অন্তর্বর্তী সরকারের পাঁচ দফা দাবি মানতে না চাইলে আগামী ১১ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য সমাবেশ থেকে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে জামায়াতসহ আটটি রাজনৈতিক দল। আজ শনিবার (৮ নভেম্বর) জাগপা-র ঢাকা মহানগর কার্যালয়ে এক যুক্ত Committee বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দলের নেতারা এ হুঁশিয়ারি দেন। এই বৈঠকে বলা হয়, ১১ নভেম্বরের সমাবেশ সফল করার জন্য সকলের অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। ওই সমাবেশের মাধ্যমে অর্থাৎ জুলাইয়ের জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারি, জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোট, উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতি চালু, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার দাবিiew। পাশাপাশি, ফ্যাসিস্ট সরকারের এর আগের জুলুম, নির্যাতন, গণহত্যা এবং দুর্নীতির বিচার ও দমন، জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলকে নিষিদ্ধ করার দাবিও উঠে এসেছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জাগপা-র সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন। বক্তব্য দেন জামায়াতের সহকারী মহাসচিব হামিদুর রহমান আজাদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আশরাফ আলী আকন্দ, খেলাফত মজলিসের নেতারা ও অন্যান্য দলের নেতারা। নেতারা বলেন, তারা আলোচনা করতে প্রস্তুত, তবে বিএনপি আলোচনা করতে না চাইলেও তাদের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে যে, গণভোট অবশ্যই জাতীয় নির্বাচনের আগে অনুষ্ঠিত হতে হবে। অন্যথায়, জনসমাবেশে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করার জন্য সবাই প্রস্তুত। বলতে গেলে, এই ৫ দফার দাবি তারা বাস্তবায়নের জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
Month: November 2025
-

তরিক রহমানের মত: অন্তর্বর্তী সরকার কারো দলীয় স্বার্থ বাস্তবায়নের নয়
বিএনপি’s ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেছেন, একটি অন্তর্বর্তী সরকার কারো দলীয় স্বার্থ বা স্বেচ্ছাচারিতা পূরণে কাজ করতে পারবেন না। তিনি মন্তব্য করেন, দেশের মুক্তি ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য এখন গুরুত্বপূর্ণ যে, নতুন সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত, জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ ও জবাবদিহিমূলক হতে হবে। এই সাদা পরিস্থিতিতে জনগণের প্রত্যাশা হলো ফ্যাসিবাদমুক্ত একটি বাংলাদেশ যারা স্বপ্ন দেখেন তাদের জন্য একমাত্র পথ হলো স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন।
শনিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত হিন্দু প্রতিনিধি সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তারেক রহমান এসব কথা বলেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, দেশ অস্থিতিশীল হলে জালিম ও পলাতক শাসক গোষ্ঠীর পুনর্বাসনের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়, যা দেশের জন্য ক্ষতিকর। এজন্য তিনি অন্তর্বর্তী সরকারকে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
তরিক রহমান ব্যাখ্যা করেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে কিছু বিরোধী মতামত বা আন্দোলন গোপনে চালিয়ে যান, যাতে শত্রু শক্তির পথ সুগম হয়। আজকের সময়েও যাতে সেই অপশক্তি আবার গণতন্ত্রের পথে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে তিনি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কিছু অপ্রিয় আন্দোলন বা সহিংসতা দেশের মানুষের মূল অধিকার ক্ষুণ্ণ করতে পারে, তাই এসব থেকে সজাগ থাকতে হবে।
তারেক রহমান দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন, ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে একজনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ অংশগ্রহণ দেশের সাধারণ মানুষের অধিকার নষ্ট করে কিছু অশুভ শক্তির উত্থান ঘটাতে পারে। এসব অপশক্তি যেন পুনরায় দেশকে অস্থিতিশীল করতে না পারে, তার জন্য জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা জরুরি। এ ক্ষেত্রে বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনগুলো একযোগে কাজ করে চলবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি সবসময়ই শান্তিপ্রিয়, সহনশীল ও গণমুখী দল। দেশের ভিন্নমত বা দৃষ্টিভঙ্গি সহনশীলভাবে গ্রহণ করে দেশের সমৃদ্ধি ও মানুষের অধিকার রক্ষার আন্দোলনে তারা অবিচল। নির্বাচনে জিতলে গণতান্ত্রিক সরকারের পরিকল্পনা থাকবে, যার মধ্যে রয়েছে পাঁচ মিলিয়ন পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি।
বিশেষ করে তরুণদের জন্য তিনি বলেন, বিভিন্ন কারিগরি ট্রেনিং ও ভাষা শেখানোর ব্যবস্থা করে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে প্রস্তুত বিএনপি। এ ছাড়াও তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য আমাদের শক্তি। সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার তারা করেন, যেখানে সকলের অধিকারে সমান মর্যাদা থাকবে।
তারেক রহমান শেষবিচারে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের আশ্বাস দিয়ে বলেন, তাদের দাবিগুলো ব্যতিরেকে রাখা হবে না। মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্য জোটের নেতারা সম্মেলনে অংশ নেন, যেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন তারেক রহমান নিজে। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা তাদের দাবি তুলে ধরেন, যা ভবিষ্যৎ শান্তিপূর্ণ সমাধানে গুরুত্ব দেয়।
-

