Month: November 2025

  • অক্টোবরের রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে; বছরব্যাপী বৃদ্ধি দেখা গেছে

    অক্টোবরের রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে; বছরব্যাপী বৃদ্ধি দেখা গেছে

    দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের এই উল্লম্ফনে দেশপ্রেমে স্বস্তি ফিরেছে। চলতি বছর অক্টোবরের ৩০ তারিখ পর্যন্ত দেশের রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ডলানের বেশি হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুসারে, এই সংখ্যাকিছুটা কম বলে গণ্য হলেও, মোট রিজার্ভ বেড়েছে অন্যভাবে—প্রায় ২৭.৫৪ বিলিয়ন ডলার। এর থেকে আলাদা রিজার্ভ হিসাব রয়েছে, যা বাংলাদেশ ব্যাংক আইএমএফকে দেখায় না, তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী সেটি ২১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।

    শুধু ২০২৪ সালের অর্ধেকের তথ্য বলছে, অক্টোবর ৩০ পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩২.১৪ বিলিয়ন ডলার। আর বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ সোয়া ২৭.৫৪ বিলিয়ন ডলার। এর পাশাপাশি, বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্য একটি হিসাব অনুযায়ী (যা প্রকাশ্য নয়) রিজার্ভের পরিমাণ ২১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৩ সালের পর থেকে রিজার্ভের ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক সংকেত।

    অর্থনীতির অন্যতম সূচক হলো বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বা রিজার্ভ। এর জন্য মূল উৎস হলো প্রবাসী আয়, রফতানি, বিদেশি বিনিয়োগ ও ঋণ থেকে প্রাপ্ত ডলার। অন্যদিকে, দেশের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যয়—যামান, ঋণের সুদ, শিক্ষার্থী ও পর্যটকদের ভিসা খরচ—মিলিয়ে এই মুদ্রা ব্যয় হয়। এসব অর্থ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ গঠিত হয়, আর বেশি খরচ হলে তা কমে যায়।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোর ধরণ পরিবর্তিত হয়েছে। এর ফলে, বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংককে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করতে হয়নি। বরং ব্যাংকগুলো থেকে ডলার পরিচালনা করে তারা।

    আর্থিক দিক থেকে দেখলে, চলমান অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে দেশে এসেছে ২৪৭.৭৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স, আগস্টে তা ছিল ২৪২.২০ কোটি ডলার, সেপ্টেম্বরেএসেছে ২৬৮.৫৮ কোটি ডলার এবং অক্টোবরে তা দাঁড়ায় ২৫৬ কোটি ডলার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মার্চে রেকর্ড ৩২৯ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল। সার্বিকভাবে, ওই অর্থবছরে প্রবাসী আয় এসেছে ৩০.০৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২৬ শতাংশ বেশি।

    প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ১০ বছর আগে, অর্থাৎ ২০১৩ সালের জুনে, দেশের রিজার্ভ ছিল ১৫.৩২ বিলিয়ন ডলার। তার পর ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে রিজার্ভ পৌঁছায় ৩৯ বিলিয়ন ডলারে। এরপর, নভেম্বর ২০২১-এ তা ৪৮.০৪ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে পৌঁছায়। তবে, এরপর অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে রিজার্ভ ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে এবং ২০২৪ সালে তা কিছুটা সংকোচনের দিকে যায়।

  • প্রাইজবন্ডের ১২১তম ড্র: প্রথম পুরস্কার জিতলেন নম্বর ০১০৮৩৩১

    প্রাইজবন্ডের ১২১তম ড্র: প্রথম পুরস্কার জিতলেন নম্বর ০১০৮৩৩১

    বাংলাদেশের প্রাইজবন্ডের ১২১তম ড্র অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই ড্রয়ে প্রথম পুরস্কার হিসেবে জিতেছেন নম্বর ০১০৮৩৩১, যার মূল্য ৬ লাখ টাকা। দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছেন ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা, যা অর্জন করেছে নম্বর ০১৫৬৮৯৭। এছাড়া, দুটি নম্বরের জন্য ১ লাখ টাকার তৃতীয় পুরস্কার ঘোষণা করা হয়—সেগুলো হলো ০০৫৬৩৬২ ও ০৪৫৩৬৬৮। চতুর্থ পুরস্কার হিসেবে ৫০ হাজার টাকা করে পেয়েছে দুইটি নম্বর—০৯১২৪৪৪ ও ০৯৮৩৫৭২।

