Blog

  • দুই দিন পেরিয়েও উদ্ধার হয়নি সুন্দরবনে দস্যুদের হাতে অপহৃত ১০ জেলে

    দুই দিন পেরিয়েও উদ্ধার হয়নি সুন্দরবনে দস্যুদের হাতে অপহৃত ১০ জেলে

    সুন্দরবনের গভীরে বন্দুকধারী দস্যুদের হামলায় অপহৃত হওয়া ১০ জেলের কোনো খোঁজ মেলেনি, দুই দিন পার করেও উদ্ধার অভিযানে এখনও সাফল্য আসেনি। স্থানীয়রা বলছেন, পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠা দুষ্কৃতীরা সুন্দরবনের নিরাপত্তারই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে।

    স্থানীয় ও প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) গভীর রাতে পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের আওতাধীন জিউধারা স্টেশন অঞ্চলের বরইতলা টহল ফাঁড়ি সংলগ্ন শুয়ারমারা খালে নৌকায় মৎস্য আহরণ করছিলেন একদল জেলে। তখনই প্রায় ১৫-২০ সদস্যের সশস্ত্র ‘করিম শরীফ বাহিনী’ হঠাৎ করে হামলা চালায়। দস্যুরা জেলেদের মারধর করে তাদের সামগ্রী লুটে নেয় এবং ১০ জনকে জিম্মি করে ট্রলারযোগে বনের ঘন অন্ধকারে নিয়ে যায়।

    অপহৃত ১০ জন জেলের মধ্যে পাঁচজনের বাড়ি মোংলার সুন্দরবন ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে। তাদের নাম: নাসির শেখ-এর ছেলে মানিক শেখ, আরোভ গাজীর ছেলে আবু বকর গাজী, আমজাদ ফরাজীর ছেলে জাকির ফরাজী, হানিফ সিকদারের নুরজামাল সিকদার এবং ওহিদ মুন্সির ওয়াহিদ মুন্সি। বাকি পাঁচজনের বাড়ি পার্শ্ববর্তী মোড়েলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় থাকলেও তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। প্রিয়জনদের নিখোঁজ সংবাদ পেয়ে পরিবারের সদস্যরা গভীর আতঙ্ক ও দুশ্চিন্তায় দিনরাত কাঁপছেন।

    অপহৃতদের পরিবারগুলোর দাবী, দস্যুরা মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে প্রত্যেক জেলের জন্য ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করেছে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দাবি না পূরণ করলে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দিয়েছে। এই ঘটনার পর থেকে স্থানীয় জেলেদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ছড়িয়েছে; অনেকেই প্রাণ বাঁচাতে বন ত্যাগ করে নিরাপদ স্থানে চলে যাচ্ছেন, যার ফলে উপকূলীয় মাছ আহরণে বড় ধরণের ব্যাঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

    কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন (মোংলা) গোয়েন্দা বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, অপহারের খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ সুন্দরবনের সম্ভাব্য পথসমূহে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়েছে। পশুর নদীসহ গুরুত্বপূর্ণ খালগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বন বিভাগের জিউধারা, চাঁদপাই ও ঢাংমারী স্টেশনের কর্মকর্তারা কোস্ট গার্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে তল্লাশি চালাচ্ছেন। তবে সুন্দরবনের প্রতিকূল ভৌগোলিক পরিবেশ ও দস্যুদের ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তনের কারণে উদ্ধারকাজে জটিলতা দেখা দিচ্ছে।

    স্থানীয় সচেতন মহল ও বিশ্লেষকদের মতে, এক সময়ে র‌্যাব ও কোস্ট গার্ডের কঠোর অভিযানের ফলে সুন্দরবন দস্যুমুক্ত হয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে টহল ও তৎপরতা কিছুটা শিথিল হলে সুযোগ নিয়ে নতুন দস্যু বাহিনী গড়ে উঠছে। তারা মনে করেন সুন্দরবনকে স্থায়ীভাবে নিরাপদ রাখতে আবারও সময়োপযোগী ও পরিপক্ক ‘স্পেশাল ড্রাইভ’ বা ব্যাপক অভিযানের দরকার রয়েছে।

    সিকিউরিটি বিশ্লেষকরা জানান, এই ধরনের অপহরণ কেবল একটি অপরাধই নয়, এটি উপকূলীয় অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের আত্মবিশ্বাসের ওপর প্রভাব ফেলে। দ্রুত এই ১০ জেলেকে উদ্ধার করে দস্যু দমন কার্যক্রম না শক্ত করলে উপকূলীয় জনজীবন ও মৎস্য আহরণ খাতে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়বে এবং জনগণের মধ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি আস্থাহীনতা তৈরি হবে।

