Month: October 2025

  • বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ বৃদ্ধি: আইএমএফের প্রশংসা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

    বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ বৃদ্ধি: আইএমএফের প্রশংসা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

    বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যকর উদ্যোগের ফলস্বরূপ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) দ্বারা প্রশংসিত হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ বৃদ্ধিতে অবলম্বন করা বিভিন্ন প্রক্রিয়া দেশের বিনিময় হার ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা তারা নিয়মিত পর্যালোচনা করবে।

    শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) হংকংয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে আইএমএফের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের উপপরিচালক টমাস হেলব্লিং বলেন, “রিজার্ভ বৃদ্ধি আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য ছিল। চলমান বৈদেশিক লেনদেনের ঘাটতির মধ্যে বাংলাদেশের এই সাফল্য উল্লেখযোগ্য।”

    তিনি আরও জানান, আইএমএফের একটি প্রতিনিধির দল এই মাসে বাংলাদেশে অবস্থান করবে। সফরকালে তারা পাঁচ দশমিক পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের চলমান ঋণ কর্মসূচির পঞ্চম পর্যালোচনা করবেন।

    আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৭ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা এক বছরের মধ্যে ১৯ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।

    রিজার্ভ বৃদ্ধির পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) প্রবাহের বৃদ্ধি, রপ্তানি আয়ের উন্নতি, খরচের তুলনায় কম থাকা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের বাজার থেকে ডলার কেনা হিসেবেই মনে করা হচ্ছে।

    ২০২১ সালের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে আমদানি ব্যয়ের বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় রিজার্ভে চাপ সৃষ্টি হয়। ওই সময় থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করে। এর পরে ২০২৫ সালের মে মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নমনীয় বিনিময় হার ব্যবস্থা চালু করে।

    সূত্র জানায়, ২০২০-২১ অর্থবছর থেকে এখন পর্যন্ত টাকা মূল্য প্রায় ৪৩ শতাংশ কমে গেছে। বর্তমানে অর্থবছরে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ের বাড়ার ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ২ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলার কিনেছে।

  • সোনার দাম কমলো নতুন দাম ঘোষণা

    সোনার দাম কমলো নতুন দাম ঘোষণা

    দেশের বাজারে আবারো সোনার দাম কমেল। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) আজ রোববার (২৬ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে ভরিতে এক হাজার ৩৯ টাকা কমে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এবার ২২ ক্যারেটের সোনার এক ভরি দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৭ হাজার ৯৫৭ টাকা। এটি আগামী ২৭ অক্টোবর থেকে কার্যকর হবে।

    নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম কমেছে। এর ফলে সোনা বিক্রির সময় যুক্ত হবে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুসের নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ। তবে গহনার ডিজাইন, মান ও মজুরি পরিস্থিতির উপর এ দাম ভিন্ন হতে পারে।

    প্রথমে গত ২২ অক্টোবর বাজুস সোনার দাম সমন্বয় করে ভরিতে ৮ হাজার ৩৮৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের দাম নির্ধারণ করেছিল। তখন ভরিতে দাম ছিল ২ লাখ ৮ হাজার ৯৯৬ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের দাম ছিল ১ লাখ ৯৯ হাজার ৫০১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৭০ হাজার ৯৯৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির দামের ভরি ছিল ১ লাখ ৪২ হাজার ২১৯ টাকা। এই দামটি ২৩ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়েছিল।

    বাজুসের হিসাব অনুযায়ী, এ বছর মোট ৬৮ বার দেশের সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে অর্ধেকের বেশি ৪৮ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং মাত্র ২০ বার দাম কমানো হয়েছে। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল মোট ৬২ বার, যেখানে দাম বাড়ানো হয়েছে ৩৫ বার, আর কমানো হয়েছে ২৭ বার।