    রোববার ঢাকার বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে এ ড্র অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বাংলাদেশ ব্যাংক, সঞ্চয় অধিদপ্তর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    ১০ হাজার টাকার পঞ্চম পুরস্কারের জন্য মোট ৪০টি নম্বর ঘোষণা করা হয়। এই নম্বরগুলো হলো: ০০১৩৩৮৬, ০০১৪৯৯২, ০০২৮১৮৩, ০০৫৩২২৬, ০১১৯০৬৯, ০১৬৮৮৭৩, ০২৪৪০৭৪, ০২৫৭৫৯৪, ০২৬৫৯৩৮, ০২৯২৯৪১, ০২৯৬৪২৯, ০৩২৭৯১০, ০৩৪০৪০৭, ০৩৪৯৩১৫, ০৩৫৫২০৬, ০৩৬৭৫২৯, ০৩৬৯১১৭, ০৪১৭৭২৮, ০৪২৫৬৮৩, ০৫০১০৪৩, ০৫১৫৫৪২, ০৫৪৯৫২১, ০৫৬৫৯৩৬, ০৬০২২৬৫, ০৬২০২৫৯, ০৬২৪৭১৮, ০৬৭৪৩৪৪, ০৭১২৭৪০, ۰۷৫۹۰۵۹, ۰৭৬৯۳۹۲, ০৭৮২৭২৮, ০৭৯১৪২৮, ০৭৯৯৭৩২, ০৮২১৬৭৭, ০৮৬৫১২২, ০৯০৩৩৯২, ০৯০৪৩৫২, ০৯২২১৮০, ০৯৩৬৬১৭ ও ০৯৮৫৯৫২।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুসারে, মোট ৩ হাজার ৮১৮টি প্রাইজবন্ডের মধ্যে ৪৬টি টিকিট পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। সঞ্চয় অধিদপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, ড্র-পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে পুরস্কার দাবি করতে হবে, এর পর সময় শেষ হয়ে গেলে দাবি গ্রহণ করা হবে না।

    অর্থনৈতিক নির্দেশিকা অনুযায়ী, ২০২৩ সালে প্রাইজবন্ডের পুরস্কারের অর্থের ওপর ২০ শতাংশ কর প্রযোজ্য।

  • কেন্দ্রীয় ব্যাংক পাঁচ শরিয়াহ ব্যাংককে অকার্যকর ঘোষণা করলো

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক পাঁচ শরিয়াহ ব্যাংককে অকার্যকর ঘোষণা করলো