    অপহৃতদের পরিবার ও স্থানীয়রা দ্রুত কার্যকর তদন্ত ও তৎপর উদ্ধার অভিযান চালিয়ে জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের তৎপরতা কামনা করছেন। প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট এলাকায় অভিযান ও বৈঠক জোরদারে ব্যস্ত রয়েছেন, এবং তারা আশ্বাস দিয়েছেন—সব দিক বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

  • মাজারে কুমিরে মেরে যাওয়া কুকুরটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত ছিল: ময়নাতদন্ত

    মাজারে কুমিরে মেরে যাওয়া কুকুরটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত ছিল: ময়নাতদন্ত

    বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহ.) মাজার সংলগ্ন দিঘীতে কুমিরের আক্রমণে মারা যাওয়া কুকুরটি জলাতঙ্কে (র্যাবিজ) আক্রান্ত ছিল—এমন তথ্য জানিয়েছে জেলা প্রশাসনের তদন্ত ও ময়নাতদন্ত রিপোর্ট। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রবল র্য়াগ সৃষ্টি হয়েছিল।

    ফরওয়ার্ড করা ভিডিওতে দেখা যায়, ০৮ এপ্রিল বিকেলে মাজারের প্রধান ঘাট থেকে কুমির ধলা পাহাড় ওই একটি কুকুরকে শিকার করে দিঘীতে টেনে নিয়ে যায়। ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযোগ ওঠে কুকুরটিকে ইচ্ছে করে কুমিরের মুখে ফেলে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য জেলা প্রশাসক তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন; কমিটিকে নেতৃত্ব দেন বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিয়া খাতুন।

    তদন্ত পক্রিয়ায় ১১ এপ্রিল বিকেলে জেলা প্রাণি সম্পদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে মাজার এলাকায় কুকুরটির ময়নাতদন্ত করা হয়। কুকুরটির মাথার নমুনা পরবর্তীতে সেন্ট্রাল ডিজিজ ইনভেস্টিগেশন ল্যাবরেটরি (সিডিআইএল)-এ পাঠানো হয় এবং বুধবার (১৫ এপ্রিল) ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে আসে। রিপোর্ট অনুযায়ী কুকুরটি জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত ছিল।

    বাগেরহাট জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাহেব আলী জানান, সিডিআইএলের পরীক্ষায় কুকুরের জলাতঙ্ক নিশ্চিত হয়েছে। যারা কুকুরটিকে কামড়েছিল, তারাও জলাতঙ্কে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, তাই টিকা নেওয়া জরুরি। তিনি বলেন, কুকুরের সঙ্গে যারা সংস্পর্শে এসেছিলেন তারা টিকা নিয়েছেন এবং হাসপাতাল থেকে তাদের টিকা নেওয়ার প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে।

    কুমিরটির জলাতঙ্কে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাব্যতা সম্পর্কে জানতে চাইলে মোহাম্মদ ছাহেব আলী বলেন, র্যাবিজ সাধারণত স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে ছড়ায় এবং সরীসৃপের মধ্যে এই রোগ সাধারণভাবে দেখা যায় না; তাই কুমিরের মাধ্যমে রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি খুবই কম বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবু কামড়ানো ব্যক্তিদের দ্রুত টিকা নিতে বলা হয়েছে।

    তদন্ত কমিটির প্রধান আতিয়া খাতুন বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন, তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ এবং অন্যান্য তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। নানা প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে, আর তদন্তে কুকুরটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে কুমিরের মুখে ফেলে দেওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি—কমিটির ধারণা, কুকুরটি দুর্ঘটনাবশত পুকুরে পড়ে যায়।

    জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেন বলেন, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট এবং তদন্তকমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কুকুরটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত ছিল এবং কুকুরটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে কুমিরের মুখে দিলে রাখার কোনো প্রমাণ তারা পাননি।

    স্থানীয়দের মধ্যে যারা আহত হয়েছেন তাদের দ্রুত টিকা গ্রহনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল ও আশপাশের পশু-মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

  • তামিমের উৎসাহে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ: মিরাজ

    তামিমের উৎসাহে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ: মিরাজ

    ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ শুরু হচ্ছে আগামীকাল (শুক্রবার)। সিরিজের প্রথম ম্যাচকে সামনে রেখে আজ মিরপুরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে দলের অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ দলের প্রস্তুতি ও প্রত্যাশা নিয়ে কথা বলেছেন।

