বিপিএলের সর্বশেষ আসরে সিলেট টাইটান্সের হয়ে খেলেছেন নাসুম আহমেদ। গত এক সাক্ষাৎকারে নাসুম জানান, তিনি দল থেকে এখনও ৩৫ লাখ টাকা পাচ্ছেন না—এই দাবির পর সিলেট টাইটান্স কর্তৃপক্ষ একটি অফিসিয়াল বিবৃতি দিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখার পর বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছে।
টাইটান্সের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রকাশিত কিছু সংবাদে তথ্যের অসামঞ্জস্য দেখা গেছে এবং তা পাঠকদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। বিষয়টি পরিষ্কার করতে তারা নিম্নলিখিত পয়েন্টগুলো তুলে ধরেছে:
১) চুক্তিভিত্তিক পরিশোধ: বিপিএল ২০২৫-২৬ মৌসুমের খেলোয়াড়দের বকেয়া সংক্রান্ত বিষয় গত মাসে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কার্যালয়ে চূড়ান্তভাবে মিটে গেছে। চুক্তি অনুযায়ী নাসুম আহমেদের মোট পাওনা ছিল ৩৫ লাখ টাকা (বি-ক্যাটাগরি) এবং ফ্র্যাঞ্চাইজিটি ইতোমধ্যেই ওই অর্থ পরিশোধ করেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে নাসুমের নামে সিলেট টাইটান্সের কোনো বকেয়া নেই, উল্লেখ করেছে দলটি।
২) মৌখিক বোনাসের ব্যাখ্যা: নিলামের আগে খেলোয়াড়দের সঙ্গে পারিশ্রমিক ও বোনাস নিয়ে কিছু মৌখিক আলোচনা হয়েছিল। সেগুলোতে শর্ত ছিল—দল চ্যাম্পিয়ন হলে অতিরিক্ত বোনাস দেওয়া হবে। দল কাঙ্খিত ফল পায়নি, তাই ওই মৌখিক বোনাস দেওয়ার কোনো আইনি বা চুক্তিমূলক বাধ্যবাধকতা নেই। সিলেট টাইটান্স বলেছে যে সব আর্থিক লেনদেন মূলত স্বাক্ষরিত চুক্তিপত্র অনুযায়ী করা হয়েছে।
৩) চেক ও পেমেন্ট পদ্ধতি: টাইটান্স জানায়, নাসুম নিজে ব্যাংক চেক নিতে চাননি এবং সরাসরি নগদে পরিশোধের অনুরোধ করেছিলেন। সেই অনুযায়ী তার অর্থ নগদে দেওয়া হয়। টুর্নামেন্ট চলাকালীন নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে অগ্রিমভাবে দেওয়া কিছু চেক অন্যান্য খেলোয়াড়রা পেমেন্ট বুঝে নিয়ে ফেরত দিয়েছিলেন, কিন্তু নাসুম এখনও সেগুলো ফেরত দেননি। এছাড়া বিসিবি কার্যালয়ে পাওনা বুঝে নেওয়ার দিন তিনি উপস্থিত ছিলেন না—এগুলোও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে সিলেট টাইটান্স আরও বলেন, তারা সবসময় খেলোয়াড়দের পেশাদার মর্যাদা ও প্রাপ্য সম্মান নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। চুক্তি অনুযায়ী নাসুমের সব প্রদেয় টাকা পরিশোধ করা হয়েছে এবং ফ্র্যাঞ্চাইজির কাছে আর কোনো অর্থ বাকি নেই। দলটি আশা করছে, এই বিবৃতির পর বিষয়টি নিয়ে যেসব ভুল বোঝাবুঝি রয়েছে সেগুলো দূর হবে।
