Month: October 2025

  • ট্রাম্পের বিস্ফোরক বক্তব্য: মোদি দেখতে সুন্দর, খুনি

    ট্রাম্পের বিস্ফোরক বক্তব্য: মোদি দেখতে সুন্দর, খুনি

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে দর্শনে খুবই প্রশংসা করেছেন, তাকে দেখলে মনে হয় তিনি মানুষের চোখে অনেক সুন্দর। তবে একই সাথে ট্রাম্প আবার তাকে খুনিও বলে থাকেন। বর্তমানে এশিয়া সফরের অংশ হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ায় রয়েছেন ট্রাম্প, যেখানে তিনি এপেক সম্মেলনে অংশ নেবেন। এর আগে মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের মধ্যকার চারদিনের যুদ্ধের বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, তিনি এই যুদ্ধ বন্ধ করে দিয়েছেন।

    ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি প্রথমে এই যুদ্ধ বন্ধের জন্য দুই দেশের নেতাদের আহ্বান করেছিলেন, কিন্তু তারা এক্ষেত্রে রাজি হয়নি। পরে তিনি দ্বিপাক্ষিক এই সংঘর্ষ বন্ধ করতে ভারত ও পাকিস্তান উভয়কেই রাজি করান এবং যুদ্ধ না করলে ওই দেশগুলোর সাথে বাণিজ্য চুক্তি বন্ধের হুমকি দেন।

    তিনি বলেন, “আমি ভারতের সাথে বাণিজ্য চুক্তি করতে যাচ্ছি। আমার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রয়েছে। তিনি আমার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। একইভাবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীও একজন অসাধারণ ব্যক্তি। পাকিস্তানের একজন ফিল্ড মার্শাল আছেন—কারণ তিনি একজন অভিজ্ঞ ও সালিল্যজনক সৈনিক। আমি তাদের সবাইকে চিনি।

    ট্রাম্প জানিয়েছেন, ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় সাতটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছিল, এবং তারা ছিল দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। তিনি বলেন, “আমি মোদিকে ফোন করে বলি, আমাদের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি সম্ভব নয়, কারণ আপনি পাকিস্তানের সঙ্গেও যুদ্ধ করছেন।” মোদি তখন বলে, ‘না, আমাদের চুক্তি করতে হবে।’ ওই সময় ট্রাম্প আবার বলেছিলেন, ‘না, আমরা চুক্তি করব না, কারণ আপনি পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ করছেন।’

    অন্যদিকে পাকিস্তানকেও ট্রাম্প জানান, তারা তাদের সঙ্গে বাণিজ্য করবে না কারণ তারা ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত। ট্রাম্প বলেন, “পাকিস্তান বলে, ‘না, আমাদের যুদ্ধের জন্য দিন নাই।’ উভয় দেশই বলেছে, তারা শক্তিশালী ও লড়াকু।

    ট্রাম্প মোদির আচরণে কিছুটা অবাক হয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদিকে দেখলে মনে হয়, তাকে আপনি আপনার বাবা বলে মনে করতে পারেন। ওঁকে দেখে মনে হয়, ওঁর জন্য অনেক ভালোবাসা জাগে। কিন্তু এই মোদি তো একজন খুনি। ওঁর রূপ বেশ কঠোর। ওঁকে আমি বলি, ‘না, আমরা পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ করব।’ তখন আমাকে আশ্চর্য মনে হয়, এটি কি সেই মোদি?”

    প্রায় দুই দিন পর ট্রাম্পের সন্দেহের অবসান ঘটে এবং মোদি ও পাকিস্তান উভয়ই যুদ্ধ বন্ধ করে দেয়। ট্রাম্পের এই মন্তব্য এবং ঘটনার বিবরণ সমালোচকদের মাঝে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস।

  • কলকাতায় সাবেক আওয়ামী লীগ এমপি কনিকা বিশ্বাসের মৃত্যু

    কলকাতায় সাবেক আওয়ামী লীগ এমপি কনিকা বিশ্বাসের মৃত্যু

    কলকাতায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন প্রবীণ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য কনিকা বিশ্বাস। তিনি বুধবার পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা সংলগ্ন সল্টলেকের মণিপাল হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। জানা গেছে, দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন তিনি এবং ওই বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর সময় ছিল বয়স ৮০ বছর।

    কনিকা বিশ্বাসের জন্ম বাংলাদেশের ওড়াকান্দিতে হলেও বেশ কিছু বছর ধরে তার পরিবার বসবাস করছিল উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হৃদয়পুরে। তিনি ১৯৭৩ সালে প্রথম নারী আসন-১১ থেকে বাংলাদেশ সংসদে মনোনীত সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। তাঁর রাজনৈতিক জীবন ছিল গুরুত্বপূর্ণ গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে তিনি ৬ দফা আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সংগঠক হিসেবে অংশ নেন। এক সময় তাঁর ঠিকই স্বামী বীরেন রাজ বিশ্বাসও স্বজনতায়ক ছিলেন।

    তাঁর আত্মীয়, চিকিৎসক ডাঃ সুবোধ বিশ্বাস জানান, কনিকা বিশ্বাস দীর্ঘদিন অসুস্থতার কারণে কলকাতার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এরই মধ্যে বুধবার বিকালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে বৃহস্পতিবার বিকেলে কলকাতার নিমতলা মহাশ্মশানে।

  • লেবানন প্রেসিডেন্টের সেনাবাহিনীকে ইসরায়েল মোকাবেলার নির্দেশ

    লেবানন প্রেসিডেন্টের সেনাবাহিনীকে ইসরায়েল মোকাবেলার নির্দেশ

    লেবাননের রাষ্ট্রীয় প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, ইসরায়েলি আক্রমণের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে লড়াই করতে হবে। এই নির্দেশ দেয়া হলো এমন পরিস্থিতিতে, যখন যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি অনুপ্রবেশ ও হামলা অব্যাহত রয়েছে। এটি ২০২৪ সালের শেষের দিকে যুদ্ধবিরতির পর থেকে প্রথমবারের মতো এমন কঠোর নির্দেশনা দিলেন প্রেসিডেন্ট আউন। বুধবার রাতে, দক্ষিণ লেবাননের ব্লিদা শহরে একটি পৌরসভা ভবনে ইসরায়েলি বাহিনী হামলা চালিয়ে একজন স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তাকে হত্যা করে। এরই প্রতিক্রিয়ায়, লেবাননের সরকারি সম্প্রচার সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট আউন ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এটি ‘ইসরায়েলি আগ্রাসনের ধারাবাহিক প্যাটার্নের’ একটি অংশ। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, বেসামরিক অবকাঠামোর আড়ালে থাকা ওই পৌরসভা ভবনটি হিজবুল্লাহর কার্যকলাপের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছিল। একই সময়ে, হিজবুল্লাহ তাদের পক্ষ থেকেও ইসরায়েলি আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে আউনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা এ বিষয়েও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সেনাবাহিনীর প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করবে। গত আগস্ট মাসে, লেবাননের আরব-সমর্থিত সরকার সমস্ত অস্ত্রের সরকারি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য নিয়ে একটি পরিকল্পনা অনুমোদন করে। যদিও হিজবুল্লাহ এই পরিকল্পনাকে প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, দক্ষিণাঞ্চলে দখলকৃত পাঁচটি সীমান্ত ফাঁড়ি থেকে ইসরায়েলি সেনাদের প্রত্যাহার ছাড়া তারা নিজেদের অস্ত্র সরিয়ে নেবে না। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলি হামলা শুরুর পর থেকে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে নিয়মিত আক্রমণ চালানো হচ্ছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে লেবাননে ইসরায়েলে পূর্ণাঙ্গ হামলা শুরু হলে, এখনও পর্যন্ত ৪ হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ১৭ হাজার মানুষ আহত হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২۴ সালের নভেম্বরের মধ্যে হিজবুল্লাহ এবং ইসরায়েলি সেনাদের মধ্যে যুদ্ধবিরতির কথা ছিল, তবে তারা কেবল অর্ধেক প্রত্যাহার করে নেয় এবং সীমান্তের পাঁচটি চৌকিতে সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে।

