Month: November 2025

  • প্রাইজবন্ডের ১২১তম ড্র: প্রথম পুরস্কার জিতেছেন ০১০৮৩৩১ নম্বর

    প্রাইজবন্ডের ১২১তম ড্র: প্রথম পুরস্কার জিতেছেন ০১০৮৩৩১ নম্বর

    বাংলাদেশের প্রাইজবন্ডের ১২১তম ড্র সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই ড্রয়ে প্রথম পুরস্কার হিসেবে ৬ লাখ টাকা জিতে নিয়েছেন নম্বর ০১০৮৩৩১। দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা, যা এসেছেঃ ০১৫৬৮৯৭। এছাড়া, তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে ১ লাখ টাকা করে দু’টি নম্বর নির্ধারিত হয়েছে; এরা হলেন ০০৫৬৩৬২ ও ০৪৫৩৬৬৮। চতুর্থ পুরস্কার হিসেবে ৫০ হাজার টাকা করে পেয়েছে দুই নম্বর, যথাক্রমে ০৯১২৪৪৪ ও ০৯৮৩৫৭২।

    ঢাকার বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে রোববার এই ড্র অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ ব্যাংক, সঞ্চয় অধিদপ্তর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    অর্থনীতির নিয়ম অনুসারে, ১০ হাজার টাকার পঞ্চম পুরস্কারের জন্য ৪০টি নম্বর ঘোষণা করা হয়। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু নম্বর হলোঃ ০০১৩৩৮৬, ০০১৪৯৯২, ০০২৮১৮৩, ০০৫৩২২৬, ০১১৯০৬৯, ০১৬৮৮৭৩, ০২৪৪০৭৪, ০২৫৭৫৯৪, ০২৬৫৯৩৮, ০২৯২৯৪১, ০২৯৬৪২৯, ০৩২৭৯১০, ০৩৪০৪০৭, ০৩৪৯৩১৫, ০৩৫৫২০৬, ০৩৬৭৫২৯, ০৩৬৯১১৭, ০৪১৭৭২৮, ০৪২৫৬৮৩, ০৫০১০৪৩, ০৫১৫৫৪২, ০৫৪৯৫২১, ০৫৬৫৯৩৬, ০৬০২২৬৫, ০৬২০২৫৯, ০৬২৪৭১৮, ০৬৭৪৩৪৪, ০৭১২৭৪০, ০৭৫৯০৫৯, ০৭৬৯৩৯২, ০৭৮২৭২৮, ০৭৯১৪২৮, ০৭৯৯৭৩২, ০৮২১৬৭৭, ০৮৬৫১২২, ০৯০৩৩৯২, ০৯০৪৩৫২, ০৯২২১৮০, ০৯৩৬৬১৭ ও ০৯৮৫৯৫২।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৩ হাজার ৮১৮টি প্রাইজবন্ডের মধ্যে ৪৬টি টিকিট পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। ড্রয়ের পরের ৬০ দিনের মধ্যে পুরস্কার দাবি করতে হবে; এই সময় সীমা অতিক্রান্ত হলে দাবি গ্রহণযোগ্য হবে না।

    ২০২৩ সালের সংশোধিত নীতিমালা অনুযায়ী, প্রাইজবন্ডের পুরস্কারের উপর ২০ শতাংশ কর দিতে হয়।

  • কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত: পাঁচ শরিয়াহ ব্যাংককে অকার্যকর ঘোষণা

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত: পাঁচ শরিয়াহ ব্যাংককে অকার্যকর ঘোষণা

