Blog

  • রুনা লায়লা: ‘এমন শিল্পী আর জন্মাবে না’ — আশা ভোঁসলেকে স্মরণ

    রুনা লায়লা: ‘এমন শিল্পী আর জন্মাবে না’ — আশা ভোঁসলেকে স্মরণ

    ভারতের কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলে রোববার চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। (১২ এপ্রিল) মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে তিনি মারা যান। তার মৃত্যুর সংবাদ শোনায় সংগীত অঙ্গনে গভীর শোক নেমে এসেছে।

    উপমহাদেশ তথা আন্তর্জাতিক সংগীতজগতের অন্যতম নিবিষ্ট শিল্পী রুনা লায়লা আশা ভোঁসলের প্রয়াণে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, “পৃথিবীর বড় বড় দুইজন কিংবদন্তি শিল্পী পরপর চলে গেলেন। লতা মঙ্গেশকর দিদি ২০২২ সালে চলে গেলেন, আর এখন আশা দিদিও চলে গেলেন। এমন শিল্পী আর এই পৃথিবীতে জন্মাবে না। আমার কাছে মনে হচ্ছে আমার পৃথিবীটাই শূন্য হয়ে গেল।”

    রুনা লায়লা ব্যক্তিগত স্মৃতিও শেয়ার করেন। তিনি বলেন, “তারা দুজনেই আমাকে ভীষণ স্নেহ করতেন — মায়ের মতো। এই কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।” তিনি জানান, শেষবার দেখা হয়েছিল তাঁর রচিত গান ‘চলে যাওয়া ঢেউগুলো আর ফিরে আসেনি’-এর রেকর্ডিংয়ের সময়। পরে ফোনে যোগাযোগ হয়েছে, কিন্তু কয়েকদিন ধরেই ভাবছিলেন—আবার কথা বলব; আজ করব, কাল করব—শেষ পর্যন্ত আর করা হলো না। “শেষ কথাটাও বলা হলো না,” তিনি আফসোস করে বলেন।

    রুনা লায়লা আরও যোগ করেন, “যখন মনে হয়েছিল দিদিকে ফোন করি, যদি তখনই করতাম, তাহলে হয়তো আজ এই আফসোসটা থাকত না। নিজের ভেতরে খুব কষ্ট হচ্ছে—এই কষ্ট সত্যিই ভাষায় প্রকাশের নয়।”

    আশা ভোঁসলে গত শনিবার সন্ধ্যায় বুকে ব্যথা নিয়ে ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তিযেগেছিলেন। তাকে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীতে তিনি সেরে উঠতে পারেননি।

    টানা সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে আশা ভোঁসলে ভারতীয় সংগীতের এক কিংবদন্তি হিসেবে রাজত্ব করেছেন। হাজার হাজার গান ও অসংখ্য কালজয়ী সুর তিনি উপহার দিয়েছেন, যা বহু প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছে। তাঁর প্রয়াণে একটি সোনালি অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো; তবে তার সুর ও কণ্ঠমান জীবন্ত থেকে যাবে।

  • শাকিব খানের আইডিয়ায় নির্মিত হচ্ছে নতুন সিনেমা ‘রকস্টার’

    শাকিব খানের আইডিয়ায় নির্মিত হচ্ছে নতুন সিনেমা ‘রকস্টার’

    তাণ্ডব সিনেমার পর এবার আবারো শাকিব খান ও সাবিলা নূর জুটি হিসেবে অভিনয় করছেন নতুন ছবি ‘রকস্টার’-এ। যদিও এই সিনেমার জন্য সাবিলার অভিনয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো আসেনি, তবে শুটিং শুরুর সময় সেট থেকে ফাঁস হওয়া এক ভিডিওতে তাদের একসঙ্গে দেখা গেছে। এবার সিনেমার পরিচালক আজমান রুশো এটি নিশ্চিত করে বললেন যে, সিনেমাটির নায়িকা হিসেবে সাবিলা নূরই থাকছেন। তিনি আরও জানালেন, শাকিব খানের সঙ্গে পরামর্শ করেই সাবিলাকে এই চরিত্রে নেওয়া হয়েছে।