  • বাংলাদেশে পুশইনের ভয়ে কলকাতায় ৯৫ বছর বয়সী বৃদ্ধের আত্মহত্যা

    বাংলাদেশে পুশইনের ভয়ে কলকাতায় ৯৫ বছর বয়সী বৃদ্ধের আত্মহত্যা

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমের ইলামবাজারে একজন ৯৫ বছর বৃদ্ধ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তিনি তার নিজের মেয়ের বাড়িতে বৃহস্পতিবার এই চরম সিদ্ধান্ত নেন। পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে পুশইনের ভয় থেকেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

    আনন্দজনক এই ঘটনার মধ্যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং নাগরিকদের উদ্বেগের বিষয়টিও জড়িয়ে রয়েছে। আগামী ৪ নভেম্বর থেকে কলকাতা মহানগরীতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) কার্যক্রম শুরু হবে, যা নিয়ে অনেকের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

    ক্ষিতীশ মজুমদার নামে ওই বৃদ্ধের পরিবার জানিয়েছে, ২০০২ সালে তৈরি হওয়া ভোটার তালিকায় তার নাম ছিল না। যখন থেকে এই তথ্য উঠে এসেছে, তখন থেকেই তিনি ভয় পান যে তাকে বাংলাদেশে পুশইন করা হবে। তারা উল্লেখ করেছেন, তিনি খুবই ছোট বয়সে বাংলাদেশ থেকে ভারতে এসেছেন এবং সেখানে অনেক কষ্ট করে জীবন গড়েছেন।

    নাতনি নির্মলা বলেন, “আমার দাদার নাম ২০০২ সালে প্রকাশিত ভোটার তালিকায় ছিল না। তিনি বহু আগে বাংলাদেশ থেকে এখানে এসেছিলেন। বাংলাদেশে পুশইনের ভয়েই তিনি খুবই চিন্তিত ছিলেন। এই বয়সে যদি আবার বাংলাদেশে পাঠানো হয়, তা হলে তিনি কি করবেন?”

    তবে মৃতদেহের পরিবারের অন্য সদস্যরা এই বিষয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, দাদার কাছে কোনো নোট পাওয়া যায়নি যেখানে তিনি এই ধরনের ভয় বা চিন্তার কথা উল্লেখ করেছেন।

    ক্ষিতীশ পশ্চিম মোদিনিপুরের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি তার মেয়ের বাড়িতে থাকতেন ইলামবাজারে।

    বীরভূমের পুলিশ সুপার আমনদ্বীপ বলেন, “আমরা জানতে পেরেছি তিনি ভোটার তালিকা হালনাগাদের জন্য ভয় পেয়েছিলেন, এ কারণেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে আমাদের কাছে কেউ এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেয়নি।” সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

  • মুম্বাইয়ে জিম্মিদশা ও নাটকীয় অভিযান, গুলিতে নিহত জিম্মি কর্তা

    মুম্বাইয়ে জিম্মিদশা ও নাটকীয় অভিযান, গুলিতে নিহত জিম্মি কর্তা

    ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্রের রাজধানী মুম্বাইয়ে এক ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটেছে। পওয়াই এলাকার একটি স্টুডিওতে এক ব্যক্তির কারণে কমপক্ষে ১৭ শিশু নিরাপত্তাহীন পরিস্থিতিতে পড়েছিল। ঘটনার সময় ওই ব্যক্তির জিম্মিতে পড়েছিলেন শিশুরা, এরপর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে সাহসিকতার সাথে অভিযান চালিয়ে শিশুদের উদ্ধার করে। এই অভিযানে ধরা পড়ে জিম্মি করা ব্যক্তি রোহিত আর্য, যাকে পুলিশের গুলিতে আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে তিনি মারা যান।

    ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার বিকাল দিকে, আরএ স্টুডিও নামে একটি ছোট ফিল্ম স্টুডিওতে। পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে, রোহিত আর্য অডিশনের জন্য শিশুদের স্টুডিওতে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে তিনি নিজেকে একজন নির্মাতা বা অডিশনার বলে পরিচয় দিয়ে শিশুদের জিম্মি করেন। ঘটনা জানতে পেরে পুলিশ দ্রুত পৌঁছে ঝুঁকি অনুধাবন করে চমৎকারভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করে শিশুদের নিরাপদে মুক্ত করে।

    পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ৮ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে অক্ষত অবস্থায় জিম্মি রাখা হয়েছিল। পরে উদ্ধার কার্যক্রমে পুলিশ রোহিতের সঙ্গে আলোচনা চালায়, কিন্তু তিনি শিশুগুলোর মুক্তি দিতে অস্বীকৃতি জানান। তখন তিনি শিশুদের হত্যার হুমকি দেন। শেষ পর্যন্ত, পুলিশ তার স্টুডিওর বাথরুমের ভিতরে প্রবেশ করে খেলোয়াড়ি কৌশলে শিশুদের নিরাপদে উদ্ধার করে।

    আঘাতের সময় রোহিত আর্য স্টুডিও থেকে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। সেখানে তিনি বলেন, তিনি আত্মহত্যা না করে এই জিম্মিদশার পথ বেছে নিয়েছেন। ভিডিওতে তিনি জানান, তাঁর অর্থের কোনো সমস্যা নেই এবং তিনি সন্ত্রাসী নয়। তিনি দাবি করেন, কিছু প্রশ্ন ও নৈতিক দাবির জন্য এই কাজ করেছেন। তিনি সতর্কভাবেই বলেন, তার ভুলে কিছু ঘটলে তিনি আগুন লাগিয়ে দিতে পারেন এবং এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

    আটক করার সময় পুলিশ তার কাছ থেকে একটি বন্দুক ও রাসায়নিক ভর্তি পাত্র উদ্ধার করেছে। জানা গেছে, রোহিত মূলত একটি ওয়েব সিরিজের অডিশনের জন্য শিশুগুলোর ভাড়া নিয়েছিলেন। শিশুরা স্থানীয় একটি আবাসিক ভবনের নিচে অবস্থিত এই স্টুডিওতে ছিলেন।

    রোহিত আর্য দাবি করেছেন, তিনি ‘পিএলসি স্যানিটেশন মনিটর প্রজেক্ট’ নামে একটি কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং রাজ্য সরকারের শিক্ষা দপ্তর থেকে তার জন্য অর্থের কিছু পাওনা ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের সুযোগ্যতার জন্য তার অর্থ এখনও পরিশোধ হয়নি। তার অভিযোগ, তিনি তার প্রকল্পের জন্য অনুমোদিত ২ কোটি রুপির মধ্যে অনেকটাই পেতেন, কিন্তু ২০২৪ সালের জানুয়ারির মধ্যে সবকিছু বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে তিনি দু’বার অনশনও করেছিলেন। তিব্র নাখোশ ছিলেন তিনি, কিন্তু তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে তার পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কেসরকর তাকে ৭ লাখ ও ৮ লাখ রুপির দু’টি চেক দিয়েছিলেন, যা পরবর্তী সময়ে আরও অর্থের জন্য প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল।

    সর্বশেষ ঘটনাপ্রবাহে, পুলিশ ও তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, পরিস্থিতি সত্যিই খুবই সঙ্কটজনক ছিল। তারা ধারণা করছে, রোহিতের হাতে থাকা কিছু রাসায়নিক ও অস্ত্র শিশুদের বিপদে ফেলেছিল। এই ঘটনার মাধ্যমে বোঝা যায়, শিশু নিরাপত্তার জন্য আরও সতর্ক হতে হবে এবং স্থানীয় authorities এর নজরদারি আরও জোরদার করতে হবে।

