Month: October 2025

  • নিষিদ্ধ না করলে জাতীয় পার্টির মাধ্যমে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় ফিরে আসবে

    নিষিদ্ধ না করলে জাতীয় পার্টির মাধ্যমে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় ফিরে আসবে

    গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর দোষারোপ করে বলেছেন, যদি জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ না করা হয়, তবে এই দলটির মাধ্যমেই আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় ফিরে আসবে। তিনি warned করে বলেন, জাতীয় পার্টি নির্বাচনে বাধা সৃষ্টি করার জন্য নানা রকম ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকছে, যা দেশের সমৃদ্ধি ও গণতন্ত্রের জন্য হুমকি। তিনি আরও বলেছেন, নির্বাচন যদি দেরি হয়ে যায়, তবে তার ফল সকলের জন্য বিপজ্জনক হবে। এটা মনে রাখতে হবে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চাইলে দলগুলোকে একত্রিত হতে হবে।

    নুরুল হক নুর বলেন, শহিদদের চেতনা নিয়ে আমরা ব্যবসা করি, কিন্তু তাদের পরিবার সরাসরি কোন সহযোগিতা পাচ্ছে না। তাদের চিকিৎসা ও খোঁজখবর নেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলেও, অন্তর্বর্তী সরকার এই দায়িত্ব পালন করেনি। এখনাকেও আহত ও পরিবারগুলোর প্রয়োজন পূরণে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, যা এই সরকারের অপরাধ। তিনি দাবি করেন, আগামী বাংলাদেশ হবে এক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত একটি শক্তিশালী ও মহান স্বাধীনতার স্মারক।

    তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন, নির্বাচন যদি কোনও কারণে পিছিয়ে যায়, তবে রাজনৈতিক নেতাদের জন্য পরিস্থিতি বিপর্যয়কর হয়ে উঠবে। তিনি জানিয়েছেন, সেনাবাহিনী বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু কিছু বিপথগামী জেনারেল দেশের স্বার্থে ক্ষতিকর। সেনাবাহিনী এসব দায় নেবে না বলে তিনি স্পষ্ট করে বলেন।

    প্রসঙ্গত, গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান মন্তব্য করেন, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয়া ছাত্র অধিকার পরিষদ পরবর্তীতে গণঅধিকার পরিষদ গঠন করে। তিনি বলেন, জুলাইয়ের রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানে বাংলাদেশের পক্ষে সোচ্চার বিভিন্ন রাজনৈতিক দল একসাথে ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলন চালিয়েছিলেন। তিনি আরও জানান, ২০২৪ সালে আমাদের সুযোগ রয়েছে, উন্নত ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সকল রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

    রাশেদ খান দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, আমরা সবাই রাজনীতিতে মত-পার্থক্য থাকলেও ফ্যাসিস্টের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। না গেলে, আবারও ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফিরে আসবে। তিনি উল্লেখ করেন, পতিত ফ্যাসিস্ট হাসিনা ফেব্রুয়ারি মাসের নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করছে, যা ১/১১ এর ইতিহাসকে ফিরে আনতে চাচ্ছে, এর মাধ্যমে আবারও মনুন্দ্দীন-ফখরুদ্দিন সরকারের মতো অবস্থা তৈরি করতে চায়।

  • ভবিষ্যতে প্রশ্ন উঠতে পারে, এমন পদ্ধতিতে যাওয়া ঠিক নয়: সালাহউদ্দিন আহমদ

    ভবিষ্যতে প্রশ্ন উঠতে পারে, এমন পদ্ধতিতে যাওয়া ঠিক নয়: সালাহউদ্দিন আহমদ

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সতর্ক করে বলেছেন, ভবিষ্যতে কোনো এমন পদ্ধতিতে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয় যা নিয়ে পরে প্রশ্ন উঠতে পারে। রোববার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে গণঅধিকার পরিষদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। সালাহউদ্দিন বলেন, ‘কেউ যেন আমাদের এই প্রক্রিয়াটাকে কখনো অবৈধ বলে আখ্যা দিতে না পারে, সে জন্য এখন থেকেই সতর্ক থাকতে হবে। এটি শুধুমাত্র আজ বা আগামী পাঁচ বছরের জন্য নয়, ভবিষ্যতে আরও দীর্ঘ ১০ বা ১৫ বছর পরও যেন এই সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে কোনও প্রশ্ন উঠতে না পারে, সে জন্য আমাদের সুন্দর ভিত্তি গড়ে তুলতে হবে। আমাদের অপ্রতিরোধ্য সাফল্যকে এ রকম সাবধানে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।’ বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ‘জুলাই সনদ হলো জাতীয় জীবনে এক ঐতিহাসিক রাজনৈতিক সমঝোতার পূর্ণাঙ্গ দলিল, যার বাস্তবায়নের জন্য আমরা সবাই অঙ্গীকারবদ্ধ। এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ার জন্য সরকার একটি নির্দিষ্ট ফোরাম, অর্থাৎ নির্বাচিত সংসদ, তৈরি করেছে। এখানে কোনও দলের দ্বিমত থাকার প্রশ্নই নয়। তবে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য যদি জাতীয় সংসদ বাধ্য হয়, তাহলে এর জন্য একটি প্রস্তাব নূন্যতম জাতীয় ঐকমত্য কমিশন বা সরকারের কাছ থেকে প্রস্তুত করতে হবে। সেই সুপারিশ পাওয়ার পরই আমরা জানব, কারা কি কি প্রক্রিয়ায় আইনত ভিত্তি রচনা করতে চাইছে।’ তিনি সবাইকে জানিয়ে দেন, যেন কেউ আইনানুগ প্রক্রিয়া অমান্য করে অবৈধ পথে না যায়। ‘আমরা চাই যেন সংবিধান অনুযায়ী শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক ধারায় এগিয়ে যাই। এর মাধ্যমে আমাদের সমাজকে স্থিতিশীল রাখা সম্ভব,’ বলেন সালাহউদ্দিন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘আমাদের ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য যদি ধ্বংস হয়ে যায়, তাহলে তা ফ্যাসিবাদের পুনরায় আবির্ভাবের পথ সুগম করে দেবে। এজন্য সকলকে একত্রে থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।’ তিনি তাগিদ দেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে সবাই এক থাকব। পাশাপাশি, ফ্যাসিবাদ কায়েম হওয়া যেন কোনোভাবেই সম্ভব না হয়। সেই জন্য দরজা-জানালা বন্ধ করে দিয়ে সকল ফ্যাসিবাদী প্রবণতাকে দমন করতে হবে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে যাতে জনপ্রিয়তা ও সংবিধান রক্ষা হয়।’ এবার, এই মন্তব্যগুলোতে তিনি গণতন্ত্রের জন্য সতর্কতা ও ঐক্যের বার্তা দিয়েছেন, যা দেশের ভবিষ্যত শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল রাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

  • বিএনপি কাদের সঙ্গে বৃহৎ জোট গঠন করতে চায়, জানালেন সালাহউদ্দিন

    বিএনপি কাদের সঙ্গে বৃহৎ জোট গঠন করতে চায়, জানালেন সালাহউদ্দিন

    আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কথা রয়েছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নির্বাচনী জোট গঠনের জন্য আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। বিএনপি বলছে, তারা যুগপৎ আন্দোলনকারী অন্যান্য দলের সাথে মিলিত হয়ে একটি বৃহৎ জোট গঠন করতে চায়। আজ (২৭ অক্টোবর) সোমবার, যুবদলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ জিয়াউর রহমানের সমাধিতে ফুল দিতে গিয়ে এই কথা জানান।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য অটুট রাখতে বিএনপি পূর্বের মতোই ঐক্যের পক্ষে। তারা চান, সকল বিভেদ ভুলে গিয়ে দেশের মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নের সাথে সাথে একত্রে কাজ করতে। তিনি বলেন, নির্বাচনের জন্য দলীয় ও প্রার্থীদের সঙ্গে হাইকমান্ডের বৈঠক চলছে, যাতে ঐক্য বজায় রাখা যায়।

    তরুণ ও যুবকদের আলোচনায় আনা এবং তাদেরকে দেশের ভাবনাচিন্তায় অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে ভবিষ্যত বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির। তিনি বলছেন, আগামী বাংলাদেশ হবে তরুণ-যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানসর্বস্ব, প্রযুক্তি ও মেধার ভিত্তিতে জ্ঞানতত্ত্বসমৃদ্ধ। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বপ্নের মতো দেশের যুবকদের একত্র করে এই স্বপ্নের বাস্তবায়ন তার লক্ষ্য।

    সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভ্রমণ করে তারা তরুণদের রাজনৈতিক ভাবনা গ্রহণ করেছেন। সেই ভাবনাগুলোকে সামনে রেখে তারা কীভাবে দেশকে উন্নত, সমৃদ্ধ ও জ্ঞানসমৃদ্ধ করে তুলতে পারে, সে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

    তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ দেশ একদিন পুরোপুরি তরুণ ও যুবকদের পরিচালনায় এগিয়ে যাবে। যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, চিন্তা-চেতনাকে দক্ষ করে তোলার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তরুণদের রাজনৈতিক ও চিন্তাভাবনাকে প্রকৃত উপলব্ধি করে এ জাতি আরো এগিয়ে যাবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। এই স্বপ্নের পুরণ স্বদেশের মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ও অভ্যুত্থানকারীদের স্বপ্নের সঙ্গে সম্পর্কিত।

  • বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করলে কঠোর শাস্তি, বহিষ্কারসহ সম্ভাবনা

    বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করলে কঠোর শাস্তি, বহিষ্কারসহ সম্ভাবনা

    বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান জানানো হয়েছে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে। তিনি বলেছেন, যারা মনোনয়ন পাবেন, তাদের উচিত একদিকে দলীয় ঐক্য বজায় রেখে ধানের শীষের পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করা। এই নির্দেশনা দিতে সোমবার গুলশানের বিএনপি কার্যালয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন তারেক রহমান।

    বৈঠকে অংশ নিয়ে উপস্থিত মনোনয়ন প্রত্যাশীরা জানান, মনোনিত প্রার্থী ও দলের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করলে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে, যার মধ্যে বহিষ্কারও থাকতে পারে। তবে এ ব্যাপারে এখনও কোনও মনোনয়ন দেওয়ার বা না দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, কিন্তু দলের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ থাকা এবং একজোটভাবে কাজ করার জন্য স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে দলের কার্যক্রমে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সমর্থকদের মধ্যে একতা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য রয়েছে।

  • তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ঐক্যের বার্তা

    তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ঐক্যের বার্তা

    আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান খুলনা ও সিলেট বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে ভার্চ্যুয়াল বৈঠক করেছেন। এই বৈঠকটি সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশান অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অংশ নেওয়া মনোনয়নপ্রত্যাশীরা জানিয়েছেন, বিএনপি দ্রুত সময়ের মধ্যে ৩০০টি আসনের জন্য প্রার্থী ঘোষণা করবে। তারেক রহমান বলেছেন, দেশের বিরুদ্ধে বিশ্বস্ত ষড়যন্ত্র চলছে, এবং এই পরিস্থিতিতে দলীয় নেতাকর্মীদের একতা বজায় রাখতে হবে। মনোনয়নপ্রত্যাশীদের প্রতি তিনি নির্দেশ দেন, যিনি প্রার্থী হবেন, তাঁর পক্ষে যুক্ত হয়ে আরো কাজ করতে হবে। বিকেল চারটার পর থেকে শুরু হয় এই বৈঠক, যেখানে প্রথমে রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগের প্রার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। এরপর সন্ধ্যায় সিলেট ও খুলনা বিভাগের প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং শেষ পর্যায়ে ঢাকার মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এসব বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং সঞ্চালনায় ছিলেন ঢাকা বিভাগের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেট-৩ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, সিলেট বিভাগের মোট ১৯টি সংসদীয় আসনের ৬৬ জন মনোনয়নপ্রত্যাশী বৈঠকে অংশ নেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের জন্য সবাইকে একত্রে কাজ করতে হবে এবং যিনি প্রার্থী হবেন তাঁর বিজয় নিশ্চিত করতে সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকবেন। মনোনয়নপ্রত্যাশীদের উদ্দেশে তারেক রহমান প্রায় ৪৫ মিনিট কথা বলেন, যেখানে তিনি সকলকে একযোগে ও দলীয় লিডারশিপের জন্য কাজ করার আহ্বান জানান। বৈঠক শেষে তিনি বলেন, খুব শীঘ্রই প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে, তবে উৎসব ও আনন্দের পরিবেশে শোভাযাত্রা বা মিষ্টির বিতরণ এড়াতে বলেছেন। দলের কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকী বলেন, ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই এবং দলীয় প্রধান এই বার্তা দিয়েছেন। মনোনয়নপ্রাপ্তি বা না পায় প্রার্থীদের সবাইকে একত্রে থাকা আর দলের স্বার্থে কাজ করার জন্য তিনি ওড় চিৎকার করে বলেছেন। এর মধ্যে খুলনা বিভাগের ১০ জেলাসহ মোট ৩৫টি আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা বৈঠকে অংশ নেন। এর মধ্যে খুলনা জেলায় ৬টি আসনের জন্য ১৬ জন নেতা আমন্ত্রণ পেয়েছেন। খুলনা মহানগর বিএনপির নেতারা জানিয়েছেন, এই নির্বাচনে বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য দলের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন তারেক রহমান। তিনি বলছেন, ব্যক্তিগত প্রচার না করে দলীয় প্রচারে মনোযোগ দিতে। শিগগিরই প্রতিটি আসনের জন্য প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়াও মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা বলেছেন, এই বৈঠক ছিল দলীয় নির্দেশনা দেয়ার জন্য, যেখানে সবাইকে দলের হয়ে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন বলেন, নেতার পক্ষ থেকে ঐক্যের বার্তা এসেছে। তিনি বলেছেন শিগগিরই প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। একই সঙ্গে, খুলনা–২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু উল্লেখ করেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে সবাই একসঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে এবং ব্যক্তিগত প্রচার এড়িয়ে দলীয় প্রচারকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে।

  • তত্ত্বাবধায়ক ফিরলেও নির্বাচন সরকারের অধীনেই হবে: শিশির মনির

    তত্ত্বাবধায়ক ফিরলেও নির্বাচন সরকারের অধীনেই হবে: শিশির মনির

    নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরানোর জন্য পরিচালিত আপিলের চতুর্থ দিনের শুনানি শেষ হয়েছে জামায়াতের পক্ষ থেকে। শুনানি শেষে দলটির আইনজীবী শিশির মনির বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার যদি আবার আসেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। ফলে, আগামী নির্বাচন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনেই সম্পন্ন হবে।

    আজ (মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের চতুর্থ দিনের শুনানি গ্রহণ করে।

    শুনানি চলাকালে, আইনজীবী শিশির মনির উল্লেখ করেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ধারণা একেবারেই অনন্য ও আলাদা। তবে, রাজনৈতিক নেতাদের দূরদর্শিতা ও সচেতনতার অভাবে এই ব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার একটি বার বার proved উপযুক্ত ব্যবস্থা, যা সর্বসম্মতভাবে স্বীকৃত। এই পরিস্থিতিতে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।’

    এর আগে, ২০২৩ সালের ২৭ আগস্ট, ষড়যন্ত্রমূলক রায় পুনর্বিবেচনা দিতে সরকারের পক্ষ থেকে দায়ের করা আবেদন মঞ্জুর করে সর্বোচ্চ আদালত, যাকে আবার আনুষ্ঠানিকভাবে শুনানির জন্য গ্রহণ করে।

    নাগরিক সংগঠন সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ মোট পাঁচজন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার এই আপিলে অংশ নেন।

    উল্লেখ্য, ২০১১ সালে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের রায় দেয় সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের আপিল বিভাগ। সেই সময় এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পক্ষের আপিল ও আপিলের শুনানি চলমান রয়েছে।

  • ডেঙ্গুতে মৃত্যু হল বিশ্বজয়ী হাফেজ ত্বকীর

    ডেঙ্গুতে মৃত্যু হল বিশ্বজয়ী হাফেজ ত্বকীর

    বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কোরআন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন হাফেজ সাইফুর রহমান ত্বকী। সোমবার (২৮ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মুগদা হাসপাতালের লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।

    বিশ্বজয়ী এই হাফেজের মৃত্যুর জন্য দায়ী হয়েছে ডেঙ্গু জ্বর। গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরে তার অবস্থা আরও অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়।

    তিনি জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনে অনুষ্ঠিত কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়ে বাংলাদেশের জন্য গর্বের বিষয় করে তুলেছিলেন। এছাড়াও তিনি দেশের বিভিন্ন কোরআন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেন।

    তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন তার উস্তাদ, মারকাযুত তাহফিজের প্রতিষ্ঠাতা হাফেজ কারী শায়খ নেছার আহমদ আন-নাছিরী। তিনি জানান, এ চলচ্চিত্রের পরে বাদ জোহর ব্যাংকুল মোকাররমের জাতীয় মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে তার দেহ কুমিল্লার মুরাদনগরের গ্রামে তার পৈতৃক বাড়িতে দাফন করা হবে।

    জানা যায়, ২০১৭ সালে জর্ডানে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় ৬২টি দেশের মধ্যে প্রথম অবস্থানে আসেন হাফেজ ত্বকী। এরপর তিনি কুয়েত ও বাহরাইনে থেকে প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেন।

    জন্ম হয় কুমিল্লার মুরাদনগরের ডালপা গ্রামে, ২০০০ সালে। তার বাবা মোখলেছ আলী একজন মাদরাসা শিক্ষক। নিজের ভবিষ্যৎ দেখে অনেক স্বপ্ন দেখতেন এই মেধাবী ছাত্র। তাঁর এ অপ্রত্যাশিত মৃত্যু পরিবারসহ সকলের হৃদয়ে গভীর শোক সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও শোক প্রকাশ করছেন শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

  • অস্ত্র মামলায় যুবলীগ নেতা সম্রাটের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

    অস্ত্র মামলায় যুবলীগ নেতা সম্রাটের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

    অস্ত্র আইনের মামলায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাবেক সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। আজ মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকার দ্বিতীয় বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. ইব্রাহিম মিয়া এ রায় ঘোষণা করেন। সম্রাট নিজে আত্মসমর্পণ বা গ্রেফতারের তারিখ থেকে তার সাজা কার্যকর হবে। এই মামলায় আদালত ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন। রায়ে বলা হয়েছে, আসামি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে অস্ত্র আইন, ১৮৭৮ এর ১৯ (ক) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে এবং তার সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। দণ্ড কার্যকর শুরু হবে তার আত্মসমর্পণ বা গ্রেফতারির তারিখ থেকে। ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর কুমিল্লার চৌদ্দগাঁও থেকে র‌্যাব তার গ্রেপ্তার করে। এরপর কাকরাইলের কার্যালয় থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ, পিস্তল ও বিরল প্রজাতির বন্যপ্রাণীর চামড়া উদ্ধার হয়। বন্যপ্রাণীর চামড়া রাখার জন্য তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয় ভ্রাম্যমাণ আদালতে। এরপর ৭ অক্টোবর র‌্যাব-১ এর ডিএডি আব্দুল খালেক বাদী হয়ে রমনা থানায় মাদক ও অস্ত্র আইনের দুটি মামলা দায়ের করেন। তদন্তপ্রক্রিয়ায় ২০২০ সালের ৬ নভেম্বর আদালতে অস্ত্র আইনের অভিযোগপত্র জমা দেয় তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শেখর চন্দ্র মল্লিক। ২০২১ সালের ১৬ জানুয়ারি বিচার শুরু হয়, তখন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। আসামি উপস্থিত না থাকার কারণে তার জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। বিচার চলাকালে মোট ১৪ সাক্ষীর মধ্যে ১০ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। ৭ অক্টোবর যুক্তিতর্ক শেষ করে আদালত আগামী ২৮ অক্টোবর রায় দেওয়ার দিন ধার্য করেন।

  • জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোটের সুপারিশ ঐকমত্য কমিশনের

    জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোটের সুপারিশ ঐকমত্য কমিশনের

    জুলাই সনদের বাস্তবায়ন সংক্রান্ত ইস্যুতে সব দলেরই একমত হয়েছে যে, গণভোটটি অবশ্যই প্রয়োজন। তবে এর সময়সীমা নিয়ে বিতণ্ডা চলছিল— গনতন্ত্রের মূল নির্বাচন কি আগে হবে না কি গণভোটের পরে, এ নিয়ে চাপানউতোর চলছিল। এই পরিস্থিতিতে, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, জাতীয় নির্বাচনের আগে আলাদাভাবে গণভোট আয়োজন করা হবে।

    মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রিয়াজ প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে এই সংক্রান্ত সুপারিশমালা উপস্থাপন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আরও বেশ কিছু কমিশনের সদস্য।

    সুপারিশমালার বিস্তারিত অনুযায়ী, জুলাই সনদের কার্যাদেশ তিন ধাপে আইনি ভিত্তি পাবে। প্রথমে, অন্তর্বর্তী সরকার একটি আদেশ জারি করবে যা বলে দেবে যে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের। এরপর এই আদেশের ভিত্তিতে গণভোট আয়োজন করা হবে। যদি গণভোটে সনদ পাস হয়, তবে নির্বাচিত সংসদ ২৭০ দিন (প্রায় ৯ মাস) এর মধ্যে এই আদেশ বাস্তবায়ন করতে বাধ্য থাকবে। আর যদি সময়মতো বাস্তবায়ন না হয়, তবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই সনদ কার্যকর হয়ে যাবে বলে সুপারিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • চট্টগ্রামে ব্যানার টানানোর ঘটনায় সংঘর্ষে যুবদলকর্মীর মৃত্যু

    চট্টগ্রামে ব্যানার টানানোর ঘটনায় সংঘর্ষে যুবদলকর্মীর মৃত্যু

    চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া থানার এক্সেস রোড এলাকায় সোমবার (২৭ অক্টোবর) গভীর রাতে ভয়ঙ্কর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যেখানে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের ছবি সম্বলিত ব্যানার টানানো ও সরানোর বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তর্কবিতর্ক ঝড়ে রূপ নেয়। এরই নেপথ্যে গুলির খবর ও রক্তাক্ত দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে একজন যুবদলকর্মী মো. সাজ্জাদ (২৬) ঘটনাস্থলে নিহত হন এবং অন্তত আটজন আহত হন। আহত ব্যক্তিদের দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    সূত্রে জানা গেছে, রাতের ঘটনাটি ঘটে বাকলিয়ার এক্সেস রোডের একটি এলাকায়। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী মিনহাজুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ গুলির শব্দ শুনে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। এরপর তারা রক্ত বৃথা অবস্থায় আহতদের মূর্খে নিয়ে যায়।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাত্রাতিরিক্ত উত্তেজনা ও অন্যায্য শক্তির প্রয়োগের কারণে সংঘর্ষের বিবরণ আরও গাজা হয়, যেখানে একজনের গুলিবিদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি বেশ কিছুজন আহত হয়।

    চমেক হাসপাতালে নেতা পরিচয় দিয়ে গুলিবিদ্ধ আহতদের মধ্যে জিএম সালাউদ্দিন আসাদ দাবি করেন, যুবলীগের সন্ত্রাসীরা আগে থেকেই যুবদলের নামে অপকর্ম চালাচ্ছে। মেয়রের ছবি লাগিয়ে ব্যানার ও পোস্টার ঝুলিয়েছিল, যা মেয়র ও তার দলের লোকেরা সরাতে বলায় তাদের ওপর হামলা হয়। এ সময় ভবনের ছাদ থেকে এলোপাতাড়ি গুলি চালানো হয়, যার ফলস্বরূপ সাজ্জাদ ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন।

    চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা এমদাদুল বাদশা বললেন, হামলাকারীরা গুলি চালানোর আগে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেয় এবং তাদের চালানো অপ্রকাশ্য অপকর্মের জন্য যুবলীগের বদলে যুবদলের নামে নানা অপমানজনক কাজ চালাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের পরে তারা যুবদলের নাম ব্যবহার করে নানা দুষ্টচক্রের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে।

    চমেক হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম আশিক জানান, গুলিবিদ্ধ একজন যুবকদের মধ্যে একজন মারা গেছেন, যিনি বুকের গুলির আঘাতে নিহত হন। আহত আটজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    ওই ঘটনায় বাকলিয়া থানার ওসি ইখতিয়ার উদ্দিন জানান, রাতে এক্সেস রোডে ব্যানার টাঙানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে একজন নিহত হন এবং আরও বেশ কয়েকজন আহত হন, যাঁরা দ্রুত চমেক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।