Blog

  • বিসিবি আইসিসির বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটির হস্তক্ষেপ চায়

    বিসিবি আইসিসির বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটির হস্তক্ষেপ চায়

    আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো ভারতে না করে অন্য দেশে আয়োজনের দাবি নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আবারও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) দ্বারস্থ হয়েছে। বোর্ডটি তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে আইসিসিকে অনুরোধ করেছে যেন বিষয়টি স্বাধীন বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটি (ডিআরসি)-তে পাঠানো হয়।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া জানিয়েছে, বিসিবি এ বিষয়ে আইসিসিকে একটি চিঠি পাঠিয়েছে এবং মঞ্চ পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার পক্ষপাতী হয়ে তর্ক তুলে ধরেছে। বিসিবি বিশেষ করে চান যে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো নির্ধারিত ভারতীয় ভেন্যুগুলোতে না হয়ে অন্য কোনো দেশে অনুষ্ঠিত হোক।

    আইসিসির স্বাধীন সালিশি সংস্থা ডিআরসি সদস্য বোর্ড, আইসিসি কিংবা খেলোয়াড় ও কর্মকর্তা-ব্যবস্থার মধ্যে সৃষ্টি হওয়া বিরোধ নিষ্পত্তিতে ভূমিকা রাখে। সাধারণত অভ্যন্তরীণ সব প্রসেস শেষ হওয়ার পরই এই কমিটি হস্তক্ষেপ করে; বিসিবি আশা করে, তাদের আবেদন গ্রহণ করলে আইসিসি বিষয়টি ডিআরসিতে পাঠাবে।

    এর আগে বোর্ড সভার পর আইসিসি ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ খারিজ করে দিয়েছে এবং টুর্নামেন্টের সূচি অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত জানায়। একই সময়ে আইসিসি বিসিবিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জানান দিতে বলেছে যে বাংলাদেশ দল কীভাবে এই পরিস্থিতিতে অংশগ্রহণ করবে, সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    আইসিসির সিদ্ধান্তের পর বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, তারা বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সবরকম চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। তিনি জানান, শ্রীলঙ্কায় খেলার বিকল্পের ব্যাপারে তারা এখনও আশাবাদী এবং এই দাবিতে হাল ছাড়ছে না।

    বিসিবি এবং আইসিসির মধ্যে চলমান এই কূটনীতি আগামী কয়েকদিনে টুর্নামেন্ট অংশগ্রহণ ও ভেন্যু চূড়ান্ত করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে—বিশেষত এমন সময়ে যখন সময় সীমিত এবং প্রতিযোগিতার সূচি আগে থেকেই ঘোষণা করা রয়েছে।

  • ঢালিউডের কিংবদন্তি ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের কিংবদন্তি ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের প্রখ্যাত নায়ক ও নৃত্যশিল্পী ইলিয়াস জাভেদ জীবনবোধ থেকে বিদায় করেছেন। দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে ভুগে ৮২ বছর বয়সে আজ (সোমবার) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তিনি মারা যান (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

    মৃত্যুর বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান। তথ্য অনুযায়ী, ইলিয়াস জাভেদ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন এবং গতবছরের এপ্রিলেও তিনি হাসপাতালের চিকিৎসা নিয়েছিলেন। কিছু দিন ধরে বাড়িতে শয্যাশায়ীভাবে চিকিৎসা চলছিল।

    সংবাদমাধ্যমকে জানাচ্ছেন তার স্ত্রী ডলি চৌধুরী, আজ সকালে তাঁর স্বামীর শারীরিক অবস্থা হঠাৎ করেই মারাত্মকভাবে অবনতি ঘটে। বাড়িতে থাকা অবস্থায় চিকিৎসক এবং দুজন নার্স কয়েকদিন ধরে তাঁর পরিচর্যা করছিলেন। আজ সকালে নার্সরা জানান তাঁর শরীর ঠান্ডা হয়ে গেছে। এরপর অ্যাম্বুলেন্স ডেকে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ইলিয়াস জাভেদ ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়ারে জন্মগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে পরিবারের সঙ্গে পাঞ্জাবে চলে গেলেও শেষ পর্যন্ত তিনি ঢাকার চলচ্চিত্র অঙ্গনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। ১৯৬৪ সালে উর্দু সিনেমা ‘নয়ী জিন্দেগি’ দিয়ে রুপালি পর্দায় তাঁর অভিনয়ের সূচনা। তবে ১৯৬৬ সালের ‘পায়েল’ ছবিতে শাবানার সঙ্গে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি বড়পর্দায় খ্যাতি পান; পরিচালক মুস্তাফিজই তাকে ‘জাভেদ’ নামটি দেন।