    আর্থিক পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার কারণে শরিয়াভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংককে জরুরি ভিত্তিতে মার্জার বা একীভূত করে নতুন গভর্নমেন্ট মালিকানাধীন ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেন কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই ব্যাংকগুলো হলো— ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি, এক্সিম ব্যাংক পিএলসি এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি। বুধবার (৫ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংক তাদেরকে এই সংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়েছে, যার মাধ্যমে পরিচালনা পর্ষদ কার্যক্রম ৫ নভেম্বর থেকে স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোকে ব্যাংক রেজোিউশন অধ্যাদেশের আওতায় পরিচালনা করা হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার শেষে একটি নতুন সরকারি মালিকানাধীন ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হবে, যার নাম হবে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’। এ জন্য আজই ব্যাংকগুলোর পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সরকার এই পদক্ষেপের অংশ হিসেবে উভয় পক্ষের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করছে। গ্রাহকদের তথ্য জানানোর জন্য আজ বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এক সংবাদ সম্মেলনে আলোচ্য বিষয়ে বিস্তারিত জানাবেন। গত এক বছরের বেশি সময় ধরে এই ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা খুবই নাজুক হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বিশাল তারল্য সংকট, শ্রেণিকৃত ঋণের অঙ্কে প্রবল বৃদ্ধি, প্রভিশন ঘাটতি ও মূলধন কমতির কারণে এই ব্যাংকগুলো কার্যত দেউলিয়া হয়ে পড়েছে। অনেকবার তারল্য সহায়তা দেওয়ার পরেও তাদের আর্থিক অবস্থা উন্নতি পায়নি, বরং শেয়ার বাজারে মূল্য মারাত্মকভাবে পতিত হয়েছে এবং নিট সম্পদ মূল্য বা নেট অ্যাসেট ভ্যালু (এনএভি) ঋণাত্মক অবস্থায় রয়েছে। এই ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও গ্রাহকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

  • পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের বোর্ড বাতিলের কারণে গ্রাহকদের সেবা অব্যাহত থাকবে

    পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের বোর্ড বাতিলের কারণে গ্রাহকদের সেবা অব্যাহত থাকবে

    বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের বোর্ড বাতিল হলেও গ্রাহকসেবায় কোনো বিঘ্ন ঘটবে না। ব্যাংকগুলোর পেমেন্ট, রেমিট্যান্স, এলসিসহ সব ধরনের কার্যক্রম আগের মতোই অব্যাহত থাকবে। বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    গভর্নর এও উল্লেখ করেন, যদিও ব্যাংকের বোর্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে, তবুও দৈনন্দিন কার্যক্রম বন্ধ হবে না। অর্থাৎ, পেমেন্ট, রেমিট্যান্স, এলসি সহ সব ব্যাংকিং কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চালু থাকবে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে ব্যবসায়িক কার্যক্রম ধরে রাখা এবং ধাপে ধাপে পাঁচ ব্যাংকের সম্পদ ও আইটি সিস্টেম একীভূত করে একটি শক্তিশালী সংস্থা গঠন করা।

    তিনি জানান, এই পাঁচ ব্যাংকের মোট শাখা সংখ্যা ৭৫০টি, যেখানে লাখ লাখ আমানতকারী যুক্ত আছেন। লিকুইডেশন এড়ানোর জন্য প্রথম ধাপেই কাঠামোগত ও প্রযুক্তিগতভাবে এই ব্যাংকগুলোকে একত্রীকরণ করা হচ্ছে।

    গভর্নর আরও বলেন, ‘নন-ভায়েবল’ বা টেকসই নয় এমন ব্যাংকগুলোতে পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে সেখানে অস্থায়ী প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে। সকালে ব্যাংকগুলোর কোম্পানি সেক্রেটারিকে ‘নন-ভায়েবিলিটি’ নোটিশ পাঠানো হয়েছে, যার ফলে এখন আর কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তাদের নেই।

    একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, এই ব্যাংকগুলো একীভূত হলে দেশটির সবচেয়ে বড় শরিয়াহ ব্যাংক হবে এবং এর পেইড-আপ ক্যাপিটাল হবে ৩৫ হাজার কোটি টাকা, যা বর্তমানে দেশের সব ব্যাংকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। গভর্নর নিশ্চিত করেছেন, এটি সরকারি মালিকানাধীন হলেও পরিচালনা হবে একটি বেসরকারি ব্যাংকের মতো। পেশাদার ব্যবস্থাপনা, বাজারভিত্তিক বেতন কাঠামো এবং পৃথক শরিয়াহ বোর্ড গঠন করা হবে। তিনি বলেন, ইসলামিক ব্যাংকিং বাংলাদেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ বলেও তিনি বিশ্বাস করেন।

