Month: October 2025

  • আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে মরক্কোর ইতিহাস রচনা

    আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে মরক্কোর ইতিহাস রচনা

    বিশ্ব ফুটবলে এক নজির সৃষ্টি করেছে মরক্কো। ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে বিশ্বসেরা আর্জেন্টিনাকে ২-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো শিরোপা জিতেছে আফ্রিকার এই দেশটি। রোববারের ঐতিহাসিক এই ম্যাচে জোড়া গোলের জন্য দলের নায়ক হয়ে উঠেছেন ১৯ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড ইয়াসির জাবিরি।

    ম্যাচের প্রথম গোলটি করেন তিনি ১২ মিনিটে, বাঁ পায়ের নিখুঁত ফ্রি-কিকের মাধ্যমে। এরপর ২৯ মিনিটে ওসমান মা’আম্মার পাস থেকে দুর্দান্ত এক ফিনিশিংয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন জাবিরি। পুরো ম্যাচজুড়ে আর্জেন্টিনার রক্ষা ব্যবস্থাকে ভেঙে দিতে আগ্রহী ও প্রভাবশালী ছিলেন তিনি।

    প্রথমার্ধে বল দখলে মরক্কো আধিপত্য দেখালেও (৭০ শতাংশের বেশি), আর্জেন্টিনা কোনও স্পষ্ট সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। পালের সম্ভাব্য গোলের কোন শট ছিল না। বিপরীতে, মরক্কো সুবিধা পেলেই দ্রুত ক্যানটাউন্ট আক্রমণে উঠেছিল। গোলরক্ষক ইব্রাহিম গোমিস বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে রক্ষা করেন।

    দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টিনা দলের মরিয়া চেষ্টা থাকলেও মরক্কোর সুশৃঙ্খল রক্ষণ এই চেষ্টা খাটো করে। মাহের কাররিজোর একটি ফ্রি-কিক অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়, আর হ্যান্ডবলের একটি ঘটনা ভিএআর টেস্টে হলেও তাঁরা পেনাল্টি পায়নি।

    মরক্কোর কোচ মোহামেদ ওয়াহবির পরিকল্পিত রক্ষণভাগ এবং দ্রুত পাল্টা আক্রমণের কৌশলই এই ফাইনালের মূল পার্থক্য গড়ে দেয়। ম্যাচের শেষ দিকে পরিবর্তন কৌশল কাজে লাগিয়ে মরক্কো গতি নিয়ন্ত্রণ করে খেলে।

    এই জয়ের মাধ্যমে আফ্রিকান ফুটবলের ইতিহাস নতুন করে লেখা হলো। ২০০৯ সালের পর এবারই প্রথম কোনও আফ্রিকান দেশ অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ শিরোপা জিতল।

    মরক্কোর এই অভিযান টিকে ছিল গ্রুপ পর্বে স্পেন ও ব্রাজিলকে হারানোর মাধ্যমে শীর্ষে উঠে আসার পর। এরপর নিখুঁত পারফরম্যান্সে তারা দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সকে হারিয়ে ফাইনালের পথে এগিয়ে যায়।

    অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা সপ্তম শিরোপার স্বপ্ন নিয়ে খেলছিল, কিন্তু ইয়াসির জাবিরির ঐতিহাসিক পারফরম্যান্সের কারণে সেই স্বপ্ন থেমে যায়। সম্ভবত এই রাতেই উঠে এল বিশ্ব ফুটবলের নতুন এক তারকার ছবি।

  • মুশতাকের মতে, রিশাদের টেস্ট অভিষেক সময়ের ব্যাপার মাত্র

    মুশতাকের মতে, রিশাদের টেস্ট অভিষেক সময়ের ব্যাপার মাত্র

    ম Mirpur এ বাংলাদেশের প্রথম ওয়ানডে জয় পরে মঙ্গলবার দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশ মুখোমুখি হচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের। এই ম্যাচটি জিতলে সিরিজে শিরোপা নিশ্চিত হবে টাইগারদের। স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, তারা সিরিজের সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতবে।

    মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ। একজন কোচ হিসেবে আমাদের মূল দায়িত্ব হলো ছেলেদের মধ্যে বিশ্বাস গড়ে তোলা। বিশ্বাস ছাড়া কিছু হয়তো সম্ভব নয়। মানসিক দৃঢ়তা এবং আত্মবিশ্বাসই হলো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পারফরম্যান্সের মূল চাবিকাঠি। বাংলাদেশি ক্রিকেটারের অগণিত প্রতিভা রয়েছে, যারা যে কোনো দলের জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তাই আমাদের শুধু বিশ্বাস রাখতে হবে।’