    জাভেদ নৃত্য পরিচালক হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন এবং পরে নায়ক হিসেবেও জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। দর্শকের হৃদয়ে তিনি ‘ড্যানসিং হিরো’ হিসেবে বিশেষ স্থান করে নেন—সত্তরের ও আশির দশকে তাঁর নাচ-বলো ও অ্যাকশনের মেশানো অনবদ্য ধরনে কোটি দর্শক মুগ্ধ ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ১৯৮৪ সালে জনপ্রিয় নায়িকা ডলি চৌধুরীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। পুরো ক্যারিয়ারে তিনি শতাধিক চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন।

    ইলিয়াস জাভেদের উল্লেখযোগ্য ছবিগুলো হলো: ‘নয়ী জিন্দেগি’, ‘পায়েল’, ‘মালেকা বানু’, ‘নিশান’, ‘পাপী শত্রু’, ‘রক্ত শপথ’, ‘সাহেব বিবি গোলাম’, ‘কাজল রেখা’, ‘অনেক দিন আগে’, ‘আজও ভুলিনি’, ‘কঠোর’, ‘মা বাবা সন্তান’, ‘রাখাল রাজা’, ‘রসের বাইদানী’, ‘জীবন সঙ্গী’ ও ‘আব্দুল্লাহ’।

    ইলিয়াস জাভেদের প্রয়াণ বাংলা চলচ্চিত্রের এক অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন কঠোর রোগঝঞ্ঝাটের মধ্যে থেকেও তিনি সঙ্গীত ও নৃত্যের মাধ্যমে দর্শকদের আনন্দ দিয়েছেন—তার এই অবদান চলচ্চিত্রপ্রেমীদের স্মৃতিতে দীর্ঘদিন টিকে থাকবে।

  • চিত্রনায়িকা জয়শ্রী কবির আর নেই

    চিত্রনায়িকা জয়শ্রী কবির আর নেই

    দুই বাংলার প্রাক্তন জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা জয়শ্রী কবির আর নেই। তিনি ১২ জানুয়ারি যুক্তরাজ্যের লন্ডনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।

    জয়শ্রী কবিরের মৃত্যুর খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান তার ভাগ্নে জাভেদ মাহমুদ। তিনি জানিয়েছেন, আমার মামি জয়শ্রী কবির দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনে অসুস্থ ছিলেন। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যায়নি।

    জাভেদ মাহমুদ বলেন, ‘‘আমার মামি ছিলেন বিখ্যাত নায়িকা এবং এক সময়ের ‘মিস ক্যালকাটা’। তিনি সত্যজিৎ রায়ের চলচ্চিত্র ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ এবং আলমগীর কবিরের ‘সীমানা পেরিয়ে’, ‘রুপালী সৈকতে’, ‘সূর্য কন্যা’ প্রভৃতির মতো চলচ্চিত্রে নায়িকা হিসেবে অভিনয় করেছেন।’’

    জয়শ্রী কবির ১৯৫২ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। পারিবারিক নাম জয়শ্রী রায়; শিক্ষাজীবনও কাটে সেখানেই—তিনি সাউথ পয়েন্ট স্কুলে পড়াশোনা করেছেন। ১৯৬৮ সালে ‘মিস ক্যালকাটা’ হিসেবে পরিচিতি পান এবং ১৯৭০ সালে সত্যজিৎ রায়ের ছবিতে অভিনয় করে চলচ্চিত্রে পা রাখেন। ১৯৭৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘অসাধারণ’ ছবিতে তিনি উত্তম কুমারের বিপরীতে অভিনয় করেন।

    পরবর্তীতে জয়শ্রী কবির বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে কাজ করে খ্যাতি অর্জন করেন। বাংলাদেশের বিশিষ্ট পরিচালক আলমগীর কবিরের কয়েকটি ছবিতে তিনি প্রধান ভূমিকায় দেখেন—সেগুলোর মধ্যে ‘সীমানা পেরিয়ে’, ‘রুপালি সৈকতে’, ‘সূর্য কন্যা’ ও ‘মোহনা’ উল্লেখযোগ্য।

    ১৯৭৫ সালে তিনি আলমগীর কবিরের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। দাম্পত্য জীবন বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি; কয়েক বছরে সংসারে টানাপোড়েন শুরু হয় এবং পরবর্তীতে তারা বিচ্ছেদ করে। এই সংসারে তাদের এক পুত্র সন্তান—লেনিন সৌরভ কবির—আছেন। বিবাহবিচ্ছেদের পর জয়শ্রী শুরুতে কলকাতায় ফিরে যান এবং পরে স্থায়ীভাবে লন্ডনে যান। সেখানে তিনি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যের শিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন এবং দীর্ঘদিন বসবাস করেছেন।

    প্রায় এক দশক আগে তিনি ঢাকায় একবার এসেছিলেন; এরপর থেকে তাকে দেশে দেখা যায়নি। শিল্পজীবনে বাংলাদেশের ও ভারতের চলচ্চিত্রের মাঝেই তিনি স্বতন্ত্র পরিচয় গড়েছেন। তার মৃত্যুতে চলচ্চিত্রপ্রেমী ও সহকর্মীরা শোক জানিয়েছে।

  • ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের ‘ড্যান্সিং হিরো’ ইলিয়াস জাভেদ আর নেই

    ঢালিউডের সোনালি দিনের পরিচিত নায়ক ও কালজয়ী নৃত্যশিল্পী ইলিয়াস জাভেদ মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করার পর আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি ছিলেন ৮২ বছর বয়সী।

    মৃত্যুর বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান। ১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়ারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন ইলিয়াস জাভেদ। পরে পরিবারসহ পাঞ্জাবে চলে গেলেও পরবর্তীতে তিনি ঢাকার চলচ্চিত্র অঙ্গনে এসে স্থায়ী হয়ে যান।

    জানা গেছে, অনেক বছর ধরে ক্যানসারসহ নানা রকম শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। গত বছরের এপ্রিলেও হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। কয়েক মাস ধরে হাসপাতালের সহায়তায় এবং পরে বাসায় রেখে চিকিৎসাসেবা চলছিল।

    সংবাদমাধ্যমকে স্ত্রী ডলি চৌধুরী বলেন, আজ সকালের দিকে তাঁর শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে। বাড়িতে থাকা অবস্থায় চিকিৎসক ও দুই নার্স এসে দিনের পর দিন দেখাশোনা করছিলেন। আজ সকালে নার্স দু’জন এসে জানান, তাঁর শরীর পুরোপুরি ঠান্ডা। এরপর অ্যাম্বুলেন্স ডেকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ইলিয়াস জাভেদের অভিনয়জীবন শুরু হয় ১৯৬৪ সালে উর্দু সিনেমা ‘নয়ী জিন্দেগি’র মাধ্যমে নায়কের ভূমিকায়। তবে বড় পর্দায় খ্যাতি পান ১৯৬৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘পায়েল’ ছবির মাধ্যমে; সেখানে তাঁর বিপরীতে ছিলেন কিংবদন্তি নায়িকা শাবানা। পরিচালক মুস্তাফিজই পরবর্তীতে তাকে ‘জাভেদ’ নামে পরিচিত করেন।

    নৃত্য পরিচালনা দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক হলেও পরে নায়ক হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান তিনি। একের পর এক ব্যবসাসফল ছবিতে নাচ ও অ্যাকশনের অনবতিত মিশ্রণে দর্শকদের হৃদয়ে ‘ড্যান্সিং হিরো’ হিসেবেই স্থায়ী জায়গা করে নেন। ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৮৪ সালে তিনি জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা ডলি চৌধুরীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। মোটে শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।

    জাভেদের কিছু স্মরণীয় চলচ্চিত্রের মধ্যে আছে: ‘মালেকা বানু’, ‘নিশান’, ‘পাপী শত্রু’, ‘রক্ত শপথ’, ‘সাহেব বিবি গোলাম’, ‘কাজল রেখা’, ‘অনেক দিন আগে’, ‘আজও ভুলিনি’, ‘কঠোর’, ‘মা বাবা সন্তান’, ‘রাখাল রাজা’, ‘রসের বাইদানী’, ‘জীবন সঙ্গী’ ও ‘আব্দুল্লাহ’।

    ইলিয়াস জাভেদের প্রয়াণকে বহু দর্শক ও কলাবিলাসী বাংলা চলচ্চিত্রের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি বলে মনে করছেন। দীর্ঘদিন নীরবে চিকিৎসা নিয়ে ছিলেন এই গুণী শিল্পী; তাঁর চলে যাওয়া চলচ্চিত্র ও শিল্পাঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। প্রতি শ্রদ্ধা ও শোক জানাই।

  • চিত্রনায়িকা জয়শ্রী কবির আর নেই

    চিত্রনায়িকা জয়শ্রী কবির আর নেই

    দুই বাংলার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা জয়শ্রী কবির আর নেই। তিনি ১২ জানুয়ারি যুক্তরাজ্যের লন্ডনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর।

    মৃত্যুর সংবাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান তার ভাগ্নে জাভেদ মাহমুদ। তিনি বলেন, “আমার মামি, এককালের খ্যাতনামা নায়িকা জয়শ্রী কবির লন্ডনে মারা গেছেন। উনি সত্যজিৎ রায়ের চলচ্চিত্র ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’-এ ও আলমগীর কবির পরিচালিত ‘সীমানা পেরিয়ে’, ‘রুপালী সৈকতে’, ‘সূর্য কন্যা’ প্রভৃতি ছবিতে নায়িকা ছিলেন।”

    জয়শ্রী কবিরের মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। তবে জাভেদ মাহমুদ জানিয়েছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনে অসুস্থ ছিলেন।

