Month: December 2025

  • মাস্টাররোলের ১০২ জন কর্মচারীর চাকরি স্থায়ীকরণের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগে পরিপত্র প্রেরণের সিদ্ধান্ত

    মাস্টাররোলের ১০২ জন কর্মচারীর চাকরি স্থায়ীকরণের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগে পরিপত্র প্রেরণের সিদ্ধান্ত

    খুলনা সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য গঠিত একটি কমিটির ১০তম সভা সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টায় নগর ভবনের শহিদ আলতাফ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রশাসক মোঃ মোখতার আহমেদ। এই সভার মূল উদ্দেশ্য ছিল খুলনা সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রম চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেয়া। এরই অংশ হিসেবে, স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪ এর ধারা ২৫(ক)(২) অনুযায়ী স্থানীয় সরকার বিভাগের মাধ্যমে এক গুরুত্বপূর্ণ কমিটি গঠন করা হয়।

    সভায় জানানো হয় যে, চলতি অর্থবছর ২০২৫-২০২৬ এর আওতায় খুলনা সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ন সহায়তা খাতে ‘বিশেষ বরাদ্দ’ এর অধীনে ৯২টি স্কিমে ২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা অর্থাৎ একটি বড় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পগুলির জন্য, প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সভাপতি বা প্রধান ব্যক্তিকে নেতৃত্বে ৫ সদস্যবিশিষ্ট প্রজেক্ট ইমপ্লেমেন্টেশন কমিটি (পিআইসি) তৈরি করা হবে।

    এছাড়াও, হাইকোর্টে দায়েরকৃত রিট পিটিশন-৯৪১৭/১৮ ও মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের লিভ টু আপিল ৩৫৯৬/২৩ এর আদেশ অনুযায়ী, ১০২ জন মাস্টাররোলের চাকরির স্থায়ীকরণ বা চাকরিবৃদ্ধির জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগে একটি পত্র প্রেরণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়।

    সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শরীফ আসিফ রহমান। উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী, রাজস্ব কর্মকর্তা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটসহ বেশ কয়েকজন বিভাগের প্রতিনিধিগণ। এর পাশাপাশি, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি), খুলনা ওয়াসা, কেডিএ, জেলা প্রশাসন, বিটিসিএল, বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগ, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বন বিভাগ, বিআইডব্লিউটিএ, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক উচ্চশিক্ষা অফিসের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

    পরবর্তীতে, বিকেল ৪টায় খুলনা সিটি কর্পোরেশনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও প্রশাসক মোঃ মোখতার আহমেদের সভাপতিত্বে দুর্যোগ মোকাবিলা বিষয়ক আরেকটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভার মূল উদ্দেশ্য ছিল ভূমিকম্প ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় প্রস্তুতি নেওয়া, দুর্যোগকালীন এবং পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি কমানোর উপায় আলোচনা। এর মধ্যে, মহানগরীতে চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো অপসারণের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তাব গৃহীত হয়। এ সভায় সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • দেশের সংকট মোকাবিলায় খালেদা জিয়া ছিলেন প্রধান অভিভাবক, জনগণের আশা ও দোয়া

    দেশের সংকট মোকাবিলায় খালেদা জিয়া ছিলেন প্রধান অভিভাবক, জনগণের আশা ও দোয়া

    খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্যপ্রার্থী আমীর এজাজ খান বলেন, বাংলাদেশে আরও অন্ধকার দূরে ঠেলে দিচ্ছে এমন সময় আমাদের নেতৃত্বের জন্য দেশের সব মানুষ দল-মত নির্বিশেষে দোয়া করছেন। তারা চান, মহান নেত্রী খালেদা জিয়া যেন দ্রুত সুস্থ হন এবং আবারও ফিরে এসে দেশের সংকটকালীন এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেতৃত্ব দেন। তিনি বিশ্বাস করেন, তাঁর অভিভাবকত্বে দেশের মানুষ এ বিভ্রান্তির অন্ধকার থেকে মুক্তি পেতে পারেন।

    গতকাল সোমবার বিকেলে বটিয়াঘাটার সুখালি ইউনিয়নের গড়িয়ারডাঙ্গাবাসীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এসব কথা বলেন আমীর এজাজ খান। এসময় তিনি বলেন, দুই বার প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনা করে দেশবাসীর জন্য দোয়ায় আহবান জানান। এছাড়া তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের উন্নয়নের জন্য সবাই একসাথে কাজ করছে, কিন্তু দেশের স্বার্থে বিএনপি ও তার নেত্রী খালেদা জিয়া সুস্থ হয়ে ফিরে এলে আরও বেশি আত্মবিশ্বাস ও শক্তি পাবেন।

    তিনি আরও বলেন, বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে আগামী বাংলাদেশের উন্নয়নে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ভোট দিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও দেশ গঠনে সহায়তা করতে জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, এ দেশের মানুষ তরুণ-ত্রাণ ও সেবায় নির্ভর করতে পারে শুধুমাত্র বিএনপি ও জাতীয়তাবাদী দলের উপর। আমি হিন্দু- মুসলিম সবাইকে একসাথে দেখার স্বপ্ন দেখি, কারণ আমি সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করি।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি মোঃ তাহেদ, বটিয়াঘাটা উপজেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব খন্দকার ফারুক হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা কামরুল ইসলাম, জিয়াউর রহমান জিকু, আশিকুজ্জামান আশিক, মাসুদুজ্জামান, সাইফুল ইসলাম, কামরুল ইসলাম, সিপার রুহুল, মোমেন, লিটন, ব্রজেন ঢালী, বাহাদুর মুন্সি, রাহাত আলী লাচ্চু, অধ্যক্ষ শশাঙ্ক মন্ডল, সেলিম মোল্লা, টুটুল গোলদার, সালাম শেখ, ডালিম হুমায়ুন, মোল্লা আবজাল হোসেন ও মোল্লা মফিজুল ইসলাম প্রমুখ।

    প্রধান অতিথি আরও বলেন, তরুণ প্রজন্মের অহংকার হয়ে উঠেছে বাংলাদেশে ফিরে আসা নেতা তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়নের জন্য যার জন্য দল-মত নির্বিশেষে সবাই একযোগে কাজ করতে হবে। সবাইকে বোঝাতে হবে যে, এই রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির জন্য বিএনপি-ই একমাত্র উপযুক্ত দল। সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে একসাথে কাজ করতে উৎসাহিত করে দেশকে আরো শক্তিশালী ও স্বাবলম্বী গড়ে তুলতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

  • গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বিএনপির অবদান অবিস্মরণীয়

    গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বিএনপির অবদান অবিস্মরণীয়

    খুলনা-২ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, বাংলাদেশ মানেই বিএনপি, আর এটি গণতন্ত্রের এক অনন্য নাম। ইতিহাসে দেখা যায়, জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা থেকে শুরু করে পঞ্চম সংশোধনী পর্যন্ত দেশের বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ সুগম করেছিলেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মূল ভিত্তিও ছিল সকলের জন্য একটি সমমনা বাংলাদেশ। এই স্বপ্নে অঙ্গীকারবদ্ধ থাকা দরকার, কারণ এই স্লোগান— ‘সবার আগে বাংলাদেশ’—ই আমাদের এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা। সব ধরনের অপপ্রয়াসের বিরুদ্ধে এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে, বিএনপিই দেশের রাজনৈতিক অগ্রগতির মূল চালিকা শক্তি। গণতন্ত্রের সুস্থ প্রতিষ্ঠায় বিএনপি সবসময় জনগণের পক্ষে রয়েছে।

    গতকাল সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় ১৯নং ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে পলীমঙ্গল শামসুল উলুম খাদেমুল ইসলাম মাদ্রাসায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত রোগমুক্তি ও সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু, তিনি এই অনুষ্ঠানে বলেন, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশের জন্য যে অবদান রেখে গেছেন তা ইতিহাসের স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন আকরাম হোসেন খোকন, দোয়া পরিচালনা করেন হাফেজ মাওলানা মুফতি সাঈদ আহসান। বাদ আসর ৩০নং ওয়ার্ডের আহমদীয় এতিমখানা মাদ্রাসায় অনুষ্ঠিত দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। এরপর শারিয়ত ও সমাজের প্রগতির উদ্দেশ্যে অন্যান্য দোয়া ও আলোচনা সভাও অনুষ্ঠিত হয়।

    এছাড়াও, ২২নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মাহবুব কায়সার ও এ ওয়ার্ডের বিএনপি নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন এলাকার বর্ষীয়ান নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, আয়োজক ও সাধারণ মানুষ। এই সব অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে নেতা-কর্মীরা তাদের প্রতি ভালোবাসা ও সমর্থন প্রকাশ করেন। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ দলের চিত্র ফুটে উঠে, যা দেশের উন্নয়নে এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম বলে মনে করা হয়।

  • আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: গণতন্ত্রের মুক্তির সংগ্রাম

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: গণতন্ত্রের মুক্তির সংগ্রাম

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে খুলনা-৩ আসনে আরও শক্তিশালী করে তোলার জন্য বিএনপির কেন্দ্রীয় আওয়ামী কমিটির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও ধানের শীষ প্রতীকধারী প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুল দলীয় নেতাদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা করেছেন। এই সভা গত সোমবার রাতে নগরীর নিজের বাসভবনে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে তিনটি থানার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    সভায় নির্বাচনের প্রস্তুতি, সংগঠনের শক্তি বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা, ভোটারদের মধ্যে ধানের শীষের বার্তা পৌঁছে দেওয়া, পোলিং এজেন্ট নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ, পাশাপাশি এলাকায় চলমান রাজনৈতিক ও সামাজিক কার্যক্রম বিষয়ক বিস্তৃত আলোচনা হয়। কেন্দ্রীয় নেতাদের মতামত ও প্রস্তাবগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনা হয়।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেবলমাত্র একটি নির্বাচন নয়, এটি একটি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম। জনগণের অধিকার রক্ষায় এখন থেকে আরও সক্রিয়ভাবে মাঠে কাজ করতে হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে ধানের শীষের বার্তা ছড়িয়ে দিতে হবে এবং পোলিং এজেন্টদের সততা, দক্ষতা, ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে প্রস্তুত হতে হবে। তিনি আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের প্রতীক। তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি, কারণ তার সুস্থতা দেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

    সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন থানা বিএনপি’র সভাপতি এড. মোহাম্মদ আলী বাবু, মুর্শিদ কামাল, কাজী মিজানুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বিশ্বাস, শেখ ইমাম হোসেন, আবু সাঈদ হাওলাদার আব্বাসসহ ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। সভা শেষে নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে খুলনা-৩ আসনে ধানের শীষের পক্ষে জনমনোভাব সৃষ্টি করে নির্বাচনে বিজয় অর্জনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

  • খুলনা বিভাগীয় ইজতেমা: সাদপন্থীদের ইসলাম পরিপন্থী আখ্যা

    খুলনা বিভাগীয় ইজতেমা: সাদপন্থীদের ইসলাম পরিপন্থী আখ্যা

    তাবলীগ জামাতের সাদপন্থীদের দ্বারা মুসলমানদের মৌলিক আকিদা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের পরিপন্থী অপপ্রচার ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার জন্য সতর্কবার্তা দিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম, জেলা ইমাম পরিষদসহ দেশের বিভিন্ন স্তরের আলেম-ওলামারা। গত মঙ্গলবার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ এ বিষয়টি তুলে ধরেন ও সাধারণ মুসলমানদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়েছিলেন বাংলাদেশ হেফাজতে ইসলাম খুলনা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মুফতি আবদুলাহ্ ইয়াহইয়া। সভাপতি হিসেবে ছিলেন জেলা ইমাম পরিষদের সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ সালেহ, উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট মাওলানা মুশতাক আহমদ, গোলাম কিবরিয়া, নাছির উদ্দিন কাসেমী ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ আলেম-ওলামারা। বক্তব্যে বলা হয়, প্রায় শত বছর ধরে তাবলীগের দাওয়াতি কার্যক্রম বিশ্বব্যাপী নির্বিঘ্নে পরিচালিত হচ্ছে ওয়াজারা আলেম-ওলামাদের পর্যবেক্ষণে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, কুরআন ও হাদিসের আলোকে মুসলমানদের iman, আমল ও আখলাক সংশোধন করা এবং ইসলামের দাওয়াত পুরো বিশ্বে পৌঁছানোর। কিন্তু বর্তমানে এক ভ্রান্ত গোষ্ঠী, যাদের সাদপন্থী বলে আখ্যায়িত করা হয়, দাওয়াতের এই বরকতময় কার্যক্রমের মধ্যেই নিজেদের স্বার্থের জন্য বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা চালাচ্ছে। তারা পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর মনগড়া ব্যাখ্যা, নবী-রাসুল ও সাহাবাদের শানে অপ্রমাণিত মন্তব্য করে ইসলামের মূলনীতি লঙ্ঘনের অপচেষ্টা চালাচ্ছে, যা উম্মতের মধ্যে বিভাজন, বিশৃঙ্খলা এবং ফিতনা সৃষ্টি করছে। বাংলাদেশের পাশাপাশি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিশিষ্ট আলেম-ওলামারা এ ভ্রান্ত দলকে গোমরাহ বলে মনে করেন। দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামায় কেরাম এবং জাতীয় মসজিদ বায়তুল মুকাররমের খতিব হযরত মাওলানা আব্দুল মালেক সাহেবসহ অগণিত প্রত্যন্ত অঞ্চলের আলেম-ওলামাও তাদেরকে বাতিল গোষ্ঠী হিসেবে অভিহিত করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমার ময়দানে এই ভ্রান্ত গোষ্ঠীর কারণে বহু সাধারণ তাবলীগ সাথী, আলেম-ওলামা ও সাধারণ মানুষ আহত-নিহত হয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলাও দায়ের করা হয়েছে। সরকার এই পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে ইজতেমাগুলো তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব স্থানীয় ওলামায়ে কেরাম ও নেতৃবৃন্দের হাতে তুলে দিয়েছে। তবে এই বিভ্রান্ত ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বিভিন্ন স্থান থেকে ইজতেমা আয়োজনের নাম করে ইসলামের মূল পথ থেকে মুসলমানদের বিচ্যুত করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে তারা খুলনা বিভাগীয় নামে এক নতুন ইজতেমার আয়োজন চালিয়ে যাচ্ছে, যা সম্পূর্ণভাবে মূলধারা দাওয়াত এবং উলামায়ে কেরামের সাথে সম্পৃক্ত নয়। এই হুমকি থেকে মুসলমানদের সুরক্ষা ও সত্যিকার ধর্মের পথে অটুট থাকার জন্য সকলকে সচেতন ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।

  • কাল আসছে নতুন ৫০০ টাকার নোট

    কাল আসছে নতুন ৫০০ টাকার নোট

    অপেক্ষার পালা শেষ হচ্ছে, কারণ আগামীকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক বাজারে নতুন নকশার ৫০০ টাকার নোট ইস্যু করবে। এই নতুন নোটটির প্রথমে মতিঝিল অফিস থেকে মুক্তি দেওয়া হবে, এবং পরবর্তী সময়ে অন্যান্য অফিসগুলোতেও পাওয়া যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংক এ তথ্য নিশ্চিত করেছে মঙ্গলবার।

    নতুন নোটের ডিজাইন বেশ আকর্ষণীয় ও আধুনিক। এর সামনের দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ছবি দেখা যাবে, মাঝখানে তো জাতীয় ফুল শাপলার সঙ্গে পাতা ও কলার নকশা। পেছনে রাখা হয়েছে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের প্রতিকৃতি। বিশেষ বৈশিষ্ট্য হিসেবে, নোটের জলছাপে রয়েছে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মুখ, যার নিচে ইলেকট্রো টাইপে লেখা রয়েছে ‘৫০০’ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম। পুরো নোটটি সবুজ রঙে সাজানো, যা দেশের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী রঙের সঙ্গে সুসঙ্গত।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এই নোট বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও প্রতœতাত্ত্বিক স্থাপত্যের উপর ভিত্তি করে নির্মিত ‘বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও প্রতœতাত্ত্বিক স্থাপত্য’ শীর্ষক নতুন সিরিজের অংশ। এই সিরিজের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের নতুন নোটগুলো প্রকাশিত হচ্ছে। এতে স্বাক্ষর হিসেবে থাকছে গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের। এই সিরিজে ১০০০, ৫০০, ২০০, ১০০, ৫০, ২০, ১০, ৫ ও ২ টাকার নোটের মুদ্রণ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ১০০০, ১০০, ৫০ ও ২০ টাকার নোট বাজারে আসন্ন।

    নতুন ৫০০ টাকার নোটের নিরাপত্তার জন্য বেশ কিছু আধুনিক বৈশিষ্ট্য সংযোজিত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো রঙ পরিবর্তনশীল কথালি—নোটটি নাড়া দিলে ডান পাশে থাকা ‘৫০০’ লেখা সবুজ থেকে নীল রঙে পরিবর্তিত হয়। পাশাপাশি, লাল ও স্বর্ণালী রঙের পেঁচানো নিরাপত্তা সুতা যুক্ত, যা আলোতে দেখা গেলে ‘৫০০ টাকা’ লেখা ঝলমলে করে।

    এছাড়াও, দৃষ্টিবঞ্চিত বা দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য নোটের ডান দিকের নিচে পাঁচটি উঁচু বৃত্তের সৃষ্টি করা হয়েছে, যা স্পর্শে স্পষ্টভাবে অনুভব করা যায়। শহীদ মিনার, মূল্যমানের কিছু অংশ ইন্টাগ্লিও প্রিন্টে করা হয়েছে, যা স্পর্শের মাধ্যমে বোঝা যায়। গতিপ্রবাহে থাকাকালীন, নির্দিষ্ট কোণে ধরলে গোপনে ‘৫০০’ লেখা স্পষ্ট হয়। নোটের কাগজে ব্যবহৃত লাল, নীল ও সবুজ তন্তু বিশেষ আলোতে দৃশ্যমান হয়।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এই নতুন ৫০০ টাকার নোট চালু হলেও পুরনো কাগজের নোট এবং কয়েনগুলো অব্যাহতভাবে চলবে। পাশাপাশি, মুদ্রা সংগ্রাহকদের জন্য বিশেষ ‘নমুনা’ ৫০০ টাকার নোট মুদ্রণ করা হয়েছে, যা টাকা জাদুঘর, মিরপুর থেকে নির্দিষ্ট মূল্যে সংগ্রহ করা যাবে।

  • প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ কমানোর নতুন উদ্যোগ

    প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ কমানোর নতুন উদ্যোগ

    বাংলাদেশ ব্যাংক প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ হ্রাস এবং এর সার্বিক ব্যয় নিয়ন্ত্রণের জন্য নতুন এক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর আওতায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে প্রবাসীদের পাঠানো সব ধরনের রেমিট্যান্সের সাথে সম্পর্কিত খরচের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করবে।

    প্রবাসীরা সাধারণত বিদেশে থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে—যেমন এক্সচেঞ্জ হাউস ও অন্যান্য প্রক্রিয়া—রেমিট্যান্স পাঠান। বরাবরই দেখা যাচ্ছে, এই লেনদেনের খরচ এখন বাড়ছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন নির্দেশনা দিয়েছে।

    নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি ব্যাংক বা এক্সচেঞ্জ হাউসের কাছ থেকে পাঠানো রেমিট্যান্সের প্রতিদিনের বিস্তারিত তথ্য পরের দিন দুপুর ১২টার মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠাতে হবে। এই তথ্যগুলোর মধ্যে থাকবে রেমিট্যান্সের প্রেরণকারী ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠান, লেনদেনের উপকরণ, অর্থের সংগ্রহ পদ্ধতি, পরিমাণ, বিনিময় হার, ফি, ভ্যাট বা কর, অন্যান্য খরচসহ মোট খরচের বিস্তারিত বিবরণ।

    বাংলাদেশ ব্যাংক এই তথ্যগুলো পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে কীভাবে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ কমানো যায়। বর্তমানে দেশে প্রবাসীদের রেমিট্যান্সের অর্থ তাদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি স্থানান্তরের জন্য কোনো ফি নেয়া হয় না। তবে বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউসগুলো বিভিন্ন ভিন্ন মানদণ্ডে বিনিময় হার নির্ধারণ করে থাকে, যার ফলে খরচ বেড়ে যায়। এ জন্য বৈষম্য কমানোর জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

    সার্কুলারে জানানো হয়, এই প্রক্রিয়া আগামী ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। এর ফলে প্রবাসীরা যাতে সহজে ও কম খরচে রেমিট্যান্স পাঠাতে পারেন, তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিকে আরও দক্ষতার সঙ্গে সমর্থন করা সম্ভব হবে।

  • বাজার অস্থির, পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিচ্ছে সরকার

    বাজার অস্থির, পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিচ্ছে সরকার

    বাজারের অস্থির অবস্থা ও পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতেই সরকার রোববার থেকে সীমিত আকারে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিচ্ছে। প্রতিদিন ৫০টি করে ইপির (আমদানি অনুমতি) প্রদান করা হবে, যার প্রতিটি আইপিতে সর্বোচ্চ ৩০ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমোদন দেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার মোহাম্মদ জাকির হোসেনের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ১ অগাস্ট থেকে যারা আমদানি অনুমতির জন্য আবেদন করেছেন, তারা কেবল পুনরায় আবেদন করতে পারবেন। একজন আমদানিকারক একবারের জন্যই আবেদনের সুযোগ পাবেন। এটি যতক্ষণ না পুনরাদেশ দেওয়া হবে, ততক্ষণ এ কার্যক্রম চলমান থাকবে।

    গত মাসের শুরুতে হঠাৎ করে পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। কয়েক দিনের ব্যবধানে এর দাম ৪০ টাকার মতো বাড়ে এবং প্রতি কেজিতে দাম ওঠে ১১৫ থেকে ১২০ টাকায়। এক পর্যায়ে সরকার আমদানির অনুমতি দিলে দাম কিছুটা কমে যায়। ধীরে ধীরে দাম ১০৫ থেকে ১১0 টাকায় আর ফিরে আসে।

    সম্প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পেঁয়াজের পর্যাপ্ত মজুত আছে এবং নতুন পেঁয়াজ শিগগিরই বাজারে আসবে। ফলে কৃষকের স্বার্থ রক্ষা করতে আমদানির অনুমতি দেওয়া হয় না। তবে এই সিদ্ধান্তের সুযোগ নিয়ে মজুতদার ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে, যার কারণে এখনো বাজারে দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত বুধবার রাজধানীর খুচরা বাজারে কেজি প্রতি পেঁয়াজের দাম ১১৫ থেকে ১২০ টাকা ছাড়িয়ে যায়, যা এক সপ্তাহের মধ্যে ১০ টাকা বেশি।

    অন্যদিকে, টিসিবির হিসাব অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় এখনও পেঁয়াজের দর প্রায় ১০ শতাংশ কম। বাজারে নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজ না এলেও পাতায়যুক্ত পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে, যার কেজি দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকা।

    পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানির অনুমতি না দেওয়ার খবর পেয়ে দর বাড়ছে। মজুতদার ও কৃষক পর্যায়ে দাম বেড়ে যাওয়ায় পাইকারি ও খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়েছে।

    এর আগে, ৯ নভেম্বর বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের বক্তব্যে জানানো হয়েছিল, চার-পাঁচ দিনের মধ্যে যদি পেঁয়াজের দাম ওভার করে না, তবে আমদানি অনুমোদন দেওয়া হবে। তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা বাজারের ওপর চোখ রাখছি। দেশের মজুত যথেষ্ট। আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসবে। তবে যদি এই সময়ের মধ্যে দাম কমে না, তাহলে আমদানির অনুমোদন দেওয়া হবে।’ তিনি আরও বলেছিলেন, ‘বর্তমানে সরকারের কাছে ২৮০০টির বেশি পেঁয়াজ আমদানির আবেদন রয়েছে। যার দশ শতাংশ অনুমোদন হলে দেশে পেঁয়াজের সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে। তবে এই সময়ের মধ্যে দাম কমে গেলে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, সেই জন্য সরকার এই বিষয় মনিটর করছে।’

  • নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮.২৯ শতাংশ

    নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮.২৯ শতাংশ

    অক্টোবর মাসে কিছুটা কমে এসেছিল মূল্যস্ফীতি, কিন্তু নভেম্বর মাসে আবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশে। এর আগে অক্টোবরের হার ছিল ৮ দশমিক ১৭ শতাংশ, যেখানে গত বছরের একই সময়ে ছিল ১১ দশমিক ৩৮ শতাংশ। আজ রোববার (৭ নভেম্বর) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

    বিবিএসের হিসাব বলছে, নভেম্বর মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ, আর খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯ দশমিক ০৮ শতাংশ। দুই মাস ধরেই ধারাবাহিকভাবে খাদ্যমূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়েছে।

    তিন বছর ধরে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি একটা বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি হয়েছে ১০ দশমিক ০৩ শতাংশ।

    বিবিএস উল্লেখ করেছে যে, গত নভেম্বর মাসে জাতীয় গড় মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। এর অর্থ, মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম।

    মূল্যস্ফীতির হার কমে যাওয়া মানে জিনিসপত্রের দাম কমে যায় না। এটি বোঝায় যে অন্যান্য মাসের তুলনায় ওই নির্দিষ্ট মাসে দাম বাড়ার হার কিছুটা অল্প হয়েছে।

    অর্থনীতিতে দুই-তিন বছর ধরে অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর সুদের হার বৃদ্ধির মাধ্যমে এই সমস্যা মোকাবেলার চেষ্টা চালানো হয়। একই সঙ্গে, এনবিআরও তেল, আলু, পেঁয়াজ, ডিমসহ কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে শুল্ক-কর কমিয়ে দেয়, যাতে বাজারে নিত্যপণ্যের আমদানি স্বাভাবিক রাখা যায়।

  • তিন মাসে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা ৭৩৪টি বৃদ্ধি পেল

    তিন মাসে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা ৭৩৪টি বৃদ্ধি পেল

    দেশের ব্যাংকখাতে কোটিপতি গ্রাহকদের সংখ্যা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি বছরের মার্চের তুলনায় এই বছরের জুনে এই সংখ্যা বেড়েছিল ৫ হাজার ৯৭৪টি। এরপর গত তিন মাসে, অর্থাৎ জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে, আরও ৭৩৪টি কোটিপতি অ্যাকাউন্ট যুক্ত হয়েছে। যদিও কোটিপতি অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও জমা টাকার পরিমাণ অনেকখানি কমে গেছে। বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, জুন শেষে ব্যাংকখাতে মোট অ্যাকাউন্ট ছিল ১৬ কোটি ৯০ লাখ ২ হাজার ৬৭১টি। যেখানে সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ কোটি ৪৫ লাখ ৯৬ হাজার ৭০০-এ। অর্থাৎ, এখনও তিন মাসের মধ্যে নতুন অ্যাকাউন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৫ লাখ ৯৪ হাজার ২৯টি। একই সময়ে ব্যাংকে জমার মোট পরিমাণও সামান্য বেড়েছে। জুন শেষে জমার পরিমাণ ছিল ১৯ লাখ ৯৬ হাজার ৫৮৩ কোটি টাকা, আর সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে ২০ লাখ ৩১ হাজার ১১৯ কোটি টাকা হয়েছে। ফলে, এই তিন মাসে জমার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে ৩৪ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা। কোটিপতি অ্যাকাউন্টের প্রবৃদ্ধি সম্পর্কে জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, কোটিপতি মানে শুধুমাত্র ব্যক্তির হিসাব নয়। দেশের বিভিন্ন ব্যক্তি, বেসরকারি ও সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং কর্পোরেট সংস্থারও কোটি টাকার বেশি আমানত থাকতে পারে। এক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের একাধিক অ্যাকাউন্টও থাকতে পারে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭২ সালে কোটিপতি আমানতকারী ছিল মাত্র পাঁচ জন। এরপর বছরগুলোতে এই সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পায়, ১৯৭৫ সালে ৪৭ জন, ১৯৮০ সালে ৯৮টি অ্যাকাউন্ট, ১৯৯০ সালে ৯৪৩টি এবং ১৯৯৬ সালে ২ হাজার ৫৯৪টি। ২০০১ সালে সংখ্যা দাঁড়ায় ৫ হাজার ১৬২টি, ২০০৬ সালে এগোতে গিয়ে ৮ হাজার ৮৮৭টি এবং ২০০৮ সালে তা বেড়ে ১৯ হাজার ১৬৩টি। এরপর অনেকটা দ্রুত বাড়তে থাকে এই সংখ্যা। ২০২০ সালে কোটিপতি অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ৯৩ হাজার ৮৯০টি, ২০২১ সালে তা বেড়ে ১ লাখ ৯ হাজার ৭৬টি, ২০২২ সালে ১ লাখ ৯ হাজার ৯৪৬টি, ২০২৩ সালে ১ লাখ ১৬ হাজার ৯০৮টি এবং চলতি বছর ২০২৪ সালে এটি দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২১ হাজার ৩৬২টিতে।