Month: November 2025

  • দেশ বর্তমানে গভীর রাজনৈতিক সংকটের মধ্যেও জামায়াতে ইসলামী ভয়ঙ্কর চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করছে: মাওলানা আজাদ

    দেশ বর্তমানে গভীর রাজনৈতিক সংকটের মধ্যেও জামায়াতে ইসলামী ভয়ঙ্কর চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করছে: মাওলানা আজাদ

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল সহকারী পরিচালক মাওলানা আবুল কালাম আজাদএ বলেছেন, আজকের বাংলাদেশ রাজনৈতিকভাবে গভীর সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। জনগণের ভোটাধিকার ও মৌলিক অধিকার পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করার জন্য জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এখন সময়ের অত্যন্ত প্রয়োজন। তিনি ขอ জানান, নভেম্বর মাসের মধ্যেই গণভোটের মাধ্যমে দেশের জনগণের মতামত নেয়া উচিত, যা শান্তি, ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করতে সহায়তা করবে। এরই আলোকে তিনি সাধারণ মানুষের সাথে গণসংযোগ করেন, সালাম ও কুশলাদি বিনিময় করেন এবং তাদের সুখ-দুঃখের কথা শোনার চেষ্টা করেন। হরিঢালী ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানসহ পথসভায় দাঁড়িপাল্লার মার্কায় ভোট দেয়ার জন্য দাবী জানিয়ে দোয়া কামনা করেন। বৃহস্পতিবার দিনভর এ সব কার্যক্রম পরিচালিত হয়, যেখানে তিনি পাইকগাছা উপজেলার হরিঢালী ইউনিয়নের হরিদাসকাটিসহ বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ করেন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন পাইকগাছা উপজেলা নায়েবে আমীর মাওলানা বুলবুল আহম্মেদ, সেক্রেটারি মোঃ আলতাফ হোসেন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের খুলনা দক্ষিণ জেলা সভাপতি আবু জার গিফারী, বায়তুলমাল সম্পাদক ইয়াসিন শারাফাত, পাইকগাছা উত্তর থানার সেক্রেটারি ইয়াসিন সরকার, হরিঢালী ইউনিয়ন আমীর আতাউর রহমান, সেক্রেটারি হুসাইন আহম্মেদ, সহকারী সেক্রেটারি মোঃ আসলাম বিশ্বাস, ৪নং হরিদাসকাটি ওয়ার্ডের সভাপতি মুজিবর ফকির, সেক্রেটারি ডাঃ হাসানুজ্জামান, বায়তুলমাল সম্পাদক ডাঃ এনামুল হকসহ আরও অনেক নেতা কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

    মাওলানা আজাদ বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদ এখনো জামায়াতে ইসলামীকে বিভিন্ন জুলুম নির্যাতন করে বিচ্ছিন্ন করতে পারছে না। তাই তারা কেন্দ্রীয় অফিস থেকে শুরু করে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড অফিস বন্ধ করে দিয়ে, অপপ্রচার চালিয়ে এবং ইসলাম ধর্মকে জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদ হিসেবে অপমান করার চেষ্টা করছে। কিন্তু এসব ভয়ঙ্কর চাপ ও অপপ্রচেষ্টার পরও জামায়াতে ইসলামীর কর্মীরা অবিচল থাকছেন। তারা আবারও সংবিধান ও সাংবিধানিক পদক্ষেপের মাধ্যমে নিষিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, দেশের জনগণ জামায়াতে ইসলামীকে স্বীকৃতি দিয়ে তাদের সঙ্গে একত্র হয়ে নতুন বাংলাদেশ তৈরিতে অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি উল্লেখ করেন, আল কুরআনের সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমাদের সব সময়কে মূল্যায়ন করতে হবে। আল কুরআনের দাওয়াতের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে পৌঁছানোর কাজ চলছে। আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশ হবে আল কুরআনের ও ইসলামের দেশের আদর্শে গড়া।

    মাওলানা আজাদ সতর্ক করে বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে যেকোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর দ্বারা সাধারণ মানুষের ক্ষতি হলে তার প্রমাণ অবশ্যই সংগ্রহ করতে হবে। তিনি বিশ্বাস করেন, সাধারণ মানুষের অধিকার নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সেই প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকারের ওপর অটল।