    প্রথম ওয়ানডে জয়ের নায়ক ছিলেন লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। একাই ৩৫ রানে ৬ উইকেট তুলে নিয়ে তিনি নজর কেড়েছেন। এই পারফরম্যান্সের পেছনে তিনি আফগান স্পিন জাদুকর রশিদ খানকে সঙ্গে নিয়ে আলাপ করেছেন বলে মনে করেন মুশতাক, ‘আমি চেয়েছিলাম রিশাদ রশিদের সঙ্গে কথা বলুক। তারা নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছে। রিশাদ আলাদা একজন স্পিনার হলেও তারা কিছুটা একই রকম ক্রিকেটীয় বুদ্ধিমত্তা দেখিয়েছে। তরুণ ক্রিকেটারদের উচিত সবার সঙ্গে আরও বেশি আলোচনা করা, বিশেষ করে রশিদ, আদিল রশিদদের মতো সিনিয়র খেলোয়াড়দের সঙ্গে। এতে অনেক লাভ হবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে রিশাদের গুরুত্ব এখন অনেক বেশি।’

    বাংলাদেশের স্পিন কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মুশতাক বলছেন, রিশাদ শুধু সীমিত ওভারের জন্যই নয়, টেস্ট ক্রিকেটেও তিনি একজন নির্ভরযোগ্য বিকল্প হতে পারেন।

    প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ২১ ম্যাচ খেলা ২৩ বছর বয়সী এই লেগ স্পিনার এখনও টেস্ট অভিষেক করেননি। তবে মুশতাকের বিশ্বাস—এই তরুণ ক্রিকেটার টেস্টে দ্রুত উঠতে পারবেন, ‘আমি শতভাগ নিশ্চিত, রিশাদ টেস্টে খেলার জন্য প্রস্তুত। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের মতো ব্যাটিং লাইনআপের বিপক্ষে তার লম্বা উচ্চতা ও বাউন্স সুবিধা কাজে লাগিয়ে যদি ভালো গুগলি বল করে, তবে তিনি খুবই কার্যকরী হতে পারেন। শেষ দিকের ব্যাটাররা তার গুগলি পড়তে না পারলে, তিনি টেস্টে আরও সফল হবেন। তবে সেটা তার নিজের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করবে।’

  • সিরিজ নিশ্চিতের ম্যাচে বাংলাদেশ দলে চার স্পিনার সহ ব্যাটিং অপশন নিয়ে খেলবে

    সিরিজ নিশ্চিতের ম্যাচে বাংলাদেশ দলে চার স্পিনার সহ ব্যাটিং অপশন নিয়ে খেলবে

    ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে মাত্র ২০৭ রানের নিরস পুঁজি নিয়ে বাংলাদেশ দল একটি বিশাল ব্যবধানে ৭৬ রানের জয় অর্জন করেছে। এখন লক্ষ্য সিরিজ নিশ্চিত করা, এজন্য দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দলের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। ম্যাচটি মিরপুরের শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে দুপুর দেড়টায় শুরু হবে।

    পূর্বের ম্যাচে মিরপুরের কালো উইকেটের জন্য আলোচনা কম নয়। এই ম্যাচেও স্পিনের উপর নির্ভর করে ক্যারিবিয়ান খেলোয়াড়দের বিপক্ষে শক্ত অবস্থান নেবে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে তারা তিন স্পিনার দিয়ে খেলেছিল—অপর দিকে ছিলেন তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান পেসার হিসেবে।

    দ্বিতীয় ম্যাচের আগেও কালো পিচের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে, তবে গত ম্যাচের তুলনায় উইকেট আজ খানিকটা আলাদা। সিরিজের মাঝপথে নির্বাচকরা স্পিনার নাসুম আহমেদকে দলে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আজকের একাদশে তাকে রেখেছেন টিম ম্যানেজমেন্ট, আর তাসকিন আহমেদের পরিবর্তে বাদ পড়েছেন।

    বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা আজ চারজন প্রামাণ্য স্পিনার ও একজন পেসার—মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে খেলবে। অন্যদিকে, উইন্ডিজ দলও স্পিনে শক্তি বাড়িয়েছে। তাদের দলে ঢুকেছেন আকিল হোসেন, এবং রোমারিও শেফার্ডের বদলে অভিষেক হচ্ছে অ্যাকিম অগাস্টের।

    বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশ: সৌম্য সরকার, সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন, তাওহিদ হৃদয়, মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), মাহিদুল ইসলাম, নুরুল হাসান (উইকেটকিপার), রিশাদ হোসেন, নাসুম আহমেদ, তানভির ইসলাম ও মোস্তাফিজুর রহমান।

    অপরদিকে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের একাদশে আছেন ব্রান্ডন কিং, অ্যালিক অ্যাথানেজ, কিসি কার্টি, শাই হোপ (অধিনায়ক ও উইকেটকিপার), শেরফান রাদারফোর্ড, অ্যাকিম অগাস্টে, রোস্টন চেজ, জাস্টিন গ্রিভস, গুঁড়াকেশ মোতি, খারি পিয়েরে ও আকিল হোসেন।

