Month: October 2025

  • ভারতে চলন্ত বাসে আগুনে নিহত ১৯ যাত্রী

    ভারতে চলন্ত বাসে আগুনে নিহত ১৯ যাত্রী

    ভারতের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য রাজস্থানের জয়সলমে শহরে এক ভয়াবহ বাস অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১৯ জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে জয়সলম থেকে জোধপুরের দিকে যাচ্ছিলো এই বাসটি, পথে এক এই আপদকালীন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

    পুলিশ জানায়, স্থানীয় সময় বিকেল তিনটার দিকে বাসটি জয়সলম থেকে সরাসরি যাত্রা শুরু করে। পথিমধ্যে জয়সলম-জোধপুর মহাসড়কে পৌঁছালে বাসের পেছন থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। চালক দ্রুত গাড়ি থামিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়ান, কিন্তু তখনই দ্রুত বাসে আগুন ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে।

    অপেক্ষাকৃত দ্রুত স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা ঘটনাস্থলে যান এবং উদ্ধার কাজ শুরু করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়ে দিয়েছেন, অনেক যাত্রী দ্রুত নেমে আসার সুযোগ না পেলেও অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে মারা গেছেন। বেশ কিছু যাত্রী দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

    দেশটির স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে জয়সলমেরের জওহর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাসে শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। জেলা প্রশাসন জানায়, অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার সাথে সাথে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

    জেলার কালেক্টর প্রতাপ সিংহ আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা ও সহায়তা নিশ্চিত করতে হেল্পলাইন নম্বর চালুর নির্দেশ দিয়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় রাজ্যপাল হরিভাউ বাগাড়ে, মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মা, সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলত, বিজেপি রাজ্য সভাপতি মদন রাঠোরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

    মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মা বলেন, আহতদের দ্রুত এবং সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে জানান, জয়সলমে বাসে আগুন লাগার এই ঘটনায় আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি। নিহতদের পরিবারের জন্য সমবেদনা জানিয়ে, আহতদের সুস্থতা ও ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

  • ভারতে এসে কেনিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যু

    ভারতে এসে কেনিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যু

    কেনিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা রাইলা ওদিঙ্গা ভারতের কেরালা রাজ্যের দেভামাতা হাসপাতালে হার্ট অ্যাটাক করে মৃত্যুবরণ করেছেন। এ খবর বুধবার (১৫ অক্টোবর) বার্তাসংস্থা এপি নিশ্চিত করেছে, যেখানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই তথ্য নিশ্চিত করে। ওদিঙ্গার বয়স তখন ৮০ বছর। আফ্রিকার রাজধানীতে তিনি একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

    প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তিনি চিকিৎসার জন্য ভারতে এসেছিলেন। তবে তিনি সুস্থ হয়ে ফিরে যেতে পারেননি। স্থানীয় পুলিশ ও হাসপাতাল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সকালে তিনি তার বোন, মেয়ে ও ব্যক্তিগত চিকিৎসকের সঙ্গে হাঁটার জন্য বের হয়েছিলেন। তার সঙ্গে ভারত ও কেনিয়ার নিরাপত্তাকর্মীরা ছিলেন। হঠাৎ তিনি পড়ে গেলে, তাৎক্ষণিকভাবে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    কেরালার এরানকুলামের এসপি কৃষ্ণ এম বলেছেন, “তাকে দ্রুত একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু সেখানেও তাকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।”

    অফিসিয়ালি জানা গেছে, ওদিঙ্গা ১৯৯৭ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাঁচবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও, কখনো জয় লাভ করতে পারেননি।

    প্রথমে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম মাতৃভূমি প্রতিবেদনে তার মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে। তারা জানায়, ওদিঙ্গা কোচি শহরে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।

    ওদিঙ্গা কেনিয়ার রাজনীতিতে শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তার মৃত্যু দেশটির রাজনীতিতে বড় শূন্যতা সৃষ্টি করবে, কারণ সে দেশে ২০২৭ সালে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তার মৃত্যুই কেনিয়ার রাজনীতিতে বড় এক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

    সূত্র: আলজাজিরা

  • ইসরাইলকে সহায়তা সংক্রান্ত অভিযোগে ৩৩ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হামাসের

    ইসরাইলকে সহায়তা সংক্রান্ত অভিযোগে ৩৩ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হামাসের

    গাজায় দীর্ঘ দিন ধরে চলা সংঘর্ষের পর সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির সুযোগে হামাস নিজেদের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথে অগ্রসর হচ্ছে। যুদ্ধবিরতির পর থেকে সংগঠনটি বিভিন্ন গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালিয়ে অন্তত ৩৩ জনকে হত্যা করেছে। তাদের বিরুদ্ধে ইসরাইলের সাথে সহযোগিতা করার অভিযোগ উঠেছে।

    শুক্রবার যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকেই হামাস এই অভিযানে নামে। রয়টার্সের রিপোর্টে জানা গেছে, গাজার নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে, এই ৩৩ জন হামাসের ক্ষমতা চ্যালেঞ্জ করে তাদের বিরুদ্ধে অপারেশন চালানো হয়েছে। এ সময় হামাসের ছয়জন সদস্যও নিহত হয়েছেন। তবে নিহতদের পরিচয় ও তাদের ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে কি না, সেই বিষয়টি স্পষ্ট করে জানায়নি কেউ।

    ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলার পর ইসরাইলের তীব্র প্রতিশোধের ফলে হামাস ব্যাপক ধ্বংসের মুখে পড়ে। যুদ্ধবিরতির পর সংগঠনটি ধীরে ধীরে সদস্যদের ফিরিয়ে আনছে, কিন্তু পরিস্থিতি যে আবারো উত্তপ্ত হতে পারে—এমন শঙ্কায় হামাস বেশ সতর্কভাবে কাজ করছে।

    গাজা সিটির এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানাচ্ছেন, চলমান সংঘর্ষের মধ্যে বিভিন্ন গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নজরদারি ও অভিযান চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি, রাফাহ অঞ্চলে হামাসবিরোধী নেতা ইয়াসের আবু শাবাবের বিরুদ্ধেও কঠোর অভিযান চলছে। কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হামাস ইতোমধ্যে আবু শাবাবের ঘনিষ্ঠ একজন সহযোগীকে হত্যা করেছে এবং তার হুমকি দিচ্ছে। হামাসের দাবি, আবু শাবাব ইসরাইলের পক্ষের, কিন্তু তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

    সাম্প্রতিক এক ভিডিওতে দেখা গেছে, মুখোশধারী ও সবুজ ফিতা বাঁধানো বেশ কিছু বন্দুকধারী রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে অন্তত সাতজনকে গুলি করে হত্যা করছে। এই ঘটনার সময় উপস্থিত কিছু সাধারণ মানুষ নিহতদের সহযোগী বলে উল্লেখ করে আনন্দ প্রকাশ করে। যদিও রয়টার্স এই ভিডিওটির সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি; গাজায় ধারণ করা বলে দাবি করা হলেও নিশ্চিত নয়।

    এর আগেও, মাসখানেক আগে, হামাস ইসরাইলের বিরুদ্ধে সহযোগিতা করার অভিযোগে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছিল।

    একই দিনে, হামাস দুই বছর আগে ইসরাইলের কাছে জিম্মি থাকা জীবিত ব্যক্তিদের মুক্তি দেয়। এই সময় গাজায় কাসাম ব্রিগেডের সদস্যদের রাস্তায় মোতায়েনও দেখা যায়। এই সময়ের মধ্যে স্থায়ী সমঝোতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি জন্য বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইলসহ অন্যান্য দেশ হামাসের অস্ত্র হারানোর দাবি জানিয়ে আসছে।

    যুদ্ধবিরতির বাস্তবায়নের পর হামাসের গাজা সরকারের মিডিয়া প্রধান ইসমাইল আল-থাওয়াবতা বলেছেন, তারা কোনো নিরাপত্তা শূন্যতা সৃষ্টি করবেন না, জনগণের নিরাপত্তা ও সম্পত্তির সুরক্ষায় দায়িত্ব পালন করছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, ভবিষ্যতে যদি ফিলিস্তিনে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়, তারা অস্ত্র সমর্পণ করতে প্রস্তুত। তবে, গাজার শাসন কাঠামো নির্ধারণে সিদ্ধান্ত ফিলিস্তিনিরাই নেবে, যেখানে বিদেশি কোন হস্তক্ষেপ কাম্য নয়।

    ফিলিস্তিনি বিশ্লেষক রেহাম ওউদার মনে করেন, এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো হামাসের শক্তি প্রদর্শন ও ইসরাইলের সহযোগীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি। একই সঙ্গে তারা বোঝাতে চায়, গাজার আগামী শাসনব্যবস্থায় তাদের নিরাপত্তা বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে—যদিও ইসরাইল এটি মানবে না।

    অবশেষে, এই পরিস্থিতিতে গাজার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে, যা বর্তমানে সামগ্রিক সমস্যা এবং অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

  • পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে ভয়াবহ সংঘর্ষ, হত্যা উভয় পক্ষের বেশ কয়েক ডজন

    পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে ভয়াবহ সংঘর্ষ, হত্যা উভয় পক্ষের বেশ কয়েক ডজন

    পাকিস্তান-আফগানিস্তানের অসংখ্য চ্যালেঞ্জে পূর্ণ সীমান্তে আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। বুধবার ভোরে এই ভয়াবহ সংঘর্ষে দুই দেশের বেসামরিক নাগরিক ও সামরিক जवानসহ কমপক্ষে কয়েক ডজন মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। গত সপ্তাহে ঘটে যাওয়া প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর এবার নতুন করে উত্তেজনা বাড়ল, ফলে সীমান্তের শান্তি আবারও ভেঙে গেছে।

    ২০২১ সালে তালেবানের কাবুলের ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে এই সীমান্তে ব্যাপক অস্থিরতা বিরাজ করছে। দু’দেশের সেনা ও পুলিশ বাহিনীর মধ্যে লড়াই নিয়মিত হলেও, গত সপ্তাহে এই সংঘর্ষ ভয়াবহ রূপ নেয়। দীর্ঘ ২৬০০ কিলোমিটার বিস্তৃত এই সীমান্তে বরাবরই উত্তেজনা চলে আসছে।

    আফগান তালেবান গোষ্ঠী জানিয়েছে, বুধবার ভোরে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী স্পিন বোলদাকজেলায় আক্রমণ চালিয়েছে, যাতে অন্তত ২০ তালেবান যোদ্ধা নিহত হন। পাশাপাশি, পাকিস্তানের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তে রাতভর সংঘর্ষে আরও ৩০ জনের বেশি আফগান বেসামরিক নাগরিক নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছেন।

    পাকিস্তান পক্ষের দাবি, চামান জেলায় তালেবানরা হামলা চালিয়ে চারজন পাকিস্তানি নাগরিককে আহত করেছে। এছাড়া, ওরাকজাই জেলার পাশাপাশি অন্যত্র পাকিস্তানের সেনাদের সাথে সংঘর্ষে অন্তত ছয়জন সীমান্তরক্ষী নিহত ও ছয়জন আহত হন। সে জন্য পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে ৯ জঙ্গিরও মৃত্যু হয়েছে।

    অন্যদিকে, কাবুলের দাবি, পাকিস্তান স্পিন বোলদাক এলাকায় হামলা চালিয়েছে, যা পাকিস্তান সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলছে, সেই অভিযোগ ভিত্তিহীন। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বলে, এই অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং আসলে আফগানিস্তানে জঙ্গিদের লুকানো চেষ্টা করছে তালেবান।

    সীমান্ত বন্ধ হয়ে যাওয়া এই সংঘাতের পর, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও চলাচল অনেকটাই ব্যাহত হয়েছে। সীমান্তের বেশ কয়েকটি গেট এখন বন্ধ, যার ফলে পণ্যবাহী ট্রাকগুলো আটকা পড়েছে। আফগানিস্তানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই সীমান্ত দিয়ে প্রতি বছর খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসের সরবরাহ চলে আসছে পাকিস্তান থেকে।

    বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে নানা মহলে। চীন ও রাশিয়া, দুই দেশই শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য উভয়পক্ষের মধ্যে সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন, তিনি যদি চান তবে এই সংঘাতের অবসানে সহায়তা করতে পারেন।

    এদিকে, এই উত্তেজনার মধ্যে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার পাকিস্তানের চিরবৈরী প্রতিদ্বন্দ্বী ভারত সফরে গেছে। দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা চলছে। নয়াদিল্লি বলেছে, তারা দ্রুত কাবুলে পুনরায় তাদের দূতাবাস চালু করবে। অন্যদিকে, আফগান তালেবান সরকারের কূটনীতিকরাও ভারত যাওয়ার পরিকল্পনা করছে।

    তথ্যসূত্র: এএফপি, রয়টার্স।

  • পাকিস্তানে ভয়াবহ ট্রাক দুর্ঘটনায় এক পরিবারের ১৫ জন নিহত

    পাকিস্তানে ভয়াবহ ট্রাক দুর্ঘটনায় এক পরিবারের ১৫ জন নিহত

    পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের সোয়াত জেলায় ভোরের সময় একটি ভয়াবহ ট্রাক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ১৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও আটজন। দেশটির রেসকিউ সার্ভিস ১১২২ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংবাদমাধ্যম দ্য ডন এর প্রতিবেদনে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার সকালে সোয়াত মটরওয়ের টানেল নম্বর ৩-এর কাছে একটি ট্রাক উল্টে যায়, যা ঘটনাটি ঘটেছে। রেসকিউ ১১২২-এর মুখপাত্র শাফিকা গুলের ভাষ্য অনুযায়ী, এই দুর্ঘটনায় নিহতরা সবাই একই পরিবারের সদস্য, যাদের মধ্যে নারী, পুরুষ ও শিশু রয়েছে। তারা সোয়াতের বাহরাইন তহসিলের গাবরাল এলাকার বাসিন্দা এবং পাঞ্জাবের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। পথের এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় তাদের গাড়ি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলে দ্রুত রেসকিউ দল ও পুলিশ গিয়ে উদ্ধার কাজ চালিয়ে আহতদের নিকটস্থ বাটখেলা জেলা সদর হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতাল সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে, নিহতের সংখ্যা ১৫, এর মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চারজনের চিকিৎসা চলছে। সোয়াতের স্থানীয় যে চারজন আহত হয়েছেন, তাদেরকে পরিস্থিতি অনুযায়ী সোয়াতে স্থানান্তর করা হয়েছে। এ ধরনের দুর্ঘটনা পাকিস্তানের মহাসড়কগুলোতে প্রায়ই ঘটে থাকে, যার মূল কারণ হলো বেপরোয়া গতি, ক্লান্ত চালক, গাড়ির পর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, দুর্বল সড়ক অবস্থা এবং ট্রাফিক আইন কতটা কার্যকর না হওয়া। গত মাসে এক দেরা ইসমাইল খানে ব্রেকফেল হয়ে একটি ট্রাকের সাথে সংঘর্ষে অন্তত ১১ জন নিহত ও তিনজন আহত হন। এর আগে আরও কিছু ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা যেমন, মানসেহরাতে একটি জিপ খাদে পড়ে দুই নারী নিহত ও চারজন আহত হন, এবং হারিপুরে হাজারা মোটরওয়ে এলাকায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্য প্রাণ হারান, এই সবই মানুষের জীবনে দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

  • বাংলাদেশ জার্নালিস্ট প্রটেক্ট কমিটির উদ্যোগে মিডিয়া ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত

    বাংলাদেশ জার্নালিস্ট প্রটেক্ট কমিটির উদ্যোগে মিডিয়া ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত

    বাংলাদেশের খুলনায় সাফল্যের সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে ‘মিডিয়া ক্যাম্পেইন’, যা বাংলাদেশ জার্নালিস্ট প্রটেক্ট কমিটি (বিজেপিসি), ফ্রি প্রেস আনলিমিটেড, আর্টিকেল ১৯ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে আয়োজিত। এটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন যেখানে সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও ঝুঁকি মোকাবিলার বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা হয়। বুধবার সকালে অনুষ্ঠিত এই ক্যাম্পেইনে খুলনা প্রেসক্লাবের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিজেপিসির সভাপতি কৌশিক দে বাপী ও সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান কবির। উপস্থিত ছিলেন ধ্র“ব অ্যালান্সের টিম লিডার মোহাম্মদ নাসিমুল হক, সিনিয়র কার্যনির্বাহী সদস্য মোস্তফা জামান পপলু, প্রটেক্ট কমিটির অন্যান্য সদস্য ও সাংবাদিক নেতারা। বিভিন্ন পর্যায়ে বক্তৃতা দেওয়ার পাশাপাশি তাঁরা সাংবাদিকের ঝুঁকি, নিরাপত্তা ও করণীয় বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানে অংশ নেন খুলনা প্রেসক্লাবের চেয়ারম্যান এনামুল হক, সাধারণ সম্পাদক রফিউল ইসলাম টুটুল, দৈনিক খোলনাঞ্চলের সম্পাদক মিজানুর রহমান মিলটন, দৈনিক সময়ের খবরের তরিকুল ইসলাম, খুলনা টাইমসের সম্পাদক সুমন আহমেদ, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসান হিমালয়, খুলনা সাংবাদিক সুরক্ষা মঞ্চের সদস্য সচিব মোঃ হেদায়েত হোসেন, দৈনিক কালের কণ্ঠের এইচ এম আলাউদ্দিন, সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি কায়েজী শামীম আহমেদ, এবং আরও অনেকে। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা সিএমকেএস’র নির্বাহী পরিচালক আবুল হোসেন, ধ্র“ব, সিডাব্লিউএফ ও সিএমকেএস’র অ্যাডভোকেসি ও যোগাযোগ অফিসার ইভানা আরফিন, মনিরুল ইসলাম ও প্রশান্ত কুমার মন্ডলসহ কমিউনিটি ফোরামের সদস্যরা। এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও ঝুঁকি মোকাবিলা বিষয়ক সচেতনতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

  • কয়রায় যুব সমাবেশে যাওয়ার পথে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা হিরার মৃত্যু

    কয়রায় যুব সমাবেশে যাওয়ার পথে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা হিরার মৃত্যু

    কয়রা উপজেলায় বিএনপি যুব সমাবেশে অংশগ্রহণের পথে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক আবু তাহের হিরা (৫০) ইন্তেকাল করেছেন। তিনি बुधवार দুপুর ৩টার দিকে পাইকগাছা উপজেলার গদাইপুরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুকালে তিনি পিতা-মাতা, স্ত্রী, ভাই-বোনসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও রাজনৈতিক সহকর্মী রেখে গেছেন। মরহুমের জানাজার নামাজ এশাবাদ নগরীর বসুপাড়া জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হয় এবং পরে বসুপাড়া কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। আবু তাহের হিরার মৃত্যুতে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

    জেলা ও দলীয় সূত্র জানিয়েছে, বুধবার রাতে জয়গান্য কয়রা উপজেলার স্বেচ্ছাসেবক দলের আয়োজনে যুব সমাবেশের জন্য প্রস্তুতি চলছিল। এই সময় তিনি পাইকগাছায় এক হোটেলে আলাপচারিতার জন্য বসে ছিলেন। তখনই তিনি হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করেন এবং অসুস্থ হয়ে পড়েন। দ্রুত স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা বলেন, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। তবে পথিমধ্যে গদাইপুরে পৌঁছানোর সময় তিনি মারা যান।

    উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ সঞ্জয় কুমার মন্ডল বলছেন, আবু তাহেরের শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনায় প্রেরণ করা হয়েছিল। এর আগে, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক মোল্লা ইউনুস আলী বলেন, হীরা ভাই অসুস্থ হলে প্রথমে হাসপাতালে আনা হয়, এরপর পথিমধ্যে তার মৃত্যু ঘটে।

    অন্যদিকে, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আতাউর রহমান রনু জানান, তিনি যুব সমাবেশে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। পথে পাইকগাছায় হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করেন ও হাসপাতালে ভর্তি হন। তবে চিকিৎসকদের প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয় এবং তিনি রাস্তায় মারা যান।

    এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন খুলনা বিএনপি কর্মকর্তারা। নেতৃবৃন্দ তার জন্য দোয়া ও মরহুমের আত্মার শান্তি কামনা করেছেন। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, আজীবন রাজনৈতিক সংগ্রামে যুক্ত এই সহযোদ্ধার আকস্মিক মৃত্যু রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। একই শোক প্রকাশ করেছেন ধানী শীষের প্রার্থী আমিরুল ইসলাম কাগজি ও অন্যান্য নেতা-কর্মীরা।

  • বিএনপি ক্ষমতায় গেলে টেকসই ভেড়িবাঁধ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি

    বিএনপি ক্ষমতায় গেলে টেকসই ভেড়িবাঁধ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি

    বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, যদি বিএনপি ক্ষমতায় আসে, তা হলে উপকূলীয় জনপদ কয়রায় টেকসই ও স্থায়ী ভেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে। এই লক্ষ্যে আগামী নির্বাচনে দেশের জনগণের ভোটে বিএনপিকে ক্ষমতায় আনতে হবে। তিনি আওয়ামীলীগের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, গত ১৬ বছর ধরে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ভোগ করে প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনী দিয়ে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের দমন-পীড়ন চালিয়েছে। মিথ্যা মামলায় হয়রানি, গুম, খুনের মাধ্যমে একটি স্বৈরশাসন চালানো হয়েছে, যার মাধ্যমে তারা প্রায় লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করে জনস্বার্থের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়েছে। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ শক্তিহীন হয়ে দেশের বাইরে পালিয়ে গেছে, যার মধ্যে দলের শীর্ষ নেতারা থাকলেও অনেক নেতা-কর্মীও পালিয়ে গেছে। এ ঘটনা বিশ্বের ইতিহাসে অনন্য ও নজিরবিহীন। তিনি বিশ্বাস করেন, আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের জনগণ ধানের শীষে ভোট দিয়ে তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে অত্যন্ত আগ্রহी।

    আজিজুল বারী হেলাল এ কথা বৃকেল বিকেল ৩টার সময় কয়রা মদিনাবাদ সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে কয়রা উপজেলা যুবদলের আয়োজনে এক তরুণ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেছেন। এই সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন যুবদলের খুলনা জেলা আহ্বায়ক মো. শরিফুল আলম, ও সঞ্চালনায় ছিলেন সদস্য সচিব মোহতাসিম বিল্লাহ ও সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়াক এহছানুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক এড. মোমরেজুল ইসলাম, পাইকগাছা উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক ডাক্তার আব্দুল মজিদ, ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ডাইরেক্টর সাংবাদিক আমিরুল ইসলাম কাগজি।

    প্রধান বক্তা হিসেবে ছিলেন খুলনা জেলা যুবদলের আহ্বায়াক এবাদুল হক রুবায়েত, এবং বিশেষ বক্তা ছিলেন খুলনা জেলা যুবদলের সদস্য সচিব নাদিমুজ্জামান জনি। সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন খুলনা জেলা বিএনপি’র সদস্য এম এ হাসান, মনিরুজ্জামান বেল্টু, আবু সাইদ বিশ্বাস, খুলনা জেলা যুবদলের যুগ্ম-আহবায়ক রুবেল মীর, ইঞ্জিনিয়ার জাহিদুর রহমান শাওন, যুবদল নেতা হাবিবুন্নবী, পীর আলী, জাকারিয়া আহমেদ, নাসির উদ্দিন, কয়রার বিএনপি নেতা শেখ সালাউদ্দিন লিটন, সরদার মতিয়ার রহমান, এফ এম মনিরুজ্জামান মনি, এড. মঞ্জুর আলম নান্নু, গাজী সিরাজুল ইসলাম, আঃ সামাদ, আবুল কালাম আজাদ, রফিকুল ইসলাম, হাফিজুর, রওশন মোল্যা, আবুল বাশার ডাবলু, মঞ্জুর মোর্শেদ, যুবদল নেতা আকবার হোসেন, হাফিজুর রহমান, আবুল কালাম আজাদ কাজল, আছাদুল ইসলাম, ইউনুস আলী, আনারুল ইসলাম ডাবলু, আহাদুর রহমান লিটন, দেলোয়ার হোসেন, কৃষক দল নেতা এস এম গোলাম রসুল, ওলামা দলের আহ্বায়ক মাওলানা গোলাম মোস্তফা, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা নুর ইসলাম খোকা, ডিএম হেলাল উদ্দিন, রবিউল ইসলাম, মহিলা দলের দিলরুবা মিজান, জাসাসের জামাল ফারুক জাফরীন, শ্রমিক দলের আকবার হোসেন, ছাত্রদল নেতা আরিফ বিল্লাহ সবুজ, মাহমুদ হাসান, ছাত্র নেতা ইমরান হোসেন, মামুন হোসেইন প্রমুখ।

  • যশোরে এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৫০.২০ শতাংশ

    যশোরে এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৫০.২০ শতাংশ

    এ বছর যশোর শিক্ষাবোর্ডে অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার হয়েছে ৫০.২০ শতাংশ। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ১০টায় এক সংবাদ সম্মেলনে যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোসাম্মাৎ আসমা বেগম এই তথ্য জানিয়েছেন। এই সংগঠন জানিয়েছে, মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১ লাখ ১২ হাজার ৫৭৪ জন, এর মধ্যে পাস করেছে ৫৬ হাজার ৫০৯ জন শিক্ষার্থী। এ বছরের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল বিভিন্ন বিভাগে: বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পাসের হার ছিল আশার মতো, ১৫ হাজার ৯৩১ শিক্ষার্থী পাস করেছেন। মানবিক বিভাগে পাসের সংখ্যা ৩৪ হাজার ৩ জন, আর ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় পাসের সংখ্যা ৬ হাজার ৬৭৫। জিপিএ-৫ পেয়েছে মোট ৫ হাজার ৯৯৫ জন শিক্ষার্থী, এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৩ হাজার ৩৮১, মানবিক বিভাগের ২ হাজার ১৭৯ এবং ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ৪৩৫ জন। তবে গত বছরের তুলনায় পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা কমেছে। গত বছর গড় পাসের হার ছিল ৬৪.২৮ শতাংশ ও জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৯ হাজার ৭৪৯ জন। এ বছর শূন্য পাসের কলেজের সংখ্যাও বেড়েছে, মোট ২০টি কলেজে কোনও শিক্ষার্থী পাশ করেনি। শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর আব্দুল মতিন বলেন, জুলাই মাসের আন্দোলনের কারণে কিছু শিক্ষার্থীর পরীক্ষায় ক্ষতিসাধন হয়েছে। পাশাপাশি, খাতার মূল্যায়ন আরও যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, আতঙ্ক ও কঠোর প্রতিযোগিতা থেকে বেরিয়ে এসে পরীক্ষায় ফলাফলের মান উন্নত হয়েছে। শূন্য পাসের কলেজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। যশোরের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আসমা বেগম জানান, ফলাফলের দিক থেকে কিছুটা আশানুরূপ না থাকলেও শিক্ষার মান উন্নত করতে আমি সচেষ্ট। আমাদের লক্ষ্য মেধাবী শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত ও উত্সাহিত করা, যাতে তারা ভবিষ্যতে সমাজে মূল্যবান অবদান রাখতে পারে।

  • বিকল্প কর্মসংস্থান না হলে শ্রমিকদের ইজিবাইক চালানো বন্ধ থাকবেই: বকুল

    বিকল্প কর্মসংস্থান না হলে শ্রমিকদের ইজিবাইক চালানো বন্ধ থাকবেই: বকুল

    বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল বলেছেন, দেশের তরুণ সমাজকে মাদক থেকে রক্ষা করতে হলে প্রথমত একটি সুস্থ ও পরিবেশবান্ধব প্রয়োজন। এর জন্য প্রয়োজন খেলাধুলার প্রসার। তিনি গতকাল বুধবার খানজাহান আলী থানাধীন সোনালী জুট মিলস ও কেডিএ এলাকাবাসীর সাথে এক সভায় এসব কথা বলেন।

    বকুল আরও বলেন, আমি হতবাক হই যখন দেখতে পাই স্কুল কর্তৃপক্ষ নিজেদের মাঠ বন্ধ করে দেয়। খেলাধুলার মাঠ বন্ধ থাকলে আমাদের সন্তানরা কীভাবে সুস্থভাবে বড় হবে? খেলাধুলার অভাব থাকলে তরুণদের মাদকের দিকে ধাবিত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। তাই তিনি স্কুল প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অতি দ্রুত মাঠ খোলার ব্যবস্থা করতে হবে। আমি নিজেও প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবো। খেলাধুলার প্রসার না থাকলে সুস্থ প্রজন্ম গড়া সম্ভব নয়।

    অতীতের দাবি অনুযায়ী, বকুল তিনটি ব্যাচের ফুটবল জার্সি বিতরণের ঘোষণা দেন এবং বলেন, আগে পড়াশোনা, তারপর খেলাধুলা — এই দুটোই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এই দুটোই তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখে।

    বিএনপি নেতা আরও উল্লেখ করেন, খুলনার শিল্পাঞ্চল পরিকল্পিতভাবে ধ্বংসের মুখে পড়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার শুধু কলকারখানা বন্ধ করেনি, বরং যন্ত্রপাতি থেকে শুরু করে দরজা-জানলা সব কিছু বিক্রি করে দিয়েছে। এর ফলে হাজারো শ্রমিক আজ কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। অনেকে ইজিবাইক বা রিকশা চালিয়ে জীবন চালিয়ে নিচ্ছেন, কিন্তু তাদের জন্য কোনও কর্মসংস্থান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

    তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যতক্ষণ না বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরি হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত শ্রমিকদের ইজিবাইক বা রিকশা চালানো বন্ধ করতে দেওয়া হবে না। তা না হলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। করোনা মহামারিকালে বিএনপি যে ভূমিকা রেখেছে, তা স্মরণ করে বকুল বলেন, ভয়াবহ সেই সময়েও বিএনপি শ্রমিকদের পাশে দাঁড়িয়ে অক্সিজেন সিলিন্ডার, খাদ্য ও ওষুধ বিতরণ করেছে। তখন কেউ ভোট চাইতে আসেনি; আজও আমি ভোটপ্রার্থনা করছি না, আমার লক্ষ্য শুধুই জনগণের পাশে থাকা।

    তিনি আরও বলেন, আগামী নির্বাচন ফেব্রুয়ারি মাসে হবে বলে ধারণা। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারই প্রকৃত গণতান্ত্রিক সরকার। যারা ভোটে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হয় না, তাদের জবাবদিহির প্রশ্ন উঠে না। এছাড়া, তিনি অভিযোগ করেন, একটি ষড়যন্ত্র চক্র নির্বাচন বন্ধ করতে চাইছে এবং জনগণের সরকারের প্রতিষ্ঠা বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে। এই ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

    বকুল ঘোষণা করেন, ৩১ দফা কর্মসূচির মধ্যে সাধারণ মানুষের জন্য নানা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ সামিল রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রতিটি পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘হেলথ কার্ড’ সরবরাহ, যা দেখিয়ে কম দামে চাল, ডাল, তেল, লবণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারবেন এবং হাসপাতালে বিনা টিকিটে চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারবেন।

    ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, यदि আল্লাহ চান এবং বিএনপিকে দায়িত্ব দেন, তাহলে খুলনা-৩ আসনে প্রথম কাজ হবে বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালু করা। পাশাপাশি একটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের উপর গুরুত্ব দেওয়া হবে যেখানে শ্রমিকরা সহজে এবং মানসম্পন্ন চিকিৎসা সেবা পাবেন।

    সভা শেষে বকুল বলেন, “আমরা আরও ১৭ বছর সংগ্রাম করেছি, অনেক রক্তে আমাদের লালিত সংগঠন। শেখ হাসিনা যেমন পালিয়ে গিয়েছে, আমরাও রাজপথে নামতে প্রস্তুত আছি। প্রয়োজনে তিনি তাদের অনুরোধ করলে, তারেক রহমানের ডাক অনুযায়ী রাজপথে গর্জে উঠতে আমরা প্রস্তুত।”

    সভায় উপস্থিত ছিলেন নগর বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন, খানজাহান আলী থানা বিএনপি সভাপতি কাজি মিজানুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আবু সাইদ হাওলাদার আব্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক মোল্লা সোহাগ, ইকবাল হোসেন মিজান, ইঞ্জিনিয়ার নুর ইসলাম বাচ্চু, কাজী জলিল, মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম রফিক এবং ডা. রইস উদ্দিন প্রমুখ।

    সভার সভাপতিত্ব করেন, ২নং ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি ও সোনালী জুট মিলস কারখানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুল লতিফ সরদার, এবং সঞ্চালনায় ছিলেন রাসেল মাহমুদ। এর আগে বিকেল ৩টায় রকিবুল ইসলাম বকুল খুলনা মহানগর ওলামা দলের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন, যেখানে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা মোঃ আবু নাইম, হাফেজ মোঃ আল আমিন, মোঃ মানজারুল ইসলাম ও কাজী মোঃ সোলায়মান।