Blog

  • পহেলা বৈশাখ আজ: নবপ্রাণের উৎসব

    পহেলা বৈশাখ আজ: নবপ্রাণের উৎসব

    নববর্ষের আগাম সুর আজ বাতাসে ভেসে বেড়ায়। পুরনো বছরের ক্লান্তি, দুঃখ ও বিদায়জ্ঞাপনী সব কিছু পিছনে রেখে আজ মঙ্গলবার পালিত হচ্ছে পহেলা বৈশাখ—১৪৩৩ বঙ্গাব্দ। ঋতুচক্রের নবায়নের মতোই এই দিনটি আশা, পুনর্জাগরণ ও ঐক্যের বার্তা বহন করে; বাঙালি সভ্যতার আহ্বান—নতুনের জয়, মানবতার জয়—আবারও উচ্চারিত হচ্ছে।

    হাজার বছরের ঐতিহ্য ও ইতিহাসের সেতুবন্ধনে গড়ে ওঠা পহেলা বৈশাখ জাতি, ধর্ম ও বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে আজ সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি মানুষ একযোগে মেতে উঠবেন বাংলা বর্ষবরণের আনন্দে। দিনটিতে প্রকাশ পায় দেশভক্তি, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের অদ্বিতীয় প্রতিফলন। প্রত্যাশা করা হয়—অশুভ দূর হোক, সত্য ও সুন্দর বিজয়ী হোক; বিদায়ী বছরের দুঃখ-বেদনাও যেন মুছে যায়।

    পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথকবার্তায় দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তাঁর বার্তায় একতার ও সপ্রীতির আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, বাংলা নববর্ষ আমাদের ঐক্য, সপ্রীতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত; পহেলা বৈশাখ জাতিকে মিলনের দিনে পরিণত করে। তিনি নববর্ষের আগমনে নতুন প্রত্যাশা, নব প্রতিশ্রুতি ও সম্ভাবনার স্বপ্ন জাগার ওপর জোর দিয়েছেন।

    শহর-গ্রাম-উভয়খানে উৎসবের প্রস্তুতি চোখে পড়ছে। নারীরা, পুরুষরা ও শিশুরা বর্ণিল পোশাকে মিলিত হয়ে দিনটি পালন করবেন। বসবে বৈশাখী মেলা; অনুষ্ঠিত হবে বলিখেলা, লাঠিখেলা ও হা-ডু-ডুর মতো ঐতিহ্যবাহী খেলা। চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে শতবর্ষী ঐতিহ্য বহন করে আসা জব্বারের বলিখেলা অনুষ্ঠিত হবে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচলিত মতো এবারও হবে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা—লোকঐতিহ্য ও স্বকীয়তাকে সামনে রেখে বৃহৎ পরিসরে অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শোভাযাত্রার থিমে ফুটে উঠবে আবহমান বাংলার লোকজ সংস্কৃতি; বাঁশ, কাঠ ও রঙিন কাগজে নির্মিত বিশাল বাঘ, হাতি, ময়ূর ও মা-শিশুর প্রতিকৃতি শোভাযাত্রায় এক অনন্য মাত্রা যোগ করবে। এ বছরের শোভাযাত্রায় বিশেষভাবে স্থান পেয়েছে ‘মোরগ, বেহালা, পায়রা, হাতি ও ঘোড়া’—যেগুলো শক্তি, সৃজন, শান্তি, গৌরব ও গতিশীলতার প্রতীক হিসেবে ধারণাগত তাৎপর্য বহন করবে।

    শোভাযাত্রাকে প্রাণবন্ত করতে ৩৫ জন বাদ্যযন্ত্রশিল্পী পরিবেশন করবেন জাতীয় সংগীত, ‘এসো হে বৈশাখ’ ও দেশাত্মবোধক গান। শোভাযাত্রায় অংশ নেবেন প্রায় ২০০ জন শিক্ষার্থী, যারা বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা বহন করবেন। শোভাযাত্রার মূল বার্তা—অশুভ শক্তির বিনাশ করে কল্যাণময় আগামীর পথে এগিয়ে চলা।

    রমনার বটমূলে ছায়ানটের শিল্পীরা ‘শান্তি, মানবতা ও সপ্রীতি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সম্মিলিত কণ্ঠে বর্ষবরণের গান পরিবেশন করবেন; এটি বহুদিন ধরে এ দিনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। অন্যদিকে উদীচী সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তোপখানা রোডে গান, কবিতা ও নৃত্যের মধ্য দিয়ে বর্ষবরণ করবে; তাদের প্রধান অনুষ্ঠান বিকেল চারটায় অনুষ্ঠিত হবে। এবারের প্রতিপাদ্য—’বৈশাখের রুদ্ররোষে ধ্বংস হোক সামাজিক ফ্যাসিবাদ’।

    নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খুলনা মেট্রোপলিটান পুলিশ (কেএমপি), জেলা পুলিশ, র‌্যাব ও কোস্ট গার্ড বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমিসহ বিভিন্ন সংগঠন সারাদেশে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন করছে। জাতীয় প্রেসক্লাব ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিও পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে অনুষ্ঠান করেছে।

    খুলনায় জেলা প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিল্পকলা একাডেমী, শিশু একাডেমী ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে সকাল ৯টায় বৈশাখী মেলা উদ্বোধন এবং সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয় মাঠ থেকে বের হবে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা; বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকবে।

    খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ও উৎসবমুখর। ক্যাম্পাস জুড়ে বর্ণিল আলপনা, প্যান্ডেল, শোভাযাত্রার প্রতীকী উপকরণ, সাংস্কৃতিক মঞ্চ ও স্টল সাজানো হয়েছে। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা সম্মিলিতভাবে এই আয়োজন সফল করতে কাজ করেছেন। স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার সেন্টারের সামনে শিক্ষার্থীরা বিশেষ ফ্ল্যাশ মব করেছে; বিকেল থেকে নানান হলে আলপনা অঙ্কন চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ সার্বিক তদারকি করেছেন এবং সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

    সকালে খেলার মাঠে ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলা উদ্বোধন শেষে দিনটি চিরচেনা গ্রামবাংলার আনন্দে কাবাডি, বাউল সঙ্গীত, মোরগ লড়াই, সাপ-বানর খেলা, ম্যাজিক শো, ট্রেজার হান্ট, ঘুড়ি উৎসবসহ নানা অনুষ্ঠানে রঙিন হবে। নিরাপত্তাসহ সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

    পহেলা বৈশাখে মানুষ একসাথে হয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করেন—এটাই এই উৎসবের প্রকৃত মর্ম। আজকের এই দিন নতুন বার্তা দেয়: পুরনো ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগোবার, সহনশীলতা ও সৃজনশীলতাকে জীবনের প্রধান আলো হিসেবে গ্রহণ করার। নববর্ষ সবার জন্য আলোর, আনন্দের ও ঐক্যের বার্তা নিয়ে আসুক—এটাই প্রত্যাশা।

  • দর্শনা রেলস্টেশন থেকে ১০টি স্বর্ণের বারসহ এক পাচারকারী আটক

    দর্শনা রেলস্টেশন থেকে ১০টি স্বর্ণের বারসহ এক পাচারকারী আটক

    বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দর্শনা রেলস্টেশনে অভিযান চালিয়ে ১০টি স্বর্ণের বারসহ এক ব্যক্তিকে আটক করেছে। উদ্ধারকৃত স্বর্ণের মোট ওজন ১ কেজি ১৬৬ গ্রাম এবং বাজার মূল্য আনুমানিক ২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।

    সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে দর্শনা রেলস্টেশনে অভিযান চালিয়ে ওই স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।

    আটক ব্যক্তি আলমগীর খান (৫৫)। তিনি দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা মোবারকপাড়ার মৃত বাদল খানের ছেলে।

    চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবির পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, অবৈধভাবে ভারতে স্বর্ণ পাচার হচ্ছে—এমন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবির একটি টহল দল দর্শনা রেলস্টেশনে সরেজমিন অবস্থান নিয়েছিল। এ সময় একজন ব্যক্তি ভারত অভিমুখে যায়; টহল দল তাকে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেয়। তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে টহল সদস্যরা ধাওয়া করে তাকে আটক করে।

    আটকের পরে তার দেহ তল্লাশি করে কোমরে মোড়ানো অবস্থায় ১০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত স্বর্ণের মোট ওজন ১ কেজি ১৬৬ গ্রাম এবং মূল্য প্রায় ২ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ধরা হয়েছে।

    লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান আরও জানান, ঘটনায় বিজিবি থেকে একটি মামলা দায়ের করা হবে এবং উদ্ধারকৃত স্বর্ণের বারগুলো চুয়াডাঙ্গা ট্রেজারি অফিসে জমা রাখা হবে।

  • নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রাইজমানিতে রেকর্ড বৃদ্ধি

    নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রাইজমানিতে রেকর্ড বৃদ্ধি

    নারী ক্রিকেটে আরেকটি বড় মাইলফলক। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) সামনে এনে দিয়েছে আসন্ন নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর জন্য রেকর্ড প্রাইজমানি, যা আগের আসরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি — এই সিদ্ধান্ত নারী ক্রিকেটে বাড়তি বিনিয়োগ ও জনপ্রিয়তার প্রমাণ বলে জানানো হয়েছে।

    আইসিসি ঘোষণা করেছে যে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে অনুষ্ঠিতব্য টুর্নামেন্টের মোট প্রাইজমানি নির্ধারণ করা হয়েছে ৮,৭৬৪,৬১৫ মার্কিন ডলার (প্রায় ১০৮ কোটি বাংলাদেশি টাকা)। তুলনায় ২০২৪ সালের আসরে মোট ছিল প্রায় ৭,৯৫৮,০০০ ডলার — এবারের বৃদ্ধি আনুমানিক ১০ শতাংশের কাছাকাছি। অর্থের এই বাড়তি অংশ দেখাচ্ছে যে নারী ক্রিকেট এখন কেবল ক্রীড়া নয়, ব্যবসা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্র হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    প্রাইজমানির বিশদ ছাড়াও প্রতিযোগিতা থেকে খেলোয়াড় ও দলের লাভ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ২৩৪০০০০ ডলার (প্রায় ৩০ কোটি টাকা), রানার্স-আপ দল পাবে ১১৭০০০০ ডলার (প্রায় ১৫ কোটি টাকা) এবং সেমিফাইনালে হেরে যাওয়া দুই দল প্রতিযোগিতামূলকভাবে ৬৭৫০০০ ডলার (প্রায় ৯ কোটি টাকা) করে পাবেন। গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচ জয়ের জন্য দলগুলো পাবে ৩১,১৫৪ ডলার (প্রায় ৪০ লাখ টাকা) এবং প্রতিটি অংশগ্রহণকারী ১২টি দলই ন্যূনতম ২৪৭,৫০০ ডলার (প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা) নিশ্চিতভাবে পাবে।

    এই আসরে আরও একটি বড় পরিবর্তন হলো দলের সংখ্যা বাড়ানো — প্রথমবারের মতো ১২টি দল অংশ নেবে, যা স্কেলে ও প্রতিযোগিতার তীব্রতা দুটোই বাড়াবে। আগের আসরগুলোতে তুলনায় বেশি দলের থাকার ফলে অধিক দেশের নারী ক্রিকেটাররা বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রতিভা দেখাবার সুযোগ পাবেন এবং ম্যাচগুলোর ধরন আরও প্রতিযোগিতামূলক হবে।

    আইসিসির প্রধান নির্বাহী সংযোগ গুপ্তা বলেন, “নারী ক্রিকেটের বিকাশ গত কয়েক বছরে দ্রুত গতিতে বেড়েছে। দলসংখ্যা বাড়ানো এবং রেকর্ড প্রাইজমানি আমাদের বৈশ্বিক ক্রিকেটকে আরও শক্তিশালী, সমতাপূর্ণ ও প্রতিযোগিতামূলক করার প্রতিফলন। বিনিয়োগ বাড়লে পেশাদারিত্ব, প্রশিক্ষণ ও তরুণ প্রতিভা বিকাশে বড় সুবিধা হবে।” তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে এই বিশ্বকাপ দর্শকসংখ্যা, টিভি ও স্ট্রিমিং সম্প্রচার এবং ভক্ত আকর্ষণে নতুন রেকর্ড তৈরি করবে।

    টুর্নামেন্টের উত্তেজনা বাড়াতে আইসিসি ইতিমধ্যে ট্রফি ট্যুরও শুরু করেছে। লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ট্রফি প্রদর্শনের মাধ্যমে যাত্রা শুরু হয়ে সেটি নেদারল্যান্ডস, আয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ড সফর করবে। মে মাস জুড়ে ইংল্যান্ডের লিডস, ম্যানচেস্টার, বার্মিংহাম, ব্রিস্টল, সাউথ্যাম্পটন ও লন্ডনসহ বিভিন্ন শহরে ভক্তরা ট্রফি দেখার সুযোগ পাবেন — এভাবে টুর্নামেন্টের ব্যাপক আগ্রহ ও অংশগ্রহণ তৈরির প্রচেষ্টা চলছে।

    টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচ নির্ধারিত হয়েছে ১২ জুন ২০২৬-এ; ওপেনিং ম্যাচে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা। মোট ৩৩টি ম্যাচ বিভিন্ন ঐতিহাসিক ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে। আইসিসি ও অংশগ্রহণকারী দেশগুলো আশা করছে যে রেকর্ড প্রাইজমানি ও সম্প্রসারিত দলসংখ্যা মিলে নারী ক্রিকেটকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে, যা ভবিষ্যতে তরুণ খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করবে এবং উপস্থিতি ও সম্প্রচারে বড় সুযোগ সৃষ্টি করবে।

  • চৈত্র সংক্রান্তিতে খুবিতে ঘুড়ি উৎসব, শিক্ষার্থীদের প্রাণখোলা আনন্দ

    চৈত্র সংক্রান্তিতে খুবিতে ঘুড়ি উৎসব, শিক্ষার্থীদের প্রাণখোলা আনন্দ

    বাংলা বর্ষপঞ্জির শেষ দিন চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে রবিবার সন্ধ্যায় বর্ণিল এক ঘুড়ি উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। বিকাল ৫টায় অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও জনসাধারণের মিলিত উপস্থিতিতে মাঠটি পালিত জমাট আবহাওয়ায় আনন্দে ভরে ওঠে।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপাচার্য বলেন, চৈত্র সংক্রান্তিতে খুবির ঘুড়ি উৎসব একটি প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্য। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এই আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। তিনি افزودেন, এমন আয়োজন শুধুই বিনোদন নয় — এটি আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও শিকড়ের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের একটি মাধ্যম এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভ্রাতৃত্ববোধকে জোরদার করে।

    অনুষ্ঠানে বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩ উদযাপন কমিটির সভাপতি ও ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায় প্রশাসন স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. রুমানা হক, কমিটির সদস্য সচিব ও ছাত্র বিষয়ক পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ নাজমুস সাদাতসহ বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সহকারী ছাত্র বিষয়ক পরিচালকবৃন্দ এবং বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উৎসবে অংশগ্রহণ করেন।

    ঘুড়ি উৎসবে শিক্ষার্থীদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। রঙিন কাগজ ও সুতোয় তৈরি নানা আকৃতির ঘুড়ি আকাশে ছড়িয়েছে—প্রজাপতি, সাপ, চিল, ঈগল ও মাছের আকৃতির ঘুড়িগুলো বিশেষভাবে আকর্ষণীয় হয়েছিল। ধীরে ধীরে হাওয়া বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আকাশ জুড়ে নানা রঙের ছোঁয়া দিয়ে উঠল যেন নতুন বছরের সুরুচি। দর্শকরা হেসে-খেলে, ছবি তুলে এবং একে অপরকে শুভেচ্ছা জানিয়ে দিনটি উপভোগ করেন।

    অনুষ্ঠান আয়োজন করে থাকা কমিটি জানায়, এমন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যবহির্ভূত জীবনকে সমৃদ্ধ করে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃজনশীলতা ও সহযোগিতার মনোভাব গড়ে তোলে। শেষমেশ শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মিলিত অংশগ্রহণে এই ঘুড়ি উৎসব চৈত্র সংক্রান্তির ঐতিহ্য ধরে রেখে নতুন বাংলা বছরের আগমনকে উৎসবমুখরভাবে স্বাগত জানিয়েছেন সকল উপস্থিতি।

  • রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় আজ শেষবিদায়—কিংবদন্তি আশা ভোসলে প্রয়াত

    রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় আজ শেষবিদায়—কিংবদন্তি আশা ভোসলে প্রয়াত

    ভারতীয় সংগীতের এক অনবদ্য অধ্যায়ের অবসান। কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোসলে রবিবার মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ৯২ বছর বয়সে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তাঁর প্রয়াণে সঙ্গীত ও চলচ্চিত্র অঙ্গনে গভীর শোক নেমে এসেছে।

    উল্লেখ্য, আগের রাতেই অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিলেন আশা ভোসলেকে। চিকিৎসকরাও জানিয়েছেন যে তিনি সংক্রমণ এবং বয়সজনিত জটিল সমস্যার সঙ্গে লড়াই করছিলেন; শেষপর্যন্ত একাধিক অঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়াতে মৃত্যু ঘটে।

    পরিবার সূত্রে জানানো হয়েছে, আজ সোমবার বিকেল ৪টায় মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁকে বিদায় জানানো হবে। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

    গতকাল সন্ধ্যায় মরদেহটি লোয়ার পারেলের গৃহে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই আজ সকালে থেকে বিকেল পর্যন্ত ভক্ত-অনুরাগীরা শেষ শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ পাচ্ছেন। গায়িকার ছেলে আনন্দ ভোসলে জানিয়েছেন, ‘যাঁরা শেষ শ্রদ্ধা জানাতে চান, তাঁরা বেলা ১১টা থেকে তাঁর বাসভবনে আসতে পারেন।’ পরিবারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘শেষদর্শন সকাল ১০টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে, এরপর বিকেল ৪টায় শিবাজি পার্কে শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।’

    প্রায় সাত দশকের অধিক দীর্ঘ ক্যারিয়ারে আশা ভোসলে ১২ হাজারের বেশি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। হিন্দি ছাড়াও ২০টিরও বেশি ভাষায় গান গেয়ে তিনি সারাবিশ্বে শ্রোতাদের মন জয় করেছিলেন। গজল, শাস্ত্রীয়, আধুনিক—সব ধাঁচেই তাঁর সমান উজ্জ্বল দখল ছিল। শিল্পী জীবনের মধ্যে তিনি দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারসহ পদ্মবিভূষণ এবং একাধিক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেছেন; তাঁর গাওয়া বহু গান আজও সমান জনপ্রিয় ও প্রসিদ্ধ।

    আশার প্রয়াণে বলিউড ও দক্ষিণী চলচ্চিত্রের শীর্ষস্থানীয় বহু তারকা শোক প্রকাশ করেছেন। শাহরুখ খান, কাজল, শ্রেয়া ঘোষাল, কারিনা কাপুর খান, ভিকি কৌশল, রাম গোপাল ভার্মা, আনু মালিক, কমল হাসান, জুনিয়র এনটিআরসহ অনেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

    অভিনেতা মনোজ বাজপেয়ী লিখেছেন, ‘আমাদের অনেকের মতো আমিও আশাজির গান শুনে বড় হয়েছি। তাঁর কণ্ঠ আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে এবং মুগ্ধ করেছে। তাঁর গান চিরকাল আমাদের সঙ্গে থাকবে।’ দক্ষিণি তারকা রামচরণ বলেছেন, ‘ভারতীয় সংগীতের জন্য এটি অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর কণ্ঠ ছিল খাঁটি জাদু।’ অন্যরা তাঁকে ‘কিংবদন্তি’ হিসেবে স্মরণ করেছেন এবং শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

    গত রাতের মধ্যে আশা ভোসলের বাসভবনে ভিড় করেছেন বহু বিশিষ্টজন; সেখানে উপস্থিত ছিলেন জাভেদ আখতার, শাবানা আজমি, এ আর রাহমান, বিদ্যা বালনসহ আরও অনেকে।

    আশা ভোসলের অমর কণ্ঠ ও অসংখ্য কালজয়ী গান ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে—এটাই হয়তো তাঁর সেরা স্মরণীয়তা।

  • ‘এমন শিল্পী আর জন্মাবে না’, আশা ভোঁসলের প্রয়াণে রুনা লায়লা

    ‘এমন শিল্পী আর জন্মাবে না’, আশা ভোঁসলের প্রয়াণে রুনা লায়লা

    ভারতের স্তব্ধ করা কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলে রোববার চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। ১২ এপ্রিল মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে তিনি ৯২ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন, যা সংগীত অঙ্গনে গভীর শোকের ছাপ ফেলেছে।

    এমন বাস্তবতা প্রকাশ করে উপমহাদেশের খ্যাতনামা শিল্পী রুনা লায়লা বলেন, “পৃথিবীর বড় বড় দুইজন কিংবদন্তি পরপর চলে গেলেন। লতা মঙ্গেশকর দিদি ২০২২ সালে চলে গেলেন, আর এখন আশা দিদিও চলে গেলেন। এমন শিল্পী আর এই পৃথিবীতে জন্মাবে না। আমার কাছে মনে হচ্ছে আমার পৃথিবীটাই শূন্য হয়ে গেল।”

    রুনা লায়লা আরও বলেন, “তারা দুজনেই আমাকে খুব স্নেহ করতেন—মায়ের মতো। এই কষ্ট ভাষায় বলার নয়। আমার শেষ দেখা হয়েছিল আমার সুর করা গান ‘চলে যাওয়া ঢেউগুলো আর ফিরে আসেনি’-এর রেকর্ডিংয়ের সময়। এরপর ফোনে যোগাযোগ ছিল, কিন্তু কিছুদিন ধরে ভাবছিলাম আবার কথা বলব—আজ করব, কাল করব—এই ভাবনায় শেষ দেখা আর হয়নি। শেষ কথাটাও বলা হলো না।”

    তিনি অনুশোচনায় যোগ করেন, “যখন মনে হচ্ছিল দিদিকে ফোন করি, যদি তখনই করতাম, হয়তো আজ এই আফসোসটা থাকত না। ভেতরে ভীষণ কষ্ট হচ্ছে—এই কষ্ট সত্যিই ভাষায় প্রকাশের নয়।”

    আশা ভোঁসলেপ্রতি শ্বসনের সমস্যায় শনিবার সন্ধ্যায় ব্রিচ ক্যান্ডিতে ভর্তি হন এবং চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি ফিরে আসেননি। টানা সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতীয় সংগীতে রাজত্ব করা এই গায়িকা হাজার হাজার গান ও অসংখ্য কালজয়ী সুরের মাধ্যমে বহু প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছেন। তাঁর প্রয়াণে একটি সোনালি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘোষণা করা যায়।

  • পহেলা বৈশাখ—সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের অদ্বিতীয় প্রতীক: প্রধানমন্ত্রী

    পহেলা বৈশাখ—সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের অদ্বিতীয় প্রতীক: প্রধানমন্ত্রী

    পহেলা বৈশাখকে জাতিসত্তা, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের অনন্য প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামীকাল (১২ এপ্রিল) পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আজ প্রকাশিত এক বাণীতে তিনি দেশবাসীসহ সারা বিশ্বের সকল বঙ্গভাষী মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান এবং বাংলা ১৪৩২ সালকে বিদায় করে নতুন বছর ১৪৩৩ কে স্বাগত জানান।

    বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পহেলা বৈশাখ শতাব্দী-পর-শতাব্দী ধরে বারবার নতুন উদ্দীপনা ও আশার প্রতীক হয়ে ফিরে আসে। নতুন বছরের আগমন পুরোনো ক্লান্তি, জীর্ণতা ও গ্লানি পেছনে রেখে সামনে এগিয়ে যাওয়ার উৎসাহ জোগায়।

    তিনি বলেন, এই উৎসবের সঙ্গে এ অঞ্চলের কৃষি, প্রকৃতি ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির এ যুগে থেকেও প্রকৃতির ছন্দ মেনে কৃষকরা ফসলের শুরুর সময় নির্ধারণ করেন। বাংলার হাজার বছরের লোকজ ঐতিহ্য, কৃষ্টি-কলা ও মূল্যবোধ পহেলা বৈশাখের মাধ্যমে নতুন করে প্রাণ পায়।

    বৈশাখী মেলা, শোভাযাত্রা, হালখাতা ও অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী আয়োজনগুলো আমাদের সংস্কৃতির বহুমাত্রিক সৌন্দর্য উন্মোচিত করে এবং জাতিগত ঐক্যবোধকে জাগ্রত করে। বাংলা নববর্ষ নতুন প্রত্যাশা ও সম্ভাবনার বার্তা নিয়ে আসে; প্রকৃতির নবজাগরণ ও মানুষের আশার মিলনে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

    প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনের সমাপ্তির পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে রাষ্ট্র ও সমাজের সব স্তরের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করা হয়েছে।

    তিনি জানান, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরকার ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, ক্রীড়া কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে এবং ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিবসহ বিভিন্ন ধর্মীয় গুণীর জন্য আর্থিক সহায়তা চালু করেছে। কৃষক ও কৃষি অর্থনীতি শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন থেকেই কৃষক কার্ড প্রদান কর্মসূচিও শুরু হচ্ছে।

    প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে জনগণের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ, সহনশীলতা, উদারতা ও সম্প্রীতির চর্চা দেশের গণতন্ত্রকে আরও মজবুত করবে। বৈশ্বিক সংকটের এই সময়ে শান্তি, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের গুরুত্ব তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।

    তিনি নববর্ষ উপলক্ষে সবাইকে সংকীর্ণতা ও স্বার্থপরতার উর্ধ্বে উঠে মানবকল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান এবং নতুন বছরের প্রথম প্রভাতে অতীতের হতাশা ভুলে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় নেয়ার তাগিদ দেন। বাণীর শেষ অংশে তিনি দেশবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

  • বাজেটে মোবাইল শুল্ক কমিয়ে গ্রাহকদের স্বস্তি দেবেন: রেহান আসিফ আসাদ

    বাজেটে মোবাইল শুল্ক কমিয়ে গ্রাহকদের স্বস্তি দেবেন: রেহান আসিফ আসাদ

    ব্রডব্যান্ড এক্সপোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সোমবার (১৩ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ জানান, আগামী বাজেটে মোবাইল সেবায় আরোপিত শুল্কহার কমিয়ে গ্রাহকদের উপর চাপ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

    তিনি বলেন, বর্তমানে ১০০ টাকার রিচার্জ করলে গ্রাহক মাত্র ৬২ টাকার সেবা পান; বাকি ৩৮ টাকা শুল্ক ও কর বাবদ চলে যাচ্ছে—যা ব্যবহারকারীর ওপর অযথা বোঝা সৃষ্টি করছে। এই পরিস্থিতি নিয়ে সরকার সচেতন এবং বাজেটে শুল্কহারে সংস্কারের মাধ্যমে গ্রাহকদের স্বস্তি দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

    ব্রডব্যান্ড এক্সপোতে উপস্থিত বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী ১২ কোটি ৮০ লাখ গ্রাহককে স্বস্তি দিতে ইন্টারনেটের দাম আরও কমানোর আহ্বান জানান। তিনি বললেন, সাশ্রয়ী ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করা দেশের ডিজিটাল অগ্রগতির জন্য জরুরি।

    তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, টেলিকম খাতের উন্নয়ন এবং সেবার মান বাড়াতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করবে। তিনি আন্তর্জাতিক মানের টেলিকম অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

    সরকারি নীতিনির্ধারকরা জানান, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারীদের দাবি বিবেচনায় রেখে শিগগিরই একটিভ শেয়ারিংয়ের সুযোগ দেওয়া হবে, যা খরচ কমিয়ে সেবার মান বাড়াতে সহায়ক হবে।

    বর্তমানে মোবাইল সেবায় সম্পূরক শুল্ক ২৩ শতাংশ, কার্যকরী ভ্যাট ১৮ শতাংশ এবং সারচার্জ ১ শতাংশ ধার্য আছে। ফলে ১০০ টাকার রিচার্জে গ্রাহক কর বাবদ প্রায় ৩৮ টাকা দিচ্ছেন এবং হাতে সেবা আসে মাত্র ৬২ টাকা।

    বিটিআরসির তথ্যানুযায়ী দেশের চারটি অপারেটর সাড়ে ১৮ কোটির বেশি মোবাইল সংযোগধারীকে ভয়েস কল ও ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছে। এই পরিসংখ্যান বিবেচনায় নিয়ে নীতি সংশোধন করে গ্রাহক ও খাত—উভয়েরই স্বার্থে কাজ করা হবে বলে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়েছে।

  • সংস্কার পরিষদ না হলে বিএনপি সরকার সংকটে পড়বে: নাহিদ ইসলাম

    সংস্কার পরিষদ না হলে বিএনপি সরকার সংকটে পড়বে: নাহিদ ইসলাম

    বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সরকার যদি তৎক্ষণিকভাবে সংস্কার পরিষদ গঠন না করে তবে তার ভার বিএনপি সরকারকে বহন করতে হবে এবং সংঘটিত সংকটের পরিণতি কঠোর হবে।

    সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অফ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে ১১ দলীয় ঐক্য কর্তৃক আয়োজিত ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে দুটি বড় প্রশ্ন উঠে আসে — শিক্ষার অস্বাভাবিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলনের দাবি ছিল ফ্যাসিবাদের বিলোপ, আর বিএনপি তখন নির্বাচনের দাবি করেছিল। আমরা গণপরিষদের মাধ্যমে ব্যাপক সংস্কারের দাবি জানিয়েছিলাম। পরে বিএনপি সংস্কারের আলোচনায় অংশ নেয়; সেই প্রেক্ষিতে আমরা গণপরিষদের বদলে সংস্কার পরিষদের প্রস্তাব মেনে নিই।

    তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি এখন কৃত্রিমভাবে বিরোধ সৃষ্টি করছে। তারা ‘জুলাই সনদ’ ও ‘জুলাই আদেশ’কে আলাদা করার চেষ্টা করছে, কারণ জুলাই সনদকে নিজেদের দলীয় ইশতেহারে রূপ দিতে চায়। এ কারণেই গণভোটের প্রশ্ন উঠে এসেছে— সংবিধানের ফ্রেমওয়ার্কের ভিতরে সংবিধানের প্রাথমিক কাঠামো বদলানো সম্ভব নয়; তাই গঠনগত ক্ষমতার জন্য সংস্কার পরিষদের প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে। ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় বিএনপি এসব কিছু মেনে নিয়েছিল, কিন্তু পরে তারা কথার বরখেলাপ করে গণভোটের গণরায়কে প্রত্যাখ্যান করেছে।

    নাহিদ আরো বলেন, যারা গণভোটের গণরায় প্রত্যাখ্যান করছে, তাদের সেই সিদ্ধান্তের পরিণতি সরকারকেই ভোগ করতে হবে। বর্তমানে আমাদের যুদ্ধের সমতুল্য পরিস্থিতি মোকাবেলা করার প্রস্তুতি নেওয়া দরকার—জাতীয় স্বার্থ কীভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে রক্ষা করা হবে, জ্বালানিসংকটসহ বিভিন্ন দুর্যোগ কীভাবে সামলাবো, ইত্যাদি বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা জরুরি।

    তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, গত ১৬ বছরে যে সংস্কারের কথা বলা হয়েছিল এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে সংস্কারের প্রস্তাব করেছিল, সেগুলোও এখনো আলোচনার পর্যায়ে থেমে রয়েছে। দেশের এই দুর্যোগে বিএনপিই জাতিকে টেনে এনেছে; ফলে তাকে এর দায়ভার ও পরিণতি বহন করতে হবে এবং তাতে সহজ উপায় থাকবে না।

    সংকটের সমাধানে দ্রুত সংস্কার পরিষদ বাস্তবায়নের উপরে জোর দিয়ে এনসিপি আহ্বায়ক বলেছেন, সরকারকে দ্রুত সংবিধানগত সংস্কার পরিষদ করার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে হবে এবং জাতীয় ঐক্য টিকিয়ে রাখতে হবে; নতুবা এর পরিণতি তাদেরই ভোগ করতে হবে।

    সেমিনারের প্রধান অতিথি ছিলেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামী’র আমির ডা. শফিকুর রহমান। সভার সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। এছাড়া বিশেষ অতিথি ছিলেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমদ, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা।

  • নাহিদ ইসলাম: ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের কথা ভুলে গেছে

    নাহিদ ইসলাম: ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের কথা ভুলে গেছে

    জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের কথা ভুলে গেছে। তিনি আজ শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় এসব মন্তব্য করেন।

    নাহিদ বলেন, ‘এই দেশের ইতিহাসে বারবার দেখেছি—শ্রমিকরাই রক্ত দিয়েছে, জীবন দিয়েছে। ১৯৪৭-এর স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং বিভিন্ন গণআন্দোলনে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের অধিকাংশই শ্রমজীবী মানুষ।’

    তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি শ্রমজীবী মানুষের রক্তের ওপর ক্ষমতায় এসে মাত্র এক মাসের মধ্যে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। ‘নতুন যে সরকার গঠিত হয়েছে, তারা শ্রমিকদের রক্তের ওপর ক্ষমতায় বসেছে। কিন্তু এক মাসের মাথায় তারা নতুন বাংলাদেশের সঙ্গে বেইমানি করেছে, গণভোটের গণরায়কে অবজ্ঞা করেছে—এই সরকার গণবিরোধী,’ বলেন নাহিদ।

    অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি হওয়া অধ্যাদেশগুলো আইন করার এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নের অধ্যায়ের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করার অভিযোগও তিনি তোলেন। তিনি জানান, ‘এই দেশের রাজনীতিতে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের ফল ভাল হবে না। আমরা গণআন্দোলন গড়ে তুলে শ্রমিকদের অধিকার ও সংস্কার বাস্তবায়নে বাধ্য করব।’

    নাহিদ বলেন, ‘আমরা নতুন একটি জাতীয় ঐক্যে আবির্ভূত হয়েছি। জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের দিকে এগিয়ে গিয়ে শ্রমিকদের জন্য বৈষম্যহীন একটি বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি আমাদের রয়েছে—রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ সব ক্ষেত্রেই ন্যায় প্রতিষ্ঠা করব এবং শ্রমিকের অংশ নিশ্চিত করব।’ তিনি উল্লেখ করেন যে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, জাতীয় নাগরিক পার্টি ও জাতীয় শ্রমিক শক্তি সেই ঐক্যের পথে রয়েছে।

    শ্রমিকদের উদ্দেশে নাহিদ আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘ঐক্যবদ্ধ হোন। সবাই মিলেও তারেক রহমানকে জবাবদিহিতার আওতায় আনুন এবং নতুন বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত থাকুন।’ তিনি শুধু সংসদের উপর নির্ভর না করে রাজপথের প্রস্তুতিও নেওয়ার উপর জোর দেন এবং জানান, ‘রাজপথ ও গণআন্দোলনের প্রস্তুতির মাধ্যমেই আমরা বর্তমান সরকারকে জুলাই সনদ, গণভোটসহ শ্রমিকদের প্রতিটি দাবি বাস্তবায়নে বাধ্য করব।’