    আর্থিক সমস্যায় জর্জরিত পাঁচটি শরিয়াহ ভিত্তিক ব্যাংককে মার্জার বা একীভূত করার নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর পাশাপাশি, ব্যাংকগুলোকে অকার্যকর করে ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রস্তাব ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সুপারিশের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলো হলো—ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংক পিএলসি, গ্লোবাল ইসলামি ব্যাংক পিএলসি, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি, এক্সিম ব্যাংক পিএলসি এবং সোশ্যাল ইসলামি ব্যাংক পিএলসি। বুধবার (৫ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংক এসব ব্যাংককে এ বিষয়ে চিঠি পাঠিয়েছে। ব্যাংকগুলো এই খবর ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছে। পৃথক পৃথক চিঠিতে বলা হয়েছে, ৫ নভেম্বর থেকে ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে, ব্যাংকগুলো এখন বাংলাদেশের ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশের আওতায় পরিচালিত হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একটি নতুন সরকারি মালিকানাধীন ইসলামি ব্যাংক বা ‘সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংক’ গঠনের পরিকল্পনা আছে এই প্রক্রিয়ার আওতায়। এর অংশ হিসেবে আজকে পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এদিকে, বুধবার ব্যাংকগুলোның চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের জরুরি ডাকা হয়েছে গভর্নর দ্বারা। জানা গেছে, ওই বৈঠকে তাদের এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। ইতোমধ্যে, ব্যাংকগুলোর কোম্পানি সচিবগণকে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আজ বিকেল ৪টায় সাংবাদিকদের এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব তথ্য মূলত আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবেন। গত ৯ অক্টোবর, সরকারি মালিকানাধীন ইসলামি ব্যাংক গঠনের অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রস্তাব ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সুপারিশের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে। গত এক বছরে, এসব ব্যাংকের আর্থিক পরিস্থিতি সংকটজনকভাবে খারাপ হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, তাদের মধ্যে চলমান তারল্য সংকট, বিশাল অঙ্কের শ্রেণিকৃত ঋণ, প্রভিশনের ঘাটতি এবং মূলধন কমে যাওয়ার কারণে ব্যাংকগুলো কার্যত দেউলিয়া অবস্থায় পৌঁছে গেছে। এর আগে বেশ কয়েকবার অর্থসাহায্য দেওয়া সত্ত্বেও এসব ব্যাংকের পরিস্থিতি উন্নতি না হওয়ার পরিবর্তে আরো খারাপ হয়েছে। এর ফলে, তাদের শেয়ার বাজারের মূল্য ব্যাপকভাবে কমে গেছে এবং নিট সম্পদ বা নেট অ্যাসেট ভ্যালু (এনএভি) ঋণাত্মক অবস্থায় রয়েছে।

  • পাঁচ ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন বন্ধের সিদ্ধান্ত

    পাঁচ ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন বন্ধের সিদ্ধান্ত

    ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) আজ (৬ নভেম্বর) ঘোষণা করেছে যে একীভূতের প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্যাংকগুলোকে এখন থেকে পুঁজিবাজারে কোনও শেয়ার লেনদেন করতে হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত নতুন ঘোষণা না দেওয়া হয়।

    শেয়ারের লেনদেন বন্ধের জন্য ব্যাংকগুলো হলো: ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক (এসআইবিএল), এক্সিম ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক। ডিএসই জানিয়েছেন, এই ব্যাংকগুলোর শেয়ার লেনদেন স্থগিতের মূল কারণ হলো এগুলোর রেজোলিউশন প্রক্রিয়া। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ৫ নভেম্বর এই ব্যাংকগুলোকে অ-কার্যকর হিসেবে ঘোষণা করার ফলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    এছাড়াও, বাংলাদেশ ব্যাংক एक চিঠির মাধ্যমে ব্যাংক পরিচালনা পরিষদ ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে এবং ব্যাংকগুলো এখন থেকে রেজোলিউশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ অনুসারে কাজ করবে বলে জানানো হয়েছে।

    গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর সাংবাদিকদের বলেছেন, এই পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারদের বিনিয়োগের মূল্য এখন শূন্যের নিচে, অর্থাৎ শেয়ারগুলোর মূল্য শূন্য হিসেবে বিবেচিত হবে। কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না।

    প্রতিটি ব্যাংকের মূলধন ও শেয়ার সংখ্যার বিবরণে দেখা যায়,ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ১,২০৮ কোটি টাকা, যেখানে মোট শেয়ার ১২০ কোটি ৮১ লাখ। এর মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অংশ ৬৫ শতাংশের বেশি। এছাড়া, প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ারের ২৯ শতাংশ এবং উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে ৬ শতাংশ।

    গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ৯৮৭ কোটি টাকা, মোট শেয়ার ৯৮ কোটি ৭৪ লাখ, যেখানে সাধারণ বিনিয়োগকারীর অংশ প্রায় ৩২ শতাংশ। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা ৫৩ শতাংশ মালিকানা রাখেন, তালিকায় উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের অংশ ১৫ শতাংশ।

    ইউনিয়ন ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ১০৩৬ কোটি টাকা, মোট শেয়ার ১০৩ কোটি ৬৩ লাখ। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এই ব্যাংকের শেয়ারের ৩২ শতাংশের মালিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্রায় ১৪ শতাংশ, এবং উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের অংশ ৫৪ শতাংশ।

