Month: October 2025

  • হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে বার্সেলোনাকে হারাল রিয়াল Madrid, প্রথম ক্লাসিকো জয় এমবাপ্পের

    হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে বার্সেলোনাকে হারাল রিয়াল Madrid, প্রথম ক্লাসিকো জয় এমবাপ্পের

    শক্তিশালী ও উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইয়ে এখনই প্রতিশোধের কথা ভাবা হয়তো বাড়াবাড়ি হবে, তবে শিরোপাহীন মৌসুম কাটানোর দুঃখ কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকোতে তারা মারাত্মক আক্রমণে বার্সেলোনাকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে। তবে, কিলিয়ান এমবাপের পেনাল্টি মিস এবং অফসাইডে দুটি গোল বাতিল না হলে জয়ের ব্যবধান আরও বড় হতে পারত।

    সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে আজকের (রোববার) ম্যাচের আগে উত্তেজনার পারদ বাড়িয়ে দিয়েছিল লামিনে ইয়ামালের কৃতিত্বে ‘চোর’ ও ‘ছিঁচকাঁদুনে’ তকমার বদৌলতে। তবে মাঠে উপস্থিত হয়ে বার্সেলোনার ফুটবলাররা এর জবাব দিয়েছে। মূল ম্যাচের ফল নির্ধারিত হয় প্রথমার্ধেই, যখন রিয়াল পক্ষে প্রথম গোল করে ১-০ লিড নেওয়ার পর, বার্সার হয়ে ফিরিয়ে আনেন ফার্মিন লোপেজ। তবে, ম্যাচের শেষভাগে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন বার্সার মিডফিল্ডার পেদ্রি, যার কারণে তারা শেষ পর্যন্ত ১০ জন খেলোয়াড়ের মত নিরাশ হয়ে ম্যাচ শেষ করে। এরই মাঝে হাতাহাতির ঘটনাও দেখা যায়।

    ম্যাচের আগে বার্সেলোনার জন্য কিছুটা ক্ষত ছিল, কারণ চোটের কারণে রাফিনিয়া, লেভানদফস্কি ও গাভি কিছু গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় মাঠে নামতে পারেননি, অন্যদিকে কোচ হ্যান্সি ফ্লিকও নিষেধাজ্ঞার জন্য ডাগআউটে ছিলেন না। তবুও, পরিকল্পনা ও রণকৌশল যথেষ্ট ছিল। অন্যদিকে, রিয়াল গত মৌসুমে চারটি লিগ ম্যাচে হেরে যাওয়ার ক্ষত suffered। এই হারে তারা মোট ১৬ গোল হজম করে। তবে এই প্রথম মৌসুমর প্রথম এল ক্লাসিকোর মাধ্যমে, তারা এই ক্ষত parcialmente পুরেছে।

    বলে দখলে থাকলেও, ম্যাচে বলের অধিকার ছিল বার্সেলোনার। তারা ৬৩ শতাংশ বলের পজেশন ধরে রেখেছে এবং ১৫টি শটের মধ্যে ৫টি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়। অন্যদিকে, রিয়াল শটের ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকলেও, বলের নিয়ন্ত্রণে ছিল বার্সেলোনা। মধ্যমাঠ থেকে উদ্ধার করা দারুণ এক পাসের মাধ্যমে শুরু হয় অঘটন, যেখানে এমবাপের শটটি গোলের কাছাকাছি যেত, তবে গোলরক্ষক ভয়চেক সিজনির তৎপরতায় সেটি ঠেকানো হয়।

    খেলা শুরু হয় মাত্র দ্বিতীয় মিনিটেই, যেখানে রিয়াল পেনাল্টি পায়, তবে ভিডিও পানেল রিভিউয়ে দেখা যায়, ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে ভুলফলে ফাউল করা হয়নি—যদিও ফাউলের জন্য শট নেওয়ার সময় ইয়ামাল কেকিকে কিক দিয়েছেন। নবম মিনিটে প্রথম শট নেন ইয়ামাল, কিন্তু সেটা গোলের বাইরে। কয়েক মিনিটের মধ্যে এমবাপের গোলে রিয়াল এগিয়ে গেলে, বার্সেলোনা দ্রুত পুনরায় সমতা ফেরায়। এরপর কিলিয়ান এমবাপে স্বাভাবিকভাবেই দারুণ এক শট নেন, তবে অফসাইডের কারণে গোল বাতিল হয়।

    ৩৩ মিনিটে বার্সেলোনার ফরোয়ার্ড ফেররান তোরেসের দুর্বল শটের কারণে অতিরিক্ত সুযোগ নষ্ট হয়, তবে ৩৬ মিনিটে কোর্তোয়ার সতর্কতা এবং সিজনির আক্রমণ প্রতিরোধের মাধ্যমে রক্ষণদূষিত চেষ্টা করে। তিন মিনিটের মধ্যে আর্দা গুলার বল দখল করেন এবং পেদ্রি তাকে বল খুঁজে পান, resulting in a goal at close range। এরপর, ৪৩ মিনিটে পেরিয়ে যায়, যখন রিয়াল পেয়েছিল আবারও লিড, এইবার স্কোরবোর্ডে নাম লেখান বেলিংহ্যাম, যা তার মৌসুমের দ্বিতীয় গোল।

    বিরতিতে রিয়ালের সঙ্গে ২-১ এগিয়ে থেকে যায় তারা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে উভয় দলই আক্রমণে লড়ে, তবে গোলের জন্য কষ্ট করে। রিয়াল আক্রমণে থাকলেও, বার্সেলোনা প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের জন্য চমৎকার তৈরি করে। ৬৮ মিনিটে রিয়ালের এক গোল বাতিল হয় অফসাইডের জন্য, যা তাদের মনোবল হেলে দেয়। শেষমেশ, খেলায় কোন পরিবর্তন আসেনি এবং স্কোরলাইন অপরিবর্তিত থাকায়, রিয়াল ২-১ ব্যবধানে জয় লাভ করে। তারা লা লিগার টেবিলে শীর্ষস্থান ধরে রাখে, যেখানে তাদের পয়েন্ট ২৭, আর বার্সেলোনা দুইয়ে থেকে ২২ পয়েন্ট সংগ্রহ করে।

  • আফিফের হ্যাটট্রিকের কারণে বরিশালের দুশ্চিন্তা বাড়ল

    আফিফের হ্যাটট্রিকের কারণে বরিশালের দুশ্চিন্তা বাড়ল

    জাতীয় ক্রিকেট লিগের ২৭তম আসরে খুলনা বিভাগের স্পিনার আফিফ হোসেন ধ্রুবের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারণে বরিশাল বিভাগ কঠিন দুঃশ্চিন্তার মধ্যে পড়েছে। প্রথম ইনিংসে খুলনার ৩১৩ রানের জবাবে বরিশাল দল ১২৬ রানে অলআউট হওয়ায় ফলো-অনে পড়ে। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে তারা ১৮৭ রানে পিছিয়ে থেকে ব্যাট করতে নেমে ৪ উইকেটে ১১৯ রান করেছে, ফলে তাদের পিছিয়ে রেখেছে ৬ উইকেট হাতে নিয়ে ৬৮ রানের ব্যবধানে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতি যেখানে বরিশাল পরে কঠিন চ্যালেঞ্জে পড়েছে। খুলনা বিভাগের প্রথম দিন (শনিবার) শেষে তাদের স্কোর ছিল ৯ উইকেটে ৩১২ রান, যা শেষ করে ৩১৪ রান করা হয় বাকী এক উইকেটে। বরিশালের জন্য রুয়েল মিয়া ও মইন খান ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন। জবাবে আফিফের স্পিন ঘূর্ণিতে বরিশাল দল মাত্র ১২৫ রানে ৭ উইকেট হারায়, যেখানে তিনি ৩ উইকেট সংগ্রহ করেন। তবে আফিফ একের বেশি উইকেট নিতে থেমে থাকেননি। ৪২তম ওভারের প্রথম তিন বলে তিনি তিন ব্যাটসম্যানকে এলবিডব্লিউ’র ফাঁদে ফেলেন—শামসুল ইসলাম অনিক, ইয়াসিন আরাফাত মিশু ও রুয়েল মিয়া। এর ফলে তিনি পূর্ণ করেন হ্যাটট্রিক। আফিফ ১০.৫ ওভারে বল করে ৩১ রানে ৬ উইকেট নেন, যা তার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অন্যতম সেরা বোলিং পারফরম্যান্স। এর আগে ২০১৮ সালে রাজশাহীর বিপক্ষে খেলিয়ায় তিনি ৬৭ রানে ৭ উইকেট নিয়েছিলেন। ফলো-অনের কারণে বরিশাল দ্বিতীয় ইনিংসে সুবিধা করতে পারেনি, তারা ১১৯ রান তুলতেই ৪ উইকেট হারায়। ইফতেখার হোসেন ৪০ ও ফজলে মাহমুদ ৩২ রানে আউট হন। শামসুর রহমান ২৪ এবং তাসামুল হক অপরাজিত আছেন ৩ রানে। নাহিদুল ইসলাম দুটি উইকেট শিকার করেন। অন্যদিকে, রংপুর বিভাগ এগিয়ে রয়েছে নাইমের অসাধারণ ব্যাটিংয়ে। তিনি ডাবল সেঞ্চুরি তুলে দলকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। প্রথম ইনিংসে ঢাকার ২২১ রানের জবাবে রংপুরের প্রথম দিন শেষে তারা ৬৫ রানে ২ উইকেটের জয় নিয়ে ব্যাট করছে। দ্বিতীয় দিন নাইমের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে রংপুর লিড পেয়েছে। তিনি ১১১ রান অপরাজিত থাকেন, যেখানে তার ইনিংসে ছিল ১৬টি চার। ২২১ বলের এই ইনিংসের সময় তিনি এক জুটি গড়ে ৮৮ রান তানভীর হায়দারের সাথে। দলের জন্য দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৫ রান করেন তানভীর, এছাড়া অধিনায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন ৩৭, আবু হাসিম ২৮ এবং আলাউদ্দিন বাবু ২১ রান করেন। রংপুরের রিপন মন্ডল ৫৪ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন। সালাউদ্দিন শাকিল ও তাইবুর রহমান দুটি করে উইকেট নেন। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম বিভাগের ক্রিকেটাররা রাজশাহী দলের বিপক্ষে দারুণ সময় কাটাচ্ছেন। বাঁহাতি স্পিনার হাসান মুরাদ ৬ উইকেট দিয়ে দলকে বড় লিড এনে দিয়েছেন, আর মাহমুদুল হাসান জয় সেঞ্চুরির পর ফিফটি করেছেন। আর রাজশাহীর জন্য রোববারের মূল আবহ ছিল ২ উইকেটে ১ রানের সূচনা। মুরাদের স্পিনে ৫৪.৪ ওভারে দলটি প্রথম ইনিংসে ১৯৬ রানে গুটিয়ে যায়। আবার, আফিফ হোসেনের হ্যাটট্রিকসহ ৬ উইকেটের পারফরম্যান্সে তিনি দিনের সেরা খেলোয়াড়ে পরিণত হন।

