Month: November 2025

  • একই দিনে গণভোট ও নির্বাচনের সিদ্ধান্ত জনগণের প্রত্যাশাকে উপেক্ষা করছে: ডা. তাহের

    একই দিনে গণভোট ও নির্বাচনের সিদ্ধান্ত জনগণের প্রত্যাশাকে উপেক্ষা করছে: ডা. তাহের

    অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের সাম্প্রতিক বক্তৃতায় দেশজুড়ে যে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে তা নিয়ে আন্দোলনরত আট দলের নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, সরকার সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন না করে বরং একটি দল বা গোষ্ঠীর স্বার্থে সিদ্ধান্তে কাটছাঁট করছে। সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হয়েছে সেই ঘোষণা, যেখানে দাবি করা হয়েছিল যে, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। এই সিদ্ধান্তগুলোতে সাধারণ মানুষ যে প্রত্যাশা করেছিলেন, সেই গুরুত্ব এখন আর থাকছে না বলে মনে করছেন দলের নেতারা। একইসঙ্গে তারা অন্তত তিনজন উপদেষ্টার অপসারণের দাবিও জানিয়েছেন, যাতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব হয়।

    শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) সকালে ঢাকার মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে এঁরা এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগগুলো ব্যক্ত করেন।

    সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জামিয়াতুল মোয়াল্লামিনের ন্যায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, জনগণ আশা করেছিলেন, সরকার সংস্কার কমিশনের সুপারিশের সম্পূর্ণ ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবে। কিন্তু দেখলাম, প্রধান উপদেষ্টার ভাষণ অনুযায়ী, কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি অংশ বাদ পড়েছে এবং একটি দলের আপত্তি মেনে নিয়ে সরকার বড় ধরনের কম্প্রোমাইজ করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, নেপথ্যে সরকার নিরপেক্ষতা থেকে সরে এসে একটি দলের স্বার্থে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যা জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

    সংস্কার প্যাকেজের ভাগাভাগি নিয়ে মতভেদ:
    সংস্কার কমিশন প্রথমে বলেছিল, সকল সংস্কার উপাদান একসঙ্গে গণভোটে যাবে। কিন্তু এবার প্রধান উপদেষ্টার ঘোষণা অনুযায়ী, এটি চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। ডা. তাহেরের মতে, এতে ভোটারদের জন্য বিষয়গুলো বোঝা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া অনেক কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। নেতারা মনে করছেন, এই বিভাজন বিএনপি বা অন্য কোনো দলের কৌশল—এটা কমিশনের মূলনীতির বিরুদ্ধ, এবং রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট।

    অন্তর্বর্তী সরকারের নিজস্ব দিকনির্দেশনাও রয়েছে, যার মধ্যে একটি বলছে, পরবর্তী সরকার ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংশোধনী সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে বাধ্য থাকবে। যদি তা না হয়, তাহলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা গৃহীত বলে গণ্য হবে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে এই দিকনির্দেশনা ভাষণে উল্লেখ করা হয়নি, যা আবার বিএনপি বা অন্যদের মনে আস্থা কমাতে পারে বলে তিনি মনে করেন। ডা. তাহের শেষমেশ সরকারের এই সদিচ্ছার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, অন্তত সাংবিধানিকভাবে সংবিধানে সংশোধন করার দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যা বহু দিন ধরে আট দল চেয়েছিল।

    গণভোট ও নির্বাচনের একই দিনে হওয়ার সিদ্ধান্তের ব্যাপারে ব্যাপক সমালোচনা:
    অত্যন্ত বিপরীত মতামত দিয়ে, ডা. তাহের জানান, দেশের অধিকাংশ মানুষ চাইছিলেন— আগে গনভোট হয় এবং আলাদা দিন নির্ধারিত হয়। কিন্তু সরকার এই সিদ্ধান্ত নিলো যে, দুই ঘটনা একসাথে হবে— যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য ক্ষতিকর। তাঁর মতে, একদিনে ভোটের পরিকল্পনা থাকলে, দলগুলো নিজেদের নির্বাচনী প্রচারে বেশি মনোযোগ দিতে পারবে, ফলে গণভোটে অংশগ্রহণ কম হতে পারে। এই পরিস্থিতি সৃষ্টি করে, ওই ব্যক্তি বা দলগুলো বলবে— জনগণ আসলে সংস্কার চায় না। এটি একটি কূটপ্রকল্প বা ফাঁদ বলেও তিনি মানছেন।

    তাঁর দাবি,তড়িঘড়ি এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে আলাদা দিনে গণভোটের তারিখ ঘোষণা করতে হয়।

    নিরপেক্ষতা প্রশ্নে সংশয় এবং উপদেষ্টাদের অপসারণের দাবি:
    তিনি অভিযোগ করেন, সরকার এখন আর নিরপেক্ষ নয়, বরং নির্দিষ্ট দলের অনুসারী ব্যক্তিদের প্রশাসনে নিয়োগের মাধ্যমে অবস্থান বদলে চলছে। তিনি বলেন, ‘কমপক্ষে তিনজন উপদেষ্টাকে প্রধান উপদেস্টার ভুল পথে পরিচালিত করছেন, তাদের অপসারণ ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।’

    সংস্কার ও নির্বাচনের একসাথে চলার ব্যাপারে ডা. তাহের সহজভাবে এরূপ তুলনা করেন— যেন আপনি কোনও বই কেনার জন্য দোকানে গিয়ে, দোকানদার পুরো বাজারের তালিকা দেখিয়ে বলছে, “এটা নাও, এটা নাও”। সবাই উপকরণ বা বিষয়ের গুরুত্ব বুঝে নিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে, কিন্তু মূল বিষয়ের গুরুত্ব হারিয়ে গেছে।

  • জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অস্পষ্টতা লক্ষ্য করেছেন আখতার হোসেন

    জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অস্পষ্টতা লক্ষ্য করেছেন আখতার হোসেন

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, জাতীয় বেশ কয়েকটি বিষয় এখনও পরিষ্কার নয় বলে তিনি মনে করেন। সরকার বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য আদেশ জারি করেছে, কিন্তু এই আদেশ পর্যালোচনার সময় তিনি লক্ষ্য করেছেন নানা অস্পষ্টতা ও বিভ্রান্তিকর বিষয়। তিনি জানান, আমাদের প্রত্যাশা ছিল, সরকার এই সনদে তৈরি হওয়া সংকট আর অস্পষ্টতাগুলো সুচারুভাবে সমাধান করবে এবং খুবই স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেবে কীভাবে এই সনদ বাস্তবায়িত হবে। তবে, আদেশ জারির পরও কিছু জায়গায় স্পষ্টতার অভাব থেকে গেছে, যার কারণে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না যে, এই সনদ সুষ্ঠুভাবে কার্যকরী হবে কিনা।

    শুক্রবার রাতে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে আখতার হোসেন এসব মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘গণভোটের প্রসঙ্গসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে বেশ বিভক্ত করে দেখানো হয়েছে। কিছু সংস্কারকে কম গুরুত্বপূর্ণ বলে দেখানো হয়েছে এবং রাজনীতির বিবেচনায় আলাদা করে দেখা হচ্ছে।’

    তিনি আরও জানান, দুর্নীতি দমন কমিশনকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও গভীর আলোচনা চলছে। কিন্তু, বর্তমান সনদে এর ব্যাপারে পরিষ্কার কিছু উল্লেখ করা হয়নি, যা একটি বড় অস্পষ্টতার সৃষ্টি করেছে। এর পাশাপাশি উচ্চ স্তরের গঠনও নিয়ে প্রশ্ন আছে। নতুন উচ্চকক্ষের সদস্যদের প্রত্যেকের তালিকা প্রকাশ না করার সিদ্ধান্তের অর্থ সম্ভবত এই যে, পরবর্তীকালে তালিকা প্রকাশ বা নির্বাচনের সময় নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কিন্তু, এই বিষয়গুলোও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি।

