Month: November 2025

  • ইসির নিজস্ব কর্মকর্তা হোক রিটার্নিং অফিসার: মঈন খান

    ইসির নিজস্ব কর্মকর্তা হোক রিটার্নিং অফিসার: মঈন খান

    নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপে অংশ নিয়ে নির্বাচননী আচরণবিধি, প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয় ও স্বচ্ছ নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেন, নির্বাচন পরিচালনা এবং রিটার্নিং অফিসার নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারের কাছ থেকে লোকবল নেওয়া এড়িয়ে, নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব লোকবল দিয়ে এই দায়িত্ব পালন করা উচিত। এর ফলে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা আরও বাড়বে।

    বুধবার (১৯ নভেম্বর) নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে জাতীয় সংলাপে তিনি এই মন্তব্য করেন। ড. মঈন খান বলেন, এই ধরনের সংলাপ নতুন বিষয় নয়; এর আগে বিভিন্ন সময় আমরা এগুলোর মাধ্যমে কিছু সফলতা ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছি। তবে সংলাপের প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানাই।

    প্রার্থীদের করণীয় বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি আবেদনকারীকে অবশ্যই নিয়মনীতি মেনে নির্বাচনে অংশ নিতে হবে। আচরণবিধির প্রতিপালন করা বাধ্যতামূলক। এটি নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই।

    তফসিলের বিষয়ে তার কঠোর অবস্থান না থাকলেও তিনি জানিয়েছেন যে, তিনি অনুমান করেন, তফসিলের বাইরে যাওয়ার সুযোগ কম। তিনি আরও যোগ করেন, আমরা এর জন্য কিছু পরামর্শ দিয়েছিলাম, কিন্তু সব কিছু বাস্তবায়নে এখনও দেখিনি।

    নিয়মনীতি প্রণয়নের বিষয়ে তিনি ভিন্নমত ব্যক্ত করে বলেন, যতই অঙ্গীকারনামা নেওয়া হোক, যদি নিজস্ব পরিবর্তন না আসে, তবে তা কার্যকর হবে না। এই ধরনের অঙ্গীকারনামায় শাস্তির স্পষ্ট বিধান থাকা দরকার, কারণ নিয়ম লঙ্ঘন বাড়তেই থাকবে।

    বর্তমানে কথাবার্তা ও মতবিনিময় পরিবেশে প্রযুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে তিনি আলোচনা করেন। তিনি বলেন, আধুনিক যুগে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ভুল তথ্য বা মিসইনফরমেশন ছড়ানোর বিষয়টি উদ্বেগজনক। বাকস্বাধীনতা থাকা জরুরি, তবে এর অপব্যবহার রুখতে দায়িত্বশীলতার উপর গুরুত্ব দেন তিনি।

    তিনি বলেন, দেশ এখন একটি সংকটকাল অতিক্রম করছে, এ সময়ে ইসি-র ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের ক্ষমতা যথাযথভাবে ব্যবহার করে স্বচ্ছ নির্বাচন পরিচালনা করতে হবে। ইসি তাদের নিজস্ব লোকবল থেকে রিটার্নিং অফিসার নিয়োগের দাবি জানান তিনি, কারণ এতে যে গুণগত পরিবর্তন আসবে, তা দেশের রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

    ড. মঈন খান জানান, নিয়ম ভাঙলে তা মহামূখ্য হয় না। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর, আচরণবিধি মেনে চলার ব্যাপারে তিনি বলেন, স্বাধীনতা মানে সবকিছু করে ফেলা নয়; এ জন্য কিছু নিয়মকানুনের ভেতর থেকে কাজ করতে হয়।

    অঙ্গীকারনামা দেওয়ার নিয়মের বিষয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, তিনি নিজে অনেক নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, কিন্তু কখনো অঙ্গীকারনামা দিয়েছেন বলে মনে পড়ে না। তিনি সতর্ক করে দেন, যদি নিজের আচরণ নিয়ন্ত্রণে না থাকে, তবে অঙ্গীকারনামা কেবলই ভিত্তিহীন হয়। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন যাতে নিয়মকানুন সহজ ও সরল করে দেয়, যাতে মানুষ সচেতন ও সঠিক পথে থাকতে উৎসাহ পায়, এ বিষয়ে তিনি পরামর্শ দেন।

