জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জগপা)-র সহ-সভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র রাশেদ প্রধান শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিএনপি সমর্থকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বললেন, তার বিএনপি ও তারেক রহমানকে নিয়ে করা বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে সমর্থকরা কষ্ট পেয়েছেন—তার জন্য তিনি আন্তরিকভাবে ক্ষমা চেয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে রাশেদ প্রধান ‘কুলাঙ্গার’ শব্দের অর্থ ব্যাখ্যা করে বলেন, কুলাঙ্গার শব্দটি কুল (বংশ) ও অঙ্গার (কলঙ্ক) মিলিয়ে বোঝায়—অর্থাৎ কুকর্মের ফলে বংশ কলঙ্কিত হওয়া। তিনি অভিমত ব্যক্ত করে বলেন, তিনি এই শব্দটির ইতিমধ্যে ব্যবহার করেছেন এবং ভবিষ্যতে তা ব্যবহার না করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তবু তার মূল বক্তব্যের সার বিষয়গত পরিবর্তন নেই বলেও উল্লেখ করেছেন।
রাশেদ প্রধান বলেন, বিএনপির কিছু কর্মী ‘কুলাঙ্গার’ শব্দের সামগ্রিক অর্থটি ঠিকভাবে বোঝেননি, সম্ভবত অর্থ না বোঝার কারণে তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, ১৫ এপ্রিল এক আলোচনায় একই বিষয়ের ওপর তিনি যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, তা থেকেই বর্তমান প্রতিক্রিয়া শুরু। অতীতেও অনুরূপ বক্তব্যে প্রতিক্রিয়া কম পাওয়া গেলেও ১৫ এপ্রিলের পরে প্রতিক্রিয়া বেশি বাড়ছে; তিনি বলেন, অতীত বক্তব্য ও ১৫ এপ্রিলের বক্তব্যের মধ্যে কেবলমাত্র একটি শব্দ—’কুলাঙ্গার’—ই পার্থক্য।
রাশেদ প্রধান আরও দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি বলছেন বর্তমান বিএনপি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শে চলছে না এবং তারেক রহমান পিতা-মাতার আদর্শের প্রতি সঙ্গবদ্ধ নয়; তাদের সম্মান নষ্ট করার মতো কাজ হয়েছে। এই মন্তব্যগুলোই তার সমালোচনার মূল।
তিনি জানান, তার বক্তব্যের পরে দেশে বিভিন্ন জায়গায় বিএনপি সমর্থকরা প্রতিবাদ, মিটিং, মিছিল ও কুশপুত্তলিকা দাহসহ নানা কর্মসূচি করেছেন। তিনি এসব কার্যক্রমকে তাদের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার হিসেবে স্বীকার করে নেন এবং একই সঙ্গে সরকারপন্থী কিছু নেতাকর্মীর তৎপরতাকেও সাধুবাদ জানান।
সংবাদ সম্মেলনে রাশেদ প্রধান বলেন, জনগণের প্রাপ্য অধিকারের জন্য কথা বলা তার দায়িত্ব। ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনার’ সময়ও তিনি চুপ ছিলেন না এবং এখনও থাকবে না—একমাত্র লক্ষ্য সরকারের দেওয়া অঙ্গীকারগুলি বলা ও স্মরণ করিয়ে দেওয়া। গণতান্ত্রিক দেশে বিরোধী দলের কাজ হলো যে কোনও ব্যত্যয় বা অঙ্গীকার ভঙ্গ মনে হলে তা প্রকাশ করা এবং তা স্মরণ করিয়ে দেওয়া, এই নীতিতেই তিনি তার আচরণ বহাল রাখবেন।
