মোংলার সুন্দরবনে পর্যটক পরিবহন নৌযান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে নাুমোংলা নৌযান মালিক ও শ্রমিক-কর্মচারীরা। আজ সোমবার ভোর থেকে শুরু হওয়া এই কর্মবিরতিতে সব ধরনের জালিবোট, ট্রলার ও পর্যটকবাহী নৌযান বন্ধ রয়েছে, যার ফলে আটকা পড়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সুন্দরবনে ঘুরতে আসা পর্যটকরা।
নৌযান মালিক ও শ্রমিকরা জানাচ্ছেন, রবিবার নৌপরিবহন অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হঠাৎ অভিযান ও হয়রানির প্রতিবাদে এই ধর্মঘটের ঘোষণা তারা দিয়েছেন। তারা অভিযোগ করেছেন, কিছুদিন ধরেই অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা অনিচ্ছারভাবে নানা অনুমতিপত্র ও লাইসেন্সের জন্য চাপ দেন, এমনকি অতিরিক্ত টাকা ঘুষের দাবি করে থাকেন। পরে রবিবার বিকালে হঠাৎ নৌপরিবহন কর্মকর্তারা ও প্রশাসনের লোকজন অভিযান চালায়, যেখানে মূল্যবান মালামাল ভাঙচুর, নৌযান কেটে নিয়ে যায় ও শ্রমিকদের বিরক্ত করে হয়রানি করে। এমনকি শ্রমিকদের ভয় দেখানো হয় মামলা ও গ্রেফতারির ভয় দেখিয়ে।
এরপর থেকেই মালিকরা আতঙ্কিত হয়ে আড়াই থেকে তিনশোর বেশি নৌযান বন্ধ করে দেন। সুন্দরবনের গহীন অঞ্চল থেকে আসা পর্যটকদের জন্য এই বন্ধের ফলে সারিবদ্ধভাবে থামানো হয়েছে শত শত জালি বোট ও ট্রলার, নদীঘাটে ভিড় জমেছে অসংখ্য পর্যটক। আশপাশের এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা বলছেন, সুন্দরবনের প্রকৃতি দেখার বড় স্বপ্ন ছিল, কিন্তু এখন সব অন্ধকারে ডুবে গেছে।
যশোর থেকে আসা স্বর্ণা আক্তার বলেন, ‘আমরা পরিবার ও প্রতিবেশীদের নিয়ে সুন্দরবন ভ্রমণে এসেছি। এখন দেখলাম নৌযান মেয়াদ বন্ধ, তাই বাড়ি ফিরে যেতে হচ্ছে।’ একইভাবে ঢাকার মিরপুর থেকে আসা আফরোজা বেগম বলেন, ‘একদমই ভালো লাগছে না, আর যেতে পারছি না। অনেক আশা ছিল, অনেক টাকা খরচ করলাম, এখন ফিরে যেতে হচ্ছে।’ রেজাউল করিম বলেন, ‘আমরা ৫৪ জনের বাসে এসেছিলাম, কিন্তু এখন সব বন্ধ। শিশুসহ সবাই অপেক্ষায়, কীভাবে সুন্দরবন দেখব বুঝে উঠতে পারছি না।
মোংলা বন্দর যন্ত্রচালিত মাঝিমাল্লা সংগঠনের নেতা মোঃ সোহাগ বলেন, ‘অভিযোগের ভিত্তিতে নৌপরিবহন দপ্তরের হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়ে আমরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে সব নৌযান চলাচল বন্ধ রেখেছি। জরুরি শর্ত ও অতিরিক্ত ফি চাপানোর জন্যই এই ধর্মঘট, যা পর্যটনশিল্পের জন্য বড় ধাক্কা। এখনো অজুহাত দেখিয়ে কর্মকর্তারা নানা শর্ত চাপাচ্ছেন, যা মানা সম্ভব নয়। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আরও সময়ের জন্য ধর্মঘট চলবে।’
সুন্দরবনের করমজল পর্যটন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আজাদ কবির বলেন, ‘সোমবার ভোর থেকে কোনও পর্যটক বা নৌযান আসতে পারেনি। নৌপরিবহন দপ্তর রোববার অভিযান চালিয়েছে বলে জানি, তাই মালিকেরা তাদের নৌযান চলাচল বন্ধ রেখেছেন।’
নৌপরিবহন দপ্তর খুলনার পরিদর্শক মোঃ রাশেদুল আলম জানান, ‘জালিবোটের উপরের অংশের অবকাঠামো অপসারণ করা হয়েছে, যাতে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকে। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো পর্যটকদের নিরাপদে ভ্রমণের আয়োজন করা, এই উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। আমরা হয়রানি করতে চাই না, বরং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই।’
প্রতিষ্ঠানের অভিযোগ, বোটে ১৬ হর্স পাওয়ার কম ইঞ্জিন চালানোর জন্য ট্রেড রাইসেন্স ও পোর্ট ডিউস লাগলেও, বোট সার্ভে নামে হয়রানি করছে ডিজিশিপিং। এই সব কারণেই তারা এই অস্থায়ী ধর্মঘট শুরু করেছেন।
Leave a Reply