    পরিচালক আজমান রুশো বলেন, ‘আমার মনে হয়েছিল, রকস্টার চরিত্রের জন্য সাবিলাই সেরা। শাকিব ভাইয়ের সঙ্গে আলোচনা করে আমি নিশ্চিত হয়েছি যে, তিনি এই চরিত্রের জন্য খুবই উপযুক্ত। তার জন্য কাস্টিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং সিনেমাটির সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত শাকিব ভাইয়ের সঙ্গে আলোচনা করেই নেওয়া হয়।’

    রুশো আরও জানান, এই সিনেমার মূল ভাবনা ও গল্প নির্মিত হয়েছে শাকিব খানের আইডিয়ায়। তিনি নিজে একজন মিউজিশিয়ান ছিলেন এবং আগে বিভিন্ন গান ও মিউজিক্যাল পারফরম্যান্সের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। শাকিব খানের এমন একটি চরিত্রে অভিনয়ের ইচ্ছা পরিচালকের কাছে প্রকাশের পর তিনি এই গল্পের উপর ভিত্তি করে ছবির চিত্রনাট্য লেখেন। রুশো বলেন, ‘প্রাথমিক আলাপের সময়ে শাকিব ভাই আমাকে বললেন, পর্দায় তিনি একজন রকস্টার হতে চান। তাঁর এই ইচ্ছা শুনে আমি যেন স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো লাগছিল। কারণ, আমি নিজেও একজন মিউজিশিয়ান। আমি তখন সমাজের বিভিন্ন মিউজিশিয়ানের জীবন নিয়ে গবেষণা করতাম এবং তাদের জীবনের ব্যাপারে জানতে আগ্রহী ছিলাম। এই গল্পটি সেই জীবনবোধকে তুলে ধরার দারুণ এক সুযোগ।’

    ‘রকস্টার’ সিনেমার নাম ও পোস্টার প্রকাশের পর থেকেই এর প্রতি বেশ আলোচনা ও গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে অনেকের ধারনা ছিল এটি বলিউডের জনপ্রিয় ‘রকস্টার’ ছবির সঙ্গে মিল আছে। তবে নির্মাতা রুশো এ বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করে বলেন, ‘ইমতিয়াজ আলীর ‘রকস্টার’ আমি খুবই পছন্দ করি। এ ছাড়া ‘রকস্টার’ নামে অনেক সিনেমা হয়েছে, যার মধ্যে এই ছবির কোন সম্পর্ক নেই। আমাদের সিনেমার নামটি অন্যভাবেই আলাদা।’

    গল্পের ব্যাপারে রুশো বলেন, ‘এটি একজন রকস্টারের জীবন কাহিনী, যেখানে রয়েছে পারিবারিক ভালোবাসা, ট্র্যাজেডি এবং জীবনের সংগ্রাম। সব মিলিয়ে এটি একটি মানব জীবনের গল্প।’

    ‘রকস্টার’ সিনেমার নির্মাণ কাজ পরিচালিত হচ্ছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সান মিউজিক অ্যান্ড মোশন পিকচার্স লিমিটেডের ব্যানারে। চিত্রনাট্য লিখেছেন আয়মান আসিব স্বাধীন।

  • আশা ভোঁসলে হাসপাতালে ভর্তি, অবস্থা সংকটাপন্ন

    আশা ভোঁসলে হাসপাতালে ভর্তি, অবস্থা সংকটাপন্ন

    ভারতের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলে গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শনিবার (১১ এপ্রিল) মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতাল তাঁকে নেওয়া হয়। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছেন, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন তিনি এবং বর্তমানে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) রয়েছেন।

    হাসপাতালের চিকিৎসক প্রতীত সামদানি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, শনিবার হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের ঘটনা ঘটে এবং দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তাঁর অবস্থা এখনও স্থিতিশীল কি না, সেই বিষয়ে চিকিৎসকরা স্পষ্ট কর Finn করেননি।

    আশা ভোঁসলের এই অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ভক্তদের মাঝে দুশ্চিন্তার সৃষ্টি হয়েছে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিগত কয়েক বছর ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভোগা এই গায়িকার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

    আশা ভোঁসলে দীর্ঘ কর্মজীবনে ভারতীয় সংগীতের জগতকে সমৃদ্ধ করেছেন অসংখ্য স্বামীখ্যা সৃষ্টি করে। তিনি ভারতের সর্বোচ্চ চলচ্চিত্র সম্মান ‘দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার’ অর্জন করেছেন এবং পদ্মভূষণসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কারপেয়ে সম্মানিত হয়েছেন। এছাড়াও তিনি বহু জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও ফিল্মফেয়ার পুরস্কার জিতেছেন, যা তাকে ভারতের প্লেব্যাক সংগীতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও সম্মানিত কণ্ঠশিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

    আশা ভোঁসলের সংগীত ক্যারিয়ার শুরু ১৯৪৩ সালে, এবং আট দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি সংগীতপ্রেমীদের মন জয় করেছেন। তাঁর জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে ‘দম মারো দম’, ‘চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে’, ‘পিয়া তু আজা’, আর গীতিকারদের জন্য দীর্ঘতর আধুনিক মেলোডিয়াস গান ‘দিল চিজ কেয়া হ্যায়’। গিনেস বুকের রেকর্ড অনুযায়ী, আশা ভোঁসলে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি স্টুডিও রেকর্ড করা শিল্পী।

  • প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই

    প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই

    ভারতের খ্যাতনামা সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলে আজ রোববার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তিনি মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিলেন। তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। আশা ভোঁসলের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন তার ছেলে আনন্দ ভোঁসলে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি, হিন্দুস্তান টাইমস এবং আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যার পর থেকে তিনি অস্বস্তি অনুভব করেছিলেন। পরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার দুপুরে তিনি মারা যান। আশা ভোঁসলের নাতনি জানাই ভোঁসলে ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, ‘আমার দাদি আশা ভোঁসলে অতিরিক্ত ক্লান্তি ও বুকে সংক্রমণের কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আমরা সবাই তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি সম্মান জানাচ্ছি। তার চিকিৎসা চলছে আর আমরা আশাবাদী খুব শিগগিরই সব কিছু স্বাভাবিক হবে। আশা করছি খুব দ্রুত ইতিবাচক খবর জানাতে পারব।’ আশা ভোঁসলের জন্ম ১৯৩৩ সালে। তিনি ভারতের সংগীতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। কয়েক দশক ধরে তার কণ্ঠে গাওয়া অসংখ্য জনপ্রিয় গান শ্রোতাদের মন জয় করে এসেছে। শনিবার হাসপাতালে ভর্তির খবর প্রকাশের পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজের এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্টে শোকপ্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘আশা ভোঁসলে হাসপাতালে ভর্তি খবর শুনে আমি গভীর উদ্বিগ্ন। তার দ্রুত সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছি।’ আশা ভোঁসলে ভারতের অন্যতম আইকনিক ও বহুমুখী প্লেব্যাক সঙ্গীতশিল্পী। তাঁর ক্যারিয়ার প্রায় আট দশক ধরে চলেছে, যেখানে তিনি হিন্দি ছাড়াও বিভিন্ন ভারতীয় ভাষা ও বিদেশি ভাষায় হাজার হাজার গান রেকর্ড করেছেন। শাস্ত্রীয় সংগীত, লোকসংগীত, পপ ও গজল—বিভিন্ন ধরণের সংগীতের সঙ্গে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। তার এই বহুমুখীতা তাঁকে ভারতের সংগীত ইতিহাসে অনন্য স্থান করে দিয়েছে। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন, যার মধ্যে ছয় বার রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার’, ‘পদ্মবিভূষণ’ ও অন্যান্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও ফিল্মফেয়ার পুরস্কার অন্যতম। তিনি ভারতের সর্বকালের অন্যতম সেরা ও সর্বাধিক সম্মানিত প্লেব্যাক গায়কদের একজন। ১৯৪০-এর দশকে তার সংগীতজীবন শুরু হয়, যা সংগ্রামের সময়েও অব্যাহত ছিল। বড় বোন লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে তার সাংগঠনিক ও শিল্পীজীবনের পথচলা শুরু হলেও, ১৯৫০ দশকে সুরকার ওপি নায়ারের সঙ্গে কাজ করে তিনি আলাদা জনপ্রিয়তা পান। পরে আরডি বর্মণের সঙ্গে তার কাজ ভারতীয় সংগীতের নতুন ধারা সৃষ্টি করে, যেখানে আধুনিকতা ও পাশ্চাত্য প্রভাবের সঙ্গে পরীক্ষামূলক সুরের সংমিশ্রণ দেখা যায়। আশা ভোঁসলে বিভিন্ন ধরনের গান গাইতে পারতেন—ক্ল্যাসিক্যাল, গজল, পপ, ক্যাবারে, লোকগানসহ নানা একটি রঙিন সংগীতজগা। তার কণ্ঠে জনপ্রিয় গান ‘পিয়া তু আব তো আজা’, ‘দম মারো দম’, ‘ইন আঁখো কি মস্তি’ ইত্যাদি আজও কালজয়ী। লাখ লাখ গান তিনি রেকর্ড করেছেন, শুধুমাত্র হিন্দি নয়, বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষা ও আন্তর্জাতিক ভাষাতেও। তার ক্যারিয়ারে তিনি বহু পুরস্কার পেয়েছেন, যার মধ্যে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও ভারতের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান পদ্মবিভূষণ অন্যতম। সাত দশকের অধিক দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি প্রমাণ করেছেন, জনপ্রিয়তা কেবল সময়ের ফসল নয়, এটি এক দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব—যা সময়ের আবর্তে টিকে থাকে এবং আমাদের সাংস্কৃতিক স্মৃতি সমৃদ্ধ করে রেখেছে।

  • আশা ভোঁসলের শেষকৃত্য কবে জানালো পরিবার

    আশা ভোঁসলের শেষকৃত্য কবে জানালো পরিবার

    প্রিয় সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলের মৃত্যুর খবর সবাইকে গভীর শোকের সাগরে ভাসিয়ে দিয়েছে। দীর্ঘ আট দশকেরও বেশি সময় ধরে সুরের জাদুতে কোটি কোটি ভক্তের হৃদয় জয় করেছেন তিনি। রোববার (১২ এপ্রিল) মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালের চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৯২ বছর।

    হাসপাতালের সূত্র ও পরিবারের নিশ্চিত করেছেন যে, বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতার কারণে আশা ভোঁসলে পরলোক গমণ করেন। তাঁর ছেলে আনন্দ ভোঁসলে জানান, আগামী সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকাল ৪টায় শিবাজি পার্কে তাঁর শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আরও জানিয়েছেন, সোমবার সকাল ১১টায় মুম্বাইয়ের কাসা গ্রান্ডে নামে তাঁর নিজ বাসভবনে মরদেহ রাখা হবে, যেখানে ভক্ত ও শুভাঙ্ক্ষীরা আসতে পারবেন শেষ শ্রদ্ধা জানাতে। এর পরে বিকেলে শিবাজি পার্কে তাঁর দেহের শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।

    আশা ভোঁসলের দীর্ঘ সংগীত জীবন মহৎ অর্জনে পরিপূর্ণ। তিনি প্রায় ১২ হাজারের বেশি গান রেকর্ড করেছেন। পারিবারিক জীবন থেকেই শুরু করে মিনা কুমারী, মধুবালা থেকে শুরু করে কাজল এবং ঊর্মিলা মাতন্ডকর— সব প্রজন্মের নায়িকা কিংবা গীতিকারদের সঙ্গে কাজ করেছেন। বহুমুখী প্রতিভার এই শিল্পী গজল, পপ সহ ক্ল্যাসিকাল ধারার গানেও সমান পারদর্শী ছিলেন।

    ১৯৪৩ সালে তিনি সংগীতজীবনের সূচনা করেন, এরপর থেকে অনেক জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন। ‘দম মারো দম’, ‘চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে’, ‘পিয়া তো আব তো আজা’ থেকে শুরু করে সিনেমার বিশাল হিট ‘দিল চিজ কিেয়া হ্যায়’-এর মতো অনেক গান তাঁর কণ্ঠে সুপরিচিত। গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অনুসারে, তিনি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি স্টুডিও রেকর্ড করা শিল্পী।

    হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে তাঁর অসামান্য অবদানের জন্য পেয়েছেন দুই বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, দাদা সাহেব ফালকে পুরস্কার ও পদ্মভূষণ। তাঁর এই ক্যারিয়ার ও কৃতিত্ব বাঙালি সংগীতপ্রেমীদের জন্য অমলিন স্মৃতি হয়ে থাকবে।

  • আশা ভোঁসলের মৃত্যুতে শোকের ছায়া তুলেছেন রুনা লায়লা

    আশা ভোঁসলের মৃত্যুতে শোকের ছায়া তুলেছেন রুনা লায়লা

    ভারতের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলে রোববার চিকিৎসাধীন অবস্থায় পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চিরতরে চলে গেছেন। তার মৃত্যুতে সঙ্গীত অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও জনপ্রিয় শিল্পী রুনা লায়লা তার এই দুঃখজনক খবর প্রকাশ করেন। তিনি বললেন, “পৃথিবীর দুই বৃহৎ কিংবদন্তি শিল্পী একে একে চলে গেছে। লতা মঙ্গেশকর দিদি ২০২২ সালে চলে গেছেন, আর এখন আশা দিদির বিদায়। এমন অসাধারণ একজন শিল্পী আর এই পৃথিবীতে আর কখনো দেখা যাবে না। আমার মনে হয়, আমার পৃথিবী এখন সম্পূর্ণ শূন্য হয়ে গেছে।”

  • খুলনায় প্রাইম ব্যাংক জাতীয় স্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন

    খুলনায় প্রাইম ব্যাংক জাতীয় স্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন

    খুলনায় প্রাইম ব্যাংক জাতীয় স্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৫-২০২৬ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে এই মহাযজ্ঞের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন সম্পন্ন হয়। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের তত্ত¡াবধানে এবং খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার যৌথ আয়োজনের এই প্রতিযোগিতা তরুণ ক্রিকেটারদের মধ্যে প্রতিভা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন আয়োজকরা।
    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মোল­া খায়রুল ইসলাম, যা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মূল অঙ্গ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাইম ব্যাংক পিএলসি, খুলনা শাখার এসএভিপি ও শাখা প্রধান মোঃ নাহিদুল ইসলাম। এছাড়াও ছিলেন বিশেষ অতিথি তাজবীন আলম খান, যিনি প্রাইম ব্যাংক পিএলসি, দৌলতপুর শাখার এসএভিপি ও শাখা প্রধান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আরও অনেক কোচ, শিক্ষক ও কর্মকর্তারা, যেমন- শাহ্ আসিফ হোসেন রিংকু, এসএম জাকির হোসেন রিপন, মোঃ বেলাল হোসেন, বিভাগীয় কোচ মোঃ মনোয়ার আলী মনু, জেলা কোচ মোঃ সামছুল আলম রনি, আজিজুর রহমান জুয়েলসহ বিভিন্ন স্কুলের প্রতিনিধিরা।
    উদ্বোধনী দিনে খেলোয়াড়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্যণীয় ছিল এবং পুরো অনুষ্ঠান প্রাণবন্ত পরিবেশে চলে। উদ্বোধনী ম্যাচে গাজী মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ইসলামাবাদ কলেজিয়েট স্কুল মুখোমুখি হয়। এই ম্যাচ শুরুতেই দর্শকদের মন জয় করে নেয়, যা এই টুর্নামেন্টের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে দেখা গেছে।

  • আর্জেন্টিনার ৫৫ সদস্যের বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা, কারা থাকছেন সম্ভাব্য চূড়ান্ত দলে

    আর্জেন্টিনার ৫৫ সদস্যের বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা, কারা থাকছেন সম্ভাব্য চূড়ান্ত দলে

    মাত্র দু’মাসের মধ্যেই শুরু হবে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতার জন্য আর্জেন্টিনা ইতিমধ্যে নিজেদের স্কোয়াড প্রস্তুত করছে। কোচ লিওনেল স্কালোনি তার পরিকল্পনা অনুযায়ী দলের জন্য ৫৫ জনের এক প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করেছেন। এই দীর্ঘ তালিকা থেকে বেছে নেওয়া হবে চূড়ান্ত ২৬ খেলোয়াড়, যারা যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত এই বিশ্বমঞ্চে আওয়াজ তুলবেন আর্জেন্টিনার জন্য। ইতিমধ্যে এই চূড়ান্ত তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিয়েছে দেশটির ফুটবল সংস্থা, যা বিভিন্ন মিডিয়া যেমন টিওয়াইসি স্পোর্টসের রিপোর্টে প্রকাশিত হয়েছে।

    স্কালোনি শুধু তার বর্তমান তারকাদের ওপর ভরসা করছেন না, তিনি ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় তরুণ প্রতিভাদেরও সুযোগ দিচ্ছেন। সম্প্রতি একটি সংবাদ সম্মেলনে কোচ নিজেই জানিয়েছেন, তিনি এএফএ-কে ৫৫ জনের একটি তালিকা দিয়েছিলেন, যেখানে একাধিক তারকা ও ভবিষ্যতের আশা জাগানিয়া খেলোয়াড়ের নাম রয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, ২৬ জনের মধ্যে ২২ জনের নাম প্রায় চূড়ান্ত হলেও, এখনও কিছু স্পটের জন্য তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে। চূড়ান্ত দলে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য প্রতিযোগিতা চললেও, কিছু বড় তারকা যেমন লিওনেল মেসি, লাউতারো মার্টিনেজ, গেরোনিমো রুল্লি সহ আরও বেশ কিছু অভিজ্ঞ খেলোয়াড় নিশ্চিতভাবেই থাকছেন।

    আশ্চর্যজনকভাবে, কিছু নতুন প্রতিভাও এই সুযোগের অপেক্ষায়। বিশেষ পজিশনে তারা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে, চোট বা খারাপ ফর্ম দেখা দিলে এরা সুযোগ পেতে পারেন।

    চূড়ান্ত দলটি গড়ে তোলার জন্য স্কালোনিকে এখন তার খেলোয়াড়দের ফর্ম এবং ফিটনেসের ওপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বিশ্বকাপের আগেই সবাই দেখবেন, কে আটকা পড়বেন দল থেকে, আর কে থাকবেন চূড়ান্ত দলে। আর্জেন্টিনার লক্ষ্য, তাদের চ্যাম্পিয়ন ট্রফি ধরে রাখা, যার জন্য প্রস্তুতিতে যাবতীয় নজর দেওয়া হচ্ছে। এই দুটি মাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই সময়ই স্কালোনি চূড়ান্ত স্কোয়াড নির্বাচন করবেন এবং দল গুছিয়ে নেবেন। পুরো দেশ এখন তীর্থের মরশুমে, যেখানে প্রত্যাশা অনেক। তাতে করে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ অভিযান যেন এক অনন্য যাত্রায় পরিণত হয় সেটাই প্রত্যাশা।

  • প্রাইম ব্যাংক জাতীয় স্কুল ক্রিকেটে কলেজিয়েট স্কুলের জয়

    প্রাইম ব্যাংক জাতীয় স্কুল ক্রিকেটে কলেজিয়েট স্কুলের জয়

    প্রাইম ব্যাংক জাতীয় স্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্টে খুলনা কলেজিয়েট স্কুলের জয় দেখানো হয়েছে। রোববার খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে তারা বড় ব্যবধানে, ৯৯ রানে, বিজয়ী হয় খুলনা জিলা স্কুলকে পরাজিত করে। খেলা শুরুতে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে, কলেজিয়েট স্কুলের ইনিংস ৪২.২ ওভারে ১৫৩ রানে সমাপ্ত হয়। দলীয় সর্বোচ্চ ৩০ রান করেন মাশরাফি, পাশাপাশি ২৫ রানে অপরাজিত থাকেন সাহিল। অতিরিক্ত রান আসে ২২, আর জিলা স্কুলের আবরার একাই দুটি উইকেট গ্রহণ করেন। লক্ষ্য পূরণের জন্য খেলে যায় জিলা স্কুল, কিন্তু সানি তার ৪ উইকেটের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে মাত্র ৫৪ রানে অল আউট করে। দলটির চারজন ব্যাটসম্যান শূন্যরানে আউট হন। সর্বোচ্চ ১৬ রান করে মুয়াজ। এই খেলার পরিচালনা করেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও বিশ্বনাথ হালদার। আগামীকাল সোমবার বেলফুলিয়া ইসলামিয়া উচ্চবিদ্যালয় ও লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজ মুখোমুখি হবে।

  • খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

    খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও চর্চা বিভাগের আয়োজনে রোববার অনুষ্ঠিত হয় বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৬। এই ভিশন মূলক ইভেন্টের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান বিকাল ৫টায় অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ২০টি ইভেন্টে অংশ নেওয়া বিজয়ীদের মধ্যে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম। তিনি বলেন, খেলাধুলায় অংশগ্রহণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে এবং শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বগুণ বিকাশে সাহায্য করে। তিনি আরও বলেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ তাদের ব্যক্তিত্বের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উপাচার্য আরও উল্লেখ করেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আরও বেশি সংখ্যক জাতীয় পর্যায়ের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য উদ্বুদ্ধ করা উচিত। অনুষ্ঠান শেষে তিনি অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানান। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিবিদ্যা স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ আশরাফুল আলম। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন রেজিস্ট্রার (অ্যাপয়েন্টেড) ও শারীরিক শিক্ষা ও চর্চা বিভাগের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ড. এস এম মাহবুবুর রহমান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শারীরিক শিক্ষা ও চর্চা বিভাগের উপ-পরিচালক এস এম জাকির হোসেন। এবারের প্রতিযোগিতায় ছাত্রীদের দলগত ইভেন্টে স্থাপত্য ডিসিপ্লিন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। ছাত্রদের ব্যক্তিগত ইভেন্টে যৌথভাবে রসায়ন ডিসিপ্লিনের অনিক গোলদার এবং ফার্মেসি ডিসিপ্লিনের সম্রাট চ্যাম্পিয়ন হন। অন্যদিকে, ছাত্রীদের ব্যক্তিগত ইভেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন সাজিয়া মাহিন মিথী, যারা শিক্ষা ডিসিপ্লিনে অংশগ্রহণ করে। এর আগে সকাল ১০টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম বেলুন, ফেস্টুন উড়িয়ে ও পায়রা উড়িয়ে এই প্রতিযোগিদের শুভ সূচনা করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডিন প্রফেসর ড. মোঃ আশরাফুল আলম এবং অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকতারা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ফিশারিজ এন্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের শুভদীপ গোলদার ও এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স ডিসিপ্লিনের অনিন্দিতা বিশ্বাস।