Blog

  • বিএনপি’র বিরুদ্ধে অপপ্রচারে সতর্ক হচ্ছে জনগণ

    বিএনপি’র বিরুদ্ধে অপপ্রচারে সতর্ক হচ্ছে জনগণ

    খুলনা জেলা বিএনপি’র আহবায়ক মো. মনিরুজ্জামান মন্টু একথা বলেছেন, প্রায় দেড় দশক পর বাংলাদেশে জনগণ এখন বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি নির্বাচিত সরকার দ্বারা গঠিত গণতান্ত্রিক সরকার উপভোগ করছে। তিনি বলেন, বিএনপি’র নিরঙ্কুশ বিজয় মূলতঃ জনগণের বিজয়; মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তিনবারের সফল সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে এই বিজয়ের পেছনে কিছু গোষ্ঠী মিথ্যাচার এবং অপপ্রচার চালিয়ে চলছে, যা সত্যের বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার ও বিএনপি’র বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপপ্রচারে লিপ্ত হয় জনবিরোধী এই গোষ্ঠী, যা থেকে জনগণকে সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে। যারা বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের কোনো নেতাকর্মী বিতর্কিত কাজে জড়িয়ে পড়বে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিচ্ছন্ন ও দলাদলি মুক্ত রাজনীতির প্রতীক হিসেবে পরিচিত তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারকে কোনোভাবেই কালিমালেপন বা অপমানের সুযোগ দেওয়া হবে না।

    রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) নগরীর কে. ডি ঘোষ রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই প্রস্তুতি সভায় সভাপতির বক্তৃতায় মো. মনিরুজ্জামান মন্টু একথা বলেন। এই সভাটি প্রতিবছর রমজান মাসে খুলনার সম্মানিত নাগরিক এবং দলীয় নেতাকর্মীদের জন্য ইফতার মাহফিলের আয়োজনের প্রস্তুতি হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, আগামী ১৬ রমজান (৬ মার্চ) খুলনা ক্লাব মিলনায়তনে বিএনপি’এর ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হবে। এই মাহফিল সফল করে তুলতে জেলা বিএনপি’র আহবায়ক মো. মনিরুজ্জামান মন্টুকে আহবায়ক ও সদস্য সচিব (অপেক্ষাকৃত) এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পীকে সদস্য সচিব করে পাঁচটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে; এর মধ্যে অর্থ ও ক্রয় কমিটি সহ আরও বিভিন্ন উপ-কমিটি রয়েছে।

    এছাড়াও, তিনি আরও বলেন, ইফতার মাহফিলের আর্থিক অনিয়ম বা চাঁদাবাজির কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের সময় বিএনপি’র বিরুদ্ধে অপপ্রচারে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ছিল বটবাহিনী, যারা সীমাহীন মিথ্যাচার চালিয়ে গেছে। আগামী মেয়াদে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে এই গোষ্ঠী তাদের অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। গ্রাম-গঞ্জের সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে তাদের অপপ্রচারের হাত থেকে রক্ষার দায়িত্বে রয়েছে বিএনপি নেতা-কর্মী। একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, সরকারি দল ভেবে নিজেদের অবস্থান গা ভাসিয়ে রাখতে চাইলে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি আরও বাড়বে।

    সদস্য সচিব (অপেক্ষাকৃত) এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী বলেন, কেন্দ্র থেকে খুব শিগগরই দল পুনর্গঠন ও শক্তিশালী করার জন্য নির্দেশনা আসতে পারে। বর্তমান নেতাকর্মীদের ত্যাগ, পরীক্ষা ও নির্যাতনের মূল্যায়ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি, যারা দলের মধ্যে প্রবেশ করে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, তাদের ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ত্যাগী, পরিশ্রমী ও ডেডিকেটেড নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করে দলকে শক্তিশালী ও একত্রিত করা হবে। সকল নেতাকর্মীর এই ইফতার মাহফিলে সক্রিয় দায়িত্ব পালন ও সহযোগিতা করার আহবান জানান তিনি।

    প্রস্তুতি সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপি’র বিভিন্ন নেতৃবর্গ ও দলীয় কর্মকর্তা, যেমন যুগ্ম-আহবায়ক খান জুলফিকার আলী জুলু, মহান মোল্যা খায়রুল ইসলাম, এসএম শামীম কবির, গাজী তফসির আহমেদ, জিএম কামরুজ্জামান টুকু, এনামুল হক সজল, সদস্য শেখ আব্দুর রশিদ, আশরাফুল আলম নান্নু, মো. আনিসুর রহমান, শেখ আজগর আলী, নাসমুস সাকির পিন্টু, জিএম রফিকুল হাসান, আরিফুর রহমান আরিফ, ইলিয়াস মল্লিক, মল্লিক আব্দুস সালাম, মনির হাসান টিটো, জাফরী নেওয়াজ চন্দন, মনিরুজ্জামান লেলিন, এমএ হাসান, আশরাফুল ইসলাম নূর, আসাফুর রহমান পাইলট, মোল্লা রিয়াজুল ইসলাম, মো. আছাফুর রহমান, মাত্তুরুর রহমান লিটন সহ আরও অনেকে। এই অংশীদারিত্বমূলক আলোচনা ও পরিকল্পনায় দলটির নেতাকর্মীরা ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

  • চুয়াডাঙ্গায় তেল ও ডালডায় মরা ইঁদুর, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি: জরিমানা দেড় লাখ টাকা

    চুয়াডাঙ্গায় তেল ও ডালডায় মরা ইঁদুর, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি: জরিমানা দেড় লাখ টাকা

    চুয়াডাঙ্গায় খাদ্য মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিযান চালিয়ে তেল, ডালডা, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য এবং অনিয়মের জন্য দুইটি কারখানাকে মোট দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দৌলতদিয়া ও পৌর এলাকার রেল বাজারে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে।

    ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মামুনুল হাসান জানান, পবিত্র মাহে রমজানকে কেন্দ্র করে খাদ্য নিরাপত্তা যাচাই-বাছাই ও তদারকি কাজের অংশ হিসেবে এ সপ্তাহে একাধিক অভিযান চালানো হয়েছে। দৌলতদিয়াড়ের একটি মৌসুমি খাদ্যপ্রস্তুতকারক কারখানায় অভিযান চালিয়ে দেখা যায়, সংরক্ষিত তেল ও ডালডার মধ্যে পচা এবং মরা ইঁদুরের উপস্থিতি। পাশাপাশি, উৎপাদনের নির্ধারিত তারিখের আগেই মেয়াদোত্তীর্ণ ফ্লেভার ব্যবহার ও খাদ্য প্রস্তুতকরণের আরও বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়। এসব অপরাধে কারখানাটির বিরুদ্ধে দেড় লাখ টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়।

    অপর দিকে, রেল বাজারের অনন্যা ফুড প্রোডাক্টসে অভিযান চালিয়ে দেখা যায়, মেয়াদোত্তীর্ণ পাউরুটি নতুন প্যাকেটে ভরে অবৈধভাবে বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। এই অভিযোগে ওই প্রতিষ্ঠানকে আরো ৫০ হাজার টাকার জরিমানা করা হয়।

    অভিযানে নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট আরও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষার জন্য এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • নতুন অর্থমন্ত্রী পৃষ্ঠপোষকতামুক্ত অর্থনীতি গড়ার আহ্বান

    নতুন অর্থমন্ত্রী পৃষ্ঠপোষকতামুক্ত অর্থনীতি গড়ার আহ্বান

    নতুন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, পৃষ্ঠপোষকতার ভিত্তিতে চালানো অর্থনীতি চলতে দেওয়া যাবে না। তিনি গণতান্ত্রিক ভিত্তিতে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সচেষ্ট হবেন বলে জানান। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে অফিসের প্রথম দিন সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো খুবই দুর্বল অবস্থায় আছে। তাই প্রথমে আমাদের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি এই প্রতিষ্ঠানগুলো কিভাবে পুনরুদ্ধার ও শক্তিশালী করা যায়, তা নির্ধারণ করতে হবে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে পেশাদারিত্ব প্রতিষ্ঠা, স্বচ্ছতা নিশ্চিত ও দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। এসব উপাদান অনুপস্থিত থাকলে কোনও বড় পরিকল্পনা বা উদ্যোগও সুফল বয়ে আনবে না।

    অর্থনীতিতে পৃষ্ঠপোষকতা তথা ঊর্ধ্বতন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। নতুন অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি যেন সবাইকে সমান সুযোগ দেয়, সবার জন্য সুফল উপনীত হয়, এমন একটি সমবায় পরিবেশ সৃষ্টি করা জরুরি। দেশের প্রতিটি মানুষ অর্থনীতিতে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে এবং এর সুফল সবাই পাবে, এটাই আমাদের লক্ষ্য।

    সীমিত সরকারি নিয়ন্ত্রণ রাখতে তিনি বলেন, অর্থনীতির ওপরে সরকারি নিয়ন্ত্রণ কমানো জরুরি। বাংলাদেশে ইতিমধ্যে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। পৃষ্ঠপোষকতা ভিত্তিক রাজনীতির চাপে ওভাররেগুলেটেড অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, যা এখন পরিবর্তনের সময় এসেছে।

    অর্থনীতিতে নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার বিষয়ে তিনি জানান, সেই পথে হাঁটতে হবে। লিবারেলাইজেশনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে, সকলের জন্য সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। করেন, যেন অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ সহজ হয় এবং এর সুফল প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে যায়।

    অর্থমন্ত্রী আরও জানান, তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১১ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য। তিনি বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং এর আগে ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত সরকারের সময় বাণিজ্য মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। তিনি দেশের অর্থনীতি উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

  • নতুন সরকার এলডিসি উত্তরণের পেছানোর পরিকল্পনা নিবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

    নতুন সরকার এলডিসি উত্তরণের পেছানোর পরিকল্পনা নিবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

    নতুন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে দেশের উত্তরণের সময়সীমা পেছানোর জন্য নতুন সরকার উদ্যোগ নেবে। তিনি আরও জানান, এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে এ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে প্রথম দিন অফিস করার সময় সাংবাদিকদের সাথে আলোচনাকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের সময়সীমা ডিফার করার জন্য পরিকল্পনা করছে এবং এ লক্ষ্যে যে সব পদক্ষেপ দরকার, তা গ্রহণ করা হবে। তিনি জানান, এই প্রসঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সবার সাথে সমন্বয় করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

    ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর দীর্ঘদিনের দাবির উল্লেখ করে তিনি বলেন, এলডিসি উত্তরণের সময়সীমা পেছানো নিয়ে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রথম সপ্তাহেই এ বিষয়ে চিঠি পাঠানোর বাধ্যবাধকতা না থাকলেও, আজ থেকেই এই বিষয়ে সরকার কাজ শুরু করেছেন।

    রপ্তানির সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলছেন, বাংলাদেশের রপ্তানি কাঠামো এখনও খুব সংকীর্ণ। দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশ এক বা দুটো পণ্যের উপর নির্ভরশীল। এই পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার জন্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনা, নতুন পণ্য অন্তর্ভুক্ত করা ও নতুন বাজারের সন্ধান অপটিমাইজ করতে হবে। পাশাপাশি, বেসরকারি খাতে যারা ব্যবসা ও বিনিয়োগে আগ্রহী, তাদের যথাযথ সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

    বিশ্ব বাণিজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফ নীতি পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে, বাংলাদেশ দরিদ্র দেশের মর্যাদা নিয়ে সীমিত সুযোগ নিয়ে টিকে থাকার চেষ্টা করছে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের মার্জিন অব এরোর খুবই কম, কোন ভুলের জায়গা নেই। তাই, দীর্ঘ সময় ধরে দেখা মন্দিল গতি থেকে দ্রুত বের হওয়ার জন্য সরকার কাটছাঁট করছে।

    রমজানের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে বাজারও স্থিতিশীল থাকবে। রমজান ও তার পরবর্তী সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে, যা বিক্রির জন্য প্রস্তুত। ফলে, এই পরিস্থিতিতে বাজার নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই।

    সিন্ডিকেটের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন এলে তিনি জানান, তিনি শুধু সাউন্ড বাইট এড়িয়ে যেতে চান, বরং কাজের মাধ্যমে ফল দেখাতে চান। বলেন, “আমি ভাষণে বলব না, কাজ করে দেখাব ইনশাআল্লাহ।”

    রমজানে কিছু পণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি মূলত এককালীন চাহিদা বৃদ্ধির ফল। পুরো মাসের বাজার একসঙ্গে পুরো না করতে পারলে হঠাৎ ভোগের হার বাড়ে, তবে এটি খুব বেশি সময় স্থায়ী হয় না বলে বলছেন।

    বৈদেশিক ও দেশীয় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে তিনি বলেন, অনিশ্চয়তার মধ্যে বিনিয়োগ আসেনা। স্থিতিশীল পরিবেশই বিনিয়োগের প্রধান শর্ত। বিনিয়োগকারীরা তখনই পুঁজি ও শ্রমের বিনিয়োগ করবেন, যখন তারা নিশ্চয়তা পান যে, তাদের বিনিয়োগের ভাল প্রতিদান হবে।

    তিনি আরও জানান, দেশে বড় সংখ্যক যুবশক্তি রয়েছে এবং প্রতিবছর প্রায় ২০ থেকে ২২ লাখ মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। গত কয়েক বছর বিনিয়োগে স্থবিরতা দেশের জন্য বড় চাপ সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন না হলে, কর্মসংস্থান ও অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি হবে।

    নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরে রমজান শুরু হওয়াকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বরেণ্য। তিনি বলেন, রমজানের মোকাবিলা এই সরকারের জন্য এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সফল হতে হবে এবং এর বিকল্প নেই।

    তিনি বলেন, এটি কোনো ব্যক্তিগত বিষয় নয়, বরং দেশের স্বার্থের বিষয়। এ জন্য সরকারকে সহযোগিতা করতে তিনি গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান। ভুল হলে তার জন্য ক্ষমা চেয়ে সবাই একসঙ্গে এগিয়ে গেলে দেশ আরও এগিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন।

  • ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৮ দিনে রেমিট্যান্স ছাড়াল দুই বিলিয়ন ডলার

    ফেব্রুয়ারির প্রথম ১৮ দিনে রেমিট্যান্স ছাড়াল দুই বিলিয়ন ডলার

    প্রবাসীরা সাধারণত দেশের নির্বাচনী পরিস্থিতি ও পবিত্র রমজান মাসের জন্য অর্থ পাঠানোকে প্রাধান্য দিচ্ছেন, ফলে দেশে বৈধ উপায়ে অর্থ প্রবাহ বেড়েছে। এই ধারাবাহিক উন্নতির ফলস্বরূপ, ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ১৮ দিনেই দেশে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ২ বিলিয়ন (২০ হাজার কোটি) ডলার ছাড়িয়ে গেছে। প্রবাসীদের এই অর্থনৈতিক সেহেতু ধারা চলমান থাকলে মাস শেষে এটি ৩ বিলিয়ন ডলার ছুঁতে পারে বলে প্রত্যাশা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচন ও রমজান উপলক্ষে পরিবারের খরচ যোগানোর জন্য প্রবাসীরা আরও বেশি করে অর্থ পাঠাচ্ছেন। এর ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে শীঘ্রই ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ्यानুসারে, জানুয়ারি মাসে দেশের প্রবাসীরা মোট ৩১৭ কোটি ডলার অর্থ পাঠিয়েছেন, যা বাংলায় হিসেব করলে ৩৮ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকার সমান। দেশের ইতিহাসে এটি তৃতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড। এর আগে, গত বছরের ডিসেম্বরে প্রবাসীরা ৩২২ কোটি ডলার পাঠিয়েছিলেন, যা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে। সর্বোচ্চ রেকর্ড গত মার্চ মাসে, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে, যেখানে প্রবাসীরা ৩২৯ কোটি ডলার পাঠিয়েছিলেন।

    ২০২৫ সালের বাংলাদেশে মোট প্রবাসী আয়ের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ২৮২ কোটি ডলার। মাসভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি, আগস্টে ২৪২ কোটি, সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি, নভেম্বরেই ২৮৮ কোটি, ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি, এবং জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ডলারের মতো রেমিট্যান্স এসেছে।

    অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন, এই মাসগুলোতে দেশের প্রবাসীরা মোট ২ হাজার ১৫৬ কোটি ডলার পাঠিয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ শতাংশ বেশি। এর আগে, গত অর্থবছরে এই সময়ে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন ১ হাজার ৭৬৩ কোটি ডলার।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলার। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নিয়ম অনুযায়ী প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ ২৯ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার বলে ধরা হয়।

    সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই প্রবাসী আয়ের গতি ফিরে এসেছে। ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, অর্থ পাচার কমে যাওয়ায় অবৈধ হুন্ডি ব্যবসার প্রভাবও কমেছে। একই সঙ্গে, ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের বিনিময় হার বেশ কয়েক মাস ধরে স্থিতিশীল থাকায় প্রবাসীরা বৈধ উপায়ে অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত হচ্ছেন।

  • সোনার দাম প্রতি ভরিতে ৩ হাজার টাকা বৃদ্ধি

    সোনার দাম প্রতি ভরিতে ৩ হাজার টাকা বৃদ্ধি

    বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) আজ এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে তারা স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ঘোষণা অনুযায়ী, প্রতি ভরিতে আরও সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৬ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ানো হয়েছে। ফলে, ভালো মানের (২২ ক্যারেট) সোনার এক ভরি দাম এখন দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা, যা আগে ছিল ২ লাখ ৫৫ হাজার ৫৫৮ টাকার চেয়ে বেশি। নতুন এই দাম আজ সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকে কার্যকর করা হয়েছে।

    বাজুস জানিয়েছে, বিশ্ব বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ার প্রভাবের কারণে এটি কার্যকর করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংগঠনটির মতে, তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে দেশের বাজারেও এই দরভিত্তিক বৃদ্ধি দেখা গেছে।

    নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের এক ভরি মূল্য এখন ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা, এর পাশাপাশি অন্যান্য মানের স্বর্ণের দামও বাড়ানো হয়েছে। যেমন, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের ভরি এখন ২ লাখ ৪৭ হাজার ১০২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।

    আরো রয়েছে রুপার মূল্যেও সাম্প্রতিক বাড়তি দামে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম এখন ৬ হাজার ৭০৭ টাকা, ২১ ক্যারেটে ৬ হাজার ৪১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির জন্য ৪ হাজার ৮২ টাকা।

    অন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দাম আগের তুলনায় ক্রমশ বৃদ্ধির ধারায় রয়েছে। গোল্ডপ্রাইস ডট ওআরজি সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টা ২৫ মিনিটে, আন্তর্জাতিক বাজারে এক আউন্স স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ১০৬ ডলার, যেখানে গতকাল ছিল ৪ হাজার ৯৭৮ ডলার। ৩০ জানুয়ারি এর আগে এই দাম ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার, এবং ২৯ জানুয়ারি ছিল ৫ হাজার ৫৫০ ডলার।

    বিশ্ববাজারে সোনার দামের এই অপ্রত্যাশিত উর্ধ্বমুখিতার প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারেও। গত মাসের শেষের দিকে, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম হঠাৎ করে অনেক বেশি বাড়ার কারণে, বাংলাদেশে বাজুস এক দিনের মধ্যে ভরিপ্রতি স্বর্ণের দাম ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়িয়েছিল। তার ফলে, দেশের বাজারে ভালো মানের এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছিল ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায়, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর আগে কখনো এই রকম দর বাড়ানো হয়নি বা এত বেশি দাম বৃদ্ধি দেখা যায়নি।

  • খুলনায় কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক দামে পাটকলের উৎপাদন বন্ধ

    খুলনায় কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক দামে পাটকলের উৎপাদন বন্ধ

    খুলনা অঞ্চলজুড়ে ইজারা ও বেসরকারি পাটকলগুলোর উৎপাদন কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে দেশের পাটশিল্পের জন্য বড় ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। এর মূল কারণ হিসেবে দেখা যায় কাঁচা পাটের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি। বাজারে দাম হাঁকার জন্য পাটের উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে, যার কারণে অনেক মিলেই পাটপণ্য উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে হাজার হাজার শ্রমিক কাজ হারানোর ভয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছেন, আবার মিলগুলোও আর্থিক চাপের মুখে বন্ধ হওয়ার পথে।

    দৌলতপুর এলাকার দৌলতপুর জুট মিলটি প্রায় দেড় মাস ধরে উৎপাদন বন্ধ থাকতে বাধ্য হয়েছে। শ্রমিকরা এখানে এসে কাজ না করেই সময় কাটাচ্ছেন, নীরব এই সংকটের মাঝে। এরকমই পরিস্থিতি দেশের অন্যান্য মিলেও দেখা যাচ্ছে। কিছু মিল সীমিত আকারে চালু থাকলেও অধিকাংশই বন্ধ বা স্থগিত। শ্রমিকেরা আশঙ্কা করছেন, এভাবে চলতে থাকলে তারা স্থায়ীভাবে কাজ থেকে বাদ পড়বেন।

    দৌলতপুর জুট মিলের শ্রমিক আসাদুজ্জামান বলেন,

  • বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা ও সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাস

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা ও সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাস

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সোমবার নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করেছে, যা আগামী তিন বছরের জন্য কার্যকর থাকবে। দলটির আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা বৈঠকে এই কমিটি গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও শপথ গ্রহণ সম্পন্ন হয়।

    নতুন কমিটিতে আবারও সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। কমিটিতে চারজন নায়েবে আমির, সাতজন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, ২১ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ, ৫৯ সদস্যের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা এবং ৮৮ সদস্যের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ গঠন করা হয়েছে।

    এছাড়া, দেশের বৃহৎ সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও সুসংগঠিত করতে ঢাকাসহ সারাদেশকে ১৪টি অঞ্চলেঅভিভাজন করে প্রতিটি অঞ্চলের জন্য অঞ্চল পরিচালক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কমিটির মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত থাকবে।

    সভায় প্রধানমন্ত্রী দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শক্রমে দায়িত্বশীলদের নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন এবং শপথ পরিচালনা করেন। যদিও সভাপতি ও অন্যান্য শীর্ষ নেতৃবৃন্দরা ভার্চুয়াল মাধ্যমে অংশ নেন, কিছু দায়িত্বশীলের উপস্থিতিতে সশরীরে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

    গত বছরের ২ নভেম্বর ডা. শফিকুর রহমানের আমির নির্বাচনের প্রায় তিন মাস পরে এই পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটির ঘোষণা আসে।

    নতুন কমিটির চার নায়েবে আমির হলেন– এটিএম আজহারুল ইসলাম (এমপি), অধ্যাপক মুজিবুর রহমান (এমপি), ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের (এমপি) এবং মাওলানা আ. ন. ম শামসুল ইসলাম।

    সাতজন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল পদে রয়েছেন– মাওলানা এটিএম মাছুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান (এমপি), ডা. হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, মাওলানা মুহাম্মাদ শাহজাহান ও অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

    কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে অন্তর্ভুক্ত সদস্যরা হলেন– সবাই, যার মধ্যে এমপি, অধ্যাপক, ডক্টর, আইনজীবীসহ অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃবৃন্দ।

    দলের নারী প্রতিনিধিত্বের বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ৮৮ সদস্যের কর্মপরিষদে নারী সদস্য সংখ্যা ২১ জন, এবং ৫৯ সদস্যের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ১৭ জন। এটি দলটির নারী অংশগ্রহণে অগ্রগতির সূচক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    এদিকে, দলটি একটি ৫ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন গঠন করেছে, যার প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন মাওলানা এটিএম মাছুম। অন্যান্য কমিশনাররা হলেন– অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, আবদুর রব, মোবারক হোসাইন এবং মাওলানা আ. ফ. ম. আবদুস সাত্তার।

    সারাদেশকে বিভিন্ন সাংগঠনিক অঞ্চলে ভাগ করে প্রতিটি অঞ্চলের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রংপুর-দিনাজপুরে মাওলানা আবদুল হালিম, বগুড়ায় এটিএম আজহারুল ইসলাম, রাজশাহীতে মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, কুষ্টিয়া-যশোরে মোবারক হোসাইন, খুলনায় মো. ইজ্জত উল্লাহ, বরিশালে অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, ময়মনসিংহে মো. শাহাবুদ্দীন, ঢাকা মহানগরে মিয়া গোলাম পরওয়ার, ঢাকা উত্তরে সাইফুল আলম খান মিলন, ঢাকা দক্ষিণে আবদুর রব, ফরিদপুরে ড. হামিদুর রহমান আযাদ, সিলেটে অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কুমিল্লা-নোয়াখালীতে মাওলানা এটিএম মাছুম এবং চট্টগ্রামে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন।

    নতুন এই কেন্দ্রীয় কমিটির মাধ্যমে সাংগঠনিক কার্যক্রমে গতি আনা, পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও নির্বাচনী প্রস্তুতিকে আরও শক্তিশালী করে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছে দলটি। ভবিষ্যতে মাঠপর্যায়ে পুনর্গঠন, কর্মসূচির সমন্বয় ও রাজনৈতিক কৌশল বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

