Month: January 2026

  • বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ চলচ্চিত্র নির্মাতা আবদুল লতিফ বাচ্চু আর নেই

    বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ চলচ্চিত্র নির্মাতা আবদুল লতিফ বাচ্চু আর নেই

    প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা আবদুল লতিফ বাচ্চু (৮৪) আজ সোমবার (৪ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। তিনি ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

    কথা বলতে গেলে, চলচ্চিত্র পরিচালক ও বন্ধু কবিরুল ইসলাম রানা এই দুঃখদায়ক খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গতকাল বিকেলে তার সাথে আমার ফোনে কথা হয়েছিল, এবং আজ দুপুরে জেনে বার্তা পেলাম যে তিনি আর বেঁচে নেই।

    কবিরুল ইসলাম রানা আরও জানিয়েছেন, কয়েক মাস আগে তিনি নিউমোনিয়ার আক্রান্ত হয়ে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে থাইল্যান্ডে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং সুস্থ হয়ে আবার দেশে ফেরেন।

    আবদুল লতিফ বাচ্চু ১৯৪২ সালের ৯ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতে একজন উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। সর্বশেষ তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্রগ্রাহক সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন তিন ছেলেদের জনক। তার তিন সন্তানই বর্তমানে আমেরিকাত বাস করছেন।

  • ‘কাভি খুশি কাভি গাম’ এর সিক্যুয়েল আসছে!

    ‘কাভি খুশি কাভি গাম’ এর সিক্যুয়েল আসছে!

    বলিউডের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘কাভি খুশি কাভি গাম’ এর সিক্যুয়েল তৈরি হওয়ার খবর আলোচনায় রয়েছে। বছরের শুরুতেই জানা যায়নি এমন এক বড় আপডেট that নতুন বছরটিতে আসছে করণ জোহর পরিচালিত আরেকটি পারিবারিক ছবি, যা মূলত একটি আবেগঘন ফ্যামিলি ড্রামার গল্প নিয়ে। কেউ ভাবেননি, এই ছবিটি কি হবে ‘কাভি খুশি কাভি গাম’ এর সত্যিই এক সিক্যুয়েল।

    পিঙ্কভিলার প্রতিবেদনে জানা গেছে, করণ জোহর তার পরবর্তী ছবিতে একটি রোমান্টিক কমেডির পর এবার একটি পারিবারিক ড্রামা নির্মাণে মনোযোগী। এই সিনেমা ধর্ম প্রোডাকশনের ব্যানারে निर्माण পর্যায়ে থাকবে এবং ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে প্রি-প্রডাকশনের কাজ শুরু হবে। এছাড়া, এই বছরের শেষের দিকে শুটিং শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। ছবিতে দুইজন নায়ক এবং দুইজন নায়িকা থাকবেন, যার জন্য কাস্টিং প্রক্রিয়া তাড়াতাড়ি শুরু হবে।

    খবরের মধ্যে আরও বলা হয়েছে যে, এই সিনেমাটির নাম হয়তো হবে ‘কাভি খুশি কভি গাম ২’, তবে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো আসেনি। করণ জোহর বা ধর্ম প্রোডাকশনের পক্ষ থেকেও এই বিষয়ে কোনও অফিসিয়াল জাননোর প্রক্রিয়া এখনও শুরু হয়নি।

    প্রায় ২৫ বছর আগে, অর্থাৎ ২০০১ সালে, মুক্তি পেয়েছিল করণের অন্যতম ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘কাভি খুশি কাভি গাম’। এ সিনেমার জনপ্রিয়তা এবং দর্শকদের প্রশংসা এখনও অব্যাহত। এখন সেই গল্পের পরবর্তী অংশের কাজ শুরুর গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, যা অনেকের জন্যই উৎসাহের।

    উল্লেখ্য, করণ জোহর তার কর্মজীবনে ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’, ‘কাভি খুশি কাভি গাম’, ‘কাভি আলবিদা না কেহনা’, ‘মাই নেম ইজ খান’, ‘স্টুডেন্ট অফ দ্য ইয়ার’, ‘বোম্বে টকিজ’, ‘অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল’, ‘লাস্ট স্টোরিজ’ এবং ‘রকি অর রানি কি প্রেম কাহানি’ পরিচালনা করেছেন।