  • শত অত্যাচার, নির্যাতন, জেল, জুলুমের মধ্যেও পিছপалық করেননি তরিকুল ইসলাম: এড. মনা

    শত অত্যাচার, নির্যাতন, জেল, জুলুমের মধ্যেও পিছপалық করেননি তরিকুল ইসলাম: এড. মনা

    খুলনা মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা বলেছেন, দলের স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদের অকৃত্রিম প্রবক্তা এবং দলের দুর্দিনে সাহসী নেতা। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশ যে ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে, সেই সময় তরিকুল থাকলে তার গঠনমূলক পরামর্শ এবং প্রজ্ঞা দিয়ে দেশের অস্থিরতা কমাতে সহযোগিতা করতেন। মহান এই নেতার অভাব আজ দেশের মানুষ গভীর ভাবে অনুভব করছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় খুলনা মরহুম তরিকুল ইসলামের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মহানগর বিএনপি’র উদ্যোগে অনুষ্ঠিত স্মরণ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    এড. মনা আরও উল্লেখ করেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জনগণের নেতা হিসেবে তরিকুল ইসলাম পরিচিত ছিলেন। তিনি নেতা-কর্মীদের চোখে একজন ‘মহান নেতা’ এবং সাধারণ মানুষের কাছেও খুব প্রিয়। রাজনৈতিক জীবনেও তিনি দৃঢ়চেতা ও অপ্রতিরোধ্য সৈনিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। শত অত্যাচার, নির্যাতন, জেল আর জুলুমের মুখে পিছু হটেননি তিনি। বিএনপির রাজনীতিতে একজন আদর্শ ও অনুকরণীয় নেতা হিসেবে তিনি প্রশংসিত। তরিকুল ইসলাম এই অঞ্চলের শত শত নেতা-কর্মীর জন্য ছিলেন একজন নির্ভরযোগ্য ও প্রেরণাদায়ক অভিভাবক।

    মহানগর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন জানান, জাতীয় দুর্যোগ ও গণতন্ত্রের সংকটে তরিকুল ইসলাম ছিলেন দলের পাহারাদার। মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সাহস ও আত্মবিশ্বাস ধরে রাখার জন্য তিনি ছিলেন মূল প্রেরণার स्रोत। এই আলোচনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাসুদ পারভেজ বাবু, হাসানুর রশীদ চৌধুরী মিরাজ, সেখ হাফিজুর রহমান মনি, সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক বদরুল আনাম খান, আসাদুজ্জামান আসাদ, আব্দুল আজিজ সুমন, মাওলানা মোঃ আবু নাঈম কাজী, মোঃ শফিকুল ইসলাম শফি, জাকির ইকবাল বাপ্পী, মোঃ নাসির উদ্দিন, গোলাম কিবরিয়া, শেখ আবু সাইদ, ইফতেখার হোসেন বাবু, শেখ মনিরুজ্জামান মনির, মাসুদউল হক হারুন, গাজী আফসার উদ্দীন, এস এম নুরুল আলম দিপু, শেখ মোস্তফা কামাল, আজিজুর রহমান, শেখ হাবিবুর রহমান, কাজী নজরুল ইসলাম, মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, মঞ্জুরুল আলম, জুয়েল খান, মোঃ নাজমুস সাকিব, মোঃ সওগাতুল আলম ছগীর, মোঃ আমিন আহমেদ, মিশকাত আলী, জামির হোসেন দিপু, শেখ মেহেদী হাসান, মোঃ ইয়াছিন মোল্লা, আব্দুল কাদের মল্লিক, এস কে তুষার প্রমুখ। আলোচনা শেষে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়, যা পরিচালনা করেন হাফেজ মাওলানা আল আমিন। এরপর মহানগর বিএনপি’র সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি এস এম মোর্শেদ আলমের ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

  • ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দলীয় প্রার্থীর জন্য কাজ করুন

    ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দলীয় প্রার্থীর জন্য কাজ করুন

    অবহেলিত পাইকগাছা ও কয়রা এলাকার উন্নয়ন ও তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন ফোটানোর জন্য বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মনিরুল হাসান বাপ্পীর বিজয় নিশ্চিত করতে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও ঐক্য অপরিহার্য। বৃহস্পতিবার সকালে পাইকগাছা জেলা প্রেসক্লাবে মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ। তারা 강조 করেন, দলের জন্য বড় কিছু অর্জন করতে হলে ব্যক্তিগত ও দলীয় ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে নির্বাচনের সময় দলের প্রার্থীকে ঐক্যবদ্ধভাবে সমর্থন করা জরুরি, যাতে করে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা একযোগে কাজ করে দলীয় বিজয় নিশ্চিত করতে পারে। এই জনসভায় বক্তব্য রাখেন, মনিরুল হাসান বাপ্পী নিজেও, আরও ছিলেন জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা এবং এলাকাবাসী। তারা বলেন, এই অঞ্চলের ঐতিহ্য অনুযায়ী উন্নয়নের জন্য প্রতিটি বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ধানের শীষ প্রতীকের জন্য ভোট আহ্বান করতে হবে। প্রার্থী আরও জানান, নির্বাচিত হলে তিনি এই এলাকায় টেকসই উন্নয়ন নিয়ে কাজ চালাবেন। এর মধ্যে রয়েছে টেকসই ভরাট বাঁধ নির্মাণ, সুপেয় পানি সরবরাহ, মাদক ও সন্ত্রাস মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা, সুন্দরবন কেন্দ্রিক পর্যটন শিল্প বিকাশ, উন্নত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, ব্যবসার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি ও বেকারত্বের যন্ত্রণা দূর করা। মনোনয়ন পাওয়ার পর তিনি তার নির্বাচনী এলাকা ঘুরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং তাদের উন্নয়নের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানান। এতে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন পর্যায়ের দলীয় নেতাকর্মী, এলাকাবাসী, বিশিষ্ট ব্যাক্তিত্বরা। এই দিন মনোনীত প্রার্থী বাপ্পীর জন্য নেতাকর্মীরা ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে একত্রিত ও উদ্দীপ্ত হয়।

    অপরদিকে, কয়রা উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে দলীয় কর্মী সভা ও প্রচার মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপি’র আহবায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, যিনি প্রধান বক্তা হিসেবে মনোনীত প্রার্থী মনিরুল হাসান বাপ্পীর পক্ষে ব্যাপক সমর্থন ও উৎসাহ প্রদান করেন। এই সভায় নেতৃবৃন্দ প্রতিবেদন করেন, প্রাণবন্ত মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয় এবং এলাকার উন্নয়নে বিএনপির পরিকল্পনা ও দৃঢ় সমর্থন ব্যক্ত করা হয়। সভায় সব স্তরের নেতাকর্মীরা একসঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনআঙ্কে প্রার্থীকে বিজয়ী করতে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

  • খুলনার আওয়ামী লীগ নেতা কাজী ফয়েজ গ্রেপ্তার

    খুলনার আওয়ামী লীগ নেতা কাজী ফয়েজ গ্রেপ্তার

    খুলনার খালিশপুর থানার আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কাজী ফয়েজ মাহমুদকে নগর গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। আজ শুক্রবার (৭ নভেম্বর) ভোরে রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে খুলনা ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসা হচ্ছে।

    গোয়েন্দা পুলিশের ওসি তৈমুর ইসলাম জানান, আমরা মাঝেমধ্যেই কাজী ফয়েজের খোঁজ পেতাম। সম্প্রতি গোয়েন্দা সূত্রে জানতে পারি তিনি ঢাকার বসুন্ধরায় অবস্থান করছেন। এই খবরের ভিত্তিতে ভোরে তার বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তাকে খুলনায় নিয়ে যাওয়ার জন্য সঙ্গে দৌড়ঝাপে ব্যস্ত পুলিশ।

    অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ বলছে, কাজী ফয়েজ নিজেকে শেখ সোহেলের বন্ধু পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতেন। তার বিরুদ্ধে খালিশপুর থানায় নাশকতা ও অন্যান্য একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে।

  • নির্বাচন শুধু মাঠের প্রচারণায় সীমাবদ্ধ থাকবে না, ভার্চুয়াল জগতেও প্রচার জোরদার করতে হবে: হেলাল

    নির্বাচন শুধু মাঠের প্রচারণায় সীমাবদ্ধ থাকবে না, ভার্চুয়াল জগতেও প্রচার জোরদার করতে হবে: হেলাল

    বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল বলেন, বিএনপি ইতিমধ্যে চারবার দেশ পরিচালনার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। তবে তার প্রতিদ্বন্দ্বীরা কখনোই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন না। তিনি সতর্ক করে বলেন, “অভিজ্ঞতা ছাড়াই কোনো দলকে ক্ষমতায় আনলে দেশে প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা দেখা দিতে পারে।”

    বৃহস্পতিবার সকালে রূপসা, তেরখাদা এবং দিঘলিয়া উপজেলার অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আইচগাতী প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত নির্বাচন পূর্ব প্রস্তুতিমূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। হেলাল আরও বলেন, এ বছর নির্বাচন কেবল মাঠের প্রচারণায় সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং ভার্চুয়াল দুনীতেও প্রচার জোরদার করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, “এখন ডিজিটাল যুগ, তাই ফেসবুক, ইউটিউব ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দলের প্রচার বাড়ানোর দায়িত্ব আমাদের সবাইকে নিতে হবে।”

    তিনি জানান, নির্বাচনী এলাকার ১৪৪টি ভোট কেন্দ্রের জন্য কেন্দ্র ভিত্তিক কমিটি গঠন ও মহিলাদের জন্য পৃথক কেন্দ্র কমিটি করার নির্দেশনা দিয়েছেন। এছাড়াও তিনি সদস্যদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধানের শীষে ভোট চাওয়ার আহ্বান জানান।

    সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহবায়ক মোল্লা খায়রুল ইসলাম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আতাউর রহমান রনু, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি বাবু উজ্জ্বল কুমার দাস, যুবদলের যুগ্ম-আহবায়ক গোলাম মোস্তফা তুহিন, সেতারা সুলতানা, আজিজুল ইসলাম, আনিস, সাবেক ছাত্রদলের সভাপতি কামরান হাসান, আবুল কাশেম, রেজাউল ইসলাম, শাহানাজ সহ জেলা ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি বিএনপি’র ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুলের শ্বশুরের ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

  • প্রাইজবন্ডের ১২১তম ড্র: প্রথম পুরস্কার জেতা নম্বর ০১০৮৩৩১

    প্রাইজবন্ডের ১২১তম ড্র: প্রথম পুরস্কার জেতা নম্বর ০১০৮৩৩১

    বাংলাদেশের প্রাইজবন্ডের ১২১তম ড্র সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই ড্রয়ে প্রথম পুরস্কার জিতে নেয় নম্বর ০১০৮৩৩১, যা একটি দামী ৬ লাখ টাকার পুরস্কার। দ্বিতীয় পুরস্কার অর্জন করেছে নম্বর ০১৫৬৮৯৭, যার মূল্য ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এছাড়াও, তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে প্রত্যেকটির মূল্য ১ লাখ টাকা, নির্বাচিত হয়েছে দু’টি নম্বর: ০০৫৬৩৬২ ও ০৪৫৩৬৬৮। চতুর্থ পুরস্কার হিসেবে ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে দু’টি নম্বর: ০৯১২৪৪৪ ও ০৯৮৩৫৭২।