    শেয়ারহোল্ডারদের বিষয়ে গভর্নর বলেন, তাদের ইকুইটির মূল্য বর্তমানে নেগেটিভ। ফলে শেয়ারের মূল্য শূন্য বিবেচনা হবে এবং কাউকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না।

    আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, সাধারণ আমানতকারীরা দুই লাখ টাকার পর্যন্ত সকল টাকা সম্পূর্ণভাবে তুলতে পারবেন। বড় অঙ্কের আমানতের ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে তুলতে পারবেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে জানানো হবে। তবে, সব Depositorsকে তিনি অনুরোধ করেন প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ তোলার জন্য, উদ্বেগে না পড়ে।

    প্রায় দিনের শেষে, তিনি জানিয়েছেন, দেশের স্বার্থে সরকার যদি পরিবর্তন হয়, তাহলে এই প্রক্রিয়াও বন্ধ হবে না। দেশের স্বার্থটাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে।

    অপরদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষণা করেছে যে অর্থনৈতিক দুর্বলতার কারণে শরিয়াহ ভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংক মার্জ বা একীভূত করার জন্য এগুলোর পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং ব্যাংকগুলো অকার্যকর ঘোষণা করা হয়েছে। এই ব্যাংকগুলো হলো: ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, গ্লোবাল ইসলামি ব্যাংক পিএলসি, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি, এক্সিম ব্যাংক পিএলসি এবং সোশ্যাল ইসলামি ব্যাংক পিএলসি।

    বুধবার এই ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংক এক চিঠিতে এর বিষয়টা নিশ্চিত করেছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, ৫ নভেম্বর থেকে এই ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ কার্যক্রম বন্ধ থাকবে এবং তারা ব্যাংক রেজোলিউশনের (সমাধান) প্রয়োজনীয় বিধান অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, এই ব্যাংকগুলোকে একীভূত করে একটি নতুন রাষ্ট্রের মালিকানাধীন ইসলামি ব্যাংক গঠন করা হবে, যার নাম ‘সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংক’। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আজকে তারা পরিচালনা পরিষদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

    এদিকে, বুধবার এই ব্যাংকগুলোকে তাদের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)-কে জরুরি তলব করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আসন্ন বৈঠকে তাদের ব্যাখ্যা ও অস্থায়ী ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হবে। এর আগের দিনগুলোতে ব্যাংকের কোম্পানি সচিবগণ বিষয়গুলো পর্যালোচনা করেছেন।

    অতীত বছরগুলোতে, ৯ অক্টোবর ব্যাংকের অনুমোদন দেয়া হয় সরকারি মালিকানাধীন ইসলামি ব্যাংক গঠনের জন্য। এর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের উপদেষ্টা পরিষদ, এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সুপারিশের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

    গত এক বছর ধরে, ব্যাংকগুলো নানা সংকটের মধ্যে রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছে তরলতার সংকট, বিশাল পরিমাণ শ্রেণিকৃত ঋণ, প্রোফিশিয়েন্সি ঘাটতি এবং মূলধনের দুর্বলতা। এসব কারণে ব্যাংকগুলো কার্যত দেউলিয়া পর্যায়ে পৌঁছেছে। বারবার অর্থসাহায্য দেওয়া সত্ত্বেও এই ব্যাংকগুলোর পরিস্থিতি উন্নতি হয়নি। বরং শেয়ার বাজারে মূল্য কমে গেছে এবং তাদের নেট অ্যাসেট ভ্যালু (নেভি) নেতিবাচক অবস্থানে পৌঁছেছে।

  • পাঁচ ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন স্থগিত করল ডিএসই ও চিটস্টক

    পাঁচ ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন স্থগিত করল ডিএসই ও চিটস্টক

    ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) আজ বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি তাদের únীয় সম্প্রীতি ও একীভূত করার প্রক্রিয়া চালু থাকায় নেওয়া হয়েছে, যার ফলে এখন থেকে এসব ব্যাংকের শেয়ারবাজারে লেনদেন বন্ধ থাকবে।

    ডিএসই ও সিএসই নিজস্ব ওয়েবসাইটে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এই ব্যাংকগুলোর শেয়ার লেনদেন বন্ধ থাকবে। শেয়ার লেনদেন স্থগিতের এই তালিকায় রয়েছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক (এসআইবিএল), এক্সিম ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক।

    এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল কারণ হিসেবে ডিএসই জানিয়েছে, ব্যাংক রেজোলিউশন নিয়ন্ত্রক বা ব্যাংক রেজোলিউশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ধারা ১৫ অনুযায়ী, ৫ নভেম্বর থেকে এই ব্যাংকগুলো অ-কার্যকর হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এর মানে এই ব্যাংকগুলো এখন আর কার্যক্রমে থাকছে না।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছে, ৫ নভেম্বর তারা ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে যে, ব্যাংক রেজোলিউশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ অনুসারে তাদের পরিচালনা চালাতে হবে। পাশাপাশি, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদও ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

    গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, এই পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারদের ইকুইটির মূল্য এখন শূন্যের নিচে। ফলে, এই শেয়ারের মূল্য বিনা মানে হিসেবে বিবেচিত হবে এবং কেথাও ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না।

    অর্থাৎ, এই ব্যাংকগুলোতে সাধারণ বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তাদের মালিকানার অবস্থা গুরুতররূপে দুর্বল। বিভিন্ন ব্যাংকের কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোর শেয়ার সংখ্যা ও বিনিয়োগকারীদের মালিকানার পরিমাণ বিশ্লেষণ করে দেখা গেল, বেশিরভাগ শেয়ার এখন মূল্যহীন বলে গণ্য হবে।

    উদাহরণস্বরূপ, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের মূলধনের ১,২০৮ কোটি টাকার বিপরীতে ১২০ কোটি ৮১ লাখ শেয়ার রয়েছে, যার মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীর অংশ ৬৫ শতাংশের বেশি। গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রে পরিমাণ ৯৮৭ কোটি টাকার মূলধন থাকলেও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মালিকানা মাত্র ৩২ শতাংশ। অন্যদিকে, ইউনিয়ন ব্যাংকের ক্ষেত্রে ১,৩৬২ কোটি টাকার মূলধনের বিপরীতে ১০৩ কোটি ৬৩ লাখ শেয়ার রয়েছে, যার মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীর মালিকানা প্রায় ৩২ শতাংশ।

    অন্যসব ব্যাংকের ক্ষেত্রেও একই রকম পরিস্থিতি দেখা গেছে, যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মালিকানা বড় অংশে এবং উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের অংশ কমে গেছে। এতদুভাবে, এই ব্যাংকগুলোর এ ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় বিনিয়োগকারীরা যেন তার কোনো ক্ষতিপূরণ পাবে না, সেটাও নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

  • দুর্বল ৫ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডাররা ক্ষতিপূরণ পাবেন

    দুর্বল ৫ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডাররা ক্ষতিপূরণ পাবেন

    বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ (বিআরও ২০২৫) অনুযায়ী পাঁচটি সমস্যাাপন্ন ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডাররা ক্ষতিপূরণ পাবেন। বাংলাদেশের ব্যাংক প্রসেসে একীভূতকরণ বা রেজল্যুশন প্রক্রিয়া চলাকালে যদি কোনো ব্যাংক শেষ পর্যন্ত লিকুইডেশনের (পরিসমাপ্তি) আওতায় আসে এবং এর ফলে শেয়ারহোল্ডাররা রেজল্যুশনের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ পাবেন, তবে এটি নির্ধারণের জন্য পৃথক একটি মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠানের সাহায্য নেওয়া হবে। সেই প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় রেজল্যুশন প্রক্রিয়া শেষে নিয়োগ দেওয়া হবে। এছাড়া, সরকার ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী বা শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষার জন্য বিশেষ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করতে পারে। ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ আন্তর্জাতিক মানের অনুশীলনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে করা হয়েছে, যেখানে আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থা like IMF, World Bank এবং OECD-এর পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা গ্রহণ করা হয়েছে। এই অধ্যাদেশে রেজল্যুশনের আওতায় থাকা ব্যাংকের দাবিদার, যেমন আমানতকারী ও শেয়ারহোল্ডারদের অধিকার স্পষ্টভাবে নির্ধারিত। বিশ্বস্ত আর্থিক বিশ্লেষণ সংস্থা ‘ইকুয়েটর’ এর বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে, বর্তমানে রেজল্যুশন প্রক্রিয়াধীন ব্যাংকগুলো অনেক ক্ষতির মুখে, তাদের নিট সম্পদমূল্য (নিট অ্যাসেট ভ্যালু বা ভিএভি) ঋণাত্মক। এই পরিস্থিতি বিবেচনায়, ব্যাংকিং সেক্টর ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিটি (বিসিএমসি) গত ২৪ সেপ্টেম্বর এক সভায় সিদ্ধান্ত নেয় যে, এই পাঁচটি ব্যাংকের সমস্যাগ্রস্ত শেয়ারহোল্ডাররা রেজল্যুশনের মাধ্যমে ব্যাংকের ক্ষতির ভার বহন করবেন। নির্দিষ্ট আইন ও নীতিমালা অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন অংশীদার যেমন শেয়ারহোল্ডার, দায়ী ব্যক্তি, অতিরিক্ত টিয়ার ১ এবং টিয়ার ২ মূলধনধারীর ওপর ক্ষতি আরোপ করার ক্ষমতা রাখে। বর্তমান পরিস্থিতিতে, এই পাঁচ ব্যাংকের একীভূতকরণ প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট আইনি বিধান ও সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাধারণ বিনিয়োগকারী বা শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষা করা এখনো সম্ভব নয়। তবে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী ও শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করতে পারে।

  • ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের প্রগতির মাইলফলক: মির্জা ফখরুল

    ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের প্রগতির মাইলফলক: মির্জা ফখরুল

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ১৯৭৫ সালের এই দিনে বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘোরে। তিনি বলেন, দেশের প্রেমিক সৈনিক ও সাধারণ মানুষের ঐক্যবদ্ধতা দিয়ে দেশের অন্যতম প্রিয় নেতা, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দি অবস্থা থেকে মুক্তি দেয়া হয় এবং দেশের পরিচালনার দায়িত্ব.assign করা হয়।

    তিনি উল্লেখ করেন, এটি ছিল বাংলাদেশের প্রগতির এক সৃষ্টি পয়েন্ট। জিয়াউর রহমান শেখ মুজিবুর রহমানের একদলীয় বাকশাল শাসন ব্যবস্থাকে পরিবর্তন করে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন, বিচার বিভাগকে স্বাধীন করেন এবং জনগণের অধিকার নিশ্চিত করেন।

    আজ, ঐতিহাসিক বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে, শুক্রবার (০৭ নভেম্বর), জাতীয় শেরেবাংলা নগরে বিএনপির নেতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে এ সব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

    মির্জা ফখরুল বলেন, জিয়াউর রহমান তার চতুর্থ বছরেই দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার করেন। তিনি একদলীয় শাসন ব্যবস্থাকে পরিহার করে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যান এবং সংবাদপত্রের মুক্তি নিশ্চিত করেন। পাশাপাশি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে বিচার বিভাগীয় কাঠামো শক্তিশালী করেন, জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করেন এবং মুক্তবাজার অর্থনীতি চালু করেন। তাঁর এই ভিত্তির ওপর থাকতে গিয়ে পরবর্তীতে বাংলাদেশ উন্নতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে গেছে। তাই আজকের দিনটি শুধু বিএনপির জন্য নয়, বাংলাদেশে গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তীতে বাংলাদেশে নানা চক্রান্তের খবর উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেছেন, ৭ই নভেম্বরের বিপ্লব ও সংহতি দিবস আমাদেরকে সেই পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা দেয়, যেখানে সত্যিকারের গণতন্ত্র ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। জনগণের ভোটাধিকার, বিচারসংস্থানের অধিকার রক্ষা করে দেশের অগ্রগতি সম্ভব হবে।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আব্দুল মঈন খান, সালাহউদ্দিন আহমদ, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন প্রমুখ।