    মিরাজ বলছেন, বড় কোনো দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নির্ধারণের চেয়ে ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলায় ফোকাস করাই এখনো অগ্রাধিকার। ‘‘শুরুটা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখনই বড় কোনো টার্গেট সেট করা ঠিক হবে না। যেহেতু তিনটি ম্যাচ আছে, আমরা ধাপে ধাপে এগোতে চাই এবং অবশ্যই প্রথম ম্যাচ জিততে চাই,’’ তিনি বলেন।

    সংবাদ সম্মেলনে মিরাজ আরও বলেন, প্রতিটা ম্যাচকে আলাদাভাবে দেখেই দল এগোবে। পুরো সিরিজ একসাথে ভেবে চাপ গ্রহণের বদলে এক এক করে ম্যাচ ধরে চলে যাওয়াই এখন তাদের পরিকল্পনা।

    মাঠের বাইরের আলোচনা বা সমালোচনা দলের ওপর প্রভাব ফেলে কি না—এমন প্রশ্নে মিরাজ স্পষ্ট করে বলেছেন যে পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে বাইরের কথায় তাদের প্রভাবিত হওয়ার সুযোগ নেই। ‘‘মুখ্য ফোকাস থাকবে মাঠের পারফরম্যান্সে। বাইরে কী হচ্ছে, তা নিয়ে আমরা একদমই ভাবছি না,’’ তিনি যোগ করেন।

    মিরাজ সাম্প্রতিক সময়ের দলের পারফরম্যান্সকে সন্তोषজনক উল্লেখ করে বলেন, শেষ দুই সিরিজে ভালো খেলার ফলে খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। এতে বড় ভূমিকা রেখেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবালকে; তিনি দলের সঙ্গে কথা বলে তাদের উৎসাহ দিয়েছেন এবং আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছেন। ‘‘হ্যাঁ, সভাপতির সঙ্গে কথা হয়েছে। দল ভালো করছে, তিনি আমাদের বুস্টআপ করেছেন,’’ মিরাজ জানান।

    পাকিস্তান সিরিজে ভালো উইকেটে খেলার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা নিয়েও মিরাজ বলেন, ‘‘স্পোর্টিং উইকেটে যদি প্রত্যেকে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারে, তখন প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলা সহজ হবে।’’ তবু নিউজিল্যান্ডকে হালকাভাবে নেওয়া হচ্ছে না বলে বার্তা দিয়েছেন তিনি।

    অবশেষে মিরাজ সিরিজটি আইসিসি ওয়ানডে র‍্যাংকিংয়ের দিক থেকে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন এবং প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী শুরু করে ধারাবাহিকতা ধরে রাখার ওপর জোর দিয়েছেন।

  • দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন তামিম ইকবাল

    দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন তামিম ইকবাল

    কয়েক দিন আগে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বিসিবি পরিচালনা পর্ষদ ভাঙা করে দিয়েছেন। এরপর তামিম ইকবালকে সভাপতি করে ১১ সদস্যের অ্যাড-হক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

    নতুন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তামিম একের পর এক উদ্যোগ নিয়েছেন। ঘরোয়া ক্রিকেটারদের বেতন বাড়ানো ও মাঠে লিগ ফিরিয়ে আনায় তার সক্রিয় ভূমিকা ছিল। সম্প্রতি তিনি জানান, এবার মাঠে খেলা দেখতে আসা দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে চান। এই উদ্দেশ্যেই তিনি একটি ভিডিও বার্তায় দর্শকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

    তামিম বলেন, প্লেয়ার এবং স্টাফদের সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে আমরা নিয়মিত আলোচনা করি। কিন্তু বছরের পর বছর আমাদের সবচেয়ে বড় স্টেকহোল্ডার—যারা মাঠে এসে খেলা দেখে, আমাদের ফ্যানরা—তাদের সঙ্গে তেমন সরাসরি যোগাযোগ হয়নি। এটা পরিবর্তন করা চাই তিনি। তিনি চান, যখন কোনও দর্শক মাঠে খেলা দেখতে আসে, তাদের অভিজ্ঞতাটা আনন্দদায়ক ও স্মরণীয় হয়।

    তিনি আরও বলেন, দর্শক যেন বাসায় ফিরে বলে ‘আজকে আমি দারুণ পরিবেশে খেলা দেখেছি’—এইটাই আমাদের লক্ষ্য। গেট থেকে মাঠে ঢোকার প্রক্রিয়া, সিটে বসা, পানীয় ও খাবারের ব্যবস্থা—এসব বিষয়ে দর্শকদের অভিজ্ঞতা জানতে হবে এবং প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করতে হবে।