    এক্সিম ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ১৪৪৮ কোটি টাকা, শেয়ার সংখ্যা ১৪৪ কোটি ৭৬ লাখ। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এই ব্যাংকের শেয়ারের ৩৯ শতাংশ মালিক, আর প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ২৯ শতাংশ, অন্যদিকে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে ৩২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

    শেষে, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ১১৪০ কোটি টাকা, মোট শেয়ার সংখ্যা ১১৪ কোটি ২ লাখ। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এই ব্যাংকের ১৯ শতাংশের মালিক, প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ৬৯ শতাংশ এবং উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের অংশ মাত্র ১২ শতাংশ।

  • পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের বোর্ড বাতিল, গ্রাহকসেবা অব্যাহত থাকবে

    পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের বোর্ড বাতিল, গ্রাহকসেবা অব্যাহত থাকবে

    বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের বোর্ড বাতিল হলেও গ্রাহকসেবায় কোনও বিঘ্ন ঘটবে না। এই ব্যাংকগুলোতে পেমেন্ট, রেমিট্যান্স ও এলসি সহ সব ধরনের ব্যাংক্রিয় কার্যক্রম আগের মতোই চালু থাকবে। বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

    গভর্নর উল্লেখ করেন, যদিও ব্যাংকের বোর্ড ভেঙে গেছে, তবে দৈনন্দিন ব্যাংকিং কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলতে থাকবেই। ব্যবসার ধারাবাহিকতা রক্ষা করা আমাদের লক্ষ্যে, এবং ধাপে ধাপে এই পাঁচ ব্যাংকের সম্পদ ও আইটি সিস্টেম একত্রিত করে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করাই আমাদের উদ্দেশ্য।

    তিনি আরও জানান, এই পাঁচ ব্যাংকের মোট ৭৫০টি শাখা রয়েছে এবং তারা প্রায় ৭৫ লাখ আমানতকারীর সুবিধা দিয়ে থাকে। লিকুইডেশন এড়াতে তাদের স্বার্থে ব্যাংকগুলোকে প্রথম ধাপে কাঠামোগত ও প্রযুক্তিগতভাবে একীভূত করার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

    গভর্নর বলেন, ‘নন-ভায়েবিল’ বা অস্থায়ীভাবে চলমান না-ছাড়ার মতো ঘোষণা দেওয়া এই পাঁচ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সাথে সাথে, ব্যাংকগুলোর কোম্পানি সেক্রেটারিকে ‘নন-ভায়েবিলিটি’ নোটিশ পাঠানো হয়েছে, যার ফলে তারা আর কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না।

    অন্তর্ভুক্ত এই পাঁচ শরিয়াহ ব্যাংক দ্বারা মিলেই দেশের সবচেয়ে বড় শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক তৈরি হবে বলে উল্লেখ করেন গভর্নর। নতুন এই সংযুক্ত ব্যাংকের পুঁজি পাত্র হবে ৩৫ হাজার কোটি টাকা—যা বর্তমানে দেশের যে কোনও ব্যাংকের থেকে অনেক বেশি। তিনি নিশ্চিত করেন, এটি একটি ‘সরকারি মালিকানাধীন হলেও বেসরকারি ব্যাংকের মতো পরিচালিত’ হবে। পেশাদার ব্যবস্থাপনা, বাজারভিত্তিক বেতন কাঠামো, পৃথক শরিয়াহ বোর্ড গঠন করা হবে। তিনি বললেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, ইসলামিক ব্যাংকিং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ।’

    শেয়ারহোল্ডারদের বিষয়ে গভর্নর জানান, ‘শেয়ারদাতাদের ইকুইটির মূল্য এখন নেগেটিভ। তাই শেয়ারের মূল্য শূন্যে বিবেচনা করা হবে। কেউ ক্ষতিপূরণ পাবেন না।’