  • নাহিদ ইসলাম: জুলাই সনদে নোট অব ডিসেন্ট থাকবে না

    নাহিদ ইসলাম: জুলাই সনদে নোট অব ডিসেন্ট থাকবে না

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জানিয়েছেন, জুলাই সনদে কোনো নোট অব ডিসেন্ট থাকবে না। আমাদের সঙ্গে যা সম্মতি হয়েছে, সেটাই থাকবে, আর জনগণ চাইলে বাকিটা ঠিক করবে। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সেগুলো বাস্তবায়িত হবে, এটাই আমাদের আশা। তিনি বিশ্বাস করছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে জুলাই সনদে আইনি ভিত্তি স্থাপনের মাধ্যমে আগামী নির্বাচন এগিয়ে যাবে।

    নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, আমরা গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাব। শুক্রবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সম্মেলন কক্ষে ইউনিভার্সিটি টিচার্স ফোরামের (ইউটিএফ) আত্মপ্রকাশ ও আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন।

    তিনি আরো বলেছিলেন, আগামী নির্বাচনে গণ-অভ্যুত্থানে যারা অংশ নেবে, তাদের সবাইকে সংসদে থাকতে হবে। সংসদে ব্যবস্থাপনা ও সংস্কার পরিষদ গঠন করা হবে, যেখানে নতুন সংবিধানের জন্য কাজ চলবে। শিক্ষকদের অবশ্যই এই প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করা জরুরি, এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি সেই বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য কাজ করবে।

    নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতের সংসদ ও সংস্কার পরিষদের সভায় তরুণ সমাজ, শিক্ষক, আলেম, নারী, সংখ্যালঘু ও বিভিন্ন পেশাজীবী একজনের মতো মিলেই আমরা যে জুলাই সনদের পথে রয়েছি, সেই বাস্তবায়নে এগিয়ে যাবো। তার আগে অবশ্যই আমাদের দাবি, গণভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদের ভিত্তিতে এই অর্ডারটি ড. মোহাম্মদ ইউনূসের হাতে দিয়ে দিতে হবে।

    আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন ইউনিভার্সিটি টিচার্স ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. সিরাজুল ইসলাম ও সদস্য সচিব অধ্যাপক শামীম হামিদী।

  • মির্জা ফখরুলের অভিযোগ: সরকার নির্বাচন ব্যাহত করতে নিজেই পরিস্থিতি তৈরি করছে

    মির্জা ফখরুলের অভিযোগ: সরকার নির্বাচন ব্যাহত করতে নিজেই পরিস্থিতি তৈরি করছে

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারকে পুরোপুরি সমর্থন দিয়ে আমরা আশা করেছিলাম দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষা করবেন তারা। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তারা নিজেরাই এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে যাতে নির্বাচন ব্যাহত হতে পারে। আজ শুক্রবার (৭ নভেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত র্যালির পূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

    সন্ধ্যা ৪টার দিকে নয়াপল্টন থেকে শুরু হয় এই র্যালি, যা কাকরাইল, মালিবাগ, বাংলামোটর হয়ে সোনারগাঁও হোটেলের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সমাবেশের জন্য কার্যালয়ের সামনে একটি অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করা হয়।

    মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের দুর্ভাগ্য যে, যারা অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন দিয়েছি, তারা আজ নিজেই নির্বাচন ব্যাহত করার জন্য নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তিনি বলেন, এই রাজনৈতিক জোটগুলো গণভোটের জন্য চাপ চাপ দিচ্ছে, যা স্পষ্টতই নির্বাচন নস্ট করার ষড়যন্ত্র। তিনি আরও বলেন, গণভোট হলে নির্বাচনের দিনই তা হতে হবে, কোনও পূর্বঘোষণার প্রয়োজন নেই। কারণ, দুটি ভোটের জন্য বহু অর্থের প্রয়োজন হবে, যা অপ্রয়োজনীয়।

    অন্য এক বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ঐক্যবদ্ধভাবে ইতোমধ্যে ঐক্য গড়ে তুলেছে, তবে কিছু অসৎ দলের ষড়যন্ত্রের কারণে পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে। তিনি বলেন, বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে দাবি করছে যে, ভোটের আগেই গণভট হতে হবে। তিনি স্পষ্ট করেন, গণভোট নির্বাচন এরই মধ্যে হওয়া উচিত, এটা পরিকল্পিতভাবে নয়।