  • অক্টোবরের ২৫ দিনে প্রবাসী বাংলাদেশিরা পাঠিয়েছেন ২ বিলিয়ন ডলার

    অক্টোবরের ২৫ দিনে প্রবাসী বাংলাদেশিরা পাঠিয়েছেন ২ বিলিয়ন ডলার

    চলতি বছরের অক্টোবর মাসের প্রথম ২৫ দিনে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন মোট ২০৩ কোটি ২৯ লাখ মার্কিন ডলার, যার বাংলাদেশি মুদ্রায় মূল্য প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২.৫০ টাকায় হিসাব করে)। এই তথ্য উঠে এসেছে রোববার (২৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ব্যাংকিং চ্যানেল থেকে পাঠানো এই রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। সরকারের হুন্ডি প্রতিরোধের উদ্যোগ, বিভিন্ন প্রণোদনা ব্যবস্থা এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার উন্নতির ফলেই এখন এটি অব্যাহত রয়েছে।

    তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের প্রথম ২৫ দিনে রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো থেকে এসেছে প্রায় ৩৮ কোটি ৪৬ লাখ ডলার। এর মধ্যে একটি ব্যাংক, কৃষি ব্যাংক, পাঠিয়েছে প্রায় ১৯ কোটি ৭০ লাখ ডলার। অন্যদিকে, বেসরকারি ব্যাংকগুলো থেকে পাঠানো হয়েছে মোট ১৪৪ কোটি ৬৩ লাখ ডলার, এবং দেশের বাইরে অবস্থিত বিদেশি ব্যাংকগুলো থেকে এসেছে মোট ৪৮ লাখ ৭০ হাজার ডলার।

    অপর দিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২২ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের গোটা গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩২.১০ বিলিয়ন ডলার। একইসঙ্গে, আইএমএফের হিসাব অনুসারে, রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৭.৩৫ বিলিয়ন ডলার।

    গত মাসে, অর্থাৎ সেপ্টেম্বর, বাংলাদেশিরা দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন মোট ২৬৮ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩২ হাজার ৭৫৭ কোটি টাকা।

    চালমান অর্থবছরের প্রথম তিন মাস জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন মোট ৭৫৮ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ৭.৫৮ বিলিয়ন), যা দেশের অর্থনীতির জন্য স্বস্তিদায়ক। এই পরিমাণ রেমিট্যান্সের মূল্য বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৯২,৫৫০ কোটি টাকা, আর এটি আগে থেকেও ১৬ শতাংশ বেশি। একই সময়ে, গত অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ৬৫৪ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার।

  • আবার কমলো স্বর্ণের দাম, প্রতিভরিতে ৩৬৭৪ টাকা কমল দাম

    আবার কমলো স্বর্ণের দাম, প্রতিভরিতে ৩৬৭৪ টাকা কমল দাম

    দেশের বাজারে স্বর্ণের দামের পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে দেশের বিভিন্ন বাজারে এই মূল্যবান ধাতুটির দাম আবারো কমে গেছে। বিশেষ করে পাকা বা তেজাবী স্বর্ণের দামে উল্লেখযোগ্য হ্রাস দেখা গেছে। আজ মঙ্গলবার থেকে নতুন দামের এই ঘোষণা কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)।

    নতুন নির্ধারিত দামে, ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম কমে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪ হাজার ২৮৩ টাকা, যা আগের তুলনায় ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা কম। এর পাশাপাশি, ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ৩৪৯৯ টাকা হ্রাস পেয়ে, নির্ধারিত হয়েছে এক লাখ ৯৪ হাজার ৯৯৯ টাকা। ঘরোয়া বাজারের মান অনুযায়ী এক ভরি ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম এখন ১৬৭ হাজার ১৪৫ টাকা, যা আগের চেয়ে ২৯৯৮ টাকা কম। একইভাবে, সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দামের সমন্বয়েও ২৫৫৫ টাকা কমে এক লাখ ৩৮ হাজার ৯৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এই বৈঠকের পরে, কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নতুন দামের ব্যাপারে জানানো হয়।

    শিল্পের মানদণ্ড অনুযায়ী, উচ্চ মানের ২২ ক্যারেটের এক ভরি রূপার দাম এখন ৪ হাজার ২৪৬ টাকা, যা আগের চেয়ে ১২৪ টাকা কম। অন্যদিকে, ২১ ক্যারেটের রূপার দাম ৪ হাজার ৭ টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে, যা আগের থেকে ১১৬৭ টাকা কম। ১৮ ক্যারেটের রূপার দাম হয়েছে ৩ হাজার ৪৭৬ টাকা, যা ৯৯১ টাকা কম। আর সনাতনী পদ্ধতির রূপার দাম কমে ৭৫৮ টাকা, যার ফলে এখন এর মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬০১ টাকা।

  • কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মন্দ ঋণ অবলোপনে সময়সীমা শিথিলের সিদ্ধান্ত

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মন্দ ঋণ অবলোপনে সময়সীমা শিথিলের সিদ্ধান্ত

    বাংলাদেশের ব্যাংকগুলো এখন থেকে মন্দ শ্রেণির খেলাপি ঋণ অবলোপনে সময়সীমা শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি, ঋণ অবলোপনের পূর্বে কমপক্ষে ৩০ কর্মদিবস আগে সংশ্লিষ্ট ঋণগ্রহীতাকে লিখিত নোটিশ পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যেন তারা বিষয়টি আগে থেকেই অবগত থাকতে পারেন।

    সম্প্রতি ১৮ ফেব্রুয়ারির পূর্বের নীতিমালা সংশোধন করে নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়। পূর্বে, টানা দুই বছর ধরে মন্দ বা ক্ষতিজনক মানে শ্রেণিকৃত ঋণ গুলোর অবলোপন করা যেত। তবে এখন থেকে, ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী এবং ক্ষতি কমানোর লক্ষ্যেই, মন্দ ও ক্ষতিজনক অবস্থায় থাকা ঋণগুলো অবলোপন করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। এর জন্য সুপরিকল্পিতভাবে পুরোনো ঋণগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে।

    নতুন নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ঋণ অবলোপনের আগে কমপক্ষে ৩০ কর্মদিবস আগে সংশ্লিষ্ট ঋণগ্রহীতাকে লিখিত নোটিশ দিতে হবে। কারণ, ঋণ অবলোপনের পরও ডাকাতের দায়মুক্তি হবে না; অর্থাৎ, সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ না করা পর্যন্ত ঋণগ্রহীতাকে খেলাপি হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।

    অবলোপন সংক্রান্ত অন্যান্য ধারাগুলিও অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মৃত ঋণগ্রহীতার নামে বা তার একক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের নামে নেওয়া ঋণ ব্যাংক নিজ বিবেচনায় অলোপন করতে পারবে। তবে এ ক্ষেত্রে, মৃত ব্যক্তির পরবর্তী উত্তরসূরি কি অর্থাৎ উপার্জনক্ষম উত্তরসূরি থাকছেন কি না, সেটি கருத்தে রাখতে হবে। এছাড়া, ব্যাংকের নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী, ঋণ অবলোপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নগদ প্রণোদনা পেতে পারেন। প্রয়োজনে, পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনক্রমে এই নীতিমালা তৈরি করা যাবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় আরও বলা হয়, কোনো ঋণ অবলোপনের আগে ব্যাংককে অবশ্যই বন্ধকীকৃত সম্পত্তি বিক্রির সমস্ত প্রচেষ্টা চালাতে হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে। তবে, ‘অর্থ ঋণ আদালত আইন ২০০৩’-এর আওতায় মামলা যোগ্য না হলে, পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে বা মৃত ব্যক্তির নামে থাকা ঋণের কোনো অঙ্কের ক্ষেত্রে মামলা ছাড়াই ঋণ অবলোপন করা যাবে। অবলোপনের পূর্বে, দেড় লাখ টাকার বেশি সুদ বাদ দিয়ে শ্বাসে থাকা অর্থের সমপরিমাণ প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হবে।

    নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ঋণ আংশিকভাবে অবলোপন করা যাবে না এবং ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন ছাড়া কোনো ঋণ অবলোপনের সুযোগ নেই।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের এক শীর্ষ কর্মকর্তা, যিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন, বলেছেন, আগের তুলনায় ব্যাংকখাতে ডলার সংকট কমে এসেছে এবং রিজার্ভ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে ব্যাংকগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে, মন্দ ঋণের অবলোপনে শিথিলতা আনা ব্যাংক খাতের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ব্যবস্থাপনায় সহায়ক হবে এবং তাদের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে আরও বাস্তবমুখী করে তুলবে।

  • ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার বদলে ‘জাতীয় অনৈক্য’ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে কমিশন

    ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার বদলে ‘জাতীয় অনৈক্য’ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে কমিশন

    বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার নামে এখন পর্যন্ত কোনো আলোচনা হয়নি যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ তাদের সুপারিশে কোন কিছু বলেছে।’ তিনি আরও বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ ২৭০ দিবসে সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করতে না পারলে সেই সংস্কার স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার প্রস্তাবটি হাস্যকর বলে মনে করেন। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে আইন উপদেষ্টার সাথে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সামনে এ কথা বলেন তিনি। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচন হবে সংসদের মাধ্যমে। সংসদ সদস্যরা নির্বাচন করবেন। বর্তমানে যদি সংবিধান সংস্কার পরিষদের কাজ পরিচালনা করতে হয়, তবে তা সংসদে আলোচনা হওয়ার কথা। এই বিষয়টি কখনো কমিশনের মধ্যে আলোচনা হয়নি।’ তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন হবে সংসদের জন্য। সংবিধান সংস্কারের জন্য নয়। নির্বাচনের জন্য সংবিধান অনুযায়ী কমিশনের মূল দায়িত্ব হলো সংসদ ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনা। অটোপাসের মতো কোনো বিষয় সংবিধানে থাকতে পারে না।’ বিএনপি নেতা আরও remarked করেন, ‘ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশে আমি দেখেছি, তারা ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে দেশের সম্পূর্ণ একতার অভাবজনিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করছেন।’ তিনি বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদে এই আদেশের সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে বহু অপ্রচলিত ও অবৈধ বিষয়, যা কখনো স্পষ্টভাবে আলোচনা হয়নি। সংবিধান সংস্কার পরিষদের নামও একটি প্রস্তাব হিসেবে যোগ করা হয়েছে, যা নিয়ে আগে কোনো আলোচনা হয়নি।’ সালাহউদ্দিন জানান, ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশে ভোটের জন্য অনুপাতিক হারে উচ্চকক্ষ গঠন করার প্রস্তাবও করা হয়েছে, যদিও সম্প্রতি এই বিষয়টি কমিশনের সভায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। তিনি আরও বলেন, ‘এই কমিশন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে কিছু সুপারিশ দিয়েছে যাতে দেশের সামগ্রিক জাতীয় ঐক্য বাধাগ্রস্ত হয়।’ শেষ পর্যায়ে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘আমরা আশা করছি, উপদেষ্টা পরিষদ ও সরকার সংবিধানভিত্তিক আলোচনা করবেন এবং একটি সংবিধান সম্মত পদ্ধতি নেবেন।’ আরবিপিও এবং জোটের প্রতীক নিয়ে বর্তমানে যা হচ্ছে, সেটার পক্ষপাতমূলক আচরণের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘যেকোনো রাজনৈতিক দল তাদের স্বাধীনভাবে নিজস্ব প্রতীকে বা জোটের প্রতীকে নির্বাচন করতে পারবে। হঠাৎ করেই একটি অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, যেখানে জোটবদ্ধ হলেও নির্বাচন করতে হবে তাদের নিজস্ব প্রতীকে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটি অপ্রত্যাশিত, এবং আমরা আশা করি বর্তমান সরকার নির্বিকারভাবে দায়িত্ব পালন করবে।’ তিনি শেষমেশ জানান, আইন কমিশন এবং সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে বিএনপি হতাশা প্রকাশ করছে এবং স্বচ্ছ ও সংবিধান সমর্থনকারী প্রক্রিয়া গঠনের জন্য তারা আশাবাদী।

  • নভেম্বরে গণভোট চেয়ে জামায়াতসহ আট দল নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

    নভেম্বরে গণভোট চেয়ে জামায়াতসহ আট দল নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

    বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামীসহ মোট আট দল। মোক্ষম দাবির মধ্যে রয়েছে নভেম্বরে গণভোট সম্পন্ন করা এবং তার জন্য একটি ধারাবাহিক five দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা। বুধবার (২৯ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই আট দল যোগ দিয়ে তাদের লক্ষ্য ও দাবি প্রকাশ করে।

    পরবর্তী কর্মসূচির অংশ হিসেবে, আগামী ৩০ অক্টোবর নির্বাচনী সংস্থার কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে। এরপর, ওই দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে আলোচনা ও পরিকল্পনা নির্ধারণের জন্য ৩ নভেম্বর এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকের শেষে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়।

    সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ বলেন, গণভোট ছাড়া জাতীয় সংবিধান ও আইনের উপর ভিত্তি করে স্থিরতা আসবে না। তারা সবাই একমত পোষণ করেছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে নভেম্বরের মধ্যেই গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত, যা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বশর্ত।

    তাদের মতে, ইতোমধ্যে নির্বাচন পরিকল্পনার রোডম্যাপ তৈরি হয়েছে, যেখানে তারা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে আসছেন। কালো টাকা, ভোটের কেন্দ্র দখল, পেশিশক্তি ও অনিয়ম প্রতিরোধসহ গণতন্ত্রের মূল বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে তারা জোর দাবি করেছেন। আইনী মাধ্যমে উন্নত মানের সংসদ ও দীর্ঘস্থায়ী সরকারের জন্য পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের পক্ষে তারা মত প্রকাশ করেছেন, যেখানে দেশের বহু রাজনৈতিক দল, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, কলামিস্ট, লেখক ও গবেষকসহ সাধারণ মানুষ একমত পোষণ করেছেন।

    সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, নির্বাচন কমিশন ভোটের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তবে কিছু পরিবর্তন আনতে সরকার ও সংস্থাদের প্রস্তুতি ও সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। তারা জুলাইয়ের জাতীয় সনদ কার্যকর, নভেম্বরের মধ্যে গণভোট ও ২০২৬ সালে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন করার জন্য দফায় দফায় দাবি জানিয়ে আসছেন।

    সমস্ত দল ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার জন্য, তাদের কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও জনগণের দাবিকে সামনে রেখে সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।

    এছাড়া, নেতৃবৃন্দ একসাথে দাবি করেন:
    1. জুলাইয়ের জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি ও এই বছর নভেম্বরের মধ্যেই গণভোট সম্পন্ন করা।
    2. পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনে পিআর পদ্ধতি চালু করা যেন যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বে-প্রত্যাশিত নির্বাচনের মান সম্মত হয়।
    3. অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সমান সুযোগ ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা।
    4. ফ্যাসিস্ট সরকারের জুলুম, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা।
    5. স্বৈরাচারী রাষ্ট্রদুর্বৃত্তদের সহযোগী রাজনৈতিক দল ও সংগঠন, যেমন জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কর্মকা- নিষিদ্ধ করা।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুছ আহমাদ, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমেদ আবদুল কাদের, অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও প্রতিনিধিরা, যারা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে দেবার জন্য সম্মিলিতভাবে এই আন্দোলনে একত্রীকরণে গভীর অনুরোধ জানান।

  • গণভোটের তারিখ দেরিতে হলে জাতীয় নির্বাচন সংকটময় হয়ে উঠবে: পরওয়ার

    গণভোটের তারিখ দেরিতে হলে জাতীয় নির্বাচন সংকটময় হয়ে উঠবে: পরওয়ার

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার অবিলম্বে গণভোটের তারিখ ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গণভোটের তারিখের বিষয়ে যত দেরি হবে, ততই দেশের জাতীয় নির্বাচন আরও সংকটের মধ্যে পড়বে। আজ বুধবার (২৯ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবে জামায়াতের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা মন্তব্য করেন।

    গোলাম পরওয়ার আরো বলেন, ‘ঐক্যমত্য কমিশন সরকারকে যে রিপোর্ট দিয়েছে, তাতে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। বলা হয়েছে, হয় জাতীয় নির্বাচনের আগে বা তার দিন গণভোট হতে পারে। মানে তারা বিষয়টি ঝুলিয়ে রেখেছে। এই অবস্থায় ক্রিটিক্যাল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, যেন সব কিছু সরকারের কোর্টে চলে গেছে। এখন সরকারের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।’

    তিনি জানান, আন্দোলনরত দলের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে ঘোষণা দিয়েছেন— যদি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে নভেম্বরের মধ্যে গণভোটের তারিখ জানিয়ে দেয়া হয়, তাহলে কোনো ঝামেলা হতো না। এতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সামঞ্জস্য ও স্থিরতা বজায় থাকত।

    গোলাম পরওয়ার আরো বলেন, ‘‘অন্য কিছু দল, যারা একই দিনে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একসঙ্গে করার কথা বলছেন, তাদের কথা শুনে আমাদের সুবিধা হয়েছে। কিন্তু যারা আগে থেকেই গণভোট ও নির্বাচনের তারিখ নির্দিষ্ট করার জন্য দাবি জানিয়েছিলেন, তাদের কথাও শোনা হয়নি। এ ভাবেই ঐকমত্য কমিশন মধ্যবর্তী ছেদে অবস্থিত হয়ে পড়েছে।’’

    তিনি বলেন, ‘‘আমরা আজ এই ৮টি দল স্পষ্টভাবে বলতে চাই, সরকারের দায়িত্ব এখন দ্রুত গণভোটের তারিখ ঘোষণা করা। যদি আগে থেকে না বলা হয় বা সময়ে ঘোষণা না করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে জাতীয় নির্বাচনের তারিখ নিয়ে নতুন অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হবে।’’

    ফেব্রুয়ারীর মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে গোলাম পরওয়ার প্রধান উপদেষ্টা এবং ঐক্যমত্য কমিশনের প্রধানের দায়িত্বের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘উনিই জাতিকে সংকটমুক্ত ও সংশয়হীন করার দায়িত্বে। রাজনীতির আকাশে যে অন্ধকার জমে আছে, সেটি দূর করে সঠিক পথে আলো দেখাতে পারবেন শুধু উনিই।’’

    সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুস আহমদ। তিনি বলেন, পরবর্তী দিনে, অর্থাৎ ৩০ অক্টোবর, পাঁচ দফা দাবি আদায়ের জন্য নির্বাচনি কমিশনের কাছে স্মারকলিপি প্রদান এবং ৩ নভেম্বর বৈঠকের পর বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

  • জুলাই সনদের আইনি প্রতিষ্ঠা জরুরি: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    জুলাই সনদের আইনি প্রতিষ্ঠা জরুরি: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    জুলাই সনদের বিষয়ে রাজনৈতিক আলোচনা কেবল রাজনৈতিক সমঝোতার এক ফাঁকা বুলি নয়; এর জন্য অবশ্যই একটি শক্তিশালী আইনি ভিত্তি থাকা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রধান সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। আজ বুধবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান, আগামী বছরের জন্য জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫ বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাবিত সুপারিশের দ্রুত বাস্তবায়ন প্রয়োজন। তিনি বলেন, জুলাই সনদ কেবল একটি রাজনৈতিক সমঝোতার নয়, এটি একটি আইনি নীতিমালা এবং এর জন্য দৃঢ় আইনি ভিত্তি থাকতে হবে। এনসিপি ইতিমধ্যে জানিয়েছে, তারা যদি সরকার এই সনদ বাস্তবায়নের জন্য খসড়া আদেশের প্রস্তাব দেখে সম্মতিকর স্বাক্ষর দেয়, সেটিই হবে।

    পাটওয়ারী আরও বলেন, গতকাল জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সরকারকে বরাবরই গুরুত্ব দিয়ে একটি রূপরেখা সুপারিশ করেছে যা এই সনদ বাস্তবায়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, কমিশন দুটি পৃথক সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছে—একটি সংবিধানবিরোধী সংস্কার, যা প্রজ্ঞাপন ও খসড়া সুপারিশের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে, এবং অন্যটি বিরতী সরকারকে দ্রুত এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, কমিশনের প্রস্তাবিত ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাব সংবিধানের সঙ্গে সংযুক্ত। এই প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে দুটি আলাদা খসড়া সুপারিশ করা হয়েছে। প্রথমটি, প্রস্তাব-১, বাস্তবায়নের জন্য সরকারের এগিয়ে যাওয়া উচিত কারণ এতে উল্লেখ রয়েছে—নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংস্কার কার্যক্রম শেষ না হলে, গৃহীত খসড়া বিলই আইনে পরিণত হবে।

    এছাড়াও, সংবিধান সংশোধন বিলটি আইন আকারে কার্যকর করে গণভোটের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ম্যান্ডেট বাস্তবায়ন করাও জরুরি বলে দাবি করেন তিনি। কোণঠাসা বা দ্বিধাবিধুর না হয়ে, সরকারের উচিত প্রস্তাব-১ অনুযায়ী কার্যক্রম শুরু করা।

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, কিছু ভাষাগত অস্পষ্টতা থাকলে সেগুলো সংশোধন করতে হবে, যাতে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি সুদৃঢ় হয়। প্রথম ঘোষণাটি গ্রহণের মাধ্যমে এই সনদের আইনি ভিত্তিও প্রতিষ্ঠিত হবে।

    সরকার যদি এই আইনি ভিত্তিসম্পন্ন খসড়া আদেশ অনুমোদন করে, তবে সনদে স্বাক্ষর এবং বাস্তবায়নের পথে অগ্রগতি সম্ভব হবে।

    উল্লেখ্য, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশে এক লক্ষাধিক জনতার ওপর ভিত্তি করে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫’ জারির প্রস্তাব রয়েছে।

    এই খসড়াগুলোর মধ্যে প্রথমটির বিধান অনুযায়ী—আগামী দেশের সংবিধান সংস্কার কমিটি ২৭০ দিনের মধ্যে কাজ শেষ না করলে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রস্তুতকৃত বিলই আইন হিসেবে গণ্য হবে। অন্যদিকে, দ্বিতীয় প্রস্তাবের সূত্রে, এই সময়সীমার মধ্যে সংস্কার সম্পন্ন করার জন্য পরিষদকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে সংবিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্ভব হয়।

  • জাতীয় নির্বাচনে ব্যত্যয় হলে দায় ইউনূস সরকারের – মির্জা ফখরুল

    জাতীয় নির্বাচনে ব্যত্যয় হলে দায় ইউনূস সরকারের – মির্জা ফখরুল

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রয়োজনীয় সংস্কারের পরও যদি জাতীয় নির্বাচনটি ব্যত্যয় ঘটে, তাহলে এর পুরো দায়-দায়িত্ব নিতে হবে ড. ইউনূস সরকারকে। তিনি আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন।