Month: November 2025

  • প্রখ্যাত নির্মাতা লি তামাহোরি আর নেই

    প্রখ্যাত নির্মাতা লি তামাহোরি আর নেই

    নিউজিল্যান্ডের খ্যাতনামা চলচ্চিত্র নির্মাতা ও জেমস বন্ড সিরিজের মর্যাদাপূর্ণ সিনেমা ‘ডাই অ্যানাদার ডে’ এর পরিচালক লি তামাহোরি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। দ্য গার্ডিয়ান সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, শুক্রবার (৭ নভেম্বর) তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। তার পরিবারের পক্ষ থেকে রেডিও নিউজিল্যান্ড নিশ্চিত করেছে যে, দীর্ঘদিন পারকিনসনের রোগে ভুগে তিনি বাড়িতেই শান্তিপূর্ণভাবে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

    পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তার রেখে যাওয়া কীর্তি ও দ্যুতি তার সন্তান-সন্ততি ও নাতি-নাতনিদের মধ্যে জীবিত থাকবে। তিনি যে নির্মাতাদের অনুপ্রেরণা ছিলেন, যারা সাহসিকতা ও মনোযোগ দিয়ে গল্প বলতেন, তাদের মধ্যে তিনি অন্যতম। লি তামাহোরি ছিলেন দৃঢ়চেতা এক নেতা ও অসাধারণ সৃজনশীল একজন। তিনি পর্দার সামনে ও পেছনে মাওরি প্রতিভাদের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

    লি তামাহোরি ১৯৫০ সালে ওয়েলিংটনে জন্মগ্রহণ করেন। তার মাওরি ও ব্রিটিশ সূত্রে পুষ্ট। সত্তর ও আশির দশকে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের চলচ্চিত্র শিল্পে কাজ শুরু করেন। তিনি জিওফ মারফির জনপ্রিয় সিনেমা ‘গুডবাই পার্ক প্লেস’ ও ‘দ্য কোয়াটার আর্থ’ এর ক্রু হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। এছাড়াও, নাগিসা ওশিমার আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সিনেমা ‘মেরি ক্রিসমাস’ ও ‘মিস্টার লরেন্স’-এ তিনি প্রথম সহকারী নির্মাতা হিসেবে কাজ করেছেন।

    তাঁর পরিচালনায় প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ওয়ান্স ওয়ার রয়্যার্স’ ১৯৯৪ সালে মুক্তি পায়, যা সেই বছর নিউজিল্যান্ডের অন্যতম সফল সিনেমা হয়ে ওঠে। এর পর থেকে তিনি ‘মুলহল্যান্ড ফলস’, ‘দ্য এজ’, ‘অ্যালং কীম আ স্পাইডার’ সহ আরও বেশকিছু হলিউড সিনেমা পরিচালনা করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খ্যাতি অর্জন করেন।

    ২০০২ সালে পিয়ার্স ব্রসনানের সাথে তিনি জেমস বন্ড সিরিজের ‘ডাই অ্যানাদার ডে’ সিনেমা পরিচালনা করেন, যা তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সাফল্যের শিখরে পৌঁছে। হলিউডি অভিষানের পরে তিনি আবার নিউজিল্যান্ডে ফিরে যান এবং ‘মাহানা’ ও সাম্প্রতিক সিনেমা ‘দ্য কনভার্ট’ পরিচালনা করেন, যেখানে গাই পিয়ার্স ব্রিটিশ মিশনারির চরিত্রে অভিনয় করেন।

    লি তামাহোরির মৃত্যু দেশের সিনেমা জগতের জন্য অপূরণীয় এক ক্ষতি, তার অসাধারণ সৃজনশীলতা ও আইকনিক নির্মাণ কীর্তিও চিরদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

  • ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুর গুঞ্জনে স্ত্রীর কড়া উত্তর: যা ঘটছে তা ক্ষমার অযোগ্য

    ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুর গুঞ্জনে স্ত্রীর কড়া উত্তর: যা ঘটছে তা ক্ষমার অযোগ্য

    বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা ধর্মেন্দ্রর শারীরিক অবস্থা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। প্রবীণ এই তারকা বর্তমানে ভেন্টিলেশনে থাকলেও হাঁটু-পা শক্ত হয়ে যাওয়া ও তার অসুস্থতার গুজব ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে, যা নিয়ে সাধারণ দর্শকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। হঠাৎ এই ভুয়া খবরের কারণে দুঃখ প্রকাশ করেন ধর্মেন্দ্রর পরিবারের সদস্যরা।

    অবশেষে তার স্ত্রী হেমা মালিনী এবং মেয়ে এষা দেওল এ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই খবর সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন এবং অপ্রাংক্তেয়। তারা বলেন, এটি সত্যিই ক্ষমার অযোগ্য একটি ঘটনা। তার স্ত্রী কড়া ভাষায় উল্লেখ করেন, তাদের একার ব্যক্তিগত জীবন ও পরিস্থিতি নিয়ে এ ধরনের গুজব ছড়ানো খুবই অনুচিত ও দায়িত্বজ্ঞানহীন।

    একই সঙ্গে, ধর্মেন্দ্রর কন্যা এষা দেওল তার অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম পোস্টে জানান, তার বাবার অবস্থা স্থিতিশীল এবং তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। এ আশ্বাস দিয়ে তিনি সকলকে অবগত করেন যে, তারা যেন তাদের পরিবারের গোপনীয়তা বজায় রাখেন। এষা আরো বলেন, ‘ভুয়ো খবর ছড়ানো হচ্ছে। আমার বাবার শারীরিক অবস্থা ভালো, তিনি চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন। সবাইকে অনুরোধ করব, আমাদের পরিবারের গোপনীয়তা সম্মান করুন এবং ভুল বুঝবেন না।’

    হেমা মালিনী আরও কঠোর ভাষায় বলেন, ‘এ ধরনের গুজব ক্ষমার অযোগ্য। কীভাবে মানুষ সত্য না জেনে এই ধরনের মিথ্যা খবর ছড়ায়, আমি বুঝতে পারছি না। এটি একটি অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীনতা এবং অসম্মানজনক পদক্ষেপ। সবাই আসুন, আমাদের পারিবারিক গোপনীয়তা রাখতে সহায়তা করি।’

    পরিবার প্রকাশ্যে নিশ্চিত করেছে যে, বলিউডের ‘হি-ম্যান’ হিসেবে পরিচিত ধর্মেন্দ্র বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন এবং চিকিৎসকর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সাড়া পাচ্ছেন। তারা সকলের উদ্দেশ্যে অনুরোধ করেছেন যেন ভুয়া খবর থেকে সাবধানে থাকেন এবং পরিবারিক গোপনীয়তার প্রতি সম্মান দেখান। সবার জন্য তাঁদের বার্তা, ‘আমরা আপনার সমর্থন, ভালোবাসা ও শুভকামনা কামনা করি। আপনারা দোয়া করবেন, তিনি দ্রুত সম্পূর্ণ স্বস্থ্য হন।’

  • ৩,৮০০ শিশুর হৃদয় সার্জারির খরচ বহন করে গিনেস বুকে পলক মুচ্ছলের নাম

    ৩,৮০০ শিশুর হৃদয় সার্জারির খরচ বহন করে গিনেস বুকে পলক মুচ্ছলের নাম

    কণ্ঠশিল্পীদের গিনেস বুকের ইতিহাস নতুন কিছু নয়। তবে এবার এই কৃতিত্ব আলাদা, কারণ বলিউডের জনপ্রিয় গায়িকা পলক মুচ্ছল এই স্বীকৃতি পেয়েছেন তার মানবতা ও সমাজসেবামূলক কাজের জন্য। তিনি ৩,৮০০ দুঃস্থ শিশুর হার্ট সার্জারির খরচ নিজেই বহন করে তাদের জীবন রক্ষার মাধ্যমে গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নিজের নাম লিখিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি লিমকা বুক অফ রেকর্ডস-এও স্থান করে নিয়েছেন।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছোট থেকেই নিজেকে মানবসেবায় উৎসর্গed করে চলেছেন পলক। তার নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘পলক পলাশ চ্যারিটেবল ফাউন্ডেশন’ ২০১১ সালে যাত্রা শুরু করে। শুরুতে খুব সহজভাবে এই উদ্যোগটি শুরু হলেও, নিজের শ্রম ও উৎসাহের মাধ্যমে এখন এটি তার জীবনসংলগ্ন মিশনে রূপ নিয়েছে। এই সংগঠনের মাধ্যমে তিনি এতগুলো শিশুর হৃদয় সম্পর্কিত জটিল রোগের চিকিৎসা সম্পন্ন করেছেন, যা তাকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও গিনেসের খেতাব এনে দিয়েছে।

    পলক বলেন, ‘আমি যখন ষষ্ঠ বা সপ্তম শ্রেণিতে পড়ি, তখন থেকেই দুস্থ শিশুদের প্রতি মনের আবেগ দেখিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিই। ছোটবেলাতেই আমি কার্গিল যুদ্ধে আহত সেনাদের জন্য সংগীতের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করেছিলাম। তখনই আমার মনে হয়েছিল, আমার অন্তরে কিছু করার আগ্রহ জেগেছে। এই মানসিকতা ধরে রেখেই আমি আজকের এই বড় স্বীকৃতি অর্জন করেছি। আমার এই কাজের প্রেরণা হলো সেই সব শিশুর জন্য, যারা চিকিৎসার খরচ বহন করতে অক্ষম।’

  • নিজ বাড়িতে অজ্ঞান হয়ে পড়লেন বলিউড অভিনেতা গোবিন্দ, হাসপাতালে ভর্তি

    নিজ বাড়িতে অজ্ঞান হয়ে পড়লেন বলিউড অভিনেতা গোবিন্দ, হাসপাতালে ভর্তি

    বলিউডের প্রবীণ ও জনপ্রিয় অভিনেতা গোবিন্দকে বুধবার ভোরের দিকে মুম্বাইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আনুমানিকভাবে মাথা ঘুরে যাওয়া এবং অচেতন হয়ে পড়ার পর দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানিয়েছেন অভিনেতার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও আইন উপদেষ্টা ললিত বিন্দাল। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে গোবিন্দ স্থிதিশীল এবং চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

    ললিত জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সকালে থেকে গোবিন্দ কিছুটা দুর্বলতা অনুভব করছিলেন। সন্ধ্যার দিকে এগারোটা থেকে বারোটা বাজতে না বাজতেই তিনি হঠাৎ দিকভ্রান্ত হয়ে পড়েন এবং অচেতন হয়ে যান। এরপর পারিবারিক চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি কিছু ওষুধ গ্রহণ করেন। রাত সাড়ে আটটা থেকে নয়টার মধ্যে ওষুধ খেয়ে বিশ্রাম নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার।

    তবে মধ্যরাতে আবারও তার শ্বাসকষ্ট ও মাথা ঘোরা শুরু হয়। তখন তিনি ললিতকে ফোন করে অবস্থা জানান। ললিত বলেন, ‘রাত ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে আমি তার বাসায় পৌঁছাই। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাই। রাত ১টার দিকে তাকে মুম্বাইয়ের ক্রিটিকেয়ার এশিয়া মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।’

    প্রথমে তাকে জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হলেও বর্তমানে তাকে সাধারণ কক্ষে স্থানান্তর করা হয়েছে। বেশ কয়েকটি পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে; তবে তার রেজাল্ট এখনও পাওয়া যায়নি। চিকিৎসকেরা রিপোর্ট পাওয়ার পরে নতুন সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানানো হয়েছে। তার সাথে কথা বলেও জানানো হয়েছে, তিনি এখন অনেকটা সুস্থ বোধ করছেন।

    অবশ্য, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সময় গোবিন্দের স্ত্রী সুনীতা আহুজা বা মেয়ে টিনা কেউই তার সঙ্গে ছিলেন না। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন জল্পনা থাকলেও ললিত স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘সুনীতা তখন এক বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন, তাই হাসপাতালে আসতে পারেননি। রাতেই তিনি ফিরে এলেন এবং হাসপাতালে উপস্থিত হয়েছেন। অন্যদিকে, তাদের মেয়ে টিনা তখন চণ্ডীগড়ে ছিলেন এবং দ্রুত বাইরো পথে ছাড়া ফিরছিলেন, সন্ধ্যার মধ্যে তিনি বাবার পাশে পৌঁছে যাবেন।’

    উল্লেখ্য, মাত্র একদিন আগে অভিনেতা ধর্মেন্দ্রকে দেখতে গিয়েছিলেন গোবিন্দ। সম্প্রতি ধর্মেন্দ্র ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে, গোবিন্দের দ্রুত সুস্থতার জন্য ভক্ত ও শুভাকাঙ্খীরা দোয়া করছেন।

  • হিরো আলমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা Issued

    হিরো আলমের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা Issued

    রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় হত্যা চেষ্টা, মারধর এবং ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে সাবেক স্ত্রী রিয়া মনির করা মামলায় আলোচিত কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম ও তার সহযোগী আহসান হাবিব সেলিমের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন। বুধবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ওয়াহিদুজ্জামান এ আদেশ দেন। মামলার বাদী রিয়া মনির আইনজীবী জিয়াউর রহমান চৌধুরী বলেন, আসামিরা জামিনের শর্ত ভঙ্গ করে আদালতে হাজিরা দিচ্ছিলেন না। এই কারণ দেখিয়ে তাদের জামিন বাতিলের জন্য আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এ বছরের ২৩ জুন দায়ের করা ওই মামলার এজাহার অনুসারে, বিভিন্ন মনোমালিন্য ঘটনায় হিরো আলম তার স্ত্রী রিয়া মনিকে পরিবারের সদস্যদের সামনেই বাসা থেকে বের করে দেন। পরে মীমাংসার জন্য হাতিরঝिल থানার কাছাকাছি একটি বাসায় ডেকে নিলে সেখানে অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১২ জনসহ আরও কয়েকজনের উপস্থিতিতে আসামিরা রিয়া মনিকে মারধর করেন এবং তার গলার স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেন। এই ঘটনায় রিয়া মনির পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ জানানো হয়।

  • তিনশ রানের লিডের পরে বাংলাদেশ ঘোষণা করল ইনিংস

    তিনশ রানের লিডের পরে বাংলাদেশ ঘোষণা করল ইনিংস

    দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ হওয়ার সময় বাংলাদেশ স্পষ্টভাবে এগিয়ে রয়েছি। বিশেষ করে, এখন তারা ১ উইকেটে ৩৩৮ রান সংগ্রহ করেছে। ব্যক্তিগত ১৬৯ ও ৮০ রান করে জয় ও মুমিনুল মাঠে নেমে আসেন। তবে, দুজন অবশ্যই নিজেদের ইনিংস বড় করতে পারেননি; জয় ফিরে যান ১৭১ রানে এবং মুমিনুল ৮২ রানে। এরপর মুশফিকুর রহিম মাত্র ২৩ রান করে আউট হন। দলের দায়িত্বভার নেয় বাংলাদেশি দলের অধিনায়ক শান্ত, যিনি লিটন দাসের সঙ্গে গড়েন ৯৮ রানের জুটি, যা দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এর আগে, মুশফিকের সঙ্গেও ৭৯ রানের একটি সফল জুটি গড়ে উঠেছিল। শান্ত দুর্দান্ত খেলেছেন, স্কোরবোর্ডে রান বাড়ানোর পাশাপাশি নিজের সেঞ্চুরিও তুলে ধরেছেন। যদিও ১০০ রান করেই আউট হয়েছেন, তবে তার সঙ্গে লিটন দাসের ফিফটি সুর তুলেছে দলের। লিটনও ৬০ রানে আউট হন। প্রথম চার ব্যাটারের ৮০ ছাড়ানো ইনিংস এবং আরও পাঁচজনের ফিফটি ছাড়ানো পারফরম্যান্সের সুবাদে, বাংলাদেশ তাদের ইনিংস ঘোষণা করে ৮ উইকেটে ৫৮৭ রান, ফলে বড় লিড হয় ৩০১ রানের।

  • পাকিস্তানের কাছে বাংলাদেশের বড় হার

    পাকিস্তানের কাছে বাংলাদেশের বড় হার

    বাংলাদেশ হকিতে কখনো পাকিস্তানের কাছে হারেনি। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের প্লে-অফ সিরিজেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তাদের হারের পরিস্থিতি ছিল ঘটনাটির জন্য স্বাভাবিক। তবে প্রথম ম্যাচে ৮-২ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে যেন সেই দুঃখের স্মৃতি আরও তীব্র হয়ে উঠে।

    প্রথম কোয়ার্টারে স্কোর ছিল ১-১। এরপর দ্বিতীয় কোয়ার্টার থেকে বাংলাদেশ খেলার মূল ধারা থেকে ছিটকে যায়। মাঠের পরিস্থিতি যত গড়িয়েছে, পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণ তত আরও শক্ত হয়েছে। আগামীকাল দ্বিতীয় ম্যাচ জিতলেই পাকিস্তান বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে খেলবে, এবং সেটি হলে তৃতীয় ম্যাচটি হয়ে যাবে শুধু আনুষ্ঠানিকতা।

    খেলার চার মিনিটে বাংলাদেশ জন্য দুটি বড় ঘটনা ঘটে একসঙ্গে। পাকিস্তানের এক খেলোয়াড়ের হিট প্রতিরোধ করতে গিয়ে মাথায় আঘাত পান রোমান সরকার। সঙ্গে সঙ্গে তিনি মাঠে লুটিয়ে পড়েন। দ্রুত রক্তপাত বন্ধ করতে ব্যান্ডেজের পরও রক্ত ঝরতে থাকায় তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সে নেয়া হয়। এর মধ্যেই পাকিস্তানের অধিনায়ক আম্মাদ শাকিল ভাট পেনাল্টি থেকে গোল করে এগিয়ে যান। প্রথম কোয়ার্টারে শেষ মিনিটে হুজাইফা হোসেনের রিভার্স হিট বল দলকে স্বস্তি ফেরান।

    দ্বিতীয় কোয়ার্টারের শুরুর দিকে নাদিম আহমেদের ফিল্ড গোলের মাধ্যমে পাকিস্তান আরও এগিয়ে যায়। ২৪ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে আফরাজ গোল করে ব্যবধান বাড়ান। এই কোয়ার্টারের শেষ দিকে দারুণ এক হিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি।

    তৃতীয় কোয়ার্টারে আল ঘাজানফার ও ওয়াহিদ রানার গোলের মাধ্যমে পাকিস্তান বড় জয় নিশ্চিত করে।

    চতুর্থ কোয়ার্টারের শুরুতে শাহিদ হান্নানের ফিল্ড গোলের মাধ্যমে ব্যবধান আরও বাড়ে। ৫৬ মিনিটে নাদিম আহমাদ নিখুঁত একটা হিটের মাধ্যমে পাকিস্তানকে আট গোলের দৌড়ে এগিয়ে রাখেন। ৫৮ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে বাংলাদেশের একমাত্র গোল করেন আমিরুল ইসলাম।

    এখানে উল্লেখ্য, ঢাকায় প্রায় সাড়ে তিন বছর পর আন্তর্জাতিক হকি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হলো। এমন পরিস্থিতিতে সাবেক খেলোয়াড়রা বাংলাদেশ-পাকিস্তান রুদ্ধদ্বার লড়াই দেখতে এসেছিলেন। বাঙালির সাবেক তারকা ফুটবলার রফিকুল ইসলাম কামাল বলেন, ‘পাকিস্তানের বিরুদ্ধেতো বাংলাদেশের ব্যবধান অনেক, মাঠে সেটা স্পষ্টই দেখা যাচ্ছিল। তবে বলছি, আমাদের দল ছোটখাটো ভুলে যদি চেষ্টা করতে থাকত তবে ব্যবধান আরও কমত।’

    বাংলাদেশের দলের অধিনায়ক রেজাউল করিম বাবু জানান, ‘রোমান আমাদের দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ও গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। সে অল্প সময়ের মধ্যে মাঠ ছাড়ায় দলের উপর প্রভাব পড়েছে। আমরা পরন্তি পেনাল্টি কর্নারগুলো কাজে লাগাতে পারিনি এবং খেলায় কিছু ভুলের জন্য ফলাফলে বড় ব্যবধান হয়েছে।’

  • হামজার জোড়া গোল সত্ত্বেও বাংলাদেশের হার

    হামজার জোড়া গোল সত্ত্বেও বাংলাদেশের হার

    নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষ হওয়ার পরও বাংলাদেশ বাংলাদেশের জয় বঞ্চিত হয়েছে। স্কোরলাইন ছিল বাংলাদেশ ২, নেপাল ১, এবং ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ের পাঁচ মিনিটে সায়মন সানি চতুর্থ রেফারির হিসেবে ইনজুরি সময় দেখান। ইনজুরি টাইমের তৃতীয় মিনিটে নেপাল কর্নার থেকে আরও এক গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরায়, ফলে বাংলাদেশের জয়ে বাধা সৃষ্টি হয়।

    প্রথমার্ধে বাংলাদেশ পিছিয়ে ছিল ১-০ গোলে। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই হামজা চৌধুরী দুই গোল করে দলকে লিড এনে দেন। এরপর বাংলাদেশের খেলা বলতে গেলে নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। ৮০ মিনিটে কোচ হামজাকে বদলি করে দেয়ায় দল যেন কিছুটা প্রাণ ফিরে পায়। তবে নেপাল ম্যাচে একটু প্রাণচঞ্চলতা দেখা যায়।

    তবে ইনজুরি সময়ে বাংলাদেশের জন্য আবারও দুঃসংবাদ আসে। চারদিক থেকে নেপাল একটি আক্রমণ চালায়, যেখানে ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। এরপর তৃতীয় ইনজুরি মিনিটে নেপালের অনন্ত তামাং দুর্দান্ত দক্ষতার সঙ্গে ফ্লিক করে বল ক্রসবারের নিচ দিয়ে জালে পাঠাতে সক্ষম হন। বাংলাদেশের ডিফেন্স জটলা ও গোলরক্ষক মিতুল মারমা পার পেয়েও পাননি। এতে করে মারাত্মক উল্লাসে ওঠে নেপাল।

    এমনকি শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে ম্যাচ হারাকে বাংলাদেশ অনেকটাই অভ্যস্ত হয়ে গেছে। ৯ অক্টোবর ঢাকায় হংকংয়ের বিপক্ষে ৩-৩ গোলে সমতা আনার পর ইনজুরি টাইমে গোল খেয়ে ম্যাচ হারেছিল তারা। প্রীতি ম্যাচেও এক মাসের মধ্যে একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি দেখা গেল।

    আগামী ১৮ নভেম্বর ঢাকায় এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আজ নেপালের বিপক্ষে খেলেছে জামালরা। মোচারেল ম্যাচের প্রথমার্ধে সফরকারী নেপাল ১-০ গোলে এগিয়ে ছিল।

    ম্যাচের ৩২ মিনিটে নেপাল এক গোল করে। বাঁ প্রান্ত থেকে তারা আক্রমণ চালায়। বাংলাদেশের ডিফেন্ডার সাদ উদ্দিন তার মার্কিং অক্ষম হওয়ায় লক্ষ্যভ্রষ্ট হন। নেপালির ফরোয়ার্ডের কাটব্যাক ও বাংলাদেশের ডিফেন্সের ভুলে গোলটি হয়। রোহিত চাদের জোরালো শট বাংলাদেশের ডিফেন্স ও গোলরক্ষককে অতিক্রম করে যায়।

    হোম ম্যাচ, প্রায় দুই সপ্তাহের কঠোর অনুশীলন শেষে হলেও বাংলাদেশের প্রথমার্ধে আশানুরূপ পারফরম্যান্সের দেখা মেলেনি। বল দখলে থাকলেও পরিকল্পিত আক্রমণে না আসা ও ফরোয়ার্ড রাকিব ও ফয়সাল আহমেদ ফাহিম গোলের সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি।

    খেলা চলাকালীন হামজা মাঠ জুড়ে বিদ্যমান ছিলেন। আক্রমণের সময় তিনি হাত তুলে বল চেয়েছিলেন, কিন্তু সতীর্থ সোহেল রানা তাকে পাস না করে উল্টো ভুল শটে এগোতেন। হামজা ডান প্রান্তে ড্রাইভ করে তার দক্ষতা দেখিয়েছেন।

    দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার সোহেল রানাকে বদলে সাবিত সোমকে নামান কোচ হাভিয়ের ক্যাবরেরা। দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম মিনিটেই ফাহিম বাঁ প্রান্ত থেকে ক্রস দেন। নেপাল ডিফেন্ডার তা ক্লিয়ার করলেও, অধিনায়ক জামাল বল পেয়ে যান। তিনি বলটি উপরে তুলে হামজার উদ্দেশ্যে পাঠান এবং হামজা বক্সের মধ্যে জোরালো শট নিয়ে গোল করেন। এই গোলের সঙ্গে সাথে গ্যালারি উল্লাসে ভরে ওঠে, কারণ বাংলাদেশ সাধারণত বাইসাইকেল কিকের মতো গোল খুব কম করে।

    গোলের আধ ঘণ্টা পর আবার গোল করে বাংলাদেশ। এইবার তারা একটি পেনাল্টি পায়। সুমন শ্রেষ্ঠা বাংলাদেশের ফরোয়ার্ড রাকিবকে বক্সে ফাউল করেন। রাকিব বলের পেছনে ছুটছিলেন, তখন সুমন তাকে বাধা দেন। রেফারি কাওসুন লাকমাল পেনাল্টির নির্দেশ দেন। হামজা এই সুযোগে বল জালে জড়ান এবং বাংলাদেশের জন্য লিড নিশ্চিত করেন।

    হামজা প্রথমবার বাংলাদেশের জার্সিতে খেলেছিলেন শিলংয়ে ভারতের বিপক্ষে ২৫ মার্চ ম্যাচে। তারপর ৪ জুন ভুটানের বিপক্ষে গোয়া ম্যাচে প্রথম গোল করেন। ৯ অক্টোবরে হংকংয়ের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত ফ্রি কিকের মাধ্যমে তার দ্বিতীয় গোলটি করেন। আজকের জোড়া গোলের মাধ্যমে হামজার গোল সংখ্যা দাঁড়াল ৪, ম্যাচের সংখ্যা ৫।

    আজকের ম্যাচে বাংলাদেশের জার্সিতে অভিষেক হয় কিউবা মিচেলের। তাকে কোচ ৮০ মিনিটে হামজার বদলি করেন। পাশাপাশি, এই ম্যাচেরও বিভিন্ন সিদ্ধান্তে ফুটবলার পরিবর্তন নিয়ে কোচের দ্বিধা ছিল। প্রীতি ম্যাচ হওয়ার কারণে দুই দলের সম্মতিতে ছয়জন ফুটবলার বদলানো সম্ভব হয়। দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ করে ছয়টি বদলি, যার মধ্যে রয়েছেন সোহেল রানা, জামাল, ফাহিম, হামজা ও জায়ান। তবে এই পরিবর্তনের মাঝে কিছু ফুটবলার হালকা চোটে পড়েছেন, যার ফলশ্রুতিতে ডাগ আউটে তাঁদের বিশ্রাম নেওয়া হয়।

  • আইরিশদের ইনিংস ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজে বাংলাদেশে লিড

    আইরিশদের ইনিংস ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজে বাংলাদেশে লিড

    সিলেট টেস্টে ব্যাট এবং বল উভয় দিকেই নিজস্ব শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়ে বাংলাদেশ আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ইনিংস ও ৪৭ রানের বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করেছে। চতুর্থ দিনের খেলা শেষে আয়ারল্যান্ডের খেলাটি অবশ্য বেশ ভালোই ছিল। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে তারা ৫ উইকেটে ৮৬ রান করে দিনের খেলা শেষ করে, আরেকটু এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত ২৫৪ রানে অল আউট হয়ে যায়। এই ইনিংসের লড়াইয়ে অন্তর্ভুক্ত হয়ে তারা দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যবধানে হেরেছে। এটি বাংলাদেশের জন্য সাদা পোশাকের ক্রিকেটে চতুর্থ বার ইনিংস ব্যবধানে জয়ের নজির।

    বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৩০১ রানের লিড নিয়ে ৮ উইকেটে ৫৮৭ রান সংগ্রহ করে ইনিংস ঘোষণা করে। এরপর বল করতে নেমে বাংলাদেশের বোলাররা আক্রমণাত্মকভাবে প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের ঘেরাও করে। দিনের শেষে আয়ারল্যান্ডের পতন ঘটে ৮৬ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে, তারা বেশ কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ে।

    শুক্রবার কিছুটা লড়াই করার চেষ্টা করে আয়ারল্যান্ডের ব্যাটাররা। শুরুতে কিছু চমৎকার বাউন্ডারিসহ খানিকটা এগোওয়া হলেও বেশি দূর এগোতে পারেনি। প্রথম আঘাত হানে তাইজুল ইসলাম (৩-৮৪), যিনি ম্যাথিউ হামফ্রিজকে ফেরত পাঠান। এরপর অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইন (৫২) ও অ্যান্ডি বালবার্নি (৩৮) ৬৬ রানের জুটি গড়েন, যা কিছুটা পরিস্থিতি সামাল দিতে সাহায্য করে। কিন্তু শেষমেষ হাকিম রানা (২-৪০) তাঁর বলেই বালবার্নিকে ফিরিয়ে আনে। সাথে হাসান মুরাদ (৪-৬০) এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন ম্যাকব্রাইনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটারকে। শেষ দিকে জর্ডান নিল (৩৬) এবং ব্যারি ম্যাককার্থি (২৫) কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুললেও, মুরাদ আবার আঘাত হানেন এবং শেষ উইকেটটি তুলে নেন তাইজুল। ফলে বাংলাদেশ ম্যাচের প্রাধান্য নিশ্চিত করে বিজয় অর্জন করে।

    ম্যাচের পুরো সময় বাংলাদেশ ছিল দাপুটে আধিপত্যে। টসে জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ, তবে প্রথম ইনিংসে আয়ারল্যান্ডের সংগ্রহ থামে মাত্র ২৮৬ রানে। এরপর বাংলাদেশের ব্যাটিং দারুণভাবে চালিয়ে যায়, যেখানে মাহমুদুল হাসান ১৭১ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেন এবং অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত মাত্র ১০০ রানে তাঁর দায়িত্বশীল সেঞ্চুরি করেন। এই দুইজনের জোড়া ব্যাটে বাংলাদেশ বড় সংগ্রহ গড়ে। শেষ পর্যন্ত ম্যাচসেরার পুরস্কার পান জয়। সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের খেলা শুরু হবে ১৯ নভেম্বর, মিরপুরে।

  • তৃতীয় দিন শেষে ইনিংস ব্যবধানে বাংলাদেশ এগিয়ে

    তৃতীয় দিন শেষে ইনিংস ব্যবধানে বাংলাদেশ এগিয়ে

    সিলেট টেস্টে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের ইনিংস ব্যবধানে জয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। তৃতীয় দিনের শেষ সেশনে স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে ৫৮৭ রান দিয়ে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে। এরপর, দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাট করতে নেমে আয়ারল্যান্ডের ব্যাটাররা ব্যাটিং ধসের মুখোমুখি হয়। তারা মাত্র ৮৫ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে নিজেদের পতনের শিকার হয়। দিন শেষ করে তারা ২১৫ রানে পিছিয়ে থাকলো।

    দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটিংয়ে নেমে আয়ারল্যান্ডের শুরুতে পাঠ আটকে যায়। প্রথম উইকেটে দলীয় ১৪ রানে ক্যাড কারমাইকেল বোল্ড হন নাহিদ রানার এক দুর্দান্ত ইয়র্কারে। এরপর পল স্টার্লিংকে সঙ্গে নিয়ে আয়ারল্যান্ডের ব্যাটিং সাবলীলভাবে এগোতে থাকেন। তিনি ব্যক্তিগত ৫০ বা ৬০ রানের কাছাকাছি পৌঁছাতে একসময় থাকলেও, ৪৩ রান করে দলীয় ৬১ রানে রান আউট হন। এই রান আউটের মাধ্যমে তার ফিফটি অচিরেই কাটা পড়ে।

    স্টার্লিং গেরার পরই দ্রুত তিনটি উইকেট হারায় আয়ারল্যান্ড। ১৮ রান করে তিনি আউট হন TA জিমের বলে লেগ বাইরের শটে। এরপর দ্রুত দুই উইকেট তুলে নেন হাসান মুরাদ, যারা যথাক্রমে কার্টিস ক্যাম্ফার ও লোরকান টাকার গিয়ে আউট করেন। এভাবে, মাত্র ৮৫ রান করে ৫ উইকেট হারানো নিশ্চিত হয়ে পড়ে আইরিশরা। অভিষিক্ত এই স্পিনার খুব দ্রুত তার নৈপুণ্য দেখিয়ে দুই উইকেট শিকার করেন।

    দিনের খেলা শেষে আয়ারল্যান্ডের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ৮৬ রান। বাংলাদেশ এখন ইনিংস ব্যবধানে জয়ের খুব কাছাকাছি। জয় নিশ্চিত করতে হলে আয়ারল্যান্ডের আরও ২১৫ রান দরকার।

    এদিকে, এর আগে প্রথম ইনিংসের আলোচিত পারফরম্যান্সে ছিল জয় ও শান্তর শতক। পাশাপাশি সাদমান, মুমিনুল ও লিটন দাসের ফিফটি। এই ইনিংসের সুবাদে বাংলাদেশ ৮ উইকেটে ৫৮৭ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। প্রথম ইনিংসের এই বড় লিড ছিল মোট ৩০১ রান, যা বাংলাদেশের টেস্টের দ্বিতীয় বৃহত্তম লিড। ২০১৮ সালে মিরপুরে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ৩৯৭ রানের লিড হয়েছিল।