  • বাবর-শাহিনরা গোলাপি জার্সি পরে খেলবেন

    বাবর-শাহিনরা গোলাপি জার্সি পরে খেলবেন

    ক্রিকেটে সাধারণত নিজেদের নির্দিষ্ট পোশাকের বাইরে বিশেষ জার্সি পরার ঘটনা নতুন কিছু নয়। বিশেষত স্তন ক্যান্সার সচেতনতা বাড়াতে বিশ্বের বিভিন্ন দলই এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকে। দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দলগুলো ইতিমধ্যে এই পথ অনুসরণ করে আসছে। এবার পাকিস্তান ক্রিকেট দলেরও এই দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করে সামনে আসছে। তারা আগামীকাল ২৮ অক্টোবর রাওয়ালপิน্ডিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে গোলাপি জার্সি পরে মাঠে নামবেন। এই ম্যাচটি তাদের ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে পুরোদমে সিরিজ খেলছে দুই দল।

    পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) জানিয়েছে, এই উদ্যোগটি ‘পিঙ্কটোবর’ প্রকল্পের অংশ, যার মাধ্যমে স্তন ক্যান্সার নিয়ে মানুষকে সচেতন করা ও এই রোগের প্রাদুর্ভাবের প্রভাব সম্পর্কে জানানো হয়। প্রতি বছরের অক্টোবর মাসটি স্তন ক্যান্সার সচেতনতার জন্য নির্দিষ্ট করা হয়, যেখানে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এই সিরিজের প্রথম ম্যাচে পিসিবির সব ক্রিকেটার, ম্যাচ অফিসিয়াল, সাপোর্ট স্টাফ ও ধারাভাষ্যকাররা গোলাপি ফিতা সংযুক্ত পোশাক পরবেন।

    পিসিবির প্রধান নির্বাহী সুমাইর আহমেদ সৈয়দ বলেছেন, ‘ক্রিকেটের শক্তি ও মানুষের মধ্যে সংযোগের মাধ্যমে আমরা সমাজে সচেতনতা সৃষ্টি করতে চাই। পিংক রিবন ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ ও সনাক্তকরণের গুরুত্ব তুলে ধরতে চাই, যা অনেক জীবন বাঁচাতে পারে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘এই উদ্যোগ আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা ও প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। আমরা উভয় দল, ম্যাচ অফিসিয়াল ও ভক্তদের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞ, যাতে আমরা এই সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে পারি।’ এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে পাকিস্তান-আফ্রিকা ম্যাচের স্টাম্পও গোলাপি রঙে সাজানো হবে, এবং ডিজিটাল স্ক্রিনে ক্যাম্পেইনের বিষয়বস্তু দেখানো হবে। এই প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচে গোলাপি জার্সি পরা বা স্তন ক্যান্সার নিয়ে সচেতনতার উদ্যোগ নিয়েছে পিসিবি। এর আগে পাকিস্তান সুপার লিগেও ‘পিঙ্ক ডে’ পালন করা হয়েছে।

    তথ্য মতে, দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়া বহু আগে থেকেই স্তন ক্যান্সার সচেতনতার জন্য এই ধরনের উদ্যোগ পরিচালনা করে আসছে। ২০১৩ সালে প্রোটিয়া দল সীমিত ফরম্যাটে প্রতিযোগিতায় নিয়মিতভাবে গোলাপি জার্সি পরে মাঠে নামে, এবং আয়কৃত অর্থ স্তন ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যয় করা হয়। অস্ট্রেলিয়া বক্সিং ডেতে টেস্ট ম্যাচেও গোলাপি ক্যাপ পড়ে খেলার রীতি চালু রয়েছে, যা স্তন ক্যান্সার সচেতনতায় সহায়ক।

  • নিজ বাড়ি থেকে ভারতীয় অ্যাথলেটের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, পুলিশ ধারণা আত্মহত্যা

    নিজ বাড়ি থেকে ভারতীয় অ্যাথলেটের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, পুলিশ ধারণা আত্মহত্যা

    ভারতের মধ্যপ্রদেশের রাধাগঞ্জের অর্জুন নগরে এক আন্তর্জাতিক জুজুৎসু খেলোয়াড় ও মার্শাল আর্ট কোচ রোহিণী কালামের মরদেহ শুক্রবার নিজ ঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে তারা ধারণা করছে, এটি আত্মহত্যার ঘটনা। রোহিণী ৩৫ বছর বয়সী একজন দক্ষ অ্যাথলেট, যিনি এশিয়ান গেমসে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রোহিণীকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখেন তার বোন রোশনি। এরপর তিনি দ্রুত পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের খবর দেন। পরিবার তাৎক্ষণিকভাবে তাকে কাছাকাছি একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোাষণা করেন। ঘটনার সময় পরিবারের অন্য কেউ বাড়িতে ছিলেন না।

    বিষয়টি নিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের কাছে রোশনি বলেছেন, রোহিণী মার্শাল আর্টের একটি মাল্টিন্যাশনাল স্কুলে কোচ হিসেবে কাজ করতেন, যেখানে চাকরি সংক্রান্ত কিছু চাপের মুখে ছিলেন তিনি। শনিবার দিওয়ায়াসে এসে তিনি বেশ কিছু সময় অন্যের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। এরপর নিজের ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। রোশনি বলেন, চাকরির কারণে তিনি চিন্তিত ছিলেন, স্কুলের সহকর্মী ছাড়াও স্কুলের প্রিন্সিপালও এই বিষয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। তার কথার ধরন ও আচরণ দেখে বোঝা যায়, মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন তিনি।

    তার বাবা জানিয়েছেন, রোহিণী পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে সবার বড়। তিনি বেশ কিছু সময় ধরে বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আসছিলেন এবং তার স্বপ্ন ছিল আইপিএস অফিসার হওয়া। গত দুই বছর ধরে তিনি সাফল্যের জন্য চেষ্টা চালিয়ে গেছেন, তবে তেমন সাফল্য পাননি। পাঁচ মাস আগে তার অস্ত্রোপচারও হয়েছিল।

    অভিজ্ঞ অ্যাথলেট হিসেবে, ২০০৭ সালে ক্যারিয়ার শুরু করেন রোহিণী। তিনি ২০১৫ সালে পেশাদার জুজুৎসু খেলা শুরু করেন। তিনি হ্যাংজুতে অনুষ্ঠিত ১৯তম এশিয়ান গেমসেও ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন এবং বার্মিংহামের ওয়ার্ল্ড গেমসে ভারতের একমাত্র অ্যাথলেট হিসেবে অংশ নেন। এশিয়ান জুজুৎসু চ্যাম্পিয়নশিপে তিনি বিভিন্ন পদকও জিতেছেন। এই মৃত্যু তার স্বজনরাও গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং স্থানীয় পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

  • অস্ট্রেলিয় নারী ক্রিকেটারদের শ্লীলতাহানির ঘটনায় ভারতের মন্ত্রীর বিতর্কিত মন্তব্য

    অস্ট্রেলিয় নারী ক্রিকেটারদের শ্লীলতাহানির ঘটনায় ভারতের মন্ত্রীর বিতর্কিত মন্তব্য

    ভারত সফরে এসে অস্ট্রেলিয়ার দুই নারী ক্রিকেটারকে অপ্রত্যাশিতভাবে শ্লীলতাহানির শিকার হওয়ার পর পুরো দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। এই পর্যায়ে মধ্যপ্রদেশের মন্ত্রী কৈলাশ বিজয়ভার্গিয়া একটি বিতর্কিত মন্তব্য করে বিতর্কের ঝড় তুলেছেন। তিনি এই ঘটনাকে ‘শিক্ষা’ ও ‘স্মরণীয়’ বলে উল্লেখ করে, ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে স্বগতোক্তি করেছেন। মন্ত্রীর এই মন্তব্যে রাজনীতি মহলেও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

    এনডিটিভির সঙ্গে আলাপকালে কৈলাশ বিজয়ভার্গিয়া বলেছেন, ‘যখনই কোনও খেলোয়াড় বাইরে যাওয়ার আগে আমরা বা অন্য কেউ, সাধারণত স্থানীয় অভিভাবক বা নিরাপত্তা কর্মীদের জানানো উচিত। এটি ভবিষ্যতে তাঁদের জন্য একটি শিক্ষা হিসেবে থাকবে। তারা যেন জানেন কীভাবে নিরাপত্তা নিয়ে সতর্ক থাকবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের যেন এই ঘটনা থেকে শেখার থাক। খেলোয়াড়দের বুঝতে হবে, নিজের নিরাপত্তার জন্য সচেতন থাকতে হবে।’

    তবে এই মন্তব্যের নিন্দা জানিয়েছেন কংগ্রেস। তারা বলেছে, ‘এ ধরনের দুর্ভাগ্যজনক মন্তব্য জঘন্য এবং অবিচারমূলক। দুর্ভাগ্যবশত, এই ধরনের মন্তব্য যোগ্য নয়।’

    ঘটনাটি ঘটেছে ২৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় ইন্দোরের খাজরানা রোড এলাকার একটি ক্যাফেতে। অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটাররা হোটেল থেকে বেরোনোর সময় মোটরসাইকেল আরোহী তাদের অনুসরণ করে শরীরের অশ্লীল স্পর্শ করে দ্রুত পালিয়ে যায়। ক্রিকেটাররা দ্রুত হোটেলে গিয়ে পরিস্থিতি জানায়। পুলিশ এফআইআর করে অভিযুক্ত আকিল আলিয়াস নৈত্রকে গ্রেপ্তার করে।

    এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। উল্লেখযোগ্য, চলমান নারী বিশ্বকাপের ম্যাচের সময় এই ঘটনাটি ঘটে। ২৫ অক্টোবর রাতে অস্ট্রেলিয়া দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৯৭ রানে নিয়ে গুটিয়ে দিয়ে ৭ উইকেটে জয়ওল করেছে। এই জয়ে তারা ৭ ম্যাচে ৬ জয় দিয়ে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে সেমিফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হবে ৩০ অক্টোবর।

  • সৌদিতে ব্যাপক ধরপাকড়, ২২ হাজারের বেশি প্রবাসী গ্রেপ্তার

    সৌদিতে ব্যাপক ধরপাকড়, ২২ হাজারের বেশি প্রবাসী গ্রেপ্তার

    সৌদি আরবে আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ব্যাপক ধরপাকড় চালানো হয়েছে। অতি সাম্প্রতিক এই অভিযানে মোট ২২ হাজার ৬১৩ জন প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই খবর প্রকাশ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইংরেজি দৈনিক গালফ নিউজ, যা রবিবার এক বিবৃতির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করে।

    এর আগে গত ১৬ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবরের মধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই অভিযান পরিচালিত হয়। নিরাপত্তা বাহিনী বিভিন্ন এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে এই প্রবাসীদের গ্রেপ্তার করে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রলে বলছে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ১৩ হাজার brib-652 জন ব্যক্তি আবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে, ৪ হাজার ৩৯৪ জন সীমান্ত সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের জন্য এবং ৪ হাজার ৫৬৭ জন শ্রম আইন মানার বাইরে কাজ করায় গ্রেপ্তার করা হয়। সৌদি আরবের বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও নিরাপত্তা বাহিনী এই অভিযান চালিয়েছে।

    বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ৩১ হাজার ৩৭৪ জন প্রবাসীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা চলমান রয়েছে। এর মধ্যে ২৯ হাজার ৮১৪ জন পুরুষ এবং ১ হাজার ৫৬০ জন নারী। গ্রেপ্তার প্রবাসীদের মধ্যে ২৩ হাজার ২১ জনকে দেশে ফেরত পাঠানোর আগে তাদের ভ্রমণের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহের জন্য কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে।

    এছাড়াও, আরও ৩ হাজার ৯৩৯ জনের সৌদি আরব থেকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১৪ হাজার ৩৯ জনকে ইতিমধ্যে নিজ নিজ দেশে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে।

    অবৈধ উপায়ে সৌদি আরব ত্যাগের চেষ্টায় ৩৫ জন প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি, আবাসন ও কর্মবিধি লঙ্ঘনের জন্য ২৩ ব্যক্তিকেও গ্রেপ্তার করেছে সৌদি পুলিশ।

    সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, অবৈধভাবে সীমান্ত পার করে সৌদি আরবে ঢোকার চেষ্টা করায় ১ হাজার ৬৯৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যারা শনাক্ত হয়েছে তাদের মধ্যে ইথিয়োপিয়ান ৫৪ শতাংশ, ইয়েমেনি ৪৫ শতাংশ এবং অন্যান্য দেশের নাগরিক রয়েছেন ১ শতাংশ।

    সৌদি আরবের এই ধরনের আইনি ব্যবস্থা কঠোর, যেখানে অবৈধ প্রবেশের চেষ্টা করলেই দণ্ডের ভোগদখল ও জরিমানা করা হয়। এই বিষয়ে বারবার সতর্ক করে আসছে নাগরিক ও অভিবাসীদের।

    মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি বর্তমানে প্রায় ৩ কোটি ৪৮ লাখ মানুষের বাসস্থানে পরিণত হয়েছে, যেখানে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশের লাখ লাখ অভিবাসী শ্রমিক কাজ করছে। নিয়মিতভাবে সৌদি গণমাধ্যম প্রতিবেদন প্রকাশ করে আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান ও গ্রেপ্তার খবর।

  • আফগান সীমান্তে ভয়াবহ সংঘর্ষ, পাকিস্তানি পাঁচ সৈন্য ও ২৫ জঙ্গি নিহত

    আফগান সীমান্তে ভয়াবহ সংঘর্ষ, পাকিস্তানি পাঁচ সৈন্য ও ২৫ জঙ্গি নিহত

    তুরস্কের ইস্তাম্বুলে চলমান শান্তি আলোচনা চলাকালে আফগানিস্তান-পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পাকিস্তানের পাঁচ সেনা সদস্য এবং ২৫ জঙ্গি নিহত হন। রোববার পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    পশ্চিমা প্রতিবেশী দুই দেশ—পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই সংঘর্ষটি নতুন মাত্রায় পৌঁছায়। বিশেষ করে, ইস্তাম্বুলের শান্তি আলোচনার মধ্যে পাকিস্তান-আফগান সীমান্তে এই সংঘর্ষের খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে গুরুত্ব পায়।

    আইএসপিআরের বিবৃতিতে জানানো হয়, গত শুক্রবার ও শনিবার আফগানিস্তানের ভেতর দিয়ে কিছু জঙ্গি সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানের কুররাম এবং উত্তর ওয়াজিরিস্তানে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে। পাকিস্তানের সীমান্তরক্ষী বাহিনী ওইসব অপচেষ্টাকে বাধা দেয় এবং নিরুৎসাহিত করে।

    বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এই অনুপ্রবেশের চেষ্টার পেছনে আফগানিস্তানের সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। যদিও আফগানিস্তানের তালেবান সরকার এই ধরনের মামলার বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি। ব্রিটিশ সংবাদসংস্থা রয়টার্সের মতে, তালেবান এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, পাকিস্তানের সীমান্তে সামরিক অপারেশনগুলো মূলত আফগান সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন।

    চলতি মাসের শুরুর দিকে এই দুই দেশের সেনা সংঘর্ষে আরও বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটে। সেইসঙ্গে, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায়, ইস্তাম্বুলে দুই দেশের শীর্ষ কূটনীতিকরা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। ২০২১ সালে তালেবান কাবুল দখলের পর এটাই ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী সীমান্ত কলহ।

    আফগানিস্তানে অবস্থানরত জঙ্গিদের নিয়ন্ত্রণ ও সীমান্তের ওপারে হামলার প্রতিরোধে দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তান কাবুলের প্রতি আবেদন জানিয়ে আসছে। সম্প্রতি, জঙ্গি হামলায় ২৩ জনের বেশি সৈন্যের প্রাণহানি ঘটেছে। এই ঘটনার পর পাকিস্তান আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল ও অন্য এক প্রদেশে বিমান হামলা চালায়। এরপর দুই দেশের সেনারা পাল্টা হামলায় লিপ্ত হয়। এই পরিস্থিতিতে গত রোববার দোহায় দুই দেশ শান্তির জন্য যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে স্বাক্ষর করে।

    সোমবার পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, এই যুদ্ধবিরতি এখনও কার্যকর রয়েছে এবং পাকিস্তান বিশ্বাস করে, আফগানিস্তান আসলে শান্তিপ্রিয়। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যদি ইস্তাম্বুলে কোনও চূড়ান্ত সমঝোতা না হয়, তাহলে বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা রয়েছে।

    জঙ্গিদের ব্যাপারে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী দাবি করছে, তারা ‘‘ফিতনা আল খারিজ’’ নামে পরিচিত উগ্রপন্থী সংগঠনের সদস্য, যারা বিভিন্ন সময়ে দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করেছে। পাকিস্তানের মতে, এই গোষ্ঠী আনুষ্ঠানিকভাবে বিদেশি পৃষ্ঠপোষকদের মাধ্যমেও সহায়তা পায়।

    সংবাদসূত্র: এএফপি, রয়টার্স।

  • দক্ষিণ চীন সাগরে হঠাৎ মার্কিন যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত

    দক্ষিণ চীন সাগরে হঠাৎ মার্কিন যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত

    দক্ষিণ চীন সাগরে আধাঘণ্টার ব্যবধানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর দুটি এয়ারক্রাফট—একটি যুদ্ধবিমান এবং একটি হেলিকপ্টার—অপ্রত্যাশিতভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে। এই দুর্ঘটনাগুলোর ঘটনা ঘটে মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস নিমিৎজের কাছাকাছি অঞ্চলে, যেখানে দুটি যন্ত্রাংশ এসময় এয়ারক্রাফটগুলো উড্ডয়ন করছিল।

    বিশেষ করে সৌভাগ্যক্রমে এই দুর্ঘটনায় রোমান্সের পাঁচ ক্রু সদস্যই জীবিত ও নিরাপদে আছেন। তবে এই ঘটনাগুলো আবারও মার্কিন নৌবাহিনীর নিরাপত্তা ও পরিচালনার মানদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

    সোমবার (২৭ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, দক্ষিণ চীন সাগরে ইউএসএস নিমিৎজ থেকে উড্ডয়ন করা এই দুটি এয়ারক্রাফট—এমএইচ-৬০আর সি হক হেলিকপ্টার এবং এফ/এ-১৮এফ সুপার হর্নেট যুদ্ধবিমান—আধঘণ্টার ব্যবধানে বিধ্বস্ত হয়।

    ফ্লিটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দুর্ঘটনার পর তিনজন ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করা হয়েছে। হেলিকপ্টারটি ছিল এমএইচ-৬০আর সি, যার তিনজন ক্রু উদ্ধার করা হয়েছে। আর যুদ্ধবিমানটি ছিল এফ/এ-১৮এফ সুপার হর্নেট, যার দুই পাইলটও নিরাপদে ইজেক্ট করে বের হতে পেরেছেন। এভাবে মোট পাঁচজনই এখন “সুরক্ষিত এবং স্থিতিশীল” অবস্থায় আছেন।

    বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ অন্বেষণে তদন্ত চলছে।

    এপি বলছে, অবসর নেওয়ার আগে এই ইউএসএস নিমিৎজ তার শেষ মিশনে অংশ নিচ্ছিল। পুরো গ্রীষ্ম জুড়ে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করে এরপর এটি ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের নেভাল বেস কিটস্যাপেতে ফিরে আসছিল।

    অপরদিকে, রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবে মার্কিন সামরিক বাহিনী সেই অঞ্চলে উপস্থিতি জোরদার করতে এই রণতরী পাঠানো হয়েছিল।

    মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিমানবাহী রণতরীতে দুর্ঘটনা প্রথম একবার নয়। এর আগে ইউএসএস হ্যারি এস. ট্রুম্যানের বিভিন্ন দুর্ঘটনা ঘটে, যার মধ্যে আছে – চলতি বছরের এপ্রিলে ট্রুম্যানের হ্যাঙ্গার থেকে একটি এফ/এ-১৮ জেট সাগরে পড়ে যায়, যা ভুলবশত ট্রুম্যানের মাধ্যমে উৎক্ষেপিত হয়েছিল। এর আগে ডিসেম্বর ২০২২ সালে গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ক্রুজার ইউএসএস গেটিসবার্গ ভুলক্রমে ট্রুম্যানের ক্যারিয়ারের এফ/এ-১৮ জেটটিকে ভূপাতিত করে।

    আরও কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে—মে মাসে ট্রুম্যানের অবতরণের সময় একটি এফ/এ সিরিজের যুদ্ধবিমান সাগরে পড়ে যায় এবং পাইলটরা বাধ্য হয়ে ইজেক্ট করতে সক্ষম হয়।

    অথচ, এই সব দুর্ঘটনায় কেউ নিহত বা গুরুতর আহত হননি। তখন থেকেই এই দুর্ঘটনাগুলোর তদন্ত চলছে, তবে আর কোনো চূড়ান্ত প্রতিবেদনের প্রকাশ এখনো হয়নি।

  • হাতকড়া ও বেড়ি পরিয়ে ভারতে ফিরিয়ে আনা হলো ৫০ তরুণকে

    হাতকড়া ও বেড়ি পরিয়ে ভারতে ফিরিয়ে আনা হলো ৫০ তরুণকে

    উন্নত জীবনের আশায় ভারতের তরুণেরা যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন। অনেকের জন্য এটি ছিল স্বপ্নের মতো এক অভিযাত্রা, যার জন্য তারা জমি বিক্রি, ঘর বন্ধক রেখেছিলেন এবং এজেন্টদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। তবে সেই স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। অবৈধভাবে বসবাসের দায়ে মার্কিন প্রশাসন তাদের হাতকড়া ও পায়ে বেড়ি পরিয়ে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে।

    রোববার (২৬ অক্টোবর) ভোরে হরিয়ানার ৫০ জন তরুণ দেশে ফিরেছেন। তাদের বয়স ২৫ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। রাজ্য প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, এই তরুণদের মধ্যে ১৬ জন কারনাল, ১৪ জন কাইথাল, ৫ জন কুরুক্ষেত্র ও ১ জন পানিপথ জেলার বাসিন্দা। তারা সবাই ‘ডানকি রুট’ ব্যবহার করে দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকার দেশগুলো পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। কেউ কেউ সেখানে কয়েক বছর বসবাস করেছেন, আবার কেউ মাত্র কিছু মাস। কেউ আবার ফেরত পাঠানোর আগে কারাভোগও করেছেন।

    কারনালের ২৬ বছর বয়সী অঙ্কুর সিং জানিয়ে বলেন, ২০২২ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে তার খরচ হয় প্রায় ২৯ লাখ রুপি। চার মাসের দীর্ঘ যাত্রায় তিনি দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশ পেরিয়ে গিয়েছিলেন। অঙ্কুর বলেন, “সব কিছু ভালোই চলছিল, কিন্তু চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জর্জিয়ায় একটি মদের দোকানে কাজ করার সময় ধরা পড়ি।”

    তারপর তাকে আটক করে রাখা হয় এবং ২৪ অক্টোবর ভারতে ফেরত পাঠানো হয়। এই ফ্লাইটে হরিয়ানা ছাড়াও পাঞ্জাব, হায়দরাবাদ, গুজরাট এবং গোয়া থেকেও কয়েকজন আহত হয়েছিলেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় দুইহাজার পাঁচশ’ ভারতীয়কে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আটটি সামরিক, চার্টার্ড ও বাণিজ্যিক ফ্লাইটে ফেরত আনা হয়েছে। অধিকাংশই পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও গুজরাটের বাসিন্দা।

    ফেরত আসাদের মধ্যে ছিলেন হরিয়ানার ঘোরাউন্দা ব্লকের হুসন (২১)। তার তিন বোনের একমাত্র ভাই হুসন, তার জন্য পরিবারকে ৪৫ লাখ রুপি এজেন্টদের দিতে হয়েছিল। তার কাকা সুরেন্দর সিং বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পরই হুসন ধরা পড়ে। পরিবার জমি বিক্রি করেছিল, কিন্তু সব অকর্মণ্য হয়ে গেল।”

    একইভাবে কারনালের কালসী গ্রামের শ্রমজীবী পরিবারের সন্তান হরিশ এসসি, ২০২৩ সালে কর্মী ভিসায় কানাডা যান। পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন এবং দোকানে কাজ করার সময় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আটক হন।

    কাইথাল জেলার তারাগড়ের নরেশ কুমার এক বছর বেশি সময় জেলে ছিলেন। তিনি বলেন, “ফ্লাইটে ওঠানোর সময় আমাদের হাতকড়া পরানো হয়, তবে কারো সঙ্গে খারাপ ব্যবহার হয়নি। আমি সেখানে ১৪ মাস জেলে ছিলাম।”

    নরেশ আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে তাকে ৫৭ লাখ ৫০ হাজার রুপি দিতে হয়েছিল এজেন্টদের, যারা কম খরচের প্রলোভন দিয়েছিলেন। এই টাকা জোগাতে তার পরিবার জমি বিক্রি ও ধার করেছে।

    কাইথাল জেলার পুলিশ সুপার উপাসনা জানান, রোববার বিকেলে ১৪ জন তরুণকে দিল্লি থেকে আনা হয়। তাদের মধ্যে একজন আবগারি মামলার পলাতক আসামি ছিলেন। জিন্দ জেলায় এসপি কুলদীপ সিং বলেন, তার জেলার তিনজন তরুণও ফেরত এসেছে এবং তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • গাজায় মৃত্যু ও ধ্বংসের মধ্যে লুকানো হাজার হাজার টন অবিস্ফোরিত বোমা

    গাজায় মৃত্যু ও ধ্বংসের মধ্যে লুকানো হাজার হাজার টন অবিস্ফোরিত বোমা

    ইসরায়েলি অবরোধের ফলে ফিলিস্তিনের গাজা পুনর্গঠনের কাজ স্থবির হয়ে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে আছে বহু মানুষ, এবং চারপাশে ছড়িয়ে রয়েছে বিস্ফোরিত না হওয়া বিপুল পরিমাণ বোমা। এই অবিস্ফোরিত বোমাগুলোর পরিমাণ এখন হাজার হাজার টন ছাড়িয়ে গেছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় জীবনের জন্য ঝুঁকি বাড়ছে।

    এমন পরিস্থিতিতে মানবিক সহায়তা ও ভারী যন্ত্রপাতি গাজায় প্রবেশের সুযোগ খুবই সংকটের মধ্যে রয়েছে। সোমবার (২৭ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি অবরোধের কারণে জরুরি প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও শ্রমিকরা গাজায় যেতে পারছেন না। শহরটির মেয়র ইয়াহিয়া আল-সররাজ বলেন, গাজার ধ্বংসস্তূপ সরানো ও অবকাঠামো পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতি এখন খুবই কম প্রবেশ করতে পারছে। তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন, আসলে হাজার হাজার টন অবিস্ফোরিত ইসরায়েলি বোমা ইতোমধ্যেই শহরবাসীর জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে।

    রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে আল-সররাজ জানান, পানি সরবরাহ ও নতুন করে কূপ খননের জন্য কমপক্ষে ২৫০টি ভারী যন্ত্রপাতি ও এক হাজার টন সিমেন্টের দ্রুত প্রয়োজন রয়েছে। তবে, আল জাজিরার গাজার রিপোর্টার হিন্দ খুদারি জানিয়েছেন, এত বড় চাহিদার বিপরীতে এখন পর্যন্ত মাত্র ছয়টি ট্রাক সীমান্ত পেরিয়ে গাজায় প্রবেশ করতে পেরেছে। তিনি আরও বলেন, এখনও প্রায় ৯ হাজার ফিলিস্তিনি ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন। তবে, বর্তমানে ব্যবহৃত নতুন যন্ত্রপাতিগুলো মূলত ইসরায়েলি বন্দিদের মরদেহ উদ্ধারে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা ফিলিস্তিনিরা অপছন্দ করেন।

    খুদারি বলছেন, ফিলিস্তিনিরা জানেন, যতক্ষণ না সব ইসরায়েলি বন্দির মরদেহ ফিরিয়ে দেওয়া হয়, ততক্ষণ যুদ্ধবিরতি বা কোনো অগ্রগতি হবে না। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, রাফাহ শহরে এক ইসরায়েলি বন্দির মরদেহ উদ্ধার অভিযানে হামাসের কাসাম ব্রিগেডকে সহায়তার জন্য রেড ক্রসের গাড়ি পৌঁছেছে।

    অন্যদিকে, রোববার ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এক ভাষণে জানান, গাজায় কোনও স্বতন্ত্র বিদেশি বাহিনী কাজ করতে পারবে কি না, তা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা শুধুমাত্র ইসরায়েলের। তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেদের নিরাপত্তা নিজেরাই নিশ্চিত করছি। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কোনও ভূমিকা থাকছে না। গাজায় কোন বাহিনী গ্রহণযোগ্য, তা আমাদেরই নির্ধারণ করতে হবে।’ তিনি আরও দাবি করেন, এই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রও স্বীকৃতি দিয়েছে।

    পাশাপাশি, গাজার পুনর্গঠনে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে বিস্ফোরিত না হওয়া বোমা। ব্রিটিশ-বিত্তক সংস্থা হালো ট্রাস্টের মধ্যপ্রাচ্য বিভাগের পরিচালক নিকোলাস টরবেট জানান, গাজার প্রায় প্রতিটি অংশে বোমা পড়েছে। তিনি বলেন, অনেক গোলাবারুদ রয়েছে যা আঘাতের পরই বিস্ফোরিত হওয়ার কথা ছিল কিন্তু হয়নি। এসব বোমা অপসারণে সময় লাগছে এবং এই কারণে পুনর্গঠন কার্যক্রম ব্যাপক বিলম্বিত হচ্ছে।

    তিনি পরামর্শ দেন, নিরাপদে বোমা অপসারণের জন্য ছোট পরিমাণ বিস্ফোরক ব্যবহার করে বোমাগুলোর নিঃশন বা উড়িয়ে দেওয়ার কাজ করা উচিত। এ জন্য খুব জটিল যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয় না; ছোট যান বা হাতে বহন করে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ব্যবহার সম্ভব।

    ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানান, ইসরায়েল গাজায় অন্তত ২ লাখ টন বোমা ফেলেছে, যার মধ্যে এখনও প্রায় ৭০ হাজার টন বিস্ফোরিত হয়ে যায়নি। এই বিপুল পরিমাণ বোমার কারণে গাজা নগরীর নানা অংশ এখনও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে রয়েছে।