Month: October 2025

  • সালাহউদ্দিনের ঘোষণা: জুলাই সনদে ভিন্নমতের নোট থাকবে

    সালাহউদ্দিনের ঘোষণা: জুলাই সনদে ভিন্নমতের নোট থাকবে

    এখানে উল্লেখ্য যে, জুলাইয়ের সনদে আমরা সব বিষয়ে স্বাক্ষর করব, তবে পাশাপাশি ভিন্নমত বা বিভেদরেখা সব সময় স্পষ্টভাবে উল্লিখিত থাকবে। প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এই কথাগুলো বলেন। তিনি বলেন, নোট অব ডিসেন্টের মাধ্যমে আমাদের ভিন্নমতের বিষয়গুলো পরিষ্কারভাবে চিহ্নিত করা হবে, কারণ এই নোট অব ডিসেন্ট দেওয়ার এখতিয়ার আছে এবং এজন্যই আমরা ঐকমত্যের ভিত্তিতে আলোচনা করেছি।

    বুধবার (১৫ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান। সালাহউদ্দিন আরও বলেন, আমাদের দেশ এই সংস্কার চায় এবং আমরাও চাই। যে কোনও দল ক্ষমতায় এলে বা জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল এই সংস্কার বাস্তবায়ন করতেই হবে।

    তিনি বলেন, ১৭ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় সংবিধান অনুযায়ী স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের পূর্বে প্রধান উপদেষ্টা আমাদের আশ্বস্ত করতে চেয়েছিলেন। সবাই যাতে অংশগ্রহণ করে এবং এই ঐতিহাসিক দলিলটি সংরক্ষণ করে, স্বাক্ষর করে।

    সালাহউদ্দিন জানান, আমরা সবাই এতে সম্মত হয়েছি। তবে কিছু বিষয়ে আলোচনা ও মতভেদ থাকলেও, তারা সব দল অংশ নেয়নি। তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এই লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। জুলাইয়ের সনদ প্রণয়ন ও অন্যান্য কার্যক্রমের মূল লক্ষ্যও এই নির্বাচনই, যা সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিশ্বস্ত হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই সনদ ও নির্বাচন কার্যক্রমের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক নেই।

    তিনি বলেন, এই সংস্কার সারা জাতি চায় এবং আমরাও চাই। বাংলাদেশে যে কোনও ক্ষমতাসীন দল বা অধিক সংখ্যক আসনপ্রাপ্ত দল এই সংস্কার বাস্তবায়ন করবে। গণভোটের মাধ্যমে জনগণের পক্ষ থেকে সার্বভৌম ক্ষমতা সংসদকে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যার মাধ্যমে এই সংস্কারগুলো জাতীয় স্বার্থে গ্রহণ করা হবে। এগুলোর জন্য গণভোটের আয়োজন করা হবে, যাতে জনগণ সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

    বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, আলোচনা মূলত সেই বিষয়ে ছিল যেখানে রাজনৈতিক দলগুলো একমত বা অমত রয়েছে। যেখানে দ্বিমত বা ভিন্নমত রয়েছে, সেগুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি বলেন, যদি জুলাইয়ের সনদ স্বাক্ষরিত হয় এবং এতে ভিন্নমত থাকলে, তখন গণভোটে একমাত্র প্রশ্ন উঠবে—“এই সনদ আপনার পক্ষে কি?”। আশা করা হচ্ছে, এই ভোটে প্রচুর মানুষ অংশ নেবে, কারণ সাধারণ জনগণ এই সংস্কারের পক্ষে।

    অবশেষে তিনি বলেন, সব দল ও জনগণের সমর্থনে এই সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়িত হবে। তার কথায়, জনগণই এই সংস্কারের সুরক্ষা ও স্বীকৃতি দেবে এবং তারা এই পরিবর্তনকে স্বীকৃতি দেবে জাতীয় স্বার্থে।

  • জুলাই সনদে স্বাক্ষর মানতে না পারলে জামায়াতের অস্থিরতা, গণভোটের দাবিতে থাকার সংকেত

    জুলাই সনদে স্বাক্ষর মানতে না পারলে জামায়াতের অস্থিরতা, গণভোটের দাবিতে থাকার সংকেত

    জাতীয় সংসদের উভয় কক্ষে পিআর (প্রচার মাধ্যমের ভোটাধিকার) পদ্ধতিতে নির্বাচনের জন্য জুলিই সনদে আগাম NOVEMBER মাসে গণভোট আয়োজনের প্রস্তাব যদি অন্তর্ভুক্ত না করা হয়, তাহলে জামায়াতে ইসলামীরা সে সনদে স্বাক্ষর করবেন না বলে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। এই ঘোষণা দিয়েছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মি. গোলাম পরওয়ার। বৃহস্পতিবার রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন, যেখানে ‘জুলাই জাতীয় সনদের আইনি ভিত্তি, গণভোট এবং পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন’ শীর্ষক আলোচনা হয়। 
    তিনি বলেন, ‘আগামীকাল আমরা জুলিই সনদের স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছি এবং দলের মধ্যে আমাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। যদি নভেম্বরের গণভোটের জন্য প্রস্তাবিত বিষয়গুলো সমাধানে আলোচনা করে আমাদের সন্তুষ্টি আসে, তবে আমরা স্বাক্ষর করতে পারব। কিন্তু যদি তাদের দৃষ্টি হয় যে, এই বিষয়গুলো অপ্রয়োজনীয় বা অগ্রাধিকার নয়, তাহলে স্বাক্ষরে অনাগ্রহ থাকবে।’
    প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদের খসড়ায় উভয় কক্ষে পিআর প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, সেটি গণভোটের মাধ্যমে সবাইকে জানাতে হবে। যদি সাধারণ মানুষ তা গ্রহণ করে, তাহলে আমাদের মানতে হবে। আর যদি না মানে, তবুও মানতে হবে। কারণ, জনগণের মতামত না নেওয়া হলে এ বিষয়টি অচল হয়ে যাবে।’
    তিনি আরও বলেন, ‘কেউ কেউ বলছেন, একদিনে গণভোট ও নির্বাচন সম্ভব নয়। তবে নভেম্বরের মধ্যে গণভোট সম্পন্ন করার পক্ষে আমরা। এক দিনে না হলেও, দুই বা তিন দফায় ভোটাভুটির পরিকল্পনা থাকতে পারে। এই জন্য জরুরি সময়ের বাইরে না গিয়ে সময়মতো পরিকল্পনা করতে হবে।’
    অন্যদিকে, গোলাম পরওয়া অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু উপদেষ্টা গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে হঠাৎ কিছু গোপন সম্পর্কের জালঁর উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টাকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘শুধু ভয় দেখানো বা বিভ্রান্ত করা তুলনায় মূলত উদ্দেশ্য হচ্ছে, কোন বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা যদি হয় তাহলে তা রুখে দেওয়া হয়।’
    জামায়াতের প্রধান বলেন, ‘ইতোমধ্যে অনেক সংস্কার করা হয়েছে, কিন্তু তা কি যথেষ্ট? যদি কোন দলের পকেটে আরেকটি বড় রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক সুবিধা নিয়ে রাষ্ট্রকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে, তাহলে এই সকল পরিবর্তন বৃথা হয়ে যাবে। প্রধান উপদেষ্টাকে সাবধান থাকতে হবে, না হলে দেশের সব রক্তদানের কর্মসূচি, অভ্যুত্থান বা চুক্তি অর্থবহ থাকবে না।’

  • মির্জা ফখরুলের ওই নোট অব ডিসেন্ট যদি লিপিবদ্ধ হয়, বিএনপি জুলাই সনদে স্বাক্ষর করবে

    মির্জা ফখরুলের ওই নোট অব ডিসেন্ট যদি লিপিবদ্ধ হয়, বিএনপি জুলাই সনদে স্বাক্ষর করবে

    বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা অবশ্যই জুলাই সনদে স্বাক্ষর করব, যদি আমাদের করা নোট অব ডিসেন্ট (ভিন্নমত) গুলোর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়। তিনি বলেন, যদি যেসব বিষয় নিয়ে আমরা ভিন্নমত পোষণ করেছি, সেগুলো যদি লিখিতভাবে রেকর্ড করা হয়, তবে আমাদের স্বাক্ষর করার দরজা খুলে যাবে। বৃহস্পতিবার রাতে ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈলের বন্দর এলাকায় উপজেলা বিএনপি আয়োজিত এক পথসভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

    মির্জা ফখরুল আরও বলেন, সাংবাদিকরা hỏiেছিলেন, বিএনপি কি সত্যিই জুলাই সনদে স্বাক্ষর করবে? উত্তরে তিনি বলেন, একটু অপেক্ষা করুন। দু’টি দল ইতিমধ্যেই বলেছে, এরূপ সনদে স্বাক্ষর তখনই করবে যখন তাদের বিষয়গুলো লিখিতভাবে মান্যতা দেয়া হবে। কিন্তু বিএনপি সেই কথা বলে আসছে না। বরং বলেছে, আমরা অবশ্যই সনদে স্বাক্ষর করব, যদি আমাদের ভিন্নমত গুলো লিপিবদ্ধ করা হয়।

    তিনি সবাইকে ধৈর্য্য ধারণ করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, আমরা গণভোটের ভিত্তিতে এগুচ্ছি। জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আজকের পরিস্থিতিতে আমরা একটি ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে চলেছি। ভবিষ্যতে সিদ্ধান্ত জানানোর সময় আসবে, তখনই জানানো হবে, বিএনপি কি সনদে স্বাক্ষর করবে কি না। তিনি আরও বলেন, অস্থির হওয়ার কিছু নেই, একটু অপেক্ষা করুন। একটু টেনশন থাকা ভালো, কারণ এটা স্বাভাবিক।

    মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরে আসার জন্য প্রস্তুত। তিনি বলেন, তার ফিরে এলে জনগণের মধ্যে সৃষ্টি হবে একটি উত্তাল আগুন, সেই উত্তাল তরঙ্গের মধ্যে সব অপশক্তি ধ্বংস হয়ে যাবে।

    তিনি বলেন, আমাদের জন্য অতন্দ্র সুযোগ চিরকাল আসে না। আমাদের সামনে যে সুযোগ এসেছে, তা হলো গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা, একটি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করা এবং আমাদের ভবিষ্যৎকে গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে নেয়া। সেই সুযোগকে আমরা গ্রহণ করব।

    মির্জা ফখরুল আরও বলেন, বিএনপি একটি পরীক্ষিত রাজনৈতিক দল। যার জন্ম গণতন্ত্র এবং সংস্কারের মাধ্যমে। বিএনপি শুরু করেছে বহুতল গণতন্ত্রের ভিত্তিতে রাজনীতি। দুঃখজনকভাবে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাটিও বিএনপিই সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। এই সরকার পরিচালিত অনেক সুষ্ঠু নির্বাচন তাঁদের অধীনে হয়েছে, কিন্তু পরে শেখ হাসিনা সেটি বন্ধ করে দিয়েছেন কারণ, বোঝা গেছে, অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপি জিততে পারবে না।

  • তাহের বলছেন, অনুষ্ঠানে যান কি না, সিদ্ধান্ত দিন দিনই জানা যাবে

    তাহের বলছেন, অনুষ্ঠানে যান কি না, সিদ্ধান্ত দিন দিনই জানা যাবে

    জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুলাহ মোহাম্মদ তাহের নিশ্চিত করেছেন যে, তারা আগামী শুক্রবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য ঢাকা দাওয়াত পেয়েছেন। তিনি আশা করছেন, ওই দিন তারা উপস্থিত থাকবেন। তবে, তারা সনদে স্বাক্ষর করবেন কি না, সেই সিদ্ধান্তের জন্য সবাই অপেক্ষা করছে। বৃহস্পতিবার রাতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের জরুরি এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তাহের এ কথা বলেন।

  • নাহিদ ইসলাম: জুলাই সনদের আইনগত ভিত্তি নিশ্চিত না হলে অংশ নেবো না

    নাহিদ ইসলাম: জুলাই সনদের আইনগত ভিত্তি নিশ্চিত না হলে অংশ নেবো না

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, জুলাই সনদের কার্যকারিতা নিশ্চিত না হলে এই উদ্যোগে তিনি অংশ নেবেন না। তিনি আজ বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) দলীয় অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে මෙම কথা বলেন। নাহিদ ইসলাম জানান, যদি জুলাই সনদের অর্ডারে স্বাক্ষর করা হয় এবং এর আইনগত ভিত্তি বা নিশ্চিতকরণ নেই, তাহলে সেই স্বাক্ষর মূল্যহীন হবে। তিনি আরও বলেন, নতুন সরকারের পতাকা খাড়া হলে কি ধরনের টেক্সট ও আসবে, কেমন পদক্ষেপ নেবে—এই ব্যাপারে স্পষ্টতা থাকতে হবে। এই বিষয়গুলো নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত, তিনি এই সনদের স্বাক্ষরের জন্য নিজেদের অংশগ্রহণ প্রত্যাখ্যান করবেন।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই সনদ কার্যকরের আদেশটিকে অবশ্যই সনদ স্বাক্ষরের আগে প্রকাশ করতে হবে। এই আদেশটি জনগণের সার্বভৌম সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে প্রধান উপদেষ্টা দ্বারা জারি হতে হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট খসড়া তালিকা আগে দেখা ও বোঝা প্রয়োজন যাতে এই বিষয়গুলোতে তার দলের ঐক্যমত তৈরি হয়।

    ড. ইউনূসের ব্যাপারে তিনি বলেন, যেহেতু তিনি গণঅভ্যুত্থানের শক্তি ব্যবহার করে সরকারের গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, সেই কারণে এই সনদ ও আদেশ এগুলোর বিষয়টি প্রেসিডেন্টের পরিবর্তে গভর্নমেন্টের পক্ষ থেকে ড. ইউনূস জারি করবেন।

    এনসিপির আহ্বায়ক আরও বলেন, জুলাই সনদে মোট ৮৪টি সংস্কারের বিষয় থাকবে, আর এটাই গণভোটে যাবে। তবে, এই ভোটে নোট অব ডিসেন্ট বা মতভেদ বোঝানোর কোনও আলাদা কার্যকারিতা থাকবে না। গণভোটের প্রশ্নদুটি আগেই চূড়ান্ত করতে হবে যাতে রাজনৈতিক দলগুলো মতপ্রকাশের সুযোগ পায়।

    সর্বশেষ, তিনি বলেন, যদি জনগণ এই সনদে সমর্থন দেয় এবং গণভোটে পক্ষে ভোট দেয়, তাহলে পরবর্তী সংসদ সেই অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তবে, এই সংস্কারে কী ধরনের সংশোধনী আনা হবে, সেই বিষয়ে এখনো পরিষ্কার ধারণা তৈরি হয়নি।

  • অক্টোবরের মধ্যে জুলাই সনদের আইনগত ভিত্তি নিশ্চিত করবে কমিশন: আলী রীয়াজ

    অক্টোবরের মধ্যে জুলাই সনদের আইনগত ভিত্তি নিশ্চিত করবে কমিশন: আলী রীয়াজ

    আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে Julho সনদের আইনি ভিত্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারকে পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ দেবে বাংলাদেশ কমিশন। এই বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার ব্রিফিংয়ে কথা বলেন কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ। তিনি জানান, সব রাজনৈতিক দল আগামী শুক্রবার এই সনদে স্বাক্ষর করবে। তবে, কেউ চাইলে কমিশনের মেয়াদে অন্য কোনো দিনেও স্বাক্ষর সম্পন্ন করতে পারবেন। আশা করেন, সরকারের পক্ষ থেকে এ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে।

    বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের এলডি হলে জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি ও অবস্থা তুলে ধরে এই ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, দীর্ঘ দিনের প্রচেষ্টার ফল হিসাবে শুক্রবার এই স্বাক্ষর অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন হতে যাচ্ছে। এতে সমস্ত প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা এই গুরুত্বপূর্ণ কাজে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণপত্র পেয়েছেন। গত এক বছর ধরে দলের সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান তিনি।

    তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো ৮৪টি বিষয়ে একমত হয়েছে, তবে কিছু বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট বা মতভিন্নতা রেখেছে। এর পরেও নানা মতভেদ সত্ত্বেও এগোতে সক্ষম হয়েছে দলগুলো। ভবিষ্যতেও এই আলোচনা ও সমন্বয় চালিয়ে যেতে চান তারা। তিনি উল্লেখ করেন, এই সনদের বাস্তবায়নে যাতে কোনও রকম ব্যত্যয় না ঘটে, সেজন্য তৎপরতা চালানো হচ্ছে। সব পক্ষের ত্যাগ ও অবদানগুলোর জন্য তাদের প্রশংসা করেন তিনি।

    অধ্যাপক রীয়াজ বলেন, এই প্রক্রিয়া এখানেই শেষ নয়, বরং সংস্কার প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। আরও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনা চালিয়ে যাবেন তারা। সবাইকে আহ্বান জানিয়েছেন নতুন এই যাত্রায় অংশ নিতে, কারণ এই আন্দোলন ও প্রক্রিয়া সাধারণের জন্য। যারা প্রাণ উৎসর্গ করেছেন, তাঁদের জন্য বিশেষ দায়িত্বও অনুভব করেন তিনি।

    তিনি জানান, আগামীকাল অঙ্গীকারনামায় প্রথমে স্বাক্ষর করবেন রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিরা, এরপর কমিশনের সদস্যরা, এবং শেষে প্রধান উপদেষ্ঠা স্বাক্ষর করবেন। এর মাধ্যমে এই স্বাক্ষর কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে তারা দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ।

    এ ছাড়াও, ৩ হাজার পৃষ্ঠার ৮ খণ্ডের সামগ্রী সংশ্লিষ্টদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। শেষমেশ পুরো সনদ ও এর আইনি ভিত্তির ওপর একটি শক্তিশালী প্রমাণ হাজির থাকবে, যা কোনও বিকল্প নেই।

    অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, এনসিপি যদি সনদে স্বাক্ষর না করে তবে তার বিষয়ে আমরা গভীরভাবে দেখছি। কারণ তারা দীর্ঘদিন এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং সেনেটের বৈঠকেও অংশগ্রহণ করেছেন। আশা করি, তারা এই বিষয়ে আসবেন।

    বড় রাজনৈতিক দলগুলো যদি দেশের স্বার্থে নিজেদের মতামত না দেন, তাহলে বিষয়টি রাজনৈতিক পর্যায়ে থাকবে। কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি, সবাই দায়িত্বশীল হয়ে নিজস্ব ভাবনা ও সিদ্ধান্ত নিবেন। আইনি প্রক্রিয়ায় এই সকল মতামত বিবেচনা করে সফলতা সম্ভব বলে মনে করছেন তিনি।

    বিএনপি, জামায়াত ও বাম দলগুলো কিছু বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন, যা নিয়ে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। তবুও, তারা আসার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

    যদি সব দল স্বাক্ষর না করে, তবে ভবিষ্যতে কী হবে— এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়ায় প্রতিটি দলের মতামতের গুরুত্ব রয়েছে। এর জন্য গণভোটের আইনি ব্যবস্থা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে সংসদেও কিছু গঠনমূলক ক্ষমতা থাকবে। দলগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ও অ-আনুষ্ঠানিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হবে।

    সম্মেলনে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, এই ঐক্য ও consensus বাংলাদেশের ইতিহাসের বিরল ঘটনা। Julho সনদের স্বাক্ষর সবচেয়ে বড় অংশগ্রহণের আয়োজন, যা একটি ডকুমেন্টারিও দেখানো হবে। তিনি জানান, এই সনদ দেশের ভাগ্য পরিবর্তন আনবে বলে আশা করি। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি উৎসবমুখর পরবর্তী নির্বাচন দিকে এগিয়ে যাবে। স্বাক্ষর অনুষ্ঠান যেন স্মরণীয় হয়ে ওঠে, সেই প্রত্যাশাতেও তিনি আত্মবিশ্বাসী।

    ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন, বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. মো. আইয়ুব মিয়া ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।

  • আজ স্বাক্ষর হবে ঐতিহাসিক জুলাই জাতীয় সনদ

    আজ স্বাক্ষর হবে ঐতিহাসিক জুলাই জাতীয় সনদ

    দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক সংস্কার ও পরিবর্তনের লক্ষ্যে প্রায় আট মাস ধরে চলা আলোচনা শেষে আজ শুক্রবার অবশেষে ঐতিহাসিক ‘জুলাই জাতীয় সনদ, ২০২৫’ স্বাক্ষর করা হচ্ছে। বিকেলে রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এই গুরুত্বপূর্ণ সনদে স্বাক্ষর করবেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের চেয়ারম্যান এবং সদস্যরা, পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দুইজন করে প্রতিনিধি।

    অভূতপূর্ব এই উদ্যোগ শুরু হয় গত বছর আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর, যখন রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে সংস্কারমূলক কাজের সূচনা করা হয়। প্রথম ধাপে গঠিত হয় ছয়টি সংস্কার কমিশন (সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থাপনা, জনপ্রশাসন, দুর্নীতি দমন, পুলিশ ও বিচার বিভাগ), যারা তাদের প্রস্তাব নিয়ে দফায় দফায় দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে। প্রাণবন্ত আলোচনায় অংশ নেন ৮৪টি দলের প্রতিনিধিরা।

    গত মাসগুলোর মধ্যে এর প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়, যেখানে খসড়া জাতীয় ঐকমত্যের জন্য সংশোধন ও বিষয়াবলী চূড়ান্ত করা হয়। ১৬ আগস্ট এই খসড়া রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠানো হয়, তবে কিছু ত্রুটি থাকায় সংশোধন করে নতুন খসড়া পাঠানো হয়। এরপর ২০ আগস্ট থেকে ২২ আগস্ট পর্যন্ত দাপ্তরিক আলোচনা চলতে থাকে। বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ, রাজনৈতিক নেতৃবর্গ ও জটিল বিষয়াদি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও মতামত সংগ্রহের পর, সব ধরনের মতামত ও পর্যালোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত সংস্কার প্রস্তাব তৈরি হয়।

    গত ১৪ অক্টোবর এই চূড়ান্ত সংশোধিত সনদের এক কপি রাজনৈতিক দলের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত বিচিত্র গণঅভ্যুত্থান ও আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণের আকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের অঙ্গীকার হিসেবে এই সনদ গ্রহণ করা হয়। এতে বাংলাদেশের গণতন্ত্র, মানবাধিকার, স্বচ্ছতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    প্রধান উদ্দেশ্য হলো দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে চলমান গণতান্ত্রিক আন্দোলন, সরকার পতনের আন্দোলন ও অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানের ফলে প্রাপ্ত জনাদ্বারা গৃহীত এই সনদকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া। এতে বলা হয় যে, এই সনদ বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামো, নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, প্রশাসন, পুলিশ ও দুর্নীতি দমন ব্যবস্থা নাগরিকস্বার্থে জীবন্ত ও কার্যকর করার জন্য দ্রুত আইনগত ও সাংবিধানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

    সনদে উল্লেখ করা হয় যে, জনগণের এ স্বীকৃতি ও ঐকমত্যকে দেশের সংবিধানে যথাযথভাবে সংযুক্ত করা হবে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো দেশের শাসনব্যবস্থা ও নাগরিক অধিকার পুনঃস্থাপন বা শক্তিশালীকরণ, সংবিধান ও আইনি প্রক্রিয়া সংস্কার, সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস পুনঃপ্রতিষ্ঠা।

    অতীতে অনেক ষড়যন্ত্র ও অপপ্রয়াসের পরও বাংলাদেশিরা তাদের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা ও সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। জনগণের সাহস, উদ্দীপনা ও ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ফলস্বরূপ এই ঐতিহাসিক সনদ সম্পন্ন হলো এবং স্বাক্ষর অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে তা কার্যকর করতে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে এক নব উদ্দীপনা, শুদ্ধতা ও গণতান্ত্রিক চেতনা পুনরুজ্জীবিত হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

    প্রসঙ্গত, এই সনদে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দল ও জোটের তালিকা বিভিন্ন দলীয় ও মতাদর্শভেদে বিশ্লেষণ করে উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে দেখা যায় দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা এই ঐকমত্যের অংশ। এর মাধ্যমে একটি নতুন বাস্তবতা, স্বচ্ছতা ও গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত হয়েছে।

  • চট্টগ্রাম ইপিজেডে ভয়াবহ আগুন: কারখানার ছাদ-দেওয়াল ধরে পড়ে যাচ্ছে

    চট্টগ্রাম ইপিজেডে ভয়াবহ আগুন: কারখানার ছাদ-দেওয়াল ধরে পড়ে যাচ্ছে

    চট্টগ্রামের রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (সিইপিজেড)ে অবস্থিত অ্যাডামস ক্যাপস অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেড এবং জিহং মেডিক্যাল কোম্পানির গুদামে ভয়াবহ আগুন লেগে গেছে। পরিস্থিতি এতই মারাত্মক যে আগুন পুরো ভবনটির উঁচু-নিচু অংশ জ্বলে-পুড়ে ধসে পড়ছে।

    ঘটনা ঘটেছে বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) দুপুর সোয়া ২টার সময়, যখন আটতলা ভবনের সপ্তম তলায় অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিট প্রায় ամբողջ রাত পর্যন্ত অকুতোভয় লড়াই চালিয়ে গেলেও, আগুনের ধোঁয়া ও ভয়াবহতা কমানো কঠিন হয়ে পড়ে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শুরুতে আগুন সবচেয়ে বেশি বিস্তার লাভ করে আটতলা থেকে নিচের দিকে, এবং রাত সাড়ে ১১টার মধ্যে তৃতীয় তলা পর্যন্ত পৌঁছে যায়। তবে আগুনের ভয়াবহতা এতই বেশি যে তা পুরো ভবনকে ছড়িয়ে পড়ে, এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন।

    প্রাণঘাতী এই আগুনের কারণে রাতের বৃষ্টির সত্ত্বেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে না। আগুনের ভয়াবহতা ক্রমশো ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, আশপাশের অন্যান্য ভবনে আগুন লাগার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

    অগোছলো ছাদের অংশসহ ভবনের বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ছে, এবং মাঝে-মধ্যে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে অষ্টম ও সপ্তম তলার ছাদ পুরোপুরি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে।

    আগুনের তাপ প্রবাহের কারণে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কাছাকাছি যেতে পারছেন না। তারা দূর থেকেই পানি ফোটা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা চালাচ্ছেন। একই সময়ে আগুন পাশের তিনতলা ভবনেও ছড়িয়ে পড়ছে, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে।

    এছাড়া, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ নৌবাহিনী আগুন নিভানোর কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন।

    ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপপরিচালক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, ভেতরে দাহ্য পদার্থ থাকার কারণে আগুনের নিয়ন্ত্রণে বিশেষ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি তারা।

    কারখানার মালিকপক্ষ জানায়, বর্তমানে ভবনে কোনো শ্রমিক আটকা পড়েনি। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কত সময় লাগবে, তা এখনো বলা সম্ভব নয়।

  • খালেদা জিয়াকে আমন্ত্রণ জানালো জাতীয় ঐকমত্য কমিশন জুলাই সনদের স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে

    খালেদা জিয়াকে আমন্ত্রণ জানালো জাতীয় ঐকমত্য কমিশন জুলাই সনদের স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে

    বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে জাতীয় জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এই আমন্ত্রণ পৌঁছে দেন দেশের আর্থিক ও রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ এভেনিউয়ে অবস্থিত এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়ে, যেখানে তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন। এডভান্স সংসদীয় ও রাজনৈতিক দায়িত্বের অঙ্গ হিসেবে, বুধবার (১৫ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে খালেদা জিয়া হাসপাতালে ভর্তি থাকায়, বৃহস্পতিবার সকালে তার সঙ্গে এভারকেয়ার হাসপাতালে উপস্থিত হন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী সাংবাদিক মনির হায়দার।

    বলেন, বিএনপির মিডিয়া সেল সদস্য শায়রুল কবির খান, ‘আমরা আজ তাঁকে চমৎকারভাবে শুভেচ্ছা জানাতে গেলাম। খালেদা জিয়া হাসপাতালে বিছানায় শুয়ে থাকা অবস্থায় তিনি দাওয়াতের পত্রটি দেখেন।’ এর পাশাপাশি, তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বদিউল আলম মজুমদার, মনির হায়দার, এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক এজেডএম জাহিদ হোসেন।

    চিকিৎসকদের উপস্থিতিতে এটি একটি উল্লেখযোগ্য সামাজিক ও রাজনৈতিক মুহূর্ত, যেখানে জনপ্রতিনিধিরা সাধারণ মানুষের জন্য গঠিত প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

  • জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মেয়াদ আবারও বাড়লো

    জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মেয়াদ আবারও বাড়লো

    সরকার রবিবার (১৬ অক্টোবর) জানিয়েছে যে, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মেয়াদ আবারও বৃদ্ধি করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই কমিশনের মেয়াদ আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়েছে।

    প্রসঙ্গত, এই কমিশন নির্মাণের জন্য 지난해 ১২ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। তখনই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে, ছয় মাসের মধ্যে তারা একটি প্রতিবেদন দাখিল করবেন। তবে সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা ছিল ১৫ আগস্ট, কিন্তু কমিশনের কার্যক্রম শেষ না হওয়ায় মেয়াদ দুই দফায় এক মাস করে বাড়ানো হয়। শেষবার এই মেয়াদ ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ছিল।

    এমতাবস্থায়, এবার তৃতীয় দফায় আরও ১৫ দিন অর্থাৎ আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকার আশা করছে, এই সময়ের মধ্যে কমিশনের কাজ সম্পন্ন হতে পারবে এবং দেশের সার্বভৌম ঐকমত্য গড়ে উঠবে।