    জয়শ্রী কবির বহু বছর লন্ডনে বসবাস করছিলেন। সেখানে তিনি এক বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্য বিভাগে শিক্ষকতা করতেন। প্রায় এক দশক আগে তিনি ঢাকায় কয়েকবার এসেছিলেন; এরপর থেকে বাংলাদেশের কাঁধে তাকে আর দেখা যায়নি।

    জয়শ্রী কবিরের জন্ম ১৯৫২ সালে কলকাতায়। পারিবারিক নাম জয়শ্রী রায়। শৈশব-কৈশোর Kolkata-তেই কেটেছে; তিনি সাউথ পয়েন্ট স্কুলে পড়াশোনা করেন। ১৯৬৮ সালে ‘মিস ক্যালকাটা’ হিসেবে খেতাব অর্জন করে মিডিয়া ও বিনোদন জগতে মনোযোগ আকর্ষণ করেন।

    চলচ্চিত্রে তার অভিষেক ঘটে ১৯৭০ সালে সত্যজিৎ রায়ের ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ চলচ্চিত্রে। পরে ১৯৭৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘অসাধারণ’ ছবিতে উত্তম কুমারের সঙ্গে অভিনয় করেন। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে নিয়মিত কাজ করতে শুরু করে জনপ্রিয়তা পান এবং আলমগীর কবির পরিচালিত বেশ কয়েকটি ছবিতে প্রধান নায়িকা হিসেবে অভিনয় করেন। উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলো হলো ‘সীমানা পেরিয়ে’, ‘রুপালী সৈকতে’, ‘সূর্য কন্যা’ ও ‘মোহনা’।

    ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৭৫ সালে আলমগীর কবিরের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন জয়শ্রী। এ বিবাহ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি; প্রায় তিন বছরের মধ্যে দাম্পত্যে অনৈক্য সৃষ্টি হয় এবং পরে বিবাহ বিচ্ছেদের মাধ্যমে তারা আলাদা হন। তাদের সংসারে একটি পুত্র সন্তান রয়েছে—লেনিন সৌরভ কবির।

    বিচ্ছের পর জয়শ্রী প্রথমে কলকাতায় ফিরে যান, এরপর জীবনের একপর্যায়ে লন্ডন পাড়ি জমান এবং সেখানে ছেলে লেনিনকে নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

    চলচ্চিত্র ও সাহিত্য প্রেক্ষাপটে দুই বাংলার একটি সময়ে আলোচিত মুখ ছিলেন জয়শ্রী কবির। তার নান্দনিক উপস্থিতি ও অভিনয়শৈলী দর্শক-সমালোচকদের মধ্যে বিশেষ ছাপ রেখে গিয়েছে। পরিবারের প্রতি আমাদের সহমর্মিতা ও শ্রদ্ধা থাকবে।

  • আইসিসির আশায় বিসিবি সভাপতি: অলৌকিক ঘটনার প্রত্যাশা

    আইসিসির আশায় বিসিবি সভাপতি: অলৌকিক ঘটনার প্রত্যাশা

    বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল আইসিসির সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ যদি ভারতের বাইরে না খেলতে যায়, তবে তারা এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতা থেকে বাদ পড়বে। যদিও এর জন্য আগে থেকেই অনড় অবস্থানে থাকলেও, এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি বিসিবি। তারা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের শাসনকারী সংস্থার কাছ থেকে সময় চেয়ে নিয়েছেন, সরকারের সঙ্গে শেষবারের মত আলোচনা করে বিষয়টি সমাধান করতে চান। বিসিবি মনে করছেন, আইসিসির কাছ থেকে তারা যেন ‘অলৌকিক কিছু’ ঘটানোর আশায় আছেন।

    বুধবার (২১ জানুয়ারি) আইসিসির সঙ্গে এক ভিডিও বৈঠকের পর বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম জানান, বাংলাদেশ তাদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুনর্বিবেচনা করতে ভারতের বাইরে না খেলার ব্যাপারে আরও ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা সময় চেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি আইসিসিকে বলেছি, সরকারের সঙ্গে শেষবারের মতো আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে চাই। তারা এই অনুরোধে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে ২৪ বা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে চায়।’

    আমিনুলের মতে, বাংলাদেশে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনই অনুকূল নয়। তিনি বলেন, ‘আমাদের স্পষ্ট position হলো—ভারত আমাদের জন্য নিরাপদ নয়। তাই আমরা শ্রীলংকায় খেলার পক্ষে।’ তিনি আরও জানান, সরকারের প্রতিক্রিয়া পাওয়ার পরে তা আইসিসিকে জানানো হবে। বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশ অনেকটাই অভিপ্রেত, তবে এখন মূল বিষয়ে হলো নিরাপত্তার কারণেই সরকার কীভাবে সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি বলেন, ‘আসলে, ক্রিকেটাররা চান দেশের হয়ে খেলতে, সরকারও চায়। কিন্তু নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে সরকারের চিন্তা-ভাবনা গুরুত্ব পায়।

    এমন পরিস্থিতিতে, আইসিসির কাছ থেকে ‘অলৌকিক কিছু’ ঘটার জন্য তারা প্রত্যাশা করছেন। এছাড়া, ইএসপিএনক্রিকইনফো জানিয়েছে, বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে একমাত্র প্রতিনিধি ছিলেন আমিনুল ইসলাম। তারা বাংলাদেশ তাদের অবস্থান ব্যক্ত করলেও, গ্রুপ পরিবর্তনের প্রস্তাবগুলো গ্রহণ করেনি। বিসিবি আগামিতে আয়ারল্যান্ড বা জিম্বাবুয়ের সঙ্গে তাদের গ্রুপের স্থান বিবেচনা করেছিল, কিন্তু শ্রীলঙ্কা তাদের প্রস্তাব বিরত থেকেছে।

    বর্তমানে বাংলাদেশ রয়েছে গ্রুপ ‘সি’-তে, যেখানে অন্য খেলোয়াড়রা হলো ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নেপাল ও ইতালি। ঢাকায় প্রথম তিনটি ম্যাচ, আর শেষ ম্যাচটি মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ মুক্তির দিন ৭ ফেব্রুয়ারি, যেখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হবে।

    নিরাপত্তা ইস্যু শুরু হয় ৩ জানুয়ারি। ওই দিন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই কলকাতা নাইট রাইডার্সকে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দিতে বলেছিল, যদিও এর কারণ প্রকাশ করা হয়নি। ধারণা করা হয়, ভারত-বাংলাদেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের কিছু অবনতির জন্যই এই সিদ্ধান্ত আসে।

    পরের দিন, ৪ জানুয়ারি, বিসিবি সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করে জানায় যে, নিরাপত্তার কারণে বাংলাদেশ দলের ভারতে যাওয়া সম্ভব নয়। তারপর বিভিন্ন বৈঠক হলেও, বোর্ডের অবস্থানে কোনও পরিবর্তন হয়নি। তবে আইসিসি মোস্তাফিজের ইস্যুকে বিশ্বকাপের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত ধরছেন না। সংস্থার মতে, একটি ঘরোয়া লীগের খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণের ঘটনার সাথে বিশ্বকাপের নিরাপত্তা চিত্রের কোনও সম্পর্ক নেই।

    বিসিবি এখন সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করছে। সময় খুবই কম থাকায়, সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না হলে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার শঙ্কা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে, বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ড পুরোপুরি নির্ভর করে সরকারের সিদ্ধান্তের উপর। যদি দ্রুত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না হয়, তবে বাংলাদেশ ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা গাঢ় হয়ে উঠছে।

  • বিশ্বকাপ নিয়ে বাংলাদেশের সিদ্ধান্তে জটিলতা সৃষ্টি

    বিশ্বকাপ নিয়ে বাংলাদেশের সিদ্ধান্তে জটিলতা সৃষ্টি

    বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে চলছে তুমুল বিতর্ক। নিরাপত্তা শঙ্কা দেখিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, দল ভারতে গিয়ে এবারের বিশ্বকাপ খেলবে না। তবে আইসিসি (আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল) এই সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ। তারা স্পষ্ট জানিয়েছে, খেলতে হলে ক্রিকেটাররা অবশ্যই ভারতে উপস্থিত হতে হবে, এবং সূচিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না। এমনকি বাংলাদেশের জন্য এক দিনের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে বলা হয়েছে, নইলে অন্য কোনো দল—যেমন স্কটল্যান্ড—কেঁদে উঠতে পারে।

    এই পরিস্থিতিতে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার একটি টেলিভিশন আলোচনায় বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া ২০০৩ সালের বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কা খেলতে গিয়েছিল না, ইংল্যান্ড জিম্বাবুয়েতে গিয়েছিল না, নিউজিল্যান্ড কানাডায় গিয়েছিল না—এগুলো কি তাদের ক্রিকেট বন্ধ করে দিয়েছে? ঠিক একইভাবে, যদি বাংলাদেশ এই বিশ্বকাপে না খেলে, তার মানে বাংলাদেশের ক্রিকেট বন্ধ হয়ে যাবে না।’

    অন্যদিকে, সরকার বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডেকেছে। আজ বিকেলে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এই বৈঠকে নিরাপত্তার পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    অতীতে, বিসিবি আইসিসিকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে যে নিরাপত্তার কারণে ভারতে গিয়ে খেলা সম্ভব নয়। তারা বাংলাদেশের ম্যাচগুলো অন্য কোনো দেশে—যেমন শ্রীলঙ্কা বা অন্য স্থান—আয়োজনের অনুরোধ করেছিল। কিন্তু আইসিসি তা প্রত্যাখ্যান করেছে, বলেছে, নিরাপত্তার ঝুঁকি দেখা যায়নি। এ কারণে সূচিতে পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়, এতে বিশ্বকাপের মর্যাদা ও স্বচ্ছতা ক্ষুণ্ন হবে বলে জানানো হয়েছে।

  • বাংলাদেশ খেলতে না পারলে বিশ্বকাপ বর্জনের সম্ভাবনা পাকিস্তানের

    বাংলাদেশ খেলতে না পারলে বিশ্বকাপ বর্জনের সম্ভাবনা পাকিস্তানের

    বাংলাদেশ যদি ২০২৬ আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় এবং ভারতে খেলতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে পাকিস্তান এই টুর্নামেন্ট বয়কট করতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ। শুক্রবার সংবাদমাধ্যমটি জানায়, নিরাপত্তাজনিত কারণে ম্যাচগুলো ভারত থেকে শ্রীলংকায় সরানোর আবেদন গ্রহণ না করলে বাংলাদেশ সরে যেতে পারে। এর ফলে, ২০০৯ সালের বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তানও একই পথে হাঁটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।সূত্র মতে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আজই (বৃহস্পতিবার) জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের সাথে আলোচনা করে ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় বিশ্বকাপ খেলানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। জানা গেছে, বেশ কিছু ক্রিকেটার এই অনুষ্ঠানে দেশের স্বার্থে শ্রীলঙ্কায় খেলার পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে বাংলাদেশ যদি নিজেদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে, তখন পাকিস্তানও একই সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলেও শোনা যাচ্ছে।সম্প্রতি ঢাকানিউজ ও দিল্লির মধ্যে সম্পর্কের চরম টানাপোড়েনের প্রভাব পড়েছে ক্রিকেটেও। আইপিএলের আসন্ন আসরেও বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়ায় দেশের ক্রিকেট কর্তৃপক্ষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। এরপরই বিসিবি আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের ঘোষণা দেয় এবং শ্রীলঙ্কায় নিজেদের ম্যাচ আয়োজনের জন্য জোরালো দাবি তোলে।আইসিসির সর্বশেষ বোর্ড মিটিংয়ে বাংলাদেশের আবেদন নাকচ করে দিয়ে জানানো হয়, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ভারতের বাইরে অন্য কোনও দেশে আয়োজন করা সম্ভব নয়। বার্তা দেয়া হয়, যদি নিরাপত্তার ঝুঁকি না থাকলেও সূচিতে পরিবর্তন আনা হলে ভবিষ্যৎ আইসিসি টুর্নামেন্টের জন্য এটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।এক দিন আগে, আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেয় যে, বাংলাদেশ তাদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরিত করার অনুরোধ করলেও সিদ্ধান্ত চূড়ান্তভাবে লৌহপ্রাচীর। বোর্ড ঘোষণা করে, ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত নির্ধারিত সূচিতে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে এবং বাংলাদেশের ম্যাচগুলোও সেখানে হওয়া বৈধ।বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম এক বিবৃতিতে বলেন, তিনি সরকারের সঙ্গে “শেষ আলোচনার” জন্য আইসিসির কাছ থেকে সময় চেয়েছেন। তিনি বলেন, “আইসিসি বলেছে এটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, এবং তারা আমাকে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা সময় দিয়েছে। আমরা সরাসরি ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় খেলতে চাই কারণ আমরা মনে করি, ভারত আমাদের জন্য নিরাপদ নয়।” তিনি আরো যোগ করেন, “আমরা সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি এবং আশা করি, কোন অবাক করে দেওয়া সমাধান আসতে পারে। আমাদের খেলোয়াড় ও সরকার সবাই চান বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলুক, তবে সিদ্ধান্ত নিতে সময় প্রয়োজন।”আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ভারতের কলকাতায় শুরু হচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। গ্রুপ ‘সি’-তে থাকা বাংলাদেশ এই সময়ে ৭ ফেব্রুয়ারি ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ৯ ফেব্রুয়ারি ইতালি এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে। শেষ ম্যাচটি ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ে নেপালের বিপক্ষে।আইসিসির সিদ্ধান্তের পর, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেন, “সরকার ও ক্রিকেট বোর্ডের শেষ সিদ্ধান্তের জন্য আমরা এখনো অপেক্ষা করছি। আমরা চাই শ্রীলঙ্কায় খেলতে, কারণ আমাদের নিরাপত্তা বিষয়ে এখনও সন্দেহ রয়েছে। আইসিসিকে আমরা আবারও বলেছি, আমাদের নিরাপত্তার জন্য দেশের পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা আশা করি, সরকারের মতামত দ্রুত আসবে। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ খেলোয়াড়, সরকার ও বোর্ড সব মিলিয়ে এমন পরিস্থিতিতে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হতো না যদি পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকত। আমরা আশা করি সরকার ও আইসিসি মিলিতভাবে একটি সমাধানে পৌঁছাবে যাতে সবাই খুশি।”

  • বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলতে চায়, তবে ভারতে নয়: বুলবুল

    বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলতে চায়, তবে ভারতে নয়: বুলবুল

    বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ড এখনো ভারতের নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের ব্যাপারে অনড় অবস্থান পালন করছে। আইসিসির বোর্ড সভায় বিসিবিকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয়ার পরও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাদের সিদ্ধান্তে অটল। বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলাম, ক্রীড়া উপদেস্টা ও কিছু ক্রিকেটারদের সাথে বৈঠকের পর জোর গলায় বলেছেন, বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলতে চায়, কিন্তু সেটা ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করতে চায়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, তারা এই সিদ্ধান্তে অটল থাকবেন এবং শ্রীলঙ্কায় খেলার জন্য লড়াই চালিয়ে যাবেন।

    গত বৃহস্পতিবার আইসিসি সভার পরিপ্রেক্ষিতে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘আমরা আবারও চেষ্টা করবো কি কি পথ রয়েছে তা আইসিসিকে জানাতে। বাংলাদেশ ক্রিকেট সম্পর্কে আমরা খুব গর্ববোধ করি, কিন্তু বিশ্বক্রিকেটের পরিস্থিতি নিয়ে আমরা দ্বিধায় আছি। আমাদের বিশ্বাস ছিল আইসিসি আমাদের আবেদন মেনে নিয়েছে। তবে এই পরিস্থিতিতে যখন আল্টিমেটাম দেয় হয়েছে, তখনও আমরা আমাদের সব চেষ্টা চালিয়ে যাবো।’

    বুলবুল আরও যোগ করেন, ‘বাংলাদেশের মতো ক্রিকেটপ্রেমী দেশ যদি এই বিশ্বকাপে না খেলে, তাহলে আইসিসির জন্য বড় একটা ক্ষতি হবে। যেখানে ভারত কমনওয়েলথ গেমসে অংশ নেওয়ার জন্য চেষ্টা করছে, সেখানে বাংলাদেশের মতো জনপ্রিয় ক্রিকেটপ্রিয় দেশের না খেলা জনসমর্থকদের জন্য মনঃক্ষুণ্ণকর আর বড় ব্যর্থতা হবে।’

    আইসিসি আলটিমেটাম দেয়ার পরও বুলবুল নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাবো, হাল ছাড়ছি না। আমরা আইসিসির সঙ্গে যোগাযোগ করবো আরও কিছু বিষয় নিয়ে যাতে আমাদের খেলোয়াড়রা বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারে।’

    অবশেষে, তিনি স্পষ্ট করে দেন, ‘আমাদের একটাই চাওয়া, আমরা বিশ্বকাপ খেলতে চাই। এই মুহূর্তে ভারতে যেতে চাই না। আমাদের দল প্রস্তুত। খেলার জন্য শ্রীলঙ্কায় যেতে হবে, সেখানে আমরা খেলতে আগ্রহী।’

  • ভারতে বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্তে অনড় বাংলাদেশ: যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা

    ভারতে বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্তে অনড় বাংলাদেশ: যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা

    গত কয়েক সপ্তাহের নাটকীয় ঘটনাপ্রবাহের পর বাংলাদেশ এখন দুটি সম্ভাব্য পথের মুখোমুখি। আইসিসি তাদেরকে বলেছে, বা ভারতে গিয়ে খেলতে হবে বা আবারও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। এই পরিস্থিতিতে, বাংলাদেশ এখনো ভারতের পরিবর্তে অন্য কোথাও খেলনোর বিকল্প খুঁজে পাওয়ার জন্য প্রস্তুত। তবে তারা আশা ছাড়ছে না; ক্রীড়া ও বোর্ডের কর্মকর্তারা এখনো অন্য কোনও ভেন্যুতে খেলার সুযোগ খুঁজতে আইসিসির সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন।

    আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিশ্বকাপের স্কোয়াডে থাকা ক্রিকেটারদের নিয়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও বিসিবির কর্মকর্তারা। পরে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে, উপদেষ্টা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলার সিদ্ধান্ত বদলানোর কোন সুযোগ নেই।

    তিনি বলেন, ভারতের পক্ষ থেকে মোস্তাফিজুর রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এরপর বাংলাদেশের সরকার মনে করছে, তাদের নিরাপত্তা ঝুঁকি এখনো কমে যায়নি। এক মাসের মধ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হবে—এমন কোনো আশ্বাসও আইসিসি দিতে পারেনি। তাই এই পরিস্থিতিতে তারা ভারতের পরিবর্তে অন্য ভেন্যু খুঁজে বের করতে উদ্যোগী থাকবেন।

    উপদেষ্টা আরও জানান, তারা আইসিসির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ চালিয়ে যাবেন যাতে বিকল্প ভেন্যু নির্ধারণে সাহায্য করে। তবে, ক্রিকেটারদের সঙ্গে হওয়া বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে সে বিষয়ে কিছু জানাতে চাননি; বললেন, এটিই তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়।

    নিজের মনোভাব ব্যক্ত করে উপদেষ্টা বলেন, আমি নিজেও একজন অতি বড় ক্রিকেট ভক্ত। আমার স্বপ্ন ছিল, বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করবে। কারণ, আমাদের ক্রিকেটাররা কঠোর পরিশ্রম করে এই পর্যায়ে এসেছেন। কিন্তু নিরাপত্তা ঝুঁকি এখানো অপরিবর্তিত থাকায়, সেটা কোনভাবেই পরিবর্তন হচ্ছে না। আমি মনে করি, ঠিক যেখানে মোস্তাফিজের নিরাপত্তার বিষয়টিতে আপত্তি করা হয়েছে, সেখানে অন্য খেলোয়াড়, সাংবাদিক বা দর্শকদের নিরাপত্তাও তেমন নিশ্চয়তা পাচ্ছে না।

    তিনি আরও বলেন, আইসিসি এই বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট উদ্যোগ বা নিশ্চিতকরণ দেয়নি। তারা মূল সমস্যা থেকে আলাদা থেকে গ্রাউন্ড স্ট্যান্ডার্ড নিরাপত্তা protocols নিয়ে আলোচনা করেছে। কিন্তু মূল ঘটনাটির উপর তাদের কোনো অবস্থান নেওয়া হয়নি। ভারত সরকারের পক্ষ থেকেও কোনো সন্তুষ্টি বা নিশ্চিতকরণ আসেনি। ফলে, বাংলাদেশ এই সিদ্ধান্তে অটল থাকছে যে, তারা ভারতে খেলবে না।

    উপদেষ্টা দাবি করেন, আইসিসি তাদের প্রকৃত সত্য বা পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে কোনো বিশ্বাসযোগ্য ব্যবস্থা বা আশ্বাস দেয়নি। এ কারণেই তারা মনে করে, ভারতের নিরাপত্তা এখনও সম্পূর্ণ চ্যালেঞ্জের মুখে। তিনি বলেন, মোস্তাফিজের ক্ষেত্রেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি ভারত, তাহলে বাংলাদেশের অন্য ক্রিকেটার বা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা কি হবে? এই প্রশ্নটি তাদের মনোযোগ আকর্ষণ করছে।

    এছাড়াও, তিনি জানান, আইসিসি মূল ঘটনা বা মোস্তাফিজের ঘটনাকে অপ্রাসঙ্গিক করে তার জাতীয় নিরাপত্তা স্ট্যান্ডার্ড নিয়ে আলোচনা করেছে, যা তারা সমর্থন করে না। মূল ঘটনাটির উপর কোনো অবস্থান বা সিদ্ধান্তে তারাও পৌঁছায়নি। ভারত সরকারের পক্ষ থেকেও এই ঘটনার ব্যাপারে বুঝাতে বা নিশ্চয়তা দিতে কোনো চেষ্টা হয়নি।

    সুতরাং, বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত প্রবলভাবে অটল—ভারতে না গিয়ে অন্য ভেন্যুতে খেলবে না। তারা আশা করছে, আইসিসি তাদের নিরাপত্তা বিষয়ক উদ্বেগ বিবেচনা করবে এবং শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হতে পারেন এমন বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। যেখানে নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলা করে ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।

    বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও অন্য কর্মকর্তারা বলছেন, তারা এখনও শ্রীলঙ্কাতেই বিশ্বকাপ খেলার জন্য লড়াই চালিয়ে যাবেন। মুস্তাফিজের আইপিএল থেকে বাদ পড়া প্রসঙ্গে, তিনি বলেছেন, এটাকে একান্তই উসকানি হিসেবে দেখানো ভুল। মুস্তাফিজ নিজে সরেননি, ইনজুরিও হয়নি—এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড তাদের এনওসি বাতিল করেনি। নিরাপত্তার আশঙ্কায় তাকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।

    তিনি আরও জানিয়েছেন, ১৯৯৬ ও ২০০৩ বিশ্বকাপে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি থাকায় অন্য ভেন্যুতে খেলতে হয়েছে। তাই তারা এখনও আশা করছেন, সম্ভব হলে বিকল্প ভেন্যুতে খেলার সুযোগ পাবেন। তারা আইসিসির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করে চলেছেন।

    বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে, ক্রিকেটাররা এখানে উপস্থিত ছিলেন এবং তাদের মতামত বা আলোচনায় এখনো স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি। তবে, তারা নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকলেও, ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট এই বিষয়গুলো মূলত আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে।