Month: January 2026

  • খুলনায় ভৈরব নদ থেকে উদ্ধার লাশ চরমপন্থী সদস্য ঘাউড়া রাজীবের

    খুলনায় ভৈরব নদ থেকে উদ্ধার লাশ চরমপন্থী সদস্য ঘাউড়া রাজীবের

    খুলনার ভৈরব নদে অজ্ঞাতনামা যুবকের লাশ উদ্ধার করার পর তার পরিচয় জানা গেছে। তাঁর নাম রাজীব হোসেন, একই সঙ্গে তিনি ঘাউড়া রাজীব নামে পরিচিত। পুলিশ জানিয়েছে, রাজীবের বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি সহ মোট ১৪টি মামলা রয়েছে। তিনি পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির (এমএল) শক্তিশালী ক্যাডার ছিলেন। তিন মাস আগে গোপালগঞ্জের মোকছেদপুর থেকে খুলনায় এসেছিলেন।

    শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে রাজীবের লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর আগে, গতকাল শুক্রবার খুলনার ৬ নম্বর ঘাট এলাকার ভৈরব নদে দুটি লাইটার ভেসেলে মাঝখান থেকে তার ভাসমান লাশ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।

    খুলনা নৌ পুলিশ সদর থানার ওসি বাবুল আক্তার বলেন, লাশটি প্রথমে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, রাজীবের মাথার পেছনে গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, যা তার মৃত্যুর কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    অতিরিক্ত তিনি বলেন, রাজীবের বিরুদ্ধে খুলনার বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, তিনি অপরাধ করে তার মামা বাড়ি গোপালগঞ্জের মোকছেদপুরে আশ্রয় নিতেন। পরিবার আইনগত ব্যবস্থা নিলে আসল তথ্য বেরিয়ে আসার আশা রয়েছে।

    বাবুল আক্তার আরও জানান, ৩ জানুয়ারি থেকে রাজীব নিখোঁজ ছিলেন। এক সপ্তাহ بعد তার ভাসমান লাশ উদ্ধার করা হয়, যার মানে হয়তো নিখোঁজের দিনই তাকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

    খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে রাজীবের দ্বিতীয় স্ত্রী ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, ‘আমরা একজন বছর আগে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হই। বিয়ের পর আমরা গোপালগঞ্জের মোকছেদপুরের রাজীবের মামা বাড়িতে অবস্থান করছিলাম। ডিসেম্বরে খুলনার দিঘলিয়ার এক ভাড়া বাসায় থাকছিলাম। তার আগে কিছু জানা না থাকলেও, বিয়ের সময় তার পরিবার সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানতাম না।’

    ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে ফারহানা জানিয়েছেন, শনিবার রাতে মোবাইলে একটি ফোন আসে। বিকাশ থেকে টাকা তুলতে বলে সে বের হয়ে ফিরে আসেনি। এরপর থেকেই তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।

    তিনি আরো বলেন, রাজীব কমিউনিস্ট পার্টির সক্রিয় ক্যাডার ছিলেন। তার বিরুদ্ধে ১৪টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে সাতটি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে এবং সাতটি এখনও তদন্তাধীন।

    প্রথম স্ত্রী লিয়া খাতুন বলেন, ‘আমাদের বিয়েটা ২০১৬ সালে হয়। তখন তার ডান হাতের রগ কেটে দেয়া হয় সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে। চার বছর আগে আমাদের সম্পর্ক শেষ হয়ে যায়। শনিবার সকালে তার মৃত্যুর খবর শুনে তিনি খুলনায় আসেন।’

  • কপোতাক্ষ নদীতে পড়ে নিখোঁজের ৫ দিন পর যুবকের লাশ উদ্ধার

    কপোতাক্ষ নদীতে পড়ে নিখোঁজের ৫ দিন পর যুবকের লাশ উদ্ধার

    খুলনার পাইকগাছা-তালা সীমান্তবর্তী বালিয়া খেয়াঘাটের পারাপারসময় কপোতাক্ষ নদীতে পড়ে নিখোঁজ হওয়া রবিউল ইসলাম (৪০) এর লাশ গত রবিবার (১১ জানুয়ারি) ভোর পৌনে ৬টার দিকে পাইকগাছার আগড়ঘাটার কপোতাক্ষ নদীর চর থেকে উদ্ধার করা হয়। রবিউল ইসলাম গদাইপুর ইউনিয়নের তৌকিয়া গ্রামের মুনসুর গাজীর ছেলে।

    নিখোঁজের বিষয়টি জানিয়ে পুলিশ জানায়, ৬ জানুয়ারি দুপুর দুইটার দিকে রবিউল সদর উপজেলার ২ নং কপিলমুনি ইউনিয়নের বিরাশি গ্রামে কপোতাক্ষ নদে পারাপারের সময় নদীতে পড়ে যান। কয়েকদিন খোঁজাখুঁজির পরে ১১ জানুয়ারি ভোরে তার মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে।

    পুলিশের আরও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, রবিউল সাতক্ষীরার তালা থানার বালিয়া ঘাট থেকে কপোতাক্ষ নদে খেয়া যোগে পার হচ্ছিলেন। হঠাৎ মৃগীরোগের প্রকোপে আক্রান্ত হয়ে নদীতে পড়ে যান। এ সময় স্থানীয় মানুষজন, উদ্ধার কাজের টিম ও ডুবুরি তার সন্ধানে চেষ্টা করে বীরত্বের সাথে নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধার করতে পারেনি।

    পাইকগাছা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির এস আই রবিউল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করি। সুরতহাল রিপোর্টের কাজ শেষ করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরিবার সদস্যরা এসে তার পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া পৌরোস।

  • রূপসার বাগমারায় দুর্বৃত্তের গুলিতে বিকুল নিহত

    রূপসার বাগমারায় দুর্বৃত্তের গুলিতে বিকুল নিহত

    খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার বাগমারা এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে আব্দুল বাছেদ বিকুল নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এই ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটেছে শনিবার রাতের অর্ধ dipped ঘন্টা আগে।

    নিহত বিকুল বাগমারা এলাকার বাসিন্দা এবং আব্দুল আওয়ালের ছেলে। স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, গভীর রাতে হঠাৎ করে গুলির শব্দ শোনা যায়, যার ফলে সাময়িকভাবে আশপাশের এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কিছু সময় পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে রাশেদ বিকুলকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়, যেখানে জরুরি বিভাগে চিকিত্সা নেওয়ার পর রাত ২টা ৩০ মিনিটে তিনি মারা যান। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। ঘটনা তদন্তে পুলিশ জোরদার অভিযান চালাচ্ছে।

  • সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার বৃদ্ধি ফিরিয়ে আনল সরকার

    সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার বৃদ্ধি ফিরিয়ে আনল সরকার

    সরকার মঙ্গলবার রোববারের সিদ্ধান্ত বাতিল করে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার আগের অবস্থায় বহাল রাখার ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে, আগের মতোই আগামী ছয় মাস (১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর) সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার অপরিবর্তিত থাকবে। এর আগে বৃহস্পতিবার সরকার এই হার কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল, যা সমালোচনার মুখে পড়েছিল। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও অবসরপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠীর জন্য এই সঞ্চয়পত্রের আসল আয়ের উপর নির্ভরশীলতা বেশি, তাই এই পরিবর্তন নিয়ে মতভেদ দেখা দেয়।

    জানা যায়, রোববার সরকারি উচ্চ পর্যায়ে বৈঠক শেষে ওই প্রজ্ঞাপন বাতিল করে আবারও পূর্বের মুনাফার হার চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর প্রধান উপদেষ্টার অনুমোদন নিয়ে নতুন করে এর নির্দেশনা জারি করা হয়।

    বর্তমানে সরকারে চারটি ধরনের সঞ্চয়পত্র রয়েছে, এর মধ্যে বিশেষ করে পরিবার সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে maximum ৭৫০,০০০ টাকার বেশি বিনিয়োগের জন্য আলাদা নীতিমালা আছে। সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পাঁচ বছর মেয়াদে মুনাফার হার ছিল ১১.৯৩%, যা নতুন প্রজ্ঞাপনে পূর্বের হারই বহাল রাখা হয়েছে। যেখানে, বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে (৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বেশি) হার ছিল ১১.৮০%, যা ঠিকই অপরিবর্তিত থাকছে।

    অতীতে, দেশে মূল্যস্ফীতির কারণে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কিছুটা কমানো হয়েছিল। যেমন, ৫ বছরের সরাসরি মুনাফার হার ১১.৯৩% থেকে কমে ১০.৪৪% করা হয়, আর ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে হার ১১.৮০% থেকে ১০.৪১% এ নামানো হয়। তবে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের হারে আগের মতোই এমনি থাকবে।

    গত বছর জানুয়ারি থেকে, সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার ট্রেজারি বন্ডের গড় সুদহার সাথে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারিত হচ্ছে, যা গত কিছু মাসে কমেছে। এর ফলে, গত বৃহস্পতিবার জারি করা প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ২০২৪ সালের প্রথমার্ধের জন্য এই হার কার্যকর থাকবে।

    সাধারণ গ্রাহকরা মূলত মধ্যবিত্ত পরিবার। অর্থাৎ, জীবনযুদ্ধে নিজেদের সঞ্চয় রক্ষা করতে সঞ্চয়পত্রই তাদের প্রধান সামগ্রী। অর্থনীতির সব সংকটে তারা এই সঞ্চয় ভেঙে খরচ চালান। অনেকে পাইয়ে থাকেন মূল টাকার ওপর ভিত্তি করে বছরে একবার পয়েন্ট অনুযায়ী মুনাফা পান। কিন্তু বর্তমানে মূল্যবৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষ চাপে পড়ে গেছে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও তা এখনও ৮ থেকে ৯ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে, সরকারের এই সিদ্ধান্তে বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদ বলেন, স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য এই হার না কমানোই উত্তম। এ ছাড়া সাধারণ মধ্যবিত্তরা মনে করেন, সরকারের অতি দ্রুত এই পরিবর্তন বাবদ তাঁদের জীবনযাত্রা ঝুঁকি মধ্যে পড়তে পারে।

  • একদিনের ব্যবধানে ফের সোনার দামে বড় বৃদ্ধি

    একদিনের ব্যবধানে ফের সোনার দামে বড় বৃদ্ধি

    বাংলাদেশের জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) একটি নতুন ঘোষণা দিয়ে বলেছে, দেশের বাজারে একদিনের ব্যবধানে আবারও সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে। এতে প্রতি ভরি সোনার দাম সর্বোচ্চ ২৯১৬ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেল। এর ফলে মানসম্পন্ন সোনার দাম পৌঁছে গেছে দুই লাখ ২৭ হাজার ৮০০ টাকার বেশি।

    বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে আগামী ৬ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) থেকে। সংগঠনের মতে, বৈশ্বিক বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের মূল্য বাড়ার কারণে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আরও বেড়েছে।

    বিশ্ব বাজারের তথ্যমতে, গোল্ডপ্রাইসডটওআরজি ওয়েবসাইটের রিপোর্ট অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে। বর্তমানে প্রত আউন্স স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ৪৪৪৫ ডলার।

    নতুন দাম অনুযায়ী, সবচেয়ে মানসম্পন্ন বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার মূল্য উঠেছে ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকা। অন্যদিকে, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৩৪ টাকায়। ১৮ ক্যারেটের জন্য নির্ধারিত মূল্য ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৪৯ টাকা, আর সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম হয়েছে এক লাখ ৫৫ হাজার ৪২৩ টাকা।

    এছাড়াও, স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ৫ হাজার ৯২৫ টাকা। এরপর, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৫ হাজার ৬৫৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ৪ হাজার ৮৪১ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ৩ হাজার ৬৩৯ টাকা।

  • ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে: জ্বালানি উপদেষ্টা

    ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে: জ্বালানি উপদেষ্টা

    বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা পরিকল্পিতভাবে গ্যাসের (এলপিজি) দাম বাড়িয়েছে। তিনি বলেন, মঙ্গলবার (6 জানুয়ারি) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় ও অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন। কথাগুলো বলার সময় তিনি উল্লেখ করেন, অনেকের জন্য আশার কথা ছিল যে, এলপিজির দাম আরও বাড়বে। কারণ বিইআরসি ইতিমধ্যে দাম ৫৩ টাকা নয়, বরং আরও বেশি কিছু নির্ধারণ করেছে। এর কারণে অনেক ব্যবসায়ী সুযোগ নেওয়ার চেষ্টাও করছে। তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যে সরকার সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন, প্রত্যেক জেলায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে মূল্যবৃদ্ধির কারণগুলো পর্যবেক্ষণ করতে। এ বিষয়ে গতকাল আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায়ও আলোচনা হয়েছে। উপদেষ্টার মতে, এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পেছনে কোনও কারণ নেই, বরং এটি এক ধরনের কারসাজি। সরকার তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে জেলা প্রশাসন এবং পুলিশের মাধ্যমে। কারা এই কারসাজির সঙ্গে জড়িত, তা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, মূলত খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা মিলেমিশে এই ব্যাপারটি ঘটিয়েছে।

  • ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা ছাড়া মূল্যস্ফীতি কমানো সম্ভব নয়: অর্থ উপদেষ্টা

    ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা ছাড়া মূল্যস্ফীতি কমানো সম্ভব নয়: অর্থ উপদেষ্টা

    অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, শুধুমাত্র সরকারের পক্ষে মূল্যস্ফীতির হার কমানো সম্ভব নয় যদি না ব্যবসায়ীরা তাদের সহযোগিতা প্রকাশ করে। তিনি আজ শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ব্যাংকিং অ্যালমানাকের সপ্তম সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন।

    সালেহউদ্দিন আহমেদ জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমানো খুবই চ্যালেঞ্জিং। তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাত বেশ স্থিতিশীল হয়েছ, কিন্তু এখনি সুদের হার কমানো সহজ নয়। তিনি উল্লেখ করেন, ব্যবসায়ী ও কমিউনিটির সহযোগিতা ছাড়া সরকারের পক্ষে মূল্যে নিয়ন্ত্রণ আনা কঠিন।

    অর্থ উপদেষ্টা আরও জানান, দীর্ধ দিন ধরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাংক খাতে বেশ অনিয়মের মাধ্যমে কিছু সুবিধাভোগী ঋণ নিয়ে লোপাট ও অর্থ পাচার করেছে, যার ফলে ব্যাংক খাতের অবস্থা খুব খারাপের দিকে গড়িয়েছে। পরবর্তীতে অস্থায়ী সরকারের সময় এসব দুর্নীতির তথ্য বের হয়ে আসে এবং ব্যাংকখাতে নানা সংস্কার চালু হয়েছে।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া বড় চ্যালেঞ্জ হলেও বর্তমানে ব্যাংকিং খাত বেশ স্থিতিশীল। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ব্যাংক সুদের হার কমালে সমাধান হয় না, কারণ মূল্যস্ফীতি কেবল আর্থিক নীতির ওপর নির্ভর করে না। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ট্রেজারি বিলের হার কমে গেছে, যা বাজারে প্রতিফলিত হচ্ছে। যদি সরকার ট্রেজারি বিল বা ঋণ বাড়ায়, তবে মানুষ ব্যাংকে অর্থ রাখবেন না, বরং সঞ্চয়পত্র বা ট্রেজারি বিলের দিকে ঝুঁকবে, যা অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। তিনি বলেন, ব্যাংক সংস্থাগুলি মূলত সঞ্চয় ও ক্রেডিটের মাঝে সম্পর্ক তৈরি করে, যা ব্যাংকারদের পাণি।

    অর্থাৎ, তিনি জোর দিয়ে বলেন, ব্যাংকিং খাত সাধারণত স্থিতিশীল থাকলেও, ইনফ্লেশনের মাত্রা উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ইনফ্লেশন নিয়ন্ত্রণের জন্য শুধুমাত্র মনিটারি নীতিই যথেষ্ট নয়, বরং অর্থনীতির অন্যান্য দিক নিয়েও নজর দিতে হবে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, শুল্ক বা জরিমানা দেওয়ার মাধ্যমে বা চাঁদাবাজি করে সমস্যা সমাধান হয় না।

    অর্থ উপদেষ্টা মন্তব্য করেন, কমিউনিটি, হোলসেলার ও রিটেইলার ট্রেডারদেরও সহায়তা দরকার। বাজারের স্বচ্ছতা ও মনিটরিংয়ের জন্য সরকারের সহায়তা জরুরি। তিনি বলেন, এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য ফিসক্যাল ও মনিটারি নীতির পাশাপাশি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ সংস্থা ও অন্যান্য সংগঠনের সহযোগিতা ও সজাগ দৃষ্টি দরকার।

    অনুষ্ঠানে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, এখনো দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তিনি মনে করেন, দেশের অর্থনৈতিক স্বস্তি আনার জন্য অর্থনৈতিক সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। তিনি পরবর্তী সরকারকে সব ক্ষেত্রে নজরদারি বাড়ানো এবং অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান।

    এছাড়া, অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নুরুন নাহার, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিবিএ) চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকারসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

  • এক দফা কমার পর ফের বাড়ল সোনার দাম

    এক দফা কমার পর ফের বাড়ল সোনার দাম

    দেশের বাজারে সোনার দাম আবারও বেড়ে গেছে, এক দফা কমার পরই এই নতুন মূল্যবৃদ্ধির ঘটনা ঘটল। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) আজ রোববার (১১ জানুয়ারি) একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ভরিতে ১০৫০ টাকা বাড়ানোর মাধ্যমে ২২ ক্যারেটের সোনার নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকা। এই নতুন দাম আজ থেকেই কার্যকর হবে।

    বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় সম্পূর্ণ পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি মানে, এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম এখন ২ লক্ষ ২৭ হাজার ৮৫৬ টাকা।

    আরও জানা যায়, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম হবে ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৩৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৪৪৯ টাকা। সবশেষে, সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪২৩ টাকা।

    বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুসের নির্ধারিত ৬ শতাংশ মজুরি যোগ করতে হবে। তবে, গহনার ডিজাইন ও মান অনুযায়ী মজুরির পার্থক্য হতে পারে।

    উল্লেখ্য, এর আগে গত ৮ জানুয়ারি বাজুস দেশে সোনার দাম সমন্বয় করেছিল, তখন ভরিতে ১ হাজার ৫০ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের দামের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ২৬ হাজার ৮০৬ টাকা। সেই সময়ে অন্য ক্যাটাগরির দামও কমানো হয়েছিল।

    এটি হলো এই বছর দেশের বাজারে পঞ্চমবারের মত সোনার দাম সমন্বয়, যেখানে দাম তিন দফা বেড়েছে আর কমেছে দু’দফা।

  • ৫ অগাস্টের আগে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা নয়: তারেক রহমান

    ৫ অগাস্টের আগে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা নয়: তারেক রহমান

    বিএনপি নতুন নেতৃত্বে গঠিত হলে জাতিকে সঠিক পথে পরিচালিত করার দৃঢ় আশ্বাস দিয়ে দলের নতুন চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আমরা এখনো ৫ অগাস্টের আগের পরিস্থিতিতে ফিরে যেতে চাই না। তিনি উল্লেখ করেন, আমার সামনে দুটি উদাহরণ রয়েছে—একটি, ১৯৮১ সালের জানাজা; অন্যটি, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের জানাজা। এর পাশাপাশি, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের ঘটনাও আমার মনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। এই সব ঘটনা শুধুমাত্র আমার নয়, বরং আমাদের দলের নেতাকর্মীদের এবং সাধারণ দেশের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। আমাদের মনে রাখা উচিত, অতীতের এই সময়গুলো ফিরে যাওয়ার কোনো কারণ নেই। শনিবার (১০ জানুয়ারি) ঢাকায় এক হোটেলে সংবাদসংবাদমাধ্যমের সম্পাদকদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। তারেক রহমান আরও বলেন, ৫ অগাস্টের মতো হিংসা, প্রতিশোধের উদ্রেক হলে যার পরিণতি কী হতে পারে তা আমরা দেখেছি। এজন্য আমি সকলের প্রতি অনুরোধ রইল—মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও আমাদের চেষ্টা করে মূল্যবান আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যাগুলো সমাধান করতে হবে। কখনো যেন এসব মতবিভেদ বিভেদে পরিণত হয় না, কারণ বিভেদ দেশের একটি বৃহত্তর ক্ষতি করে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে অনেকের মুখে হতাশার কথা শোনা যায়, তবে ভবিষ্যত প্রজন্মের মনে এখনও আশা রয়েছে এবং পরিকল্পনা রয়েছে। গত ২৫ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে ফিরেই তিনি বাংলাদেশে এসেছেন পরিবারের সাথে। এরপর ৩০ ডিসেম্বর তার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মারা যান। এই শোকের মধ্য দিয়ে দুই সপ্তাহের মধ্যেই শনিবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তাকে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়। এরপরই প্রথম কর্মসূচিতে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করতে উপস্থিত হন তিনি। ঢাকার এক সাংবাদিকের কাছে মাননীয় সম্বোধন ব্যবহারের প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট পদক্ষেপ জানিয়ে বলেন, দয়া করে আমার নামের আগে ‘মাননীয়’ সম্বোধন করবেন না। তিনি বলেন, দেশে ফিরে আসার পরে আমি বিভিন্ন স্থানেই গিয়েছি, যেমন সাভার এবং অন্যান্য এলাকায়। আমি মনে করি, তরুণ সমাজ নতুন গাইডেন্স এবং আশার স্থান খুঁজছে। প্রত্যেক প্রজন্মের জন্যই সেই গাইডেন্সের প্রয়োজন। আমি বুঝতে পারছি, আমরা যারা রাজনীতিতে আছেন, আমাদের অনেক প্রত্যাশা রয়েছে, কিন্তু সব কিছু পূরণ সম্ভব না। তবে যদি আমরা ১৯৭১, ১৯৯০, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোকে সামনে রেখে দেশাধীন স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য কাজ করি, তাহলে আমি বিশ্বাস করি আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে একটি সঠিক দিকনায়না দিতে পারব।

  • জাতীয় পার্টির ৪ প্রার্থীর প্রার্থিতা ফিরে পেলেন

    জাতীয় পার্টির ৪ প্রার্থীর প্রার্থিতা ফিরে পেলেন

    জাতীয় পার্টির মোট ২৫ জন মনোনয়ন প্রত্যাশীর মধ্যে চারজনের প্রার্থিতা শনিবার (১০ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত আপিল শুনানিতে বৈধতা পেয়েছেন। রাজধানীর আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে (বেজমেন্ট-২) এই আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। দুপুর ১২টার দিকে শুনানি শেষ হওয়ার পর জাতীয় পার্টির একাংশের মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

    শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, সারাদেশে জাতীয় পার্টির জন্য মোট ২৪৪ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে ২৫ জনের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছিল। আজকের শুনানিতে ৯ জনের প্রার্থিতা শুনানি হয়, এর মধ্যে চারজনের প্রার্থিতা পুনরুদ্ধার করা হয়েছে অন্য একজনের প্রার্থিতা স্থগিত হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, আমরা আশাবাদী আমাদের সব প্রার্থী বৈধ বলে বিবেচিত হবে। যারা প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন, তাদের মধ্যে একটি ছিল যিনি তিতাস গ্যাস বিলের বকেয়া নিয়ে সমস্যার কারণে প্রার্থীতার জন্য অযোগ্য হয়েছিলেন, কিন্তু তিনি বকেয়া বিল পরিশোধের পর পুনরায় আবেদন করেছেন। অন্য একজনের ক্ষেত্রে প্রার্থী ফরম জমা দেওয়ার পর তা গ্রহণ না হওয়ার কারণে পুনরায় জমা দেওয়া হয়েছে। আরেকজনের ক্ষেত্রে বৈধ নাগরিকত্বের সনদ না থাকায় প্রার্থিতা গ্রহণ হয়নি, তবে পরে সেটা জমা দেওয়া হয়েছে।

    মহাসচিব উল্লেখ করেন, আপিল শুনানির মধ্যে যেখানে প্রার্থিতা স্থগিত হয়েছে, সেখানে তার কারণ হলো ওই প্রার্থী ভুলক্রমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। এই বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।