওরফে শামিম (৬৫) এর ময়নাতদন্ত রবিবার দুপুর ১টায় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে সম্পন্ন হয়েছে।

    কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডাঃ মো. হোসেন ইমাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ময়নাতদন্তে দেখা গেছে মরদেহের বিভিন্ন অংশে একাধিক জখমের চিহ্ন রয়েছে। বিশেষ করে মাথা, ঘাড় ও পিঠে তুলনামূলকভাবে গভীর ক্ষত পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ময়নাতদন্তকারী ডাক্তারের ধারণা, একাধিক জখমের কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটে।

    এই ঘটনার পর থেকেই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। তদন্তকারীরা এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেননি বলে দৌলতপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ মোহাম্মদ আলী মর্তুজা জানান। তিনি বলেন, মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে এবং পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নিহতের মরদেহ এখন কুষ্টিয়ার মর্গে রয়েছে।

    পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, শনিবার দুপুরে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকার ‘শামিম বাবার দরবার শরিফ’ নামের স্থানে এই ঘটনা ঘটে। ওই দিন সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তাকে ধর্ম সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে।

    ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা দরবারে হামলা করে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায় এবং এক পর্যায়ে সংঘর্ষে শামিম মারা যান। several Several several Several—[Note: adjust to Bengali] Several locals were injured and later taken to the doughtypal Upazila Health Complex where duty doctors declared Shamim dead. দ্রুত ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং পুলিশ বিকল্প নিরাপত্তা জোরদার করেছে।

    নিহত শামিম দক্ষিণ ফিলিপনগর গ্রামের মৃত জেসের মাস্টারের ছেলে। জানা গেছে, ২০২১ সালে তার বিরুদ্ধে একই ধরনের ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

    স্থানীয় প্রশাসন ও তদন্ত কর্মকর্তারা ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রেখে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন।

  • কালীগঞ্জে স্মার্ট ফুয়েল অ্যাপ চালু: একাধিকবার তেল নেওয়া বন্ধ, ভোগান্তি কমলো

    কালীগঞ্জে স্মার্ট ফুয়েল অ্যাপ চালু: একাধিকবার তেল নেওয়া বন্ধ, ভোগান্তি কমলো

    ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে জ্বালানি সঙ্কটের সুযোগে তেল ঘ ALS করার দুর্বৃত্তচক্র ঠেকাতে চালু করা হয়েছে ‘স্মার্ট ফুয়েল’ অ্যাপ। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে একই বাইকার যতবারই তেল নিতে চাইলেই তা শনাক্ত করা যাচ্ছে, ফলে ভিড়, অনিয়ম ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমেছে।

    বর্তমানে অ্যাপটি উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে পরীক্ষামূলকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে। এটি প্রথমবারের মতো ৭ এপ্রিল কোটচাঁদপুর সড়কের একটি ফিলিং স্টেশনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদের উপস্থিতিতে চালু করা হয়। পরে দ্রুত অন্যান্য স্টেশনেও এটি প্রয়োগ করা হচ্ছে।

    অ্যাপটির মাধ্যমে প্রতিটি মোটরসাইকেলের নাম্বার প্লেট স্ক্যান করে সেই তথ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে। নাম্বার প্লেট না থাকলে ভিন্নভাবে ইঞ্জিন নাম্বারের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি বাইকারকে নির্দিষ্টভাবে ৫০০ টাকা মূল্যের পেট্রোল বা অকটেন দেওয়া হচ্ছে এবং একবার তেল নেওয়ার পর ৯৬ ঘণ্টা পর্যন্ত পুনরায় তেল নেওয়া যাবে না। এই মেয়াদে কেউ আবার তেল নিতে গেলে স্ক্যানের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক সতর্কতা আসে এবং অনিয়ম ধরা পড়ে।

    অ্যাপ চালু হওয়ার ফলে ইতোমধ্যে শতাধিক বাইকারকে শনাক্ত করা হয়েছে, যারা একাধিকবার তেল নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। প্রাথমিকভাবে তাদের সতর্ক করা হচ্ছে; একই আচরণ পুনরাবৃত্তি হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে।

    স্থানীয়রা বলছেন, আগের দিনে বাইকাররা একাধিক ফিলিং স্টেশন ঘুরে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করত এবং তা মজুদ করে বেশি দামে বিক্রি করত। অনেক সময় লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়াতে হত তবুও তেল পাওয়া যেত না। এমনকি তেল নিয়ে বিবাদ-হানাহানি এবং সাংবাদিকরাও হেনস্তার শিকার হয়েছিলেন। এখন এসব সমস্যা অনেকটাই কমেছে।

    একজন বাইকার রাশেদ হোসেন বলেন, “আগে ঘণ্টা কাটলেও তেল পাওয়া যেত না, ভোগান্তি ছিল। এখন অ্যাপের কারণে দ্রুত তেল পাওয়া যাচ্ছে, ঝামেলা কমেছে।” অন্য বাইকার সুমন আলী বলেন, “কেউ মজুদ করে নিয়ে গেলে আমরা সমস্যায় পড়তাম। স্মার্ট অ্যাপ সেই সুযোগটুকু বন্ধ করে দিয়েছে, খুবই ভালো উদ্যোগ।”

    অ্যাপটির উদ্ভাবক ও স্থানীয় তরুণ উদ্যোক্তা শেখ ওবায়দুল হক রাসেল বলেন, জ্বালানি সঙ্কটের সময় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমানো এবং অসাধু চক্রকে প্রতিরোধ করতেই এই উদ্যোগ। তিনি বলেন, প্রযুক্তি দিয়ে স্বচ্ছতা আনার মাধ্যমে অনিয়ম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ জানান, অ্যাপ চালু হওয়ায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে এবং প্রশাসন নিয়মিতভাবে মনিটরিং করছে। বৈধ কাগজপত্র থাকলেই তেল দেওয়া হবে, নইলে দেওয়া হবে না এবং জরিমানাসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে এই উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণ করা হবে বলে তিনি জানান।

    এসব পরিবর্তনের ফলে কালীগঞ্জের সাধারণ মানুষ এখন তুলনামূলকভাবে স্বস্তিতে তেল পাচ্ছে এবং তেলবঞ্চনার কারণে সৃষ্ট অনিয়মগুলো ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসছে।

  • বিসিবি বাড়াল রানা-শরিফুলের পিএসএল এনওসি এক দিন

    বিসিবি বাড়াল রানা-শরিফুলের পিএসএল এনওসি এক দিন

    পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) খেলা দুই বাংলাদেশি পেসার—শরিফুল ইসলাম ও নাহিদ রানার জন্য অনাপত্তি পত্র (এনওসি) একদিন বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। পেশোয়ার জালমি ফ্র্যাঞ্চাইজি ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এর অনুরোধের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে এই দুই পেসার পেশোয়ারের পরবর্তী ম্যাচ খেলতে আরেকদিন পাকিস্তানে থাকতে পারবেন।

    এর আগে বিসিবি সব বাংলাদেশি খেলোয়াড়কে পিএসএল খেলার জন্য ১২ এপ্রিল পর্যন্ত এনওসি দিয়েছিল। তবে পেশোয়ার জালমির আগামারি সূচি ও পিসিবির অনুরোধের কারণে দুজনের অবস্থান একদিন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। শৃঙ্খলগত কারণে তারা ১৪ এপ্রিল দেশে ফিরে জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দেবেন।

    অন্য দিকে, কয়েকদিন আগে চোট পাওয়ায় দেশে ফিরে গেছেন ব্যাটসম্যান পারভেজ হোসেন ইমন। মূলত কাঁধের লিগামেন্টে চোট পেরেছেন তিনি; তার জন্যের এনওসি যদিও ২১ এপ্রিল পর্যন্ত ছিল। বিসিবির ফিজিও জানিয়েছেন, সম্পূর্ণ সেরে মাঠে ফিরতে ইমনকে প্রায় তিন সপ্তাহ লাগতে পারে। আজ (রোববার) বিসিবির ফিজিওরা তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবেন; তার পরই নির্ধারিত হবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে তাঁর খেলার সম্ভাবনা।

    ফর্ম ও পারফরম্যান্সের দিকে ফিরে দেখলে, রিশাদ হোসেন এবারের আসরে চার ম্যাচে মাত্র দুইটি উইকেট নিয়েছেন। পেশোয়ার জালমিতে শরিফুল-নাহিদের সঙ্গে পাওয়া গিয়েছিল তানজিদ হাসান তামিমেরও নাম; তবে বিদেশী ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে প্রথমবার গিয়ে কোনো ম্যাচের একাদশেই সুযোগ পাননি তিনি।

    ইমন লাহোর কালান্দার্সের হয়ে প্রথম দুই ম্যাচে ১২ ও ১৪ রানে আউট হলেও তৃতীয় ম্যাচে মাত্র ১৯ বলেই পাঁচটি ছক্কায় ৪৫ রান করেন। কিন্তু সেই ম্যাচের পরে চোট পাকাতে হওয়ায় তাকে আগেভাগেই বাড়ি ফিরতে হয়েছে।

    পেশোয়ার জালমির হয়ে শরিফুল শুরুতে প্রথম দুই ম্যাচে উইকেট না পেলেও পরের দুই ম্যাচে ফিরে দুইটি উইকেট পেয়েছেন। নাহিদের শুরুটা ছিল হতাশাজনক—প্রথম ম্যাচে তিন ওভারে ৩০ রান দিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল তাকে। তারপরের দুই ম্যাচে আগুনে বোলিং করে নাহিদ পাঁচটি উইকেট শিকার করেছেন। আর লাহোর কালান্দার্সের হয়ে ৫ ম্যাচ খেলে নিয়েছেন ৬ উইকেট।

  • আর্জেন্টিনার ৫৫ সদস্যের প্রাথমিক বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা

    আর্জেন্টিনার ৫৫ সদস্যের প্রাথমিক বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা

    মাত্র দু’মাস পরে শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে ট্রফি ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে ইতোমধ্যেই কোচ লিওনেল স্কালোনি তার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার একটি বড় ধাপ শেষ করেছেন।

    স্কালোনি আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে (এএফএ) মে মাসের ১১ তারিখের মধ্যে জমা দেওয়ার জন্য ৫৫ জনের একটি প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করে দিয়েছেন। এই প্রাথমিক তালিকা থেকে বেছে নেওয়া হবে চূড়ান্ত ২৬ জনের দল, যারা যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত হবে এমন বিশ্বকাপে আলবিসেলেস্তেদের হয়ে খেলবে। দেশটির গণমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস এই খবর নিশ্চিত করেছে।

    নতুন তালিকায় স্কালোনি কেবল বর্তমান তারকাদের ওপর ভরসা করছেন না; তরুণ ও ভবিষ্যৎ প্রতিভাদেরও সুযোগের জোর দিয়েছেন তিনি। সাম্প্রতিক প্রীতি ম্যাচের পরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কোচ নিজেই জানিয়েছিলেন যে এএফএকে ৫৫ জনের তালিকা ইতিমধ্যেই পাঠানো হয়েছে।

    চূড়ান্ত দলে প্রায় নিশ্চিত নামগুলোর মধ্যে রয়েছেন: এমিলিয়ানো মার্টিনেজ, গেরোনিমো রুল্লি, নাহুয়েল মলিনা, গনজালো মন্টিয়েল, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, নিকোলাস ওতামেন্দি, নিকোলাস ট্যাগলিয়াফিকো, রদ্রিগো ডি পল, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, এনজো ফার্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, লিওনেল মেসি, লাউতারো মার্টিনেজ, জুলিয়ান আলভারেজ এবং নিকোলাস গনজালেজ।