    সব দর্শককে একসঙ্গে ডেকে বসানোর কথা না বললেও, তামিম জানিয়েছেন যে তারা পাঁচ থেকে দশ জন করে ক্রাউড থেকে র‍্যান্ডমভাবে নির্বাচন করে ব্যক্তিগতভাবে তাদের সঙ্গে বসে কথাবার্তা চালাবেন। এতে তিনি সরাসরি শুনতে পারবেন দর্শক কোন জায়গায় সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন এবং কী কী উন্নয়ন দরকার।

    আসন্ন নিউজিল্যান্ড সিরিজ থেকেই এই উদ্যোগ শুরু করার পরিকল্পনা আছে। ইনশাআল্লাহ, ১৭ তারিখে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে আমাদের হোম সিরিজের প্রথম ম্যাচ থেকেই দর্শকদের সঙ্গে আলাপচারিতা শুরু করা হবে—এমনটাই তিনি জানিয়েছেন।

  • চোখের জলে বিদায়: পঞ্চভূতে বিলীন হলেন আশা ভোঁসলে

    চোখের জলে বিদায়: পঞ্চভূতে বিলীন হলেন আশা ভোঁসলে

    ভারতীয় উপমহাদেশের খ্যাতনামা শিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই। সোমবার সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্ক শ্মশানে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। শেষকৃত্যে মুখাগ্নি করেন তার ছেলে আনন্দ ভোঁসলে। এ দিনটি সঙ্গীতপ্রেমীদের জন্য নিঃসন্দেহে এক শূন্যতার দিন।

    গতকাল সকাল থেকেই মুম্বাইয়ের লোয়ার পারলের আশা ভোঁসলের বাড়ির সামনে মানুষের ঢল নামে। চাঁদের হাটের মত জমায়েতটা উৎসবমুখর ছিল না—সবার মন ছিল শোকাভিভূত। বোন লতা মঙ্গেশকরের কন্যা মীনা খাড়িকর সহ বিনোদন, ক্রীড়া ও রাজনৈতিক অঙ্গনের অনেকে সেখানে উপস্থিত ছিলেন। পাশে ছিলেন অভিনেতা আমির খান, ক্রিকেট তারকা শচীন টেন্ডুলকার, সংগীত পরিচালক এ.আর. রহমান, গায়ক জাভেদ আলি, অভিনেত্রী টাবু, আশা পারেখ, নীল নীতি ন মুকেশ এবং জ্যাকি শ্রফসহ আরও অনেকে। রাজনৈতিক বিভিন্ন ধারার বরিষ্ঠ নেতারাও শ্রদ্ধা জানাতে ভীড় করেন।

    বাসভবন থেকে মরদেহ শিবাজি পার্ক শ্মশানে নেওয়ার সময় শববাহী গাড়িটি সাদা-হলুদ ফুলে মোড়া ছিল। রাস্তার দুই পাশে ভক্ত-অনুরাগীরা দাঁড়িয়ে তাদের ভালোবাসার শেষ শ্রদ্ধা জানায়; চোখে অশ্রু, কণ্ঠে স্মৃতিচারণ। শ্মশানে উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্র, সংগীত, রাজনীতি ও ক্রীড়াজগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

    আশা ভোঁসলে গত ১১ এপ্রিল অসুস্থ হয়ে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। রবিবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।

    আশা ভোঁসলের সংগীতজীবন ছিল বিস্ময়কর এক অধ্যায়—১৯৪৩ সালে শুরু করা এই ক্যারিয়ার আট দশকেরও বেশি সময় ধরে ছড়িয়ে ছিল। তিনি শুধু হিন্দি গানেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না; ২০টিরও বেশি ভারতীয় ভাষা এবং কিছু বিদেশি ভাষায়ও তিনি গান রেকর্ড করেছেন। সিনেমার জন্য মোট ৯২৫টিরও বেশি ছবিতে গান গেয়েছেন এবং ধরনা করা হয় যে তাঁর গানের সংখ্যা ১২ হাজারের বেশি। ২০০৮ সালে তাকে ভারত সরকার পদ্মভূষণ দিয়ে সম্মানিত করে এবং ২০১১ সালে গিনেস বুকে তিনি সর্বাধিক সংখ্যক গান রেকর্ডকারী হিসেবে নাম লেখান।

    ব্যক্তিগত জীবনে আশা ভোঁসলের প্রথম স্বামী ছিলেন গণপতরাও ভোঁসলেহৃদয়, যিনি 당시 লতা মঙ্গেশকরের সেক্রেটারি ছিলেন; আশা তাঁর সাথে ১৬ বছর বয়সে বিয়ে করেছিলেন, আর গণপতরাও তখন ছিলেন ৩১ বছর বয়সী। তাদের দাম্পত্য সম্পর্ক ১৯৬০ সালে ভেঙে যায়। পরে ১৯৮০ সালে তিনি সংগীত পরিচালক আর.ডি. বর্মনের সঙ্গে দ্বিতীয়বার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন; ১৯৯৪ সালে আর.ডি. বর্মনের মৃত্যু ঘটে।

    আশা ভোঁসলের বিদায় শুধু এক কণ্ঠের অবসান নয়—এটি ছিল সঙ্গীত জগতে এক যুগের সমাপ্তি। তার প্রশস্ত পরিসরের রেকর্ডিং, বহুমাত্রিক কণ্ঠ এবং নিরলস সৃজনশীলতা তাঁকে প্রজন্মের পর প্রজন্মে ভোঁসলে নামধারী করে রেখে গেছে। সুরপ্রেমীরা হয়তো আজ ক্ষত অনুভব করলেও, তার গাওয়া লক্ষাধিক গান প্রতিদিনই তাকে স্মরণ করিয়ে দেবে।

  • আশা ভোঁসলের রাষ্ট্রীয় বিদায়ে উপস্থিত হননি সালমান-শাহরুখ — জানা গেল কারণ

    আশা ভোঁসলের রাষ্ট্রীয় বিদায়ে উপস্থিত হননি সালমান-শাহরুখ — জানা গেল কারণ

    সুরসম্রাজ্ঞী আশা ভোঁসলের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হলে গোটা বলিউড ভেঙে কেঁদে ওঠে। মহা প্রস্থানের দিন রণবীর সিংসহ বহু তারকা সেখানে উপস্থিত থেকে শ্রদ্ধা জানায়। তবু দুই বড় নাম—সালমান খান এবং শাহরুখ খান—শেষ নিঃশ্বাস নিতে উপস্থিত ছিলেন না, যা অনেক অনুরাগী ও সমালোচকের মনে বিস্ময় ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলেছে, শেষকৃত্যের সময় দু’জনই মুম্বাইতেই ছিলেন। তবে নিরাপত্তার দিকটি বিবেচনা করেই তারা পাণ্ডেল বা সমাহিত স্থলে না গিয়ে অনুপস্থিত থেকেছেন। সংবাদ প্রতিবেদনগুলিতে উল্লেখ করা হয়েছে, জনসমাগম ও নিরাপত্তাজটিলতার সুযোগকে সামনে রেখে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    সালমান-শাহরুখ—দুটো পক্ষ থেকেই আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি না দিলেও তারা সামাজিকতন্ত্রে আশার প্রতি শ্রদ্ধা ও শোক জানিয়েছেন। শাহরুখ খান সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, আশা ভোঁসলের চলে যাওয়ায় তিনি গভীরভাবে শোকাহত; তার কণ্ঠ ভারতীয় সিনেমার একটি অবিচ্ছেদ্য স্তম্ভ ছিল। সালমান খানও আশার মৃত্যুকে ভারতীয় সংগীতের কাছে এক অপ্রতুল্য ক্ষতি বলে অভিহিত করেন এবং জানান, তার গান আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।

    আশা ভোঁসলে ১২ এপ্রিল মারা যান। মৃত্যুর একদিন আগে, ১১ এপ্রিল তিনি শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিলেন — অভিযোগ ছিল বুকে ব্যথা। চিকিৎসকদের চেষ্টা সত্ত্বেও তিনি আর ফেরেননি।

    আশার চলে যাওয়া ভারতীয় সঙ্গীতজগতের এক ক্ষতি; তার কণ্ঠ এবং বৈচিত্র্যময় রেকর্ডিং বহু জাতি, বহু প্রজন্মকে ছুঁয়ে গিয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায়—অল্প কিছু অনুরাগীর যা অপছন্দ তৈরি করেছে—বৃহৎ জনসম্মুখে অনুপস্থিতি নিয়ে বিতর্ক হলেও অনেকেই তাদের নিরাপত্তা-তত্ত্বাবধানকে গুরুত্ব দিয়ে এই সিদ্ধান্তকে বোঝার চেষ্টা করছেন।

  • ইন্টারনেটে তরুণদের শীর্ষ খোঁজ: সরকারি চাকরি ও ক্রীড়া

    ইন্টারনেটে তরুণদের শীর্ষ খোঁজ: সরকারি চাকরি ও ক্রীড়া

    বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ জরিপে দেখা যায় দেশের তরুণ-তরুণীদের অনলাইন কার্যক্রমে প্রধান চাহিদা চলছে ক্যারিয়ার সম্পর্কিত তথ্য ও বিনোদন। জরিপ অনুযায়ী অনলাইনে সবচেয়ে বেশি খোঁজা হয় সরকারি চাকরির তথ্য — ৬৪.২ শতাংশ; আর ক্রীড়া সংক্রান্ত তথ্য তৃতীয় নয়, বরং দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ৪৯.৮ শতাংশ। একই জরিপে দেখা যায় প্রতিদিন অন্তত একবার ইন্টারনেট ব্যবহার করেন ৭২.৪ শতাংশ মানুষ।

    বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিবিএস অডিটোরিয়ামে প্রকাশিত এই আইসিটি প্রয়োগ ও ব্যবহারিক জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে। জেলা ও অঞ্চলভিত্তিক পার্থক্যও জোরালো: স্মার্টফোন ব্যবহার শীর্ষে কুমিল্লা, সর্বনিম্ন কুড়িগ্রামে; পরিবারের স্তরে ইন্টারনেট ব্যবহার সবচেয়ে বেশি ঢাকায় — ৬৫.৪ শতাংশ পরিবার, সবচেয়ে কম ময়মনসিংহে — ৩৭.৮ শতাংশ পরিবার।

    অনলাইনে ভোগ-ব্যবহারও বাড়ছে, তবে সীমিত: গত তিন মাসে অনলাইনে পণ্য বা সেবা কিনেছেন ১১.৬ শতাংশ মানুষ। সরকারি অনলাইন সেবা গ্রহণের অগ্রগতি তুলনামূলক কম — গত এক বছরে ১৬.৯ শতাংশই এসব সেবা নিয়েছেন। প্রযুক্তিতে দক্ষতার ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ দক্ষ কপি-পেস্টে — ৮৪.৪ শতাংশ।

    ডিজিটাল ঝুঁকিও কম নয়। জরিপে রোগাণু/ম্যালওয়্যার সংক্রমণকে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখেছে ৫০.৫ শতাংশ মানুষ। পরিবারের পর্যায়ে ডিজিটাল ডিভাইস প্রবেশাধিকার নিয়ে দেখা গেছে মোবাইল ফোনে প্রবেশাধিকার অত্যন্ত বেশি — ৯৮.৯ শতাংশ পরিবার, ইন্টারনেট রয়েছে ৫৫.১ শতাংশ বাড়িতে, আর কম্পিউটারে প্রবেশাধিকার মাত্র ৯.০ শতাংশ পরিবারে। ব্যক্তিগতভাবে মোবাইল ব্যবহার করেন ৮৮.৪ শতাংশ, ইন্টারনেট ব্যবহার করেন ৫৩.৪ শতাংশ; কম্পিউটার ব্যবহারকারীর হার ১১.৩ শতাংশ।

    শহর ও গ্রামের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারের বৈষম্য স্পষ্ট: গ্রামে ইন্টারনেট ব্যবহার ৪৩.৬ শতাংশ, শহরে ৭৫.৭ শতাংশ। লিঙ্গভিত্তিক ব্যবধানও রয়ে গেছে — মোবাইল মালিকানায় পুরুষ ৭০.০ শতাংশ, নারী ৫৮.৯ শতাংশ; ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর মধ্যে পুরুষ ৫৬.৬ শতাংশ, নারী ৫০.২ শতাংশ। অনলাইন সেবা গ্রাহকের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে ৪৩.৬ শতাংশ মানুষ উল্লেখ করেছেন উচ্চ মূল্যকে।

    জরিপে আরও দেখা যায় মুঠোফোনে রেডিও শোনার প্রবণতা বাড়ছে, আর টেলিভিশন ব্যবহার কিছু অংশে কমছে। আন্তর্জাতিক তুলনায় আইসিটি উন্নয়নের সূচকে বাংলাদেশ মায়ানমার ও শ্রীলঙ্কার থেকেও পিছিয়ে আছে। তবে ইতিমধ্যে পরিবারের ৯৮.৯ শতাংশ মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে, স্মার্টফোন আছে ৭২.৭ শতাংশ পরিবারে এবং ৯৮.৫ শতাংশ পরিবারে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত আছে।

    সারকথা, বিবিএসের এই জরিপ দেখায় বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীরা চাকরি ও ক্রীড়া বিষয়ে অনলাইনে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী, কিন্তু দাগ চাপছে ডিভাইসের প্রবেশাধিকার, শহর-গ্রাম ও লিঙ্গভিত্তিক ব্যবধান এবং খরচ-ভিত্তিক বাধা—যেগুলো মোকাবিলায় নীতিগত উদ্যোগ জরুরি।

  • বার কাউন্সিল নির্বাচন স্থগিত: আখতারের প্রশ্ন, আইনমন্ত্রীর ব্যাখ্যা

    বার কাউন্সিল নির্বাচন স্থগিত: আখতারের প্রশ্ন, আইনমন্ত্রীর ব্যাখ্যা

    জাতীয় সংসদে বার কাউন্সিলের নির্বাচন স্থগিত নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলেন বিরোধী সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। তিনি বললেন, জ্বালানি সংকটকে আমলে এনে হঠাৎ করে নির্বাচন পেছানো হয়েছে, Padথচ এই প্রতিষ্ঠান তো সংবিধিবদ্ধ এবং নিয়ম অনুযায়ী তিন বছরে একবার নির্বাচন হওয়া উচিত।

    বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সংসদে জবাব দেওয়ার সময় আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বার কাউন্সিলকে নিয়ে সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করেনি। তিনি জানান, শুধুমাত্র ঢাকা বার নয়, কয়েকটি বার অ্যাসোসিয়েশন বিশিষ্ট এলাকার আইনজীবীরা নির্বাচন পিছানোর অনুরোধ জানিয়েছেন। এতে মোট ২২ হাজারের বেশি আইনজীবীর আহবান ছিল—এই ভিত্তিতেই নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে।

    এনসিপির সদস্য সচিব ও বিরোধীদলীয় এমপি আখতার হোসেন জানান, ঘটনার সময়সূচি অনুযায়ী বুধবার (১৫ এপ্রিল) মধ্যরাতে বার কাউন্সিলের নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করা হয়। তিনি বলেন, ‘‘৩ বছর পরপর যে নির্বাচন হওয়া কথা ছিল, তা হঠাৎ করেই বন্ধ করা হলো। বর্তমানে অ্যাডহক কমিটি পরিচালনা করছে—গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সুযোগ এসেছে, তখন কেন নির্বাচন বাতিল করা হলো, তা স্পষ্ট হওয়া দরকার।’’

    আইনমন্ত্রী মন্ত্রনালয়ের পক্ষে সংসদে পুনরায় জোর দিয়ে বলেন যে, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে বার কাউন্সিলের নিজস্ব সিদ্ধান্ত কারো সঙ্গে জড়িত নয়। তিনি প্রতিপাদন করেন, অনুরোধ ও মতামত বিবেচনায় রেখে নির্বাচন পেছানো হয়েছে এবং সরকার কোনোরকম হস্তক্ষেপ করেনি।

    ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক ও পেশাজীবী মহলে প্রশ্ন ওঠা শুরু হয়েছে—নির্বাচন স্থগিতের কারণ ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করছে আইনজীবী ও বিরোধী দল। আগামী দিনে এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যা বা অনুসন্ধান হতে পারে বলে আশা করা যাচ্ছে।

  • গণভোটের রায় বাস্তবায়নে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলের ১৫ দিনের কর্মসূচি, ঢাকায় মহাসমাবেশ

    গণভোটের রায় বাস্তবায়নে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলের ১৫ দিনের কর্মসূচি, ঢাকায় মহাসমাবেশ

    জুলাই সনদ অনুযায়ী গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলের আয়োজন করা ১৫ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এটি চলবে ১৮ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত এবং কর্মসূচির মধ্যে ঢাকায় মহাসমাবেশও থাকবে।

    আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই তফসিল ঘোষণা করেন। তিনি জানান, কর্মসূচির দিনগুলো এভাবে বরাদ্দ করা হয়েছে — ১৮ এপ্রিল ঢাকায় ১১ দলের উদ্যোগে গণমিছিল, ২৫ এপ্রিল ঢাকা ছাড়া অন্যান্য বিভাগীয় শহরগুলোতে গণমিছিল এবং ২ মে জেলা শহরগুলোতে গণমিছিল হবে।

    আরও জানানো হয়, ১৮ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত বিভাগীয় শহর ও গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহরগুলোতে লিফলেট বিতরণ, সেমিনার ও জনসংযোগ কাজ চালানো হবে।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, চলমান এই ধাপ শেষে পরবর্তী পর্যায়ে প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও বিভাগীয় শহরে ১১ দলের উদ্যোগে বিশাল সমাবেশ হবে। সমাবেশসহ ভবিষ্যৎ কর্মসূচির সুনির্দিষ্ট তারিখ লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে চূড়ান্ত করা হবে। এরপর রাজধানীতে আরো বড় একটি সমাবেশ করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

    তিনি আরো বলেন, ‘সরকার গণরায় তথা গণভোটের রায় শরিক করছে না। আমাদের আন্দোলনের প্রধান লক্ষ হলো এই গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা। জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি করে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প নেই। সেই পর্যন্ত ১১ দল পর্যায়ক্রমে কর্মসূচি কর্মসূচি চালিয়ে যাবে।’

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দিন আহমদ, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইযহারসহ ১১ দলের অন্যান্য নেতা-কর্মীরা।

    এর আগে বেলা ১১টায় আল ফালাহ মিলনায়তনে ১১ দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে চলমান আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়। বৈঠকটি সভাপতিত্ব করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির শফিকুর রহমান। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, এলডিপি সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মুস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম প্রমুখ।

    ১১ দল এই কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের প্রতি দাবি জানানোর পাশাপাশি সংগঠনিকভাবে আন্দোলন গতিশীল রাখার পরিকল্পনা করছে। আগামী সময়ে নির্ধারিত সময়ে আরও কর্মসূচি ও সমাবেশের বিস্তারিত জানানো হবে।

  • নাহিদ: ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণকে ভুলে গেছে

    নাহিদ: ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণকে ভুলে গেছে

    জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের কথা ভুলে গেছে। তিনি শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন।

    নাহিদ বলেন, ‘‘এই দেশের ইতিহাসে বার বার দেখা গেছে—শ্রমিকরাই রক্ত দিয়েছে, জীবন দিয়েছে স্বাধীনতার জন্য। ১৯৪৭-এর কোনো আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও পরবর্তী গণ-অভ্যুত্থানগুলোতে যারা জীবন দিয়েছেন তাদের অধিকাংশই শ্রমজীবী মানুষ।’’

    তিনি অভিযোগ করেন, ‘‘বিএনপি শ্রমজীবীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে ক্ষমতায় ওঠে; কিন্তু ক্ষমতার এক মাসের মধ্যেই তারা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। নতুন যে সরকার গঠিত হয়েছে, সেই সরকার গণভোট ও গণরায়ের প্রতি গোঁড়ামি দেখিয়েছে। এটি একটি গণবিরোধী প্রশাসন—ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে বিএনপি জনগণের রক্তের কথা ভুলে গেছে।’’

    নাহিদ আরো বলেন, অস্থায়ী সরকারের সময়ে জারি হওয়া অধ্যাদেশগুলোকে আইন হয়ে পরিণত করা এবং কাঙ্ক্ষিত সংস্কার বাস্তবায়নের যে প্রতিশ্রুতি ছিল, তা বিএনপি ভঙ্গ করেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘‘রাজনীতিতে ওয়াদা ভঙ্গের ফল ভয়ানক হবে। আমরা জনআন্দোলন গড়ে শ্রমিকদের অধিকারসহ এই সংস্কার কার্যকর করাতে বাধ্য করব।’’

    নাহিদ একটি নতুন জাতীয় ঐক্যের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘‘আমরা এমন এক ঐক্যে দাঁড়িয়েছি যেখানে জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে শ্রমিকদের প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতি ভিত্তিতে একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে হবে। রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজ—সব জায়গায় ন্যায় প্রতিষ্ঠা করব এবং নতুন বন্দোবস্তে শ্রমিকদের যথোপযুক্ত অংশ নিশ্চিত করব।’’

    তিনি জানান যে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, জাতীয় নাগরিক পার্টি ও জাতীয় শ্রমিক শক্তি এই ঐক্যের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

    শ্রমিকদের উদ্দেশে নাহিদ বলেন, ‘‘ঐক্যবদ্ধ হন। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সামনে অগ্রসর করতে হবে যাতে নতুন বাংলাদেশের নেতৃত্ব গড়ে উঠতে পারে এবং জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের অভীষ্টগুলো সামনে এগোতে পারে।’’

    একই সঙ্গে তিনি শ্রমিকদের রাজপথে নামার প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘‘এবার শুধু জাতীয় সংসদে সীমাবদ্ধ থাকা যাবে না; রাজপথের প্রস্তুতিও নিতে হবে। গণআন্দোলনের প্রস্তুতির মাধ্যমেই আমরা বর্তমান সরকারকে বাধ্য করব যাতে জুলাই সনদ, গণভোট ও শ্রমিকদের সর্বস্বীকৃত দাবি বাস্তবায়ন নিশ্চিত হয়।’’

    শেষে তিনি শ্রমিকদের অনুরোধ করেন যে সরকারকে জবাবদিহি করাতে ও তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে এগিয়ে এসে একটি শক্তিশালী গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।