    প্রযুক্তির ব্যবহারে তিনি স্বীকার করেন, নিজে একজন প্রযুক্তিবিদ না হলেও তিনি এআই ও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত ভুল তথ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন। তিনি আরও বলেন, বাকস্বাধীনতা থাকা অবশ্যই জরুরি, তবে এর অপব্যবহার রোধে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে হবে।

    সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা, সম্প্রদায়ের মধ্যে বৈষম্য না থাকা এবং ধর্মীয় উপাসনালয়কে রাজনৈতিক প্রভাবের জন্য ব্যবহার না করার বিষয়ে তিনি একমত। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ধর্মকে কেবলমাত্র রাজনীতির কারণ হিসেবে ব্যবহার হওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

    সবশেষে, তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন, নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা ও রিটার্নিং অফিসার নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারের বাইরে থেকে লোক নেওয়ার পরিবর্তে, কমিশনের নিজস্ব নিয়োগে জোর দেন। এতে দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও গুণগত মানসম্পন্ন হবে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, ইসি যেন তাদের সাংবিধানিক ক্ষমতা সাহস ও দৃঢ়তার সঙ্গে ব্যবহার করে, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

  • মির্জা ফখরুলের আহ্বান: গণতন্ত্র রক্ষায় মব ভায়োলেন্স থেকে সরে আসার প্রয়োজন

    মির্জা ফখরুলের আহ্বান: গণতন্ত্র রক্ষায় মব ভায়োলেন্স থেকে সরে আসার প্রয়োজন

    দেশে সত্যিকারভাবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে ‘মব ভায়োলেন্স’ বা গুলির মাধ্যমে সমর্থন সংগ্রহের পথে এগোনো যাবে না—এই স্লোগান উচ্চারণ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো, অন্যের মতামতকে সহ্য করা। তিনি ব্যাখ্যা করেন, যে ব্যক্তি বলে, আমি নিজের কথা বলবো, কিন্তু অন্যের বক্তব্যকে মেনে নিতে পারি না; এসে অস্ত্রের মুখে দমন-পীড়ন চালানো, লাঠিচার্জ বা হামলা-লোটের মধ্য দিয়ে হয়তো কিছু সময়ের জন্য ক্ষমতা ধরে রাখা যায়, কিন্তু এটাই গণতন্ত্র নয়। এটা মনে রাখতে হবে, গণতন্ত্রের মূল চেতনা হলো, মত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা করা—এবং সেটি অবাধে চালিয়ে যাওয়া। এই কথাগুলো বুধবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে গুলশানের লেকশোতে এক আলোচনা সভায় বলেন তিনি। এটি ‘চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে বিএনপি’ শীর্ষক গ্রন্থের প্রকাশনা উৎসবের অংশ, যেখানে এর আগে গণঅভিযান নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্রও দেখানো হয়।

    মির্জা ফখরুল বলেন, “গণতন্ত্রের প্রধান সুর হলো, আমি অন্যের মতের প্রতি সম্মান সহকারে মেনে নিতে শিখি। আমি যদি আমার স্বাধীনতা কাজে লাগানোর জন্য চেষ্টা করি, তবে সেটি মানসম্পন্ন অবদান। তবে দুর্ভাগ্যবশত আমরা অনেক সময় অন্যের মতামতকে মানতে পারি না, বরং তাকে উপদ্রব করে উড়িয়ে দিতে চাই। আমাদের এই মনোভাব পরিবর্তন করে গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি তৈরিতে এগিয়ে আসতে হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “দেশে যদি সত্যিকার অর্থে স্থায়ী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চাই, তাহলে আমাদের অবশ্যই গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে, যেমন বিচার ব্যবস্থা, মিডিয়া, পার্লামেন্ট—এসবের স্ব autónদ্ববতা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি, আইনের শাসন ও মানবাধিকার রক্ষা জরুরি।”

    বিএনপি মহাসচিব বলেন, “অপরাধ ও বিশৃঙ্খলা যেখানে দেখা যায়, সেখানে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পরিবর্তে কিছু মহল যেন পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তুলতে চাইছে। এই বিষয়গুলো আমাদের গভীরভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। যাতে বিভৃতি সৃষ্টি না হয় এবং সত্যের পথে থাকা যায়।” তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “বিএনপি কোনও বিপ্লবিক দল নয়; আমরা একজন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি। গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি এবং এর জন্য জীবন বাজি রেখে লড়াই করি। আমাদের গন্তব্য হলো, সব ধর্ম, বর্ণ, মতের মানুষের একসঙ্গে শান্তিপূর্ণ আর সুপ্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্র গড়ে তোলা।”

    আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগ নেতাদের কিছু রায়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মির্জা ফখরুল কিছু হতাশার কথা বলেন, যেখানে ফ্যাসিস্ট সরকারের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার হচ্ছে, আবার একই সঙ্গে মব ভায়োলেন্স ও গুলির ঘটনা অব্যাহত থাকছে। তিনি বলেন, “এ ধরনের পরিস্থিতিতে একটি বিশেষ মহল হয়তো সরকারি রায়ের গুরুত্বকে ক্ষুণ্ণ করতে চাচ্ছে, যাতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। আমাদের অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, “আমরা সবাই জানি, বিএনপি কোনও বিপ্লবী দল নয়; আমরা লিবারেল ডেমোক্রেট পার্টি। গণতন্ত্রের জন্য কাজ করতে আমরা জোরপূর্বক লড়াই করি এবং আমাদের ভেতরে কোনও বিপ্লবের ধারণা নেই। এই দেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এই অধিকার আদায়ে সংগ্রাম করে এসেছে।”

    মির্জা ফখরুল আরও বলেন, “আমরা সবাই চেসে-চাপিয়ে বা বিদ্বেষ দিয়ে দমন-পীড়ন চালানো বন্ধ করতে হবে। সত্যিকার অর্থে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সকল পর্যায়ে বিশ্বাসের ভিত্তিতে একযোগে কাজ করতে হবে। তবেই আমরা একটি শান্তিপূর্ণ এবং শক্তিশালী রাষ্ট্র গড়তে পারবো।”

  • পাচারে তারেক ও জিয়ার ছবি ব্যবহার নিষিদ্ধ: ইসি নির্দেশনা

    পাচারে তারেক ও জিয়ার ছবি ব্যবহার নিষিদ্ধ: ইসি নির্দেশনা

    নির্বাচনী প্রচারে দলের প্রধানের বদলে তারেক রহমান বা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ছবি ব্যবহার করতে হলে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) ব্যবস্থা নিতে বলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বুধবার নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত নির্বাচন সংলাপে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছায় দলটির নেতারা।

    এনসিপির যুগ্ম-সচিব জহিরুল ইসলাম মুসা বলেন, দলীয় প্রধানের ছবি ছাড়া অন্য কারো ছবি ব্যবহার না করার বিধানকে তারা স্বাগত জানাচ্ছেন। এখন বিএনপির প্রধান হিসেবে খালেদা জিয়া থাকলেও, যদি তারেক রহমান বা জিয়াউর রহমানের ছবি প্রচারে দেখা যায়, সেক্ষেত্রে এই বিধি অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এতে করে কমিশনের সক্ষমতা পরীক্ষিত হবে।

    বিলবোর্ডের ক্ষেত্রে কাপড় দিয়ে তৈরি আদর্শ প্র্যাকটিক্যাল নয় বলে মনে করেন তারা। দলে ব্যয় ধরেছে ৫০ লাখ টাকা, কিন্তু একটি বিলবোর্ডে খরচ হয় প্রায় ২০ লাখ টাকা। ফলে এই ধরনের প্রতিযোগিতা অঢেল ব্যয় ও অসহনীয় খরচের মধ্যে পড়ে যায়। তারা বলেন, এমন পরিস্থিতিতে নতুন একটি কার্যকরী বিধি দরকার, তবে বর্তমানে আইনটিতে কিছু অস্পষ্টতা ও কাঠামোগত দুর্বলতা রয়েছে।

    নেতারা আরও বলছেন, মাইক ব্যবহারে ৬০ ডেসিবেলের শব্দের সীমা নির্ধারণ করা হলেও, মাপার যন্ত্রের উপস্থিতি ও ব্যবহার বিষয়ে সংশয় রয়ে গেছে। নির্বাচনের সময় অস্ত্রের ঝনঝনানি ও শব্দনিয়ন্ত্রণের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি, কারণ এই বিষয়গুলো বাস্তবায়ন ও সদিচ্ছার অভাব লক্ষ্য করা যায়।

    তারা তরুণ প্রার্থীদের জনগণের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ দিতে হবে। পেশিশক্তি, কালো টাকা বা অস্ত্রের মাধ্যমে ভোটাধিকার নিয়ন্ত্রণের অপচেষ্টা যারা করে, তাদেরও একই মঞ্চে আলোচনার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

    এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-সচিব তাসনিম জারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার রোধে মেটা ও টিকটকসহ সামাজিক মাধ্যমের সঙ্গে যৌথভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

    দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীর উদ্দিন পাটওয়ারী বলেন, “দল যদি নিজস্ব প্রতীক নিয়ে জোট গঠন করে তবে ভোটের জন্য আলাদা ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত অটুট থাকবে।’’ তিনি আরও বলেন, “নিজের শরীর থাকলেও অন্যের জামা পরে থাকলে সেটি ঠিক নয়। এখন এলাম নিজ দল নিয়ে মানুষের কাছে যাওয়ার সুযোগ এসেছে।”

    পাটওয়ারী আরও বলেন, প্রতিটি দলের জন্য একজন করে দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নিয়োজিত করলে যোগাযোগ সহজ হবে এবং নির্বাচনী কার্যক্রম আরও সুচারুভাবে সম্পন্ন হবে।

    প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে এই সংলাপে অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার, ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন দলের নেতারা অংশ নেন।

  • ইসি’র আইনি ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিশ্লেষণে ক্ষোভ জোনায়েদ সাকির

    ইসি’র আইনি ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিশ্লেষণে ক্ষোভ জোনায়েদ সাকির

    সরকারের পরিবর্তনের পরে গঠিত নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিভিন্ন বিধিমালা ও আইন পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনা না করা নিয়ে তীবর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক জোনায়েদ সাকি। তিনি এই মন্তব্যে নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার ও একটি জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য নির্বাচন কমিশনকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দৃঢ়ভাবে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান। বুধবার অনুষ্ঠিত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বৈঠকে অংশ নিয়ে তিনি নিজের দফতর থেকে এই প্রতিবাদ ও প্রস্তাবগুলো উপস্থাপন করেন।

  • তত্ত্বাবধায়ক সরকার আগামী নির্বাচনগুলোকে সুসংহত ও গ্রহণযোগ্য করবে: আমীর খসরু

    তত্ত্বাবধায়ক সরকার আগামী নির্বাচনগুলোকে সুসংহত ও গ্রহণযোগ্য করবে: আমীর খসরু

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশে জনগণের স্বাধীকারের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। মানুষের জীবন বাজি রেখে যে ভোটাধিকারের জন্য সংগ্রাম করতে হয়েছে, যা বিভিন্ন নির্বাচনে হরণ করা হয়েছে, তার ফলে অপশাসন, নিপীড়ন ও নির্যাতনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে আগামী নির্বাচনগুলো আরও সুসংহত, বিশ্বাসযোগ্য ও গণমুখী হবে।

    আজ বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) সকালের দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় কমল মেডিকেল অ্যাডভাইজরি কমিটি কর্তৃক আয়োজিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেছেন।

    আমীর খসরু বলেন, এই সময়ের মধ্যে বেশ কিছু নির্বাচন হওয়ার মুখে রয়েছি। তারা আশা ব্যক্ত করেন, এ ধরনের নির্বাচন যেন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হয়, যদিও এই নির্বাচনের সঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের যুক্ত থাকার কোনো পরিকল্পনা নেই। তিনি আরও বলেন, সরকারের অনুপস্থিতির কারণে দেশের অগ্রগতি থমকে দাঁড়িয়েছে, অথচ এখনো একটি অস্বীকৃত সরকার দেশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে — যদিও তিনি অতীতের স্বৈরাচারী শাসনের সঙ্গে এর তুলনা করতে চাননি। তিনি বিশ্বাস করেন, জনগণের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারই দেশের সত্যিকার প্রতিনিধিত্ব করে, যা অনির্বাচিত সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। এজন্য তিনি পুনরায় বলেন, বাংলাদেশের মানুষের অপেক্ষা হচ্ছে একটি নির্বাচিত সরকারের জন্য, যা কেয়ারটেকার ব্যবস্থার মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচন আনতে পারে।

    অপরদিকে, তিনি সামাজিক ও কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়েও কথা বলেন এবং বলেন, উন্নত দেশের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা পাঠ্যক্রমের অংশ হিসেবেও সামাজিক কাজে অংশ নেয়—এখনো এটি বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় নির্মিত হয়নি। তিনি যারা এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন, তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন।

    স্বাস্থ্য সেবার বিষয়ে আমীর খসরু বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ফার্মেসি না থাকা দেখে তিনি বিস্মিত হন। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য মানুষের মৌলিক অধিকার। প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা শুরু করতে হবে এবং এটি নিশ্চিত করতে হবে যেন প্রত্যেকে বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পায়। তিনি অবাক হন যে, বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মাদকের সমস্যা থাকলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এটি নেই।

    তিনি আরও বলেন, প্রতিটি পরিবারকে স্বাস্থ্য খাতে মাসে পাঁচ থেকে দশ হাজার টাকা খরচ করতে হয়, তবে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা থাকলে এটি অনেকটাই সাশ্রয় হয়।

    বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বলেন, গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ছিল সবাই একসঙ্গে পাশে দাঁড়াবে, যা আজকের কমল মেডিকেল অ্যাডভাইজরি কমিটির উদ্যোগের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজন দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণ, উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা মানোন্নয়ন ও সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় হলে থাকা অবস্থায় যারা অসুস্থ হলে, তার উপরে কী প্রভাব পড়ে তা বুঝতে পারেন না, পরে বোঝেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে কোনো ফার্মেসি নেই, কেবল এলিট শ্রেণির জন্য একটি ফার্মেসি রয়েছে। শিক্ষার্থীরা এই পরিস্থিতির মধ্যে মোবাইল মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন।

    কমল মেডিকেল অ্যাডভাইজরি কমিটির প্রতিষ্ঠাতা শেখ তানভীর বারী হামিম বলেন, ২০২৪ সালে জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের পর যখন তিনি হলে উঠেছিলেন, তখন দেখেছিলেন আশপাশে কোনো ফার্মেসি ছিল না। সেই চিন্তা থেকে তিনি ভাবলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা সম্ভব কিনা। এ ভাবনা থেকেই কমল মেডিএইড-এর যাত্রা শুরু হয়। তিনি বলেন, ডাকসু নির্বাচনের পরও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের অবস্থা এখনও দুর্বল। তিনি আহ্বান জানান, ডাকসু যেন রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা না হয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বার্থে কাজ করে।

  • অল্প সময়ে অনেক কিছু অর্জন: অন্তর্বর্তী সরকারের নিষ্ঠার প্রতিফলন

    অল্প সময়ে অনেক কিছু অর্জন: অন্তর্বর্তী সরকারের নিষ্ঠার প্রতিফলন

    প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের কী করা উচিত ছিল—এ নিয়ে কিছু সমালোচকদের পক্ষে ঢালাও মন্তব্য করা সহজ। অনেকেই সহজেই বলে দেন সরকার কী করতে পারেনি। কিন্তু এত স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর বিরোধিতা সত্ত্বেও এই সরকার যে অল্প সময়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করতে পেরেছে, এটি মূলত অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যকরী ভূমিকা ও উপদেষ্টা দলের দৃঢ় নিষ্ঠার ফল।

    বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) তিনি এই কথা اپنی ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নীতিমালা, নির্দেশনা এবং আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া সম্পর্কে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে, দাবী করেন যে দায়িত্ব গ্রহণের আগে তিনি সকল ধরনের মতামত ও প্রতিবেদন মনোযোগ দিয়ে অনুধাবন করেছেন। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পরিস্থিতি বদলে গেছে। এখন কোনো আইন বা নীতি কার্যকর বা পাস না হওয়া পর্যন্ত তার প্রতি আগ্রহ জাগে না।

    শফিকুল আলম উল্লেখ করেন, প্রযুক্তির উন্নয়ন, নীতিমালা ও সংস্কার সম্পর্কিত লেখাগুলো এখন অনেক বেশি সহজলভ্য। তিনি বলেন, এখন চাইলেই ‘চ্যাটজিপিটি’ বা অন্য কোনো এআই টুলকে বললেই বাংলাদেশের ভেতরে প্রয়োজনীয় সংস্কার বা উন্নয়নের জন্য ৪৫০ পৃষ্ঠার বিশাল একটি বই মুহূর্তে প্রস্তুত করা সম্ভব। প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট কোনো বিষয়কে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট সংস্কার বা নীতির খসড়া তৈরি করাও এখন সহজ।

    তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন। গত ১৬ মাসে দেখেছেন, আমাদের মতো দেশে বাজারবান্ধব, কর্মসংস্থানমুখী ও জনবান্ধব আইন ও নীতিমালা তৈরি কতটা কঠিন। ব্যবসায়ী লবি, রাজনৈতিক দল, মতবাদী সংগঠন, পেশাজীবী সংস্থা, যেসব ডিপ স্টেট বা স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান আছে এবং সাধারণ আমলাতন্ত্র—প্রত্যেকের কাছ থেকেই বাধার সম্মুখীন হতে হয়।

    তিনি আরো যোগ করেন, এমনকি খুব সাধারণ ও সহজে পাস হতে পারা কোনো আইনও মাসের পর মাস দীর্ঘ সময় ধরে আটকে থাকতে পারে। আবার দৃষ্টিনন্দন ও কর্মসংস্থাপন সৃষ্টিকারী সংস্কারগুলোর বাস্তবায়নও অনেক সময় নানা বাধা মোকাবিলা করে এগোতে হয়। এসব কারণে পাসের সময় লেগে যায় এবং কাজের গতি ধীর হয়ে যায়। তিনি মনে করেন, এই বাধাগুলো কাটিয়ে উঠতে পারলে উন্নয়ন আরও দ্রুত সম্ভব হবে।

  • জাতিসংঘে বাংলাদেশ: ১৩ লাখ রোহিঙ্গার ভার আর বহন করা সম্ভব নয়

    জাতিসংঘে বাংলাদেশ: ১৩ লাখ রোহিঙ্গার ভার আর বহন করা সম্ভব নয়

    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটি সর্বসম্মতভাবে রোহিঙ্গা সংকটের জন্য একটি টেকসই সমাধানের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এই প্রস্তাবে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদে প্রত্যাবর্তনের জন্য নতুন আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রস্তাবটি ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) যৌথ প্রস্তাবনা হিসেবে পেশ হয় এবং এতে ১০৫টি দেশ পৃষ্ঠপোষকতা দানে অংশ নিয়েছে।

  • এই রায়ের মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ প্রশস্ত হবে: বদিউল আলম

    এই রায়ের মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ প্রশস্ত হবে: বদিউল আলম

    সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা উন্নত ও নিরপেক্ষ করতে আজকের রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিধান পুনরুজ্জীবিত হওয়ায় আমরা খুবই খুশি। আজ বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) সকালে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের পর সুপ্রিম কোর্টের চত্বরে সাংবাদিকদের তিনি একথা বলেন।

    মূলত, আপিল বিভাগ এই রায়ের মাধ্যমে ১৪ বছর আগে দেওয়া সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করেছে। এই সংশোধনী অন্তর্ভুক্ত করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, যা আজকের রায়ের মাধ্যমে সম্পূর্ণরূপে বাতিল হয়েছে। রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, ভবিষ্যতে এই বিধানাবলি কার্যকর হবে শুধুমাত্র তার প্রযোজ্যতা ও পরিস্থিতির ভিত্তিতে।

    বদিউল আলম মজুমদার বলেন, “তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক যে রায় দেন, তা দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিয়েছিল। এর কারণে তিনটি নির্বাচনই বিতর্কিত হয়ে পড়ে। আজকের রায়ের মাধ্যমে আমাদের আশা, এই দুর্নীতিগ্রস্ত নির্বাচন ব্যবস্থা উন্নত ও নির্দোষ হবে।”

    তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের সংগ্রামের পর আদালত রিভিউ আবেদন গ্রহণ করেছেন এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে আবার ফিরিয়ে এনেছেন। ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের পর থেকে তিনি এই বিষয়টি নিয়ে লেখালেখি চালিয়ে গেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সেটি ছিল অসাংবিধানিক রায়, যা তার আপত্তির অন্তর্ভুক্ত।

    এছাড়াও, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া বলেন, আজকের রায়ে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করা হয়েছে যে, খায়রুল হকের নেতৃত্বে দেওয়া পূর্বের রায়টি বাতিল হয়ে গেছে। এর ফলে, সংবিধানে পুনরায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হলো। তিনি মনে করেন, আজকের রায় ঐতিহাসিক ঘটনা, বিশেষ করে বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে।

    শরীফ ভূঁইয়া বলেন, “অত্যন্ত নিম্নমানের এই রায়টি ছিল বাংলাদেশের দীর্ঘ ১৫ বছরের স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের সূচনা, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে লেখা হয়েছিল। আজকের সিদ্ধান্ত দেশের গণতন্ত্রের জন্য এক নতুন পালা শুরু করেছে।”

  • শেখ হাসিনার রায় ঘিরে হত্যার হুমকি, যুবক গ্রেপ্তার

    শেখ হাসিনার রায় ঘিরে হত্যার হুমকি, যুবক গ্রেপ্তার

    মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এই রায়ের পর বিচারের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বিচারক ও প্রসিকিউটরদের হত্যার হুমকি দেয়া হয় বলে জানা গেছে। এরই অংশ হিসেবে পুলিশ বুধবার (২০ নভেম্বর) চারজনকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করেছে। এর মধ্যে মো. শরীফ নামে একজনকে ভোলা জেলার লালমোহন থানার সাতআনি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শরীফের বয়স ২০ বছর। প্রসিকিউটর তানভীর জোহা এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    প্রসঙ্গত, সোমবার (১৭ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেয়। এর সঙ্গে সঙ্গে অন্য দুই আসামির—সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে ফাঁসি ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে মামুনের শাস্তি কমানো হয়েছে, কারণ তিনি আদালতে মামলার সত্য উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং অ্যাপ্রুভার হিসেবে জবানবন্দি দেন।

    রায় উল্লেখ করেছে, শেখ হাসিনা ড্রোন, হেলিকপ্টার ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশনা দেন, যা তাকে ‘সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি’ প্রদান করে। এর ফলে তিনি এই মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দায়ী। বিচারক বলছেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীর ওপর হামলা, গুলি চালিয়ে হত্যার মতো ঘটনায় সরকারের সংশ্লিষ্ট ধারা স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।

    বিচারকরা উপস্থাপিত অডিও-ভিডিও প্রমাণ, সাক্ষ্য ও ঘটনার প্রত্যক্ষ বর্ণনা, পাশাপাশি জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময়ের বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ বিবেচনা করেন। বিভিন্ন স্থান—যাত্রাবাড়ী, রামপুরা, বাড্ডা, সাভার, আশুলিয়া, রংপুর—সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানোর ভিডিও ও প্রমাণ তুলে ধরে ট্রাইব্যুনাল। এই বিষয়গুলো রায় ঘোষণা সময় বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়।

  • ট্রাম্পের দাবি: ভারত-পাকিস্তানকে ৩৫০ শতাংশ শুল্কের হুমকি দিয়েছিলাম

    ট্রাম্পের দাবি: ভারত-পাকিস্তানকে ৩৫০ শতাংশ শুল্কের হুমকি দিয়েছিলাম

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের মধ্যে সম্ভাব্য পারমাণবিক যুদ্ধ ঠেকাতে তিনি তাদেরকে কঠোর হুমকি দিয়েছিলেন। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি দুই দেশের সরকারকে জানিয়েছিলেন, যদি তারা পরমাণু যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে তিনি প্রত্যেকের ওপর ৩৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবেন। তিনি বলেছিলেন, “ওরা হয়তো পরস্পরকে লক্ষ্য করে পরমাণু বোমা ছোড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, আর তার ফলস্বরূপ ধ্বংসস্তূপের জন্য মানুষ মারা যাবে, এমনকি লস এঞ্জেলেসেও ধুলোবালি ছড়িয়ে পড়বে। আমি তাদেরকে বলেছিলাম, ‘তুমি চাইলে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারো, কিন্তু আমি তোমাদের ওপর এই শুল্ক আরোপ করব।’ শোনা যাচ্ছে, এই হুমকি শুনে ভারত ও পাকিস্তান দুজনেই আপত্তি জানিয়েছিল, তবে আমি বলেছি, ‘প্রতিপক্ষে কিছু যায় আসে না।’