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে একগুচ্ছ গণতান্ত্রিক সংস্কারমূলক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, এই সংস্কার কার্যপ্রতিষ্ঠায় অন্তর্বর্তী সরকার সহযোগিতা করলে বিএনপি তাদের পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। তারা প্রায় এক বছর ধরে সংস্কারমূলক কাজ চালিয়ে গেছে, বিভিন্ন দলের সঙ্গে ঐকমত্যের ভিত্তিতে ১৭ অক্টোবর একসময়ে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন।

    অন্যদিকে, কিছু সিদ্ধান্তের বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, একদল উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য প্রেস কনফারেন্স করে জানিয়ে দেন যে, তাদের সিদ্ধান্ত হয়েছে— রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য সাত দিন সময় নির্ধারণ করা হবে। এতে চরম বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়, কারণ এত দীর্ঘ সময়ের মধ্য দিয়ে ইতিমধ্যে বৈঠকে অংশ নেওয়া দলের প্রতিনিধিরা কাজ করেছিলেন। তিনি জোড়ালোভাবে বলেন, সব টাকা-খরচের পরও কোনো ফলাফল আসেনি, যা মূলত রাজনৈতিক অচলাবস্থা সৃষ্টি করছে।

    সর্বশেষ, প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় র‌্যালির পূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হকসহ অন্যান্য নেতারা বক্তব্য রাখেন।

  • বিএনপি গণভোটে আলোচনা করতে রাজি নয়, জামায়াতের হামিদুর রহমানের দাবি

    বিএনপি গণভোটে আলোচনা করতে রাজি নয়, জামায়াতের হামিদুর রহমানের দাবি

    গণভোটের পরিকল্পনা সম্পর্কে অপ্রতীক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে এটি কি নির্দিষ্ট সময়ে বা নির্বাচনের আগের দিন অনুষ্ঠিত হবে, এবং জুলাই মাসে সনদ বাস্তবায়নের রূপরেখা কীভাবে নির্ধারণ হবে—এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে স্পষ্ট জানাতে আপ্রাণ চেষ্টা করছে অন্তর্বর্তী সরকার। তবে এই বিশেষ ইস্যুতে বিএনপি আলোচনায় বসতে রাজি নন, এমনটাই জানিয়েছেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।

    শনিবার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে এক বিশেষ সংলাপে অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি বলেন, গণভোট নিয়ে আলোচনা করতে তারা প্রস্তুত, কিন্তু বিএনপি এতে আগ্রহী নয়। হামিদুর রহমান বলেন, আমরা বিএনপি মহাসচিবের সঙ্গে আলোচনা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তারা জানিয়েছে, তারা আমাদের সঙ্গে আলোচনা করবে না। তারপরও আমরা যেকোনো সময় আলোচনা করতে প্রস্তুত রয়েছি, প্রয়োজন হলে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোকেও এ আলোচনায় যুক্ত করতে চাচ্ছি।

    তিনি আরও জানান, জুলাই সনদ স্বাক্ষরিত হয়েছে, তবে তার বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। যখন জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সরকারের কাছে সুপারিশ পাঠায়, তখনই বিরোধ সৃষ্টি হয়।

    নেতাকর্মীদের সাথে সংলাপ ও জনমত প্রকাশের গুরুত্বে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সংলাপ ও জনমত দুটোই অপরিহার্য। আলোচনাই একমাত্র পথ নয়—অর্থাৎ, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আলোচনা চালিয়ে যাওয়া এবং মানুষের বাকস্বাধীনতা বজায় রাখা জরুরি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তারা কোনো ভয়াবহতা বা সহিংসতা করছে না।

    গণভোটের আয়োজন ও পরিকল্পনা সম্পর্কিত প্রশ্নে তিনি বলেন, সাধারণত নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রে ভিপি, বা দখলের প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। একই দিনে দুইটি ভোট নেওয়া গেলে সময়ের ব্যাপারটি জটিল হয়ে দাঁড়াবে, ফলে ভোট গণনা কম হয়ে যেতে পারে। এরপর বলবেন, জনগণ জুলাই মাসের চার্টারকে সমর্থন করেনি।

    তিনি আরও মন্তব্য করেন, বর্তমানে দেশের প্রশাসন পুরোনো ফ্যাসিবাদী আমলের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। জনগণের আস্থা এখনো পুনরুদ্ধার হয়নি। সুতরাং, গণভোটের মাধ্যমে জনগণের আস্থা ফিরলে পরবর্তী নির্বাচন আরও গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠবে বলে তিনি মনে করেন।

  • জনমত গঠনে রাজপথে জামায়াত: হামিদুর রহমান

    জনমত গঠনে রাজপথে জামায়াত: হামিদুর রহমান

    জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, জামায়াত কোনও প্রেশার গ্রুপ নয়, বরং জনগণের মতামত ও প্রত্যাশা ব্যক্ত করতে রাজপথে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমরা মতভিন্নতা মেনে নিতে পারি, তবে মতবিরোধের রাজনীতি চাই না। আজ শনিবার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘নির্বাচনী ইশতেহারে প্রযুক্তির ব্যবহার’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এই মন্তব্য করেন।

    হামিদুর রহমান বলেন, আমরা বিশ্বাস করি যে ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জনগণের ইচ্ছা ও অভিপ্রায়ের ভিত্তিতে এক সুন্দর ও পরিবর্তনশীল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমরা এগুচ্ছি। সেই লক্ষ্যে রাজনৈতিক সংস্কারে গুরুত্ব দিতে হবে।

    তিনি জানিয়েছেন, কিছু নোট অব ডিসেন্ট সহ সনদ স্বাক্ষরিত হয়েছে, তবে বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া সনদের বাইরে, ফলে সেখানে মতবিরোধ প্রকাশ পায়নি। তবে বাস্তবায়নের সময় মতভিন্নতা দেখা দিয়েছে।

    তার ভাষায়, নির্বাচনের সময় নিয়ে কমিশনের পাঁজরা রয়েছে। গণভোটের দিন নির্বাচন যখন হয়, তখন নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে, যেমন ভোটগ্রহণ স্থগিত বা অনিশ্চয়তা। তিনি বলেন, মূলত নির্বাচনে বিজয়ই লক্ষ্য, কিন্তু সময়ে ভোট বন্ধ থাকলে ফলাফলের ওপর প্রশ্ন উঠতে পারে। তাই মূল্যায়ন করে নির্ভরযোগ্য ও সমঝোতামূলক ভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।

    জামায়াত নেতা বলেন, আমরা কি আবার ফ্যাসিবাদী সময়ের মতো সনদের অনিশ্চয়তা ফেরাতে চাই? গণভোটের আগে যদি প্রশাসন ও নির্বাচনী সংস্থাগুলি সঠিকভাবে কাজ করে, তা দেশের জন্য সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষার। এর মাধ্যমে জনগণ বিশ্বাসের সঙ্গে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

    তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে দেশের জনগণের আস্থা খোয়া গেছে, এখন সেই আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ২৭ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে বিদেশে, অথচ জনস্বার্থে এক থেকে দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে গণভোটের চেষ্টা অপচয় নয় বলেও দৃঢ় বক্তব্য দেন।

    বিএনপি ও জামায়াতের সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াতের আহ্বানে বিএনপি বসতে রাজি হয়নি। তিনি আরও বলেন, আমরা চাইনি রাজনীতি আবার ফ্যাসিবাদী চর্চায় ফিরে যাক। তবে, বিএনপি চাইলে আলোচনায় বসতে আমরা প্রস্তুত।

    হামিদুর রহমান যোগ করেন, জামায়াত সব সময়ই আলোচনা চালিয়ে গেছে। পাশাপাশি, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও রুচির কথা বলেও মত প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, আমরা সহিংসতা সমর্থন করি না, বরং পূর্ণ রাজনীতির ধারায় থাকি।

    তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা সম্পর্কে তিনি বলেন, নব্বইয়ের তিন জোটের রূপরেখা বাস্তবায়িত হয়নি। পরিবর্তন আনা একান্ত প্রয়োজন। তরুণরা কী চায়, সেটিও বুঝতে পেরেছি—তাদের জন্য ভবিষ্যতের দিশা উন্মুক্ত করতে হবে।