    চূড়ান্ত দল ঘোষণার আগে এখনও চারটি আসনের জন্য তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে। বিশেষ করে:

    – তৃতীয় গোলরক্ষক: জুয়ান মুসো (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ) বর্তমানে ওয়াল্টার বেনিতেজের ওপর এগিয়ে রয়েছেন।

    – ব্যাকআপ লেফট-ব্যাক: মার্কোস অ্যাকুনা ও গ্যাব্রিয়েল রোজাস প্রধান দাবিদার; কোলো বার্কোও বিবেচনায় আছেন।

    – চতুর্থ সেন্টার-ব্যাক: মার্কোস সেনেসি ও ফ্যাকুন্দো মেদিনা লড়াই করছেন।

    – শেষ স্পটের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছে জিওভানি লো সেলসো (ফিটনেসের ওপর নির্ভরশীল), ভ্যালেন্টিন বার্কো, ফ্রাঙ্কো মাস্তান্তুয়োনো, জিয়ানলুকা প্রেস্টিয়ান্নি ও ম্যাক্সিমো পেরোনি।

    প্রাথমিক তালিকায় অনেক অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ও রয়েছেন, যদিও তাদের ফর্ম বর্তমানে তুলনামূলক কম বলেও মূল্যায়ন করা হচ্ছে। তাছাড়া কিছু তরুণ বিকল্পকে বিশেষ পজিশনে পরীক্ষা করা হয়েছে, যাতে চোট বা খারাপ কাজের দিনে বিকল্প পাওয়া যায়।

    বিশ্বকাপ শুরুর আগে মাত্র দু’মাস সময় থাকায় খেলোয়াড়দের ফর্ম ও ফিটনেস নিয়েই শেষ সিদ্ধান্ত নেবেন স্কালোনি। প্রতিপক্ষের কঠিন লড়াই ও নিজেদের প্রতিরক্ষায় শক্ত ভূমিকা রেখে আর্জেন্টিনা যত দ্রুত সম্ভব শক্ত দলে পরিণত হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।

  • রুনা লায়লা: ‘এমন শিল্পী আর জন্মাবে না’, আশা ভোঁসলের প্রয়াণে কষ্ট

    রুনা লায়লা: ‘এমন শিল্পী আর জন্মাবে না’, আশা ভোঁসলের প্রয়াণে কষ্ট

    ভারতের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী আশা ভোঁসলে রোববার চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুনিয়া থেকে প্রস্থান করেছেন। মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ১২ এপ্রিল ৯২ বছর বয়সে তাঁর অন্ত্যেষ्टि নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সংবাদটি প্রকাশ্যে আসার সঙ্গে সঙ্গে সংগীতাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমেছে এবং বহু শিল্পী ও শ্রোতা শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।

    রবিবারই উপমহাদেশের প্রসিদ্ধ শিল্পী রুনা লায়লা আশা ভোঁসলের প্রয়াণে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর বড় বড় দুইজন কিংবদন্তি শিল্পী পরপর চলে গেলেন। লতা মঙ্গেশকর দিদি ২০২২ সালে যাওয়ার পর আর আশা দিদিও চলে গেলেন। এমন শিল্পী আর এই পৃথিবীতে জন্মাবে না। আমার কাছে মনে হচ্ছে, আমার পৃথিবীটাই শূন্য হয়ে গেছে।’

    রুনা লায়লা ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ করে জানান, ‘তারা দুজনেই আমাকে ভীষণ স্নেহ করতেন—মায়ের মতোই। এই কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’ তিনি বলেন, তাঁর শেষ সাক্ষাৎ ছিল নিজের সুর করা গান ‘চলে যাওয়া ঢেউগুলো আর ফিরে আসেনি’ রেকর্ডিংয়ের সময়। পরে তারা ফোনে যোগাযোগ রেখেছিলেন, কিন্তু কিছুদিন ধরে তিনি ভাবতেন আবার কথা বলবেন—‘‘আজ করব, কাল করব’’—এভাবেই শেষ দেখা ও শেষ কথাগুলো আর হলো না।

    রুনা আরও বলেন, ‘যদি তখনি ফোন করে দিতাম, হয়তো আজ এই আফসোসটা এত গভীর হতো না। নিজের ভেতরে খুব কষ্ট হচ্ছে—এ কষ্ট সত্যিই ভাষায় বলা সম্ভব নয়।’

    আশাকে শনিবার সন্ধ্যায় বুকে ব্যথা নিয়ে ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখলেও শেষ পর্যন্ত তিনি ফিরে আসেননি। টানা সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতীয় সংগীত বিশ্বে অদ্বিতীয় প্রতিভা হিসেবে তিনি রাজত্ব করেছেন—হাজার হাজার গান এবং অগণিত কালজয়ী সুরের মাধ্যমে তিনি কয়েক প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছেন। তাঁর প্রয়াণে একটি সোনালি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে, যা সংগীতবিশ্ব বহুদিন মনে রাখবে।

  • কিংবদন্তি আশা ভোঁসলের শেষকৃত্য কবে, জানালেন পরিবার

    কিংবদন্তি আশা ভোঁসলের শেষকৃত্য কবে, জানালেন পরিবার

    কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলে আর নেই। রোববার (১২ এপ্রিল) মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৯২ বছর। হাসপাতাল ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত জটিলতাই তার মৃত্যুর কারণ।

    আনন্দ ভোঁসলে জানিয়েছেন, আহত মার্কিন সময়সূচী অনুযায়ী সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেল ৪টায় মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। তিনি বলেন, “মা আজ আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। আগামীকাল সকাল ১১টায় লোয়ার প্যারেলে তাদের বাসভবন কাসা গ্রান্দে-তে মরদেহ রাখা হবে; সেখানে ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীরা শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন। এরপর বিকেলে শিবাজি পার্কে শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে।”

    আশা ভোঁসলের সুরের জাদু ছড়িয়েছিল অগণিত হৃদয়ে—প্রায় আট দশকের বেশি ক্যারিয়ারে তিনি ১২ হাজারেরও বেশি গান রেকর্ড করেছেন। ১৯৪৩ সালে পেশাদার জীবন শুরু করে তিনি মেধা, বহুমুখী প্রতিভা ও অদ্বিতীয় কণ্ঠে বাংলা, হিন্দি ও অন্যান্য ভাষার চলচ্চিত্রসংগীতে নিজেকেই প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। মিনা কুমারী ও মধুবালার সময় থেকে শুরু করে পরবর্তী প্রজন্মের কাজল, ঊর্মিলা মতন্ডকরদের জন্যও তিনি গানের কণ্ঠ দিয়েছেন—প্রজন্মে প্রজন্মে তার কণ্ঠ বাস করেছে।

    গজল থেকে শুরু করে পপ, আদুনিক ও ক্লাসিকাল ধারায়ও তিনি নিজস্ব ছাপ রেখেছেন। ‘দম মারো দম’, ‘চুরা লিয়া হ্যায় তোমনে’, ‘পিয়া তু অব তো আজা’, ‘দিল চিজ কেয়া হ্যায়’—এই সব গান এখনো শ্রোতাদের মুখে মুখে। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অনুযায়ী তিনি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি স্টুডিও রেকর্ড করা শিল্পীদের একজন।

    চলচ্চিত্র জগতে তার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি দুইবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, দাদা সাহেব ফালকে পুরস্কার ও পদ্মবিভূষণসহ বহু সম্মাননা পেয়েছেন।

    সঙ্গীতের অগণিত মুহূর্তে স্মৃতিময় করে রেখে গেলেন আশা ভোঁসলে—তার কণ্ঠ, তার ভঙ্গিমা ও গানগুলো যুগ যুগ ধরে শ্রোতাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে। পরিবার, শিল্পীবৃন্দ ও ভক্তরা শোকাহত হলেও তার সুরের ঐতিহ্য অম্লান থেকে যাবে।

  • সালমান খান মামলার থেকে সাময়িক মুক্তি পেলেন

    সালমান খান মামলার থেকে সাময়িক মুক্তি পেলেন

    সালমান খান বহু দিন ধরেই ঘাড়ের ওপর থাকানো পানমশলার বিজ্ঞাপন মামলার কারণে বিব্রত ছিলেন। একের পর এক শুনানিতে তিনি অনুপস্থিত থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। তবে এখন তার জন্য সুসংবাদ আসল, তিনি সাময়িকভাবে রেহাই পেয়েছেন।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, ১৩ এপ্রিল জয়পুর জেলা উপভোক্তা কমিশনের সমন ছিল সালমানের। সেখানে হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু রাজস্থান হাই কোর্টこの নির্দেশে স্থগিতাদেশ প্রদান করেছে। ফলে নির্ধারিত দিন তিনি কমিশনে হাজিরা দেওয়ার জন্য থেকে বিরত থাকতে পারছেন।

    সালমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন যোগেন্দ্র সিংহ বাদিয়াল। তিনি একটি পানমশলার বিজ্ঞাপনের জন্য অভিযোগ করেন, যেখানে সালমানের ছবি ব্যবহার হয়েছিল। অভিযোগে বলা হয়, ওই পণ্যে বলা হয়েছিল, ‘জাফরান বা তবক মিশ্রিত এলাচ’ এবং ‘জাফরান মিশ্রিত পানমশলা’, তবে বাস্তবে তা নয়। ক্রেতাদের বিভ্রান্ত করার জন্য এ ধরনের দাবি করা হয়েছে, যেন তারা মনে করেন, পণ্যটি সম্পূর্ণ নিরাপদ।

    বছর শুরুতে অভিযোগের ভিত্তিতে উপভোক্তা কমিশন ওই পণ্যগুলোর প্রচারে অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। পরে বিভিন্ন শহরে, যেমন জয়পুর ও কোটায় বিলবোর্ড ও অন্যান্য বিজ্ঞাপন দেখা যায়, যা আদালতের আদেশ অমান্য করায় কমিশন এই বিষয়টি দেখেছে।

    এদিকে, সালমান বর্তমানে তার নতুন সিনেমা ‘মাতৃভূমি’ এর শুটিংয়ে ব্যস্ত। এই ছবি আগে ‘ব্যাটেল অফ গলওয়ান’ নামে পরিচিত ছিল, এর শুটিং ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

  • অভিনেত্রী বিপাশা বলিউডের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন

    অভিনেত্রী বিপাশা বলিউডের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন

    জনপ্রিয় এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের গুণী শিল্পী বিপাশা হায়াত। তিনি নব্বইয়ের দশকের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী, যার মঞ্চ, টেলিভিশন এবং সিনেমার ক্যারিয়ার দর্শকদের মন জয় করেছে। সম্প্রতি তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরেছেন এবং তখনই এক পডকাস্টে অংশ নিয়ে তার জীবন ও ক্যারিয়ার নিয়ে নানা আলাপ করেছেন। এই সাক্ষাৎকারে তিনি বলিউডে অভিনয় বা কাজ করার প্রস্তাবের ঘটনাও শেয়ার করেন।

    সেখানে সঞ্চালক জানতে চান, কেয়ামত থেকে কেয়ামত সিনেমার প্রস্তাব এবং সেই সময়ে কি বলিউড থেকে কোনো প্রস্তাব এসেছিল। এর জবাবে বিপাশা বলেন, বলিউডের ক্ষেত্রে প্রস্তাব আসার ঘটনা অনেক পরে, তবে এর আগে নয়। তিনি জানান, বলিউডে তার কাছে পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব এসেছিল। যদিও সিনেমার নাম মনে রাখতে পারেননি, তবে তার ফোনে সেই কলের নম্বর এখনো সেভ রয়েছে এবং কয়েকবার কথা বলেছেন কেউ একজন।

    বিপাশা তার এই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার কারণ স্পষ্ট করে বলেন, তখন তাঁরা মনে করতেন, দেশের মানুষ যত ভালোবাসার দৃষ্টিতে তাকে দেখে, সেই দর্শকদের কাছে গিয়ে কখনো যেনতেন চরিত্রে অভিনয় করতে চাননি। তিনি মনে করেন, বলিউডে যোগ দেওয়া মানে হয়তো তার জন্য সেই মূল্যবোধ বা দর্শকদের প্রত্যাশার সঙ্গে সততা রাখতে পারেননি।

    তিনি আরও বললেন, তিনি একজন তারকা নন, বরং একজন পাবলিক ফিগার। একজন পাবলিক ফিগার হিসেবে তার একটা দায়িত্ব আছে—সেটা তিনি গুরুত্ব দেন। মানুষের ভালোবাসা পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ, কারণ এই ভালোবাসা থেকে নানা ঝড়ঝড়, কোন্দল, মারামারি সৃষ্টি হয়। এ কারণেই তিনি অনুভব করেন, বাংলাদেশের দর্শক বা মানুষের ভালোবাসার থেকে ওখানে গিয়ে ভালো কিছু করার মূল্য বেশি। সারসংক্ষেপে, বিপাশা মনে করেন, নিজের দেশের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা এবং দর্শকদের প্রতি সম্মান তাকে বলিউডের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিতে অনুপ্রাণিত করেছে।

  • আশা ভোসলে হাসপাতালে ভর্তি, আশঙ্কাজনক অবস্থায়

    আশা ভোসলে হাসপাতালে ভর্তি, আশঙ্কাজনক অবস্থায়

    ভারতীয় কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোসলে গুরুতর অসুস্থ হয়ে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শনিবার (১১ এপ্রিল) তাঁকে এখানে নেওয়া হয়, যেখানে জানা গেছে তিনি হার্ট অ্যাটাকের শিকার হয়েছেন। বর্তমানে তিনি নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) রয়েছেন।

    হাসপাতাল সূত্রে চিকিৎসক প্রতীত সামদানি জানিয়েছেন, শনিবার হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের কারণে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল কি না, তা এখনই স্পষ্ট করেননি চিকিৎসকেরা।

    আশা ভোসলে গুরুতর অসুস্থ এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই ভক্তেরা শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। যদিও এখনো পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। গত কয়েক বছর ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা নিয়ে তিনি কিছুটা অপ্রস্তুত ছিলেন।

    সংগীতের জগতে তাঁর অবদান অসীম। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি ভারতীয় সংগীতকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তাঁর অর্জনগুলির মধ্যে রয়েছে ভারতের সর্বোচ্চ চলচ্চিত্র সম্মান দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার, পদ্মবিভূষণ, বহু জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও ফিল্মফেয়ার পুরস্কার। এই সকল পুরস্কারই তাঁকে ভারতীয় প্লেব্যাক সংগীতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও সম্মানিত কণ্ঠশিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

    আশা ভোসলে ১৯৪৩ সালে সংগীতজীবন শুরু করেন। আট দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি প্রিয় গানের জন্য সবাইকে পরিচিত করে তুলেছেন— ‘দম মারো দম’, ‘চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে’, ‘পিয়া তু আ এখন আজা’, এবং ‘দিল চিজ কী হ্যায়’। গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অনুযায়ী, তিনি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি স্টুডিও রেকর্ড করা শিল্পী।