সালাহউদ্দিনের মন্তব্য: অন্য দল দ্বারা আহ্বান কেন, আমরা যাব
প্রধান উপদেষ্টা আহ্বান জানালে বিএনপি আলোচনা করতে রাজি আছে বলে জানিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা মনে করেছিলাম জাতীয় ঐকমত্য কমিশন রেফারির ভূমিকা পালন করবে। অন্তর্বর্তী সরকার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করবে এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে পরিস্থিতি পরিচালনা করবে। কিন্তু এখন দেখছি, আপনাদের পক্ষ থেকে রেফারি হয়ে একটি গোল দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর বলছেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে সাত দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, না হলে নিজেদের সিদ্ধান্ত নেবে।
শনিবার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ছাত্রদলের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ৫০ বছর পূর্তির আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, সরকারকে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু ভোটের জন্য সব রকম চেষ্টা করার আহ্বান জানাই। আমরা স্বেচ্ছা समर्थन দিচ্ছি, তবে সেটি সীমারেখার মধ্যে। যদি মনে করেন, অন্য রাজনৈতিক দল দিয়ে আমাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন, তাহলে প্রশ্ন হলো, তারা কারা? অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা যদি আমাদের কাউন্সিলে ডেকে নিয়ে আলোচনা করতে আহ্বান জানায়, আমরা সব সময় আলোচনায় আগ্রহী। তবে অন্য এক দলকে দিয়ে কেন আমাদের আহ্বান জানানো হচ্ছে?
অন্তর্বর্তী সরকারের এইভাবে সময় বেধে দেওয়ার ক্ষমতা নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, আপনারা কোনো নির্বাচিত সরকার নয়, এটাই মনে রাখা জরুরি। আপনাদের কাছে এত ক্ষমতা নেই যে, আমাদের ওপর ডিক্টেট করার অধিকার রাখেন। যদি সাত দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত না হয়, আমরা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নেব। এত শক্তি দেখানোর জন্য আপনাদের মানা হয় না।
জামায়াতকে লক্ষ্য করে সালাহউদ্দিন বলেন, আপনি ১৯৭১ সালের পরিণতিতে যা করেছিলেন, ১৯৪৭ সালে শুরু করেছিলেন, জাতীয় পার্টির হাত ধরে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের পাশে ছিলেন—এমন সব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশের পরিস্থিতি কী রকম হবে? আবার যদি আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগ দিয়ে পুনরায় ক্ষমতা চান, তাহলে কি হবে? এরাজ্যেতো নানা অগণতান্ত্রিক শক্তি উৎসাহিত হবে। এর ফলে বাংলাদেশে অগণতান্ত্রিক কার্যকলাপ বাড়বে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি আপনি বলতে চান, আমাদের কিছু করতে হবে, ভাড়া ভাতে ছাই ছিটিয়ে দেবেন—এমন ভাবনা দেশের মানুষ আর কখনো গ্রহণ করবে না। সুযোগ এড়িয়ে যান।
জামায়াতের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনি চাইলে ঘি খেতে পারেন। কিন্তু আমরা দেশের গণতন্ত্রের সংগ্রামে রাজপথের আন্দোলন চালিয়ে যাব, অগণতান্ত্রিক ও উত্তপ্ত পরিস্থিতি আর সৃষ্টি হতে দেব না। সরকারের উপর আল্টিমেটাম দিয়েছেন কেউ? তাহলে তারা কি এই আল্টিমেটাম দিয়েছে? সরকার তো আপনার কথামত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনকে সবসময় মেনে চলেছে। আপনারাও একই সঙ্গে সুর মিলিয়ে কথা বলছেন।
ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির এর পরিচালনায় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক আমানুল্লাহ আমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায়সহ অন্যান্যরা।
-

