Month: September 2025

  • বাগেরহাটে অনূর্ধ্ব ১৭ ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ

    বাগেরহাটে অনূর্ধ্ব ১৭ ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ

    তারুণ্যের উৎসব ২০২৫ উদযাপন উপলক্ষে অনুষ্ঠিত ছিল একটি বিশাল ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতা, যা গতকাল সমাপ্তি ঘটে পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে। এই প্রতিযোগিতায় বাগেরহাটের ১৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৭৬ জন খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করে। অনূর্ধ্ব ১৭ বালিকা বিভাগের চ্যাম্পিয়ন হয় সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আর বালক বিভাগের শীর্ষে উঠে বৈটপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

    পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম মুস্তাফিজুর রহমান। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক আহমেদ কামরুল হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন জেলা পরিষদ-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ভাস্কর দেবনাথ বাপ্পি ও বাগেরহাট সদর সার্কেল-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ শামীম হোসেন।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, এই প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের মধ্যে খেলাধুলার গুরুত্ব ও ধৈর্য্য বাড়াবে, পাশাপাশি মোবাইলের অতিরিক্ত ব্যবহার কমাতে সহায়তা করবে। বিশেষ অতিথি ভাস্কর দেবনাথ বাপ্পি অভিব্যক্ত করে বলেন, যারা বিতর্কে অংশ নেয় তারা বেশ ভালো ছাত্র হয়ে উঠতে পারেন, আর যারা খেলার মাধ্যমে সুস্থ জীবন গড়েন, তারা একজন উন্নত ও সুন্দর নাগরিক হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলাখেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, যেমন জেলা তথ্য অফিসের উপ-পরিচালক মঈনুল ইসলাম, জেলা পরিসংখ্যান অফিসের উপ-পরিচালক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ।

  • খুলনা জেলা দলের সঙ্গে জেলা প্রশাসকের সাক্ষাৎ – অনূর্ধ্ব-১৪ মহিলা ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন তারা

    খুলনা জেলা দলের সঙ্গে জেলা প্রশাসকের সাক্ষাৎ – অনূর্ধ্ব-১৪ মহিলা ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন তারা

    জেএফএ কাপ অনূর্ধ্ব-১৪ নারী ফুটবলে খুলনা জেলা দল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। এই আনন্দের মুহূর্তে শনিবার দুপুর ১২টায় খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে তাদের সঙ্গে একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্টিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের উপদেষ্টা ও জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুল ইসলাম। খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে ট্রফিসহ উপস্থিত হন তিনি। সাক্ষাৎকালে জেলা প্রশাসক তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, খুলনার জন্য এই সাফল্য গর্বের। খেলাধুলা মানুষের মন ও শরীরের জন্য খুবই উপকারী। এই সফলতা ধরে রাখতে সবাইকে কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যেতে হবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা ক্রীড়া অফিসার মোঃ আলিমুজ্জামান, খুলনা জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইউসুফ আলী, কোষাধ্যক্ষ মোঃ নুরুল ইসলাম খান কালু, কার্যনির্বাহী সদস্য এম এ জলিল, মনিরুজ্জামান মহসীন ও এজাজ আহমেদ। উল্লেখ্য, ১৯ আগস্ট বিকেলে মাগুরা জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে খুলনা জেলা মহিলা ফুটবল দল মাগুরা জেলা দলকে ৩-১ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গর্ব অর্জন করে। খুলনা দলের খেলোয়াড়রা মধ্যে রয়েছেন: লাকি, ইসরাম খান, বিপাশা আক্তার তিশা, জৈতি রায় মুন্নী, আলো খাতুন, রিমা সরকার, দিয়া মন্ডল, তানিশা আক্তার তন্নী, ঐশ্বর্য্য বাছাড়, খাদিজা খাতুন, সুমী খাতুন, সানজিদা সুলতানা ও দৃষ্টি মন্ডল।

  • ৩ সপ্তাহব্যাপী জাতীয় ক্রিকেট লিগের শুভ সূচনা ১৪ সেপ্টেম্বর

    ৩ সপ্তাহব্যাপী জাতীয় ক্রিকেট লিগের শুভ সূচনা ১৪ সেপ্টেম্বর

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে এবারের জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) দ্বিতীয় সেশনের সময়সূচি। এই প্রতিযোগিতা শুরু হবে ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে, যেখানে প্রথম ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে রাজশাহীতে, খুলনা এবং চট্টগ্রামের ম্যাচ দিয়ে। এই লিগের এই আসর চলবে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে। প্রথম দুই রাউন্ড ম্যাচগুলো আয়োজন হবে রাজশাহীর এসকেএস স্টেডিয়াম ও বগুড়ার এসসিএস স্টেডিয়ামে, এরপর বাকি ম্যাচগুলো সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। মোট ১৩ রাউন্ডের এই টুর্নামেন্টে প্রতিদিন দুটি করে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। গ্র“প পর্বের শীর্ষ চার দল খেলবে নকআউট রাউন্ডে, যা শুরু হবে ৩০ সেপ্টেম্বর সিলেটে। ফাইনাল ম্যাচটি হবে ৩ অক্টোবর সন্ধ্যা ৫টায়। এই আসর বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ এটি তরুণ ক্রিকেটারদের নিজেদের প্রতিভা ও দক্ষতা প্রকাশের একটি বড় সুযোগ।

  • আর্জেন্টিনার মাঠে মেসির শেষ ম্যাচে কেঁদে ফেললেন তিনি, সবাইকে কাঁদালেন

    আর্জেন্টিনার মাঠে মেসির শেষ ম্যাচে কেঁদে ফেললেন তিনি, সবাইকে কাঁদালেন

    আজকের আলাদা আবেগপুর্ণ ম্যাচটি হয়ে উঠেছে ‘মেসিময়’। কারণ, আর্জেন্টিনার প্রাণভোমড়া লিওনেল মেসি আজ দেশের মাঠে জাতীয় দলজার্সিতে নিজের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। ম্যাচের সময় মেসি আবেগ ধরে রাখতে পারেননি; এর দুচোখে বারবার অশ্রু ঝরে পড়ছিল।

    বাংলাদেশ সময় আজ ভোরে বুয়েনস আয়ার্সের এস্তাদিও মাস মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। এই ম্যাচে মেসির স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো ও তিন ছেলে উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় সংগীতের সময় মেসি ও তার তিন ছেলে একসঙ্গে দাঁড়িয়ে ছিলেন। চিত্রকর হিসেবে তিনি দাঁড়িয়ে ছবি তুলেছেন তাদের সঙ্গে, সঙ্গে অন্য খেলোয়াড় এমিলিয়ানো মার্তিনেজ ও রদ্রিগো দি পলেরাও এই মুহূর্তের ছবি তুলেছেন।

    মেসির এই শেষ ম্যাচের জন্য আগেই অনেক পূর্বাভাস ও আভাস পাওয়া গিয়েছিল। ২৮ আগস্ট লিগস কাপের সেমিফাইনাল শেষে তাঁর মন্তব্য এবং এরপরই বাছাইপর্বের দল ঘোষণা—এসব কিছু মেসির পরবর্তী কিছুর ইঙ্গিত দেয়। সাধারণত যখন মেসি খেলতে নামেন, তখন বুয়েনস আয়ার্সের মনুমেন্তাল স্টেডিয়াম উৎসবের আবহে ঢেকে যায়। কিন্তু আজকের ম্যাচে দর্শকদের চোখে চোখ রেখে দেশের প্রিয় তারকার বিদায়ের অনুভূতি বেশ স্পষ্ট। গ্যালারিতে মেসির ছবি বড় করে টাঙানো হয়েছে, যেখানে লেখা ছিল ‘আর্জেন্টিনা’, এবং বেশ কয়েকটি পোস্টারে দেখা গেছে ২০২২ সালে মেসির অর্জনকৃত বিশ্বকাপের ট্রফি।

    আজকের ম্যাচে মেসি পুরো ৯০ মিনিট খেলেছেন এবং যতবার তার পায়ে বল গেছে, দর্শকরা চিৎকার করে উৎসাহ দিয়েছেন। গালাগালির আওয়াজে মঞ্চ ভুবন হাসির রঙে রঙিন হয়ে উঠেছিল। মেসির স্ত্রীর মুখেও তখন সুখ-দুঃখের এক মিশ্র অনুভূতি ছিল। ম্যাচের শেষে যখন তিনি বুঝলেন এই হতে যাচ্ছে তার দেশপ্রিয় তারকার আর্জেন্টিনা জার্সিতে শেষ ম্যাচ, তখন তাঁর মুখ ভার হয়ে যায়।

    বিশেষ করে ভেনেজুয়েলাকে ৩-০ গোলে হারানোর পর মেসি জানিয়ে দেন, এই ম্যাচটি তার আর্জেন্টিনা ক্যারিয়ার শেষ। আজকের ম্যাচে মেসি জোড়া গোল করেছেন; ৩৯ ও ৮০ মিনিটে তিনি করেছেন এই দুটো গোল। মাঝে ৭৬ মিনিটে লাওতারো মার্তিনেজ একটি গোল করেন। মেসি হ্যাটট্রিকের খুব কাছাকাছিও ছিলেন, তবে ৮৯ মিনিটে রদ্রিগো দি পলের কাছ থেকে অ্যাসিস্টের মাধ্যমে তার গোলটি হয়। কিন্তু ভিডিও রেফারেন্সে অফসাইডের কারণে এই গোলটি বাতিল হয়।

    অবশ্য, এই ম্যাচটি আর্জেন্টিনা দলের জন্য শেষ কি না, সেটা এখনো নিশ্চিত নয়। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন থেকে জানা গেছে, বিশ্বকাপের আগে জুনে একটি উষ্ণাপ্রীতি ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এই ম্যাচ না হলে, এটি হয়তো মেসির আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ। আগামী ১০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টায় ইকুয়েডরের বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা, যা হবে মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে। বর্তমানে তারা ১৭ ম্যাচে ৩৮ পয়েন্ট নিয়ে দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বের শীর্ষে অবস্থান করছে।

  • জাতীয় দলে খেলতে হলে প্রথমে দেশে ফিরতে হবে, মামলা মোকাবেলা করতে হবে

    জাতীয় দলে খেলতে হলে প্রথমে দেশে ফিরতে হবে, মামলা মোকাবেলা করতে হবে

    বাংলাদেশের ক্রিকেটে তামিম ইকবাল এবং সাকিব আল হাসান দুই বড় নাম। একসময় তাদের বন্ধুত্বের গল্প শোনা গেলেও বর্তমানে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়েছে এবং দ্বন্দ্বের খবরও বিভিন্ন মহলকে চিন্তিত করে তুলেছে। রাজনৈতিক কারণে দীর্ঘ এক বছর বা তার বেশি সময় ধরে দেশের বাইরে থাকছেন সাকিব, অন্যদিকে বিসিবির নির্বাচনী প্রক্রিয়া ঘিরে আলোচনায় রয়েছেন তামিম ইকবাল।

    সাকিব দেশের বাইরে থাকায় তিনি জাতীয় দলের বাইরে রয়েছেন এবং তার ক্যারিয়ার এখন শেষের পথে। তবে সম্প্রতি তামিম বলেছেন, যদি বোর্ড সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন, তাহলে সাকিব আবারও মাঠে ফিরতে পারেন কি না, সেটি দেখার বিষয়। তবে এ ব্যাপারে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, পরিস্থিতি যে খুব সহজে উন্নতি হবে না। সম্প্রতি ডেইলি ক্রিকেটের এক পডকাস্টে তামিম স্পষ্টভাবে বলেছেন, ‘সে একজন সক্রিয় ক্রিকেটার। সে বাংলাদেশের খেলোয়াড়। এখন যদি তার ফিটনেস ভাল থাকে, অনুশীলন করতে পারে এবং নির্বাচকরা মনে করেন, তাকে দলে নেওয়া যায়, তাহলে তিনি অবশ্যই আবার নির্বাচিত হতে পারেন। তবে তার দেশে ফিরে আসা আমার হাতে নেই কারণ এ বিষয়টি আইনি জটিলতায় জড়িয়ে রয়েছে।’

    সাকিব সম্প্রতি একজন সাবেক আওয়ামী লীগ এমপির বিরুদ্ধে নানা মামলার মুখোমুখি। জুলাইয়ে ঘটে যাওয়া গণঅভ্যুত্থানের পর তার বিরুদ্ধে হত্যা সহ বেশ কয়েকটি মামলাও দায়ের হয়। এই পরিস্থিতিতে তামিম বলেন, ‘আমি দেশের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। তার বিরুদ্ধে মামলার বিষয়টি আমাদের দেখার বিষয়। যদি সে মামলার মোকাবিলা করতে পারে এবং ক্রিকেটের জন্য প্রস্তুত থাকেন, তাহলে অবশ্যই তার জন্য দরজা খোলা। সে বাংলাদেশেরই।’

    তামিম আরো বলেন, ‘জাতীয় দলে খেলার জন্য সাকিবকে আগে দেশে ফিরতে হবে। মামলার মোকাবেলা করতে হবে, মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে হবে। এসব হল সত্যি কথা। আমি কিছু লুকাচ্ছি না। সাকিবের বিষয় ও তার ক্যারিয়ার, সেটি তার সিদ্ধান্ত। আমি এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারছি না, কারণ এটা তার দায়িত্ব।’

  • থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অপসারণে আদালতের সিদ্ধান্ত

    থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অপসারণে আদালতের সিদ্ধান্ত

    থাইল্যান্ডের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী পেতোংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে দেশের সাংবিধানিক আদালত ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছে। এই পদক্ষেপের কারণ হিসেবে প্রকাশ পেয়েছে তার বিরোধপূর্ণ একটি ফোনকলের রেকর্ড, যেখানে তিনি কম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের সঙ্গে কথা বলতেন। এই ফোনকলের রেকর্ড ফাঁস হওয়ার পরই তার সরকারে অবনতি ঘটে এবং আদালত তার পদ স্থগিত করে। আজ, শুক্রবার ২৯ আগস্ট, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করে তাকে সম্পূর্ণরূপে ক্ষমতাচ্যুত করা হলো।

    পেতোংতার্ন ২০২৪ সালের আগস্টে দেশের সবচেয়ে কম বয়সে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন, তখন তার বয়স ছিল মাত্র ৩৩ বছর। এক বছরের মধ্যে তিনি ক্ষমতা হারালেন, যা ইতিহাসে বিরল ঘটনা। তিনি একজন প্রভাবশালী নারী নেতা এবং সিনাওয়াত্রা পরিবারের সদস্য।

    ফোনকলের রেকর্ডে দেখা যায়, পেতোংতার্ন তাকে কম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হুন সেনকে ‘আঙ্কেল’ বলে সম্বোধন করেন। সেই সময় তিনি তার দেশের সেনাবাহিনী নিয়ে সমালোচনা করে বলেন, দেশের সেনাদের জন্যই কম্বোডিয়ার এক সেনা নিহত হয়েছে। এই ফোনকল প্রকাশ পেতেই ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর কয়েক মাসের মধ্যেই, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সেনাবাহিনীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যা ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছে।

    ১৫ জুনের ওই ফোনকলের মধ্যে আরও বলা হয়, ‘যেকোনো কিছু চাইলে আমাকে বলবেন। আমি বিষয়টি দেখব।’ এই কথাটি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। দরবারে এই ফোনকলের রেকর্ড ভাইরাল হওয়ার সময় দুই দেশের সীমান্তে কঠোর উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এ সময় স্বাভাবিকভাবেই জনগণের মধ্যে জাতীয়তাবাদও বাড়তে শুরু করে। সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়, বিরোধী দল অভিযোগ তোলে যে, পেতোংতারা গোপনে তাদের স্বার্থে কাজ করছেন। তখন তিনি জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন এবং বলেন, এই ধরনের কথোপকথন তিনি উত্তেজনা প্রশমনের জন্য বলেছেন।

    রায় ঘোষণা শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে পেতোংতার্ন বলেছিলেন, তিনি দেশের স্বার্থে কাজ করেছেন। তিনি দাবি করেন, তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল দেশের মঙ্গল, কোনও ব্যক্তিগত লাভ নয়। তিনি আরও বলেন, আমি দেশের নাগরিক ও সেনাদের রক্ষা করতে চেয়েছি। এই রায় থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে নতুন পরিবর্তনের সূচনা করেছে, যেখানে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।

    তবে, গত ১ জুলাই আদালত তার প্রধানমন্ত্রীর পদ স্থগিত করে দেয়, যদিও তিনি এখনও সংস্কৃতি মন্ত্রী হিসেবে রয়েছেন। ২০০৮ সালের পর, এটি পঞ্চমবার যখন থাইল্যান্ডের মূল ক্ষমতাধর নেতাদের মধ্যে কেউ না কেউ আদালতের রায়ে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনা সার্বিকভাবে দেশের রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ছাপ ফেলেছে।

  • পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারে কংগ্রেস কার্যালয়ে বিজেপি হামলা ও সংঘর্ষ

    পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারে কংগ্রেস কার্যালয়ে বিজেপি হামলা ও সংঘর্ষ

    ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার রাজ্যে কংগ্রেস কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযোগ উঠেছে বিজেপি কর্মী সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এই হামলার সূচনা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার প্রয়াত মাকে অশালীন ভাষায় কটাক্ষের মাধ্যমে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হতে তা স্পষ্ট হয়েছে যেখানে দেখা যায়, দুই দলের কর্মীরা দলীয় পতাকাসহ ডান্ডা দিয়ে একে অপরের উপর আঘাত চালাচ্ছেন। এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। তবে এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। কংগ্রেস এই ঘটনাকে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

    ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন ‘ভোটার অধিকারের যাত্রা’ কার্যক্রমের সময় দরভাঙ্গায় এক কংগ্রেস নেতার গায়ে দলের পতাকা জড়ানো একজন ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীকে অশালীন ভাষায় কটু মন্তব্য করেন। এই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর বিজেপি থানায় এফআইআর দায়ের করে এবং কংগ্রেসের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানায়। দরভাঙ্গা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।

    বিহারেও শনিবার পাটনায় বিজেপি রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করে। এ সময় কংগ্রেস কর্মীরাও মাঠে আঘাত হানে, ফলে পরিস্থিতি মারামারিতে দখল হয়ে যায়। পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করলেও পাটনায় এখনও চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে।

    অপরদিকে, এই উত্তেজনা কলকাতার দিকে ছড়িয়ে পড়ে। শহরের জাতীয় কংগ্রেসের রাজ্য সদরদপ্তর বিধান ভবনের সামনে শুক্রবার বিক্ষোভের আয়োজন করে বিজেপি। বিক্ষোভ চলাকালীন কিছু বিজেপি সমর্থক কংগ্রেস দপ্তরে ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং অগ্নিসংযোগের অভিযোগ ওঠে। এর পাশাপাশি, রাহুল গান্ধীর ছবি ও বিভিন্ন ব্যানার-পোস্টার ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান প্রদেশ কংগ্রেস।

    কংগ্রেসের মুখপাত্র সৌম্য আইচ রায় বলেন, “রাজনীতিতে দেউলিয়া ব্যক্তিরাই এই ধরনের কাজ করতে পারে। বিজেপি সব সময় ইন্ধন দেয় আমাদের বিরুদ্ধে গোপন চোরাচালানের জন্য। এই সময় তারা দপ্তর খালি পাওয়ায় সুযোগ নিয়ে দুষ্কর্ম করছে। আমরা প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই দোষীদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার।”

    বিহার কংগ্রেসের নেতা অশুতোষ পাল্টা অভিযোগ করেন, এই ঘটনার পেছনে সরকারেরই ইন্ধন রয়েছে এবং নীতীশ কুমারও ভুল করছেন। তিনি আরও বলেন, “আমরা জবাব দেবো।”

    অন্যদিকে, বিজেপি নেতা নীতিন নবীন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “মা সম্মান নিয়ে যা হয়েছে তার বদলা বাংলার প্রতিটি ছেলে নিবে। এর জবাব আমরা অবশ্যই দেব।”

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সোশ্যাল মিডিয়াতে কড়া ভাষায় নিন্দা জানিয়ে বলেন, “রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেসের রাজনীতি নিচের দিকে নেমে গেছে। একজন গরিব মায়ের সন্তান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, এটাই তাদের সহ্য হয় না। প্রধানমন্ত্রী ও তার প্রয়াত মাকে নিয়ে এই ভাষা লজ্জাজনক এবং গণতন্ত্রে কলঙ্ক।”

    বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা বলেন, “এ ধরনের অশালীন হামলা সব সীমা পার হয়েছে। রাহুল গান্ধী ও তৈজস্বী যাদবের ক্ষমা চাওয়া উচিত।”

    বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী ও তার প্রয়াত মাকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য বেআইনি ও অনুচিত, যাতে সহ্য করা হবে না।”

  • গাজা সিটিকে ‘যুদ্ধক্ষেত্র’ ঘোষণা দিল ইসরায়েল, নিহতের সংখ্যা ছাড়ালো ৬৩ হাজার

    গাজা সিটিকে ‘যুদ্ধক্ষেত্র’ ঘোষণা দিল ইসরায়েল, নিহতের সংখ্যা ছাড়ালো ৬৩ হাজার

    গাজা উপত্যকার বৃহৎ শহর গাজা সিটিকে দখলদার ইসরায়েল এখন ‘যুদ্ধক্ষেত্র’ ঘোষণা করেছে। শুক্রবার ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) তাদের প্রথমবিন্দু অভিযানের শুরু করেছে। এ ছাড়া, এখন থেকে গাজা সিটিতে আর কোনও বিরতি দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে আইডিএফ।

    ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর আরবি মুখপাত্র আভিচায় আদ্রি এক পোস্টে জানিয়েছেন, ‘আমরা অপেক্ষা করছি না। এখন থেকেই আমরা গাজা সিটিতে হামলার প্রথম পর্যায় শুরু করেছি। গাজার উপকণ্ঠে যুক্তিসঙ্গত শক্তি নিয়ে অভিযান চালাচ্ছি।’ এর আগে, গাজায় কৌশলগত বিরতি বাতিলের ঘোষণা দিয়ে ইসরায়েল জানায়, ‘আজ সকাল ১০টা থেকে গাজা সিটিতে আর কোনো সামরিক বিরতি কার্যকর থাকবে না। এখন থেকে গাজা একেবারে যুদ্ধক্ষেত্র, যেখানে ঝুঁকি বাড়ছে।’

    গত মাসে, আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে ইসরায়েল সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গাজায় ‘কৌশলগত বিরতি’ ঘোষণা করেছিল। এটি জাতিসংঘসহ অন্যান্য সংস্থার অনুরোধে ফিলিস্তিনিদের প্রয়োজনীয় ত্রাণ পৌঁছানোর জন্য করা হয়েছিল। তবে, আগস্টের শুরু থেকেই ইসরায়েল গাজা শহরের বিভিন্ন জায়গায় অবিরাম বোমাবর্ষণ অব্যাহত রেখেছে, শহরটির উপকণ্ঠে তাদের ট্যাংকও অবস্থান করছে।

    ইসরায়েলির এই অজস্র হামলায় প্রতিদিনই বেড়ে চলেছে নিরীহ ফিলিস্তিনিদের প্রাণহানি। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৬৩,২৫১ ছাড়িয়ে গেছে। শুক্রবার, টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় গাজায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৫৯ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ২৪৪ জন। এই সময়ের মধ্যে হাসপাতালে আনা হয়েছে আহতদের সংখ্যা।

    গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত নিহতের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৩,০২৫। সেই সঙ্গে আহতের সংখ্যা বেড়ে ১,৫৯,৪৯০ এ পৌঁছেছে। সম্প্রতি, অনাহার ও অপুষ্টির কারণে আরও ৫ জনের মৃত্যুর খবর এসেছে। এ নিয়ে চলতি বছরেই এই কারণে নিহতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৩২২ জনে, যার মধ্যে ১২১ জন শিশু।

    পাশাপাশি, গত ২৪ ঘণ্টায় মানবিক সাহায্য পৌঁছানোর চেষ্টা করেও ২৩ জন হতাহত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত, সাহায্য নিতে গিয়ে নিহতের সংখ্যা ২,০০২,০৩ জন এবং আহতের সংখ্যা ১৬,০২২৮। অনেক ফিলিস্তিনি এখনো নিখোঁজ।

    বিশেষ করে, ২৭ মে গাজা হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করার পর থেকে, প্রতিদিনই তাদের চারটি ত্রাণ কেন্দ্রে প্রাণহানি বা হামলার ঘটনা ঘটছে।

    সূত্র: আল জাজিরা।

  • শুল্ক দিয়ে ভারত আমাদের হত্যা করেছে: ট্রাম্প

    শুল্ক দিয়ে ভারত আমাদের হত্যা করেছে: ট্রাম্প

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ভারতের শুল্কনীতি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ভারতের শুল্কের কারণে আমেরিকা বহু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেন তাদের দ্বারা হত্যা করা হচ্ছে। বর্তমানে ভারত ওয়াশিংটনকে কোনও নতুন শুল্ক আরোপ না করার প্রস্তাব দিয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও শুল্কনীতির উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। খবর এনডিটিভির।

    মঙ্গলবার দ্য স্কট জেনিংস রেডিও শোতে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ভারতের শুল্ক আরোপের কারণে আমাদের বিপর্যয় ঘটে। চীন আমাদের ওপর শুল্ক আরোপ করে থাকলেও ভারত আমাদের ক্ষতি করছে বেশি। তিনি আরও বলেন, ভারত আমাদের ওপর শুল্ক দিয়ে আমাদের হত্যা করছে এবং ব্রাজিলও একই পথ অনুসরণ করছে।

    ট্রাম্প দাবি করেন, শুল্ক বিষয়ে তিনি বিশ্বের অন্য যেকোনো ব্যক্তির চেয়ে বেশি জানেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র যখন ভারতের উপর শুল্ক আরোপ করল, সেই সময় থেকেই ভারত শুল্ক কমানো শুরু করে।

    তিনি ভারতের অন্যতম শুল্ক আরোপকারী দেশ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ভারতের কাছে তারা জানিয়েছে, এখন থেকে আর কোনও শুল্ক থাকবে না। তিনি বললেন, শুল্কের গুরুত্ব বোঝানোর জন্য, যদি আমরা শুল্ক আরোপ না করতাম, তাহলে তারা এ ধরনের প্রস্তাব দিত না। এর ফলে, শুল্ক থাকা জরুরি, কারণ এতে করে আমাদের অর্থনৈতিক শক্তি বৃদ্ধি পাবে।

    তবে এটি প্রথমবার নয় যখন ট্রাম্প এই ধরনের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এর আগে, সোমবার তিনি বলেছিলেন, দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক এতদিন ছিল একপাক্ষিক। এই সম্পর্ককে তিনি একপাক্ষিক বিপর্যয় বলে আখ্যা দেন। ট্রাম্প বলেন, এখন ভারত শুল্ক কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে, কিন্তু এটি অনেক দেরিতে এসেছে।

    অন্যদিকে, মার্কিন একটি আপিল আদালত ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ককে অবৈध বলে রায় দিয়েছে। এর জবাবে ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালের মাধ্যমে বলেছেন, আদালত ভুলভাবে শুল্ক প্রত্যাহার করার কথা বললেও, তারা জানে যে শেষ পর্যন্ত আমেরিকা জিতবে।

    ভারতের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম শুল্ক ৫০ শতাংশ আরোপ করেছে। এর মধ্যে রাশিয়ার কাছ থেকে কেনা তেলের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্কও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই শুল্ক আরোপকে নয়াদিল্লি ‘অন্যায্য ও অযৌক্তিক’ বলেছে।

  • ভারতীয় নৌবাহিনী রোহিঙ্গাদের সমুদ্রে ফেলে দিচ্ছে অভিযোগ

    ভারতীয় নৌবাহিনী রোহিঙ্গাদের সমুদ্রে ফেলে দিচ্ছে অভিযোগ

    নৌবাহিনীর এক অভিযানে অভিযোগ উঠেছে যে ভারতীয় জাহাজে করে মিয়ানমারের নিপীড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সদস্যদের সমুদ্রে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। এই অভিযোগ কতিপয় ৪০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীর কাছ থেকে এসেছে, যারা জানিয়েছেন, তাদেরকে দিল্লিতে আটক করে নৌবাহিনীর জাহাজে উঠিয়ে সাগর পাড়ি দেওয়ার পর অবশেষে উপযুক্ত পরিচয় ছাড়াই তাদেরকে ফেলে দেওয়া হয়।

    বর্তমানে, মিয়ানমার যে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের মধ্যে আছে, তার মধ্যে এই রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যত একেবারে অনিশ্চিত। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের এই কার্যক্রম তাদের জীবনকে অনেক বেশি ঝুঁকিতে ফেলেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৯ আগস্ট প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৯ মে দিনটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন যখন নুরুল আমিন তার ভাইয়ের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত সবল আলাপ করেন। উজাড় হওয়া এই ফোনালাপে তিনি জানতে পারেন, তার ভাই খাইরুলসহ পরিবারের আরও চারজনের বিরুদ্ধে ভারতীয় সরকারের সিদ্ধান্তে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তারা দীর্ঘ সময় ধরে প্রাণভয়ে এলোপাথারি পালিয়ে এসেছেন, কারণ বর্তমানে মিয়ানমার ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের মধ্যে রয়েছে, যেখানে সেনা অভ্যুত্থানের কারণে ২০২১ সাল থেকে নিয়মিত সংগ্রাম চলছে।

    আমিন বলেন, “আমার বাবা-মা ও পুরো পরিবারের কী অবস্থায় আছেন, এই কষ্টের কথা আমি ভাবতেই পারছি না।”

    বিবিসি তাদের অনুসন্ধান এবং তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে জানতে পেরেছে, এবং মিয়ানমারে এই রোহিঙ্গাদের খুঁজে পেয়েছে। বেশিরভাগই আশ্রয় নিয়েছেন বেহু আর্মির কাছে,যদিও তারা মূলত জান্তার সেনাদের বিরোধী গোষ্ঠী।

    ভিডিও কলের মাধ্যমে সৈয়দ নূর জানিয়েছেন, “আমরা এখানে খুবই অরক্ষিত, চারপাশের পরিস্থিতি যেন যুদ্ধক্ষেত্র।“ তার সঙ্গে আরও ছয়জন রোহিঙ্গা ছিলেন আশ্রয়ের ওই কাঠের আশ্রয়ে।

    শরণার্থীদের ভাষ্য ও স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, তাদেরকে বিমানযোগে বঙ্গোপসাগরের এক দ্বীপে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর নৌবাহিনীর জাহাজে তোলা হয় এবং অবশেষে আন্দামান সাগরে ফেলে দেওয়া হয়। যদিও লাইফ জ্যাকেটের ব্যবস্থাও ছিল, তারা পরে সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমানে, তারা আবার মিয়ানমারে ফেরার অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি। এই দেশ থেকে বরাবরই নিপীড়ন এড়াতে তারা পালিয়ে এসেছে।

    জন নামে একজন রোহিঙ্গা তার ভাইকে জানিয়েছেন, ‘আমাদের হাত বাঁধা, চোখ মুছে জাহাজে তোলে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর তাকে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়’।

    আতঙ্ক shared করে নুরুল আমিন বলেন, ‘মানুষকে এভাবে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া যায়? এখনও মানবতা বেঁচে আছে বলে আমি মনে করি, কিন্তু ভারতের সরকারের মধ্যে মানবতা খুঁজে পাই না’।

    জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদনকারীর মতে, টমাস অ্যান্ড্রুজ এই অভিযোগের ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করেছেন। তিনি জেনেভায় ভারতের মিশনকে এই বিষয়ে প্রমাণও জমা দিয়েছেন, যদিও এখনও কোনও উত্তর পাননি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও যোগাযোগের চেষ্টা চলছে, কিন্তু কোনো স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

    ভারতে থাকা রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি ইতোমধ্যেই অত্যন্ত সংকটাপন্ন। তারা সরকারিভাবে শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি পায়নি; বরং অবৈধ অভিবাসী হিসেবেই বিবেচিত। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ভারতে বর্তমানে প্রায় ২৩ হাজার ৮০০ রোহিঙ্গা থাকলেও, মানবাধিকার সংস্থাগুলির মতে, প্রকৃত সংখ্যা ৪০ হাজারের বেশি।

    ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর ভয়ঙ্কর অভিযানের পর, লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। বর্তমানে বাংলাদেশের মধ্যে তাদের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১ মর্যাদাক্রমে।

    বিবিসি জানিয়েছে, চলতি বছরের ৬ মে দিল্লির বিভিন্ন স্থানে বসবাসরত ৪০ জন রোহিঙ্গাকে থানা ডেকে নেওয়া হয়। তাদের ছবি ও আঙুলের ছাপ নেওয়ার জন্য বলা হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরে, তাদের শহরের একটি আটক কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়।

    আ Min বলেন, সে সময় তার ভাই ফোন করে জানায়, তাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং আইনি সহায়তা ও জাতিসংঘের সংস্থাকে খবর দিতে বলে। এরপর ৭ মে তাদের হিন্দান বিমানবন্দরে পৌঁছে, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপে পাঠানো হয়। সেখানে বাসে করে তাদের নিয়ে যাওয়া হয়, কায়দা ছিল “ভারতীয় নৌবাহিনী” লেখা।

    সৈয়দ নূর বলেন, “বাসে উঠতেই আমাদের হাত প্লাস্টিকের খাপ দিয়ে বাঁধা হয়, মুখও কালো কাপড় দ্বারা ঢেকে দেওয়া হয়। কিছুক্ষণের মধ্যে তাদের একটি জাহাজে তোলা হয়, যেখানে তারা প্রায় ১৪ ঘণ্টা ছিল। খাওয়ানো হয়েছিল ভাত, ডাল আর পনির, তবে এ সময় তাদের অনেককে মারধর, অপমান এবং অমানবিক আচরণের শিকার হয়। সাঁতরাতে সক্ষম হওয়া বেশিরভাগই এখন আবার মিয়ানমারে ফিরতে চাইছে।

    অপর এক রোহিঙ্গা ফয়াজ উল্লাহ তার আঘাতের দাগ দেখিয়ে বলেন, তাকে মারধর, ঘুষি, চড় ও বাঁশ দিয়ে আঘাত করা হয়। তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, “ভারতে অবৈধভাবে এসো কি করে?”

    এমনকি, কয়েকজন খ্রিস্টান রোহিঙ্গা এই অভিযানে ছিলেন, যারা জিজ্ঞেস করা হয় কেন ইসলাম ছেড়ে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছেন এবং হিন্দু হিসেবে না। এমনকি, তাদের খতনা হয়েছে কি না তাও পরীক্ষা করা হয়।

    বিবিসির অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, তাদের মধ্যে একজনকে কাশ্মিরের পেহেলগামে ঘটানো হামলার সঙ্গে জড়িত হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়, যদিও এ ব্যাপারে কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

    ৮ মে সন্ধ্যায়, তাদেরকে ছোট ছোট রাবার নৌকায় তুলে সমুদ্রে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে হ্যান্ড লাইফ জ্যাকেট পরানো ছিল। বলা হয়, তারা ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছেছে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা মিয়ানমারে ছিল।

    পরদিন ভোরে স্থানীয় জেলেরা তাদের খোঁজ পান এবং ফোন ব্যবহার করে তাদের পরিবারের খবর জানিয়ে দেন। এরপর থেকে বহটি আর্মি এই রোহিঙ্গাদের খাবার ও আশ্রয় দিয়ে চলেছে, কিন্তু তাদের পরিবারের আতঙ্ক দূর হয়েছে না।

    জাতিসংঘ সতর্ক করে দিয়েছে, ভারত রোহিঙ্গাদের আন্দামান সাগরে ফেলে দিয়ে তাদের জীবনকে ‘চরম ঝুঁকি’তুলি ফেলেছে।

    গত ১৭ মে, নুরুল আমিনসহ তার একজন স্বজন ভারতের সুপ্রিম কোর্টে রিট করে, যেখানে অনুরোধ করা হয় তাদের ফিরিয়ে আনা, নির্বাসন বন্ধ ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার। তবে, ভারতের বিচারপতি এই অভিযোগগুলোকে ‘অবাস্তব কল্পনা’ বলে উড়িয়ে দেন। মামলার শুনানি হয় ২৯ সেপ্টেম্বর, তখন সিদ্ধান্ত হবে, রোহিঙ্গারা কি শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি পাবে এবং তাদের ফেরত পাঠানো যাবে কি না।

    ভারতের রোহিঙ্গা কমিউনিটিতে এ ঘটনায় প্রবল আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ কেউ গোপন হয়েছে, অনেকে বাড়িতে থাকছে না। নুরুল আমিন বলছেন, “আমার শুধু ভয় কাজ করে, যে কোনো সময় আমাদেরকেও ধরে নিয়ে সমুদ্রে ফেলে দেবে। তাই এখন আমি ঘর থেকে বের হতে পারছি না।”

    অবশেষে, জাতিসংঘের প্রতিনিধি অ্যান্ড্রুজ বলেন, “রোহিঙ্গারা ভারতে থাকতে চায়নি। তারা এসেছে ভয়াবহ সহিংসতা থেকে পালিয়ে, জীবন বাঁচানোর জন্য। তারা সত্যিই এই দেশে থাকতে এসেছিল।”