  • প্রথমবার শহীদ মিনারে ফুল দিল জামায়াত ও দোয়া পাঠ

    প্রথমবার শহীদ মিনারে ফুল দিল জামায়াত ও দোয়া পাঠ

    আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে আজ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রথমবারের মতো ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের নেতৃত্বাধীন বিরোধীদলীয় জোট। তারা ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে, শহীদ বেদিতে দাঁড়িয়ে ভাষা শহীদদের আত্মার শান্তি কামনায় দোয়া করেন। এই বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ ১১ দলের সংসদ সদস্যরা।

    রাত ১২টা ১ মিনিটে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পৌঁছেন জামায়াত ও অন্যান্য দলীয় নেতারা। এরপর ১২টা ১০ মিনিটের দিকে তিনি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংসদে বিরোধীদলের হুইপ নাহিদ ইসলাম, সংসদ সদস্য হাসনাত ও এটিএম আজহারসহ অন্যান্য নেতারা।

    শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তারা শহীদ বেদিতে কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করে দোয়া করেন, যাতে ভাষা শহীদদের রূহের মাগফিরাত হয়। দৃশ্যের মধ্যে ছিল আনুষ্ঠানিকতা ও গভীর শ্রদ্ধা।

    শ্রদ্ধা নিবেদনের পর জামায়াত নেতারা রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থানে যান, যেখানে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের কবর জিয়ারত করেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন দলের নবনির্বাচিত সাংসদ ও শীর্ষ নেতারা। তারা শহীদদের জন্য নীরবতা পালন, কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়া পরিচালনা করেন, যা জামায়াতের উপস্থিত নেতারা নিজেই পরিচালনা করেন।

    জানা গেছে, এই ধরনের প্রথমবারের মতো দলীয়ভাবে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান জামায়াত। এ ধরনের আনুষ্ঠানিকতা আগে কখনো দেখা যায়নি।

    অতীতে প্রধানমন্ত্রীসহ অন্যান্য শীর্ষ নেতা বিভিন্ন সময় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর সেনাবাহিনী প্রধান, নৌবাহিনী প্রধান ও বিমান বাহিনী প্রধানও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

    একুশের প্রথম প্রহর থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও আশপাশে উপস্থিত হন। এবারে এই দিবসটি রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় উদযাপিত হচ্ছে।

  • দীর্ঘদিনের ফ্যাসিস্ট শাসনে একুশ ছিল অবরুদ্ধ: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

    দীর্ঘদিনের ফ্যাসিস্ট শাসনে একুশ ছিল অবরুদ্ধ: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

    স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্তব্য করেছেন, দীর্ঘদিন ফ্যাসিস্ট শাসনের কারণে একুশের ভাষা আন্দোলন ছিল অবরুদ্ধ। এখন সময় বদলেছে; সেই অবরোধ মোকাবিলা করে একুশের মূল চেতনা মুক্ত হয়েছে। এ জন্যই এবারের অনুভূতিগুলো ভিন্ন রকম, স্বাভাবिकভাবেই নতুন আবেগে পূর্ণ।

    তিনি শুক্রবার গভীর রাতে, একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনকালে এই কথা বলেন।

    মন্ত্রী বলেন, নতুন সরকারের নেতৃত্বে বিএনপি ফের ক্ষমতায় এসেছে, সেখানে তারেক রহমান নেতৃত্ব দিয়েছেন। এর ফলে আমাদের প্রত্যাশাও নতুন করে বেড়ে গেছে। আমরা চাই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করে, সত্যিকারভাবে একটি ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ গড়ার মাধ্যমে দেশের সব অংশের সমতা প্রতিষ্ঠা করতে।

    ফখরুল আরো বলেন, একুশের মূল চেতনা ছিল, বাংলাদেশে এক বৈষম্যহীন সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। আগামী দিনগুলোতে আমরা সেই চেতনার ভিত্তিতে এগিয়ে যাব। এই নতুন একুশের অনুপ্রেরণা নিয়ে আমাদের লক্ষ্য হলো জনগণের কল্যাণে কাজ করা, মাতৃভাষাকে আরও সমৃদ্ধ করা, সংস্কৃতিকে বিকশিত করা। আমরা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই উদ্যোগে আমরা বিশ্বাস করি, আগামী দিনগুলোতে আমরা আরও ভালভাবে এগোতে সক্ষম হবো।