  • রোনালদো ছাড়াই ভারতে arrived আল-নাসর, ক্ষোভে ভরেছে সমর্থকরা

    রোনালদো ছাড়াই ভারতে arrived আল-নাসর, ক্ষোভে ভরেছে সমর্থকরা

    আগামীকাল ভারতের ক্লাব এফসি গোয়ার বিপক্ষে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এ মুখোমুখি হবে সৌদি ক্লাব আল-নাসর। তার জন্য পুরো দল সোমবার রাতেই ভারত সফরে এসেছে। তবে এই সফরে উপস্থিত নেই স্টার ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। এটাই ছিল সবচেয়ে আলোচিত বিষয়, কারণ আগে থেকেই ধারণা করা হচ্ছিল তিনি থাকবেন না। অবশেষে সেটাই সত্যি হয়েছে।

    সৌদি আরবের বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ পাওয়ার পর জানা যায়, গোয়া ম্যাচে রোনালদোকে বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে। এ কারণেই তিনি ভারতে আসবেন না বলে ধারণা করা হচ্ছিল। তবুও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না থাকায় রোনালদো-অনুরাগীরা আশা করছিলেন যে, হয়তো তিনি অংশ নেবেন। কিন্তু সব আশা ভেঙে গেছে, কারণ আল-নাসর কর্তৃপক্ষ এই অনুরোধ মানেনি।

    এখন পর্যন্ত আল-নাসর চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এ দুটি ম্যাচ খেলেছে, যেখানে রোনালদো অংশ নেননি। দলের চুক্তিতে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, সৌদি আরবের বাইরে ম্যাচ হলে রোনালদো নিজে নির্বাচন করবেন কবে খেলবেন ও কবে থাকবেন না। ফলে তার অনুপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ায় ফুটবলপ্রেমীরা যথেষ্ট হতাশ। বিশেষ করে গোয়ায়, যেখানে রোনালদোর আগমনের জন্য অনেক দিন থেকেই ব্যাপক উন্মাদনা ও আলোচনা চলছিল।

    গোয়ার মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্ত বলেছিলেন, রোনালদোর সম্ভাব্য সফর গোয়া নয়, বরং পুরো ভারতে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে এক উৎসাহের সৃষ্টি করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, “গোয়া সফরের খবর শুনে স্থানীয়দের মধ্যে প্রচণ্ড উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। যদি রোনালদো আসতেন, আমাদের তালিকার সবাই তার বিশাল প্রশংসা করত।”

    তবে এখন দেখা যাচ্ছে, তার ভারতে আগমন সম্ভব হচ্ছে না। জানা গেছে, স্টেডিয়ামের সব টিকিট ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গিয়েছে, কারণ সমর্থকেরা আশায় বুক বেঁধেছিলেন, যে তিনি আসছেন। বিশেষ করে, কিছু দিন আগে আল-ফাতেহের বিরুদ্ধে রোনালদোর করা গোল দেখার পর সমর্থকরা আশায় ছিলেন। কিন্তু এবার তারা দুঃখিত হচ্ছেন।

    অন্যদিকে, গোয়া এফসির একজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে যে, আল-নাসর দলকে দেখার জন্য সরকারিভাবে কোনো বাধা থাকবে না। সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে, যেন কোনো ধরনের অসুবিধা না হয় এবং তারা যাতে সহজে দর্শনার্থীদের সাথে চলাচল করতে পারে, সেটি নিশ্চিত করা হবে।

  • শ্রীলঙ্কার কাছে ৭ রানের হৃদয় ভাঙা পরাজয়ে বাংলাদেশের মেয়েরা

    শ্রীলঙ্কার কাছে ৭ রানের হৃদয় ভাঙা পরাজয়ে বাংলাদেশের মেয়েরা

    বিশ্বকাপে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দল শ্রীলঙ্কার কাছে খুব কাছ থেকে হার মানে হৃদয় ভেঙে। শারমিন সুপ্তা ও নিগার সুলতানা জ্যোতির ব্যাটে জয়ের পথে ছিল বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর আশা। তবে সুপ্তার ইনজুরি এবং শেষ দ্রুত উইকেট হারানোর কারণে ৭ রানের হার নিয়ে ম্যাচটি শেষ হয়ে যায়, যার ফলে বাংলাদেশ গ্রুপ থেকে বাদ পড়তে বাধ্য হয়। এক ম্যাচ হাতে থাকলেও সম্ভাবনাময় এই ইতিহাসের জন্য তাদের পথ বন্ধ হয়ে যায়।

    ম্যাচের শুরুতে ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কা নারী ক্রিকেট দল মাত্র আট বলের মধ্যে ২০২ রানের অলআউট হয়। ইনিংসের প্রথম বল থেকেই তারা উইকেট হারাতে শুরু করে, তবে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৭২ রান যোগ করে। কিন্তু স্পিনার রাবেয়া খান ঝড়ো লাইন ও লাইন দিয়ে জুটিকে ভেঙে দিয়ে আক্রমণ চালান। তিনি ৪৩ বলে ৪৬ রান করা লঙ্কান অধিনায়ক আতাপাথুকে আউট করেন।

    এরপর ১০০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতি কঠিন হয়। হার্শিতা সামারাবিক্রমা ৪ রান করে রানআউট হলেও, ষষ্ঠ উইকেটে আবার ৭৪ রান যোগ করে লঙ্কানরা বড় সংগ্রহের পথে এগোতে থাকে। তবে নিলাক্ষ্মী ৩৮ বলে ৩৭ রান করে আউট হওয়ার পর, ওপেনার হাসিনি পেরেরা ১৩টি চারের সঙ্গে একটি ছক্কা মারলে ৮৫ রানে আউট হন, যা তাদের মানসম্মত ইনিংস।

    বিপরীতে, বাংলাদেশের শুরু ভয়ানক ছিল। ৪৪ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর, ওপেনার রাবেয়া হায়দার (শূন্য) ও ফারহানা হক ফিরে যান। তবে সুপ্তা ও জ্যোতি একসাথে ১৩২ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশের পরিস্থিতি কিছুটা সহজ করেন।

    কিন্তু সুপ্তা ৬৪ রান করে ইনজুরিতে মাঠ ছাড়লে দলের জন্য একটু ঝামেলা তৈরি হয়। স্বর্ণা ও জ্যোতি দলের ঝড় তুলতে থাকলেও, স্বর্ণা ২৭ বলে ১৯ রান করে ফিরে যান, যা দলকে চাপে ফেলে।

    শেষের দিকে বাংলাদেশকে জিততে দরকার ছিল ৯ রান। ৪৮তম ওভারে ৯ রান তুলে নেওয়া হয়। কিন্তু ৪৯তম ওভারে ৩ রান নিয়ে রবীন্দ্র মনিকে হারানো, তার কারণে শেষ ওভারে বাংলাদেশ ৯ রান তুলতে সক্ষম হয়নি। শেষ ওভারে বাংলাদেশের জেতার জন্য দরকার ছিল ৯ রান। প্রথম চার বলেই উইকেট হারিয়ে যায়, আর জ্যোতি ক্যাচ দিয়ে যান। তিনি ৯৮ বলে ৭৭ রান করেন।

    বাংলাদেশের হয়ে স্পিনার স্বর্ণা আক্তার ১০ ওভারে ২৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন। রাবেয়া ৯ ওভারে ২৯ রান দিয়ে ২ উইকেট পান। মারুফা, নিশিতা ও নাহিদা প্রত্যেকে একটি করে উইকেট নেন। দলের দুই ব্যাটার রান আউট হয়ে যান। শেষ ওভারে ৪ উইকেট নেওয়া চামারি আতাপাথু ১০ ওভারে ৪২ রান দেন। সুগন্ধিকা কুমারী ২ উইকেট নিয়ে দলের নিয়ন্ত্রণে রাখেন। বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ ভারতের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত হবে।

  • হুথি বিদ্রোহীরা আটকের মাধ্যমে জাতিসংঘ কর্মীদের ওপর হামলা বাড়ালো

    হুথি বিদ্রোহীরা আটকের মাধ্যমে জাতিসংঘ কর্মীদের ওপর হামলা বাড়ালো

    ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানায় পরিচালিত একটি জাতিসংঘ কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে অন্তত দুই ডজনের বেশি জাতিসংঘ কর্মীকে আটক করেছে। এই ঘটনাটি সম্প্রতি ঘটে চলা পরিস্থিতির মধ্যে নতুন এক সংকটের সৃষ্টি করেছে। জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর মুখপাত্র জিন আলম জানিয়েছেন, রবিবার সকালে সানার হাদা জেলাভেক জোনের এক কম্পাউন্ডে কর্মীদের আটক করা হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে অন্তত পাঁচজন ইয়েমেনি কর্মচারী এবং ১৫ জন আন্তর্জাতিক কর্মী রয়েছেন। পাশাপাশি, আরও ১১ জন কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পরে ছেড়ে দেয়া হয়।

    আলম বলেন, এই গুরুতর পরিস্থিতির দ্রুত সমাধানে জাতিসংঘ যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে। তারা সকল আটকদের মুক্তি ও সানার উপর থেকে তাদের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারে হুথি ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের সাথে সরাসরি আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

    একজন নিরপেক্ষ সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় হুথি বাহিনী কম্পিউটার, ফোন, সার্ভারসহ সব যোগাযোগ সরঞ্জাম জব্দ করেছে। এই সব কর্মীরা বিভিন্ন সংস্থা যেমন বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি), ইউনিসেফ, ও মানবিক বিষয়ক সমন্বয় অফিসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

    নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চলগুলোতে হুথির এই আচরণ বেড়েই চলেছে, যেমন সানা, হোদেইদাহ বন্দরনগরী এবং উত্তরের সাদা প্রদেশে। সাম্প্রতিক সময়ব্যাপী এই অঞ্চলগুলোতে আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলোর ওপর হুথিদের দমন-পীড়ন বেড়ে গেছে।

    জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে ৫০ জনেরও বেশি কর্মী আটক রয়েছেন। হুথিরা বারবার জাতিসংঘের কর্মী ও বিদেশি এনজিও এবং দূতাবাসের কর্মীদের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ তোলে, যদিও সংস্থাটি তা অস্বীকার করেছে।

    প্রতিক্রিয়ায়, জাতিসংঘ এই বছর শুরুর দিকে সানায় একাধিক কার্যক্রম স্থগিত করে। তারা তাদের শীর্ষ মানবিক সমন্বয়কারীকে নিরাপত্তার কারণে সানা থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তর করে।

    শনিবার জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক সতর্ক করে বলেন, ‘আমরা আমাদের ৫৩ জন সহকর্মীর মুক্তি পাওয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাব।’ এই প্রতিক্রিয়া সত্ত্বেও, হুথি নেতা আবদেলমালেক আল-হুথি টেলিভিশনে ভাষণে বলেছিলেন, ‘আমরা এই গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগের তদন্ত করছি, ও আমাদের লক্ষ্য দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করা।’

    অবশেষে, জাতিসংঘ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ৩১ আগস্টের মধ্যে কমপক্ষে ২১ জন কর্মীকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এই দীর্ঘ ১০ বছরের সংঘাতের কারণে ইয়েমেন এখন আরব বিশ্বে অন্যতম দরিদ্র দেশ হিসেবে পরিচিত, যেখানে লাখ লাখ মানুষ মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। এই সংকট বন্ধ করতে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় একযোগে কাজ করে যাচ্ছে।

    সূত্র: আলজাজিরা

  • এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে সাইবার হামলা: বাংলাদেশসহ অর্ধশত দেশ লক্ষ্যবস্তু

    এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে সাইবার হামলা: বাংলাদেশসহ অর্ধশত দেশ লক্ষ্যবস্তু

    ক্যাস্পারস্কির গ্লোবাল রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস টিম (জিআরইএটি) এ বছরের শুরুর দিকে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে এক নতুন হ্যাকার গ্রুপের কার্যক্রম শনাক্ত করেছে। এ nhómকে ‘মিস্তিরিয়াস এলিফ্যান্ট’ নামে আখ্যায়িত করা হয়েছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, এই সাইবার হামলার মূল উদ্দেশ্য হলো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল তথ্য চুরি—যেমন অফিসের নথিপত্র, ছবি, আর্কাইভ ফাইল ইত্যাদি। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপের ডেটাও তারা চুরির চেষ্টা করছে।

    এই হ্যাকাররা মূলত এ অঞ্চলের বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও পররাষ্ট্র সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানে আক্রমণ চালাচ্ছে। তাদের নিশানা বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও আশপাশের কিছু দেশ। ২০২৫ সালের এই নতুন সাইবার আক্রমণে ‘মিস্তিরিয়াস এলিফ্যান্ট’ কার্যক্রমের ধরণে বড় পরিবর্তন এনেছে। এবারে তারা সরাসরি নিজস্ব তৈরি টুলের পাশাপাশি ওপেন সোর্স টুলও ব্যবহার করছে।

    হ্যাকাররা মূলত ‘পাওয়ারশেল স্ক্রিপ্ট’ ব্যবহার করে কমান্ড চালানো, ম্যালওয়্যার পাঠানো এবং বৈধ সফটওয়্যার ব্যবহার করে সিস্টেমে নিজেদের স্থায়ী প্রবেশাধিকার স্থাপন করছে। তাদের অন্যতম প্রধান টুল ‘বাবশেল’, যা একটি রিভার্স শেল হিসেবে কাজ করে এবং এর মাধ্যমে সরাসরি সিস্টেমে প্রবেশ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করতে পারে।

    আরও ব্যবহৃত হচ্ছে ‘মেমলোডার’ ও ‘হিডেনডেস্ক’ মডিউল, যা তাদের আক্রমণ গোপন রেখে স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে সহায়তা করে। এতে ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার মেমরিতে গোপনে কাজ করে এবং সিকিউরিটি সফটওয়্যার দ্বারা শনাক্ত হওয়া কঠিন করে তোলে। এ ছাড়াও, হ্যাকাররা হোয়াটসঅ্যাপের ডেটাও চুরি করছে, যেখানে তারা শেয়ার করা ফাইল, ছবি ও ডকুমেন্ট সংগ্রহের জন্য বিশেষ মডিউল ব্যবহার করছে।

    ক্যাস্পারস্কির জিআরইএটি টিমের প্রধান সিকিউরিটি গবেষক নৌশিন শাবাব বলেছেন, এই হ্যাকার গোষ্ঠী তাদের বিভিন্ন অবকাঠামোতে গোপনে কাজ করতে সক্ষম হচ্ছে। তারা বহু ডোমেইন, আইপি ঠিকানা, ওয়াইল্ডকার্ড ডিএনএস রেকর্ড, ভিপিএস ও ক্লাউড হোস্টিং ব্যবহার করছে। বিশেষ করে ওয়াইল্ডকার্ড ডিএনএস রেকর্ডের মাধ্যমে প্রতিটি রিকোয়েস্টের জন্য নতুন সাবডোমেইন তৈরি করতে পারে, যা তাদের কার্যক্রমের সাফল্য বাড়ানোর পাশাপাশি নিরাপত্তা দলের জন্য ট্র্যাক করাও কঠিন করে তোলে।

    ক্যাস্পারস্কি নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে বিভিন্ন সেবা ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। তারা উল্লেখ করেছে নিজেদের তৈরি ক্যাস্পারস্কি নেক্সট, গ্রেপ্রামাইজ অ্যাসেসমেন্ট, ম্যানেজড ডিটেকশন অ্যান্ড রেসপন্স, ইনসিডেন্ট রেসপন্স এবং ক্যাস্পারস্কি থ্রেট ইন্টেলিজেন্সের মতো প্রোডাক্টগুলো। এই নকশা সত্যিকার অর্থে সাইবার নিরাপত্তা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

  • জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হয়ে ইতিহাস গড়লেন তাকাইচি

    জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হয়ে ইতিহাস গড়লেন তাকাইচি

    জাপানের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। মঙ্গলবার পার্লামেন্টে ভোটাভুটির মাধ্যমে সানায়ে তাকাইচি দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। এই ঐতিহাসিক নির্বাচনের ফলে তিনি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক উল্লেখযোগ্য মাইলফলক স্পর্শ করেছেন, যা দেশের নারীদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা। এই খবর দিয়েছে জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যম দ্য জাপানটাইমস।

    প্রথমে জানা যায়, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)-র সভাপতি তাকাইচি নিম্নকক্ষে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ২৩৭ ভোট পেয়ে সহজেই জয় লাভ করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছে কনস্টিটিউশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (সিডিপি)-র নেতা ইয়োশিহিকো নোডা, যিনি পেয়েছেন ১৪৯ ভোট।

    ভোটের সময় পার্লামেন্টের সদস্যরা তাকাইচিকে শুভেচ্ছা জানান ও উষ্ণ করতালির মাধ্যমে তাদের স্বাগত জানান। এই নির্বাচনে জোট গড়ায় মূল ভূমিকা রেখেছে এলডিপি ও জাপান ইনোভেশন পার্টি (জেআইপি)। এই জোটের মাধ্যমে বিরোধী দলের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা সহজ হয় এবং তাঁদের ক্ষমতায় আসার পথ সুগম হয়।

    প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার আগেই, মঙ্গলবার সকাল থেকেই তাকাইচি তার নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের কাজ শুরু করেন। জানা গেছে, জেআইপি থেকে কোনও সংসদ সদস্য তার মন্ত্রিসভায় স্থান পাবেন না। তবে দলের নেতারা মনে করছেন, নতুন সরকারে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিত্ব পেতে পারেন ইয়োশিমাসা হায়াশি, শিনজিরো কোইজুমি ও সাবেক বিদেশমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোতেগি। এসব ব্যক্তিরা পূর্বে সরকারের মুখপাত্র ও কৃষিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মঙ্গলবার সকালে তারা শিগেরু ইশিবার নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন।

    দলীয় প্রচারে তাকাইচি বলেছিলেন, সরকার গঠনের সুযোগ পেলে তিনি নারীদের আরও বেশি সম্পৃক্ততা দেবেন এবং উচ্চপদে নিয়োগ করবেন। ফলে তার মন্ত্রিসভায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী মন্ত্রী থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া, জেআইপি-র পার্লামেন্টারি অ্যাফেয়ার্স প্রধান তাকাশি এন্ডো তাকাইচির প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে সংসদে কাজ করছেন সানায়ে তাকাইচি। তিনি অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। চলতি মাসের শুরুতেই তিনি এলডিপি-র সভাপতি নির্বাচিত হন, যা তার তৃতীয় প্রচেষ্টা। এই ঐতিহাসিক বিজয় ভারতের নারীদের জন্য এক অনুপ্রেরণার বার্তা হিসেবে বিবেচনা করছেন বিশ্লেষকরা।

  • চোখে চিপ বসিয়ে দৃষ্টিহীনরা দেখার সুযোগ পেলেন

    চোখে চিপ বসিয়ে দৃষ্টিহীনরা দেখার সুযোগ পেলেন

    লন্ডনের মুরফিল্ডস আই হসপিটালে একদল দৃষ্টিহীন রোগীর চোখে অত্যাধুনিক একটি ইমপ্লান্ট সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে তারা এখন আবার বিভিন্ন ধরণের দৃশ্য দেখে এবং সাধারণ কার্যক্রমে অংশ নিতে পারছেন। চিকিৎসকদের দাবি, এই আন্তর্জাতিক ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফলাফল অত্যন্ত উৎসাহজনক এবং প্রত্যাশার বেশি।

    সত্তর বছরের দৃষ্টিহীন রোগী শিলা আরভিন এই প্রযুক্তির সাহায্যে আবার বই পড়া, ক্রসওয়ার্ডের মতো খেলার সেতুবন্ধন করতে পারছেন। তিনি বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, এই অভিজ্ঞতাকে তিনি ছিল একেবারেই অন্যরকম এবং অবিশ্বাস্য।

    বিশেষ করে ‘ড্রাই এজ-রিলেটেড ম্যাকুলার ডিজেনারেশন’ নামে পরিচিত চোখের জটিল এই রোগের জন্য এই প্রযুক্তি নতুন আশার সঞ্চার করেছে। এটি মূলত বয়স্কদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। এই রোগে রেটিনার ক্ষুদ্র কোষগুলো ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে মরতে শুরু করে, ফলে দৃষ্টি ঝাপসা বা বিকৃত হয়ে যায়।

    বিশ্বজুড়ে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ এই সমস্যায় ভুগছেন, এর মধ্যে শুধু যুক্তরাজ্যেই আড়াই লাখেরও বেশি।

    ক্যালিফোর্নিয়ার ভিত্তিতে একটি বায়োটেকনোলজি কোম্পানি, সায়েন্স করপোরেশনের তৈরি ‘প্রিমা ইমপ্লান্ট’ নামের এই মাইক্রোচিপটি এই সাফল্যের মূল ভিত্তি। এটি এরকমভাবে কাজ করে:

    ইমপ্লান্ট স্থাপন: সফল একটি অস্ত্রোপচারের মধ্যে দিয়ে মানুষের মাথার চুলের মতো পাতলা, দুই মিলিমিটার আয়তনের একটি ফটোভোলটাইক মাইক্রোচিপ রেটিনার নিচে স্থাপন করা হয়।

    ছবি গ্রহণ: রোগীরা পরে বিশেষ ধরনের চশমা পরেন, যার মধ্যে ইনক্লুডেড থাকে একটি শক্তিশালী ভিডিও ক্যামেরা।

    মস্তিষ্কে তথ্য পাঠানো: এই ক্যামেরা ইনফ্রারেড রশ্মির মাধ্যমে ভিডিও চিত্র ইমপ্লান্টে পাঠায়। ইমপ্লান্ট সেই তথ্যকে ছোট একটি প্রসেসরে পাঠায়, যেখানে ছবিটির আরও স্পষ্টতা আনা হয়। এরপর এই উন্নত ছবিটি ইমপ্লান্ট এবং অপটিক নার্ভের মাধ্যমে রোগীর মস্তিষ্কে ফিরে যায়, যা দৃষ্টিশক্তি পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে।

    মুরফিল্ডস আই হসপিটালের কনসালট্যান্ট ও অপথ্যালমিক সার্জন ড. মাহি মুকিত বলেন, ‘এটি প্রথম ইমপ্লান্ট যা দৃষ্টিহীনদের দৃষ্টি ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। তারা এখন বই পড়া, লেখা ও সাধারণ দৃশ্য দেখার মতো কাজগুলো করতে পারছেন। এটি আমাদের জন্য এক বড় অগ্রগতি।’

    নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনে প্রকাশিত গবেষণা অনুসারে, ইউরোপের পাঁচটি দেশের মোট ৩৮ জন রোগী এই প্রিমা ইমপ্লান্ট ট্রায়ালে অংশ নেন। এর মধ্যে ৩২ জনের চোখে ইমপ্লান্ট বসানো হয়, এবং তাদের মধ্যে ২৭ জন এখন পড়তে সক্ষম। এক বছর পেরোনোর পর তাদের দৃষ্টিশক্তির আরও উন্নতি হয়েছে।

    উইল্টশায়ারের বাসিন্দা শিলা আরভিন, যিনি প্রায় ৩০ বছর আগে দৃষ্টিশক্তি হারাতে শুরু করেছিলেন, তিনি বলেন, ‘ইমপ্লান্ট বসানোর পর আমি আবার বই পড়তে ও সুডোকু খেলতে পারছি। আমি সত্যিই খুব খুশি। প্রযুক্তি দ্রুত উন্নয়ন করছে, আমি এর অংশ হয়ে অনেক আনন্দিত।’

    ড. মুকিত ভবিষ্যৎ আশা প্রকাশ করেন, এই প্রযুক্তি আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যের পরিষেবা (এনএইচএস)-এ ব্যবহার শুরু হবে। ড. পিটার ব্লুমফিল্ড, মাকুলার সোসাইটির গবেষণা পরিচালক, এই ফলাফলকে ‘উৎসাহজনক’ বলে মনে করেন এবং এই ধরনের অপ্রতিরোধ্য রোগের জন্য এটি একটি দারুণ খবর বলে অভিহিত করেন।

    তবে, যাদের চোখের অপটিক নার্ভ ঠিকমতো কাজ করে না বা সংকেত পাঠাতে সক্ষম নয়, তাদের জন্য এই প্রযুক্তি কার্যকর নয় বলে জানান সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা।

  • ৭ মিনিটে ল্যুভর থেকে ৮ রত্ন চুরির সাহসী অভিযানে ধরা পড়লো না চোরেরা

    ৭ মিনিটে ল্যুভর থেকে ৮ রত্ন চুরির সাহসী অভিযানে ধরা পড়লো না চোরেরা

    অন্য স্বাভাবিক দিনের মতোই রোববার সকালে দর্শনার্থীদের জন্য প্যারিসের বিখ্যাত ল্যুভর জাদুঘর খুলে দেওয়া হয়। তবে এর আধা ঘণ্টা পর ভবনের দক্ষিণ পাশে একটি অস্বাভাবিক দৃশ্য দেখা যায়, যেখানে দুই চোর চুপচাপ অবস্থান করছে। তারা দ্বিতীয় তলে উঠতে ট্রাকের উপরে বসানো বৈদ্যুতিক মোই ব্যবহার করে, যা সাধারণত আসবাবপত্র তোলার জন্য ব্যবহৃত হয়। পথচারীরা মনে করে এটি সাধারণ কোনও কাজ, তাই খুব বেশি সন্দেহ করেনি।

    চোরেরা দ্রুত দ্বিতীয় তলায় উঠে একটি জানালা ভেঙে জাদুঘরে প্রবেশ করে। এর সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সতর্ক হয়ে যায়। তাদের লক্ষ্য ছিল অ্যাপোলো গ্যালারিতে, যেখানে রাজকীয় গয়না, মুকুট এবং মূল্যবান হীরার সংগ্রহের কাচের প্রদর্শনী ছিল। ওখানে পৌঁছে তারা প্রথমে দুটি কাচের তাক ভেঙে ফেলে, এর ফলে অ্যালার্ম বাজতে শুরু করে। এরপর তারা দ্রুত আটটি মূল্যবান বস্তু লুট করে নিয়ে যায়। এর মধ্যে ছিল রাজকীয় নীলা নেকলেস, পান্না নেকলেস, কানের দুল, এবং ১৯শ শতকের ফ্রান্সের শাসক তৃতীয় নেপোলিয়নের স্ত্রীর ব্যবহৃত একটি মুকুট।

    নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রকাশনায় জানা গেছে, এই চুরির ঘটনা ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে। গত রোববারের এই ঘটনা বিভিন্ন সংবাদসংস্থায় একে ডাকাতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে সোমবারের প্রতিবেদনে এটি চুরির ঘটনা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়, পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং তারা ধারণা করছেন, এই ঘটনার সঙ্গে একটি পরিকল্পিত সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত।

    পুলিশ জানায়, জাদুঘরটির দক্ষিণ দিকের সেইন নদীর পাশে কিছু চোরের দল অপেক্ষা করছিল। চোরেরা অ্যাপোলো গ্যালারিতে ঢোকার আগেই নিচে নেমে স্কুটার নিয়ে দ্রুত সটকে পড়ে। পুরো এই ঘটনা মাত্র সাত মিনিটে শেষ হয়।

    এটি ছিল ল্যুভর জাদুঘরে সংঘটিত সবচেয়ে সাহসী চুরির ঘটনা। ফ্রান্সের রাজনীতিবিদরা এই ক্ষতি নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেকের প্রশ্ন, কীভাবে এত বড় একটি ভবনে দিনের আলোয় এমন ঘটনা ঘটে গেল? প্যারিসের মেয়র এরিয়েল ওয়েইল বলেন, এটা কোনও কল্পনা বা সিনেমার দৃশ্য নয়। দিনের বেলা চোরেরা রাজমুকুটের রত্ন নিয়ে পালিয়েছে, যা শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, এটি মহান ফ্রান্সের ঐতিহ্য ও গর্বের ওপর আঘাত।

    চুরির হারানো রত্নের মধ্যে রয়েছে তৃতীয় নেপোলিয়নের স্ত্রী সম্রাজ্ঞী ইউজেনির ঐতিহাসিক গয়না, যেখানে ছিল ২১২টি মুক্তা, ১,৯৯৮টি হীরক ও ৯৯২টি রোজ-কাট হীরা। সঙ্গে ছিল সম্রাজ্ঞীর বেল্টের মতো অলংকার, যা অলঙ্কৃত ফিতার ভিতরে ছিল অসংখ্য হীরা ও রোজ-কাট হীরা।

    আরও পাওয়া গেছে ঐতিহাসিক কাচের ব্রোচ, যেটি ১৮৫৫ সালে তৈরি এবং ‘রেলিকুয়ারি ব্রোচ’ হিসেবে পরিচিত। চোরেরা অন্যান্য মূল্যবান গয়নার মধ্যে আধুনিক যুগের রাজপরিবারের ব্যবহৃত কানের দুল ও গয়না চুরি করেছে, যার বেশির ভাগই ছিল পান্না ও হীরা। নেপোলিয়নের বিয়ের সময় উপহার দেওয়া গয়নার সেটগুলো, যেমন পান্নার কানের দুল সহ, সব চোরেরা নিয়ে গেছে। এই চুরির ঘটনায় শুধু অর্থনৈতিক নয়, ফ্রান্সের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।