Month: November 2025

  • দেশের জনগণ এখন নির্বাচনে মনোযোগী, কোনও হুমকি নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

    দেশের জনগণ এখন নির্বাচনে মনোযোগী, কোনও হুমকি নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

    গাজীপুরে প্রশাসন, পুলিশ ও আইনশঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ এখন নির্বাচনে পুরো মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করেছেন। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, নির্বাচন নিয়ে কোনও ধরনের হুমকি নেই এবং এই নির্বাচন সম্পন্ন হবে অত্যন্ত সুন্দর, স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর পরিবেশে। এর জন্য প্রশাসন কঠোর পরিশ্রম করছে।

    আজ বুধবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই সভায় অংশগ্রহণ করেন স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও বিভিন্ন আইনবাহিনী। সাংবাদিকদের আলাপকালে তিনি বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা সম্পর্কে তারা আলোচনা করেছেন। এছাড়াও গাজীপুরের বিভিন্ন সমস্যার বিষয়েও সেখানে আলোচনা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন গুজব না ছড়ানোর জন্য সাংবাদিকদের সত্য তুলে ধরার আহ্বান জানানো হয়েছে, ফলে গুজবগুলি অনেকখানিই কমে গেছে।

    উপদেষ্টা আরও বলেন, সমাজের সবচেয়ে বড় দুটির সমস্যা হলো দুর্নীতি ও মাদক। এই দুটিকে সমাজ থেকে দূর করতে সবাইকে সচেতন ও সহযোগিতা করতে হবে। বিশেষ করে মাদক এখন গ্রামগঞ্জেও ছড়িয়ে পড়েছে, যা একদিনে নিরসন সম্ভব নয়। সবাইকে একত্রে কাজ করে এর বিরুদ্ধে মোকাবিলা করতে হবে।

    তিনি জানান, গাজীপুরের শিল্প এলাকার কারণে এখানে নানা ধরনের নাগরিকেরা আসে, তারা এখানকার বাসিন্দা নয়। বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও কর্মীদের সম্পর্ক সুন্দর রাখার জন্য সবাইকে সচেতন হতে হবে। এছাড়া এখানকার ঝুট ব্যবসায়ীর সংখ্যাও বেশি, এবং এদের মধ্যে নিচু স্তরের বিভিন্ন সমস্যা দেখা যাচ্ছে। চাঁদাবাজির মতো অপরাধের ক্ষেত্রেও নজরদারি বৃদ্ধি করার ওপর আলোচনা হয়েছে।

    তিনি বলেন, গাজীপুরে পুলিশসংকট রয়েছে; সংগঠিতভাবে অধিক সংখ্যক পুলিশ মোতায়েনের জন্য সাড়ে ছয়শত পুলিশ সদস্য অতিরিক্তভাবে সেখানে মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচনের সময়ে পুলিশের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে।

    সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে তিনি জানান, রাজনৈতিক দলগুলো যদি জামিনে মুক্ত হন, তবে তারা যদি কোনও অপকর্মে লিপ্ত হয়, তবে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনা হবে। আদালত তাদের জামিনের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণরূপে আইনের আওতায়।

    তিনি বলেন, বিভিন্ন গুজবের বিষয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে প্রায়ই বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়। তবে, সাংবাদিকরা সত্য ঘটনা তুলে ধরায় এসব গুজব অনেকাংশে কমে এসেছে। তিনি আরও জানান, দেশের সাংবাদিকদের সততা ও সত্য অনুসন্ধান এই ধরনের গুজব রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সত্য তথ্য প্রকাশ করলে সবাই বুঝতে পারবে, পার্শ্ববর্তী দেশগুলো বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

    একই সঙ্গে, নির্বাচনকালীন সময়ে বিভিন্ন দলের দায়িত্ব ও কর্তব্যের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলোরও দায়িত্ব আছে। নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টা থাকলে কোনও সমস্যা হবে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সব সময় সৎ ও সদূরদর্শী কাজ করছে।

    অবশেষে, একটি রাজনীতি দলের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কর্মসূচি নিষিদ্ধের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের সহযোগিতায় অনেক অপকর্ম ও বিভ্রান্তি কমে এসেছে। সেখানে মিথ্যা রটনা প্রচুর, কিন্তু সত্য প্রকাশের মাধ্যমে বেশির ভাগ সমস্যা দূর হয়। তিনি সবাইকে সচেতন থাকতে আহ্বান জানান।

  • অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা

    অ্যাটর্নি জেনারেলের পদত্যাগ এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা

    অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান পদত্যাগ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। বুধবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। সম্মেলনে তিনি জানিয়েছেন, তিনি ঝিনাইদহ-১ আসন থেকে নির্বাচন করবেন এবং বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, এই আসনে তিনি মনোনয়নপত্র পাবেন। বিএনপি সম্প্রতি (৩ নভেম্বর) দেশের ২৩৭টি নির্বাচনী আসনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে। এখনো ৬৩টি আসন খালি রয়েছে, যার মধ্যে ঝিনাইদহ-১ আসনও রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আসাদুজ্জামান ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে লড়বেন। এদিকে, ২৪ বছরের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের ১৭তম অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে তিনি নিয়োগ লাভ করেন। এর আগে, তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন।

  • অস্ত্র ও গোলাবারুদের জন্য পুরস্কার ঘোষণা: ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার পাবেন জনতা

    অস্ত্র ও গোলাবারুদের জন্য পুরস্কার ঘোষণা: ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার পাবেন জনতা

    পুলিশের কাছ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা এসেছে, যেখানে বলা হয়েছে যে তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে লুণ্ঠিত অস্ত্র ও গোলাবারুদের সন্ধানদাতাদের জন্য বিশাল পুরস্কার ঘোষণা করেছেন। পুলিশ সদর দপ্তর মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, যদি কেউ লুণ্ঠিত অস্ত্র বা গোলাবারুদের প্রকৃত সন্ধান দিতে পারেন, তবে তিনি অর্থনৈতিক পুরস্কার পেতে পারেন। পুরস্কারের পরিমাণ ন্যূনতম ৫০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে, যা অস্ত্রের ধরন ও পরিমাণের উপর নির্ভর করবে। যেখানে এলএমজি বা লং আর্টিলারির জন্য পুরস্কার সাত লাখ টাকা, এসএমজির জন্য দেড় লাখ টাকা, চায়না রাইফেলের জন্য এক লাখ টাকা ও পিস্তল বা শটগানের জন্য পঞ্চাশ হাজার টাকা নির্ধারিত হয়েছে। পাশাপাশি, প্রতিটি উদ্ধারকৃত গুলির জন্য তার জন্য ৫০০ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, সন্ধানদাতাদের নাম বা পরিচয় অবশ্যই গোপন রাখা হবে। সকল নাগরিকের অনুরোধ করা হচ্ছে, যদি কেউ অস্ত্র বা গোলাবারুদ সম্পর্কিত কোনো তথ্য জানেন, তবে নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করুন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের অপরাধী ও লুণ্ঠিত অস্ত্রের বিরুদ্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের নিরাপত্তা আরো দৃঢ় হবে।

  • নন-এমপিও শিক্ষকদের কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি নয়

    নন-এমপিও শিক্ষকদের কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি নয়

    স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমপিওভুক্তির দাবিতে নন-এমপিও শিক্ষকরা দৃঢ়ভাবে অবস্থান করছেন। তারা বলছেন, যদি তাদের দাবি বিবেচনা না করা হয়, তবে তারা কঠোর ও রাত্রির কর্মসূচি ঘোষণা করবেন। আজ ৪ নভেম্বর মঙ্গলবার, দুপুর থেকে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ঐক্য পরিষদ’র ব্যানারে শিক্ষকরা এই কর্মসূচি পালন করছেন।

    শিক্ষকরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরেই তাদের প্রতিষ্ঠানগুলো স্বীকৃতি পেলেও এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি। এর ফলে তারা সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

    আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, শিক্ষা জাতির মূল ভিত্তি, কিন্তু এই শিক্ষকদের জীবন বর্তমানে অনিশ্চয়তার মধ্যে দাঁড়িয়ে। তারা সরকারের কাছে অতি দ্রুত এসব প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। তারা আরো ঘোষণা দিয়েছেন, যদি দ্রুত দাবি না মানা হয়, তবে তারা অবিরত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন এবং সরকারের কোন আশ্বাসের প্রতিফলন না ঘটলে লাগাতার কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।

    নেতৃবৃন্দ বলেন, সারাদেশে দুই সহস্রাধিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা সব শর্ত পূরণ করেছে, এগুলোর মধ্যে বোর্ড পরীক্ষার জন্য নিবন্ধনও রয়েছে এবং তারা ভালো ফলাফলও দিচ্ছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলো, সরকারের তরফ থেকে তাদের দিকে কোনো নজর দেওয়া হয়নি। ইতোমধ্যে সরকার তাদের আশ্বাস দিয়েছিল, কিন্তু তা বাস্তবায়নে কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।

    বক্তারা আরো বলেন, আমরা সবাই মানুষ, দেশের নাগরিক। কিন্তু এক দেশের মধ্যে দুটি নীতি চালু থাকাটা মানা যায় না। তাই তারা এখন রাজপথে उतरেছেন। দাবি না মানা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। তারা বলছেন, তারা এখনই তাদের দাবির জন্য কর্মসূচি অব্যাহত রেখে থাকবে এবং দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

  • আগামী সপ্তাহে শেখ হাসিনার বিচারের রায় হবে: মাহফুজ আলম

    আগামী সপ্তাহে শেখ হাসিনার বিচারের রায় হবে: মাহফুজ আলম

    তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেছেন, আমরা যে অঙ্গীকার নিয়েছিলাম, সেই বিচারের কাজ শুরু করতে পেরেছি। আগামী সপ্তাহে শেখ হাসিনার, অর্থাৎ ফ্যাসিস্ট খুনি শেখ হাসিনার বিচার হবে এবং একটি রায় প্রতিষ্ঠিত হবে। এর ফলে জুলাই শহীদদের পরিবারগুলো কিছুটা হলেও বেদনার প্রকৃতির লাঘব পাবেন।

    মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে জুলাই শহীদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় তিনি এ সব কথা বলেন।

    উপদেষ্টা আরও জানান, আরও অনেকেরই ট্রাইব্যুনালে বিচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। যারা ছাত্রজনতাকে হত্যা এবং গুমে সংশ্লিষ্ট ছিলেন, তাদের সবারই বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়ানো হবে। আত্মপ্রকাশের পরবর্তী সরকারের দায়িত্ব হবে এই বিচার প্রক্রিয়াকে আরও সক্রিয় ও দ্রুততর করা।

    তিনি বলেন, আমরা সংস্কার ও বিচার কাজের জন্য অনেক দূর এগিয়ে গেছি। রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্যে এসে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে, যা বাংলাদেশের জন্য এক বিরাট অর্জন। সবাই একযোগে একত্রিত হয়ে এই ঐকমত্যে পৌঁছেছেন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায় শুরু হয়েছে।

    মাহফুজ আলম আরও বলেন, ‘জুলাই সনদ এবং সংস্কার কার্যক্রমের মাধ্যমে ভবিষ্যতে যে কোনো নির্বাচিত সরকার যদি এই কাজগুলো চালিয়ে যায়, তবে আমরা চাই যে বাস্তবায়িত হবে একটি নতুন বাংলাদেশ, যেখানে দায়িত্বের ভারসাম্য থাকবে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে, সুবিচার থাকবে। গুম-খুনের নিরপরাধ মানুষ আর ফিরে আসবে না।’

  • সরকারির পাশাপাশি বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষার্থীরাও বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে: হাইকোর্ট

    সরকারির পাশাপাশি বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষার্থীরাও বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে: হাইকোর্ট

    হাইকোর্ট সরকার ও বেসরকারি প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের নতুন সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। এর মাধ্যমে এবার শুধু সরকারি স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরাই নয়, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। এ সিদ্ধান্তের ফলে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনল বিচারকরা।

    গত সোমবার (৩ নভেম্বর) এক রিটের শুনানির পর হাইকোর্ট এই রায় দেন। এই রিটটি দাখিল করেছিলেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও অভিভাবক, যারা দাবী করেন যে, কেবলমাত্র সরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে, যা অবৈধ। সাংবাদিকদের মাধ্যমে আজ (৪ নভেম্বর) এই সিদ্ধান্তের ব্যাপারে তথ্য নিশ্চিত করেছেন রিটকারীর আইনজীবী ব্যারিস্টার মুনতাসির আহমেদ।

    এর ফলে, ২০০৮ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার নীতিমালা অনুসারে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও এখন এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। এতে অন্তর্ভুক্ত থাকছেন রেজিস্টার্ড, অস্থায়ী রেজিস্টার্ড ও প্রাথমিক অনুমতিপ্রাপ্ত বেসরকারি স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরাও। বিচারপতিদের নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ২১ থেকে ২৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা, যেখানে এই পরিবর্তনের সুবিধা পাবেন অনেকই।

    প্রাথমিক আদালতের তথ্যমতে, গত ১৭ জুলাই প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর একটি স্মারক প্রকাশ করে জানায় যে, শুধু সরকারি স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরাই বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কেরানীগঞ্জের এক ব্যক্তিসহ মোট ৪২ জন রিট করেন। হাইকোর্টে এই রিটের প্রাথমিক শুনানিতে আদালত এটিকে অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে। একইসঙ্গে, ২০০৮ সালের নীতিমালা অনুযায়ী বেসরকারি শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়।

    অতঃপর, এই রায়ের ফলে যেন এখন থেকে বেসরকারি শিক্ষার্থীরাও বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেন, সে জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে ১৫ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই রায়কে আইনি দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে, যদিও এর বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আপিল করা হবে বলে জানা গেছে।

    প্রাথমিক সরকারিপ্রাথমিক শিক্ষার ইতিহাসে ১৯৮১ সালে প্রথম বৃত্তি পরীক্ষা চালু হয়। এরপর ২০০৫ সালে বেসরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীরাও এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। ২০০৮ সাল পর্যন্ত এই ব্যবস্থা চালু ছিল। ২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত নতুন নীতিমালায় পরীক্ষা নেওয়া হয়, যেখানে সফল শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়া হয়। এরপর করোনার কারণে ২০২০-২০২১ সালে এই পরীক্ষা স্থগিত থাকলেও, ২০২২ সালে আবার শুরু হয়। এই সময়ের মধ্যে ২০২৩ ও ২০২৪ সালে এই পরীক্ষা বন্ধ ছিল। তবে, বর্তমান রায়ের মাধ্যমে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ২০২৫ সালে বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য এখন থেকে সবার জন্য সমান সুযোগ থাকবে, যা আগে ছিল না।

  • উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তাদের অবৈধ সুবিধা গ্রহণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

    উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তাদের অবৈধ সুবিধা গ্রহণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

    স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন कि কোনও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা যদি অবৈধ সুবিধা গ্রহণ করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আজ মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আলোচিত সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত কোর কমিটির বৈঠক শেষে তিনি এই কথা জানান।

    প্রশ্ন উঠেছিল, যদি নির্বাচনের সময় পুলিশ কোনও রাজনৈতিক দলে বিশেষ সুবিধা প্রদান করে, তবে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আমরা একটি ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটি গঠন করেছি। যদি কেউ অবহেলা বা negligence করে থাকে, তাহলে অবশ্যই তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। গতবারের মতো আগে জিডি রেকর্ড করা হত, এবার পরে নয়—তাদের অবিলম্বে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    উপদেষ্টা আরও বলেন, পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, নির্বাচন যেন হয় মুক্ত, স্বচ্ছ, বিশ্বাসযোগ্য এবং উৎসবমুখর পরিবেশে। যদি পুলিশ বা তার কোনো কর্মী অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে তাহাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে, তিনি আরো জানান, নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে। নির্বাচন শেষ হলে সেটি বন্ধ করা হবে কিনা, সেটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    নির্বাচনের আগে পুলিশ রদবদলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে যারা জড়িত ছিল, তাদের ব্যাপক পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথমত, অতীতের নির্বাচনের সঙ্গে যারা যুক্ত ছিল তাদের বাদ দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। এরপর দেখা হবে, যারা দুটিতে যুক্ত ছিল তাদের মধ্যে কে-কেউ অব্যাহত থাকবে। নতুন নিয়োগের মাধ্যমে এক কর্মকর্তাকে অন্য অফিসে পাঠানো সম্ভব নয়, তাই সীমিত লোকবল দিয়ে কাজ চালানো হবে। তবে, কেউ একটি নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও কোনও সমস্যা বা রিপোর্ট না থাকলে, তাকেই কাজে রাখা হবে।

    অন্যদিকে, বিগত সরকারের সময়ের লুট হওয়া অস্ত্রের ব্যাপারে এখনও পুরোপুরি উদ্ধার সম্ভব হয়নি। কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ড ও অস্ত্র চুরির অভিযোগও উঠেছে, যা অত্যন্ত স্পর্শকাতর পরিস্থিতি তৈরী করে। এ বিষয়ে তিনি জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন একজন সিনিয়র সচিব। এই কমিটি এখন পর্যন্ত কিছু দেশের সঙ্গে চিঠি চালাচালি করছে এবং কিছু দেশের প্রতিনিধিও এসে পৌঁছেছেন। অস্ত্র চুরির বিষয়েও তদন্ত চলমান, তবে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি যে সত্যিই চুরি হয়েছে কি না। যদি চুরি হয়ে থাকে, দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

    তিনি আরও জানান, চট্টগ্রামের রাউজানে একটি বড় ধরনের পরিচালনায় ১১টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া বেশ কিছু সন্ত্রাসীর দমন-পীড়ন অভিযান চালানো হয়েছে। রাউজান ও ফটিকছড়ি এলাকাকে ডিফিকাল্ট বা কঠিন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, কারণ এই এলাকার অর্ধেক পাহাড়ি, অর্ধেক সমতল।

  • বিএনপি চতুর্দশ নির্বাচন থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায়: আইনজীবী

    বিএনপি চতুর্দশ নির্বাচন থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায়: আইনজীবী

    তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল হলেও তা চতুর্দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত বিচারপতির আপিল বেঞ্চে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের মামলার সপ্তম দিনের শুনানি শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন। অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায়ে এক ধরনের প্রতারণা করা হয়েছে এবং এই রায় কোনও দেশি-বিদেশি আদালতেই টিকে থাকবেন না। এর 前ে গত ২৭ আগস্ট সর্বোচ্চ আদালত তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে করা আবেদন মঞ্জুর করেন, যেখানে আপিলের অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর পাঁচজন নাগরিক, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার আলাদা করে আপিল দায়ের করেন। ২০১১ সালে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায় দেন। এই সিদ্ধান্তের মূল ভিত্তি ছিলো সরকারি বিশ্লেষণ ও বিচারপ্রক্রিয়া, যা এখন পুনর্বিবেচনার মুখে।

  • চেন্নাইয়ে রজনীকান্ত ও ধানুশের বাড়িতে বোমা হামলার হুমকি, পুলিশের তৎপরতা

    চেন্নাইয়ে রজনীকান্ত ও ধানুশের বাড়িতে বোমা হামলার হুমকি, পুলিশের তৎপরতা

    তামিল সিনেমার দুই জনপ্রিয় তারকা রজনীকান্ত ও ধানুশের বাড়িতে বোমা হামলা হবে বলে হুমকি পাঠানো হয়েছে চেন্নাই পুলিশের কাছে। পাশাপাশি সেখানকার এক রাজনীতিবিদের বাড়িও বোমা দিয়ে উড়িয়ে দেবার অভিযোগে হুমকি দেওয়া হয়। ফলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কঠোর निगরানি শুরু করে এবং তদন্ত চালাচ্ছে। শহরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

    রোববার সকালে তামিলনাড়ু পুলিশের মহাপরিদর্শকের (ডিজিপি) দপ্তরে একটি ইমেইলে হুমকি জানানো হয়, যে তাদের বাড়িতে বিস্ফোরক রাখা হয়েছে। এই হুমকি পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল ও অনুসন্ধানী স্কোয়াড রজনীকান্ত, ধানুশ ও ওই রাজনীতিবিদের বাড়িতে তল্লাশি চালায়। কয়েক ঘণ্টা অনুসন্ধানের পরে পুলিশ জানিয়েছে, কোথাও সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি, এবং এটিকে একটি ভুয়া হুমকি বলে মনে করছে।

    এর আগে গত অক্টোবরে অভিনেত্রী ত্রিশা কৃষ্ণন, রাজনীতিবিদ ও অভিনেতা এস. ভি. শেখর এবং সুরকার ইলাইয়ারাজার স্টুডিওতেও একই ধরনের হুমকি এসেছিল—যা তদন্তে সন্দেহপ্রমাণিত হয়।

    অক্টোবরের শুরুর দিকে অভিনেতা বিজয়의 বাড়িতেও এই ধরনের বোমা হুমকির ঘটনা ঘটেছিল, যেখানে পুলিশ একজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছিল। তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, এসব হুমকি ইমেইল ও ফোনকলের মাধ্যমে উদ্দেশ্যমূলকভাবে আতঙ্ক তৈরি করতে চালানো হচ্ছে।

    চেন্নাই পুলিশ জানিয়েছে, এই হুমকির উৎস খুঁজে বের করতে ডিজিপি অফিস এবং গ্রেটার চেন্নাই সিটি পুলিশের যৌথ তদন্ত চলছে। তবে এখন পর্যন্ত এই ঘটনার পেছনে কোনও বিশেষ উদ্দেশ্য বা সংগঠিত গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি।

  • সালমান শাহ হত্যা মামলায় সামিরার মায়ের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

    সালমান শাহ হত্যা মামলায় সামিরার মায়ের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

    বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেতা সালমান শাহের মৃত্যুর ঘটনায় সম্প্রতি রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলার অন্যতম আসামি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে সালমান শাহর প্রাক্তন স্ত্রী সামিরার মা, লতিফা হক লিও, যা লুসি নামে পরিচিত। এই বিষয়ে ঢাকার একটি আদালত লুসির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আদেশ জারি করেছে। সেই সঙ্গে ইমিগ্রেশন দপ্তরকেও এই বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ।

    এই নিষেধাজ্ঞার অর্ডারটি মামলার তদন্তের স্বার্থে দেওয়া হয়েছে, যা মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুজ্জামান স্বাক্ষর করেছেন। উল্লেখ্য, এর আগেও ২৭ অক্টোবর সালমান শাহের স্ত্রী সামিরা হক এবং অভিনেতা আশরাফুল হক ডনের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল। ফলে, এই মামলার সঙ্গে যুক্ত তিনজনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে।

    সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার ইস্কাটনে তার বাসায় ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মৃত অবস্থায় পাওয়া যান। এর পর থেকে বিভিন্ন সময়ে তার মৃত্যু নিয়ে নানা ধরনের জল্পনা এবং তদন্ত চলতে থাকে। দীর্ঘ তদন্তের পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সাবেক এই অভিনেতাকে আত্মহত্যা বলে অনুমোদন করেছে। তবে, এই ঘটনা আজও চলচ্চিত্র প্রেমীদের জন্য এক রহস্য রয়ে গেছে।