দেশের সব সংকট দেশের নাটকের অংশ, মানুষ ভোট দিতে চায়: মির্জা ফখরুল
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের বর্তমান সংকটগুলো কেবল এক ধরনের নাটকের অংশ, যেখানে সাধারণ মানুষ আসলে এসবের অর্থ বোঝে না। তারা কেবল চায় ভোট দিতে, নিজেদের ভোটের মাধ্যমে পরিবর্তন আনার সুযোগ। আজ রোববার (৯ নভেম্বর) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার দৌলতপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জগন্নাথপুর ইউনিয়নের বাসিন্দাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এই কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আরও বলেন, ‘বিএনপি হলো শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দল, এবং বেগম খালেদা জিয়ার দল। আমরা শুধু কথা বলছি না, কাজেও বিশ্বাস করি। মুনাফিকিরাই বিশ্বাস করে না।’’ তিনি উল্লেখ করেন, ‘১৯৭১ সালে পাকিস্তানিরা এদেশের কিছু মানুষ নিয়ে গণহত্যা চালিয়েছিল, যার মধ্যে ছিল বিরোধী মতাবলম্বী মানুষ। আবার এইবার শেখ হাসিনা তার প্রশাসন দিয়ে এই দেশেই গণহত্যা চালিয়েছে। স্বজনদের দখলে থাকা ন্যায্য দাবির জন্য তাদের ওপর অত্যाचार চালানো হচ্ছে।’
মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, ‘বর্তমান সরকার নির্বাচিত নয়, তাই তারা সাধারণ মানুষের কষ্ট বোঝে না। কৃষকরা তাদের ধানের ন্যায্য মূল্য পায় না, শাকসবজির দাম ফুরিয়ে যায়। হিমাগারে আলু পড়ে রয়েছে বিক্রির অপেক্ষায়। কৃষি জন্য প্রয়োজনীয় সারও কৃষকদের পাওয়া যাচ্ছে না। যদি বিএনপি ক্ষমতায় আসে, তবে এই সমস্ত সমস্যা সমাধান হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় গেলে নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে, যার মাধ্যমে তারা ন্যায্যমূল্যে তেল, চাল, ডাল সহ অন্যান্য পরিত্যাজ্য পণ্যে পৌছে যাবে। কৃষকদের জন্যও আলাদা কৃষি কার্ড দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে তারা তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবে।’
মির্জা ফখরুল দাবি করেন, ‘নির্বাচনের দিন গণভোটের ব্যবস্থা থাকতে হবে, কারণ বোঝা দরকার, কিসের জন্য কি দরকার। গণভোট-সনদ উপলব্ধি বোঝে সাধারণ মানুষ না, শুধুই শিক্ষিত মানুষ। আমরা সব সংস্কারে সম্মত, তবে এমন কিছু নয় যা সংসদে পাস হতে পারে।
তিনি শেষবারের মত বলেন, ‘দাঁড়িপাল্লা দিয়ে নির্বাচন করতে হবে। ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যে আপনাদের বেছে নিতে হবে। এটি আমার শেষ নির্বাচন, তাই আপনাদের ধানের শীষের পক্ষেই ভোট দেয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি। আমি চাই আমাদের এই যাত্রা সফল হোক।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেনের সভাপতিত্বে, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, পৌর বিএনপির সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরীফ, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ, সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন তুহিনসহ অন্য নেতাকর্মীরা।
-

মির্জা ফখরুলের আহ্বান: হিন্দু-মুসলমান ভাই ভাই, ধানের শীষে ভোট দিন
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের প্রতি ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘হিন্দু-মুসলমান ভাই ভাই, ধানের শীষে ভোট চাই।’ এ সময় সভায় উপস্থিত হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষও এই শ্লোগানে সাড়া দেন। শনিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত ‘হিন্দু প্রতিনিধি সম্মেলন-২০২৫’ অনুষ্ঠানে এই বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব। অনুষ্ঠানে তিনি মতুয়া বহুজন সমাজের কাছে থাকা বিভিন্ন দাবি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে তুলে ধরেন। এরপর বলেন, ‘এই দাবি আজই বাস্তবায়ন হবে তখনই, যখন আমাদের নেতা তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রীর পদে বসাতে পারবো। ধানের শীষে ভোট দেওয়া আপনারা কি করবেন? আমি আপনারা থেকে সেই প্রতিশ্রুতি শুনতে চাই। আপনি কি আমাকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন যে, আপনি আমার নেতাকে প্রধানমন্ত্রী করবেন? তাহলে একসঙ্গে শ্লোগান দিই: হিন্দু-মুসলমান ভাই ভাই, ধানের শীষে ভোট চাই।’ ফখরুল আরও বলেন, আমরা এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে ধর্মের নামে বিভেদ থাকবে না। অতীতের দাঙ্গা-হাঙ্গামা ভুলে, সবাই একসঙ্গে থাকব, একটি অসাম্প্রদায়িক, প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক সমৃদ্ধ জাতি হিসেবে গড়ে তুলব। তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বপ্ন দেখেছিলেন এমন বাংলাদেশ গড়ার, যেখানে সব ধর্ম ও জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত। মতুয়া বহুজন সমাজের পক্ষ থেকে তুলে ধরা হয়, অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন বাস্তবায়ন, সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন, জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন, সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা, দেবোত্তর সম্পত্তি সংরক্ষণ আইন, ট্রাস্টের বদলে হিন্দু ফাউন্ডেশন স্থাপন, মনোনয়ন ও সংসদসহ জাতীয় জীবনের সব স্তরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের যথোপযুক্ত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার দাবি।
-

ইসির সঙ্গে রাজনৈতিক দলের সংলাপ শুরু ১৩ নভেম্বর
আগামী ১৩ নভেম্বর থেকে রাজনৈতিক দলের সাথে সংলাপ শুরু করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি), ভবিষ্যৎ নির্বাচনী প্রস্তুতিসমূহের অংশ হিসেবে। এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা আগামী রোববার (৯ নভেম্বর) নির্বাচון কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে।
নির্বাচন ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী ও স্বচ্ছ করতে, ইসি এই মাসের মধ্যে নির্বাচনী সমগ্রী সংগ্রহ, প্রাসঙ্গিক আইন সংশোধন, এবং ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজগুলো সম্পন্ন করতে চায়। এর মাধ্যমে ডিসেম্বরের শুরুতেই তারা মনোনীত তফসিল ঘোষণা এর জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিতে সক্ষম হবে।
বর্তমানে দেশের মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৬ লাখ ১২ হাজার ৩৮৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৭ লাখ ৬০ হাজার ৩৮২ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৫০ হাজার ৭৭২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) ভোটার সংখ্যা ১ হাজার ২৩০। গত দুই মাসে (১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত) দেশে ভোটার সংখ্যা বেড়েছে ১৩ লাখ ৪ হাজার ৮৮০ জন।
ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, ১৮ নভেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। এর আগে, ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত কোনো দাবি বা আপত্তি জানানোর সুযোগ থাকবে।
-

সেনা কর্মকর্তাদের পক্ষে লড়বেন না ব্যারিস্টার সারওয়ার
পেশাগত স্বার্থের সংঘাত এড়াতে আনুষ্ঠানিকভাবে সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গুমের দুই মামলার এবং রাজধানীর রামপুরার ২৮ জনকে হত্যার মামলার আসামিপক্ষের আইনজীবীর তালিকা থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করেছেন ব্যারিস্টার এম. সারোয়ার। এই সিদ্ধান্তের জন্য তিনি আজ রোববার (০৯ নভেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-১-এ নিজে ওকালতনামা প্রত্যাহারের আবেদন জানান। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল গুমের দুই মামলায় তারসহ অন্য চারজনের ওকালতনামা বাতিল করে নতুন করে দাখিলের নির্দেশ দেন। ব্যারিস্টার সারোয়ার জানান, তিনি নিজে গুমের একটি মামলায় একজন অভিযোগকারী ছিলেন এবং এভাবে তার স্বার্থের দ্বন্দ্বের কারণে তিনি এখন প্রতিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে কাজ করতে চান না। তিনি ব্যাখ্যা করেন, অভিযোগে কয়েকজন সাবেক সেনা কর্মকর্তার নাম রয়েছে, ফলে ব্যক্তিগত স্বার্থের সংঘাতের কারণে তিনি তাদের পক্ষের আইনজীবী থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করেন। উল্লেখ্য, এর আগে, ২১ অক্টোবর আদালত গুমের দুই মামলায় ১৩ জন সাবেক সেনা কর্মকর্তা এবং রামপুরার ২৮ জনের হত্যা মামলার দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার ও কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়, গত ২৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগ শাসনামলে সংঘটিত হত্যা, গুম, নির্যাতন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের তিন মামলার দায়েরকৃত ১৫ সেনা কর্মকর্তার আইনজীবী প্যানেল থেকেও সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন ব্যারিস্টার এম. সারোয়ার। এই সব ঘটনাগুলো প্রত্যাহার ও পদক্ষেপের মাধ্যমে তিনি পেশাগত স্বার্থের সংঘাত এড়াতে চান এবং ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা ও দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করতে চান।
-