    ড্রটি অনুষ্ঠিত হয় ঢাকার বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে। এতে বাংলাদেশ ব্যাংক, সঞ্চয় অধিদপ্তর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    পঞ্চম পুরস্কার হিসেবে ঘোষিত হয়েছে ১০ হাজার টাকার জন্য ৪০টি নম্বর, যা হল: ০০১৩৩৮৬, ০০১৪৯৯২, ০০২৮১৮৩, ০০৫৩২২৬, ০১১৯০৬৯, ০১৬৮৮৭৩, ০২৪৪০৭৪, ০২৫৭৫৯৪, ০২৬৫৯৩৮, ০২৯২৯৪১, ০২৯৬৪২৯, ০৩২৭৯১০, ০৩৪০৪০৭, ০৩৪৯৩১৫, ০৩৫৫২০৬, ০৩৬৭৫২৯, ০৩৬৯১১৭, ০৪১৭৭২৮, ০৪২৫৬৮৩, ০৫০১০৪৩, ০৫১৫৫৪২, ০৫৪৯৫২১, ০৫৬৫৯৩৬, ০৬০২২৬৫, ০৬২০২৫৯, ০৬২৪৭১৮, ০৬৭৪৩৪৪, ০৭১২৭৪০, ০৭৫৯০৫৯, ০৭৬৯৩৯২, ০၇৮২৭২৮, ০৭৯১৪২৮, ০৭৯৯৭৩২, ০৮২১৬৭৭, ০৮৬৫১২২, ০৯০৩৩৯২, ০৯০৪৩৫২, ০৯২২১৮০, ০৯৩৬৬১৭ ও ০৯৮৫৯৫২।

    নগদ দখলের জন্য মোট ৩,৮১৮টি প্রাইজবন্ডের মধ্যে নির্বাচিত হয়েছে ৪৬টি টিকিট। ড্রয়ের পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে পুরস্কার দাবি করতে হবে, এর পর দাবি গ্রহণযোগ্য হবে না। ২০২৩ সালের সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী, প্রাইজবন্ডের পুরস্কারের অর্থের ওপর চালানো হয় ২০ শতাংশ কর।

  • কেন্দ্রীয় ব্যাংক পাঁচ শরিয়াহ ব্যাংককে অকার্যকর ঘোষণা করল

    কেন্দ্রীয় ব্যাংক পাঁচ শরিয়াহ ব্যাংককে অকার্যকর ঘোষণা করল

    অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হওয়া শরিয়াভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংকের মার্জার বা একীভূতকরণের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই ব্যাংকগুলোকে অকার্যকর ঘোষণা এবং পরিচালনা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রস্তাবনা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সুপারিশের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উল্লেখ্য, এই পাঁচটি ব্যাংক হলো— ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, গ্লোবাল ইসলামি ব্যাংক পিএলসি, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি, এক্সিম ব্যাংক পিএলসি ও সোশ্যাল ইসলামি ব্যাংক পিএলসি। ব্যাংকগুলোকে জানানো হয়েছে যে, বুধবার (৫ নভেম্বর) এ বিষয়ে তাদেরকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। পৃথক পৃথক চিঠিতে বলা হয়েছে যে, আজ থেকেই তাদের পরিচালনা পর্ষদ কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলো ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশের অধীন পরিচালিত হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একজন নতুন সরকারি মালিকানাধীন ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হবে, যার নাম হবে ‘সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংক’। এই লক্ষ্যেই আজকের দিন থেকে ব্যাংকগুলোর পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, বুধবার ব্যাংকগুলোর চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের জরুরি ডাকা হয়েছে গভর্নর কর্তৃক। জানা গেছে, এই বৈঠকে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিষয়ে অবহিত করা হবে। তবে এর আগে থেকেই ব্যাংকগুলোর কোম্পানি সচিবগণ এ বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। অবশেষে, আজ বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন বলে জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে গত ৯ অক্টোবর সরকারি মালিকানাধীন ইসলামি ব্যাংক গঠনের জন্য উপদেষ্টা পরিষদ থেকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রস্তাবনা ও আর্থিক বিভাগ সুপারিশের মাধ্যমে সেটি অনুমোদিত হয়। গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে এই সব ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা ক্রমশই অবনতি হচ্ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, তারল্য সংকট, বিশাল অঙ্কের শ্রেণিকৃত ঋণ, প্রওিশনের ঘাটতি এবং মূলধনী ঘাটতির কারণে ব্যাংকগুলো কার্যত দেউলিয়া হয়ে পড়েছে। অনেকবার তারল্য সহায়তা দেওয়া সত্ত্বেও এসব ব্যাংকের পরিস্থিতি উন্নতি হয়নি; বরং তাদের শেয়ারবাজারের মূল্য ব্যাপকভাবে হারাতে শুরু করেছে এবং প্রতিটি ব্যাংকের নিট সম্পদ মূল্য বা নেট অ্যাসেট ভ্যালুও ঋণাত্মক পর্যায়ে পৌঁছেছে।

  • পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের বোর্ড বাতিল হলেও গ্রাহকদের সেবা অক্ষুণ্ণ থাকবে

    পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের বোর্ড বাতিল হলেও গ্রাহকদের সেবা অক্ষুণ্ণ থাকবে

    বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের বোর্ড ভেঙে ফেললেও সাধারণ গ্রাহকদের সেবা স্থবির হবে না। ব্যাংকগুলোর পেমেন্ট, রেমিট্যান্স, এলসিসহ সকল ধরনের ব্যাংকিং কার্যক্রম আগের মতোই চালু থাকবে। বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব জানান।

    গভর্নর বলেন, বোর্ড বাতিল হলেও ব্যাংকগুলোর দৈনন্দিন কার্যক্রম বন্ধ হবে না। অর্থাৎ, ব্যবসা চলমান থাকবে, পেমেন্ট, রেমিট্যান্স ও এলসি সবই স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হবে। তিনি আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো ব্যাংকগুলোকে ধাপে ধাপে সম্পদ ও আইটি সিস্টেমের একীভূতকরণ সম্পন্ন করে বিষয়গুলো সমন্বয় করা।

    গভর্নর জানান, এই পাঁচটি ব্যাংকের মোট ৭৫০টি শাখা ও প্রায় ৭৫ লাখ আমানতকারী রয়েছে। লিকুইডেশন এড়াতে প্রথম ধাপে কাঠামোগত ও প্রযুক্তিগত একীভূতিসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা শুরু হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, ‘নন-ভায়েবল’ বা টেকসই নয় বলে ঘোষিত পাঁচ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং প্রতিটি ব্যাংকে অস্থায়ী অ্যাডমিনিস্ট্রেটর নিয়োগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সকালে ব্যাংকগুলোর কোম্পানি সেক্রেটারিকে ‘নন-ভায়েবিলিটি’ নোটিশ পাঠানো হয়েছে, এর মাধ্যমে বোর্ডের কার্যক্ষমতা বন্ধ হয়েছে এবং তারা আর কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না।

    গভর্নর উল্লেখ করেন, এই পাঁচ ব্যাংক একত্রিত হলে এটি দেশের বৃহত্তম ইসলামिक ব্যাংক হিসেবে পরিচিতি পাবে, যার পেইড-আপ ক্যাপিটাল হবে ৩৫ হাজার কোটি টাকা—যা বর্তমানে দেশের যেকোনো ব্যাংকের তুলনায় অনেক বেশি। তিনি নিশ্চিত করেছেন, এই নতুন ব্যাংকটি সরকারীয় মালিকানাধীন হলেও পরিচালনায় বেসরকারি ব্যাংকের মতো পেশাদারিত্ব ও স্বচ্ছতা বজায় থাকবে। এটি পরিচালনা করবেন পেশাদার এন্ডমডি, বাজারভিত্তিক বেতন কাঠামো এবং পৃথক শরিয়া বোর্ড। তিনি বলেন, আমরা মনে করি—ইসলামী ব্যাংকিং বাংলাদেশের ভবিষ্যত।

    শেয়ারহোল্ডারদের বিষয়ে গভর্নর বলেন, ‘শেয়ারহোল্ডারদের ইকুইটির মূল্য এখন নেগেটিভ। ফলে, শেয়ারের মূল্য জিরো বিবেচনা করা হবে এবং কারও ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না।’

    আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আমানতকারী সব গ্রাহক তাদের টাকা সম্পূর্ণরূপে তুলতে পারবেন। বড় আমানতের ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ থাকবে। এ বিষয় বিস্তারিত পরে গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে জানানো হবে। তিনি সকলকে উৎসাহিত করেন, প্রয়োজনীয়তার জন্যই অর্থ উত্তোলন করুন এবং উদ্বিগ্ন না থাকতে।

    আগামী জাতীয় নির্বাচনের সময়কালে যদি নতুন সরকার পরিবর্তন হয়, তাহলে এই প্রক্রিয়া বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা আছে কিনা প্রশ্নে তিনি জানান, দেশের স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। সরকারি পরিবর্তন ছাড়া, সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ চলবে।

    অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঘোষণা করেছে, অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি ও আর্থিক দুর্বলতার কারণে শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংককে অকার্যকর ঘোষণা করা হয়েছে। এই ব্যাংকগুলো হচ্ছে: ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি, এক্সিম ব্যাংক পিএলসি এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি। বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যে এই ব্যাংকগুলোকে চিঠি পাঠিয়েছে এবং তাদের পক্ষ থেকে এ বিষয় নিশ্চিত করা হয়েছে।

    চিঠিতে জানানো হয়েছে, ৫ নভেম্বর থেকে এই ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে এবং তারা এখন ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশের আওতায় পরিচালিত হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, একীভূত করে একটি নতুন সরকারি মালিকানাধীন ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হবে, যার নাম হবে ‘সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংক’। এই প্রক্রিয়ায় আজকের দিনের মধ্যে ব্যাংকগুলোর পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়।

    এছাড়াও, গত ৯ অক্টোবর সরকারি অনুমোদন পাওয়ার পর, এই ব্যাংকগুলো বন্ধের জন্য পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এক বছর ধরে ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপের দিকে যাচ্ছে। তারল্য সংকট, বিশাল পরিমাণ শ্রেণিকৃত ঋণ, প্রভিশন ঘাটতি এবং মূলধন ঘাটতিতে ভুগছে। এর ফলে, ব্যাংকগুলো কার্যত দেউলিয়া অবস্থায় এসে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে, তাদের শেয়ারবাজার মূল্য পড়ে গেছে এবং নেট এ্যাসেট ভ্যালু (এনএভি) ঋণাত্মক অবস্থায় রয়েছে।

  • পাঁচ ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন বন্ধের নির্দেশ

    পাঁচ ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন বন্ধের নির্দেশ

    ঢাকা Stock Exchange (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) আজ বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানিয়েছে, একীভূত হয় থাকা পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন বর্তমানে স্থগিত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন से এসব ব্যাংকের শেয়ার বাজারে লেনদেন হবে না।

    ডিএসই ও সিএসই নিজেদের ওয়েবসাইটে ঘোষণা করে জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ব্যাংকগুলো নিয়ে শেয়ার লেনদেন বন্ধ থাকবে। এই পাঁচ ব্যাংক হলো: ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামি ব্যাংক (এসআইবিএল), এক্সিম ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামি ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক।

    প্রসঙ্গত, ব্যাংকগুলো কেন লেনদেন স্থগিত করা হলো, তার কারণ হলো ব্যাংক রেজুলিউশন অর্ডিনেন্স, ২০২৫ এর ধারা ১৫ অনুযায়ী, এখন থেকে এই ব্যাংকগুলো অকার্যকর হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক গত ৫ নভেম্বর এই নির্দেশনা দিয়ে বলে দিয়েছে যে, ব্যাংকগুলো অপারেশনে থাকছে না। এই নির্দেশের ফলে ব্যাংকগুলো পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে ফেলা হয়েছে।

    অপর দিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানান, এই পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারদের ইকুইটির মূল্য এখন শূন্যের নিচে। অতএব, এই শেয়ারগুলো মানে বোঝা যাবে না এবং এগুলোর চূড়ান্ত মূল্য জিরো। কোন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না।

    আলোচিত ব্যাংকগুলোতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মালিকানার পরিমাণ যথাক্রমে:
    – ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংক: ৬৫ শতাংশের বেশি, যার পরিমাণ ৭৮৭ কোটি টাকা (শেয়ার সংখ্যা ১২০ কোটি ৮১ লাখ)
    – গ্লোবাল ইসলামি ব্যাংক: প্রায় ৩২ শতাংশ, অর্থাৎ ৩০৮ কোটি টাকা (শেয়ার সংখ্যা ৯৮ কোটি ৭৪ লাখ)
    – ইউনিয়ন ব্যাংক: প্রায় ৩২ শতাংশ, অর্থাৎ ৩৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা (শেয়ার সংখ্যা ১০৩ কোটি ৬৩ লাখ)
    – এক্সিম ব্যাংক: ৩৯ শতাংশ, অর্থাৎ ৫৬৫ কোটি টাকা (শেয়ার সংখ্যা ১৪৪ কোটি ৭৬ লাখ)
    – সোশ্যাল ইসলামি ব্যাংক: ১৯ শতাংশ, অর্থাৎ ২২৯ কোটি ২০ লাখ টাকা (শেয়ার সংখ্যা ১১৪ কোটি ২ লাখ)

    প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশও রয়েছে এই ব্যাংকগুলোতে, যার বিবরণ আলাদা আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ঘোষণা ব্যাংকের ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ড ও বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বর্তমান।

  • দুর্বল ৫ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডাররা ক্ষতিপূরণ পাবেন

    দুর্বল ৫ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডাররা ক্ষতিপূরণ পাবেন

    বাংলাদেশ ব্যাংক (বিবি) জানিয়েছে, ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ (বিআরও ২০২৫) অনুযায়ী দুর্বল অর্থনীতির পাঁচটি ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডাররা ক্ষতিপূরণ পাবেন, যদি তাদের বিনিয়োগের যথাযথ ক্ষতি হয়।

    বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানা গেছে, ‘বিআরও ২০২৫-এর ধারা ৪০ অনুযায়ী, যদি কোনও তফশিলি ব্যাংক রেজল্যুশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিণত হয়ে লিকুইডেশনের (বর্তমান অর্থে পরিসমাপ্তি) মাধ্যমে শেষ হয় এবং শেয়ারহোল্ডাররা রেজল্যুশন প্রক্রিয়ার কারণে লিকুইডেশনের তুলনায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন, তবে তাদের ক্ষতির পরিমাণের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।’

    এই ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে একটি স্বতন্ত্র পেশাদার মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে, যাকে বাংলাদেশ ব্যাংক রেজল্যুশন শেষ হওয়ার পরে নিয়োগ করবে।

    এছাড়া সরকার ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী বা শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য বিশেষ ক্ষতিপূরণও বিবেচনা করতে পারে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, এই বিধানটি আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম অনুশীলনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হয়েছে। এতে আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক এবং ওইসিডির মত আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রযুক্তিগত সহায়তা ও মতামত অন্তর্ভুক্ত।

    অধ্যাদেশে রেজল্যুশনের আওতায় থাকা ব্যাংকের বিভিন্ন দাবিদারর (যেমন আমানতকারী ও শেয়ারহোল্ডার) অধিকার স্পষ্টভাবে নির্ধারিত হয়েছে।

    বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বর্তমানে রেজল্যুশন প্রক্রিয়া চলমান ব্যাংকগুলো বড় পরিমাণ ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে এবং তাদের নিট সম্পদ মূল্য (নিট অ্যাসেট ভ্যালু বা এনভি) ঋণাত্মক।

    এই আর্থিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে, বিআরও ২০২৫-এর ধারা ৪২ অনুযায়ী গঠিত ব্যাংকিং সেক্টর ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিটি (বিসিএমসি) ২৪ সেপ্টেম্বর একটি সভায় এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, এই পাঁচটি ব্যাংকের রেজল্যুশন প্রক্রিয়ায় শেয়ারহোল্ডাররা ব্যাংকের ক্ষতি বহন করবেন।

    রেজল্যুশন টুলস ফ্রেমওয়ার্ক অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংক ধারাসমূহের অধীনে বিভিন্ন অংশীদারদের ওপর ক্ষতি আরোপের ক্ষমতা রাখে। এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে শেয়ারহোল্ডার, দায়ী ব্যক্তি, অতিরিক্ত টিয়ার ১ মূলধনধারী, টিয়ার ২ মূলধনধারী ও সাব-অর্ডিনেটেড ডেট হোল্ডার।

    বর্তমানে, এই পাঁচটি ব্যাংকের একীভূতকরণ প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট বিধানসমূহ বিবেচনায়, সাধারণ বিনিয়োগকারী বা শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ সংরক্ষণের কোন সুযোগ বর্তমানে নেই। তবে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী বা শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষার্থে সরকারের চিন্তাভাবনা রয়েছে, যেখানে তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।

    সূত্র: বাসস