Month: November 2025

  • মানুষের মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করতে হবে: তারেক রহমান

    মানুষের মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করতে হবে: তারেক রহমান

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ৫ আগস্টের মহান মুক্তিযুদ্ধের আত্মদান স্মরণ করে ফ্যাসিস্ট রাশিনারা দেশ থেকে পলায়ন করে। এই জয় বাংলার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে গণতন্ত্রের মুক্তির পথ আরও প্রসারিত হয়েছে। এখন চূড়ান্ত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হতে হবে, কারণ এটি মানুষের মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করার অন্যতম প্রয়োজন।

    তিনি এই বক্তব্য ৭ নভেম্বর মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের উপলক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় ব্যক্ত করেন। এছাড়া, তিনি ৬ নভেম্বর বৃহস্পতিবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানান।

    তারেক রহমান বাংলাদেশবাসীসহ সকলের জন্য আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন পাঠিয়ে বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের এই তারিখে জাতি এক নতুন মোড় নেয়। সেনা-জনতার এই বিপ্লব শুধুমাত্র এক পরিবর্তনসাধক ঘটনা নয়, এটি দেশের আধিপত্যবাদ বিরোধী জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সূচনা। এই বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলাদেশ তার সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে ।

    তিনি বলছেন, ৭ নভেম্বরের এই দিনে দেশের যুবসমাজ জাতীয় মুক্তির জন্য রাস্তায় নেমে আসে, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের পুনরুজ্জীবনের সংকল্প নিয়ে। তাই এই দিনটি ইতিহাসে অশেষ গুরুত্ব বহন করে। স্বাধীনতাত্তোর শাসক গোষ্ঠী স্বার্থের জন্য দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়। এর মধ্যে রয়েছে একদলীয় বাকশাল গঠন ও গণতন্ত্রের হত্যা।

    তিনি বলেন, বাকশালী সরকার কায়েম করে মানুষের ন্যায়সংগত অধিকারগুলো হরণ করে চরম অগণতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী পদ্ধতিতে। এর সময়, ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর, জাতীয় মুক্তির ঘোষক জিয়াউর রহমানকে সপরিবারে ক্যান্টনমেন্টে বন্দী করে রাখা হয়। তত্কালীন ক্রান্তিকালে, ৭ নভেম্বর, এই সংকটকালীন সময়ের মধ্যে স্বজাতির স্বাধীনতা রক্ষার জন্য দেশপ্রেমিক সৈনিক এবং সাধারণ জনগণের একতারা রাস্তায় নেমে আসে, ফলে জিয়াউর রহমান মুক্তি পান।

    এই পরিবর্তনের ফলে রাষ্ট্রপ্রধান জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দেশের প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে এবং গণতান্ত্রিক চেতনা মুক্ত হয়। মানুষ শান্তি অনুভব করে। তবে, আধিপত্যবাদী শক্তির এজেন্টরা স্বার্থান্বেষী হয়ে ১৯৮১ সালে হত্যা করে জিয়াউর রহমানকে। তিনি শাহাদত বরণ করলেও তার আদর্শ এখনও মানুষের মধ্যে জীবন্ত এবং দেশপ্রেমে উজ্জীবিত, যা দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ।

    তিনি আরও বলেন, আবারো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আওয়ামী ফ্যাসিস্টরা নিরীহ নেতা-কর্মীদের দমন করে দীর্ঘ ১৬ বছর গণতন্ত্রকে ধ্বংসের অপচেষ্টা চালায়। এর ফলে দেশের সার্বভৌমত্ব দিনে দিনে দুর্বল হয়ে পড়তে থাকে। আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকার গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা, দুর্নীতি এবং অপশাসনের ভয়াল রাজত্ব কায়েম করে।

    তিনি উল্লেখ করেন, খালেদা জিয়াসহ অন্যান্য প্রিয় নেতাদের বন্দী করে দীর্ঘদিন মুক্তি দেওয়া হয়নি। তিনি সমাজে ন্যায়বিচার ও সুষ্ঠু শাসন প্রতিষ্ঠার উপর জোর দেন।

    তারেক রহমান বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিস্টরা পরিকল্পিতভাবে দেশীয় সংস্কৃতি, ভাষা ও ঐতিহ্য ওপর আঘাত হানার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই জন্য, আমি মনে করি, ৭ নভেম্বরের চেতনাকে ধারণ করে সকল জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শক্তিশালী গণতন্ত্র গড়তে হবে। এখনই সময়, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার জন্য।

  • যমুনা অভিমুখে জামায়াতসহ ৮ দলের পদযাত্রা পুলিশের বাধায় রক্তপাত এড়ালো

    যমুনা অভিমুখে জামায়াতসহ ৮ দলের পদযাত্রা পুলিশের বাধায় রক্তপাত এড়ালো

    সংসদ নির্বাচনের আগে জনগণের ভোটাধিকার ও জুলাই মাসে জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য ঘোষণা করা পাঁচ দফা দাবির জন্য আরও এক বড় পদযাত্রা করছিলেন জামায়াতসহ আটটি ইসলামি ও রাজনৈতিক দল। তবে পুলিশ তাদেরকে বাধা দেয়। এই ঘটনায় সাংবাদিক ও নেতাকর্মীরা জানান, বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে বিশাল এক মিছিল নিয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে স্মারকলিপি দাবি করতে যমুনা নদীর পাড়ে এসে পৌঁছানোর সময় পুলিশ তাদেরকে পেছনে ঠেলে দেয়। এ সময় নেতারা চেষ্টা চালিয়ে যান এবং শেষ পর্যন্ত যমুনার তীরে এসে স্মারকলিপি প্রদান করেন।

    আট দলের মধ্যে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি।

    এর আগে সকাল থেকেই এই দলের নেতাকর্মীরা পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ঢাকার শাপলা চত্বর থেকে মিছিল নিয়ে পুরানা পল্টনে বিশেষ সমাবেশের জন্য জমায়েত করেন। এই সমাবেশে অংশ নেন বিভিন্ন ইসলামি দল ও সংগঠনের নেতারা। নেতারা সেখানে সরকারের কাছে জোর দিয়ে বলেছে, যেন তারা জনগণের ভোটাধিকার ও পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী জুলাই মাসে জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারি করে। তারা আরও দাবি করেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে যেন অংকের পরিবর্তে গণতান্ত্রিক পদ্ধতি — অর্থাৎ, পিআর (সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতি চালু হয়।

    তাদের পাঁচ দফা মূল দাবি হলো: প্রথমত, জুলাইয়ের জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য দ্রুত আদেশ জারি ও নভেম্বরে গণভোটের আয়োজন; দ্বিতীয়ত, নির্বাচনে সকলের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করে তোলা; তৃতীয়ত, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা; চতুর্থত, ‘ফ্যাসিস্ট’ সরকারী জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির দায় স্বচ্ছভাবে যাচাই করে বিচারের ব্যবস্থা করা; এবং শেষমেশ, ‘স্বৈরাচারের দোসর’ হিসেবে চিহ্নিত পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার দাবি।

    এই চলমান আন্দোলন ও প্রতিবাদে আরও জোরদার করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন নেতাকর্মীরা, যাতে সরকারের অপপ্রয়াস ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী ফুটপ্রিন্ট তৈরি হয়।

  • পাঁচ দফা দাবি মানা না হলে ১১ নভেম্বর ঢাকার পরিস্থিতি ভিন্ন হবে

    পাঁচ দফা দাবি মানা না হলে ১১ নভেম্বর ঢাকার পরিস্থিতি ভিন্ন হবে

    নভেম্বরে অনুষ্ঠিত গণভোট ও জুলাইয়ে জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেয়ার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে আন্তঃসরকারি সংলাপের মাধ্যমে পাঁচ দফা দাবি উপস্থাপন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতারা। এতদসত্ত্বেও যদি এই দাবিগুলি মানা না হয়, তাহলে আগামী ১১ নভেম্বর ঢাকায় পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ ধারণ করবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

    তিনি বলেন, ‘আমাদের পাঁচ দফা দাবি মেনে নিয়ে জুলাইয়ের সনদ বাস্তবায়ন ও জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য আশু ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। না হলে ১১ নভেম্বর ঢাকার চিত্র নতুন করে বদলে যাবে, ইনশাআল্লাহ।’ এই ঘোষণা দিয়েছেন তিনি বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মৎস্য ভবনের সামনে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে।

    এর আগে ওই দাবিগুলোর জন্য প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন জামায়াতে ইসলামীসহ আটটি রাজনৈতিক দলের নেতারা। স্মারকলিপি তুলে দেওয়ার পরে, সেখানে তিনি বলেন, ‘উচ্চ অংশগ্রহণের মাধ্যমে ঢাকায় মহাসমাবেশ হবে আগামী ১১ নভেম্বর। তার আগে আমাদের দাবি মানা প্রয়োজন।ósitos নির্দেশনাও প্রদান করা হবে।’

    প্রতিটি দলের নেতা লিয়াজোঁ কমিটি গঠন ও সমাবেশ সফল করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়ার আহ্বান জানান। এর আগেই, উপদেষ্টা কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেওয়ার পর, বিভিন্ন দলের নেতারা ঢাকার জনগণকে মুক্ত করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

    ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহেরসহ অন্য নেতারা বলেন, ‘জেলা ও মহানগরে কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ১১ নভেম্বরের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। যদি দাবি মানা না হয়, তাহলে আমরা ‘চলো চলো ঢাকা চলো’ কর্মসূচি পালন করব। ঢাকা হবে জনতার শহর, দাবি আদায়ের জন্য লড়াই চলবে।’

    এদিকে, পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ সকালে মতিঝিলের শাপলা চত্বর ও পল্টন মোড়ে জামায়াত ও অন্যান্য দলের নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকেন। বেলা ১১টার পর বিভিন্ন জেলা থেকে নেতাকর্মীরা মিছিলের মাধ্যমে পুরনো পল্টনে একত্রিত হন। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের পর দুপুর ১২:০৫ মিনিটে তারা যমুনা অভিমুখে পথযাত্রা শুরু করেন।

    এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন- জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা উত্তরের সভাপতি শেখ ফজলে বারী মাসউদ, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির সাখাওয়াত হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজি, নেজামে ইসলাম দলের মহাসচিব মুসা বিন ইহজার, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব ইউসুফ সাদিক হাক্কানী, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল হক।

    তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে জুলাইয়ে জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারি করা, এর ওপর নভেম্বরে গণভোট আয়োজন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে পার্লামেন্টে বা উচ্চ পরিষদে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধি পদ্ধতি চালু, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সব মানুষের জন্য সমান ব্যালেন্স তৈরি, ‘ফ্যাসিস্ট’ সরকারের জুলুম-নির্যাতন, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দ্রুত কাজ করা এবং ‘স্বৈরাচারের দোসর’ জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলকে নিষিদ্ধ করার দাবি যেন দ্রুত বাস্তবায়িত হয়।

  • জামায়াতের আমিরের ঘোষণা: ২০০ এমপি নির্বাচিত হলেও সরকারি সুবিধা নেওয়া হবে না

    জামায়াতের আমিরের ঘোষণা: ২০০ এমপি নির্বাচিত হলেও সরকারি সুবিধা নেওয়া হবে না

    জামায়াতের কেন্দ্রীয় আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আগামী নির্বাচনে কেউ একজন এমপি হলে, এমনকি যদি ২০০ জন এমপি নির্বাচন করে তবেও জামায়াত কোনও সরকারি সুবিধা গ্রহণ করবে না। তিনি এই ঘোষণা দেন বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সিলেটের এক বিশিষ্ট কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত সুধী সমাবেশে।

    শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতের কেউ কোনও অপকর্মে জড়াবেন না। যারা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকবেন, তাদের কঠোরভাবে দমন করা হবে। তিনি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ৫ আগস্টের পর দেশের পরিস্থিতিতে অনেক পরিবর্তন এসেছে, কিন্তু রাজনৈতিক দলের নেতারা দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে পারেননি।

    আমির আরো উল্লেখ করেন, আগামী নির্বাচনের মাধ্যমে যদি সমাজে ন্যায্যতা ও বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে দুর্নীতির জাল কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। কারণ, দেশের স্বার্থই সব কিছু থেকে আগে।

    এ সমাবেশে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা ছাড়াও আসন্ন নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী এবং সিলেট মহানগরের দায়িত্বশীল নেতারা উপস্থিত ছিলেন। অতি সম্প্রতি তৃতীয়বারের মতো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির নির্বাচিত হওয়ার পর, বুধবার (৫ নভেম্বর) নিজ জন্মভূমি সিলেটে গিয়ে তিনি নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

  • তরিকুল ইসলাম ছিলেন অবিচল সংগ্রামী ও কিংবদন্তি নেতা

    তরিকুল ইসলাম ছিলেন অবিচল সংগ্রামী ও কিংবদন্তি নেতা

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কিছু রাজনৈতিক দল দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করতে চক্রান্ত চালাচ্ছে। এরা জনগণের অধিকার হরণ করে ক্ষমতা কুক্ষোতে রাখতে এবং নির্বাচনে বাঁধা সৃষ্টি করে আবারও দেশের অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে চাইছে। তিনি বলেন, দেশকে ফ্যাসিবাদী রাস্তায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে, যা জাতি কখনো মেনে নেবে না।

    বৃহস্পতিবার যশোরের টাউন হলে এক স্মরণসভার বক্তৃতায় তিনি এই কথা বলেন। এটি ছিল বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের অংশগ্রহণে তরিকুল ইসলাম নামে একজন ত্যাগী ও সংগ্রামী নেতার সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী পালনের আয়োজন।

    মির্জা ফখরুল আরও বলেন, দ্রুত নির্বাচনের জন্য সরকারকে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করতে হবে, অন্যথায় তাদের ব্যর্থতা স্বীকার করতে হবে। দেশের জনগণের প্রত্যাশা হচ্ছে, নির্বাচন যেন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়, তখনই দেশের উন্নয়ন হবে। তিনি উল্লেখ করেন, আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়া থেকে শুরু করে আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বিএনপি আজকের অবস্থানে এসেছে। জনগণের দলের জন্য দয়া করে দেশ অস্থিতিশীল করবেন না, রাজপথে নামলে পরিস্থিতি ভিন্ন রূপ নেবে।

    সংস্কার কমিশনের বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ৮৩ কোটি টাকা খরচ করে কমিশনটি একাধিক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করেছে। সব দলের মতামত নিয়ে এগোতে চাইলে কিছু বিষয় এখনো সমাধানবিহীন রয়ে গেছে, যার জন্য সাত দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। তিনি মনে করেন, কমিশনের এই অপ্রত্যাশিত ধীরগতি দেশের রাজনীতি আর পূর্ণাঙ্গ সমাধান থেকে দূরে রাখছে।

    তিনি আরও বলেন, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের দিনটি দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই দিনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশের শাসনভার হাতে নিয়ে দেশের স্বাধিকার রক্ষায় দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এই ইতিহাসের মহান অর্জন স্মরণ করে তিনি ভবিষ্যতে সবার ঐক্যকে আরও জোরদার করার আহ্বান জানান।

    বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি নির্বাচন নিয়ে টালবাহানা চলতে থাকে, তার ফল নেতিবাচক হবে। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের পতনের পর দেশের গণতন্ত্র আবার দৃঢ় হয়েছে। সেই গণতন্ত্রের পত পত পত স্বরূপের জন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বিশেষ করে জাতীয় ইতিহাসের এমন দিনগুলোর গুরুত্ব আমরা গভীরভাবে জানি। ফলে যেসব চক্রান্ত বা পরিকল্পনায় দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়ার প্রচেষ্টা চলছে, সেগুলো প্রতিহত করতে আমাদের সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

    মির্জা ফখরুল আরও জানান, তরিকুল ইসলাম ছিলেন সার্বক্ষণিক সংগ্রামী ও আদর্শপরায়ণ নেতা। তিনি মা, পতিতা ও দেশের মুক্তির জন্য নিবেদিত ছিলেন। কখনো অন্যায়ের কাছে আপস করেননি। স্বাধীনতা ও স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নের জন্য দীর্ঘ সময় সংগ্রাম করেছেন, তবে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও স্বাধিকার দেখার সৌভাগ্য পাননি। আজকের প্রজন্মের জন্য তার মতো নেতাদের প্রয়োজন রয়েছে।

    শেষে তিনি মরহুম তরিকুল ইসলামের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং যশোর জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের প্রাথমিক প্রার্থীদের পরিচয় তুলে ধরেন। তিনি ধানের শীষে ভোট প্রত্যাশা করেন।

    সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি সভাপতি এড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু, সাবেক দপ্তর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তি, কৃষক দলের যুগ্ম-সম্পাদক টিএস আইয়ুব, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সহ প্রজামাণ্য পেশাজীবী ব্যক্তিরা।

    উল্লেখ্য, এই স্মরণসভা ঐতিহাসিক জনসভায় রূপ নিয়েছে, যেখানে নেতৃবৃন্দ তরিকুল ইসলামের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পাশাপাশি রাজনীতি ও দেশের উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করেছেন।

  • জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের ১০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

    জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের ১০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

    ঢাকার আদালত Juli স্মৃতি ফাউন্ডেশনের ১০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একটি সাংঘর্ষিক মামলা গ্রহণ করেছে। অভিযোগ, সম্প্রতি July যোদ্ধা জাহাঙ্গীর আলমকে মারধর ও শারীরিক নির্যাতনের ঘটনায় এই মামলা রুজু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ঢাকার কাঁচপুর ব্রিজের কাছে, যেখানে গত বছর জুলাইয়ে পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলায় জাহাঙ্গীর গুলিবিদ্ধ হন। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তিনি বরাবরই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন এবং আহত ও শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য এই ফাউন্ডেশনের সাহায্য চেয়েছিলেন।

    অভিযোগের অনুযায়ী, ২৭ মে দুপুরে জাহাঙ্গীর ফাউন্ডেশনের অফিসে যান এবং সেখানে আসামিদের সঙ্গে দেখা করেন। কিছু কাগজপত্র দেখানোর পর, অব্যাহত চাপ ও হুমকির মুখে তাকে এক অন্ধকার কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তার উপর অপ্রতিরোধ্য মারধর শুরু হয়, গুঁতো, লাঠি ও জিআই পাইপ দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। গুরুতর অবস্থায় তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। যখন জাহাঙ্গীর জ্ঞান ফিরে পান, তখন আবার তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন আসামিরা।

    অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, তাকে ভুলভাবে ‘জুলাই যোদ্ধা’ বলার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন এবং মোবাইল ফোন সহ বিভিন্ন জিনিস ছিনতাই করে নেয়া হয়। তার ফেসবুকে কিছু পোস্ট দেখানোর জেরেও তাকে মারধর করা শুরু হয়। এ ছাড়াও, বিএনপি নেতার সঙ্গে তার ছবি কি কারণে ছিল তা জিজ্ঞাসা করা হয় এবং জোরপূর্বক করে তার ডান হাতে ইনজেকশন দেওয়া হয়। পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার পর, তাকে রাস্তার মধ্যে অচেতন অবস্থায় ফেলে রেখে যায় আসামিরা। হঠাৎ করেই, তিনি নারায়ণগঞ্জের খানপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হন।

    এই মামলায় আসামিরা হলো: সিনিয়র ভেরিফিকেশন অফিসার ইফতেখার হোসেন, কর্মকর্তা সাইদুর রহমান শাহিদ, সাগর, আফজালুর রহমান সায়েম, ফাতেমা আফরিন পায়েল, আলিফ, জাহিদ, মেহেদী হাসান প্রিন্স, এক্সিকিউটিভ মেম্বার সাবরিনা আফরোজ শ্রাবন্তী ও সোনিয়া আক্তার লুবনা। ঢাকার মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ হাসিবুজ্জামানের আদালত মামলাটি গ্রহণ করে শাহবাগ থানার অফিসার ইনচার্জকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। এ বিষয়ে বাদীর আইনজীবী ইলতুৎমিশ সওদাগর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

  • প্রাথমিক শিক্ষায় সহকারী শিক্ষক নিয়োগে ধূমপান-াইজগ্যের শর্ত যোগ

    প্রাথমিক শিক্ষায় সহকারী শিক্ষক নিয়োগে ধূমপান-াইজগ্যের শর্ত যোগ

    সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে এবার ধূমপান ও যেকোনো ধরনের মাদক দ্রব্য গ্রহণের অভ্যাস থাকলে আবেদন করার অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বুধবার এক আদেশে এই প্রয়োজনীয় শর্ত যুক্ত করে, যা শিক্ষাক্ষেত্রে এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করছে। এই সিদ্ধান্তের জন্য অনেকই স্বাগত জানিয়েছেন।

    ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ এর সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ খন্দকার আব্দুল আউয়াল রিজভী বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বলেন, ধূমপান এবং মাদক গ্রহণের অভ্যাস থাকলে শিক্ষক হিসেবে আবেদন অযোগ্য ঘোষণা করা দেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি ঐতিহাসিক ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। তিনি আরও বলেন, তরুণ সমাজের মধ্যে নিকোটিনের আসক্তি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, যা কিশোরদের মস্তিষ্কের বিকাশে বাধা সৃষ্টি করে এবং দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উপর মারাত্মক প্রভাব বিস্তার করে।

    অধ্যাপক ডাঃ রিজভী যোগ করেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ‘দূরদর্শী ও সাহসী’ একটি সিদ্ধান্ত, যা দেশের স্বাস্থ্যের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।

  • পুলিশের সতর্কবার্তা: সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নামে প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকুন

    পুলিশের সতর্কবার্তা: সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নামে প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকুন

    সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের নাম ও ছবি ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রতারক চক্র এ ধরনের কৌশলে সাধারণ মানুষকে ঠকানোর অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স বৃহস্পতিবার রাতে তাদের ফেসবুক অফিসিয়াল পেজে এক পোস্টে এই সতর্কতা জারি করে। সেখানে বলা হয়, সম্প্রতি বিভিন্ন দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও উচ্চ কর্মকর্তাদের ছবি ও নাম ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপে অর্থ চাওয়া অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। মনে রাখতে হবে, আইডিতে থাকা ব্যক্তির ছবি দেখে তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মোবাইল নম্বরটি সত্য বলে মনে করার কোনো কারণ নেই। এই ধরনের ভুলে সাড়া না দিতে এবং সাবধানতা অবলম্বন করার জন্য সাধারণ মানুষকে সতর্ক করছে পুলিশ। পুলিশ আরও জানায়, বাংলাদেশের পুলিশ প্রশাসন এই প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। যদি কেউ এ ধরনের প্রতারণার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাধারণ মানুষ যেন এই ধরনের প্রতারণা থেকে সাবধান থাকেন ও কোনও অজানা বার্তা বা লেনদেনের প্রস্তাবে সাড়া না দেন সে জন্যই এই সতর্কতা জারি করছে পুলিশ।

  • এনসিপির মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু, মূল্য নির্ধারিত ১০ হাজার টাকা

    এনসিপির মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু, মূল্য নির্ধারিত ১০ হাজার টাকা

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন আবেদন ফরম বিক্রির কার্যক্রম শুরু করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ফরমের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ হাজার টাকা। তবে স্বজনী আন্দোলনের জন্য, বিশেষ করে জুলাই যোদ্ধা এবং নিম্নআয়ের মানুষদের জন্য এই মূল্য কমিয়ে ২ হাজার টাকা রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির একটি সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি বিস্তারিত জানানো হয়।

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক, বলেন, এই নির্বাচন জন্য মনোনয়ন ফরম বিক্রি ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। এরপর, অর্থাৎ ১৫ তারিখের মধ্যে মনোনয়ন প্রার্থীদের জন্য প্রাথমিক বাছাই তালিকা প্রকাশ করা হবে।

    এদিকে, কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি ডাঃ তাসনিম জারা জানান, আজ থেকেই মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হয়েছে। প্রার্থীরা তিনটি উপায়েই ফরম সংগ্রহ ও পূরণ করতে পারবেন। প্রথমে, কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে সরাসরি ফরম সংগ্রহ করতে হবে। এছাড়া, অনলাইনে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে মনোনয়ন ফরম ডাউনলোড ও পূরণ করা যাবে। তাছাড়া, দুই মুখ্য সংগঠক ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের মাধ্যমে ওফরম সংগ্রহ করে জমা দিতে পারবেন। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রার্থীরা সহজে এবং সুবিধাজনকভাবে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমা দিতে পারবেন।

  • নির্বাচনে ধর্মের ব্যবহার প্রতিরোধে সাত দফা দাবি হিন্দু মহাজোটের

    নির্বাচনে ধর্মের ব্যবহার প্রতিরোধে সাত দফা দাবি হিন্দু মহাজোটের

    জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী প্রচার কাজে ধর্মের ব্যবহার বন্ধের পাশাপাশি নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতের জন্য সাত দফা দাবি উত্থাপন করেছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট। বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাছির উদ্দিনের সঙ্গে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকে মহাজোটের নেতারা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে তাদের গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরেন।

    বৈঠক শেষে এক ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের নির্বাহী মহাসচিব ও মুখপাত্র পলাশ কান্তি দে জানান, আমাদের প্রস্তাবের সঙ্গে কমিশন একমত হয়েছেন এবং তারা ইতিমধ্যে এ বিষয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছে। সিইসি সুন্দর পরিবেশে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার গুরুত্ব জোরদার করে বলেছেন, শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। সবাই ভোট কেন্দ্রে যাবেন, এটাই আমাদের অঙ্গীকার।

    পলাশ কান্তি দে বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার পর অনেক এলাকাতেই দেখা গেছে বাসাবাড়ি, মঠ ও মন্দির ভাঙচুর হয়েছে। এ ধরনের অশান্তির যেন পুনরাবৃত্তি না হয়, সেজন্য আমরা সিইসির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। তিনি নিশ্চয়তা দিয়েছেন, এবার কেউ যেন আমাদের উপর অত্যাচার করতে না পারে। আমরা কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

    তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনের আগে-পরে হিন্দু সম্প্রদায় ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা অনেক উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে দুর্গাপূজা ও নির্বাচন এগুলো নিয়ে আমাদের ভয়ের কারণ আছে। অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনের সময় সংখ্যালঘু মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর অকারণে আঘাত হয়েছে। তবে এবার কমিশন বলেছে, অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না, সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।’

    সিইসির আশ্বাসে জানিয়েছেন, সংখ্যালঘু ভোটারা নিরাপদে ভোট কেন্দ্রে যাবেন এবং ফিরে আসার সময়ও আতঙ্কে ভুগবেন না। যদি কোনও অপ্রিত्यक्ष বা প্রত্যক্ষ আঘাত হানা হয়, তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নেবে। বিশেষ করে ভোটে পক্ষ-প্রতিপক্ষের ব্যাপক প্রস্তুতি ও সংঘর্ষের সম্ভাবনা থাকায় এ বিষয়ে কমিশনও বিস্তারিত মনোযোগ দিয়েছে।

    সিইসির উদ্ধৃতি দিয়ে পলাশ কান্তি দে জানিয়েছেন, ‘এবারের দুর্গাপূজা খুবই সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে, কোথাও বিশৃঙ্খলা দেখা যায়নি। পরীক্ষামূলকভাবে আমরা দেখেছি, এই নিরাপত্তার বলয় আরও শক্তিশালী করে ভোটের দিন নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হবে।’

    বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের সাত দফা দাবি হলো: ভোটের ১০ দিন আগে ও পরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাসাবাড়ি, মঠ ও মন্দিরের নিরাপত্তা জোরদার করা, ভোটকালে সেনা মোতায়েন, সংখ্যালঘু ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে প্রচার ও সমাবেশ নিষিদ্ধ, ধর্মের ব্যবহার না করে ভোট করার ব্যবস্থা, হামলা হলে সেই নির্বাচনী এলাকা ও সংশ্লিষ্ট ভোটের স্থগিত ও তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি, সংখ্যালঘু ও নারী ভোটারদের নিরাপত্তার জন্য কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল গঠন এবং ভোট কেন্দ্রে যাওয়া-আসার ক্ষেত্রে নির্বিঘ্নতা নিশ্চিত করা।