Month: November 2025

  • রাহুল গান্ধীর অভিযোগ: হরিয়ানায় প্রতি ৮ জনে ১ জন ভুয়া ভোটার

    রাহুল গান্ধীর অভিযোগ: হরিয়ানায় প্রতি ৮ জনে ১ জন ভুয়া ভোটার

    ভারতের বিহার রাজ্যে প্রথম দফার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার এক দিন আগে ফের ভোটচুরি নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন কংগ্রেসের মহাসচিব ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তিনি দাবি করেছেন, ২০২৪ সালের হরিয়ানার বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ভোটচুরি সংঘটিত হয়েছে। তার মতে, হরিয়ানায় মোট ২ কোটি ভোটারদের মধ্যে প্রায় ২৫ লাখ ভোটার থাকছে ভুয়া বা জাল ভোটার। এর অর্থ হলো, প্রতিটি আটজনের মধ্যে একজন করে ভোটার ভুয়া। এই ধরনের ভোটারদের সংখ্যা বিশ্লেষণে তিনি আরও উল্লেখ করেন, মানুষের ছবি ব্যবহার করে বহু ভুয়া নামের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। একজন ব্রাজিলিয়ান মহিলার ছবি দিয়ে তিনি দেখিয়েছেন যে, ওই মহিলার ছবি বিভিন্ন ভোটার তালিকায় মোট ২২ বার ব্যবহার করা হয়েছে—কখনও তিনি বিভিন নামের সাথে যুক্ত, যেমন সীমা, সুইটি বা সরস্বতী।

    রাহুল গান্ধীর দাবি, এই ভোট চুরির মাধ্যমে হরিয়ানায় বিজেপি পরপর নির্বাচনে জয় লাভ করেছে। তিনি বলেন, কংগ্রেসের হার মাত্র ২২ হাজার ভোটের ব্যবধানে হয়েছিল, তাই এই জালিয়াতি ও ভোটচুরির ফলে ফলাফল অর্থহীন হয়ে পড়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি এই ভোট চুরির জন্য পরিকল্পিতভাবে নির্বাচন কমিশনের আইনশৃঙ্খলা ও সততা নষ্ট করেছে। রাহুলের মতে, এই নির্বাচনকে টার্গেট করে হরিয়ানায় বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন একসঙ্গে ষড়যন্ত্র করেছে। তিনি আরও জানান, হরিয়ানার বেশিরভাগ বুথের ফলাফলের পূর্বাভাসে নিশ্চিত ছিল যে কংগ্রেস জিতবেন, কিন্তু ফলাফল সম্পূর্ণ বিপরীত হয়েছে।

    অপরদিকে, নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগ অগ্রাহ্য করে বলেছে, তারা যখন এই সম্পত্তি সম্পর্কে গোপন তথ্য জানতে পারে তখন কেন কেউ অভিযোগ করেনি। কমিশনের মতে, হরিয়ানার ভোটার তালিকায় এই ধরনের ভুল ও ভুয়া ভোটার সম্পর্কে কোনো অভিযোগ বা মামলা এখনো জমা পড়েনি। পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় এই মুহূর্তে মাত্র ২২টি নির্বাচনী আপিল বিচারাধীন রয়েছে। ফলে, কমিশন এই অভিযোগের সত্যতা অস্বীকার করে জানিয়েছে, ভোটার তালিকা নিয়ে কোনও বিশাল ষড়যন্ত্রের প্রশ্ন নেই।

  • মামদানির জয়ে নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব হ্রাস: ট্রাম্প

    মামদানির জয়ে নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব হ্রাস: ট্রাম্প

    নিউইয়র্কের নতুন মেয়র জোহরান মামদানির নির্বাচনের পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন যে, এই বিজয় দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি সৃষ্টি করেছে। ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন যে, এখনো শহরটি ‘কমিউনিস্ট শহর’ হয়ে যাওয়ার পথে এগোচ্ছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, “আমরা বিষয়গুলো দেখছি” এবং স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা দেননি কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব হ্রাস পেয়েছে। ট্রাম্পের মতে, নিউইয়র্ক এখন ‘কমিউনিজম’ এর রাজত্বে চলে গেছে বলে তিনি দাবি করেন এবং ফ্লোরিডাকে চরম পন্থা থেকে মুক্ত করার জন্য প্রস্তুত বলেও উচারে উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, সামনের দিনগুলোতে এই শহরকে বাঁচানো ও উন্নত করার জন্য মার্কিনিদের জন্য সিদ্ধান্ত নিতে হবে— কমিউনিজম গ্রহণ করবেন, নাকি যুক্তিসঙ্গত উন্নয়ন ও সমঝোতা।

    ট্রাম্প তার নির্বাচনী জয়ের এক বছর পূর্তিতে মন্তব্য করেন, “আমরা আমাদের অর্থনীতি উদ্ধার করে স্বাধীনতা ফিরে পেয়েছি এবং একসঙ্গে দেশকে রক্ষা করেছি।” এরপরেই তিনি জানান, মামদানির বিজয়ে তিনি সহযোগিতার বিষয়েও আগ্রহী এবং বলছেন, “হয়তো তাকে একটু সাহায্য করব।” ট্রাম্প এই বক্তব্য দেন ডেমোক্র্যাট তারকা কমলা হ্যারিসের বিরুদ্ধে জয়ের এক বছর উপলক্ষে বক্তৃতায়।

    অবশ্য, ব্যবসায়ী মহল, রক্ষণশীল গণমাধ্যম এবং ট্রাম্পের কঠোর সমালোচকদের মতামতের মাঝেই, অত্যন্ত অপ্রত্যাশিতভাবে, অপশনটিতে অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটে নিউইয়র্কের নতুন মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হন মামদানি। ভোটের পর তিনি বলেন, তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয় ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে চান। মুসলিম অভিযাত্রীর এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব জানান, তিনি নিজেকে বহির্বাগত থেকে উঠে আসা একজন outsider হিসেবে দেখেছেন এবং এখন তিনি চমকে দিয়েছেন সবাইকে। তিনি মজার ছলে বলেন, “হোয়াইট হাউস থেকে এখনও আমাকে অভিনন্দন জানানো হয়নি।”

    মামদানির বক্তব্যে স্পষ্ট করে দেন, নিউইয়র্কবাসীর কল্যাণে তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে আরও কার্যকর আলোচনা করতে চান, বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর পরিকল্পনায়। তিনি মনে করেন, ট্রাম্পের মতো করে আমাদেরও সমস্যা চিহ্নিত করে তার সমাধানে উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি যোগ করেন, “আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করলে নিউইয়র্ক আরও সুন্দর এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।”

  • ফিলিপাইনে কালমায়েগির তাণ্ডবে মৃতের সংখ্যা ১৪০ ছাড়ালো

    ফিলিপাইনে কালমায়েগির তাণ্ডবে মৃতের সংখ্যা ১৪০ ছাড়ালো

    ফিলিপাইনে প্রবল ঘূর্ণিঝড় কালমায়েগির আঘাতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৪০ জনে দাঁড়িয়েছে। সরকারি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এ দুর্যোগে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১৪০ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। পাশাপাশি এখনও ১২৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যা উদ্ধারের অপেক্ষায়। এই সময়ে ঝড়টি ভিয়েতনামের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এ তথ্য নিশ্চিত করে এএফপি।

    এই সপ্তাহে সেবু প্রদেশের বিভিন্ন শহরে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। বন্যার পানিতে গাড়ি, নদীর তীরে স্থাপনা এবং বিশাল জাহাজের কন্টেনার পর্যন্ত ভেসে গেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, এই বন্যার কারণে বহু স্থাপনা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    জাতীয় নাগরিক প্রতিরক্ষা দপ্তর বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) নিশ্চিত করে, এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ১১৪ জনের মৃত্যুর খবর এসেছে। তবে সেবু প্রাদেশিক প্রশাসন বলছে, তাদের রেকর্ডে দেখা গেছে, মৃতের সংখ্যা আরও ২৮ জন বাড়তে পারে। এর ফলে মোট মৃতের সংখ্যা ১৪০ ছাড়াতে পারে।

    উদ্ধারের সময় গত মঙ্গলবার সেবুর দক্ষিণে মিন্দানাও দ্বীপে ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য পাঠানো একটি সামরিক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার শিকার হয়। হেলিকপ্টারটি আজগাসান দেল সুর এলাকার কাছে বিধ্বস্ত হয়।

    বিমানের খবর অনুসারে, হেলিকপ্টারটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরে তৎকালীন খোঁজখবর ও উদ্ধার অভিযান শুরু করে সেনাবাহিনী। পরে বিমানবাহিনী এক মুখপাত্র নিশ্চিত করেন, ”পাইলটসহ ছয়জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।” এই হেলিকপ্টারটি ত্রাণ কাজে নামানো চারটি হেলিকপ্টারের একটি ছিল।

    জাতীয় দুর্যোগ সংস্থা তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে চার লাখের বেশি মানুষের বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।

  • বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের চারদিকে আলোচনার ঝড়: বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে ভারতের উদ্বেগ

    বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের চারদিকে আলোচনার ঝড়: বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে ভারতের উদ্বেগ

    বাংলাদেশ আগামী এক বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এক বিলিয়ন ডলার মূল্যের সয়াবিন আমদানি করতে যাচ্ছে। বাংলাদেশের শীর্ষ তিনটি সয়াবিন প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে এই ব্যাপারে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে এবং আগামী ১২ মাসের মধ্যে তারা এই বৃহৎ অঙ্কের সয়াবিন সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে। এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের সয়ামিলের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, যা ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে ভারতীয় সয়ামিলের রপ্তানি ইতিমধ্যে কমে এসেছে। এতে করে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এই চুক্তি কার্যত ভারতের সয়ামিল শিল্পের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

    বাংলাদেশ ভারতের অন্যতম প্রধান সয়ামিলের বাজার, তবে গত বছর দেশটিতে সয়ামিলের রপ্তানি কমে ১ দশমিক ৬৩ লাখ টনে নেমে এসেছে, যা আগের বছরের চেয়ে ৪৬ শতাংশ কম। এর পাশাপাশি, ভারতের সয়ামিলের প্রসেসর অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক ডিএন পাঠক বলেছেন, “বাংলাদেশ এখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে কমদামে প্রচুর সয়াবিন কিনছে। এর ফলে ২০২৪-২৫ সালে আমাদের রপ্তানি significantly কমে যেতে পারে। এছাড়া বাংলাদেশের এটি একটি বিশাল চুক্তি যা নিশ্চিত করে যে, এখন থেকে তারা বাংলাদেশের মতো দেশে থেকে সয়াবিন কিনবে না। এই বিষয়টি আমাদের জন্য এক প্রকার চিন্তার কারণ।”

    গত মঙ্গলবার ঢাকায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেয়া হয়, বাংলাদেশের তিন শীর্ষ সয়াবিন প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান আগামী ১২ মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সয়াবিন কিনবে। এই চুক্তিটি দুদেশের বাণিজ্য সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ চীন গত অর্থবছরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন কেনা কমিয়ে দিয়ে বিকল্প বাজার খুঁজছিল, তখন বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ সয়াবিন রপ্তানি করতে পারে এমন সম্ভাবনা দেখা দেয়।

    এটি বাংলাদেশের জন্য অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণে একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নতি হলেও, ভারতের জন্য অবশ্যই বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে যখন এখন বেশিরভাগ দেশের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা এবং স্পর্ধা বাড়ছে।

  • পুতিনের নির্দেশ: পারমাণবিক পরীক্ষা পুনরায় আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া শুরু

    পুতিনের নির্দেশ: পারমাণবিক পরীক্ষা পুনরায় আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া শুরু

    রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা শুরু করার ঘোষণা দেওয়ার পর এবার নিজ দেশের প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি ক্রেমলিনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বলছেন, তারা পারমাণবিক পরীক্ষার জন্য প্রাথমিক পরিকল্পনা ও প্রস্তুতিপর্ব সম্পন্ন করতে প্রস্তুত হন।

    বিশ্ব সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, গতকাল বুধবার রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে পুতিন স্পষ্ট করেছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনও পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষাসম্পন্ন দেশ কোনো পরীক্ষা চালায়, তাহলে রাশিয়াও সমান শক্তিতে প্রতিশোধ দেবে। তিনি বলেন, “আমরা সুতরাং পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা, গোয়েন্দা সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট সরকারি বিভাগগুলোকে নির্দেশ দিচ্ছি, তারা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করবে, নিরাপত্তা পর্ষদে রিপোর্ট দেবে এবং পারমাণবিক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্রাথমিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।”

    ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেঙে যাওয়ার পরে রাশিয়া আর কোনও পারমাণবিক পরীক্ষা চালায়নি। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বিশ্ব পিছিয়ে থাকলেও বর্তমানে পরিস্থিতি বদলে গেছে। ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে পশ্চিমের দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে চলছে এবং রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়ছে। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নানা কঠোর নীতির কারণে ইতিমধ্যেই রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উত্তপ্ত।

    অক্টোবরে ট্রাম্প হাঙ্গেরিতে রাশিয়ার সঙ্গে বৈঠক বাতিল করেন এবং পরের দিন রাশিয়ার দুটি বৃহৎ তেল কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। এরপর ৩০ অক্টোবর ট্রাম্প ঘোষণা করেন, তিনি প্রতিরক্ষা বিভাগকে নির্দেশ দিচ্ছেন “অবিলম্বে” পারমাণবিক পরীক্ষা শুরু করার জন্য, যেন যুক্তরাষ্ট্রও অন্য বড় শক্তিগুলোর মতো শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাতে পারে। তিনি আরও বলেন, এক সপ্তাহ আগে তিনি রাশিয়ার নতুন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা সমালোচনা করেছিলেন, যা পারমাণবিক ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম।

    ক্রেমলিনের সূত্র জানায়, পুতিন একটি পরিকল্পিত উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেছেন, যেখানে তিনি জেনারেল ভ্যালেরি গেরাসিমভসহ অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আন্দ্রে বেলোউসোভ বলেন, “আমেরিকার সাম্প্রতিক পদক্ষেপ রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় নতুন হুমকি সৃষ্টি করেছে। আমাদের পারমাণবিক বাহিনীকে দ্রুত প্রস্তুত থাকতে হবে, যাতে শত্রুর আক্রমণ প্রতিরোধ ও প্রতিশোধে সক্ষম হই।” তিনি জানান, রাশিয়ার আর্কটিক অঞ্চলের নোভাইয়া জেমলাইয়া ঘাঁটি অল্প সময়ের নোটিশে পারমাণবিক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত।

    বিশ্লেষকেরা বলছেন, এখন পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, কোনও দেশই আর পারমাণবিক পরীক্ষায় অনড় থাকতে চাইছে না। বিশ্বে বর্তমানে রাশিয়া মোট ৫ হাজার ৪৫৯টি পারমাণবিক ওয়ারহেডের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৬০০টি সক্রিয়। যুক্তরাষ্ট্রের সংখ্যাও প্রায় একই রকম, যেখানে সক্রিয় ওয়ারহেডের সংখ্যা প্রায় ৩৮০০। ইতিহাসে দেখা যায়, স্নায়ুযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আড়াই থেকে তিনগুণ বেশি ওয়ারহেড ছিল।

    অন্যদিকে, চীন এখনও তুলনামূলকভাবে কম হলেও গত কয়েক বছর ধরে তার পারমাণবিক শক্তি বৃদ্ধি করছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুসারে, বর্তমানে চীনের ওয়ারহেড সংখ্যা প্রায় ৬০০, এবং প্রতিবছর গড়ে ১০০টি করে বাড়ছে। অন্যান্য পারমাণবিক ক্ষমতাসম্পন্ন দেশগুলো হলো ফ্রান্স, ব্রিটেন, ভারত, পাকিস্তান, ইসরায়েল ও উত্তর কোরিয়া।

    ১৯৯২ সালে শেষবার পরমাণু পরীক্ষা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র, এরপর থেকে আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় অনেক দেশই এই পরীক্ষামূলক কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে। ভারতের ও পাকিস্তানের দেয়া পরীক্ষা ১৯৯৮ সালে এবং উত্তর কোরিয়ার ২০০৬ সালের পর থেকে চলমান। এ বছর ও শেষ নয়, তারা আবার কয়েকবার পরীক্ষা চালিয়েছে। এই পরীক্ষাগুলি পরিবেশে বিরূপ প্রভাব ফেলছে এবং সামগ্রিক বিশ্বস্ততা ও স্থিতিশীলতাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

    তবে, ট্রাম্প স্পষ্ট করেননি, তার কথা কি সরাসরি পারমাণবিক বিস্ফোরণ সংক্রান্ত, না পারমাণবিক শক্তিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা। তবে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, এটি পারমাণবিক পরীক্ষার পথেই ছাড় হতে পারে, যেখানে নতুন অস্ত্রের সরবরাহ ও উৎপাদনের জন্য পরীক্ষা হবে।

    বিশ্লেষকদের সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, কোনও দেশের পারমাণবিক পরীক্ষা শুরু হলে এটি অন্য দেশগুলোর ড্রাগে ঠেলে দিতে পারে যে, এর ফলস্বরূপ বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা অবনতি হতে পারে। জাতিসংঘের উচিত এসব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসা এবং অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণে গুরুত্ব দেওয়া। তবে তা না হলে, ভবিষ্যতে আরও বিপজ্জনক এক পারমাণবিক প্রতিযোগিতার দিকে বিশ্ব চলে যেতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত মানবতার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

  • দাকোপের ঝপঝপিয়া নদী ভাঙন: ২০ হাজার মানুষ আতঙ্কে

    দাকোপের ঝপঝপিয়া নদী ভাঙন: ২০ হাজার মানুষ আতঙ্কে

    দাকোপ উপজেলার পানখালী ইউনিয়নের মৌখালী গ্রামে ভয়াবহ নদী ভাঙনের কারণে আতঙ্কে জীবন যাপন করছে প্রায় ২০ হাজার মানুষ। ঝুঁকিপূর্ণ এ নদী বাঁধটি দ্রুত সংস্কার না করলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে জনমত গড়ে উঠেছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, যদি এ বাঁধ সংস্কার করা না হলো, তবে এটি এক মুহূর্তের মধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে, যার ফলে পানখালী ও তিলডাঙ্গা ইউনিয়নের প্রায় অর্ধশত গ্রাম প্লাবিত হতে পারে। এছাড়া পাউবো’র ৩১ নম্বর পোল্ডারের বিভিন্ন এলাকার নদীর পানি স্বাভাবিকের থেকে ৩ থেকে ৪ ফুট বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন নদী ভাঙনের আশংকা বেড়েছে। মৌখালী, পানখালী, লঙ্খোলা, খাটাইল, কাটাবুনিয়া, হোগলা বুনিয়া সহ বিভিন্ন গ্রামের প্রায় ২ হাজার পরিবারের লোকজন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। একই সময় ভদ্রা, আন্ধার মানিক, পশুর, ঢাকী, শিবসা নদীর পানি শুধু বৃদ্ধি পেয়ে পরিস্থিতি আরো সংকটগ্রস্ত করে তুলছে। এ সকল নদী ভাঙন দ্রুততর না হলে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় ঠেকে রয়েছে। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, কিছু দিন আগেই মৌখালী গাজী বাড়ির সামনে ভয়াবহ ফাটল দেখা দিলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেবার কারণে এখন বড় ক্ষতি হয়ে গেছে। ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, পানিবেষ্টিত এ বাঁধের অবস্থা আরও ভয়াবহ হয়ে পড়েছে। জনসাধারণের মানবিক বিপর্যয় এড়ানোর জন্য দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়ার দাবি উঠে এসেছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য ও এলাকাবাসীর কথায়, পাউবো কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। চেয়ারম্যান শেখ সাব্বির আহম্মেদ সতর্ক করে দিয়ে বলেন, দ্রুত বিকল্প বাঁধ নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাউবো’র উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মধুসুদন পাল জানান, সরেজমিন পর্যবেক্ষণ শেষে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধটি সংস্কারের জন্য পরিকল্পনা শুরু হয়েছে। আশেপাশের অন্যান্য নদীর ভাঙন রোধে কার্যক্রম চালানোর জন্যও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেতে দ্রুত দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ জরুরি বলে মনে করা হচ্ছে।

  • নিষিদ্ধআ.লীগের সাবেক এমপি পীযুষ কান্তি আর নেই

    নিষিদ্ধআ.লীগের সাবেক এমপি পীযুষ কান্তি আর নেই

    আজ বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) ভোরে যশোরের বেজপাড়া এলাকার এক ভাড়া বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট পীযুষ কান্তি ভট্টাচার্য্য। এই সংবাদটি তার বড় ছেলে বাবলুর মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন। পীযুষ কান্তি ভট্টাচার্যের বয়স হয়েছিল প্রায় ৮৫ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

    পীযুষ কান্তি ভট্টাচার্য্য স্ত্রীকে নিয়ে শহরের বেজপাড়ার ভাড়াবাড়িতে বসবাস করতেন। তার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ১৯৬৬ সালে, এরপর ১৯৭৩ সালে তিনি জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এ সময় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। উল্লেখ্য, তার জীবনমুখী আন্দোলন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি দেশের জন্য পরিচিত একজন প্রবীণ নেতা ছিলেন। এখন তার অনুপस्थिति দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসেছে।

  • কালীগঞ্জে ১৮০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ মাদক কারবারী আটক

    কালীগঞ্জে ১৮০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ মাদক কারবারী আটক

    ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে এই প্রথমবারের মতো নতুন ধরনের মাদক ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ একজন মাদক কারবারীকে আটক করেছে হাইওয়ে পুলিশ। এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক একটি মাদক, যার সঙ্গে সাধারণত ইয়াবা বা হেরোইনের মতোই ভয়ঙ্কর প্রভাব রয়েছে। মাদকসেবীরা সাধারণত এই ট্যাবলেটটি বিভিন্ন রোগের ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করে থাকলেও, দুষ্কৃতিকারীরা অবৈধভাবে এগুলো সংগ্রহ করে মাদক হিসেবে সেবন করছেন।

    বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে কালীগঞ্জের বারবাজারের ফুলবাড়ী এলাকা থেকে এই মাদকসহ সিরাজুল ইসলাম (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে হাইওয়ে পুলিশ। সিরাজুলের পিতা জালাল উদ্দিন, তিনি ইবনে পীরজনা থানাধীন উজান গ্রামের বাসিন্দা। পরে বৃহস্পতিবার বিকালে তাকে মাদকসহ কালীগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়।

    হাইওয়ে থানার অফিসার্স ইনচার্জ আলমগীর কবির বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা রাত সাড়ে ১২টায় বারবাজার ফুলবাড়ী এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় রেলগেট সংলগ্ন ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ওপর থেকে সিরাজুলকে আটক করেন এবং তার কাছ থেকে ১৮০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করেন।

    অফিসার আরও জানান, এই নতুন ধরনের মাদক ট্যাবলেটটি মাদকসেবীদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এটি ভারতের একটি ঔষধ কোম্পানি দ্বারা তৈরি হয়, যেখানে এটি ব্যাথানাশক ওষুধ হিসেবে ব্যবহার হয়। কিন্তু দুষ্কৃতিকারীরা এই ওষুধগুলো অবৈধভাবে এনে মাদক হিসেবে বিক্রি করছেন। তারা মনে করেন, অতিরিক্ত সেবনে মাদকসেবীরা নেশার ঘোরে চলে যায়, যা শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

    বৃহস্পতিবার মাদকসহ ওই ব্যক্তি সিরাজুলকে কালীগঞ্জ থানায় সোপর্দ করা হয়। কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম বলেন, নতুন এই মাদকদ্রব্য ট্যাপেন্টাডলসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে মামলার আওতায় আনা হয়েছে।

  • পাটকেলঘাটায় ভাড়ার মোটরসাইকেল চালকের মৃত্যু

    পাটকেলঘাটায় ভাড়ার মোটরসাইকেল চালকের মৃত্যু

    সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটায় ভাড়ায় চালিত এক মোটরসাইকেল চালকের মৃতদেহ আজ বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) ভোর ৫টার দিকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটে পাটকেলঘাটা থানার চারাবটতলা এলাকায়, যেখানে স্থানীয়রা আবিষ্কার করে তার মরদেহ বলে জানা গেছে।

    নিহত ব্যক্তির নাম মোঃ অহিদ মোড়ল (৩৪)। তিনি সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানার খলিশখালী ইউনিয়নের হাজরাপাড়া গ্রামের মো. আব্দুর রশিদ মোড়লের ছেলে।

    স্থানীয় বাসিন্দা মাহমুদুল ইসলাম জানান, অহিদ মোড়ল পেশায় একজন ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক। বুধবার বিকেলে তিনি নিজের মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন, কিন্তু রাতে ফেরেননি। ধারণা করা হচ্ছে, অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা তার মোটরসাইকেল ভাড়া নিয়ে একই রাতে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে মরদেহটি রাস্তার পাশে ফেলে রেখে তারা পালিয়ে যায়। ভোরে স্থানীয়রা চারাবটতলার এলাকায় মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন।

    পাটকেলঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ শাহিনুর রহমান বলেন, স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, আমরা ওই এলাকায় একটি মরদেহ উদ্ধার করেছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি ভাড়ার মোটরসাইকেল চালক। মরদেহটি ময়না তদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। মর্গে ময়না তদন্তের রিপোর্ট আসলে মৃত্যুর স্পষ্ট কারণ জানা যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

  • খুলনায় পুলিশের ৫৯তম ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল ব্যাচের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত

    খুলনায় পুলিশের ৫৯তম ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল ব্যাচের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত

    খুলনা পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে আজ বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) সকাল থেকে অনুষ্ঠিত হলো পুলিশের ৫৯তম ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) ব্যাচের সমাপনী কুচকাওয়াজ। এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন মোট ৫৪৬ জন প্রশিক্ষণার্থী, যারা দীর্ঘ প্রশিক্ষণের শেষ পর্যায়ে এই গৌরবোজ্জ্বল মুহূর্তে অংশগ্রহণ করে। সমাপনী কুচকাওয়াজের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকেন বাংলাদেশ পুলিশের অ্যাডিশনাল আইজি মোঃ মোস্তফা কামাল। তিনি ট্রেনিং সেন্টারের প্যারেড গ্রাউন্ডে এসে মনোমুগ্ধকর কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন এবং সালাম গ্রহণ করেন। কেন্দ্রীয় অতিথি হিসেবে তিনি কৃতি প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে পুরস্কার ও ট্রফি বিতরণ করেন। এই ব্যাচের মধ্যে বিভিন্ন বিভাগে পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে সর্ববিষয়ে চৌকস হিসেবে নির্বাচিত হন শেখ আবু তুরাব, এবং মাসকেট্রিতে শ্রেষ্ঠ হিসেবে মোঃ শাকিলকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

    অ্যাডিশনাল আইজি তরুণ প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের উদ্দেশ্যে বলেন, জনগণের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ ও ন্যায্যতার প্রতিষ্ঠায় তাদের দায়িত্ব এখন আরও বাড়তি। তিনি বিশ্বাস করেন, এই প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান, দক্ষতা ও মূল্যবোধ জীবনের পথপ্রদর্শক হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ পুলিশ জাতির অভ্যুত্থান, শান্তি, ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। পুলিশের দায়িত্ব কেবল আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা নয়, বরং সমাজে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, মাদক নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, নারী ও শিশুদের সুরক্ষা, এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতেও তাদের অবদান অপরিহার্য। তিনি উল্লেখ করেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় শুরু হয়েছিল পুলিশের অসাম্প্রদায়িক ও সাহসীকতার ইতিহাসের প্রথম অধ্যায়, যেখানে রাজাকারবিরোধী প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন পুলিশ সদস্যরাই। এই আত্মত্যাগ ও সাহসিকতা আমাদের জাতীয় গর্ব। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যত বাংলাদেশের নেতৃত্ব গড়তে এই প্রশিক্ষিত তরুণরাই মূল ভূমিকা পালন করবে। তারা জনগণের আস্থা অর্জন করে দেশের সেবায় নিয়োজিত হবে। পাশাপাশি, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশ সুনামের সাথে অংশ নিচ্ছে। প্রধান অতিথি নবীনদের প্রতি নির্দেশনা দিয়ে বলেন, দেশের গৌরব রক্ষা, সমস্ত ভেদাভেদ ভুলে সমাজে ন্যায় ও শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য দায়িত্বশীলতা, সততা ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করুন।

    উপস্থিত ছিলেন খুলনা পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট মোঃ মাহবুবুর রহমান ভুঁইয়া, জাহানাবাদ সেনানিবাসের কমান্ড্যান্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী সাজ্জাদ হোসেন, খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ রেজাউল হক, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ জুলফিকার আলী হায়দার, বিভিন্ন পর্যায়ের সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তারা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রশিক্ষণার্থীদের অভিভাবকগণ। অনুষ্ঠানে যোগ দেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, যারা তরুণ প্রজন্মের এই প্রশিক্ষণের গুরুত্ব গুরুত্ব দেয়। এটি ছিল একটি গর্বের মুহূর্ত, যেখানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এই তরুণরা ভবিষ্যতের प्रहरी হিসেবে নিজেদের প্রস্তুত করে উঠছে।