  • ধর্মেন্দ্রর স্মরণসভা নিয়ে পারিবারিক বিভাজন নয়, জানালেন হেমা মালিনী

    ধর্মেন্দ্রর স্মরণসভা নিয়ে পারিবারিক বিভাজন নয়, জানালেন হেমা মালিনী

    প্রয়াত বলিউড অভিনেতা ধর্মেন্দ্রর স্মরণে দুটি পৃথক অনুষ্ঠানের আয়োজন করায় চর্চা শুরু হয়েছিল। এই বিষয়টি নিয়ে বেশ কিছু সময় ধরে গুঞ্জন চালু ছিল যে, পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। একদিকে, সানি ও ববি দেওলের আয়োজনে হেমা মালিনী উপস্থিত ছিলেন না, আবার হেমার সম্পাদনায় তার আয়োজনেও সানি ও ববির প্রবেশাধিকার হয়নি। এসব নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ও সংবাদমাধ্যমে নানা আলোচনা চলতে থাকায় এবার স্পষ্ট করে মন্তব্য করলেন হেমা মালিনী।

    ভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পারিবারিক এই বিচ্ছিন্নতা কিংবা দ্বন্দ্বের বিষয়টি আসলে সত্যিই কিছু নয়। তিনি যোগ করেন, এটি শুধুমাত্র আমাদের পরিবারের একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। আমি একজন রাজনীতিবিদ, ফলে আমার এই আয়োজনগুলো মূলত আমার কর্মক্ষেত্রের দায়িত্ব ও আবেগের প্রতিফলন। দিল্লিতে আমার রাজনৈতিক সফর ও বিভিন্ন কর্মসূচির জন্য আলাদা করেই এই স্মরণসভা আয়োজন করতে হয়েছে। এছাড়া, আমার নির্বাচনী এলাকা মথুরার এলাকার মানুষের অনুভূতি ভেবে সেখানে অন্য একটি অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    হেমা মালিনী আরও জানান, তাদের পরিবারের মধ্যে কোনো বিভ্রান্তি বা ভাঙনের সুরাহা হয়নি। তারা সবাই তাঁদের প্রিয় অভিনেতা ধর্মেন্দ্রকে যথাযথ শ্রদ্ধা আর সম্মান জানিয়ে থাকেন।

    প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৪ নভেম্বর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ধর্মেন্দ্র। তার প্রিয়সাধারণ আত্মীয়-স্বজন ও ভক্তরা তাকে স্মরণে মেতেছিলেন। ৩ ডিসেম্বর হরিদ্বারে ধর্মেন্দ্রর অস্থি বিসর্জনের আচার অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়, যেখানে সানি ও ববি দেওল উপস্থিত ছিলেন। তবে, এই শেষকৃত্য ও তার পরবর্তী ধর্মীয় অনুষ্ঠানে দু’পক্ষের কেউ একসঙ্গে দেখা যায়নি, যা বলিপাড়ায় নানা আলোচনা ও গুঞ্জনের সৃষ্টি করে।

    উল্লেখ্য, পারিবারিক বিভাজনের গুঞ্জনকে তিনি অস্বীকার করে বলেন, ধর্মেন্দ্রর স্মৃতি ধরে রাখতে সানি দেওল বড় ধরনের উদ্যোগ নিতে চলেছেন। এর মধ্যে রয়েছে, মুম্বাইয়ের লোনাভেলায় অবস্থিত ধর্মেন্দ্রর ১০০ একর জমির ওপর নির্মিত ফার্মহাউসটিকে একটি মিউজিয়ামে রূপান্তর করতে পরিকল্পনা। হেমা মালিনী এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি ধর্মেন্দ্রর অনুরাগীদের জন্য একটি বিশেষ উপহার হবে।

  • বিসিবি পরিচালক নাজমুলের তামিমকে ‘ভারতের দালাল’ বলে তোপ

    বিসিবি পরিচালক নাজমুলের তামিমকে ‘ভারতের দালাল’ বলে তোপ

    বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যত ও দেশের আন্তর্জাতিক মঞ্চে আপাত ভাবনা নিয়ে চলমান আলোচনায় এবার গুরুতর বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। আইপিএলের স্কোয়াড থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের কারণে বাংলাদেশে ক্রিকেটাঙ্গনে নানা প্রশ্ন ওঠে। এছাড়াও, আসন্ন ভারতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম করেছে এবং সে ব্যাপারে আইসিসিকে বিবেচনা করার অনুরোধ জানিয়েছে। তবে, এই পরিস্থিতির মাঝে সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল বিপজ্জনক মন্তব্যের শিকার হন, যেখানে বিসিবির একজন পরিচালক, নাজমুল ইসলাম, তাকে ‘ভারতের দালাল’ বলে আখ্যা দেন।

    বর্তমানে বোর্ডের অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বে থাকা নাজমুল ইসলাম তার এক পোস্টে তামিমের ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, এইবার বাংলার জনগণ আরও একজন পরীক্ষিত ভারতীয় দালালের আত্মপ্রকাশ দেখল। এই পোস্টটি চলতি সময়ে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে। তামিমের প্রতি এই অবমাননাকর ভাষায় মন্তব্যের জন্য ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।

    বিসিবির সাবেক ক্রিকেটার শামসুর রহমান শুভ এ বিষয়টিকে অপ্রত্যাশিত ও দুঃখজনক উল্লেখ করে বলেন, একজন ক্রিকেটারের প্রতি বোর্ডের এমন বক্তব্য অগ্রহণযোগ্য এবং সম্পূর্ণ অপমানজনক। তিনি আরও যোগ করেন যে, বোর্ডের একজন কর্মকর্তা এ ধরনের মন্তব্য করবেন বললে বোর্ডের নীতিমালা ও আচরণবিধি প্রশ্নবিদ্ধ হয়। তিনি দ্রুত বিষয়টি খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ক্ষমা চাওয়া ও জবাবদিহিতার দাবি জানান।

    অভিজ্ঞ স্পিনার তাইজুল ইসলামও প্রতিক্রিয়া দিয়ে বলেন, আমি হতবাক হয়েছি বোর্ডের একজন পরিচালকের পক্ষ থেকে এমন বাজে মন্তব্যের জন্য। তিনি বলেন, একজন জাতীয় ক্রিকেটারের প্রতি এরকম রুচিহীন ভাষা ব্যবহার সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং ক্রিকেট সংস্কৃতির পরিপন্থি। তাঁর মতে, এই ধরনের মন্তব্য পেশাগত নৈতিকতা ও আচরণবিধির জন্য ভয়ঙ্কর। তিনি সমালোচনা করে বলেন, এমন আচরণ সাধারণত একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির জন্য মানানসই নয়। তিনি দ্রুত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ক্ষমা চাওয়ার ও দায় brঅদানের দাবি জানান।

    তামিমের প্রতি এই আচরণের প্রতিবাদে আরও কয়েকজন সাবেক ক্রিকেটার ও বোর্ড কর্মকর্তারা সোচ্চার হন। তাসকিন আহমেদ ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন বলেন, ক্রিকেট বাংলাদেশের প্রাণ। দেশের জন্য অবদান রাখা একজন সাবেক অধিনায়ককে নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য দেশের ক্রিকেটের জন্য ক্ষতিকারক। তাঁরা আশা করেন ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীলতা অবলম্বন করা হবে।

    তেমনি আরও একজন সাবেক অধিনায়ক, মুমিনুল হক, তার ফেসবুক পোষ্টে লিখেছেন, বিসিবি পরিচালক নাজমুল ইসলামের মন্তব্য অগ্রহণযোগ্য ও অপমানজনক। তিনি বলেন, একজন ক্রিকেটারকে এইভাবে অপমান করার মতো বিষয়টি দেশের ক্রিকেট সমাজের জন্য লজ্জাজনক। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি এমন মন্তব্য করেন না। দ্রুতই ঘটনার প্রতিবাদে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিসিবির প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

    অবশ্য, তামিম এখনও এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি। এর আগে, গত বৃহস্পতিবার, তামিম বলেন, একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ও আইসিসির সঙ্গে আলোচনা শেষে খোলাখুলিভাবে মন্তব্য করা উচিত। তিনি বলেন, যদি প্রথমে বলা হয়, আমরা ভারতে খেলবো না বা খেলবো, তার পর পরিবর্তন হলে ঠিক কী বলবেন? এভাবে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়া ঠিক না। তিনি আরও পরামর্শ দেন, বোর্ড ঐক্যবদ্ধভাবে সিদ্ধান্ত নিক এবং পরে জানান।

    তামিম আরও বলেন, ভবিষ্যতের ভাবনা ও বাস্তবতা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই উচিত। তাঁর মতে, দর্শকদের আবেগে থাকলেও পুরো বোর্ডের জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। মুস্তাফিজকে আইপিএল থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত দুঃখজনক, তবে সেটি সম্ভবত সময়ের দাবি থেকেও এসেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশের খেলোয়াড় ও দেশের ক্রিকেটের জন্য এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

  • তামিমকে লক্ষ্য করে আবারো বিস্ফোরক মন্তব্য বিসিবি পরিচালককের

    তামিমকে লক্ষ্য করে আবারো বিস্ফোরক মন্তব্য বিসিবি পরিচালককের

    বাংলাদেশ-ভারত ক্রিকেটাঙ্গনে এখন বিতর্কের আগুন জ্বলা ছাড়ছে না। সম্প্রতি বাংলাদেশের ক্রিকেটের গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে বিসিবির একটি মন্তব্যের কারণে। সব কিছু শুরু হয় মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায়। গত আইপিএল মিনি-নিলামে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) মুস্তাফিজকে ৯ কোটি ২০ লাখ টাকা দরে কেনে। তবে ভারতের কিছু কট্টর গোষ্ঠীর চাপের মুখে বোর্ডের নির্দেশে তাকে দল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে, শুধু ক্রিকেট নির্ভর নয়, আড়ালে খেলোয়াড়ের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

    এই পরিস্থিতিতে বিসিবি সিদ্ধান্ত নেয় যে, ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাংলাদেশ ম্যাচগুলো ভারতে না করে শ্রীলঙ্কায় সরানো উচিত। সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টারা এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। বিসিবি ইতিমধ্যেই আইসিসির সঙ্গে আলোচনায় বসেছে।

    এমন সময়ে সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল এক অনুষ্ঠানে বলেন, বোর্ডের আয়ের বড় অংশ আসে আইসিসি থেকে, তাই বিশ্বকাপের খেলা বা না খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিক্রিয়া বিবেচনা করতে হবে। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি বোর্ডের অভ্যন্তরে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত, প্রকাশ্যে না এসে।

    তামিমের এই মন্তব্যে বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলাম চরম আপত্তি জানান। তিনি ফেসবুকে একটি পোস্টে তামিমের ছবি দিয়ে লেখেন, “এবার আরো একজন পরীক্ষিত ভারতীয় দালালের আত্মপ্রকাশ বাংলার জনগণ দুচোখ ভরে দেখলো।” এই মন্তব্যের কারণে ক্রিকেটপাড়ায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই নাজমুলের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। পরে তিনি পোস্টটি মুছে ফেলেন, তবে স্ক্রিনশট সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।

    পরের দিন আবারো এম নাজমুল এক পোস্টে বলেন, ‘মুস্তাফিজ ইস্যুতে বাংলাদেশ দল ভারতে নিরাপত্তার ঝুঁকিতে পড়েছে। সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বিশ্বকাপের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরানোর কথা বলেছেন। এমন পরিস্থিতিতে ১৫ হাজার রান করার ক্রিকেট তারকা একজন ব্যক্তিগত মতামত দিয়েছেন ভারতীয় ক্রিকেটের পক্ষে। এটি আমার ব্যক্তিগত অনুভূতি, অন্যভাবে নেওয়া উচিত নয়।’

    এই ঘটনায় বেশ কিছু দেশের ক্রিকেট তারকারাও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। মুমিনুল হক, তাসকিন আহমেদ, তাইজুল ইসলামসহ অনেকে তামিমের মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, এই ধরনের মন্তব্য মেনে নেওয়া যায় না। ক্রিকেট মহল এখন আলোচনায় মুখর।

  • তামিমকে নিয়ে ধারাবাহিক পোস্ট, মিঠুনের মন্তব্যের ব্যাখ্যা

    তামিমকে নিয়ে ধারাবাহিক পোস্ট, মিঠুনের মন্তব্যের ব্যাখ্যা

    বিসিবি পরিচালক ও বোর্ডের অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান এম নাজমুল ইসলাম সম্প্রতি নিজের ফেসবুকে এক পোস্টে তামিম ইকবালের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তাকে ‘ভারতীয় দালাল’ বলে আখ্যা দেন। এই মন্তব্যের কারণে ক্রিকেটাঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। জাতীয় দলের ক্রিকেটারা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এ নিন্দার প্রতিবাদ প্রকাশ করছেন।

    শুক্রবার (০৯ জানুয়ারি) ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব থেকেও এই ঘটনার বিরোধিতা ও প্রতিবাদে বিবৃতি দেওয়া হয়। তবে কিছু মানুষ এই ধারাবাহিক পোস্ট ও বক্তব্যের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করছে।

    এ পরিস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলনে এসে কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন তার অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ক্রিকেটারদের স্বার্থ দেখার জন্য এই সংগঠন। তবে এখন দেখানো হচ্ছে যেন আমাদের উদ্দেশ্য বা দৃষ্টি ভিন্ন খাতে নেওয়া হচ্ছে।’ এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ, সাইফ হাসান, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, মুমিনুল হক, সাব্বির রহমান, শামীম হোসেন পাটোয়ারীসহ অন্যান্য ক্রিকেটাররা।

    মিঠুন আরও বলেন, ‘আমরা আমাদের ক্রিকেটারদের স্বার্থ দেখব। এটি যেন রাজনৈতিক বা অন্য কোন উদ্দেশ্য দিয়ে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, এ নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।’

    সংবাদ সম্মেলনে মেহেদী হাসান মিরাজ বিশ্বকাপ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমরা চাই যেন ক্রিকেটের স্বার্থে সুষ্ঠু সমাধান হয়। ক্রিকেট যেন আলাদাভাবে রাখা হয়। বিসিবি আমাদের গার্ডিয়ান হিসেবে_ASSUME তারা সঠিক পদক্ষেপ নেবে বলে আশা করছি।’

  • অন্তঃকলেজ ফুটবল টুর্নামেন্টে সাকিনা আজাহার টেকনিক্যাল কলেজ চ্যাম্পিয়ন

    অন্তঃকলেজ ফুটবল টুর্নামেন্টে সাকিনা আজাহার টেকনিক্যাল কলেজ চ্যাম্পিয়ন

    খুলনা বিভাগের আন্তঃকলেজ ফুটবল টুর্নামেন্টে চমকপ্রদ পারফরম্যান্স দেখিয়ে শিরোপা জিতেছে সাকিনা আজাহার টেকনিক্যাল কলেজ, বাগেরহাট। এই প্রতিযোগিতার সমাপ্তি ঘটে খুলনা বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স মাঠে গত শুক্রবার বিকেল তিনটায় অনুষ্ঠিত ফাইনাল ম্যাচের মাধ্যমে। সেখানে সাকিনা আজাহার টেকনিক্যাল কলেজ মাগুরা আদর্শ কলেজকে ২-০ গোলে হারিয়ে ট্রফি ওঠানোর গৌরব অর্জন করে। চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য বিশেষ করে ১০ নম্বর জার্সিধারী সেকেন্দার আলী আল আমিন ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন। অন্যদিকে, টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে নজর কেড়েছেন মাগুরা আদর্শ কলেজের রাশিদুল ইসলাম রাব্বি, জার্সি নম্বর ৯। এই বিজয়ে উৎসাহিত হয়ে খেলোয়াড়েরা ভবিষ্যতেও আরও আরও খেলাধুলায় মনোনিবেশ করবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা। দুলুদপুরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই চ্যাম্পিয়ন ও রানারআপ দলের হাতে ট্রফি, ট্রফি এবং প্রাইজমানি তুলে দেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মোহাম্মদ আসাদুল হক। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক ফিফা রেফারি ও খুলনা রেফারি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোল্লা এহসানুল হক, সাবেক ফুটবলার মোস্তাফিজুর রহমান পলাশ ও জিয়াউল ইসলাম এবং বিভাগীয় ফুটবল কোচ শেখ আশরাফ হোসেন। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন খুলনা জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মোঃ আলীমুজ্জামান।

  • বিগ ব্যাশে রিশাদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স, সাকিবের রেকর্ড ছুঁয়েছেন

    বিগ ব্যাশে রিশাদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স, সাকিবের রেকর্ড ছুঁয়েছেন

    অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ ক্রিকেট টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের প্রথম কৃতিত্ব ছিল সাকিব আল হাসানের। তিনি দুই মৌসুমে দুটি দলের হয়ে মোট ৬টি ম্যাচ খেলেছেন। দেশের জন্য এটি একটি গর্বের বিষয়। তবে চলমান আসরে এখন নতুন একজন বাংলাদেশি ক্রিকেটার নিজের ছাপ ফেলেছেন, তিনি রয়েছেন তরুণ লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। তিনি প্রথমবারের মতো বিগ ব্যাশে অভিষেকের পর থেকেই দারুণ আলোচিত হচ্ছেন। তার ঝনঝন করিয়ে দেখানো পারফরম্যান্সে বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন।

    গতকাল (শুক্রবার) অ্যাডিলেডের বিয়েলিভে ওভালে হোবার্ট হারিকেন্সের মুখোমুখি হয়েছিল রিশাদের দল, হোবার্ট স্ট্রাইকার্স। ম্যাচে নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে হোবার্ট হারিয়েছিল ৬ উইকেটে, ও তারা স্কোর করে ১৭৮ রান। এই দিন রিশাদ মাঠে নামেননি ব্যাটিংয়ে, তবে তিনি বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছেন। ৪ ওভারে ২৬ রানের খরচায় শিকার করেন ৩ উইকেট। তার এই কার্যক্রমের ফলে হোবার্ট স্ট্রাইকার্সকে ৩৭ রানে হারিয়ে দেন অ্যাডিলেডের এই দলটি, আর এই জয়ে তারা উঁচু অবস্থানে চালিয়ে যাচ্ছেন চলমান টুর্নামেন্টে।

    উইকেটের দেখা পাওয়ার জন্য দারুণভাবে লড়াই করেছেন রিশাদ, কারণ এর আগে তার দুই ম্যাচে উইকেটের দেখা ছিল না। এ পর্যন্ত ৮ ম্যাচে তার মোট উইকেট সংখ্যা হয়েছে ১১। এর আগে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি উইকেট শিকারির রেকর্ড ছিল সাকিব আল হাসানের, তিনি ৬ ম্যাচে ৯ উইকেট নিয়েছিলেন। এই রেকর্ডটি ভেঙে দিয়েছেন নতুন তারকা রিশাদ। এই দারুণ পারফরম্যান্সের জন্য নিয়মিত একাদশে সুযোগ পাচ্ছেন তিনি।

    বিগ ব্যাশের স্পিনারদের মধ্যে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ উইকেটসংখ্যা রিশাদের, তিনি যৌথভাবে এই তালিকায় রয়েছেন অ্যাডিলেডের লেগ স্পিনার লয়েড পোপের সাথে, যাদেরও রয়েছে ১১টি উইকেট। রিশাদের অভিষেক ম্যাচে উইকেট ছিল না, তবে পরবর্তী কয়েকটি ম্যাচেও তিনি উইকেট পাননি। এরপর কয়েকটি ম্যাচে কার্যকরী পারফরম্যান্স করে দলকে এগিয়ে নিয়ে যান। বর্তমানে দুটি ম্যাচে ৩টি করে এবং অন্য দুটি ম্যাচে ২টি করে উইকেট নিয়েছেন। এই পারফরম্যান্সের জন্য তিনি টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহকদের তালিকায় ষষ্ঠ স্থান দখল করে আছেন। তার থেকে বেশি উইকেট নিয়েছেন ইংল্যান্ডের পেসার জেমি ওভটন, যিনি ১১ উইকেট শিকার করেছেন। সর্বোচ্চ উইকেটের শীর্ষে আছেন জ্যাক এডওয়ার্ডস ও গুরিন্দর সান্ধু, যারা কেড়েছেন ১৪টি করে উইকেট। এছাড়াও, পিটার সিডল ও হারিস রউফ ১৩টি করে উইকেট এবং নাথান এলিস ১২ উইকেট শিকার করেছেন। এলিস ও রিশাদ দুজনেই হোবার্টের হয়ে খেলছেন এবং তাদের দল বর্তমানে ১২ পয়েন্ট নিয়ে এই মৌসুমের শীর্ষে রয়েছেন।

  • ১২ ঘণ্টায় ভারত ও পাকিস্তানে ভয়াবহ ভূমিকম্প, কাঁপলো দক্ষিণ এশিয়া

    ১২ ঘণ্টায় ভারত ও পাকিস্তানে ভয়াবহ ভূমিকম্প, কাঁপলো দক্ষিণ এশিয়া

    দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তানে সম্প্রতি দফায় দফায় ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। শুক্রবার ভোরে পাকিস্তানের পেশোয়ার ও তাজিকিস্তান-শিনজিয়াং সীমান্তবর্তী এলাকায় ৫.৮ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূকম্পন অনুভূত হয়। নিজেদের অবস্থানে এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ১৫৯ কিলোমিটার গভীরে। পাকিস্তানের আবহাওয়া অধিদপ্তর (পিএমডি) জানিয়েছে, এই কম্পনটি অনুভূত হয় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে—প্রবল জোড়ালো কম্পন অনুভূত হয় রাজধানী ইসলামাবাদ ও খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের ক্ষত্রে। এদিকে, ভারতের গুজরাট রাজ্যের রাজকোট শহরে মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে ৯ বার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে, যা সাধারণত ‘মাইক্রো’ বা ‘মাইনর’ শ্রেণীতে পড়ে। তবে এই কম্পনগুলো খুবই স্বল্প সময়ের জন্য হলেও মনে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। ভারতের আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত রাজকোটে এই কম্পনগুলো ঘটে, যার উৎপত্তিস্থল ছিল শহরের উত্তর-পশ্চিমে প্রায় ২৭ থেকে ৩০ কিলোমিটার গভীরে। প্রথমবার ৮ জানুয়ারি রাত ৮:৪৩ মিনিটে অনুভূত হয় এবং শেষটি ঘটে ভোর ৮:৩৪ মিনিটে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরণের বেশি সংখ্যক কম্পনকে তারা ‘অস্বাভাবিক’ হিসেবে দেখছেন। সাধারণত কচ্ছ অঞ্চলে এই ধরনের ভূকম্পন বেশি হলেও রাজকোটে এই ধারাবাহিক ঘটনা বিশেষ যত্নআত্তির বিষয়। ভূ-প্রাকৃতিক অবস্থানের কারণে পাকিস্তান তিনটি প্রধান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে থাকায় এই দেশটি অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ হিসেবে পরিচিত। এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে যথাক্রমে ৩.২ ও ৫.৫ মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছিল। অন্যদিকে, ভারতের গুজরাটের রাজকোটেও এই ধরনের ভূকম্পনের পরিমাণ বেশি দেখা গেছে। দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরিপ্রেক্ষিতে ভূমিকম্পের প্রতিরোধ ও সতর্কতার ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরগুলো বলেছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতের কম্পন মোকাবিলার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক করা হয়েছে।

  • গাজায় চিকিৎসার অভাবে রোগীদের করুণ মৃত্যুর শঙ্কা

    গাজায় চিকিৎসার অভাবে রোগীদের করুণ মৃত্যুর শঙ্কা

    গাজায় ইসরায়েলি অবরোধ এবং আগ্রাসনের কারণে চিকিৎসা ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে, যার ফলে ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের মৃত্যুহার যুদ্ধের পূর্ব সময়ের তুলনায় তিনগুণ বেড়ে গেছে। গাজার একমাত্র বিশেষায়িত হাসপাতাল ‘টার্কিশ-প্যালেস্টাইনিয়ান ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল’ ইসরায়েলি বর্গাযুদ্ধে ধ্বংসের মুখে থাকায় প্রায় ১১ হাজার রোগী এখন কোনো চিকিৎসা সেবা না পেয়ে মৃত্যুর দণ্ডক্ষেতে দাঁড়িয়ে। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গাজা থেকে রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বাইরে যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছে, পাশাপাশি কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপির মতো জরুরি ওষুধের প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। এর ফলে, গাজায় এখন ক্যানসার শনাক্ত হওয়া মানেই মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার সমান। একজন ক্যান্সার চিকিৎসক মোহাম্মদ আবু নাদা বলেন, তারা চিকিৎসার সমস্ত সরঞ্জাম এবং সক্ষমতা হারিয়েছেন। বর্তমানে তারা নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্সে স্থানান্তরিত হলেও সেখানে কোন নির্ণয়যন্ত্র বা কেমোথেরাপির ওষুধ নেই। তিনি আক্ষেপে বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির দোহাই দিয়ে কিছু বাণিজ্যিক পণ্য যেমন চকোলেট, চিপস বা বাদাম প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও, ক্যানসার বা দীর্ঘমেয়াদি রোগের ওষুধ কোনোভাবেই প্রবেশ করতে দিচ্ছে না সরকার। তার মতে, এটা স্পষ্ট যে, এটি কেবল প্রচারণামূলক কৌশল। বর্তমানে গাজায় ক্যানসার চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ওষুধ ও প্রোটোকল সম্পূর্ণভাবে অনুপস্থিত। মানবিক এই বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হানি নাঈম নামের এক রোগী জানিয়েছেন, তিনি ছয় বছর ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে আসছেন। আগে পশ্চিম তীর ও জেরুজালেমে চিকিৎসা নিতেন, কিন্তু এখন গাজায় আটকা পড়ে আছেন এবং রেডিওথেরাপি পাচ্ছেন না। মোহাম্মদ আবু নাদা জানান, প্রতিদিন খান ইউনিস এলাকায় দু’ থেকে তিন জন ক্যানসার রোগী মারা যাচ্ছেন। ব্যথানাশক ওষুধের তীব্র সংকটের কারণে এখন মারাত্মক অসুস্থ রোগীদের ব্যথা উপশম করাও সম্ভব নয়। বর্তমানে তিন হাজার ২৫০ জন রোগীর বিদেশে চিকিৎসার দরকার থাকলেও রাফাহ সীমান্ত বন্ধ থাকায় এবং ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা গাজা থেকে বের হতে পারছেন না। চিকিৎসকরা বলছেন, গাজায় ক্যানসার চিকিৎসা প্রায় ৫০ বছর পুরোনো অবস্থায় ফিরে গেছে। সারা শরীরে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়লেও প্রতিরোধের কোনও উপায় নেই। অনেক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক গাজা ছেড়ে চলে গিয়েছেন, আর বেঁচে থাকা চিকিৎসকরা শুধুমাত্র চোখের জল ফেলে রোগীদের পাশে থাকছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বারবার চিকিৎসা সরঞ্জাম বা বিদেশে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে আবেদন জানালেও কোনো উন্নতি হয়নি। এই নিঃশব্দ ঘাতক ব্যাধি ও চিকিৎসার কৃত্রিম সংকট হাজারো ফিলিস্তিনির জীবনকে চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা।