Blog

  • ক্ষমতার স্বাদে জনগণকে ভুলে গেছে বিএনপি: নাহিদ ইসলাম

    ক্ষমতার স্বাদে জনগণকে ভুলে গেছে বিএনপি: নাহিদ ইসলাম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের কথা ভোলা শুরু করেছে। তিনি এই অভিযোগ করেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে শনিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘‘এই দেশের ইতিহাসে আমরা বারবার দেখেছি—শ্রমিকেরা রক্ত দিয়েছে, জীবন দিয়েছে। ১৯৪৭-এর স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং পরে হওয়া গণ-অভ্যুত্থানগুলোর মরনশীল কোর হিসেবে ছিলেন শ্রমজীবী মানুষ।’’

    তিনি অভিযোগ করেন, ‘‘শ্রমজীবী মানুষের রক্তের ওপর বসে ক্ষমতায় আসা বিএনপি মাত্র এক মাসের মধ্যেই জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তারা শ্রমিকদের কষ্ট ও উৎসর্গকে উপেক্ষা করে নতুন বাংলাদেশের সাথে বেইমানি করেছে, গণভোটের গণরায়কে অবহেলা করেছে—এই সরকার গণবিরোধী সরকার।’’

    নাহিদ আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যে অধ্যাদেশগুলো জারি করা হয়েছিল সেগুলোকে আইন করে বদলে দেওয়ার ও সংস্কার বাস্তবায়নের যে প্রতিশ্রুতি ছিল, তা বিএনপি ভঙ্গ করেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘‘ওয়াদা ভঙ্গের ফল দেশীয় রাজনীতিতে ভালো হবে না। প্রয়োজনে গণ-আন্দোলন গড়ে শ্রমিকদের অধিকার ও সংস্কার বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করা হবে।’’

    নাহিদ উল্লেখ করেন, তিনি এবং তার নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী একটি নতুন জাতীয় ঐক্যের পথে এগোচ্ছে—একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে। ‘‘রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করব; নতুন বন্দোবস্তে শ্রমিকদের অংশ নিশ্চিত করব—এই লড়াইয়ে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকা দরকার,’’ তিনি বলেন।

    তিনি জানান, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, জাতীয় নাগরিক পার্টি ও জাতীয় শ্রমিক শক্তি এই ঐক্যের অংশ। নাহিদ শ্রমিকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী (তারােক রহমান)-কে জবাবদিহির আওতায় আনতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘‘আপনারা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে নতুন বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিতে হবে। জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য এগিয়ে আসুন।’’

    রাজপথে নামার প্রস্তুতিরও ডাক দেন নাহিদ। তিনি বলেন, ‘‘এবার শুধু সংসদ নয়, রাজপথেও আমাদের প্রস্তুত থাকা দরকার। গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা বর্তমান সরকারকে বাধ্য করব যাতে ‘জুলাই সনদ’, গণভোট ও শ্রমিকদের প্রতিটি দাবি নিশ্চিত করা হয়।’’

    সম্মেলনে আলোচনা ও একাধিক বক্তৃতার মাধ্যমে শ্রমিক অধিকার, সামাজিক ন্যায় ও রাজনৈতিক ঐক্য নিয়ে ভবিষ্যৎ কর্মসূচি প্রণয়নের ইঙ্গিতও দেওয়া হয়।

  • আন্দোলন শুরু — এখন সফল করে তুলতে হবে: জামায়াত আমির

    আন্দোলন শুরু — এখন সফল করে তুলতে হবে: জামায়াত আমির

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে এবং এখন একে সুচারুরূপে সফল করে দিতে হবে। তিনি সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালেই রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট (আইইডিবি) মিলনায়তনে ‘‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার সংকটের মুখোমুখি বাংলাদেশ’’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির উপস্থিতিতে এসব কথা বলেন।

    বক্তৃতার শুরুতেই ডা. শফিকুর একটি সংক্ষিপ্ত গল্প বলেন—একজন বিচারক একই মামলায় পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিচ্ছেন; পরে জানা যায় পিছন থেকে কেউ দড়ি টানছে। এই রূপক কাহিনিতে তিনি ইঙ্গিত করেন যে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিভ্রান্তিকর সিদ্ধান্তের পেছনে অদৃশ্য কোনও শক্তি কাজ করছে। যে লোকজন সংসদে সিদ্ধান্ত নেবেন, তাদের সম্পর্কে প্রশ্ন করেন—কারা দড়িটা টানে, কোথা থেকে টানা হয়? জনগণ জানে।

    সরকারের দ্বৈত নীতিকে প্রতিষ্ঠিত করে তিনি বলেন, একই বিষয়ে এক সময়ে ‘‘হল অনৈতিক’’ বলা হয়, আর পরে সেটাই আংশিকভাবে গ্রহণযোগ্য মনে করা হয়। কথামতো বিষয় বদলানো ও নীতিহীনতার বিরুদ্ধে তিনি কড়া আপত্তি জানান। তিনি জানান, সংসদে তারা এইসব বিষয়ে বারবার মত দিয়েছেন, কিন্তু কণ্ঠ দমানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তবুও সুযোগ না পেলেও তারা তাদের কণ্ঠ বন্ধ করেনি, কারণ জনগণ তাদেরকে নিজেদের অধিকারের পক্ষে কথা বলতে পাঠিয়েছে।

    সংসদের বর্তমান অবস্থাকে তিনি ‘‘জুলাই প্রোডাক্ট’’ বলে অভিহিত করে বলেন, ‘‘জুলাই আছে, আমরা আছি; জুলাই আছে, সরকার আছে; কিন্তু আদতে কিছুই নেই।’’ তিনি মনে করেন, এভাবে থাকা সম্ভব নয় এবং জনগণের রায় বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে ঠেকানো যাবে না। গণভোটের রায়ের ওপর নির্ভর করে এই দাবি কার্যকর হবে—এবং প্রয়োজনে জীবন দিতে হবে বলেও তিনি জানান।

    সংসদে নিজেদের ভূমিকা নিয়ে ডা. শফিকুর বলেন, তারা পার্লামেন্টে সুবিধা নেওয়ার জন্য যায়নি; অনেক সুবিধা স্বেচ্ছায় ত্যাগ করা হবে। ‘‘যে সুযোগ না নিয়ে পারবো না, সেটা নেব, বাধ্য হবো যেটাতে’’—তিনি যোগ করেন। পাশাপাশি অবৈধ কোনো কাজে হাত বা চোখ নয় বলেও আশ্বাস দেন এবং নীতিতে অটল থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।

    আন্দোলনকে কেবল ছাত্র বা রাজনীতিবিদদের কর্মসূচি হিসেবে দেখায় নয়, এটি সমাজের বিস্তৃত অংশের প্রতিফলন—এমন ব্যাখ্যা দেন তিনি। তিনি বলেন, প্রায় ১,৪০০ শহীদের মধ্যে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ১,২০০ শহীদ পরিবারের কাছে গিয়েছিলেন এবং সেখানে দেখা সত্যই বেদনাদায়ক; তার অভিমত মতে ওই শহীদের ৬২ শতাংশই শ্রমিক শ্রেণীর মানুষ। এসব মানুষ কেবল কৌটার বৈষম্যের প্রতিবাদেই নামেনি; তারা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে, বদলের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে রাস্তায় নেমেছে। রাজনীতির হিসাবকিতাব নয়—জীবন দিতে তারা রাস্তায় নামেননি।

    সেমিনারের সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মজলিস আল্লামা মামিনুল হক। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির চেয়ারম্যান ড. কর্নেল ওলি আহমদ বীর বিক্রম, ‘‘আমার দেশ’’ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান প্রমুখ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জামায়াত কেন্দ্রীয় নেতা ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শিশির মোহাম্মদ মনির।

    ডা. শফিকুর আন্দোলনের প্রকৃতি সম্পর্কে পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, ‘‘এ আন্দোলন কোনো সুবিধাবাদী লড়াই নয়; এটি ৭০ শতাংশ মানুষের রায়ের প্রতি সম্মান দেখানো, শহীদদের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং জুলাই যোদ্ধাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণের সংগ্রাম।’’ তিনি দেশবাসীকে আহ্বান জানান—কেবল পাশে থাকুন; এই আন্দোলন সবার জন্য এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য।

    তিনি আরো বলেন, আমরা আমাদের সন্তানদের কারো দাস বানাতে চাই না এবং কারো পারিবারিক রাজতন্ত্র বা ফ্যাসিজম দেশে চলতে দেব না। রাজনীতির সেই দুষ্টচক্র ভেঙে দিতে হবে; সংসদে সময় ও শক্তি মানুষের সমস্যার সমাধানে ব্যয় হওয়া উচিত—প্রশংসা বা বেবিচারী কর্মকাণ্ডে নয়।

    সরকারের আচরণ ও সংসদের পরিবেশ নিয়ে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘‘ফ্যাসিবাদের কালো ছায়া আমরা এখন সংসদেই দেখতে পাচ্ছি।’’ সরকারি দলের কিছু সদস্য যে ভঙ্গিতে আচরণ করছেন, সেটাকে তিনি নিন্দনীয় বলেছেন এবং সবার নিস্তেজ ভাষা ত্যাগ করে সংযত আচরণ বজায় রাখার আহ্বান জানান।

    সেমিনারের আলোচনায় অংশ নেন অন্যান্য রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দও। সমগ্র অনুষ্ঠানটি ছিল গণভোট-সংক্রান্ত বিতর্ক ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়ে মতামত বিনিময়ের মঞ্চ, যেখানে আন্দোলনকে কীভাবে সংগঠিত ও সফল করতে হবে—এমন নানা দিক উঠে আসে।

  • ছেঁড়া-ফাটা নোট বদল বাধ্যতামক, না মানলে ব্যাংকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা

    ছেঁড়া-ফাটা নোট বদল বাধ্যতামক, না মানলে ব্যাংকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা

    দেশজুড়ে ছেঁড়া-ফাটা, ময়লা ও ত্রুটিগ্রস্ত নোটের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় এসব নোট গ্রহণ ও বিনিময় বাধ্যতামক করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি নীতিমালা জারি করে এবং নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

    নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জনসাধারণের স্বাভাবিক নগদ লেনদেন নিশ্চিত করতে সব তফসিলি ব্যাংকের শাখা নিয়ম অনুযায়ী ছেঁড়া-ফাটা ও ময়লাযুক্ত নোট গ্রহণ করে তা বদল করে দিতে বাধ্য থাকবে। বদলের সময় গ্রাহকদের নতুন বা পুনঃপ্রচলনযোগ্য ব্যবহারযোগ্য নোট সরবরাহ করতে হবে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, পূর্বে এই নিয়ে নির্দেশনা থাকলেও বাজারে এসব নোটের আধিক্য এখনো দেখা যায় এবং তা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন লেনদেনে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। সমস্যার সমাধানে ‘ক্লিন নোট পলিসি’ বাস্তবায়নে ব্যাংকগুলোর আরও সক্রিয়তা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে তারা।

    বিশেষ করে ছোট মূল্যমানের নোট—৫, ১০, ২০ ও ৫০ টাকার নোট—নিয়মিতভাবে গ্রহণ করে নির্ধারিত কাউন্টারের মাধ্যমে বদল করে দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। গ্রাহক এসব নোট জমা দিলেই ব্যবসায়িক শাখাকে ব্যবহারযোগ্য নোট প্রদান করতে হবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক সতর্ক করে বলেছে, কোনো শাখা যদি এই সেবা দিতে অনীহা প্রকাশ করে বা গাফিলতি দেখায়, তবে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঘটনাগুলো গুরুত্ব সহকারে দেখছে এবং দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।

    নতুন নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলোকে জনস্বার্থে এই নীতি বাস্তবায়ন নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

  • বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম নিম্নমুখী

    বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম নিম্নমুখী

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনার ব্যর্থতার পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন দেখা গেছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার কোথাও এক সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে নিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে মূল্যবান ধাতুটি।

    বিশ্লেষকরা বলছেন শক্তিশালী ডলার এবং তেলের মূল্য বৃদ্ধিই এই পতনের প্রধান কারণ। তেলের দাম বাড়ায় মুদ্রাস্ফীতির ভাবনা জোরালো হচ্ছে, ফলে চলতি বছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা কমে যায় — আর সেটা স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

    রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম ০.৪% কমে প্রতি আউন্সে ৪,৭২৬.৬৪ ডলারে দাঁড়ায়। দিনের শুরুতে এটি ৭ এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন ৪,৬৪৩ ডলারে নেমে গিয়েছিল। জুন ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচার ০.৮% কমে ৪,৭৪৮.৭০ ডলারে বন্দোবস্ত হয়।

    ডলার সূচক ০.৩% শক্তিশালী হয়ে ওঠার পাশাপাশি তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের উপরে দৃঢ় হয়েছে। এতে আমদানিকারী দেশগুলোর মুদ্রায় ডলার-নির্ধারিত স্বর্ণ কেনা আরও ব্যয়বহুল হয়েছে, যা চাহিদা ও দামের ওপর নেতিবাচক চাপ তৈরি করেছে। প্রতিবেদনে জয় করে বলা হয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালীতে অবরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে—এটিও তেলের মূল্য এবং বাজারের অনিশ্চয়তা বাড়ানোর আর একটা কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

    কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, ‘‘শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় যুদ্ধবিরতির আশা ভেঙে পড়েছে। এর ফলে ডলার এবং তেলের দাম বেড়েছে, যা স্বর্ণের ওপরে চাপ সৃষ্টি করেছে।’’

    রয়টার্স উল্লেখ করেছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল-ইরান সংঘাত শুরুর পর থেকে স্পট গোল্ডের দাম ১১%—এর বেশি কমেছে। সাধারণত ভূরাজনীতি ও মুদ্রাস্ফীতির উদ্বেগ স্বর্ণের প্রতি চাহিদা বাড়িয়ে দেয়, কিন্তু উচ্চ সুদের হার এবং শক্তিশালী ডলার স্বর্ণের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

    বাজার অংশগ্রহণকারীরা বলছেন, জ্বালানির উচ্চমূল্য মুদ্রাস্ফীতি ত্বরান্বিত করলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর কাছে সুদের হার বাড়ানোর পথ খুলে দিতে পারে, ফলে চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা খুবই সীমিত হয়ে পড়েছে—এটিই মূল্যবান ধাতুগুলোর ওপর চলমান চাপের মূল কারণ।

  • আরাগচি: ইসলামাবাদ আলোচনায় চুক্তি ছিল ‘মাত্র কয়েক ইঞ্চি দূরে’

    আরাগচি: ইসলামাবাদ আলোচনায় চুক্তি ছিল ‘মাত্র কয়েক ইঞ্চি দূরে’

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, ইসলামাবাদে গত সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলা আলোচনা চলাকালীন তেহরান একটি চুক্তির মাত্র কয়েক ইঞ্চি দূরে ছিল। তিনি এই মন্তব্য এক্সে দেওয়া একটি পোস্টে করেছেন।

    আরাগচি বলেছেন, গত ৪৭ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে অনুষ্ঠিত নিবিড় আলোচনায় ইরান আন্তরিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জড়িয়েছিল যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে। কিন্তু চুক্তির ঠিক কাছাকাছি পৌঁছানোর সময়ই তাদের সামনে চরম অবস্থান, বারবার শর্ত পরিবর্তন এবং অবরোধের মতো বাধার সম্মুখীন হতে হয়। তিনি বলেন, ‘কোনো শিক্ষাই গ্রহণ করা হয়নি।’

    পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে অনুষ্ঠিত ওই আলোচনা মোট ২১ ঘণ্টা চলে। দীর্ঘ এই ম্যারাথন বৈঠকের পরও কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছায়নি দুই পক্ষ, যার ফলে দুই সপ্তাহের নাজুক যুদ্ধবিরতি ঝুঁকির মুখে পড়ে।

    আলোচনাগুলো শনিবার থেকে শুরু হয়ে রোববার ভোর পর্যন্ত চলেছিল। এটি ছিল এক দশকেরও বেশি সময় পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রথম সরাসরি বৈঠক — আর তৎসঙ্গে ইরানের বিপ্লবের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রথম আলোচনা হিসেবে এই বৈঠককে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

    আরাগচির মন্তব্যগুলো ইঙ্গিত দেয় যে আলোচনার সময় অনেক নৈকট্য থাকা সত্ত্বেও কূটনীতিক ও রাজনৈতিক বাধা চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছতে বাধা দিয়েছিল। এখনো পরিস্থিতি অনিশ্চিত হাতে রয়েছে এবং ভবিষ্যতে কূটনৈতিক প্রয়াস চালিয়ে যাওয়ার গুরুত্ব আরোপ করা হচ্ছে।

  • দর্শনা রেলস্টেশনে ১০টি স্বর্ণের বারসহ এক পাচারকারী আটক

    দর্শনা রেলস্টেশনে ১০টি স্বর্ণের বারসহ এক পাচারকারী আটক

    দর্শনা রেলস্টেশন থেকে অবৈধভাবে পাচারের সময় ১০টি স্বর্ণের বারসহ এক পাচারকারীকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। উদ্ধারকৃত স্বর্ণের মোট ওজন ১ কেজি ১৬৬ গ্রাম এবং আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।

    ঘটনা সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে ঘটে। চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবির পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, ভারতে স্বর্ণ পাচারের সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবির একটি টহলদল দর্শনা রেলস্টেশনে অবস্থান নেয়। এ সময় একজন ব্যক্তি ভারতের দিকে যাওয়ার সময়ে বিজিবিকে থামার সংকেত পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে তাকে ধাওয়া করে আটক করা হয়।

    আটক ব্যক্তির নাম আলমগীর খান (৫৫)। তিনি দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা মোবারকপাড়া গ্রামের মৃত বাদল খানের ছেলে। বিজিবি সদস্যরা তাকে তল্লাশী করে কোমরে মোড়ানো অবস্থায় ১০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করে।

    লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান আরও জানান, উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের বারগুলোর মোট ওজন ১ কেজি ১৬৬ গ্রাম এবং আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। এই ঘটনায় বিজিবি একটি মামলা দায়ের করবে এবং উদ্ধারকৃত স্বর্ণ চুয়াডাঙ্গা ট্রেজারি অফিসে জমা রাখা হবে।

    আটক আলমগীরকে প্রয়োজনীয় আইনগত کارروয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

  • কেসিসি প্রশাসক: বাজার সংস্কার ও নতুন বাজার নির্মাণ প্রকল্প আসন্ন বাজেটে

    কেসিসি প্রশাসক: বাজার সংস্কার ও নতুন বাজার নির্মাণ প্রকল্প আসন্ন বাজেটে

    খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু রবিবার সকালে দৌলতপুর এলাকার বিভিন্ন খাল ও ড্রেনের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। বর্ষার আগে শহরে জলাবদ্ধতা রোধে কার্যকর কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের লক্ষ্যে তিনি নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে যাচ্ছেন।

    পরিদর্শন শেষে সাংবাদিক ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, নগরবাসীকে পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ নগরী উপহার দিতে বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই নির্দিষ্ট কাজগুলো শেষ করতে হবে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি; একই সঙ্গে বাজার ব্যবস্থাপনা ও বাজারে স্যানিটেশন ব্যবস্থা আধুনিক ও কার্যকর করতে হবে।

    তিনি জানান, বাজার পরিচালনা কমিটির নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করে বিদ্যমান সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। সেই আলোচনায় বাজারগুলোর সংস্কারসহ নতুন বাজার নির্মাণ প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব আসন্ন বাজেটে রাখা হবে।

    কেসিসি প্রশাসক দৌলতপুর বাজার ও সংলগ্ন নদী, দৌলতপুর পাইকারী কাঁচা বাজার, পাবলা কারিগর পাড়া ড্রেন, বিজিবি অফিস সংলগ্ন ড্রেন এবং ক্ষুদ্র খালের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন স্থানের পরিকাঠামো সরেজমিনে পরীক্ষা করেন। তিনি জনসাধারণের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এবং যানজট ও বাধা কম রাখতে ফুটপথ দখলমুক্ত রাখার জন্য ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানান।

    পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন কেসিসি’র প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আনিছুজ্জামান, কঞ্জারভেনসী অফিসার (প্রকৌশলী) মো. আনিসুর রহমান, এস্টেট অফিসার গাজী সালাউদ্দিন, বাজার কর্মকর্তা শেখ শফিকুল হাসান দিদার, সমাজসেবক অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, শেখ মোসারেফ হোসেন, দৌলতপুর বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি শেখ আসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. নান্নু মোড়ল প্রমুখ।

  • নাসুমের বকেয়া দাবির প্রসঙ্গে সিলেট টাইটান্সের স্পষ্ট ব্যাখ্যা

    নাসুমের বকেয়া দাবির প্রসঙ্গে সিলেট টাইটান্সের স্পষ্ট ব্যাখ্যা

    বিপিএলের সর্বশেষ আসরে সিলেট টাইটান্সের হয়ে খেলেছেন নাসুম আহমেদ। গত এক সাক্ষাৎকারে নাসুম জানান, তিনি দল থেকে এখনও ৩৫ লাখ টাকা পাচ্ছেন না—এই দাবির পর সিলেট টাইটান্স কর্তৃপক্ষ একটি অফিসিয়াল বিবৃতি দিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখার পর বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছে।

    টাইটান্সের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রকাশিত কিছু সংবাদে তথ্যের অসামঞ্জস্য দেখা গেছে এবং তা পাঠকদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। বিষয়টি পরিষ্কার করতে তারা নিম্নলিখিত পয়েন্টগুলো তুলে ধরেছে:

    ১) চুক্তিভিত্তিক পরিশোধ: বিপিএল ২০২৫-২৬ মৌসুমের খেলোয়াড়দের বকেয়া সংক্রান্ত বিষয় গত মাসে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কার্যালয়ে চূড়ান্তভাবে মিটে গেছে। চুক্তি অনুযায়ী নাসুম আহমেদের মোট পাওনা ছিল ৩৫ লাখ টাকা (বি-ক্যাটাগরি) এবং ফ্র্যাঞ্চাইজিটি ইতোমধ্যেই ওই অর্থ পরিশোধ করেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে নাসুমের নামে সিলেট টাইটান্সের কোনো বকেয়া নেই, উল্লেখ করেছে দলটি।

    ২) মৌখিক বোনাসের ব্যাখ্যা: নিলামের আগে খেলোয়াড়দের সঙ্গে পারিশ্রমিক ও বোনাস নিয়ে কিছু মৌখিক আলোচনা হয়েছিল। সেগুলোতে শর্ত ছিল—দল চ্যাম্পিয়ন হলে অতিরিক্ত বোনাস দেওয়া হবে। দল কাঙ্খিত ফল পায়নি, তাই ওই মৌখিক বোনাস দেওয়ার কোনো আইনি বা চুক্তিমূলক বাধ্যবাধকতা নেই। সিলেট টাইটান্স বলেছে যে সব আর্থিক লেনদেন মূলত স্বাক্ষরিত চুক্তিপত্র অনুযায়ী করা হয়েছে।

    ৩) চেক ও পেমেন্ট পদ্ধতি: টাইটান্স জানায়, নাসুম নিজে ব্যাংক চেক নিতে চাননি এবং সরাসরি নগদে পরিশোধের অনুরোধ করেছিলেন। সেই অনুযায়ী তার অর্থ নগদে দেওয়া হয়। টুর্নামেন্ট চলাকালীন নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে অগ্রিমভাবে দেওয়া কিছু চেক অন্যান্য খেলোয়াড়রা পেমেন্ট বুঝে নিয়ে ফেরত দিয়েছিলেন, কিন্তু নাসুম এখনও সেগুলো ফেরত দেননি। এছাড়া বিসিবি কার্যালয়ে পাওনা বুঝে নেওয়ার দিন তিনি উপস্থিত ছিলেন না—এগুলোও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

    বিবৃতিতে সিলেট টাইটান্স আরও বলেন, তারা সবসময় খেলোয়াড়দের পেশাদার মর্যাদা ও প্রাপ্য সম্মান নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। চুক্তি অনুযায়ী নাসুমের সব প্রদেয় টাকা পরিশোধ করা হয়েছে এবং ফ্র্যাঞ্চাইজির কাছে আর কোনো অর্থ বাকি নেই। দলটি আশা করছে, এই বিবৃতির পর বিষয়টি নিয়ে যেসব ভুল বোঝাবুঝি রয়েছে সেগুলো দূর হবে।

  • খুবিতে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৬ অনুষ্ঠিত

    খুবিতে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৬ অনুষ্ঠিত

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা চর্চা বিভাগের আয়োজনে রোববার অনুষ্ঠিত হলো বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৬। দিনব্যাপী উন্মুক্ত ও উৎসবমুখর এই কর্মসূচিতে মোট ২০টি ইভেন্টে শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।

    প্রতিযোগিতা শেষ করে বিকাল ৫টায় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে পুরস্কার বাকলেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম। তিনি বলেন, খেলাধুলায় অংশগ্রহণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্সাহ ও সাম্প্রদায়িক বন্ধন গড়ে তুলে এবং তাদের নেতৃত্বগুণ ও স্ববিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উপাচার্য আরও বলেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণরা জাতীয় পর্যায়ে আরও বেশি ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দেশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বাড়াবে বলে তিনি প্রত্যাশা প্রকাশ করেন। তিনি অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী ও আয়োজনকারী বিভাগের সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

    পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিবিদ্যা স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ আশরাফুল আলম। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ও শারীরিক শিক্ষা চর্চা বিভাগের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ড. এস এম মাহবুবুর রহমান। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শারীরিক শিক্ষা চর্চা বিভাগের উপ-পরিচালক এস এম জাকির হোসেন।

    এইবারের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ছাত্রীদের দলগত ইভেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয় স্থাপত্য (আর্কিটেকচার) ডিসিপ্লিন, যা তাদের জন্য গৌরবের বিষয় হিসেবে ইতিবাচক সাড়া ফেলে। ছাত্রদের ব্যক্তিগত ইভেন্টে যৌথভাবে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন রসায়ন ডিসিপ্লিনের অনিক গোলদার ও ফার্মেসি ডিসিপ্লিনের সম্রাট। আর ছাত্রীদের ব্যক্তিগত ইভেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন শিক্ষা ডিসিপ্লিনের সাজিয়া মাহিন মিথী।

    গতকাল সকাল ১০টায় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম বেলুন, ফেস্টুন ও পায়রা উড়িয়ে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশেষ অতিথি প্রফেসর ড. মোঃ আশরাফুল আলম এবং সভাপতিত্ব করেন প্রফেসর ড. এস এম মাহবুবুর রহমান। উদ্বোধনী ও বিভিন্ন পর্বের অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের শুভদীপ গোলদার ও এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স ডিসিপ্লিনের অনিন্দিতা বিশ্বাস।

    অনুষ্ঠানজুড়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন; মাঠ জুড়ে চিৎকার-তালিতে জমে ওঠে উৎসবের আমেজ। আয়োজক শারীরিক শিক্ষা চর্চা বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য সংশ্লিষ্টরা কার্যক্রম সুসংহতভাবে পরিচালনা করেন বলে উপস্থিতিরা সন্তোষ প্রকাশ করেন।

  • রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় আজ শেষ বিদায় — আশা ভোসলে আর নেই

    রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় আজ শেষ বিদায় — আশা ভোসলে আর নেই

    ভারতীয় সংগীতের এক উজ্জ্বল অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো বৃহস্পতিবার নয়, গেল রোববার—কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোসলে ৯২ বছর বয়সে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তাঁর মৃত্যু সংবাদে সংগীত ও চলচ্চিত্র জগৎ স্তব্ধ; ভক্ত-অনুরাগীদের মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে।

    চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আগের রাতেই অসুস্থ হয়ে পড়লে আশা ভোসলেকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সংক্রমণ ও বয়সজনিত জটিলতায় তিনি লড়াই করছিলেন; শেষ পর্যন্ত একাধিক অঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়াই মৃত্যুর কারণ হয়েছে।

    পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, আজ বিকেল ৪টায় মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় হবে তাঁর শেষকৃত্য। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা জানিয়েছেন। গতকাল সন্ধ্যায় মরদেহ নেওয়া হয় লোয়ার পারেলের ভাসভবনে; সেখানে আজ সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ভক্ত-অনুরাগীরা শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন। গায়িকার ছেলে আনন্দ ভোসলে জানিয়েছেন, ‘যাঁরা শেষ শ্রদ্ধা জানাতে চান, তাঁরা বেলা ১১টা থেকে তাঁর বাসভবনে আসতে পারেন।’ পরিবারের দফতর থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘শেষদর্শন সকাল ১০টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত, এরপর বিকেল ৪টায় শিবাজি পার্কে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে।’

    আশা ভোসলের সৃষ্টি ও সঙ্গীতজীবন ছিল অসামান্য দীর্ঘায়ু- সাত দশকেরও বেশি সময়ে তিনি গান করেছেন ১২ হাজারেরও বেশি। হিন্দির পাশাপাশি ২০-র বেশি ভাষায় তিনি গেয়েছেন; গজল, শাস্ত্রীয় ও আধুনিক ধারাতেও তাঁর দখল চিরস্মরণীয়। তাঁর সর্বোচ্চ জাতীয় স্বীকৃতি—দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার, পদ্মবিভূষণসহ একাধিক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত ছিলেন তিনি। তাঁর কণ্ঠস্বর আজও বহু কালজয়ী গানে সবার মনে বেঁচে আছে।

    আশার প্রয়াণে বলিউড ও দক্ষিণী চলচ্চিত্রের অসংখ্য তারকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক ব্যক্ত করেছেন। মনোজ বাজপেয়ী লিখেছেন, ‘আমাদের অনেকের মতো আমিও আশাজির গান শুনে বড় হয়েছি। তাঁর কণ্ঠ আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে এবং মুগ্ধ করেছে। তাঁর গান চিরকাল আমাদের সঙ্গে থাকবে।’ দক্ষিণি তারকা রামচরণ বলছেন, ‘ভারতীয় সংগীতের জন্য এটি অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর কণ্ঠ ছিল খাঁটি জাদু।’ মিলিন্দ সোমান তাঁকে ‘একজন কিংবদন্তি’ হিসেবে স্মরণ করেছেন। শাহরুখ খান, কাজল, শ্রেয়া ঘোষাল, কারিনা কাপুর খান, ভিকি কৌশল, রাম গোপাল ভার্মা, আনু মালিক, কমল হাসান, জুনিয়র এনটিআর সহ আরও বহু নাম প্রকাশ্যে শোক জানিয়েছেন।

    গতকাল রাত থেকেই আশা ভোসলের বাসভবনে ভিড় করেছেন শিল্পী, পরিচিতজন ও শ্রদ্ধাশীলরা; সেখানে দেখা গেছে জাভেদ আখতার, শাবানা আজমি, এ আর রহমান, বিদ্যা বালন প্রমুখকে।

    সংগীতপ্রেমীদের অন্তরে আশা ভোসলের যে জায়গা, সেটি সহজে পূরণ হবে না। তাঁর বহুমাত্রিক কণ্ঠ, অসংখ্য হিট গান ও ভিন্নধর্মী সুরের নিপুণ সমন্বয় ভবিষ্যত প্রজন্মকেও অনুপ্রাণিত করে যাবে।