৫ মামলায় হাইকোর্টে জামিন পেলেন সাবেক মেয়র আইভী
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র ও সাধারণ জনতার আন্দোলনের মধ্যে পোষাক শ্রমিক মিনারুল হত্যা সহ মোট পাঁচটি মামলায় নারায়ণগঞ্জের সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভানেত্রী সেলিনা হায়াৎ আইভীকে জামিন প্রদান করেছেন হাইকোর্ট। আজ রোববার (৯ নভেম্বর) বিচারপতি এ এস এম আব্দুল মোবিন ও বিচারপতি সগীর হোসেনের বেঞ্চ এই রায় দেয়। আদালত তার জামিনের জন্য জারি করা রুলকে যথাযথ ঘোষণা করেন। আইভীর পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন।
-

সরকারের ধান ও চাল কেনার দাম নির্ধারণ: ধান ৩৪ টাকায়, সিদ্ধ চাল ৫০ টাকায়
এ বছর আমন মৌসুমে সরকারের উদ্যোগে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে মোট ৭ লাখ মেট্রিক টন ধান ও চাল সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে সাড়ে ৫০ হাজার মেট্রিক টন ধান, ৬ লাখ মেট্রিক টন সেদ্ধ চাল এবং ৫০ হাজার মেট্রিক টন আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি কেজি আমন ধানের সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৪ টাকা, আর সেদ্ধ চাল কিনতে দেওয়া হবে ৫০ টাকা কেজি দরে। আতপ চালের দাম ঠিক করা হয়েছে ৪৯ টাকা কেজি। গত বছরের তুলনায়, এই দামে কিছুটা বাড়তি আয় হয়েছে, যেখানে কেজি প্রতি ধান ও চালের দাম ৪ টাকা বেশি দেওয়া হবে।
আগামী ২০ নভেম্বর থেকে সারাদেশের বিভিন্ন বাজারে ধান ও চাল সংগ্রহের কার্যক্রম শুরু করবে সরকার। এই সংগ্রহ অভিযান চলবে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
আজ রোববার (০৯ নভেম্বর) সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ সভাপতিত্বে এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, এই ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযান আগামী ২০ নভেম্বর থেকে শুরু হবে এবং ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলমান থাকবে। এর মাধ্যমে সরকার বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং কৃষকরা তাদের ফসলের উপযুক্ত মূল্য পেতে পারেন, এই আশা ব্যক্ত করেন তিনি।
-

সিআইডি চালাচ্ছে সালমান-বেক্সিমকো সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ১৭ মামলার চার্জশিট
বিদেশি বাণিজ্যের আড়ালের মাধ্যমে ৯৭ মিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগে বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান ও তার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ১৭টি মানিলন্ডারিং মামলার অভিযোগপত্র দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ, অর্থাৎ সিআইডি। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই মামলাগুলোর তদন্তের প্রক্রিয়ায় শক্তিশালী প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হবে।
সিআইডির মিডিয়া শাখা থেকে এ সংক্রান্ত তথ্য নিশ্চিত করা হয়। অভিওেগপত্রের এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য রোববার (৯ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় মালিবাগের সিআইডি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে বিস্তারিত তথ্য ও ব্যাখ্যা প্রদান করা হবে। সিআইডির কর্মকর্তারা বলছেন, মামলাগুলোর গুরুত্ব ও ব্যাপকতা বিবেচনা করে তারা দ্রুত এগিয়ে যেতে চান।
