Blog

  • নিট লোকসানে ১৭ ব্যাংক; সিএসআর ব্যয় প্রায় অর্ধেকে

    নিট লোকসানে ১৭ ব্যাংক; সিএসআর ব্যয় প্রায় অর্ধেকে

    ২০২৪ সালে দেশের ব্যাংক খাত গভীর অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে। বছরের বেশি সময় ব্যাংকগুলোর মুনাফা সংকুচিত হওয়ায় ১৭টি ব্যাংক নিট লোকসানে চলে যায় এবং যেসব ব্যাংক মুনাফা করেছে, তাদের আয়ও প্রত্যাশিত মাত্রায় হয়নি। রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের সিএসআর সংক্রান্ত প্রতিবেদন বিশ্লেষণে এসব তথ্য উঠে আসে।

    সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে (জানুয়ারি—ডিসেম্বর) দেশের ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক সিএসআর খাতে মোট ব্যয় করেছে মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা।これは আগের বছরের তুলনায় ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা বা প্রায় ৪২ শতাংশ কম। গত এক দশকে সিএসআর খাতে এটিই সর্বনিম্ন ব্যয়; পূর্বের নিম্নতম রেকর্ড ২০১৫ সালে ছিল ৫২৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। সেই তুলনায় এবার ব্যয় প্রায় ১৮২ কোটি টাকা (৩৪.৫৭ শতাংশ) কমেছে, যা খাতটিতে নতুন নিম্নমুখী প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সিএসআর খাতে ব্যয় ছিল ৬১৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা—এটি ২০২৩ সালের তুলনায় ৩০৮ কোটি টাকা (৩৩ শতাংশ) কম। ২০২৩ সালে ব্যয় ছিল ৯২৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা, এবং ২০২২ সালে এটি ছিল ১,১২৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ দুই বছরের ব্যবধানে সিএসআর ব্যয় প্রায় ৫১৩ কোটি টাকা বা ৪৫ শতাংশের বেশি কমেছে।

    খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পরবর্তীতে সরকার পরিবর্তনের প্রভাব ব্যাংকিং খাতে বড় ধাক্কা দিয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন ব্যাংকের অনিয়ম, লুটপাট ও অর্থ পাচারের তথ্য প্রকাশ হলে কাগজে-কলমে দেখানো মুনাফার বিপরীতে প্রকৃত আর্থিক চিত্র সামনে আসে। খেলাপি ঋণ বাড়ায় প্রকৃত লোকসানের হিসাবও প্রকাশ পায়। বিশেষ করে শরিয়াভিত্তিক কয়েকটি ব্যাংক বড় ধরনের চাপের মুখে পড়ে; কিছু শিল্পগোষ্ঠীর ঋণ অনিয়ম ও অর্থ পাচারের প্রভাবও এতে যুক্ত। পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ায় সরকার দুর্বল ব্যাংকগুলোর স্থিতিশীলতা রক্ষায় একাধিক ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ নেয়ার পথে।

    ব্যাংকাররা আরও বলছেন, সিএসআর ব্যয় কমার পিছনে রাজনৈতিক চাপও একটি বড় কারণ। রাজনৈতিক সরকারের সময় বিভিন্ন স্তর থেকে অনুদান বা সহায়তার জন্য চাপ থাকত এবং অনেক ক্ষেত্রেই প্রকৃত সিএসআরের আওতার বাইরে ব্যয় করা হতো। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলন ও আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পর সেই চাপ কমেছে, ফলে এখন ব্যাংকগুলো তুলনামূলকভাবে সতর্কভাবে সিএসআর ব্যয় করছে।

    অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, সিএসআর বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। রাজনৈতিক প্রভাব বা অনির্দিষ্ট চাপের কারণে অনেক সময় এই অর্থ অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয় হয়, যা সামাজিক দায়বদ্ধতার মূল উদ্দেশ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোকে তাদের নিট মুনাফার একটি অংশ সিএসআর খাতে ব্যয় করতে হয়: এর মধ্যে ৩০ শতাংশ শিক্ষা, ৩০ শতাংশ স্বাস্থ্য, ২০ শতাংশ পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় এবং বাকী ২০ শতাংশ অন্যান্য খাতে ব্যয় করার কথা বলা হয়েছে। তবে বাস্তবে নির্দেশনা ঠিকমতো মানা হচ্ছে না—২০২৫ সালে সরবরাহ করা বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ব্যাংকগুলো সবচেয়ে বেশি (৩৬ শতাংশ) খরচ করেছে ‘অন্যান্য’ খাতে; শিক্ষায় ব্যয় হয়েছে ২৮.৫৩ শতাংশ এবং পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে মাত্র ১০ শতাংশ।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী আলোচিত সময়ে ১১টি ব্যাংক সিএসআর খাতে একটিও টাকা ব্যয় করেনি। ঐ তালিকায় রয়েছে: জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান।

    তথ্য থেকে আরও জানা যায়, ২০২৪ সালে লোকসানে থাকা ব্যাংকগুলোর মধ্যে আছে জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান। এদের মধ্যে ছয়টি ব্যাংক মুনাফা অর্জন না করেও সিএসআর খাতে অর্থ ব্যয় করেছে—রয়েছে এবি ব্যাংক, ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, এনআরবিসি ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক।

    সংক্ষেপে, ব্যয়ের নাটকীয় এই হ্রাস ব্যাংকিং খাতের জটিল আর্থিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন। অনুকূল আর্থিক ফলাফল ও শক্তিশালী হিসাব-নিরীক্ষা ছাড়া ভবিষ্যতে সিএসআর খাতের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা কঠিন হতে পারে—এজন্য দফতরী নিয়ন্ত্রণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জরুরি বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

  • ৮ মাসে পণ্যবাণিজ্যে ঘাটতি ১ হাজার ৬৯১ কোটি ডলার; আমদানি বাড়ায় চাপ

    ৮ মাসে পণ্যবাণিজ্যে ঘাটতি ১ হাজার ৬৯১ কোটি ডলার; আমদানি বাড়ায় চাপ

    চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) প্রথম আট মাসে দেশে পণ্যবাণিজ্যে ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৬৯১ কোটি ডলারে—যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকার বেশি। এসব তথ্য উঠে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক লেনদেন সংক্রান্ত হালনাগাদ প্রতিবেদনে।

    রিপোর্ট অনুযায়ী, জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে আমদানি হয়েছে ৪৬.১৪ বিলিয়ন (৪,৬১৭ কোটি) ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৫.৬ শতাংশ বৃদ্ধি। ওই সময়ে পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩০.০৩ বিলিয়ন (৩,০০৩ কোটি) ডলার—গত বছরের ২৯.২৬ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় মাত্র ২.৬ শতাংশ বাড়ল। আমদানি ও রপ্তানির এই ব্যবধানেই বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ার মূল কারণ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।

    খাত সংশ্লিষ্ট ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রমজানকে কেন্দ্র করে ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, বিভিন্ন ডাল ও খেজুরসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি বেড়ে গোটা আমদানির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সহমতে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও কাঁচামালের দাম উর্ধ্বগামী থাকায় আরও চাপ তৈরি হয়েছে, ফলে রপ্তানি বৃদ্ধি সীমিত থাকায় ঘাটতি বাড়ছে। তারা সতর্ক করেছেন—অস্থির আমদানির ধারা নিয়ন্ত্রণ ও রপ্তানি বাড়াতে দ্রুত নীতিমূলক পদক্ষেপ না নিলে দেশের বৈদেশিক ব্যালান্স আরও চাপে পড়বে।

    চলতি হিসাব বা কারেন্ট অ্যাকাউন্টে পরিস্থিতি এখনও সামান্য ঋণাত্মক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি শেষে কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১০০ কোটি ডলার; আগের অর্থবছরের একই সময়ে তা ছিল ১৪৭ কোটি ডলার।

    সমগ্র লেনদেনের পরিপ্রেক্ষিতে (ওভারঅল ব্যালান্স) বাংলাদেশ ভালো অবস্থায় আছে—আলোচিত সময়ে সামগ্রিক লেনদেনের উদ্বৃত্ত হয়েছে ৩৪৩ কোটি ডলার, যেখানে আগের বছর একই সময়ে এটি ঋণাত্মক ১১৫ কোটি ডলার ছিল।

    প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক সঙ্কেত আছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ২,২৪৫ কোটি ডলার; আগের বছরে একই সময়ে ছিল ১,৮৮৭ কোটি ডলার—প্রায় ২১.৪ শতাংশ বৃদ্ধিতে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়েছে।

    তবে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) কিছুটা কমেছে—গত বছর জুলাই-ফেব্রুয়ারিতে এফডিআই ছিল ১০৬ কোটি ডলার; চলতি অর্থবছরে তা নামিয়ে এসেছে ৮৭ কোটি ডলারে। একই সঙ্গে শেয়ারবাজারে পরটফোলিও বিনিয়োগও নেতিবাচক অবস্থায় রয়েছে; প্রথম আট মাসে নেট বিদেশি বিনিয়োগে নেমে এসেছে ৮ কোটি ডলার (ঋণাত্মক), যা আগের বছরটিও একই রকম ছিল।

    সংক্ষেপে, চলতি অর্থবছরের আট মাসে উদ্বৃত্ত রেমিট্যান্স ও সামগ্রিক ব্যালান্স ভালো হওয়ার পরও দ্রুত বাড়তি আমদানি ও তুলনামূলকভাবে ধীর রপ্তানি বৃদ্ধিই পণ্যবাণিজ্যের ঘাটতি বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈদেশিক ব্যালান্স স্থিতিশীল রাখতে আমদানি নিয়ন্ত্রণ, রপ্তানি প্রকৌশল উন্নয়ন এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে দ্রুত কর্মসূচি নেওয়া জরুরি।

  • যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আমাদের বিশ্বাস নেই, তারা আস্থা অর্জনে ব্যর্থ: বাঘের ঘালিবাফ

    যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আমাদের বিশ্বাস নেই, তারা আস্থা অর্জনে ব্যর্থ: বাঘের ঘালিবাফ

    ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বাঘের ঘালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার ব্যর্থতা নিয়ে প্রথমবার আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। রোববার মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্সে তিনি লিখেছেন, “আমাদের প্রয়োজনীয় মনোভাব ও সদিচ্ছা আছে। কিন্তু আগের দুই যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে মার্কিনিদের ওপর আমাদের কোনো বিশ্বাস নেই।”

    ঘালিবাফ আরও বলেছেন, “মার্কিনিরা এই পর্বের আলোচনায় ইরানি প্রতিনিধিদের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।” তিনি পাকিস্তানকে ধন্যবাদ জানিয়ে জানিয়েছেন, “আমাদের ভাতৃপ্রতীম দেশ পাকিস্তানের ওপর আমরা কৃতজ্ঞ — এই আলোচনার ব্যবস্থা করার জন্য; আমি পাকিস্তানের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।”

    পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে গত শনিবার সন্ধ্যায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল আলোচনা করে। দীর্ঘ সময় আলোচনার পরও কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো যায়নি। দুই পক্ষের মধ্যে বর্তমানে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি রয়েছে।

    ইরানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় অতিরিক্ত দাবি-দাওয়া করেছে, যা তাদের পক্ষে গ্রহণযোগ্য নয়; ফলে চুক্তি ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলে ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স; তিনি ও তার প্রতিনিধি দল বৈঠকের পর নিজ দেশে ফিরে গেছেন।

    সূত্র: আলজাজিরা

  • এক দিনের মধ্যে ইরান ধ্বংস করতে পারি: ট্রাম্প

    এক দিনের মধ্যে ইরান ধ্বংস করতে পারি: ট্রাম্প

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর হুমকি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি এক দিনেই ইরানকে গুঁড়িয়ে দিতে পারি’ এবং ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বেসামরিক জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব—যা ইরানের জন্য নতুন এক বড় ধাক্কা হবে।

    ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি নির্দিষ্ট দেশগুলোর কাছে তেল বিক্রি করে অর্থ আয়ের চেষ্টা করে, তা তিনি মেনে নেন না। তিনি জানিয়েছেন, ‘হতে হবে সবাইকে সুযোগ দেয়া বা কারোই নয়—এটাই আমাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।’

    ট্রাম্প হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে নিজের অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, সেখানে কোন জাহাজ যাবে আর কোনটি যাবে না—এমন নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে থাকা ঠিক নয়; তার যুক্তি, হলে সবাই নিরাপদ যাতায়াত পাবে, নয়তো একটিও জাহাজ নিরাপদ থাকবে না।

    এর পাশাপাশি, নিজের মাইক্রোব্লগিং প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ একটি পোস্টে ট্রাম্প বলছেন, ওয়াশিংটন যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত রয়েছে এবং ‘উপযুক্ত সময়ে’ ইরানকে শেষ করে দেয়া হবে বলে জানিয়ে দেন।

    এই মন্তব্যগুলো আসে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের প্রায় ২১ ঘণ্টা দীর্ঘ আলোচনা শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে—যে আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়। ট্রাম্পের সতর্ক বার্তা দুই পক্ষের মিশ্র সম্পর্ক ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নতুন করে চর্চার জন্ম দিয়েছে।

  • কালীগঞ্জে দুই বাসের প্রতিযোগিতায় আটকে পড়ে হকার ওসমান আলীর মর্মান্তিক মৃত্যু

    কালীগঞ্জে দুই বাসের প্রতিযোগিতায় আটকে পড়ে হকার ওসমান আলীর মর্মান্তিক মৃত্যু

    ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে রবিবার (১২ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে দুটি যাত্রীবাহী বাসের প্রতিযোগিতার মাঝেই আটকে পড়ে হকার ওসমান আলী (৪০) মর্মান্তিকভাবে নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনা কালীগঞ্জ শহরের মেইন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঘটে।

    নিহত ওসমান আলী কালীগঞ্জ পৌরসভার হেলাই গ্রামের বাসিন্দা হলেও তার আদি বাড়ি মাহেশপুর উপজেলায়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যাত্রীবাহী যানবাহনে উঠে-নামা করে বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকালে শাপলা পরিবহনের দুটি বাস স্ট্যান্ডের সামনে একই লাইনে চলছে। এক বাস দ্রুতগতিতে অন্য বাসটি অতিক্রম করার চেষ্টা করলে পেছনের বাস ও সামনের বাসের মাঝখানে চাপা পড়ে যান ওসমান আলী। তিনি চিৎকার করে সহায়তা চাইলেও বাস দুটির চালকগণ গতি কমাননি এবং আগে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত থাকায় ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরে মৃত্যু হয়।

    কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে উপস্থিত ডাঃ জান্নাতুল নাঈম লাজুক বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই তিনি মারা গেছেন। মরদেহে বুকে এবং মস্তকে তীব্র আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং নাক থেকে অতিরিক্ত রক্তপাতে তার শ্বসন ও জীবনচিহ্ন নষ্ট হয়েছিল।

    কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আইনগত ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান শুরু করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

  • অধ্যাপক ডা. রফিকুস সালেহীন হয়েছেন খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য

    অধ্যাপক ডা. রফিকুস সালেহীন হয়েছেন খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য

    খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুমেবি) নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশিষ্ট সার্জন ও চিকিৎসাবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রফিকুস সালেহীন।

    রোববার (১২ এপ্রিল) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের অনুমোদনক্রমে তাকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী যোগদানের তারিখ থেকে চার বছরের জন্য তিনি উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তবে রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের প্রয়োজন মনে করলে যে কোনো সময় এই নিয়োগ বাতিল করার ক্ষমতা সংরক্ষিত আছে।

    নিয়োগ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনটি উপসচিব রাহেলা রহমত উল্লাহ স্বাক্ষরিত এবং তা জনস্বার্থে জারি করা হয়েছে।

    অধ্যাপক ডা. রফিকুস সালেহীন বর্তমানে রাজধানীর ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের প্রধান হিসেবে কর্মরত আছেন। একজন অভিজ্ঞ সার্জন ও শিক্ষাবিদ হিসেবে চিকিৎসা অঙ্গনে তার দীর্ঘদিনের সুনাম আছে এবং তিনি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ও同行 পেশাদারদের মধ্যে ব্যাপক শ্রদ্ধা অর্জন করেছেন।

    তার এই নিয়োগকে খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট মহল থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া এসেছে; অনেকেই আশা করছেন নতুন নেতৃত্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও চিকিৎসা কার্যক্রমে নব্য গতিশীলতা ও মান উন্নয়ন আনবেন।

  • খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৬ অনুষ্ঠিত

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৬ অনুষ্ঠিত

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা চর্চা বিভাগের আয়োজনে রোববার বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করেছিল—ছাত্রছাত্রীরা দলীয় ও ব্যক্তিগত ইভেন্টে অংশ নিয়ে প্রাণবন্ত প্রতিযোগিতা উপহার দেন।

    প্রতিযোগিতা শেষে বিকাল পাঁচটায় ২০টি ইভেন্টের বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম। শুভেচ্ছাসহকারে তিনি বলেন, খেলাধুলায় অংশগ্রহণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসববোধ ও সহযোগিতার মনোভাব গড়ে তোলে। এছাড়া সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বগুণ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে—এই ধরণের কার্যক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আরও বেশি করে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার জন্য তিনি উৎসাহ দেন।

    উপাচার্য অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী ছাত্রছাত্রী ও আয়োজক শারীরিক শিক্ষা চর্চা বিভাগের সংশ্লিষ্টদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে কর্মজীবন ও শিক্ষাজীবনে সক্রিয় থাকার জন্য শুভকামনা জানান।

    পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিবিদ্যা স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ আশরাফুল আলম। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ও শারীরিক শিক্ষা চর্চা বিভাগের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ড. এস এম মাহবুবুর রহমান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শারীরিক শিক্ষা চর্চা বিভাগের উপ-পরিচালক এস এম জাকির হোসেন।

    প্রতিযোগিতার ফলাফলেও দেখায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব ও দক্ষতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ছাত্রীদের দলগত ইভেন্টে স্থাপত্য ডিসিপ্লিন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। ছেলে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ইভেন্টে যৌথভাবে রসায়ন ডিসিপ্লিনের অনিক গোলদার ও ফার্মেসি ডিসিপ্লিনের সম্রাট চ্যাম্পিয়ন হন। অন্যদিকে ছাত্রীদের ব্যক্তিগত ইভেন্টের চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন শিক্ষা ডিসিপ্লিনের সাজিয়া মাহিন মিথী। সকল বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারীকে সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান করা হয়।

    উদ্বোধনী অংশে সকাল ১০টায় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম বেলুন, ফেস্টুন ও পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ড. মোঃ আশরাফুল আলম। উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।

    অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের ছাত্র শুভদীপ গোলদার ও এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স ডিসিপ্লিনের ছাত্রী অনিন্দিতা বিশ্বাস। আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও এই ধরনের ক্রীড়া ও সহশিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নিয়ে জানিভাবে শিক্ষার্থীদের সুশীল প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও নেতৃত্বগুণ এগিয়ে নেওয়া হবে।

  • পিএসএলে শরিফুল-রানার এনওসি একদিন বাড়ালো বিসিবি

    পিএসএলে শরিফুল-রানার এনওসি একদিন বাড়ালো বিসিবি

    পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) খেলার জন্য শরিফুল ইসলাম ও নাহিদ রানার অনাপত্তিপত্র (এনওসি) একদিন বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। পেশোয়ার জালমি ফ্র্যাঞ্চাইজি ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) অনুরোধের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    এ অনুযায়ী, পেশোয়ার জালমির পরবর্তী ম্যাচ খেলতে তারা আরও এক দিন পাকিস্তানে থাকতে পারবেন। আগের এনওসি ছিল ১২ এপ্রিল পর্যন্ত, কিন্তু পেশোওয়ারের ম্যাচ থাকায় পিসিবি অতিরিক্ত সময়ের অনুরোধ করলে বিসিবি সেটি মঞ্জুর করেছে।

    শরিফুল ও রানা ১৪ এপ্রিল দেশে ফিরে জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দেবেন। অন্যদিকে, এনওসি থাকা সত্ত্বেও পারভেজ হোসেন ইমন চোট পাওয়ায় আগেই দেশে ফিরেছেন। কাঁধের লিগামেন্টে চোটের কথা জানিয়েছে তার পিএসএল দলের ফিজিও; মাঠে ফিরতে তার প্রায় তিন সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। আজ (রবিবার) বিসিবির ফিজিওরা ইমনকে পরীক্ষা করে নির্ধারণ করবেন তিনি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে পারবেন কি না।

    ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে বাংলাদেশের অন্যান্য খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স মিশ্র রকমের। রিশাদ হোসেন এ আসরে চার ম্যাচে মাত্র দুই উইকেট নিয়েছেন। তানজিদ হাসান তামিম পেশোয়ারের স্কোয়াডে ছিলেন, তবে প্রথমবার বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে গিয়ে কোনো ম্যাচের একাদশে সুযোগ পাননি।

    পেশোয়ারের হয়ে শরিফুলের পারফরম্যান্স ধীরে ধীরে মানিয়ে গেছে — প্রথম দুই ম্যাচে উইকেট না পেলেও পরের দুই ম্যাচে দুইটি উইকেট নিয়েছেন। নাহিদের শুরুটা হতাশাজনক ছিল; প্রথম ম্যাচে তিন ওভারে ৩০ রান দিয়েছিলেন, কিন্তু পরের দুই ম্যাচের জোরালো বোলিংয়ে তিনি মোট পাঁচ উইকেট নিয়েছেন।

    সংক্ষেপে, বিসিবির একদিনের এনওসি বাড়ানোর সিদ্ধান্তে পেশোয়ার জালমির গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দুই পেসারের সেবা পাবে, আর বাংলাদেশ দলের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য-পরীক্ষা ও ক্যাম্পে যোগদানের তফসিলও ঠিক রাখা হয়েছে।

  • ‘এমন শিল্পী আর জন্মাবে না’, আশার প্রয়াণে রুনা লায়লার শোক

    ‘এমন শিল্পী আর জন্মাবে না’, আশার প্রয়াণে রুনা লায়লার শোক

    ভারতের কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলে রোববার (১২ এপ্রিল) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়; বার্ধক্যাহত কণ্ঠস্বর এবং অসংখ্য শ্রোতার স্মৃতিতে তিনি থেকে গেলেন অনবদ্য সংগীতের এক অধ্যায়।

    আশার প্রয়াণে সংগীতবিশ্ব শোকাহত। বাংলাদেশি শিল্পী রুনা লায়লা গভীর দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘পৃথিবীর বড় বড় দুইজন কিংবদন্তি শিল্পী পরপর চলে গেলেন। লতা মুঙ্গেশকর দিদি ২০২২ সালে চলে গেলেন, আর এখন আশা দিদিও চলে গেলেন। এমন শিল্পী আর এই পৃথিবীতে জন্মাবে না। আমার কাছে মনে হচ্ছে আমার পৃথিবীটাই শূন্য হয়ে গেল।’

    রুনা লায়লা ব্যক্তিগত স্মৃতিও শেয়ার করেন। তিনি বলেন, ‘তারা দুজনেই আমাকে ভীষণ স্নেহ করতেন—মায়ের মতোই। এই কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’ রুনা জানান, তার শেষ দেখা হয়েছিল তাঁর নিজের সুর করা গান ‘চলে যাওয়া ঢেউগুলো আর ফিরে আসেনি’-এর রেকর্ডিংয়ের সময়। পরে ফোনে যোগাযোগ ছিল, কিন্তু ‘‘আজ করব, কাল করব’’ ভেবে আর সময় পেলেন না—এটাই তার বড় আফসোস।

    রুনা আরও বলেন, ‘যখন মনে হচ্ছিল দিদিকে ফোন করি, যদি তখনই করতাম, তাহলে হয়তো আজ এই আফসোসটা থাকত না। নিজের ভেতরে খুব কষ্ট হচ্ছে—এই কষ্ট সত্যিই ভাষায় প্রকাশের নয়।’

    আশা ভোঁসলে শনিবার সন্ধ্যায় বুকে ব্যথা নিয়ে ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসকেরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখেন, কিন্তু বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পরিস্থিতি স্থিতিশীল না থাকা এবং শেষ পর্যন্ত তিনি আর ফিরে আসতে পারলেন না। খবর অনুযায়ী তার বয়স ছিল ৯২ বছর।

    টানা সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতীয় সংগীতের আকাশে রাজত্ব করেছেন আশা ভোঁসলে। হাজার হাজার গান এবং অসংখ্য কালজয়ী সুরের মাধ্যমে তিনি বহু প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছিলেন। তার প্রয়াণকে অনেকেই একটি সোনালি অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসেবে দেখছেন—একই সঙ্গে শ্রোতারা তাঁর সুরে ও কণ্ঠে স্মৃতিভরা থাকবেন।

  • কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলের শেষকৃত্য কবে জানালো পরিবার

    কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলের শেষকৃত্য কবে জানালো পরিবার

    দীর্ঘ অকল্যাণ সুরে মুগ্ধ করে রাখা কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলে আর নেই। রোববার (১২ এপ্রিল) মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৯২ বছর।

    হাসপাতাল সূত্র ও পরিবারের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত জটিলতায় তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। পরিবারের সদস্যরা ও চিকিৎসকরা তার মৃত্যু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    আনন্দ ভোঁসলে, আশা ভোঁসলের ছেলে, জানিয়েছেন যে সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকাল ৪টায় মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে। তিনি বলেন, মা আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। সোমবার সকাল ১১টায় লোয়ার পেরেলে তাঁদের বাড়ি কাসা গ্রান্দে-তে মরদেহ রাখা হবে, যেখানে ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীরা শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন। এরপর বিকেলে শিবাজি পার্কে শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে।

    আশা ভোঁসলের সংগীত যাত্রা দীর্ঘ ও উজ্জ্বল — ১৯৪৩ সালে তিনি ক্যারিয়ার শুরু করেন এবং দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ১২ হাজারেরও বেশি গান স্টুডিওতে রেকর্ড করেছেন বলে গিনেস বুকে তাঁকে বিশ্বের অন্যতম সর্বাধিক রেকর্ড করা শিল্পী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। মীরা কুমারী, মধুবালা যুগ থেকে পরবর্তীতে কাজল, ঊর্মিলা মত অভিনেত্রীদের কন্ঠ দিয়েছিলেন তিনি। গজল, পপ, ক্লাসিকাল—প্রায় সব ধারাতেই ছিল তাঁর দখল; বহুমুখী প্রতিভায় তিনি অপ্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন।

    তার কিছু জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে দম মারো দম, চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে, পিয়া তু আভ তো আজা এবং দিল চিজ কেয়া হ্যায়—এগুলো বহুপ্রজন্মের মন কাড়ে রাখা সুরের নমুনা।

    হিন্দি চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আশাকে দুইবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, দাদা সাহেব ফালকে পুরস্কার এবং পদ্মবিভূষণসহ বহু সম্মাননা দেয়া হয়েছে।

    ভক্ত, সহকর্মী ও চলচ্চিত্র-সংগীত জগৎ এখন শোকাহত; একজন যুগসন্ধিক্ষণের শিল্পীর বিদায় তাঁকে স্মরণে মনে করিয়ে দিচ্ছে অমর সুর আর অনন্য অবদানের কথা।