Month: October 2025

  • অক্টোবরের ২৫ দিনে প্রবাসী আয় ছাড়াল ২ বিলিয়ন ডলার

    অক্টোবরের ২৫ দিনে প্রবাসী আয় ছাড়াল ২ বিলিয়ন ডলার

    চলতি বছরের অক্টোবর মাসের প্রথম ২৫ দিনে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন মোট ২০৩ কোটি ২৯ লাখ (প্রায় ২.০৩ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার। এই পরিমাণ অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে সূচকভাবে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। দেশের অর্থনীতির জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিমাণ, যা প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৫০ পয়সা হিসেবে গণনা করা হয়েছে)।

    আজ (২৬ অক্টোবর, রোববার) বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে প্রবাসী আয়ের এই প্রবাহ দেশীয় অর্থনীতিতে স্বস্তি ফিরিয়েছে। হুন্ডি অর্থ পাঠানোর অবনমন, সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ, প্রণোদনা এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থা উন্নত করানোর ফলে এই রেমিট্যান্স প্রবাহ অব্যাহত রয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের প্রথম ২৫ দিনে দেশের বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসীরা মোট ৩৮ কোটি ৪৬ লাখ ৪০ হাজার ডলার পাঠিয়েছেন। এর মধ্যে দেশের প্রধান রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো থেকে এসেছে ১৯ কোটি ৭০ লাখ ৭০ হাজার ডলার, আর বেসরকারি ব্যাংকগুলো থেকে পৌঁছেছে ১৪৪ কোটি ৬৩ লাখ ৪০ হাজার ডলার। এছাড়া, বিশেষ দুটি ব্যাংকের মধ্যে একটি ব্যাংক (কৃষি ব্যাংক) পেয়েছে ১৯ কোটি ৭০ লাখ ডলার, যেখানে অন্য ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠানো হয়নি। বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ক্ষুদ্র পরিমাণে আরও ৪৮ লাখ ৭০ হাজার ডলার এসেছি।

    এদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যমতে, ২২ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩২.১০ বিলিয়ন ডলার। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম–৬ অনুযায়ী এই রিজার্ভ পৌঁছেছে ২৭.৩৫ বিলিয়ন ডলার।

    উল্লেখ্য, গত মাসে (সেপ্টেম্বর) প্রবাসী বাংলাদেশি দ্বারা দেশে পাঠানো রেমিট্যান্স ছিল ২৬৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার (প্রায় ২.৬৮ বিলিয়ন ডলার), যা বাংলাদেশের অর্থে প্রায় ৩২ হাজার ৭৫৭ কোটি টাকা।

    চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) মধ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিরা পাঠিয়েছেন মোট ৭৫৮ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ৭.৫৮ বিলিয়ন), যা দেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অর্থ বৃদ্ধি। এর ফলে দেশের মোট রেমিট্যান্সের পরিমাণ গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৬ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে রেমিট্যান্স ছিল ৬৫৪ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার।

  • কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মন্দ ঋণ অবলোপনায় সময়সীমা শিথিল

    কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মন্দ ঋণ অবলোপনায় সময়সীমা শিথিল

    বাংলাদেশ ব্যাংক মন্দ শ্রেণির খেলাপি ঋণ অবলোপনে সময়সীমা শিথিল করেছে। তিনি একই সঙ্গে নির্দেশ দিয়েছেন, ঋণ অবলোপনের জন্য কমপক্ষে ৩০ কর্মদিবস আগে ঋণগ্রহীতাকে লিখিতভাবে নোটিশ পাঠাতে হবে। এই নোটিশের মাধ্যমে তিনি অবলোপনের বিষয়টি অবহিত করবেন।

    সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১৮ ফেব্রুয়ারির পূর্বের নীতিমালা সংশোধন করে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। এর মাধ্যমে বলা হয়েছে, যেসব ঋণ দুই বছর বা তার বেশি সময় ধরে মন্দ বা ক্ষতিজনক অবস্থায় রয়েছে, শুধু সেগুলোর অবলোপন হতে পারে। তবে এখন থেকে তারা আরও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, অবলোপনের জন্য ভবিষ্যতে আদায়ের সম্ভাবনা ক্ষীণ এমন ঋণগুলোও অবলোপন করা যাবে। এর জন্য পুরোনো ঋণগুলোকে সময় অনুযায়ী অগ্রাধিকার দিতে হবে।

    নতুন নীতিমালায় আরও জানানো হয়েছে যে, ঋণ অবলোপনের পূর্বে সংশ্লিষ্ট ঋণগ্রহীতাকে অন্তত ৩০ কর্মদিবস আগে নোটিশ দিতে বাধ্য। কারণ, ঋণ অবলোপনের পরও যদি অর্থ শোধ না হয়, তবে ঋণগ্রহীতাকে খেলাপি হিসেবেই গণ্য করা হবে।

    অবলোপন সম্বন্ধে অন্য ধারাগুলো পুরাতনই রাখা হয়েছে, যেমন মৃত ঋণগ্রহীতার নামে বা তাঁর একক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের নামে নেওয়া ঋণ ব্যাংক নিজ বিবেচনায় অবলোপন করতে পারবে। তবে এ সময় মৃত ব্যক্তির উত্তরসূরি আছেন কি না, তা অবশ্যই বিবেচনায় আনতে হবে। পাশাপাশি, ব্যাংকের নিজস্ব নীতিমালা অনুসারে অবলোপিত ঋণের জন্য কর্মকর্তাদের নগদ প্রণোদনা দেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে পরিচালনা পর্ষদ অনুমোদনক্রমে উপযুক্ত প্রণোদনা নীতিমালা তৈরি করা যাবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, কোনও ঋণ অবলোপনের আগে ব্যাংকগুলো অবশ্যই বন্ধকী সম্পত্তির বিক্রির সব প্রচেষ্টা চালাবে এবং আবশ্যক হলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তবে, ‘অর্থ ঋণ আদালত আইন ২০০৩’-এর আওতায় মামলাযোগ্য না হলে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ বা মৃত ব্যক্তির নামে থাকা ঋণ মামলা ছাড়া অবলোপন করা যাবে। এছাড়া, ঋণ অবলোপনের আগে নির্দিষ্ট ঋণের স্থিতি থেকে সুদ বাদ দিয়ে মূল অর্থের সমপরিমাণ প্রভিশন রাখতে হবে।

    নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে যে, কোনও ঋণ আংশিকভাবে অবলোপন করা যাবে না। পাশাপাশি, ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন ছাড়া কোনও ঋণ অবলোপন সম্ভব নয়।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, পূর্বের তুলনায় এখন ব্যাংক খাতে ডলার সংকট অনেকটা কমে গেছে ও রিজার্ভ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে ব্যাংকগুলো আর্থিকভাবে আরও সক্ষম হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, মন্দ ঋণের অবলোপনে সুবিধা দেওয়ায় ব্যাংকগুলোর আর্থিক ব্যবস্থাপনা আরও সহজ হবে এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা আরও বাস্তবসম্মত হবে।

  • আবার কমলো স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি ৩৬৭৪ টাকা

    আবার কমলো স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি ৩৬৭৪ টাকা

    বর্তমান বাজারে স্বর্ণের দাম কমার পরিপ্রেক্ষিতে দেশের বাজারে এর মূল্যেও সংশোধনী আনা হয়েছে। সবচেয়ে উচ্চ মানের বা ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) দাম এক লাফে ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা কমানো হয়েছে। এর পাশাপাশি রূপার দামও নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) জানিয়েছে, আজ মঙ্গলবার থেকে এই নতুন দাম কার্যকরী হবে।

    নতুন নির্ধারিত দামের ক্ষেত্রে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের মূল্য এবার নির্ধারিত হয়েছে ২ লাখ ৪ হাজার ২৮৩ টাকা। একই সময়ে, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ৪৯৯ টাকা কমিয়ে এখন থেকে এক লাখ ৯৪ হাজার ৯৯৯ টাকা হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে। ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের এক ভরি দাম কমে হয়েছে ২ হাজার ৯৯৮ টাকা, এবং সেটি এখন ১ লাখ ৬৭ হাজার ১৪৫ টাকায় বিক্রি হবে। সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দামও কমানো হয়েছে, যেখানে এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ৫৫৫ টাকা কমে এবার ১ লাখ ৩৮ হাজার ৯৪১ টাকায় বিক্রি হবে।

    বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং এবং প্রাইস মনিটরিং সোমবার বৈঠকে এই মূল্যহ্রাসের সিদ্ধান্ত নেয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমানের স্বাক্ষর করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

    এছাড়া, ভালো মানের ২২ ক্যারেটের এক ভরি রূপার মূল্যও কমে এখন ৪ হাজার ২৪৬ টাকা, যা আগে ছিল বেশি। ২১ ক্যারেটের রূপা এখন ৪ হাজার ৪৭ টাকা, যেখানে আগে তৎকালীন দামের থেকে ১ হাজার ১৬৭ টাকা কম। ১৮ ক্যারেটের রূপার মূল্য কমে ৩ হাজার ৪৭৬ টাকা হয়েছে, এবং সনাতনী রূপার দাম কমে ২ হাজার ৬০১ টাকা নির্ধারিত হয়েছে, যেখানে আগে ছিল বেশি।

  • সোনার দাম আবারও কমালো বাংলাদেশে

    সোনার দাম আবারও কমালো বাংলাদেশে

    বাংলাদেশের বাজারে আবারো সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশের জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। এর ফলে উচ্চ মানের সোনার দাম প্রতি ভরিতে কমে গেছে দুই লাখ টাকায়। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৬১৩ টাকা পর্যন্ত সোনার দাম কমানো হয়েছে। নতুন দামে সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার মূল্য এখন ২ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। এর আগে এই দাম ছিল ২ লাখ ২৭ হাজার ৯০৯ টাকা। এই নতুন মূল্য শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) থেকে কার্যকর হবে। বাজুস জানিয়েছে, দেশের বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের মূল্য কমানো হয়েছে, এবং এর মূল কারণ হলো বৈশ্বিক বাজারে সোনার মূল্য কম গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪ হাজার ডলার স্থিতি করছে। নতুন দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৯৫ হাজার টাকা, ২১ ক্যারেটের দরে প্রায় ১৯১ হাজার টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি ১৬৩ হাজার ৭১৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার এক ভরি দাম ১ লক্ষ ৩৬ হাজার ১৪ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। যদিও সোনার দাম কমেছে, তবে রূপার দাম অপরিবর্তিত রয়ে গেছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রূপার মূল্য এখন ৪ হাজার ২৪৬ টাকা। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের রূপার দাম ৪ হাজার ৭ টাকায়, ১৮ ক্যারেটের ৩ হাজার ৪৭৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রূপার দাম ২ হাজার ৬০১ টাকা।

  • পতনের পর এক লাফে ৮৮৮০ টাকা বৃদ্ধি সোনার দাম

    পতনের পর এক লাফে ৮৮৮০ টাকা বৃদ্ধি সোনার দাম

    দেশের স্বর্ণবাজারে কয়েক দফা পতনের পর এবার আবারও সোনার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, ভরিতে ৮ হাজার ৮৮০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২ হাজার ৭০৯ টাকা। এর আগে এই দাম ছিল ১ লাখ ৯৩ হাজার ৮০৯ টাকা।

    বুধবার (২৯ অক্টোবর) বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন দামের মধ্যে প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৮ হাজার ৯০০ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ানো হয়েছে। ফলে, বর্তমানে সবচেয়ে মানক ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২ হাজার ৭০৯ টাকা। এই মূল্য বিবেচনা করে তারাপরবতী বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) থেকে কার্যকর হবে।

    গত ২০ অক্টোবর, সোনার দাম তীব্র বৃদ্ধি পেয়ে ২ লাখ ১৭ হাজার ৩৮২ টাকায় পৌঁছায়, যা ইতিহাসের সর্বোচ্চ দাম। কিন্তু তার পরই টানা চার দফায় মূল্য কমে যায়, মোট ২৩ হাজার ৫৭৩ টাকা হ্রাস পেয়ে আগে নির্ধারিত মূল্য ফিরে আসে। একদিনও যেতে না যেতেই আবারও সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিল বাজুস।

    সংগঠনটি জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ড সোনার দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে ডিলাররা মূল্য সমন্বয় করেছে। মূল কারণ হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারের দাম বৃদ্ধিকে উল্লেখ করা হয়েছে; যেখানে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪ হাজার ডলারের উপরে উঠেছে।

    নতুন দামে, সব থেকে মানোৎকনিক ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম হবে ২ লাখ ২ হাজার ৭০৯ টাকা, ২১ ক্যারেটের জন্য এই দাম ১ লাখ ৯৩ হাজার ৫০৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৬২ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৮৪৫ টাকায়।

    অন্যদিকে, রুপার দাম স্থির থাকলেও আলাদা আলাদাভাবে নির্ধারিত হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রূপার দাম এখন ৪ হাজার ২৪৬ টাকা, ২১ ক্যারেটের জন্য ৪ হাজার ৪৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ৩ হাজার ৪৭৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ২ হাজার ৬০১ টাকা।

  • শেখ মুজিবের ছবি টাঙানোর বিধান বিলুপ্তি নিয়ে বিএনপি’র ক্ষোভ

    শেখ মুজিবের ছবি টাঙানোর বিধান বিলুপ্তি নিয়ে বিএনপি’র ক্ষোভ

    বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি অফিসে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি টাঙানোর নিয়ম সংক্রান্ত বিধানটি বিলুপ্ত করার বিষয়টি জুলাইয়ের জাতীয় সনদে অন্তর্ভুক্ত না করাকে কেন্দ্র করে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বিএনপি। চলতি বছরের ৩০ অক্টোবর বৃহস্পতিবার, রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ক্ষোভ জানান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, প্রিন্টেড সনদের কপি হাতে পাওয়ার পর বুঝতে পেরেছি যে, কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অগোচরে কয়েকটি সংশোধনী আনা হয়েছে, যা দলের সংশ্লিষ্টদের অজানা ছিল। এর মধ্যে প্রধানটি হলো, শেখ মুজবুর রহমানের ছবি টাঙানোর বিধান সংক্রান্ত বিষয়, যা অনুচ্ছেদ ৪ (ক)-এর অংশ। এই বিধানটি বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত কিন্তু সনদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, যদিও বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল এ বিষয়ে সম্মতিপত্র দিয়েছে।

    অপরতর, সংবিধানের ১৫০(২) অনুচ্ছেদ (পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম তফসিল) সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত করার প্রস্তাবের বিষয়েও, যে বিষয়ে অধিকাংশ রাজনৈতিক দল সম্মতি জানিয়েছে, সেটির চূড়ান্ত সংশোধনীও অগোচরে সনদে আনা হয়েছে। দলটি এই প্রক্রিয়ার প্রশংসা বা সমর্থন না জানিয়ে, তাদের অজান্তে এই সংশোধনী আনা হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

  • এনসিপি বলেছে, তারা ‘শাপলা’ প্রতীক চায়, ‘শাপলা কলি’ নয়

    এনসিপি বলেছে, তারা ‘শাপলা’ প্রতীক চায়, ‘শাপলা কলি’ নয়

    নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তালিকায় ‘শাপলা কলি’ প্রতীক অন্তর্ভুক্তির পর বিএনপি-নজীর নেতৃত্বাধীন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) স্পষ্ট طورে জানিয়েছে, তারা ‘শাপলা কলি’ নয়, বরং ‘শাপলা’ প্রতীক চায়। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) ইসির প্রতীকের তালিকায় ‘শাপলা কলি’ যুক্ত হওয়ার পর এই বিষয়ে দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসা গণমাধ্যমের কাছে এ কথা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমরা ‘শাপলা কলি’ চাচ্ছি না। আমাদের পছন্দ হচ্ছে ‘শাপলা’ প্রতীকের জন্য। ইসি আগে জানিয়েছিল, ‘শাপলা’ অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব নয়, কিন্তু এখন যেহেতু ‘শাপলা কলি’ নির্বাচনী প্রতীকের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, তারা চাইলে ‘শাপলা’ প্রতীকও অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। আমরা কলি নয়, শুধুমাত্র ‘শাপলা’ প্রতীক চাই। এর বাইরে অন্য কোনো বিকল্প আমরা বিবেচনা করছিনি।” এর আগে আজ দুপুরে ইসি প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন তালিকায় ‘শাপলা কলি’ প্রতীক দেখিয়ে দিয়েছে। দেশের নির্বাচনের বিষয়ে নেতৃত্বদানকারী এ পদক্ষেপে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এ প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করেন। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ১৯৭২ সালের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৯৪ অনুযায়ী, নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮-এর সংশোধনের মাধ্যমে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতে আরও উল্লেখ রয়েছে, বিধিমালার বিধি ৯ এর উপ-বিধি (১) এর পরিবর্তে নতুন উপ-বিধি (১) ধারা কার্যকর করা হবে। এছাড়া, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী যদি কোনও প্রতীক পায়, তবে সেই প্রতীকটি ওই প্রার্থীকে বরাদ্দ করা হবে, তবে এটি শুধুমাত্র নির্দিষ্ট প্রতীকের মধ্যে সীমাবদ্ধ। গত ২৭ অক্টোবর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, ইসির বিধিমালায় ‘শাপলা’ প্রতীক না থাকায় এনসিপিকে সেটি দেওয়া সম্ভব নয়। তিনি তখন বলেছিলেন, নির্বাচনী কমিশন অন্য কোনও প্রতীক বরাদ্দ করবেন এবং পরে এ বিষয়ে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নতুন দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি প্রথমে জানিয়েছিল, তারা ‘শাপলা’ প্রতীকের বাইরে কোনও প্রতীক গ্রহণ করবে না। তবে এখনো ‘শাপলা কলি’ প্রতীকেও তারা সন্তুষ্ট নয় এবং এই প্রতীকেই তারা আঁকড়ে আছে।

  • নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক বিভেদ ও ভবিষ্যৎ সংকট মুখে

    নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক বিভেদ ও ভবিষ্যৎ সংকট মুখে

    অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগে ফেব্রুয়ারির মধ্যে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের দাবি করে থাকলেও, সেই অঙ্গীকার অনুযায়ী এগোতে মহার্ঘ্য সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশ। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, বিএনপির জন্ম ছিল ‘হ্যাঁ’ ভোটে। যদি তারা ‘না’ ভোটে কঠোর থাকে, তাহলে তাদের আত্মমর্ত্য ঘটে যেতে পারে ‘না’ ভোটের মাধ্যমে। তিনি সতর্ক করে বলেন, বিএনপি একটি বড় দল; তাদের জন্য কোটেশন না দেয়ার এবং ‘না’ ভোট দিয়ে নিজেদের মৃত্যুর কবর খননের পথ না বেছে নেওয়ার আহ্বান জানান। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে নাগরিক ঐক্য আয়োজিত ‘রাজনীতির বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, আগামী নির্বাচনের জন্য জুলাই সনদ প্রয়োজন। অস্পষ্টতার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে পড়তে পারে, যা জামায়াত ও বিএনপি’র কুতর্ক ও রটনার ফল। তিনি বলেন, এখনই গাজীপুর ও অন্যান্য স্থানে নির্বাচনের জন্য সংস্কার কমিশনের সুপারিশের ড্রাফট প্রকাশ করে ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের মানদণ্ড তৈরি করতে হবে। তা না হলে দেশ গৃহযুদ্ধের দিকে চলে যেতে পারে এবং এর দায় নিতে হবে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল নেতৃত্বকে।

    জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির একত্রে থাকার প্রবণতা ও বিষয়ে মন্তব্য করে নাসীরুদ্দীন বলেন, ‘গণভোট প্রশ্নে জামায়াত এক সময় বিএনপি’র সঙ্গী হবে। তারা দুই দল মিলে মতভেদ সৃষ্টি করছে, এবং এই অশুভ ধারা দেশের অস্থিতিশীলতা বাড়াচ্ছে।’

    নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিকে অস্বস্তিতে ফেলতে চাওয়া বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা এসব দলকে মানি না। অনেকেই বলেছিলেন, আওয়ামী লীগের ৫ লাখ নেতা-কর্মীর প্রাণ যাবে, কিন্তু এত কিছুর পরও আমরা সেরকম কোনও ক্ষতি করিনি। তবে তারা যদি বাধা দেয়, কঠোরভাবে প্রতিরোধ করব। বিএনপিকে বলব, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে আনতে দেবে না।’

    নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতিত্বের কথা তুলে ধরে তিনি বললেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের গঠন প্রক্রিয়া দেশে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। এই কমিশনের অধীনে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন কঠিন হয়ে পড়েছে। কমিশন যদি রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত থাকে, তাহলে জনগণের আস্থা অর্জন সম্ভব নয়। তাই প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্টদের একাধিকার প্রয়োজন মুক্ত, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনার জন্য।

    তিনি আরো বলেন, জুলাই সনদ স্বাক্ষর হয় না, কারণ এনসিপি ওই সময়টি রাজনৈতিক বিবেচনায় উপযুক্ত মনে করেনি। আজকের সময়ে সংস্কার কমিশনের সুপারিশনামার বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন, কারণ এর বাইরে যাওয়ার কোনো পথ নেই।

    ড. ইউনূসের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সম্প্রতি কিছু সিদ্ধান্ত ও প্রস্তাবের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা জোরালোভাবে অপ্রয়োজনীয় বলে মনে করেন। পত্রিকার মাধ্যমে ড্রাফট প্রকাশের আহ্বান জানান, এতে সত্যতা ও বাস্তবতা থাকলে এনসিপি স্বাক্ষর করবে। অন্যথায়, অজান্তে যদি কিছু হয়, তারা এতে অংশ নেবে না।

    অন্তর্র্বর্তী সরকারের লক্ষ্য ও উদ্যোগে নাগরিক ঐক্যসহ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অপ্রতুল ও অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্যে এগোচ্ছে। তিনি দ্ব্যর্থহীনভাবে বলেছেন, ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন দিন, না হলে ভবিষ্যতে গৃহযুদ্ধের ঝুঁকি বাড়তে পারে। দেশের গণতন্ত্র রক্ষা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠায় অবিলম্বে স্বাধীন ও ভবিষ্যৎমুখী নির্বাচনী ব্যবস্থার নির্মাণ জরুরি।

  • অইকমত্যের ব্যর্থতা হলে পরিস্থিতি ভয়ানক হয়ে উঠতে পারে, ড. ইউনূসের সরে যাওয়ার আশঙ্কা

    অইকমত্যের ব্যর্থতা হলে পরিস্থিতি ভয়ানক হয়ে উঠতে পারে, ড. ইউনূসের সরে যাওয়ার আশঙ্কা

    বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের মধ্যে আবারো ঐকমত্যের অভাব দেখা দিলে পরিস্থিতি সংকটাপন্ন হয়ে উঠবে এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন শিল্পপতি ও সমাজসেবক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের মধ্যে থাকা রাজনৈতিক দলগুলো। দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, যদি জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন সম্পর্কিত বিরোধ মেটানো যায় না, তাহলে নির্বাচনের দিন নির্ধারিত হবে না এবং ড. ইউনূসের পদত্যাগের প্রয়োজন পড়তে পারে। এই পরিস্থিতি ভয়ানক বাজেভাবে জটিল আকার নিতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

    মঞ্জু বলেন, গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। সেখানে আদেশ জারি করার পাশাপাশি নির্বাচনের আগের যে কোনো সময় গণভোটের প্রস্তাব রয়েছে। যদি সংবিধানের সংশোধন ৯ মাসের মধ্যে সম্পন্ন না হয়, তাহলে এই প্রস্তাবগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।

    সনদের আইনি ভিত্তিতে তিন ধাপে এই বাস্তবায়ন পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রথমে সংবিধান সংশোধনের জন্য আদেশ জারির মাধ্যমে শুরু হবে, এরপর গণভোটের ব্যবস্থা এবং শেষ পর্যায়ে সংসদে এই সংশোধনগুলো প্রণয়ন। এর বাইরে, সংবিধান সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সরকার অধ্যাদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে পারবে এবং কিছু প্রস্তাব অফিস আদেশের মাধ্যমে দ্রুত বাস্তবায়িত হতে পারে।

    মঞ্জু জানায়, সংবিধান সংশ্লিষ্ট ৪৮টি বিষয় নিয়ে দুটি বিকল্প প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে—একটি হলো, ২০২৫ সালে জাতীয় সনদের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন করা। এই প্রক্রিয়ায় আদেশ দিয়ে নির্বাচনের জন্য গণভোটের মাধ্যমে এই সংশোধন কার্যকর হবে। অন্য প্রস্তাবে, সংবিধান সংশোধনের জন্য full বিল সংসদে পাস করে গণভোটে নেওয়া হবে, তবে টার্মিনেশনের মধ্যে এটি সম্পন্ন না হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে সংযোজন হয়ে যাবে।

    গণভোটের তারিখ নির্ধারণের দায়িত্ব সরকারের ওপরই থেকে যাবে বলে জানান মঞ্জু। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, যখন সরকার সিদ্ধান্ত নেবে তখন রাজনৈতিক দলগুলো বিষয়টি সম্মতি যুগিয়ে মেনে নেবে।’ তারা এও জানান, নোট অব ডিসেন্ট বা আপত্তির ব্যাপারে মনে করেন, গণভোটে যোগ দেওয়ার জন্য সকলের উচিত একত্রিত হয়ে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা। যারা নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন, তারা চাইলে আগেভাগে সমঝোতা করে বিষয়গুলো সমাধান করতে পারে।

    তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন বিলটি সংবিধানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্তর্ভুক্ত হবে—এটি একটি ঐতিহাসিক রাজনৈতিক দলিল। ২৭০ দিনের মধ্যে এই সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন, কারণ দীর্ঘ আলোচনা শেষে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাবগুলো খুব দ্রুতই বাস্তবায়িত হতে পারবে।

    মঞ্জু সতর্ক করে বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য এখন প্রধান কাজ হলো ইগো পরিহার করে ঐক্যবদ্ধভাবে এই সনদ কার্যকর করতে সম্মত হওয়া। তা না হলে নির্বাচন আয়োজনের ওপর অনিশ্চয়তা জন্মাতে পারে, এবং ড. ইউনূসের পদত্যাগের প্রয়োজন পড়তে পারে, যা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, আনোয়ার সাদাত টুটুল, ব্যারিস্টার নাসরিন সুলতানা মিলি, এবিএম খালিদ হাসান, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খানসহ অন্যান্য নেতারা।

  • বিএনপির লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা

    বিএনপির লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা

    বাংলাদেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক দল বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, তাদের লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে আরও সবল ও সমৃদ্ধ করে তুলতে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা। এই অর্থনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার মাধ্যমে লাখ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, যা দেশের প্রত্যেক নাগরিক, বিশেষ করে নারীর, মাঝে গর্বের সঙ্গে দেশের প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখার স্বপ্ন দেখাতে সক্ষম হবে। বৃহস্পতিবার সকালে নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি এই পরিকল্পনার কথা ব্যক্ত করেন।

    আরও প্রত্যাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ক্ষমতায় গেলে তিনি কর্মজীবী মায়েদের জন্য কাজের ঘণ্টা কমিয়ে ৫ ঘণ্টা করার পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন। এর পাশাপাশি, নারীদের জন্য শিশু পরিচর্যা (ডে-কেয়ার) ব্যবস্থাকে দেশের অর্থনীতির উন্নয়ন কৌশলের অন্যতম অংশ হিসেবে বিবেচনা করছেন তিনি। তারেক রহমান ব্যাখ্যা করেন, যখন কোনও তরুণী মা পর্যাপ্ত শিশু পরিচর্যার সুযোগ পান না거나 চাকরি ছাড়তে বাধ্য হন, তখন দেশের সম্ভাবনা, উৎপাদনশীলতা ও অগ্রগতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    বিএনপি এই লক্ষ্য অর্জনে দেশের সবার জন্য আধুনিক ও গুণগত মানের ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক ডে-কেয়ার ব্যবস্থার সাথে সঙ্গে নিয়োগকর্তাদের জন্য কর সুবিধা ও সিএসআর ক্রেডিটের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। নারীকর্মী ও শিশু কেয়ারের মানদণ্ড অনুসারে প্রশিক্ষণ ও সার্টিফিকেশনের মাধ্যমে কাজের সুবিধা বাড়ানো হয়েও এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হবে। এর ফলে নারীদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, পরিবারের আয় উন্নত ও দেশের জিডিপি লক্ষ্যমাত্রার একটি অংশ যোগ হওয়া সম্ভব হবে।

    তারেক রহমান আরও উল্লেখ করেন, তৈরি পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই নারী, যা দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও নারীর ক্ষমতায়নের জন্য একটি বড় সুযোগ। আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, শিশু পরিচর্যার সুবিধা থাকলে কারখানা শ্রমিকরা দীর্ঘ সময় ধরে কর্মঠ থাকেন এবং প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের খরচ কখনোই উঠে আসতে পারে। তিনি বলেন, শিশু পরিচর্যার ব্যবস্থা কেবল সামাজিক প্রয়োজনই নয়, এটি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য। ডে-কেয়ার সেন্টার তরুণ নারী ও মা-শ্রমিকদের কর্মজীবনে সফলভাবে সংযুক্ত করে।

    সংক্ষেপে, তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে এমন একটি উন্নত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি তৈরি করা যেখানে লাখো লাখো মানুষ যেমন কর্মসংস্থানে থাকবেন, নারীর ক্ষমতায়ন হবে তেমনি দেশের সামগ্রিক অগ্রগতি নিশ্চিত হবে। নারীর সম্ভাবনাকে সীমিত করা কোনও ধারণাকে তিনি মেনে নেবেন না। শিশুপালন, সমান মজুরি ও কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন এই বুদ্ধিবৃত্তিক অর্থনীতির মূল ভিত্তি। শেষমেষ, তিনি আহ্বান জানান, আসুন একসঙ্গে এগিয়ে যাই, একটি সমাজ গড়ি যেখানে প্রতিটি মা ও ছাত্রী স্বাধিকার ও স্বস্তি পাবে, এবং সমাজের সব অংশগ্রহণ অগ্রগতির মূল চাবিকাঠি হয়ে থাকবে।