  • অর্থনৈতিক স্থবিরতার কারণে খালিশপুরে মাদক সিন্ডিকেটের বিস্তার

    অর্থনৈতিক স্থবিরতার কারণে খালিশপুরে মাদক সিন্ডিকেটের বিস্তার

    বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল বলেছেন, বর্তমান সময়ে খুলনা-৩ আসনের ঝুলন্ত শিল্পাঞ্চল খালিশপুর এখন দেশের অন্যতম অবহেলিত ও দরিদ্র এলাকার মধ্যে পরিণত হয়েছে। এখানকার অর্থনৈতিক স্থবিরতা এবং মানুষের অসহায় পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে একটি শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যা তরুণ সমাজের ভবিষ্যতকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে। বৃহস্পতিবার রাতে খালিশপুরের বিআইডিসি রোডে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে আয়োজিত এক বৃহৎ সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, আমাদের এখানকার ব্যবসায়ীরা অনেক কষ্ট করে টিকে আছেন, তাঁরা শুধু বাতিটা জ্বালিয়ে রেখেছেন। বিভিন্ন কারখানা ও মিল বন্ধ হওয়ায় মানুষের কাছে এখন টাকা তেমন নেই। দোকান থাকা সত্ত্বেও বিক্রি কমে গেছে, ফলে এই অঞ্চলের মানুষ এখন খুবই দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। তিনি আরও বলেন, এই অর্থনৈতিক অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে এখন খালিশপুরে মাদকের ভয়ঙ্কর বিস্তার দেখা দিয়েছে। মাদক বিরোধী অভিযানে সবাইকে একসঙ্গে দাঁড়াতে হবে, কারণ এই লড়াইয়ে কোনো দল, মত বা পথের ভাগ নেই। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাদককে নির্মূল করতে হবে। বকুল জোর দিয়ে বলেন, মাদকদ্রবের সঙ্গে জড়িত যে কেউই হোক, কত প্রভাবশালী বা দলের হোক না কেন, তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি আশ্বস্ত করেন, এই এলাকাকে মাদক মুক্ত বলতে ছাড়বে না তিনি, ইনশাআল্লাহ। ভোটের প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, নির্বাচনের জন্য আমি আপনাদের কাছে ভোট চাইতে আসিনি। আমি এখনো প্রার্থী নই। যখন প্রার্থী হবো, তখন ভোটের জন্য আসব। এখন আমি শুধু আপনাদের দুঃখ-দুর্দশার কথা শুনতে এবং সমাধানে সহায়তা করতে এসেছি। বিএনপি’র আন্দোলনের উদ্দেশ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে জনগণের ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। এই আন্দোলনে অসংখ্য নেতা ও কর্মী জীবন দিয়েছেন, পঙ্গু হয়েছেন। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ নির্মাণ করতে চাই, যেখানে ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও বৈষম্য থাকবে না। এর জন্য প্রয়োজন সচেতনতা, ঐক্য ও শক্তিশালী নেতৃত্ব। বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু করে তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির দিকে আমাদের লক্ষ্য। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন আবদুল গফুর বিশ্বাস এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জাকির হোসেন সঞ্চালনা করেন। বক্তব্য রাখেন মো: খলিলুর রহমান, মুফতি আঃ আজিম খায়ের, টি এম আলম চৌধুরী, মো: নুরুল হকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদী, সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন, জাহাঙ্গীর শেখ, আতাউর রহমান পপলু ও অন্যান্য স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। এই সমাবেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সাধারণ ব্যবসায়ী, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা-কর্মী ও এলাকার জনগণের উপস্থিতি খালিশপুরবাসীর পরিবর্তনের প্রত্যাশার প্রমাণ। বর্তমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতিতে সবাই এখন একযোগে অন্ধকার থেকে আলোতে আসার উদ্যোগ নিচ্ছেন।

  • সাতক্ষীরায় সবজির বাজারে স্বস্তি ফিরলেও বেড়েছে পেঁয়াজের দাম, চালের বাজার স্থিতিশীল

    সাতক্ষীরায় সবজির বাজারে স্বস্তি ফিরলেও বেড়েছে পেঁয়াজের দাম, চালের বাজার স্থিতিশীল

    সাতক্ষীরা শহরে সম্প্রতি সবজির বাজারে স্বস্তি ফিরলেও পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। অন্যদিকে, চালের বাজারের স্থিতিশীলতা লক্ষ্য করা গেছে। ভারত থেকে চাল আমদানি অব্যাহত থাকলেও দেশের বাজারে সরবরাহ কম থাকায় দেশি চালের দাম এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ফলস্বরূপ, সাধারণ ক্রেতারা কিছুটা ভোগান্তি কম অনুভব করছেন, তবে পেঁয়াজ ও চালের খরচ তাদের জন্য কিছুটা বেশি হয়ে উঠছে। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, ৩০ অক্টোবর থেকে ভারতের চাল আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায়, আসন্ন সময়ের মধ্যে চালের দাম আরও বাড়তে পারে বলে ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।

    সাংবাদিকদের সরেজমিনে দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার সূর্যদীঘির সময় সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর বড়বাজারের পাইকারি সবজির বাজারে গেলে দেখা যায়, গত সপ্তাহের তুলনায় বেশ কিছু সবজির দাম কমে গেছে। কেজির দরে আলু বিক্রি চলছে ১৪ টাকা, এবং বড় বস্তায় ১২ থেকে ১৩ টাকায়। অন্যান্য সবজির মধ্যে স্থানীয় জাতের বেগুন ৫০ টাকা, বাহ্যিক জাতের ৪০ টাকা, ফুলকপি ৭০-৭৫ টাকা, বাইরের জাতের ৬০-৬৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বাঁধাকপি ৪৫-৫০ টাকা, ওলকপি ৪৫-৫০ টাকা, টমেটো ৭০-৮০ টাকা, সিম ৪০ টাকা, বরবটি ৩০ টাকা, কচুরমোচি ১৫-১৮ টাকা, কচু ৩০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ২৮-৩২ টাকা, খিরাই ৩৫-৪০ টাকা, ধনে পাতা ৮০-৮৫ টাকা, কাঁচকলা ৩০-৩২ টাকা, পেপে ১৪-১৮ টাকা, ঝিঙে ১৫ টাকা, ধুন্দুল ১০-১২ টাকা, ধেড়স ১৩-১৫ টাকা, চিচিংগা ১৪-১৫ টাকা, উচ্ছে ২৫-২৮ টাকা, ওল ১০০ টাকা ও মারঙ্গাজ জাতের ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য সবজি যেমন, আলু ৪৫-৫৫ টাকা, জলপাই ৪৫-৫০ টাকা, পুঁইশাক ২০ টাকা, লাল শাখা ৭ টাকা, পালংশাক ১০-১২ টাকা, লাউ ১২-১৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি, কাঁচামরিচের দাম ১০০ টাকা কেজি, তবে খুচরাতে তা আরও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহখানেক আগে এ সবজির দাম আরও ১৫-২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছিল, তবে সরবরাহ বাড়ার কারণে এখন দাম কমতে শুরু করেছে।

    সুলতানপুর বড়বাজারের সবজির আড়তদার মিয়ারাজ হোসেন জানান, কিছুদিন ধরে স্থানীয় শীতকালীন সবজির ওঠানামা শুরু হয়েছে। বাজারে সরবরাহের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দামও নিম্নগামী হওয়াতে আগের মত ক্রেতাদের জন্য সবজির দাম কিছুটা সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সামনে যত দিন যাবে সবজির দাম আরও কমবে।

    অপরদিকে, বাজারে স্বস্তি ফিরলেও পেঁয়াজের দাম বাড়ছে। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ৫ থেকে ৭ টাকা হিসেবে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে পাইকারি বাজারে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬৮-৭০ টাকায়, যেখানে এক সপ্তাহ আগে ছিল ৬৩-৬৫ টাকা। পাশাপাশি, আদা বিক্রি হচ্ছে ১২৫ টাকা, রসুনের প্রকারভেদে ৬০-৮০ টাকা কেজি।

    সুলতানপুর বাজারে পাইকারি আড়তদার আব্দুল আজিজ বলেন, পেঁয়াজের দাম কিছুটা বাড়তি হয়েছে। কেজির মধ্যে ৩ থেকে ৫ টাকার মতো বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যান্য মসলা জাতীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে।

    চালের বাজারও গত দুই মাস ধরে স্থিতিশীল রয়েছে। ভারতীয় চালের আমদানি অব্যাহত থাকলেও দেশীয় চালের বাজারে এর প্রভাব পড়েনি। তবে ভারতের চাল এখন কিছুটা কম দামে বিক্রি হচ্ছে। দেশীয় মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৮-৫০ টাকা কেজি, মিনিকেট চাল ৬৮-৭০ টাকা, ২৮ জাতের চিকন চাল ৬৪ টাকা এবং মোটা জাত ৬০-৬১ টাকায়। অতিরিক্ত, আতপ মোটা চাল ৪৬ টাকা, এবং আতপ চিকন ৫২ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া, বাসমতি চালের দাম ৮২-৮৩ টাকা কেজি। ভারতের চালের মধ্যে অমদানি চাল বিক্রি হচ্ছে ৫১ টাকা, মিনিকেট ৬৬ টাকা, রতœা ৫২ টাকা, নাজির শাইল ৭৫ টাকা, কাটারিভোগ ৭৬ টাকা। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত দুই মাস ধরে এই দামে চাল বিক্রি চলছে। আমদানি বৃদ্ধির পরেও দর তা বদলায়নি।

    চাল ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম জানান, ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি হওয়া চালের মধ্যে বেশির ভাগ চলে যাচ্ছে উত্তরবঙ্গ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও অন্যান্য অঞ্চলে। ফলে, পর্যাপ্ত সরবরাহের অভাবে স্থানীয় বাজারে দাম এখনও বাড়েনি। আগামী ৩০ অক্টোবর থেকে ভারত থেকে চাল আমদানি বন্ধ হলে, ছড়িয়ে পড়ে এমন ধারণা, দাম বাড়তে পারে।

    ভোমরা স্থলবন্দর কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান জানান, ভরতন্ত্র থেকে চাল আমদানির মেয়াদ বাড়িয়ে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বর্তমানে, এই বন্দর দিয়ে ৪ হাজার ৪৫৮ গাড়িতে একলাখ ৭২ হাজার ৫১১ দশমিক ৪৭৬ মেট্রিক টন চাল আমদানি করা হয়েছে। নভেম্বর মাসে আমদানি অব্যাহত থাকলে বাজারের স্থিতিশীলতা থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।

  • অস্ত্র মামলায় একজনের ২১ বছর সশ্রম কারাদণ্ড

    অস্ত্র মামলায় একজনের ২১ বছর সশ্রম কারাদণ্ড

    দাকোপ থানার অস্ত্র মামলায় এক আসামিকে দু’টি ধারা দিয়ে ২১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার খুলনা জেলা ও আদালত জজ আদালতের বিচারক চাঁদ মোহাম্মদ আব্দুল আলীম আল রাজি এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি হলেন বাগেরহাট জেলার রামপাল থানার কৈগরদাসকাঠি গ্রামের মৃত ইলিয়াস শেখের ছেলে ৪০ বছর বয়সী কবির শেখ। রায় সময় তিনি আদালতে নিজ উপস্থিতিতে সাক্ষ্য দেন।

  • নির্বাচনী প্রক্রিয়া বানচাল করতে চায় সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে

    নির্বাচনী প্রক্রিয়া বানচাল করতে চায় সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে

    খুলনা মহানগর বিএনপি সভাপতি এডভোকেট শফিকুল আলম মনা বলেছেন, ইসলামকে অপব্যবহার করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা চালাচ্ছে কিছু অসাধু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী। যারা ইসলামকে কেন্দ্র করে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া বানচাল করার চেষ্টা করছে, তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে বিএনপি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক যৌথ সভায় তিনি এসব কথা বলেন, যা হলো ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালনের জন্য। সভায় বক্তারা বলেন, বর্তমানে একটি গোষ্ঠী ধর্মের নামে সাধারণ মানুষের অনুভূতিকে পুঁজি করে জন্নাতের টিকিট বিক্রি করছে। তবে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তাদের ভূমিকা ছিল সন্দেহজনক। জনগণকে এসব সত্য জানানো অত্যন্ত জরুরি। ভোটাধিকার রক্ষার জন্য মানুষের লড়াইকে ব্যর্থ করতে চায় কিছু চক্র, যারা ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত। তাই সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে একতার বিকল্প নেই। মহানগর বিএনপি নেতারা আরও বলেন, বিএনপি যার হাতে রাষ্ট্রের সামগ্রিক মেরামতের ৩১ দফা প্রকল্প, তার বাস্তবায়নই দেশের সংকট মোকাবেলায় পথ দেখাতে পারে। তাই সব নেতা ও কর্মীকে সাধারণ মানুষকে এই দফাগুলোর গুরুত্ব বুঝাতে হবে। এই ৩১ দফা শুধু রাজনৈতিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি নয়, বরং এটি ন্যায়, সমতা ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার শপথবাক্য। যারা ধর্মের নাম করে বিভাজন সৃষ্টি করছে, তাদের মুখোশ উন্মোচন করাই এখন সময়ের দাবি। সভায় বিএনপি নেতৃবৃন্দ দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার ও ভবিষ্যত নির্বাচনে অংশগ্রহণের দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন। বক্তৃতা দেন মহানগর বিএনপি সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদী, মাসুদ পারভেজ বাবু ও হাসানুর রশীদ চৌধুরী মিরাজ, থানা সভাপতি কে এম হুমায়ূন কবির, সেখ হাফিজুর রহমান মনি, মুর্শিদ কামাল, অন্যান্য নেতারা। এতে উপস্থিত ছিলেন অনেক বিশিষ্ট নেতা, বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের প্রতিনিধিগণ ও শ্রমিক, যুব, মহিলা ও ছাত্র সংগঠনের নেতারা। সভায় ৭ নভেম্বরের বিপ্লব ও সংহতি দিবসের কার্যক্রমের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।

  • সুন্দরবনে ডাকাত করিম শরীফ বাহিনীর সদস্য অস্ত্রসহ আটক

    সুন্দরবনে ডাকাত করিম শরীফ বাহিনীর সদস্য অস্ত্রসহ আটক

    সুন্দরবনের ঘন জঙ্গলে পুলিশের পাশাপাশি কোস্ট গার্ডের অভিযান চালিয়ে এক সদস্যকে অস্ত্রসহ আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে বনের হারবাড়িয়া এলাকায় নিখুঁত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাদের এ সফলতা অর্জিত হয়। কোস্ট গার্ডের একজন কর্মকর্তা জানান, দুপুরে তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহের জন্য সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত করিম শরীফ বাহিনীর সঙ্গে জড়িত এক সহযোগী শনিবার সকালে নন্দবালা খাল থেকে গোপনে বনদস্যুদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছিল। আশপাশের এলাকার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে, অভিযান চালানো হয় ওই এলাকায়। এ সময়, সন্দেহ হলে তাদের ধাওয়া করে আটক করা হয়। তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয় একটি একনলা বন্দুক, তিন রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং ডাকাতির বিভিন্ন সরঞ্জাম।

    আটক যুবকের নাম আব্দুর রহিম (৩২), তিনি বাগেরহাট জেলার শরণখোলা উপজেলার বাসিন্দা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি সুন্দরবনের দস্যু করিম শরীফের বাহিনীকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ করে আসছেন। উদ্ধার হওয়া অস্ত্র, গোলাবারুদ ও তার বিরুদ্ধে একাধিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে, যা অব্যাহত থাকলে এই মানসিকতা আরো কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।