    আখতার হোসেন বলেন, ‘আমরা চাইছিলাম, এই সনদের পুরোপুরি বাস্তবায়ন হোক। কিন্তু, যে ভাগে ভাগ করে গুরুত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে, তার মধ্যে কিছু বিষয় আংশিকভাবে কার্যকর হবে এবং কিছু বিষয় রাজনৈতিক দলে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এই আদেশে কোন সময়সূচি নির্ধারিত নেই, তাই যদি এই সব সংস্কার যথাসময়ে বাস্তবায়িত না হয়, তাহলে কী ফলাফল হবে, সেটাও স্পষ্ট নয়। আমাদের দল এ ব্যাপারে আগেও দাবি জানিয়েছে, যেন গণভোটের ফলাফল বাধ্যতামূলক থাকে এবং কেউ সেই ফল থেকে সরে না যায়।’

    তিনি সরকারি প্রতিনিধিদের ত্বরিফে জানান, অবিলম্বে এই সনদ বাস্তবায়নের ব্যাখ্যা ও অস্পষ্ট বিষয়গুলো স্পষ্ট করে করতে হবে। সরকার যেন দ্রুত উদ্যোগ নেয় এবং এই সংকট নিরসনের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডাঃ তাসনিম জারা, যুগ্ম-আহ্বায়ক মনিরা শারমিন প্রমুখ।

  • মির্জা ফখরুলের দাবি: ভারতের দাদাগিরি বন্ধ করতে হবে

    মির্জা ফখরুলের দাবি: ভারতের দাদাগিরি বন্ধ করতে হবে

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য ফারাক্কা, তিস্তা এবং অন্যান্য পানিবণ্টন ইস্যুতে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি আরও জানিয়েছেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে যেন কোনো ধরনের দাদাগিরি না চলায়, সেটি বন্ধ করতে হবে।

    শনিবার (১৫ নভেম্বর) চাঁপাইনবাবগঞ্জে অনুষ্ঠিত ‘পদ্মা বাঁচাও গণসমাবেশ’-এর আগে মহানন্দা রাবার ড্যাম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন। মির্জা ফখরুল আরও বলেন, আমাদের দেশের স্বার্থ আমাদেরই দেখতে হবে। যদি বিএনপি জনগণের ভোটে দায়িত্বে আসে, তখন তারা ফারাক্কা, তিস্তা ইস্যুসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দিবে।

    ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশটি ইচ্ছে করলে আমাদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, যুদ্ধের সময় তারা আমাদের সহযোগিতা করেছে, তাই এখন আরও বেশি সহযোগিতা দরকার।

    আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে पिछले সরকারের সময় ভারত আমাদের উপর চাপ সৃষ্টি করেছে, যার ফলে তারা আমাদের অনেক কিছু নিয়ে গেছে, বিনিময়ে কিছু দেয়নি। এটা বিএনপি বা হাসিনা সরকারের ব্যর্থতা।

    তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশের স্বার্থ আমাদেরই দেখতে হবে। পানির হিস্যা, সীমান্তে হত্যা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমাদের জোর দিতেই হবে। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক হতে হবে সমতার ভিত্তিতে। তবে ভারতের দাদাগিরি বন্ধ করাও আমাদের আবশ্যক।

    মির্জা ফখরুল আরও বলেন, কিছু দল বিএনপিকে বিভ্রান্ত করার জন্য ষড়যন্ত্র করছে। এরা রাজনীতিতে ফায়দা নিতে চায় এবং নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে। নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করে দেশের বা দলের উন্নতি সম্ভব নয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, একটি দল ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ষড়যন্ত্র করছে; কিন্তু আমাদের অভিজ্ঞতা বলে এই ক্ষমতা পরিবর্তন বা দেশের সার্বভৌম শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।

  • আল্লাহ রসুলের মানতে না পারা মুসলিম হতে দেয় না: সালাহউদ্দিন আহমদ

    আল্লাহ রসুলের মানতে না পারা মুসলিম হতে দেয় না: সালাহউদ্দিন আহমদ

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ясনিয়েছেন, যারা আল্লাহর রাসূলকে মানে না, তারা কখনো মুসলিম হতে পারে না। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপি এই বিষয়ে একমত। যদি রাজনীতি বা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসেন, তাহলে কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা ও খতমে নবুয়ত সংক্রান্ত দাবি-দাওয়ার ব্যাপারে সংসদে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে, আল্লাহ এক এবং হজরত মুহাম্মদ (সা.) সর্বশেষ নবী। মুসলিম জাতির মধ্যে বিভ্রান্তি ও দুর্বলতার কারণেই বর্তমানে ফিলিস্তিন ও মিয়ানমারে মুসলমানরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, যদি দেশবাসী এবং সবাই এগিয়ে আসেন, তবে বিএনপি আইনিভাবে খতমে নবুওয়ত সংশ্লিষ্ট দাবির বিষয়ে সব ধরনের ব্যবস্থা নেবে।

    তিনি আরও বলেন, যারা রাসুলুল্লাহ (সা.) শেষ নবী হিসেবে মানে না, তাদের জন্য বিএনপি মুসলিম মনে করে না।

    সম্মেলনের দায়িত্বপ্রাপ্ত মাওলানা মুহিউদ্দীন রব্বানী জানান, এই মহাসম্মেলনটি আয়োজন করা হয়েছে, যাতে কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণার দাবি এবং খতমে নবুওয়ত রক্ষার অঙ্গীকার করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের সম্মানিত আলেমগণ অংশ নেন।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম পাকিস্তানের সভাপতি মুফতি ফজলুর রহমান, ভারতের জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা সাইয়্যিদ মাহমুদ মাদানি, পাকিস্তানের বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার মহাসচিব মাওলানা হানিফ জালন্দরি এবং মিসরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শায়খ মুসআব নাবীল ইবরাহিম।

    এই মহাসম্মেলনটি আয়োজিত হয়েছে, এর তত্ত্বাবধান করে খতমে নবুয়ত সংরক্ষণ কমিটি বাংলাদেশ। সভার সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিকভাবে সম্মিলিত খতমে নবুয়ত পরিষদের আহ্বায়ক ও খতমে নবুয়ত সংরক্ষণ কমিটির বাংলাদেশী আমির মধুপুরের পীর মাওলানা আবদুল হামিদ।

  • জামায়াতের শর্ত: ক্ষমতায় গেলে কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা হবে

    জামায়াতের শর্ত: ক্ষমতায় গেলে কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা হবে

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, যদি জামায়াত ক্ষমতায় আসে, তাহলে কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, এ বিষয়ে দেশের মুসলমান এবং মুসলিম বিশ্বে কেউ দ্বিমত পোষণ করছেন না। শনিবার (১৫ নভেম্বর) ঢাকার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত খতমে নবুওয়ত মহাসম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।

    রফিকুল ইসলাম খান বলেন, এই সমাবেশে সার্বজনীনভাবে বাংলাদেশের মুসলমানরাই নয়, বরং গোটা মুসলিম পৃথিবীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত হয়েছেন। উচ্চারিত হয়েছে একটাই বক্তব্য— কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণার ব্যাপারে সবাই একমত।

    তিনি আরও যোগ করেন, রাসুলুল্লাহ সা. বহু হাদিসে বলেছেন— তিনিই শেষ নবী, এরপর আর কোনো নবী আসবেন না। এই বিশ্বাসই ইসলামি উম্মাহের ঐক্যবদ্ধ মূল ভিত্তি। যদি বাংলাদেশর জনগণ আমাদের ভোট দিয়ে সরকার গঠন করে, তাহলে ইনশাআল্লাহ, কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা করা হবে।

    এ দাবিতে অনুষ্ঠিত এই মহাসম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সৌদি আরব, ভারত, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের আলেমরা। এটাই প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খতমে নবুওয়ত মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হলো।

    মঞ্চে ছিলেন জাতীয় নেতারা ও শীর্ষ আলেমরা, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য— বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম, জামায়াতের সহকারী সাধারণ সম্পাদক মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির মাওলানা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক প্রমুখ।

    অতিথিদের মধ্যে রয়েছেন— জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম পাকিস্তানের সভাপতি মাওলানা ফজলুর রহমান, জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ ভারতের সভাপতি মাওলানা সাইয়্যিদ মাহমুদ মাদানি, পাকিস্তানের বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া মহাসচিব মাওলানা হানিফ জালন্দরি, আন্তর্জাতিক খতমে নবুওয়ত মুভমেন্টের ওয়ার্ল্ড নায়েবে আমির শায়খ আব্দুর রউফ মক্কি, পাকিস্তানের ইউসুফ বিন্নুরী টাউন মাদ্রাসার নায়েবে মুহতামিম ড. আহমাদ ইউসুফ বিন্নুরী, পাকিস্তানের মাওলানা ইলিয়াছ গুম্মান ও মিসরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ড. শায়খ মুসআব নাবীল ইবরাহিম সহ আরও অনেক আলেম ও বিশেষজ্ঞ উপস্থিত ছিলেন।

    মহাসম্মেলনের সভাপতিত্বে ছিলেন সম্মিলিত খতমে নবুয়ত পরিষদের আহ্বায়ক ও খতমে নবুওয়ত সংরক্ষণ কমিটির বাংলাদেশের আমির, পীর মো: আবদুল হামিদ।

  • সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে খতমে নবুওয়ত মহাসম্মেলনে লাখো মানুষের সমাগম

    সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে খতমে নবুওয়ত মহাসম্মেলনে লাখো মানুষের সমাগম

    খতমে নবুওয়ত মহাসম্মেলনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই উপচে পড়া মানুষের ঢল দেখা গেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন, যা সম্মিলিত খতমে নবুওয়ত পরিষদ আয়োজিত, আজ শনিবার (১৫ নভেম্বর) রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকালে ৯টায় আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হয়ে এটি দুপুর পর্যন্ত চলবে। মহাসম্মেলনের জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানটি এক হয়ে গেছে হাজারো আলেম, ওলামা, শিক্ষার্থী, ধর্মপ্রাণ মুসলমান এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে। সবার অংশগ্রহণে উদ্যানে এক অসাধারণ জনসভা সৃষ্টি হয়েছে।

    সম্মেলনের মূল উদ্যোক্তা ও দায়িত্বশীল মাওলানা মুহিউদ্দীন রব্বানী জানান, এই মহাসম্মেলন মূলত কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণা ও খতমে নবুওয়তের পবিত্র আকিদা রক্ষা করার জন্য আয়োজিত। এতে দেশের পাশাপাশি দেশের বাইরে থেকেও শীর্ষ আলেমরা অংশগ্রহণ করছেন। তিনি আরও জানান, বিদেশি অতিথিদের মধ্যে রয়েছেন— জমিয়তে উলামা এ ইসলাম পাকিস্তানের সভাপতি মুফতি ফজলুর রহমান, জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের (ভারত) সভাপতি মাওলানা সাইয়্যিদ মাহমুদ মাদানি, পাকিস্তানের বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার মহাসচিব মাওলানা হানিফ জালন্দরি, আন্তর্জাতিক খতমে নবুওয়ত মুভমেন্টের ওয়ার্ল্ড নায়েবে আমির শায়খ আব্দুর রউফ মক্কি, পাকিস্তানের ইউসুফ বিন্নুরী টাউন মাদ্রাসার নায়েবে মুহতামিম ড. আহমাদ ইউসুফ বিন্নুরী, ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দের মুহতামিম মুফতি আবুল কাসেম নোমানী, এবং মিসরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শায়খ মুসআব নাবীল ইবরাহিম।

    বাংলাদেশ থেকেও উপস্থিত রয়েছেন বিশিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব, যেমন— হেফাজত ইসলামের আমির মাওলানা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, দরুল উলুম হাটহাজারীর মুহতামিম মাওলানা খলিল আহমাদ কুরাইশী, আল হাইয়্যাতুল উলিয়া চেয়ারম্যান মাওলানা মাহমুদুল হাসান, বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আব্দুল মালেক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি রেজাউল করীম, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ আরো অর্ধশতাধিক বিশিষ্ট আলেম।

    আয়োজক সংস্থা জানিয়েছেন, খতমে নবুওয়তের সত্য আকিদা রক্ষায় এই মহাসম্মেলন বৈশ্বিক আলেম সমাজের ঐক্যের প্রতীক। লাখো মানুষের উপস্থিতিতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এটি এক ঐতিহাসিক দৃশ্য রচনা করবে। সভার সভাপতিত্ব করছেন, সম্মিলিত খতমে নবুওয়ত পরিষদের আহ্বায়ক ও সংরক্ষণ কমিটির বাংলাদেশের আমির, মাওলানা আবদুল হামিদ (পীর সাহেব, মধুপুর)।

  • প্রেমের ফাঁদে ফেলে টাকা আদায়ের জন্য হত্যা: র‌্যাবের প্রকাশ

    প্রেমের ফাঁদে ফেলে টাকা আদায়ের জন্য হত্যা: র‌্যাবের প্রকাশ

    রংপুরের ব্যবসায়ী আশরাফুল হককে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ১০ লাখ টাকা আদায়ের জন্য পরিকল্পনা করে হত্যাকারীরা। এ হামলার মূল আসামি হলো বন্ধু জরেজুল ইসলাম এবং তার প্রেমিকা শামীমা আক্তার ওরফে কোহিনুর (৩৩)। এক মাস আগে শামীমা আশরাফুলের সাথে মিথ্যা প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন, যাতে তার বিশ্বাস অর্জন করে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। পরে সেই সুযোগে তাকে হত্যা করে লাশ ২৬ টুকরো করে ফেলে রাখা হয়। আজ শনিবার (১৫ নভেম্বর) র‌্যাবের কারওয়ান বাজার মিডিয়া সেন্টারে এক ব্রিফিংয়ে র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন এসব তথ্য প্রকাশ করেন। র‌্যাবের অনুসন্ধানে জানা যায়, ১১ নভেম্বর আশরাফুল তাঁর ব্যবসার পাওনা আদায়ের জন্য বন্ধু জরেজুলের সাথে রংপুর থেকে ঢাকায় রওনা দেন। অদ্যাবধি আশরাফুলের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ থাকায় তাঁদের সন্দেহ হয়। এরপর ১৩ নভেম্বর আশরাফুলের মরদেহ পানির পাম্প সংলগ্ন দুটি নীল রঙের ড্রামে পাওয়া যায়, যেখানে অজ্ঞাত পরিচয় একজনের ২৬ খণ্ডের দেহ ছিল। সিআইডি তার অঙ্গুলির ছাপ বিশ্লেষণে নিশ্চিত হয় লাশটি আশরাফুলের। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়, যেখানে জরেজুল ইসলামকে আসামি করা হয়। তদন্তে উঠে আসে যে, জরেজুলের প্রেমিকা শামীমা তাকে বলেছিল, প্রেমের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা আদায় করতে। শামীমা উদ্যোগ নেয়, আশরাফুলের সাথে অন্তরঙ্গ ভিডিও ধারণ করে ভুক্তভোগীর একাউন্টে ১০ লাখ টাকা চাওয়া হবে। আহত অবস্থায় আশরাফুলকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে ওই ভিডিও সুযোগে জরেজ অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করেন। তারপর ১২ নভেম্বর আশরাফুল পুরোপুরি অচেতন থাকাবস্থায় জরেজ তার হাত দড়ি দিয়ে বাঁধে, মুখ স্কচটেপ দিয়ে বন্ধ করে দেয়, এবং অতিরিক্ত ইয়াবা সেবনের উত্তেজনায় তার উপর আঘাত করে চলে গেলে। হত্যার পরে লাশ গোপন করার জন্য জরেজ ১৩ নভেম্বর চাপাতি ও ড্রাম কিনে ২৬ টুকরা করে লাশগুলো দুই ড্রামে ভরে রাখে। ঘটনাস্থল থেকে ড্রামগুলো গাড়িতে তুলে হাইকোর্টের পাশে ফেলে দিয়ে দ্রুত সড়ক পরিবর্তন করে অন্য পথে চলে যান তারা। এই পুরো চক্রের মধ্যে মূল পরিকল্পনাকারী এবং আসামী এখন গ্রেপ্তার। এই ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং মূল আসামি জরেজুল ইসলামকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

  • হেফাজতে থাকা আসামির মিডিয়ায় বক্তব্য, রাজশাহীর পুলিশ কমিশননারের তলব

    হেফাজতে থাকা আসামির মিডিয়ায় বক্তব্য, রাজশাহীর পুলিশ কমিশননারের তলব

    রাজশাহীর বিচারকের ছেলে হত্যা ও স্ত্রীর শরীরে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাতের ঘটনায় আটক আসামির স্বজনের বক্তব্য মিডিয়ায় প্রকাশের কারণে আদালত রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) কমিশনারকে তলব করেছে। আজ শনিবার (১৫ নভেম্বর) সকালেই মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এর বিচারক মামুনুর রশীদ এই নির্দেশ দেন। আদালত আগামী ১৯ নভেম্বর রাজশাহী পুলিশ কমিশননারকে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

    আদালত সূত্র জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ আব্দুর রহমানের আদালতের দেয়া নির্দেশ অনুযায়ী, অভিযুক্ত লিমন মিয়া কৌশলে নগরীর রাজপাড়া থানার ডাবতলা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় প্রবেশ করে তার নাবালক পুত্র তাওসিফ রহমানকে ধারালো ছুরি দিয়ে বিভিন্ন দফা আঘাত করে শ্বাসরোধে হত্যা করে। একই ঘটনায় তার স্ত্রী তাসমিন নাহার লুসিকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত লিমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ হেফাজতে রাখে এবং উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

    তবে, পুলিশ হেফাজত থাকা অবস্থায় অভিযুক্ত লিমন মিয়ার ভাষণে দেখা যায়, তিনি ভুক্তভোগী পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের দোষারোপ করে মিডিয়ায় বক্তব্য প্রদান করেন। এ ধরনের বক্তব্য প্রকাশের ঘটনা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অমান্য ও আইন লঙ্ঘনের শামিল।

    এমতাবস্থায়, পুলিশ হেফাজত থাকা অবস্থায় এ ধরনের বক্তব্য দিতে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে আগামী ১৯ নভেম্বর রাজশাহীর আদালতে স্বশরীরে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে, আরেক মামলায় একই দিন (১৪ নভেম্বর) রাজপাড়া থানায় নিহত তাওসিফের বাবা আব্দুর রহমান অভিযোগের ভিত্তিতে হত্যা মামলা দায়ের করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, লিমন মিয়া ওই ঘটনার প্রধান আসামি, যার সাথে পুলিশের আগে থেকেই সম্পর্ক ছিল।

    প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বিকেলে রাজশাহীর ডাবতলা এলাকায় ভাড়া বাসায় তাওসিফ হত্যার ঘটনা ঘটে। এই সময় অভিযুক্ত লিমন মিয়া ও তার স্ত্রী তাসমিন নাহার লুসি আহত হন। দুইজনকে রামেক হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গতকাল (১৪ নভেম্বর) সকালে নিহত তাওসিফের মরদেহের ময়না তদন্ত সম্পন্ন হয় এবং মৃত্যু হয় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে।

  • মুসলমানদের মৌলিক দাবি না মানলে সংবিধানও মানবোনা: আব্বাসী

    মুসলমানদের মৌলিক দাবি না মানলে সংবিধানও মানবোনা: আব্বাসী

    তাহরীক খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশের আমির আল্লামা মুফতি ড. সাইয়্যেদ মুহাম্মাদ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী বলেছেন, মুসলমানদের মূল দাবি যদি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত না হয়, তাহলে তারা সেই সংবিধান ও স্বীকৃতি মানবেন না। এই কথা তিনি বলেছেন শনিবার (১৫ নভেম্বর) রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত খতমে নবুওয়ত মহাসম্মেলনে।

    আব্বাসী বক্তব্যে বলেন, আল্লাহ তাআলা তার প্রিয় নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেড় হাজার বছর আগে নবুওয়ত ও রিসালাতের দরজা চিরতরে বন্ধ করে দিয়েছেন। তার পরে আর কোনো নবী বা রাসূল আসবেন না, নাযিল করবেন না এবং কেয়ামত পর্যন্ত এই বিশ্বাস অটুট থাকবে। এই খতমে নবুয়তের বিশ্বাস ছাড়া কেউ মুসলিম হিসেবে স্বীকৃতি পায় না।

    তিনি আরও বলেন, যারা প্রচলিত রাজনীতি করে, তারা সেক্যুলার দোহাই দিয়ে কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা করতে চায়, এটা ভুল। সেক্যুলার ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের কাজ মূলত দেশের অমুসলিমদের স্বার্থ রক্ষা করা, মুসলিমের মূল দাবি এবং ধর্মের ভিত্তিতে তাদের আদর্শ ও বিশ্বাস রক্ষা নয়।

    আব্বাসী বলেন, দেশের প্রকৃত মালিক হলো সত্যিকারের মুসলমান। তাদের কর ও ভ্যাটের টাকায় সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ির পেট্রোল চলে। যদি এই মুসলমানদের মূল দাবি এবং সংবিধানে শর্ত পূরণ না হয়, তাহলে আমরা ওই সংবিধান ও চুক্তিপত্র মানিনা। এই দাবি হলো খতমে নবুওয়তের সংঘর্ষ আরেকটি বৃহত্তর আন্দোলন। তিনি এই আন্দোলনকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী বলে অভিহিত করেন।

  • রাজধানীতে কলেজ শিক্ষার্থীর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা

    রাজধানীতে কলেজ শিক্ষার্থীর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা

    রাজধানীর খিলগাঁওয়ের ঝিলপাড় এলাকার নিজ বাসায় মো. সিফাত আহমেদ (১৮) নামে এক কলেজ শিক্ষার্থী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে তার পরিবার অভিযোগ করেছেন। এই ঘটনা ঘটে শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) রাত ৭টার দিকে ১৪৬০/এ বাসার ৮ম তলার এক কক্ষে। পরে অচেতন অবস্থায় রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    সিফাত খিলগাঁওয়ের ঝিলপাড় এলাকার মো. জাহাঙ্গীরের ছেলে। তিনি খিলগাঁও মডেল কলেজের কমার্স বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন।

    মৃতের চাচাতো ভাই মো. ওসমান জানান, সিফাত পরিবারের তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার বড়। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় মোবাইলে অনলাইনে অংক শিখছিল তার ছোট বোন ওয়াফা। তখন সিফাত জেদ ধরে মোবাইলটি ব্যবহার করতে চেয়েছিল, যা নিয়ে ভাই-বোনের মধ্যে ঝগড়া হয়। পরে তাদের মা এসে বলেন, ‘তোর বোন এখন অনলাইনে অংক শিখছে, তুই পরে মোবাইল নাবি।’ এই কথার প্রেক্ষিতে সিফাত নিজের রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ঝুলে পড়ে। পাশের ফ্ল্যাটের প্রতিবেশীরা বিষয়টি দেখতে পেয়ে আমাদের জানায়। দ্রুত আমরা বাসার দরজা ভেঙে সিফাতের অচেতন দেহ উদ্ধার করি এবং প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

    ঢাকা মেডিকেল কলেজের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন, চিকিৎসকের বরাত দিয়ে বলছি, সিফাতের মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি খিলগাঁও থানাকে অবহিত করা হয়েছে।