    জনসাধারণকে আরও আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আমানতকারীরা সকল টাকা সম্পূর্ণ নিজেরা তুলতে পারবেন। বড় অঙ্কের আমানতের ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ থাকবে। বিস্তারিত পরবর্তীতে গেজেট নোটিফিকেশন এর মাধ্যমে জানানো হবে। পাশাপাশি, তিনি সবাইকে অনুরোধ করেন, আতঙ্কে না পড়ে প্রয়োজনীয়তার বেশি অর্থ তোলা এড়িয়ে চলার।

    আগামী জাতীয় নির্বাচন ও সরকার পরিবর্তনের পর এ প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে কি না, জানতে চাইলে গভর্নর বলেন, এটি দেশের স্বার্থে নেওয়া একটি সিদ্ধান্ত। সরকার বদলালেও, জনগণের সুবিধার জন্য এই অগ্রাধিকার দেওয়া অব্যাহত থাকবে।

    অন্যদিকে, আর্থিক স্থবিরতার কারণে শরিয়াহভিত্তিক এই পাঁচ ব্যাংককে অকার্যকর ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর পাশাপাশি, এই ব্যাংকগুলোকে মার্জ বা একীভূত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রস্তাব ও অর্থনৈতিক বিভাগে সুপারিশের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। ব্যাংকগুলো হলো ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামিক ব্যাংক পিএলসি, গ্লোবাল ইসলামিক ব্যাংক পিএলসি, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি, এক্সিম ব্যাংক পিএলসি এবং সোশ্যাল ইসলামিক ব্যাংক পিএলসি। বুধবার এই ব্যাংকগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়।

    চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়, ৫ নভেম্বর থেকে এই ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ কার্যক্রম স্থগিত থাকবে এবং এই ব্যাংকগুলো ‘রেজোলিউশনের’ আওতায় পরিচালিত হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, এই ব্যাংকগুলোকে একীভূত করে একটি নতুন, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ইসলামিক ব্যাংক গঠন করা হবে, যার নাম ‘সম্মিলিত ইসলামিক ব্যাংক’ হবে। এ বিষয়ে আজ ওই ব্যাংকের বিভিন্ন পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের জরুরি সভা ডাকা হয়েছে। সেখানে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অবহিত করা হবে।

    গত ৯ অক্টোবরে সরকারি অনুমোদন পায় এই নতুন ইসলামিক ব্যাংক গঠনের জন্য উপদেষ্টা পরিষদ। চলতি বছর যা দেশের আর্থিক ব্যবস্থার জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। এক বছর ধরে এসব ব্যাংকের আর্থিক পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হতে থাকায় বাংলাদেশ ব্যাংক তাদেরকে অনেক চেষ্টা করেও সহযোগিতা করতে পারেনি। ব্যাংকের লিকুইডিটি সংকট, বড় আকারের শ্রেণিকৃত ঋণ, প্রভিশন ঘাটতি এবং মূলধন সমস্যা এই ব্যাংকগুলোকে কার্যত দেউলিয়া করে দিয়েছে। অন্তত শেয়ারবাজারে তাদের মূল্য অনেক কমে গেছে, এবং সকল ব্যাংকের শরৎ সম্পদ মান নেগেটিভে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।

  • এনসিপি এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে: নাহিদ ইসলাম

    এনসিপি এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে: নাহিদ ইসলাম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার দল সম্পূর্ণরূপে এককভাবেই নির্বাচনে অংশ নিবে। বুধবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের গোদনাইলে শহীদ গাজী সালাউদ্দিনের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি এ কথা জানান। গত ২৬ অক্টোবর, দীর্ঘ চিকিৎসার পরে, July আন্দোলনের সময় গুরুতর আহত গাজী সালাউদ্দিনের মৃত্যু ঘটে।

    নাহিদ ইসলাম শোকার্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, জুলাই আন্দোলনের বীর যোদ্ধাদের আমরা কখনও ভুলতে পারি না। তাদের অবদান আমাদের জন্য অমুল্য। দেশের জন্য এই সব শহীদ সেনাদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং ন্যায্য সহায়তা যেন রাষ্ট্রের দায়িত্বে অন্তর্ভুক্ত হয়, সেই দাবি তিনি জোরের সঙ্গে তুলে ধরেন। তিনি আরো বলেন, সরকার যেন দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার মাধ্যমে তাদের পরিবারের পাশে থাকে।

    তিনি জানান, দেশের ৩০০টির মতো আসনে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে, শ্রদ্ধা ও সংহতির প্রতীক হিসেবে, বেগম খালেদা জিয়ার নির্বাচনী আসনগুলোতে কোন প্রার্থী নাম ঘোষণা না করে থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

    এনসিপি নেতাদের বক্তব্যে আরও উঠে আসে, যারা দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের প্রতি সম্মান জানানোই দলটির মূল অঙ্গীকার। তাদের ত্যাগ আমাদের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন, আহমেদ তনু, সালেহ আহমেদসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

  • যমুনা অভিমুখে জামায়াতসহ আট ইসলামি দল শোভাযাত্রা

    যমুনা অভিমুখে জামায়াতসহ আট ইসলামি দল শোভাযাত্রা

    সংসদ নির্বাচনের আগেই গণভোট এবং জুলাই মাসে জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য আদেশ জারির demand‌తో আজ বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে যমুনার পথে যাত্রা শুরু করেছে আটটি ইসলামি দলসহ জামায়াত। সংগঠনগুলো রাজধানীর শাপলা চত্বর থেকে মিছিল চালিয়ে পল্টনের দিকে এগোচ্ছে। পল্টনে পৌঁছানোর পর তারা সংক্ষিপ্ত এক সমাবেশ করবে এবং পরে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে রওনা হবে বলে জানা গেছে। সংগ্রামী এই আন্দোলনের অংশ হিসেবে এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীরা ব্যক্ত করেছেন, তারা সরকারের কাছে তাদের মূল দাবি জানাতে এই স্মারকলিপি প্রদান করবেন। গত বুধবার আগারগাঁওয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে বৈঠক শেষে জামায়াতের সহকারী সাধারণ সম্পাদক হামিদুর রহমান আযাদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘আমাদের দাবি খুবই স্পষ্ট—আগামী নির্বাচনের আগে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে, এবং তা পৃথক দিনে হবে।’ দলের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— জুলাই মাসের জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারি করা এবং সেই আদেশের পরই নভেম্বরের মধ্যে গণভোটের ব্যবস্থা নেওয়া; নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে মুক্ত এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনা; ফ্যাসিস্ট সরকারের জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা; এবং জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা। এই আটটি ইসলামি দলের মধ্যে রয়েছে জামায়াত ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খিলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি।

  • মানুষের মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করতে হবে: তারেক রহমান

    মানুষের মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করতে হবে: তারেক রহমান

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ৫ আগস্টের মহান আত্মদান ও সাহসিকতার মাধ্যমে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট শাসকরা দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়। এর মাধ্যমে মানুষের মধ্যে গণতন্ত্রের মুক্তির পথে নতুন আলোর সৃষ্টি হয়েছে। আজকে চূড়ান্ত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনসহ গণতন্ত্রের অপরিহার্য শর্তগুলো পূরণ করতে হবে এবং মানুষের মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

    তিনি এই মন্তব্য করেন ৭ নভেম্বর মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের বিশেষ বাণীতে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    তারেক রহমান দেশের মানুষসহ সকলের জন্য আন্তরিক শুভকামনা ও অভিনন্দন পাঠিয়ে বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লব শুধুমাত্র রাজনৈতিক মোড় Temer পরিবর্তনের ঘটনা নয়, এটি দেশপ্রেমে উদ্দীপ্ত হয়ে জাতীয় স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধারের আত্মোৎসাহের এক সংগ্রাম। এই বিপ্লব দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে, দেশের অর্থনীতি ও জাতীয় ঐক্যকে সুদৃঢ় করে।

    তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহী-জনতা রাজপথে নেমে এসেছিল স্বাধীনতা রক্ষা ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়ে। সেই সময় দেশপ্রেমে উজ্জীবিত এই জনতার আন্দোলনে এক বদলে যাওয়া পরিস্থিতি তৈরি হয়। কিন্তু স্বাধীনতার পরবর্তীতে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী নিজ স্বার্থে দেশকে দুর্বল করে দিয়ে আধিপত্যবাদী চালাকচাতুরির মাধ্যমে ক্ষমতা ধরে রাখতে চায়। এর জন্য তারা একদলীয় বাকশাল গঠন করে গণতন্ত্রকে হত্যা করে।

    তিনি আরও বলেন, বাকশালী সরকার অগণতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী পন্থায় মানুষের ন্যায়সঙ্গত অধিকারগুলো হরণ করে। এই চরম সংকটময় সময়ে ৭৫ এর ৩ নভেম্বরের দিন বিপথগামী চক্রেরা মহান স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানকে সপরিবারে ক্যান্টনমেন্টে বন্দী করে। ঐ সময়ই জনতার ও সেনাদের সম্মিলিত ঐক্য ও সংহতির ফলে মুক্ত হন জিয়াউর রহমান। এই ঘটনার ফলে রাষ্ট্রপতি জিয়ার নেতৃত্বে দেশে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে, গণতন্ত্রের নতুন দ্বার উন্মোচিত হয় এবং বাক-স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।

    পরে, তবে, আধিপত্যবাদী শক্তির এজেন্টরা ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে নির্মমভাবে হত্যা করে। যদিও জিয়াউর শাহাদত বরণ করেছিলেন, কিন্তু তার আদর্শের বলীয়ান নানা মানবতাবাদী নেতা ও কর্মী দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষা করতে এখনও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

    তিনি মনে করেন, আবারও চক্রান্তের গোপন পথে আওয়ামী ফ্যাসিস্টরা প্রায় ১৬ বছর ধরে গণতন্ত্রের বিকাশে বাধা সৃষ্টি করে, দেশের সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করে তোলে। দুর্বলতাগুলোর জন্য তারা মানবাধিকার ও রাষ্ট্রীয় নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে বিরোধী নেতাকর্মীদের নিপীড়ন করে, গুম করে, হত্যা করে, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চালায় এবং দুর্নীতি ও অপশাসনের রাজত্ব কায়েম করে।

    তারেক রহমান আরও বলেন, stolen Democracy এর প্রতীক খালেদা জিয়াকে অনেক বছর ধরে কারাবন্দি রেখে মুক্তি দেয়া হয়নি। তিনি সমাজে ন্যায্য বিচার ও সুস্থ শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য জোরালোভাবে আহ্বান জানান।

    তিনি শেষ করে বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিস্টরা দেশীয় সংস্কৃতি, ভাষা ও ঐতিহ্যগুলো ধ্বংসের চেষ্টা করে। তাই ৭ নভেম্বরের চেতনায় সকল জাতীয়তাবাদী শক্তিকে একত্রিত হয়ে শক্তিশালী গণতন্ত্র গড়ে তুলতে হবে। এখন সময় দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার, এই মুহূর্তে এর গুরুত্ব অপরিহার্য।

  • যমুনা অভিমুখে জামায়াতসহ ৮ দলের পদযাত্রা পুলিশের বাধায় বন্ধ

    যমুনা অভিমুখে জামায়াতসহ ৮ দলের পদযাত্রা পুলিশের বাধায় বন্ধ

    সংসদ নির্বাচনের আগে গণভোট ও জুলাইের জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য পাঁচ দফা দাবি জারি সহ অন্যান্য আহ্বানে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা জামায়াতসহ আটটি দলের নেতা-কর্মীরা বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় যমুনার দিকে বিশাল গণমিছিল নিয়ে যান। তাদের উদ্দেশ্য ছিল প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি প্রদান। তবে পুলিশ তাদেরকে বাঁধা দেয়, এতে মিছিল আটকে যায়। এর পর আট দলের শীর্ষ নেতা-নেত্রীসহ নেতা-কর্মীরা স্মারকলিপি নিয়ে যমুনার দিকে যান। এই আট দলের মধ্যে রয়েছে জামায়াতে ইসলামি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি। এর আগে সকালে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, তারা রাজধানীর শাপলা চত্বর থেকে মিছিল করে পুরানা পল্টনে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হন। এই সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন দলের শীর্ষ নেতারা, যারা গণভোট, জুলাইয়ের জাতীয় সনদ এবং নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। দলগুলোর প্রধান পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— জুলাইয়ের জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আদেশ দ্রুত জারি, নভেম্বরের মধ্যে গণভোট আয়োজন, উভয় কক্ষে বা উচ্চকক্ষে প্রমাণিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতি চালু, সবার জন্য অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন এবং ‘ফ্যাসিস্ট’ সরকারের জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচারে দৃশ্যমান পদক্ষেপ। তারা আরও দাবি করেন, স্বৈরাচারী সরকারের দোসর জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলকে কার্যকরভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে।

  • পাঁচ দফা মানা ছাড়া ১১ নভেম্বর ঢাকার পরিস্থিতি ভিন্ন হবে

    পাঁচ দফা মানা ছাড়া ১১ নভেম্বর ঢাকার পরিস্থিতি ভিন্ন হবে

    জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বাংলাদেশে নভেম্বরে জাতীয় গণভোট ও জুলাইয়ের মধ্যে জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে আটটি রাজনৈতিক দল। এই দাবিগুলোর অগ্রাহ্য হলে ১১ নভেম্বর ঢাকার পরিস্থিতি পালটেপড়তে পারে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী জুলাইয়ে স্বাক্ষরিত ন্যাশনাল সার্টিফিকেটের বাস্তবায়ন ও গণভোটের দাবি মেনে না নিলে, আগামী ১১ নভেম্বর ঢাকার চিত্র ভিন্ন রূপ নেবে ইনশাআল্লাহ। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, খুব দ্রুত উপদেষ্টা পরিষদ এই বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

    বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মৎস্য ভবনের সামনে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিয়া গোলাম পরওয়ার এ হুঁশিয়ারি দেন। এর আগে, দাবি আদায়ের জন্য আটটি রাজনৈতিক দলের নেতারা প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। স্মারকলিপি দেওয়ার পরে জামায়াতের নেতারা উপস্থিত হয়ে সমাবেশে বক্তব্য রাখতে যান।

    মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, ১১ নভেম্বর এই আট দল একত্রে রাজধানীতে মহাসমাবেশ করবে। তারা সরকারের কাছে আবেদন করেছেন যে, মহাসমাবেশের আগে দাবি মানা হলে, শান্তিপূর্ণ মতবিনিময় সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, প্রতিটি দলের সঙ্গে লিয়াজোঁ কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে ১১ তারিখের সফল সমাবেশে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া যায়।

    স্মারকলিপি দেয়ার সময়, জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যদি দাবিগুলো মানা না হয় এবং পরিস্থিতি পরিবর্তন না ঘটে, তাহলে ১১ নভেম্বর ঘোষণা করবেন ‘‘চলো চলো ঢাকা চলো’ কর্মসূচি। এতে ঢাকা জনতার শহরে পরিণত হবে, দাবি আদায়ের জন্য লড়াই হবে। তিনি বলেন, “লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে চাই।”

    এদিকে, ঘোষণা অনুযায়ী সকাল থেকে মতিঝিলের শাপলা চত্বর ও পল্টন মোড়ে বিভিন্ন দলের কর্মীরা জড়ো হতে শুরু করেন। ১১টার পর ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে তারা পুরানা পল্টনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে। এখানে নেতাদের বক্তৃতার শেষের পরে দুপুর ১২:০৫ মিনিটে সবাই যমুনা অভিমুখী পদযাত্রা শুরু করেন।

    এতে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা উত্তরের সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির সাখাওয়াত হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজি, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইহজারা, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ইউসুফ সাদিক হাক্কানী, জাগপা মুখপাত্র প্রকৌশলী রাশেদ, এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল হক।

    তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে জুলাইয়ের জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারি, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গণভোটের আয়োজন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সকলের জন্য সমান সুযোগের ব্যবস্থা, ফ্যাসিস্ট সরকারের গণকের সাথে সমাপ্ত জুলুম, নিপীড়ন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার, এবং স্বৈরাচারী দোস্ত জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা।