Blog

  • বৈদেশিক ঋণ ৭৮,০৬৭.২০ মিলিয়ন ডলার: সংসদে জানালেন অর্থমন্ত্রী

    বৈদেশিক ঋণ ৭৮,০৬৭.২০ মিলিয়ন ডলার: সংসদে জানালেন অর্থমন্ত্রী

    অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদে জানান, দেশের বৈদেশিক ঋণের বর্তমান পরিমাণ ৭৮,০৬৭.২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তিনি এই তথ্য মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৮তম দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রদান করেন।

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য স্বতন্ত্র এমপি রুমিন ফারহানা প্রশ্ন করে জানতে চান—বর্তমানে বিদেশি ঋণের মোট অবস্থান কত, ঋণ পরিশোধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে কি না।

    জবাবে আমির খসরু বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের স্থিতি ৭৮,০৬৭.২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তিনি বলেন, ঋণ পরিশোধ সংক্রান্ত কাজ সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) পরিচালনা করে থাকেন।

    অর্থমন্ত্রী আরও জানান, প্রতিটি অর্থবছরে ঋণের মূল ও সুদ মিলিয়ে মোট সম্ভাব্য ব্যয়ের একটি প্রক্ষেপণ তৈরি করা হয় এবং সেই পরিমাণ অনুযায়ী বাজেটে অর্থ সংরক্ষণ করা হয়। বাজেট বরাদ্দ ব্যবহার করে বছরের throughout ঋণের পরিশোধ সূচি অনুসারে भुगतान করা হচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে অন্তত ৯০.৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, নির্ধারিত বাজেট ও সময়সূচি মেনে ধারাবাহিকভাবে ঋণ শোধের কাজ চলছে।

  • হরমুজ প্রণালীতে আইআরজিসি দুই কন্টেইনার জাহাজ জব্দ

    হরমুজ প্রণালীতে আইআরজিসি দুই কন্টেইনার জাহাজ জব্দ

    শান্তি আলোচনার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হরমুজ প্রণালীতে দুটি কন্টেইনার জাহাজ জব্দ করেছে ইরানের বিপ্লবী garde বাহিনী (আইআরজিসি)। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানা গেছে, আজ বুধবার স্থানীয় সময় সকালে এই ঘটনা ঘটেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।

    আইআরজিসি নৌ-শাখা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের সময় ‘আইন লঙ্ঘনকারী’ হিসেবে দুইটি জাহাজ শনাক্ত করে আটক করা হয়েছে। আটককৃত জাহাজ দুটোকে বর্তমানে ইরানের উপকূলের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। জাহাজ দুটির নাম জানানো হয়েছে — পানামার পতাকাবাহী ‘এমএসসি ফ্রান্সেসকা’ এবং লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ‘এপামিনোডাস’।

    মেরিটাইম ট্র্যাকিং সাইট মেরিন ট্রাফিক জানিয়েছে, জাহাজ দুটির সর্বশেষ অবস্থান ওমানের উত্তর-পূর্বে, ইরানি উপকূলের কাছাকাছি ছিল।

    যুক্তরাজ্যভিত্তিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, ওমান থেকে প্রায় ১৫ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পূর্বে এক কন্টেইনার জাহাজকে লক্ষ্য করে আইআরজিসি বোট থেকে গুলি চালানো হয়। এতে জাহাজটির ব্রিজ বা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এছাড়া ব্রিটিশ নিরাপত্তা সংস্থা ভ্যানগার্ড টেক জানায়, ওই ঘটনায় আরো একটি কন্টেইনার জাহাজ ‘ইউফোরিয়া’কে আট নটিক্যাল মাইল পশ্চিমে গুলি করে থামিয়ে রাখা হয়।

    ঘটনাটি কেন্দ্রীয় ভূ-রাষ্ট্রনীতিতে পুরোনো একটা বিতর্ককে তীব্র করেছে — পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণের লড়াই। বরাবরই এই নৌপথটি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই রুট দিয়েই পরিবাহিত হয়।

    রিপোর্টগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সামুদ্রিক উত্তেজনা বরাবরের মতোই তীব্র। যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনী বলছে তারা ইরানি বন্দরে যাতায়াতকারী কিছু জাহাজকে নজরদারি ও প্রয়োজন হলে বাধা দিচ্ছে; অন্যদিকে তেহরান ঘোষণা করেছে যে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ বা ত্যাগের জন্য হরমুজ প্রণালী ব্যবহারকারীদের তাদের অনুমতি নিতে হবে।

    ঘটনার পর আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ও বাণিজ্যশিল্পের অংশী জনেরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে এই ধরনের উত্তেজনা যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে তেলের বাজার এবং আন্তর্জাতিক শিপিং লাইনের উপর প্রভাব পড়তে পারে। ঘটনার অনুসন্ধান ও প্রতিক্রিয়া এবারেরই ওপর নির্ভর করবে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি প্রশমিত হবে কি না।

  • রাত পোহালেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোট, সারা দেশের নজর

    রাত পোহালেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোট, সারা দেশের নজর

    রাত পোহালেই শুরু হচ্ছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন। প্রথম দফার ভোটগ্রহণ আগামী বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাজ্যের ১৬টি জেলায় ১৫২টি আসনে অনুষ্ঠিত হবে। বাকি ৮ জেলার ১৪২টি আসনে দ্বিতীয় দফার ভোট হবে ২৯ এপ্রিল। এই প্রতিযোগিতা কেউ মনে করছে ক্ষমতায় টিকে থাকার লড়াই, কেউ বলছে এটা ক্ষমতা দখলের যুদ্ধে পরিণত হবে, আবার অনেকেই এটিকে প্রতিষ্ঠার লড়াই বলছেন। তাই পুরো দেশের দৃষ্টি এখন পশ্চিমবঙ্গে।

    নির্বাচনের ফল কখনোই একক ইস্যু বা একক জোড়ার উপর নির্ভর করে না। প্রার্থী, ইস্যু, সাংগঠনিক শক্তি ও ভোটারের অনুভব—এসবের জটিল সমাহার দিয়ে ফল নির্ধারিত হয়। পশ্চিমবঙ্গের এই সমীকরণে কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক ব্যক্তি বিশেষ ভূমিকা নিচ্ছেন। তারা কেউ সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী, কেউ সিদ্ধান্ত-গ্রহণে প্রভাবশালী ও কেউ আবার রাজ্যের বাইরে থেকে হলেও ভোটের পাখির চোখ হিসেবে বিবেচিত।

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে থাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তৃণমূল নেতারা প্রায়ই ‘রাজ্যের ২৯৪টি আসনে একমাত্র ভোটার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। ২০১১ সালে ৩৪ বছরের বাম শাসনের পর রাজ্যের প্রথম নারী মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে ক্ষমতায় এসে তিনি এখনও ধরে রেখেছেন ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু। তাঁর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, জনসংযোগ ও সংগ্রামী প্রতিচ্ছবি তৃণমূলের সবচেয়ে বড় শঙ্খস্বরূপ।

    তবে গত কয়েক বছরে তার দলের কিছু নেতা-মন্ত্রীকে কেন্দ্র করে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় তৃণমূলের জন্য পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জিং হয়েছে। শিক্ষা ও পৌরসেবা সংক্রান্ত নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ, রেশন দুর্নীতি এবং বিভিন্ন অনৈতিক ঘটনার খবর জনমানসে ক্ষোভ তৈরি করেছে। এসব বিষয় বিরোধীদের নির্বাচনী আক্রমণের প্রধান হাতিয়ার। তবু লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রী, স্বাস্থ্যসাথী, যুবসাথী ইত্যাদি সামাজিক ও কল্যাণমূলক প্রকল্প ভোটে তৃণমূলের পক্ষে প্রভাব ফেলতে পারে—বিশেষত নারী ও মুসলিম ভোটারের মধ্যে।

    নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহ জুটি

    বিজেপি দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গকে ‘পাখির চোখ’ করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বারবার রাজ্যে এসে জনসভা ও র‍্যালি করে কেন্দ্রীয় সরকারের উন্নয়নকাহিনি প্রচার করেছেন। মোদির কাছে সমর্থন টানার ওপর বিজেপি নির্ভর করছে; আর অমিত শাহকে দেখা হচ্ছে দলীয় কৌশল রচনায় প্রধান হাত হিসেবে।

    বিজেপি তৃণমূলকে দুর্নীতি, অনুপ্রবেশ ও প্রশাসনিক অসামঞ্জস্যের দায়ে আক্রমণ করেছে এবং দাবি করেছে যে কেন্দ্রীয় উন্নয়ন সুবিধার সুবিধে রাজ্যের নাগরিকদের ঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়া হয়নি। গত কয়েক বছরে রাজ্যে বিজেপির সংগঠন দৃঢ়তর হলেও মোদিকে সামনে রেখে এখানে বড় স্বরলিপি তৈরি করে জেতা কতটুকু সম্ভব হবে—সেটা নির্বাচনবিজ্ঞদের নজরকাড়ার বড় প্রশ্ন।

    অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

    তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যদিও বিধানসভায় প্রতিদ্বন্দ্বী নন, তবু দলের অভ্যন্তরীণ রণকৌশল ও সাংগঠনিক কাজের অনেকটাই তার হাতে-কলমে চলে। ‘বয় নেক্সট ডোর’ ইমেজ ও সাংগঠনিক দক্ষতা তাকে দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রতিশ্রুতিপূর্ণ মুখ হিসেবে তুলে ধরেছে। বিপক্ষের অভিযোগ—দুর্নীতি বা পারিবারিক প্রভাব—এই ইস্যুগুলো দলের সামগ্রিক ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা বলছেন।

    শুভেন্দু অধিকারী

    একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ তৎপর, পরবর্তীকালে বিজেপিতে যোগ দেওয়া শুভেন্দু অধিকারী এখন রাজ্যের বিরোধী শক্তির প্রধান মুখের মধ্যে একজন। নন্দীগ্রাম থেকেই তার জনগণগত প্রভাব রয়েছে এবং বিজেপি তাকে দিয়েই নন্দীগ্রাম ও অন্যান্য এলাকায় শক্তি প্রদর্শন করতে চায়। তৃণমূল এবং অন্যান্য বিরোধীরা তাকে ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতি করার অভিযোগে লক্ষ্য করছেন, আর ভোটার তালিকা ও এসআইআর-সংক্রান্ত বিতর্কও তাঁর আশপাশে নির্বাচনী জটিলতা বাড়িয়েছে।

    হুমায়ুন কবীর

    পূর্বে কংগ্রেস, পরে বিজেপি ও তৃণমূল—সবাইতে কিছু সময় করে যাওয়া হুমায়ুন কবীর শেষমেষ ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ নামে নিজস্ব দল গড়েছেন। মুর্শিদাবাদে মসজিদ নির্মাণ সংক্রান্ত ঘোষণাসহ宗ীয় ইস্যু কেন্দ্র করে তিনি আবারো আলোচনায় এসেছেন। কবীরের দলের প্রভাব প্রধানত দক্ষিণবঙ্গের নির্দিষ্ট অঞ্চলে আছে; মুসলিম ভোটের ভাগাভাগি এখানে ফল নির্ধারণে গুরুত্ব বহন করতে পারে। তাঁর গতিবিধি ও পার্টি বদলের ইতিহাস বিবেচনায় বিরোধীরা ও সমালোচকরা তাঁকে নানা অভিযোগে তুলছেন।

    চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাব্য ভোটপ্রভাব

    তৃণমূলের পক্ষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত কেরিশমা ও দলের কল্যাণমূলক প্রকল্প শক্ত লাভদায়ক ফ্যাক্টর। অন্যদিকে দুর্নীতি, নিয়োগ কেলেঙ্কারি, বিভিন্ন অপরাধমূলক ঘটনাসহ প্রশাসনিক অভিযোজনগুলি দলকে অসুবিধায় ফেলতে পারে। বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব—মোদি ও শাহ—যদি রাজ্যের ভোটমঞ্চে শক্তি প্রদর্শন করতে পারেন, তাহলে সেটিও তাদের পক্ষে বড় প্লাস পয়েন্ট হবে।

    রাজ্যের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও প্রবীণ সাংবাদিকরা বলছেন, ‘‘মমতা তৃণমূলের অচলাপ্রাচীন নেতা; অন্যদিকে মোদি-শাহ জুটি বিজেপির আখরোশ। শুভেন্দু, অভিষেক ও হুমায়ুন কবীর—এরা প্রত্যেকেই নির্বাচনকে ভিন্ন রূপ দিতে পারে।’’ শিখা মুখার্জী উল্লেখ করেছেন যে অভিষেক দলের সংগঠন মজবুত করতে ভূমিকা রেখেছেন, আর শুভেন্দু স্থানীয় স্তরে শক্তিজমা করে রেখেছেন। হুমায়ুন কবীরকে তিনি বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন না—কারণ তার দল ও অবস্থান অনিশ্চিত মনে করেন অনেকে।

    উজ্জ্বল রায় আরও বলেন, ‘‘মোদি-শাহের উপস্থিতি সবসময় নির্বাচনে গুরুত্ব বাড়ায়, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে সেই কৌশল সব সময় ফল দেয় না। এসআইআর-সহ সমসাময়িক ইস্যু ভোটকে প্রভাবিত করতে পারে।’’

    শেষ কথায়, পশ্চিমবঙ্গের এই নির্বাচন কৌতূহল, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও আবেগ—all মিলিয়ে তৈরি করছে একটি তীব্র রাজনীতিক ময়দান। ভোটের পলকে যা ঘটবে, সেটা শুধু রাজ্যের ভবিষ্যতই নয়—কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক ও জাতীয় রাজনীতিক খাঁজেও প্রভাব ফেলতে পারে।

  • রামপালে সরকারি খালে অবৈধ বাঁধ অপসারণ, পানি প্রবাহ স্বাভাবিক

    রামপালে সরকারি খালে অবৈধ বাঁধ অপসারণ, পানি প্রবাহ স্বাভাবিক

    বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় সরকারি খাল দখলে রেখে নির্মিত একটি অবৈধ বাঁধ সকাল সাড়ে ১০টায় অপসারণ করেছে উপজেলা প্রশাসন। বুধবার (২২ এপ্রিল) জেলার ঝনঝনিয়া-নালিয়ার খালে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

    অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট অভিজিৎ চক্রবর্তী। তাঁর নির্দেশনায় খালের উপর নির্মিত বাঁধ কেটে অপসারণ করা হলে দীর্ঘদিন ধরে বাধাগ্রস্ত থাকা পানি প্রবাহ দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।

    অভিযানের সময় সহকারী কমিশনার জানান, খালে বেআইনিভাবে বাঁধ দেওয়ার ফলে পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়ে পড়ছিল, যা কৃষি উৎপাদন ও পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছিল। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে দ্রুত তফসিল মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, আজকের অভিযান খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত করেছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কড়াকড়ি ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। অভিযান চলাকালে স্থানীয় সুশীল সমাজ ও এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।

  • যশোরে পুত্রবধূ মরিয়ম শাশুড়িকে গলাকেটে হত্যা করে বস্তায় ফেলে রাখলেন

    যশোরে পুত্রবধূ মরিয়ম শাশুড়িকে গলাকেটে হত্যা করে বস্তায় ফেলে রাখলেন

    যশোরের বেজপাড়া এলাকায় শাশুড়িকে গলাকেটে হত্যা করে বস্তাবন্দি মরদেহ বাড়ির সামনে ফেলে রাখার অভিযোগে পুত্রবধূ মরিয়ম বেগম (২০) গ্রেপ্তার হয়েছেন। ঘটনায় ব্যবহৃত দেশীয় চাপাতিও উদ্ধার করা হয়েছে।

    বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাসার এই তথ্য জানান। নিহত হলেন সকিনা বেগম (৬০), তিনি লাল চাঁদ খলিফার স্ত্রী এবং বেজপাড়া মেইন রোড এলাকার বাসিন্দা।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে সকিনা বেগমের ছেলে শহিদুল দোকানে যান। বেরোনোয়ার আগে তার স্ত্রী মরিয়ম তাকে বলেছিলেন বাড়িতে রান্না হয়নি, বাইরে খেয়ে নিতে। শহিদুল মাকে খোঁজ করলে বাড়ির লোক জানান, তিনি বাইরে তালিমে গেছেন।

    রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ি ফিরলে মাকে না পেয়ে শহিদুল পুনরায় খোঁজখবর নেন। পরে সন্দেহজনক পরিস্থিতি হওয়ায় তিনি থানায় ফোন করে পুলিশকে জানান। গভীর রাতে—রাত সাড়ে ১২টার দিকে—বাসার সামনে একটি বস্তার মধ্যে লাশ দেখতে পান শহিদুল। তিনি ও তার বোন শাহিদা বেগম মিলিয়ে মরদেহটি সকিনা বেগমের বলে শনাক্ত করেন।

    ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে ডিবি ও কোতোয়ালি থানা পুলিশের যৌথ দল লাশ উদ্ধার করে আলামত সংগ্রহ করে। তদন্তে মরিয়মের আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় তাকে ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়।

    জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে মরিয়ম হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে শাশুড়ির সঙ্গে পারিবারিক নানা বিষয়কে কেন্দ্র করে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন শাশুড়ির সঙ্গে বকবক হওয়ার পর ক্ষিপ্ত হয়ে ঘরে থাকা একটি চাপাতি দিয়ে গলায় আঘাত করে তিনি তাকে হত্যা করেন। পরে মরদেহ বস্তায় ভরে বাড়ির সামনের স্থানে ফেলে দেন এবং হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতিটি ওয়্যারড্রবের মধ্যে লুকিয়ে রাখেন।

    মরিয়মের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তাদের ঘর থেকে চাপাতিটি উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ বলেছে, ঘটনার পর বিস্তারিত তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহসান হাবীবসহ অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

  • স্লো ওভার রেট: আইসিসি বাংলাদেশকে ১০% ম্যাচফি জরিমানা

    স্লো ওভার রেট: আইসিসি বাংলাদেশকে ১০% ম্যাচফি জরিমানা

    মিরপুরে গত পরশু দ্বিতীয় ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সিরিজে সমতা ফেরায় বাংলাদেশ। আগামীকাল চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডেতে দুদল আবার মুখোমুখি হবে।

    এসব ক্রীড়া মহরুমের মাঝে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি) আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে, স্লো ওভার রেটের কারণে মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের প্রত্যেককে ম্যাচ ফি’র ১০ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে।

    আইসিসি জানিয়েছে, বাংলাদেশের ইনিংসে নির্ধারিত সময়ের তুলনায় দুই ওভার কম বোলিং হয়েছে। মাঠের আম্পায়ার রিচার্ড ইলিংওয়ার্থ ও গাজী সোহেল এটি নির্দেশ করেন; তৃতীয় আম্পায়ার ছিলেন নিতিন মেনন এবং চতুর্থ আম্পায়ার মাসুদুর রহমান মুকুল। শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এনে এই শাস্তি ঝুলিয়ে দেন আইসিসির এলিট প্যানেলের ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফট।

    আইসিসির খেলোয়াড় ও স্টাফদের আচরণবিধির ধারা ২.২২ অনুসারে প্রত্যেকটি ওভার নির্ধারিত সময়ের তুলনায় কম হলে প্রতিটি খেলোয়াড়কে ৫ শতাংশ করে ম্যাচফি জরিমানা করা হয়। বাংলাদেশ দুই ওভার কম বোলিং করেছে, তাই মোট ১০ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে। মিরাজ নিজে ভুল স্বীকার করে শাস্তি গ্রহণ করেছেন এবং অনুষদীয় কোনো আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন পড়েনি।

    ম্যাচের আদালতীয় প্রক্রিয়ার পাশাপাশি অন-ফিল্ডও একটি শাস্তিমূলক নির্দেশনা ছিল—আম্পায়াররা ৪৭ ওভার শেষে স্লো ওভার রেটের ইঙ্গিত দেয়ায় শেষ তিন ওভারে বাংলাদেশকে বৃত্তের ভেতরে একজন ফিল্ডার বেশি রাখতে বলা হয়েছিল।

    ওই ম্যাচে নিউজিল্যান্ড আগে ব্যাট করে ৪৮.৪ ওভারে ১৯৮ রানে অলআউট হয়। বাংলাদেশ নির্ধারিত লক্ষ্য টার্গেট তা পূরণ করে ৮৭ বল হাতে রেখে ৫ উইকেটে জয় পায়। নাহিদ রানা নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাঁচ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার সম্মান পান।

  • শ্রীলঙ্কার কাছে হার, সিরিজে সমতায় ফিরল বাংলাদেশ নারী দল

    শ্রীলঙ্কার কাছে হার, সিরিজে সমতায় ফিরল বাংলাদেশ নারী দল

    তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ নারী দল। কিন্তু সিরিজের দ্বিতীয় লড়াইয়ে জয়ের ধারাকে ধরে রাখতে পারেনি নিগার সুলতানা জ্যোতির নেতৃত্বাধীন টিম — সফরকারীরা চার উইকেটে জিতিয়ে সিরিজকে ১-১ সমতায় নিয়ে এসেছে। সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী শনিবার।

    রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ম্যাচে ১৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় শ্রীলঙ্কা। ওপেনার হাসিনি পেরেরা মাত্র ৫ রানে ফিরে যান, আর ইমেশা দুলানি করেন ৮ রান। তবে অধিনায়ক চামারি আতাপাতু আগ্রাসী ব্যাটিং করে ৩৯ বলে ৪০ রান করেন, যার মধ্যে ছিল আটটি চার।

    চতুর্থ উইকেটে হারশিথা সামারাবিক্রমা ও হানসিমা করুনারত্নের ৭৭ রানের উজ্জ্বল জুটিই দলকে জয়সূত্রে নিয়ে যায়। দমে থাকা সংগ্রহ বাড়াতেই সক্ষম হন তারা, তবে জুটির কেউই ইনিংসটি শেষ করতে পারেননি — করুণারত্নে ৪০ এবং সামারাবিক্রমা ৫০ রানে আউট হন। কৌশানি মাত্র ৪ রানে ফিরে গেলেও শেষ দিকে কাভিশা ও নীলাক্ষী শান্তভাবেই ব্যবধান পুঁজি করে মাঠ ছাড়েন এবং চার উইকেটে ম্যাচ জিতে নেন সফরকারীরা।

    বাংলাদেশ দলের হয়ে বোলিংয়ে প্রয়াণী ছিলেন নাহিদা আক্তার; তিনি সর্বোচ্চ চারটি উইকেট নিয়েছেন। এছাড়া সুলতানা খাতুন ও রিতুমনি একজন করে উইকেট নেন।

    এর আগে টস জিতে রাজশাহীতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। কিন্তু প্রথম উইকেট পতনের পর বাংলাদেশের টপঅর্ডার ভালোভাবে আত্মকে ধরে রাখতে পারেনি — মাত্র ৪ রান পর্যন্ত এসে জুয়াইরিয়া ফেরদৌস ২ রানে এবং শারমিন আক্তার শূন্য রানে আউট হন।

    টিমকে সামলানোর চেষ্টা করে গেলেও একের পর এক উইকেট হারায় বাংলাদেশ। দলনেতা জ্যোতি একটি বড় পার্টনারশিপ গড়ে দলের ইনিংস এগোয়ালেও তিনি আউট হওয়ার আগে ১০১ বলে ৫৮ রান করে ফিরেন; তাঁর ইনিংসটি চারটি চারে সাজানো।

    অন্যদের মধ্যে শারমিন সুলতানা ২৫, সোবহানা মোস্তারি ৫, স্বর্ণা আক্তার ১৬, রিতুমনি ১৭, নাহিদা আক্তার ২০, রাবেয়া খান ১৫, মারুফা আক্তার ১ ও সুলতানা খাতুন ১ রান করেন। বাংলাদেশের ইনিংস থামে ১৬৫ রানে।

    শ্রীলঙ্কার হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন দলনেতা চামারি আতাপাতু, আর তিনজন বোলার দুটি করে উইকেট শিকার করেছেন। সিরিজ এখন সমভাবে পৌঁছেছে এবং দুদলই শনিবার রাজশাহীতে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে মুকাবিলা করবে—একটি খণ্ডকালীন উত্তেজনাপূর্ণ সমাপ্তির আশা থাকছে।

  • গম পাচারের তদন্তে নুসরাত জাহানকে ইডির তলব

    গম পাচারের তদন্তে নুসরাত জাহানকে ইডির তলব

    ভারতের কেন্দ্রীয় অনুসন্ধান সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) অভিনেত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য নুসরাত জাহানকে তলব করেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রেশন দুর্নীতি ও সীমান্ত দিয়ে খাদ্যশস্য পাচারের অভিযোগের তদন্তে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজির হতে বলা হয়েছে।

    সূত্রের বরাতে জানা গেছে, তদন্তকারীরা কোভিড সময়কালে সীমান্তবর্তী এলাকায় একাধিক ট্রাক আটক করা হয়েছিল বলে দেখেছেন; ওই ট্রাকগুলোতে সরকারি রেশন ব্যবস্থার গম ও চাল থাকার অভিযোগ ওঠে এবং সেগুলো বাংলাদেশে পাচারের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। সংযোগ খতিয়ে দেখতে এবং 당시 বসিরহাটের সাংসদ ছিলেন নুসরাত জাহানের সম্ভাব্য ভূমিকা সম্পর্কে তথ্যাগ্রহ করতে তাকে ডাকা হয়েছে।

    নুসরাতকে নির্ধারিত সময়ে কলকাতা পরিকাঠামো ভবন (সিজিও) কমপ্লেক্সে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইডির এই তলবকে অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে পরিচালিত জিজ্ঞাসাবাদ হিসাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে — এটি সরাসরি কোনও গ্রেপ্তারি পরোয়া না বলে জানানো হয়েছে।

    এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত নুসরাত জাহানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। মামলার বিস্তারিত ও তদন্তের পরবর্তী ধারা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না পাওয়া পর্যন্ত সূত্রভিত্তিক এই আলোকপাতই প্রকাশ্য।

    এই ঘটনার ফলে গম পাচার এবং রেশন দুর্নীতির তদন্ত পুনরায় প্রবাস ও মিডিয়ার নজরে এসেছে এবং নুসরাতকে পুনরায় আলোচনায় এনেছে।

  • অ্যান হ্যাথাওয়ের ‘ইনশা আল্লাহ’ বলায় নেটজগতে আলোচনার ঝড়

    অ্যান হ্যাথাওয়ের ‘ইনশা আল্লাহ’ বলায় নেটজগতে আলোচনার ঝড়

    সেসামি স্ট্রিটের লাল পুতুল এলমোর ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলাকে নিয়ে যখন ইন্টারনেটে তর্ক-বিতর্ক চলছিল, ঠিক তখনই হলিউড অভিনেত্রী অ্যান হ্যাথাওয়ে এক সাক্ষাৎকারে ‘ইনশা আল্লাহ’ শব্দটি উচ্চারণ করে সবাইকে চমকে দিলেন।

    সম্প্রতি পিপল ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে চল্লিশোর্ধ্ব জীবন ও সুস্থতার বিষয় নিয়ে কথা বলার সময় হ্যাথাওয়ে বলেছিলেন, “আমি একটি দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন কাটাতে চাই ইনশা আল্লাহ। আমি সেটাই আশা করি।” তার এই উক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ভিডিওটি এক্সে ভাইরাল হয়ে যায়।

    হঠাৎ এই শব্দের উচ্চারণ শুনে নেটিজেনরা বিস্ময় প্রকাশ করেন। অনেকেই প্রশংসা করতে শুরু করেছেন যে হ্যাথাওয়ে সঠিক প্রসঙ্গে এবং সঠিক উচ্চারণে শব্দটি ব্যবহার করেছেন, যার ফলে বোঝা যায় তিনি এটির অর্থ ও ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন। বিশেষ করে মুসলিম ভক্তরা তার এই অন্তর্ভুক্তিমূলক আচরণ ও উদার মনোভাবকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

    তবে সাক্ষাৎকারে তিনি শুধুই শব্দটিই বলেননি—জীবন স্মরণীয় করার মতো শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা সম্পর্কেও বিস্তারিত শেয়ার করেছেন। চার দশকের জীবনব্যাপী তার অর্জিত উপলব্ধি সম্পর্কে তিনি বলেন, ৪০ বছরে পৌঁছে পেছনে ফিরে দেখলে বোঝা যায় আগে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো কীভাবে বর্তমান গঠন করেছে এবং তা ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত নিতে সহায়ক।

    বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর কথাও তিনি তুলে ধরেছেন। “আমি এখন জীবনকে আরও সহজভাবে নিতে শিখেছি। আপনি চাইলে বার্ধক্যকে ভয় পেতে পারেন, আবার চাইলে অকালে মৃত্যুকেও ভয় পেতে পারেন। আমি বার্ধক্যকে কৌতূহলের সঙ্গে গ্রহণ করতেই পছন্দ করি।”—এমনটাই বলেন হ্যাথাওয়ে।

    তিনি আরও যোগ করেন, জীবন সব সময়ই অনিশ্চিত—বয়স যে কোনও সংখ্যা হোক না কেন। “পরের মোড়ে আপনার জন্য কী অপেক্ষা করছে তা আপনি কখনোই জানেন না,”—এই জ্ঞানই তাকে এখন অনুপ্রাণিত করছে।

    ইন্টারনেটে হ্যাথাওয়ের বিনয় ও ‘ইনশা আল্লাহ’ শব্দটি ব্যবহারের ঘোর প্রতিক্রিয়া চলছে। অনেকেই তাঁর এই খোলা মনোভাবকে প্রশংসা করছেন, আবার কিছু মন্তব্য মন্তব্য-মিশ্র প্রতিক্রিয়াও এসেছে। যে কোনো কিছুর ক্ষেত্রে এই ধরনের সংলাপ ও অন্তর্ভুক্তি সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার গুরুত্বকে আবারও সামনে এনেছে।

  • কৃষিকে টেকসই ও লাভজনক খাতে রূপান্তরে সরকারের বহুমুখী পরিকল্পনা

    কৃষিকে টেকসই ও লাভজনক খাতে রূপান্তরে সরকারের বহুমুখী পরিকল্পনা

    কৃষি উৎপাদন বাড়ানো, পণ্যের বৈচিত্র্য আনানো ও জলবায়ুর ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার একটি সমন্বিত ‘স্মার্ট কৃষি’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এই মহাপরিকল্পনার প্রথম ধাপ হিসেবে গত ১৪ এপ্রিল সরকার ‘কৃষক কার্ড’ উদ্বোধন করেছে, যার মাধ্যমে কৃষকরা সরাসরি দশ ধরনের সেবা পাবে।

    আজ বুধবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রবিউল আউয়ালের একটি লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, দারিদ্র্য বিমোচন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে কৃষির ভূমিকা অপরিসীম। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জমির সংকোচন ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতাসহ নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব সমস্যা মোকাবিলা করে কৃষিকে টেকসই ও লাভজনক খাতে রূপান্তরই সরকারের লক্ষ্য, এজন্যই কৃষক কার্ড চালু করা হয়েছে।

    কৃষক কার্ডের মাধ্যমে প্রদানযোগ্য দশটি সেবার মধ্যে রয়েছে: ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, স্বল্পমূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি, সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, ফসল বীমা, ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রয়, কৃষি সম্পর্কিত প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আবহাওয়া ও বাজার তথ্য প্রদান এবং ফসলরোগ-শত্রু দমন সংক্রান্ত পরামর্শ। সরকার পর্যায়ক্রমে দেশের সব কৃষকের হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

    সরকারি অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো উন্নত ও উচ্চফলনশীল বীজ ও সুষম সার ব্যবহার সম্প্রসারণ, আধুনিক সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কৃষি যান্ত্রিকীকরণে ভর্তুকি দিয়ে ট্রাক্টর, হারভেস্টার, রিপারসহ যন্ত্রপাতি সহজলভ্য করা। মাটির গভীরতাকে কাজে লাগিয়ে জলব্যবস্থার উন্নয়নে ইতোমধ্যে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    পতিত জমি চাষে ফিরিয়ে আনার জন্য ‘ক্রপ জোনিং’ পদ্ধতি চালু করে প্রতিটি অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়ার উপযোগী ফসল নির্ধারণ করা হচ্ছে, ফলে জমির ব্যবহার সর্বাধিক সম্ভব হবে। খাল খনন ও ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহারের মাধ্যমে বহু পতিত জমি কৃষিযোগ্য করা হচ্ছে; সিলেট ও চরাঞ্চলে বিশেষ প্রকল্পের মাধ্যমে এ কাজ ত্বরান্বিত করা হচ্ছে।

    কৃষিপণ্যের বহুমুখীকরণেও সরকারের গুরুত্ব বাড়ছে—চালের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ধীরে ধীরে ফল, সবজি, ডাল, তেলবীজ, মসলা ও ফুলের চাষ বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। কৃষকদের জন্য ভর্তুকি, স্বল্প সুদের ঋণ ও ফসল বীমা কার্যক্রমকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে কৃষক কার্ড ব্যবহৃত হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনকেও বিশেষ অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।

    সরকারের বরাদ্দ ও সহায়তা বিষয়েও সংসদে তথ্য দেওয়া হয়: চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা খাতে ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্য থেকে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ, সার ও অন্যান্য উপকরণ বিতরণের জন্য ৪০১ কোটি ৬০ লাখ টাকার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যা থেকে প্রায় ২৫ লক্ষ ২২ হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক উপকৃত হয়েছেন।

    ফসল সংরক্ষণ ও বিপণনের সুবিধার জন্য আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ ও গুদাম নির্মাণ, মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের উদ্যোগ এবং পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য এয়ার-ফ্লো মেশিন বিতরণ করা হচ্ছে। রপ্তানির সুযোগ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে উত্তরাঞ্চলে কৃষিপণ্য রপ্তানি অঞ্চল ও ক্রয়কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা চালু রয়েছে।

    কৃষি গবেষণা ও উদ্ভাবনে গুরুত্ব বৃদ্ধি করে সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো—যেমন: বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি), বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) ও বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা)—অধিক ফলনশীল, রোগ-প্রতিরোধী ও স্বল্পমেয়াদি জাত উদ্ভাবনে কাজ করছে। বিশেষভাবে জলবায়ু সহনশীল জাতের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে যাতে পরিবর্তিত পরিবেশেও উৎপাদন বজায় রাখা যায়।

    অবশেষে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কমাতে ‘ক্লাইমেট স্মার্ট কৃষি’ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে আছে লবণাক্ত, খরা ও বন্যা সহনশীল ফসল চাষ, উন্নত পানি ব্যবস্থাপনা, কম সেচে উৎপাদন সম্ভব করা, রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে টেকসই পদ্ধতি গ্রহণ, সেচ ব্যবস্থায় Alternate Wetting and Drying (AWD) প্রবর্তন, প্রি-পেইড মিটার স্থাপন এবং মোবাইল অ্যাপ—যেমন ‘খামারি অ্যাপস’—মাধ্যমে স্থানভিত্তিক আবহাওয়া ও বাজার তথ্য ও চাষ পরামর্শ প্রদান। পাশাপাশি প্রিসিশন এগ্রিকালচারসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষিকে আরও দক্ষ ও পরিবেশবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

    সরকারের দাবি, এই সমন্বিত উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে কৃষি উৎপাদন ও আয় বাড়বে, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দ্রুত পৌঁছাবে এবং কৃষি খাত আরও টেকসই ও লাভজনক হবে।