Blog

  • যশোরে পুত্রবধূ মরিয়ম শাশুড়িকে গলাকেটে হত্যা করে বস্তায় ফেলে

    যশোরে পুত্রবধূ মরিয়ম শাশুড়িকে গলাকেটে হত্যা করে বস্তায় ফেলে

    যশোরের বেজপাড়া এলাকায় সালদি সম্পর্কের বিবাদের জের ধরে পুত্রবধূ মরিয়ম বেগম (২০) তার শাশুড়ি সকিনা বেগম (৬০)কে গলাকেটে হত্যা করে মরদেহ বস্তায় ভরে বাড়ির সামনে ফেলে রাখেন। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দেশীয় চাপাতিও উদ্ধার করা হয়েছে।

    বুধবার (২২ এপ্রিল) পুলিশ সুপার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাসার এই তথ্য জানান। ঘটনার পর ডিবি ও কোতোয়ালি থানার যৌথ টিম ইনসপেকশন করে আলামত সংগ্রহ করেছে এবং তদন্ত চলছে। সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহসান হাবীব ও অন্যান্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

    নিহত সকিনা বেগম বেজপাড়া মেইন রোড এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা এবং লাল চাঁদ খলিফার স্ত্রী। পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে সকিনা বেগমের ছেলে শহিদুল দোকানে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন। যাওয়ার আগে তার স্ত্রী মরিয়ম জানিয়ে দেন যে বাড়িতে রান্না নেই, তাই তারা বাইরে খাবেন। শহিদুল মাকে খোঁজ করলে তাকে বলা হয় তিনি তালিমে গেছেন।

    রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ি ফিরে মাকে না পেয়ে শহিদুল পুনরায় খোঁজখবর নেন। তখন তার স্ত্রী জানায় তার মা বাড়িতে ফেরেননি। বিষয়টি সন্দেহজনক লাগায় শহিদুল থানায় জানাই করেন। পরে রাত সাড়ে বারটার দিকে বাড়ির সামনের একটি বস্তার মধ্যে লাশ দেখে শহিদুল ও তার বোন শাহিদা বেগম সেটিকে সকিনা বেগম হিসেবে শনাক্ত করেন।

    ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। সন্দেহজনক আচরণ ও প্রাপ্ত আলামতের ভিত্তিতে মরিয়মকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে মরিয়ম হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং জানান, দীর্ঘদিন ধরে শাশুড়ির সঙ্গে পারিবারিক বিবাদ চলছিল। ওইদিন শাশুড়ি তাকে উতকে বলায় ক্ষুব্ধ হয়ে ঘরে থাকা একটি চাপাতি দিয়ে গলাকেটে শাশুড়িকে হত্যা করেন। পরে মরদেহ বস্তাবন্দি করে বাড়ির সামনে রেখে দেন এবং হত্যা কাজে ব্যবহৃত চাপাতিটি ওয়ারড্রবের ভেতর লুকিয়ে রাখেন।

    অভিযুক্তের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পুলিশ তার ঘর থেকে চাপাতি উদ্ধার করেছে। আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং ঘটনার আরও কারণ-প্রসঙ্গ выясনা ও সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে।

  • শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে সিরিজে সমতায় বাংলাদেশ নারী দল

    শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে সিরিজে সমতায় বাংলাদেশ নারী দল

    তিন ম্যাচের সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে সিরিজে সমতায় ফিরলো বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। প্রথম ম্যাচে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ এই ম্যাচে ৪ উইকেটে হারলে সিরিজ ঠিক করণের জন্য সামনে রাখল নিশ্চিত নির্ধারণী তৃতীয় ম্যাচ, যা আগামী শনিবার হবে।

    রাজশাহীতে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। কিন্তু শুরুতেই ব্যাটিংয়ের ওপর চাপ পরে বাংলাদেশের টপঅর্ডারে—কেবলমাত্র দলীয় পাঁচ রানে জুয়াইরিয়া ফেরদৌস (২) ও শারমিন আক্তার (০) আউট হন। অধিনায়ক জ্যোতি একপ্রান্ত আগলে রাখলেও পাশে সহায়তা না পাওয়া তরুণ এই ব্যাটারের একক চেষ্টা দলের সংগ্রহ বাড়াতে পারলো না। জ্যোতি করেন ১০১ বলের এক ধৈর্যশীল ইনিংস, যেখানে ছিল ৫৮ রান ও চারটি চার।

    টপ ও মিডল অর্ডারে আর কেউ বড় সংগ্রহ করতে না পারায় বাংলাদেশের রানতাস শুরু হয় ধীরে ধীরে: শারমিন সুলতানা ২৫, স্বর্ণা আক্তার ১৬, রিতুমনি ১৭, নাহিদা আক্তার ২০, রাবেয়া খান ১৫, মারুফা আক্তার ১ ও সুলতানা খাতুন ১। দলীয় ইনিংস থামে ১৬৫ রানে।

    শ্রীলঙ্কার হয়ে অধিনায়ক চামারি আতাপাতু বল হাতে বেশ সফল ছিলেন—সবমোট তিনটি উইকেট নেন তিনি। দলের অন্য তিনজন বোলারও দুটি করে উইকেট নিয়েছেন, ফলে বাংলাদেশের ইনিংস বানানো গোল করা যায়নি।

    জবাবে ১৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শ্রীলঙ্কা সূচনাই ভালো রাখতে পারেনি: হাসিনি পেরেরা মাত্র ৫ ও ইমেশা দুলানি ৮ রান করে ফেরেন। কিন্তু অধিনায়ক চামিরা আতাপাতু আগ্রাসী ছিলেন—৩৯ বলে ৪০ রান করে তার ইনিংসটি আটটি চারে সাজানো ছিল এবং সে দলকে সংগ্রহে রেখে সাহায্য করলেন। চতুর্থ উইকেটে হারশিথা সামারাবিক্রমা ও হানসিমা করুনারত্নের ৭৭ রানের জুটি দলের জয়ের ভিত গড়ে দেয়। উভয় ব্যাটার আলাদা আলাদা সময় আউট হলেও (করুনারত্নে ৪০, সামারাবিক্রমা ৫০) পরে কৌশানি, কাভিশা ও নীলাক্ষীর সহযোগিতায় সফরকারীরা লক্ষ্যটি পূরণ করে মাঠ ছাড়ে।

    বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ চারটি উইকেট নেন নাহিদা আক্তার। সুলতানা খাতুন ও রিতুমনি একটি করে উইকেট নেন। ম্যাচে হার সত্বেও সিরিজের গতিপথ এখন নির্ধারণ করবে তৃতীয় ও নির্ধারণী ম্যাচ—যা দুই দলের জন্যই চূড়ান্ত থাকবে।

  • আইসিসি বাংলাদেশকে জরিমানা করলো

    আইসিসি বাংলাদেশকে জরিমানা করলো

    মিরপুরে গত পরশু দ্বিতীয় ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সিরিজে সমতায় ফিরেছে বাংলাদেশ। আগামীকাল চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে তৃতীয় ও নির্ধারণী ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে দুই দল — ম্যাচের আগেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) শাস্তি ঘোষণা করেছে মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দলের বিরুদ্ধে।

    আইসিসি জানিয়েছে, স্লো ওভার রেটের বিধিভঙ্গের জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি থেকে ১০ শতাংশ জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। সংস্থার একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশ নির্ধারিত সময়ে থেকে দুই ওভার কম বোলিং করেছে, যা নিয়ে মাঠের আম্পায়ার রিচার্ড ইলিংওয়ার্থ ও গাজী সোহেলসহ তৃতীয় আম্পায়ার নিতিন মেনন এবং চতুর্থ আম্পায়ার মাসুদুর রহমান মুকুল অভিযোগ দায়ের করেন। শাস্তি কার্যকর করেছেন আইসিসির এলিট প্যানেলের ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফট।

    আইসিসির খেলোয়াড় ও স্টাফদের আচরণবিধির ২.২২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের প্রতিটি ওভারের অনুপস্থিতির জন্য প্রত্যেকে ৫ শতাংশ করে জরিমানা হয়; বাংলাদেশ দুই ওভার কম করায় মোট ১০ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে। দলপতি মিরাজ দোষ স্বীকার করে শাস্তি মেনে নিয়েছেন, তাই আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন পড়েনি।

    ম্যাচে নিউজিল্যান্ড টস জিতে আগে ব্যাটিং করে; সফরকারীরা ৪৮.৪ ওভারে ১৯৮ রানে অলআউট হয়। স্লো ওভার রেটের কারণে ম্যাচের শেষ তিন ওভারে বাংলাদেশকে বৃত্তের ভেতরে একজন বেশি ফিল্ডার রেখে ফিল্ডিং করতে বাধ্য করা হয়েছিল। ফলে ওপেনিংয়ের পরে বাংলাদেশ নির্ধারিত সময়ের আগেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করে জয় পায় — দলটি ৮৭ বল হাতে রেখেই পাঁচ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয়। নাহিদ রানা ম্যাচসেরার খেতাব অর্জন করেন।

    চতুর্থ ম্যাচ থেকে সিরিজ নির্ধারণী হওয়ার কারণে আগামিকাল চট্টগ্রামে মাঠে নামা দুই দলই সিরিজ আলাদা করে নেয়ার লক্ষ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে; ম্যাচ শুরুর আগে এই শাস্তি বাংলাদেশ দলের জন্য মাথায় যোগ হয়েছে।

  • গম পাচারের অভিযোগে ইডির তলবে নুসরাত জাহান

    গম পাচারের অভিযোগে ইডির তলবে নুসরাত জাহান

    ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) গম পাচারের অভিযোগের ব্যাপারে অভিনেত্রী ও সাবেক সাংসদ নুসরাত জাহানকে তলব করেছে।

    ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন বলছে, রেশন দুর্নীতি এবং সীমান্ত পেরিয়ে খাদ্যশস্য পাচারের একটি মামলার অংশ হিসেবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে। তাকে নির্ধারিত দিনে কলকাতার সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, করোনা সময়কালে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে একাধিক ট্রাক আটক করা হয়েছিল; সেগুলোতে সরকারি রেশন ব্যবস্থার গম ও চাল থাকার অভিযোগ ওঠে এবং এসব খাদ্যশস্য বাংলাদেশে পাচার হওয়ার সম্ভাবনা মূল্যায়ন করা হচ্ছে। ওই সময় বসিরহাটের সাংসদ ছিলেন নুসরাত জাহান—তাই তদন্তকারীরা তার ভূমিকা সম্পর্কে জানতে আগ্রহী।

    তবে এ তলবকে সরাসরি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বলা যাচ্ছে না; এটি তদন্তের অংশ হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজিরা প্রদানের অনুরোধ। নুসরাত জাহানের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

    এই তলবের ফলে গম পাচার ও রেশন দুর্নীতির জটিল মামলাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে এবং তদন্ত কিভাবে আগাবে তা আগামী দিনে ইডি-ই ঘোষণা করবে।

  • হ্যাথাওয়ের ‘ইনশা আল্লাহ’ বলায় নেটজগৎ সরগরম

    হ্যাথাওয়ের ‘ইনশা আল্লাহ’ বলায় নেটজগৎ সরগরম

    সিসেমি স্ট্রিটে লাল পুতুল এলমোর ‘আসসালামু আলাইকুম’ নিয়ে যে বিতর্ক উঠেছিল, তার ধারাবাহিকতায় এবার হলিউড তারকা অ্যান হ্যাথাওয়ের একটি সাক্ষাৎকারে ‘ইনশা আল্লাহ’ বলা নেটদুনিয়ায় তুমুল আলোচনা উসকে দিয়েছে।

    সম্প্রতি পিপল ম্যাগাজিনকে দেয়া এই সাক্ষাৎকারে চল্লিশোর্ধ্ব জীবনের কথা বলার সময় হ্যাথাওয়ে বলেন, “আমি একটি দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন কাটাতে চাই, ইনশা আল্লাহ। আমি সেটাই আশা করি।” ব্যবহারিকভাবে সহজ ও স্বাভাবিক এই উচ্চারণ শোনার পর নেটিজেনরা অবাক হয়েছেন এবং ভিডিওটি এক্সে দ্রুত ভাইরাল হয়েছে।

    অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে হ্যাথাওয়ে শব্দটি সঠিক প্রাসঙ্গিকে—and—সঠিক উচ্চারণে ব্যবহার করেছেন, যা ইঙ্গিত করে তিনি এর সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সূক্ষ্মতা সম্পর্কে সচেতন। বিশেষ করে মুসলিমরাও তার এই অন্তর্ভুক্তি ও আন্তরিকতা প্রশংসা করেছেন।

    তবে সাক্ষাৎকারটি কেবল এই এক বাক্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। চার দশকের জীবনানুভবে হ্যাথাওয়ে বলেছেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অতীতের সিদ্ধান্তগুলোকে নভেল দৃষ্টিতে দেখা যায় এবং তা ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত নেয়ায় সহায়ক হয়। তিনি বলেন, “৪০ বছর বয়সে ফিরে তাকালে বোঝা যায় যে অতীতের সিদ্ধান্তগুলো কীভাবে বর্তমানকে গঠন করেছে।”

    বয়সকে তিনি ভয়ের বদলে কৌতূহল এবং গ্রহণযোগ্যতায় গ্রহণ করার কথাই বলেন। “আমি এখন জীবনকে আরও সহজভাবে নিতে শিখেছি। আপনি চাইলে বার্ধক্যকে ভয় পাবেন, বা অনিশ্চয়তাকে ভয় পাবেন—কিন্তু আমি বার্ধক্যকে কৌতূহলসহ গ্রহণ করতে পছন্দ করি,”—এমন ভাবনাই তার মনোভাবকে প্রকাশ করে।

    হ্যাথাওয়ের এই নম্রতা এবং ‘ইনশা আল্লাহ’ শব্দের ব্যবহার এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা ও প্রশংসার কেন্দ্রবিন্দু। অনেক ভক্ত মনে করছেন, এই ছোট্ট উচ্চারণেই তার সংবেদনশীলতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক মনোভাব ফুটে উঠেছে।

  • নিয়ামতপুরে জমি-বিবাদে একই পরিবারের চারজন গলাকেটে হত্যা, ৩ গ্রেপ্তার

    নিয়ামতপুরে জমি-বিবাদে একই পরিবারের চারজন গলাকেটে হত্যা, ৩ গ্রেপ্তার

    নওগাঁর নিয়ামতপুরে জমি ভাগবাটোয়ারা নিয়ে বিরোধের জের ধরে একই পরিবারের চারজনকে গলাকেটে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যা কাজে ব্যবহৃত ধারালো হাসুয়া ও ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে—সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

    পুলিশ সুপারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত রাত্রিতে (২১ এপ্রিল) উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে একটি নির্মম হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহ ও তদন্ত শুরু করে। পরের দিন (২২ এপ্রিল) বিকেলে জেলা পুলিশের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার এই তথ্য জানান।

    পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন সবুজ রানা (২৫), শহিদুল ইসলাম ও শহিদুলের ছেলে শাহিন মন্ডল। তাদের মধ্যে দুইজন পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত আরও কয়েকজনকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে; তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

    পুলিশের উপাত্তে জানা গেছে, নিহত নমির উদ্দিনের সন্তান ও নাতি–নাতনীদের মধ্যে জমি-বিতর্ক ছিল। নমির উদ্দিনের এক ছেলে ১৩ বিঘা জমি পেয়েছিলেন এবং প্রতিটি মেয়েকে ১০ কাঠা করে জমি দেওয়া হয়েছিল। এ নিয়ে বোনদের ও তাদের জামাইদের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। পুলিশ জানিয়েছে, দুই দিন আগে সবুজ এবং নিহত হাবিব একযোগে কিছু টাকা নিয়ে গরু কিনতে গিয়েছিলেন—সেই সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে তাদের মধ্যেকে আক্রমণের পরিকল্পনা গড়ে ওঠে।

    পুলিশ সুপার জানান, হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিত ছিল। রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার দিকে শহিদুল, স্বপন (নিহতের চাচাতো ভাই), সবুজ ও শাহিন মিলে হাবিবুর রহমানের ঘরে ঢুকে তাকে বড় ধারালো হাসুয়া দিয়ে জবাই করে। পরে তারা ধারাবাহিকভাবে হাবিবের স্ত্রী পপি সুলতানা ও তাদের দুই সন্তান—পরভেজ (৯) ও সাদিয়া আক্তার (৩)—কেও হত্যা করে।

    প্রকৃত ঘটনাপ্রবাহ অনুযায়ী, হামলাকারীরা বাড়ির বাইরে থেকে নমির উদ্দিনের ঘরের দরজায় ছিটকানি লাগিয়ে তাকে ঘর থেকে বের হতে বাধা দেয়। নিহতের পরিবারের খেতে বা ঘরের আশেপাশে ধরা–ছড়ি লুকানো ছিল—পুলিশ আলামত থেকে এসব উদ্ধার করেছে। পপি খাবার খেয়ে ঘর থেকে বের হলে সবুজ তাকে হামলা করে এবং পরে শিশুদের ঘরে ঢুকে তাদেরও হত্যা করা হয়।

    হাসুয়া ও ছুরি উদ্ধার হয়েছে; একটি বড় ধারালো হাসুয়া শহিনের বাড়ির কাছে থেকে উদ্ধার করা হয় এবং পরে পুকুর থেকে আরেকটি ধারালো ছুরি উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

    নিহত পপি সুলতানার বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন নিয়ামতপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ জনতা সবুজের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে এবং পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে কেউ নিরপরাধ মানুষকে কষ্ট না পায়।

    পুলিশ মামলার তদন্তে দ্রুতগতিতে কাজ করছে এবং গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে নিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। নিঃসন্দেহে এই নির্মম হত্যাকাণ্ড এলাকার মানুষকে শিহরিত করেছে এবং পুলিশ দাবি করেছে, হত্যার মূল কারণ গ্রাম্য জমি-বিতর্ক এবং উত্তরাধিকার নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

  • লোকবল সংকট মেটাতে শিগগিরই ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    লোকবল সংকট মেটাতে শিগগিরই ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

    স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, স্বাস্থ্যখাতে অব্যাহত লোকবল সংকট দুর করতে শিগগিরই এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেয়া হবে। তিনি এ কথা বলেন বুধবার (২২ এপ্রিল) ঢাকার শাহবাগে বাংলাদেশ-চীন যৌথ সার্জিক্যাল ক্লিনিক চালুর সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের মন্তব্য করার সময়ে।

    মন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, দেশে হামের টিকার মজুত রয়েছে ছয় মাসের জন্য। ভবিষ্যৎ ছয় মাস এই টিকা প্রদান করতে কোনো জটillo হবে না—পর্যাপ্ত মজুদ আছে—এমন আশ্বাস দিয়েছেন তিনি এবং জনস্বাস্হ্যের বিষয়ে অপ্রয়োজনে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

    লোকবল সংকট মোকাবেলায় এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি, সকল উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি হাসপাতালে ১০ জন সশস্ত্র আনসার দায়িত্বে নিয়োগ দেয়া হবে বলেও ঘোষণা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, জটিল অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসাসেবায় দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। চীনের সহায়তায় দেশে যৌথ সার্জিক্যাল ক্লিনিক ও ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসাসেবা চালুর লক্ষ্যে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে—এ তথ্যও তিনি নিশ্চিত করেন।

    মন্ত্রী ও অতিথিরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই উদ্যোগগুলো দেশের স্বাস্থ্যসেবার গ্রহণযোগ্যতা ও প্রাপ্যতা বাড়াবে, এবং চিকিৎসক-নার্স ও রোগীদের জন্য সুরক্ষা ও সহায়ক পরিবেশ জোরদার করবে।

  • বিএনপি’র মনোনয়ন পেলেন সংখ্যালঘু চার নারী

    বিএনপি’র মনোনয়ন পেলেন সংখ্যালঘু চার নারী

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে চার নারী প্রার্থীকে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। সোমবার নয়াপল্টনের বিএনপি কার্যালয়ে এই প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। মনোনীত হয়েছিলেন নিপুণ রায় চৌধুরী, আন্না মিঞ্জ, সুবর্ণা শিকদার ও মাধবী মারমা।

    বিএনপি’র মনোনয়নে সমাজে ভিন্নতা ও প্রতিনিধিত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে বিশেষ নজর কেড়েছেন উন্নয়নকর্মী ও আদিবাসী ওঁরাও সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি আন্না মিঞ্জ। আন্না বর্তমানে ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র ডিরেক্টর (প্রোগ্রাম) হিসেবে কাজ করছেন। নাটোরের বাসিন্দা আন্না বলেন, তিনি সুবিধাবঞ্চিত সংখ্যালঘু, খ্রিস্টান সম্প্রদায় ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করবেন। তার স্বামী জন গোমেজ বিএনপি’র কেন্দ্রীয় বিষয়ক কমিটির ধর্মবিষয়ক সহ-সম্পাদক।

    সাংস্কৃতিক ও ভৌগোলিক দিক থেকে বিভিন্ন অঞ্চলকে প্রতিনিধিত্ব করানোর লক্ষ্যে সুবর্ণা শিকদার ও মাধবী মারমাকেও মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। সুবর্ণা গোপালগঞ্জ থেকে আসছেন; তিনি মথুয়া বহুজন সমাজ ঐক্যজোটের প্রধান উপদেষ্টা ও একজন শিক্ষক। মনোনয়ন প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা শুরু হওয়ার পর সুবর্ণা গণমাধ্যমকে বলেন, “আমি বিএনপি’র একজন সমর্থক; কোনো স্থানীয় কমিটিতে নেই।” তাঁর স্বামী পদ্মনাভ ঠাকুর এক সময় যুবদলের নেতা ছিলেন।

    মাধবী মারমা বান্দরবান থেকে মনোনীত। তিনি বান্দরবান জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য এবং দলের মহিলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিত।

    দলীয় নেতারা বলছেন, সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেই একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ার উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তারা আশা করেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে এসব নারী প্রার্থী গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেবেন এবং সমাজে বৈচিত্র্যপূর্ণ কণ্ঠস্বর গড়ে তুলবেন।

  • সরকার ভুল করলে নারী এমপিরাও সরব হবেন: হামিদুর রহমান আযাদ

    সরকার ভুল করলে নারী এমপিরাও সরব হবেন: হামিদুর রহমান আযাদ

    জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেছিলেন, সরকার যদি কোনো ভুল পথে চলে বা জনবিরোধী সিদ্ধান্ত নেয়, তখন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যরাও বিরোধীদলীয় অন্য সদস্যদের মতোই সক্রিয়ভাবে সোচ্চার হবেন। এসব কথা তিনি মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) নির্বাচন ভবনে জামায়াত জোটের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে জানান।

    আযাদ বলেন, নারী আসনের জন্য ১৩টি আসনে জামায়াত-সহযুক্তদের সম্মিলিত (কম্বাইন) তালিকা জমা দেওয়া হয়েছে। আমরা আশাবাদী যে এসব আসনে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী থাকবে না ও এই ১৩ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গেও এই প্রত্যাশা নিয়ে আলাপ হয়েছে এবং আমরা চাই কমিশন যেন সময় মতো ও সুষ্ঠুভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করে, কোনো ভিন্ন পরিস্থিতি তৈরি না হয়।

    তিনি আরও জানান, সংসদ চলছে—যদি মনোনীতরা সময় মতো নিয়ে পার্লামেন্টে যোগ দিতে পারেন, তাহলে নারী প্রতিনিধিত্ব সংক্রান্ত জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে। নারী এমপি হিসেবে এই ১৩ জন সারা জাতির জন্য আইন প্রণয়ন ও অন্যান্য কাজেই পূর্ণ অধিকার ও ক্ষমতা ব্যবহার করবেন; সংবিধানও তাদের সেই সুযোগ দিয়েছে।

    আযাদ আশা করেন মনোনীত ১৩ জন নির্বাচিত হয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষে পার্লামেন্টে নারী প্রতিনিধিত্ব করবেন এবং বিরোধীদলীয় কাতারে থেকে দেশ গঠনে অংশ নেবেন। তিনি বললেন, বর্তমানে বিরোধীদলে ৭৭ জন সদস্য আছে এবং ১৩ জনের যোগে মোট ৯০ জন বিরোধীদলীয় সদস্য একসঙ্গে ভূমিকা পালন করবেন—এই প্রত্যাশা রাখছি।

    গণভোট ও সাংবিধানিক সংস্কার নিয়ে প্রশ্নে আযাদ বলেন, গণভোটের রায় অনুযায়ী সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ গঠন হওয়ার কথা ছিল; তা না হওয়ায় ১১ দল সরকারী সিদ্ধান্ত ও জনভাগের উপেক্ষার প্রতিবাদে পার্লামেন্টে এবং পার্লামেন্টের বাইরে রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও তারা এ প্রতিবাদ অব্যাহত রাখবে।

    একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন যে জামায়াতে এক পরিবারের দুই সংসদ সদস্যের নীতি না থাকা থাকায় দলের আমিরের সহধর্মিণীকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেয়া হয়নি; বরং শহীদ পরিবারের মাতাকে এবং সমাজে অবদান রাখায় ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ারসহ বিভিন্ন পেশার মানুষদের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে।

    এনসিপির প্রার্থী মুনিরা শারমিনের সরকারি চাকরি থেকে অবসর না হয়ে তিন বছর না পেরোলে প্রার্থী হওয়া যায় না—এমন অভিযোগ সম্পর্কে আযাদ বলেন, তা নিয়েও মনোনয়নপত্র বাতিল হবে বলে তিনি আশা করছেন না।

    তিনি শেষ দিকে নির্বাচনী সময়সূচিও তুলে ধরেন: মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল; আপিল করা যাবে ২৬ এপ্রিল; আপিল নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল; প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৯ এপ্রিল; প্রতীক বরাদ্দ ৩০ এপ্রিল এবং ভোটগ্রহণ নির্ধারিত আছে ১২ মে।

  • এপ্রিলের প্রথম ১৯ দিনে রেমিট্যান্স ২.১৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

    এপ্রিলের প্রথম ১৯ দিনে রেমিট্যান্স ২.১৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

    চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ১৯ দিনে দেশে রেমিট্যান্স入り এসেছে ২.১৩ বিলিয়ন বা ২১২ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার, যা দৈনিক গড় প্রাপ্তিকে দাঁড় করিয়েছে প্রায় ১১২ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১১ কোটি ১৯ লাখ)। এই তথ্য সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান নিশ্চিত করেছেন।

    মুখপাত্র জানান, গত বছরের একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৭১ কোটি ৯০ লাখ ডলার। তুলনায় এবারের প্রবাহ অনেকটা দ্রুতগতিতে বেড়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক উপাত্ত অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৮৩৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২০ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি।

    একই সঙ্গে গত মার্চ মাসে একক মাস হিসেবে রেমিট্যান্স এসেছে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যা দেশের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ এক মাসের প্রবাহ হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। ফেব্রুয়ারি ও জানুয়ারিতে যথাক্রমে ৩০২ কোটি ৭ লাখ এবং ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। ডিসেম্বরে ছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ, নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ এবং সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার।

    বিশ্ববাজারে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বৈদেশিক মুদ্রার বাজারেও তরঙ্গ সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় মুদ্রার তুলনায় ডলারের বিনিময় হার বাড়ছে। এর ফলে প্রবাসীরা যখন বিদেশি মুদ্রা পাঠাচ্ছেন, তারা তুলনামূলকভাবে বেশি টাকাই পেয়েছেন—যা রেমিট্যান্স বৃদ্ধির এক কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

    অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, যদি মধ্যপ্রাচ্যের সংকট দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে তা বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় তারা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে শক্ত অবস্থানে রাখার পরামর্শ দেন।

    সংক্ষেপে, সাম্প্রতিক সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহে দ্রুতগতিসহ বৃদ্ধি দেখা গেলেও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা এবং ভূ-রাজনীতিক উত্তেজনা ভবিষ্যতে চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে। তাই রিজার্ভ ও নীতিগত প্রস্তুতিকে আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তাই অধিকতর জরুরি বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।