Month: September 2025

  • সাতক্ষীরায় পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ভারতে আটক ১৫ বাংলাদেশি ফেরত দিল বিএসএফ

    সাতক্ষীরায় পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ভারতে আটক ১৫ বাংলাদেশি ফেরত দিল বিএসএফ

    সাতক্ষীরার সীমান্তে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ভারতে আটক নারী ও শিশুসহ ১৫ বাংলাদেশি নাগরিককে বাংলাদেশ সীমান্তে ফিরিয়ে দেয় বিএসএফ। বৃহস্পতিবার রাতে সোয়া ৮টার সময়, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার তলুইগাছা সীমান্তের জিরো লাইনের কাছে এ পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পরে রাত সোয়া ১০টার দিকে বিজিবির ক্যাম্পে আটক ব্যক্তিদের সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর আগে, ওই বাংলাদেশিরা স্বেচ্ছায় ভারতীয় বিএসএফের হাকিমপুর ক্যাম্পে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন।

    আটক বাংলাদেশিরা হলেন, সাতক্ষীরা শ্যামনগর উপজেলার পশ্চিম কৈখালী গ্রামের আব্দুর রব সরদারের ছেলে মোঃ সেকেন্দার হোসেন (৩৩), নকিপুর গ্রামের কালাচাঁদ গাজীর ছেলে মোঃ আব্দুল্লাহ গাজী (৩৮), যোগেন্দ্রনগর গ্রামের মোঃ সুজাত আলী গাজীর মেয়ে ঝর্ণা খাতুন (৩৮), কালিঞ্চি গোলাখালী এলাকার মিকাইল মোল্যার স্ত্রী মোছা: নাজমা বিবি (৩৩), তাঁর মেয়ে মাহেরা আক্তার (৬), ছেলে নাজমুল হাসান নাইম (১৬), মেয়ে মিনা (১৩), নওয়াবেঁকীর পূর্ব বিড়ালক্ষী গ্রামের আবিয়ার রহমান শেখের মেয়ে মোছা: মাফুজা খাতুন (৩৪), তাঁর মেয়ের নাম তাহিয়া সুলতানা (১০), ছেলে মাফুজ রহমান (২), খুলনার বাটিয়াঘাটা উপজেলার কৃষ্ণনগর, জলমা এলাকার মৃত জিয়ারুল ইসলামের স্ত্রী মর্জিনা বেগম (৪৪), মেয়ে হাসিনা খাতুন (১০) এবং পিরোজপুর জেলার খানাকুনিয়ারী গ্রামের ಇಲায়াস মোল্যার ছেলে রুহুল আমিন (৪০), তার স্ত্রী শেফালী বেগম (৩৫) ও মেয়ে সুমাইয়া আক্তার (৭)।

    বিজিবি সূত্র জানায়, অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের দায়ে মঙ্গলবার রাত ২৬ আগস্ট হাকিমপুর চেকপোস্ট এলাকা থেকে বিএসএফ ১৫ বাংলাদেশিকে আটক করে। দুই দিন পরে, বৃহস্পতিবার রাতে, পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের ফেরত পাঠানো হয়। বৈঠকে ছিলেন বিএসএফের আমুদিয়া কোম্পানির কমান্ডার ইনস্পেক্টর দিদাজ্যোতি ডলি এবং সাতক্ষীরা বিজিবির তলুইগাছা বিওপি কমান্ডার আবুল কাশেম। পরে, রাত সোয়া ১০টার দিকে বিজিবি তাদের আটককৃত ব্যক্তিদের সাতক্ষীরা সদর থানায় হস্তান্তর করে।

    পূর্বে, তলুইগাছা বিওপি এক সাধারণ ডায়েরী করেন, যেখানে উল্লেখ করা হয়, ‘‘অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশের জন্য মঙ্গলবার রাতে আটক করা হয় ১৫ জনকে।’’

    আটকাদের মধ্যে অনেকেরই অভিযোগ, তারা প্রায় ১৬ মাস আগে সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। তারা কোনঠাসা হয়ে আত্মরক্ষা ও দিনমজুরির জন্য বিভিন্ন সময় রাজারহাট ও নিউটাউন এলাকায় থাকতেন। সম্প্রতি ভারতীয় পুলিশ তাদের ব্যাপক ধরপাকড় শুরু করে, তাই তারা দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। এ জন্য তারা স্বেচ্ছায় বিএসএফ ক্যাম্পে আত্মসমর্পণ করেন। ক্যাম্পে দুই দিন আটক থাকার পর, পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের বিজিবির হাতে তুলে দেওয়া হয়। এরপর, তাদেরকে সদর থানায় সোপর্দ করা হয়।

    সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি শামিনুল হক নিশ্চিত করে জানান, ‘‘বিএসএফের হস্তান্তরিত ১৫ জনের মধ্যে ১৪ জনকে তাদের স্বজনের কাছে তুলে দেওয়া হয়েছে। বাকি একজনের পরিবারের লোক আসলে তাকে শুক্রবার হস্তান্তর করা হবে।’’

  • বিজয়ের জন্য জামায়াতের নেতৃত্বে সরকার গঠনের প্রস্তাব: ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে

    বিজয়ের জন্য জামায়াতের নেতৃত্বে সরকার গঠনের প্রস্তাব: ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, একটি দেশের উন্নতি ও অগ্রগতি মূলত তার ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতির উপর নির্ভর করে। তাই সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো উদ্যোক্তাদের জন্য একটি নিরাপদ ও সুস্থ পরিবেশ সৃষ্টি করা, যেখানে ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন। তিনি বলেন, যদি একজন সরকার এই দায়িত্ব পালন করতে পারে, তাহলে ব্যবসায়ীরা নিরাপদে তাঁদের ব্যবসা চালাতে পারবেন এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নতিতে অবদান রাখতে পারবেন।

    পরওয়ার আরো বলেন, দুর্ভাগ্যবশত আমাদের দেশে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফার লোভে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কালোবাজারি করে জিনিসপত্রের কৃত্রিম সংকট তৈরি করেন, ফলে দ্রব্যমূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। তবে সৎ, ন্যায্য এবং বিবেকসম্পন্ন মানুষ এ রকম কর্মকাণ্ডে জড়িত হন না। জামায়াতের মূল লক্ষ্য হলো, এই দেশের সৎ ও নৈতিক মানুষদের দ্বারা ব্যবসা পরিচালিত হওয়া।

    তিনি আরো উল্লেখ করেন, বর্তমানে ব্যবসায়ী সমাজের উপর এক ধরনের চ Roadে চাঁদাবাজি এবং অমানবিক ঘটনা চলমান, যেখানে অনেক ব্যবসায়ী চাঁদা না দেওয়ায় হামলার শিকার হন বা প্রাণ হারাতে পারেন, যা জাহেলিয়াতের অন্ধকার যুগকেও হার মানায়। আমরা এই বর্বর সমাজ চাই না। বরং আশা করি, আল্লাহর রহমত ও জনগণের любвиয়ে যদি জামায়াত সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়, তাহলে ব্যবসায়ীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি হবে। চাঁদাবাজি ও হিংসাত্মক অপরাধের অবসান ঘটবে, কোন ব্যবসায়ী জীবনের নিরাপত্তা হারাবেন না এবং পালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না।

    এসময়, তিনি ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করার আহ্বান জানান। বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় ফুলতলা বাজারের গামছা চান্দিনায় অনুষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও সমাজের মানুষের সাথে মতবিনিময় সভায় এই বক্তব্য দেন তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্যবসায়ী মোঃ শাহজাহান মোল্লা। উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মিয়া গোলাম কুদ্দুস, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক গাওসুল আযম হাদী, বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ ও ব্যবসায়ী-সামাজিক ব্যক্তিত্বগণ।

    এছাড়া, ডুমুরিয়া অঞ্চলে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার শুক্রবার দিনব্যাপী জনসংযোগ ও ভোটার সমাবেশে অংশ নেন। হাসানপুর সরকারি প্রাইমারি স্কুল মাঠে এই সমাবেশে জনপ্রতিনিধি, নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন জামায়াতের খুলনা জেলা সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মিয়া গোলাম কুদ্দুস, বিভিন্ন স্থানীয় নেতা, ছাত্র-শিবিরের কেন্দ্রীয় ও উপজেলা নেতৃবৃন্দ। এটি বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চায় অর্থাৎ, এক সুসংগঠিত ও ন্যায্য নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে জামায়াতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

  • তুহিনের অভিযোগ: স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি আবারো সক্রিয় হয়ে উঠেছে

    তুহিনের অভিযোগ: স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি আবারো সক্রিয় হয়ে উঠেছে

    খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও খুলনা-২ আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাশী শফিকুল আলম তুহিন বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি আবারো সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা বিভিন্ন গোপন বৈঠক এবং ষড়যন্ত্রমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রस्त করার চেষ্টা চালাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই শক্তিগুলো সবসময়ই গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও নির্বাচন পরিচালনাকে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রভাবিত করার পাঁয়তারা করে আসছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় নগরীর মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে ২৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, স্বাধীনতা বিরোধীরা আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের ভেতরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করার পরিকল্পনা করছে। তুহিন আরও বলেন, স্বাধীনতা বিরোধীরা কখনোই গণতন্ত্র বা মানুষের অধিকারকে সমর্থন করেনি। তাদের সর্বস্তরের ষড়যন্ত্র জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করবে। এই সভায় সভাপতিত্ব করেন ২৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শফিকুল ইসলাম জোয়াদ্দার জলি। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সদর থানা বিএনপির সভাপতি কে এম হুমায়ুন কবির, মোঃ মোস্তফা আলম, শেখ হাফিজুর রহমান, রিপন তরফদার, শাহ আসিফ হোসেন রিংকু, নাজমুস সাকিব, মাহবুবর রহমান লিটু, সৈয়দ আজাদ হোসেন, মোঃ আলী মিঠু, কে.এম বেলাল হোসেন, শেখ বেলাল, নাজমুন নাহার শিখা, জামিলা খাতুন, মোঃ ইব্রাহীম, শিল্পী আক্তার, মোঃ কামরুল ইসলাম, মোঃ নাজমুল হোসেন, নওফেল বিন মাহবুব, সাইফুল ইসলাম হাইসাম, মেহেদি হাসনাত আবির, সৌমেন সাহা ও আরও অনেকে।

  • রূপসায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে যুবক নিহত

    রূপসায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে যুবক নিহত

    খুলনার রূপসা উপজেলায় ঘটে গেলো এক হৃদয় বিদারক ঘটনা, যেখানে নৃশংশ গুলির মুক্তি ভয়াবহ আত্মঘাতী সন্ত্রাসীদের হাতে এক যুবক প্রাণ হারিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে এ ঘঠনা ঘটে। নিহত ইমরান হোসেন মানিক, বয়স ৩৪ বছর, রূপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামের মোঃ বেলায়েত হোসেনের পুত্র।

    রূপসা থানার ডিউটি অফিসার জনি আহমেদ জানান, এ রাতে ইমরান একটি ভ্যানযোগে ইলাপুরের দিকে যাচ্ছিলেন। ঠিক তখনি দুর্বৃত্তরা তার গতিরোধ করে, এবং পরপর দুটি গুলি ছোড়ে। এক গুলির আঘাতে তার মাথা বিঁধে যায়, যা ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যুর কারণ হয়।

    গুলির শব্দ শুনে স্থানীয় মানুষরা দ্রুত এগিয়ে এসে আহত অবস্থায় ইমরানের মরদেহ দেখতে পান এবং সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দু’টি খালি গুলির খোসা উদ্ধার করে। পরে তার মরদেহ সুরতহাল করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এই হত্যাকাণ্ডটি এলাকার শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে।

  • রূপসার পল্লীতে সরকারি রাস্তা দখল, ইট তৈরির জন্য অপব্যবহার

    রূপসার পল্লীতে সরকারি রাস্তা দখল, ইট তৈরির জন্য অপব্যবহার

    খুলনার আঠারোবেঁকী নদীর কোলঘেঁষে রূপসার নেহালপুর মিস্ত্রিপাড়ার একটি সরকারি রাস্তাকে জোরপূর্বক দখল করে ইট তৈরির পট (মাটি দিয়ে তৈরি ইটের খোপ) বানিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, মেসার্স এমএনএস ব্রিক্সস নামের একটি প্রতিষ্ঠান রাস্তার অংশ কেটে সেটিকে কাজে লাগাচ্ছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং তারা রাস্তাটি দ্রুত পুনরুদ্ধার করার দাবি জানিয়েছেন।

    নেহালপুর গ্রামের বাসিন্দা রাজিব বিশ্বাস বলেন, সব সময়ের জন্য জনস্বার্থে রাস্তাটি দখলমুক্ত করা জরুরি। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবিলম্বে রাস্তা উদ্ধার না হলে কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। অন্য এক বাসিন্দা মোঃ সুজন একথা বলেন, এ রাস্তাটির দখলমুক্ত না হলে পর্যায়ক্রমে মানববন্ধন করে প্রতিবাদ জানানো হবে।

    হাবিবুর রহমান বলেন, এই রাস্তাটি দ্রুত দখলমুক্ত না হলে এলাকার বিশিষ্টজনদের সমন্বয়ে কঠোর আন্দোলনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সনাতন ধর্মাবলম্বী বিভিন্ন ব্যক্তি মৃত্যুকালে তাদের সৎকারের জন্য এই রাস্তা দিয়ে শ্মশানে আসতেন, কিন্তু ইট তৈরির জন্য দখল করে নেয়া হলে এই সেবা ব্যাহত হচ্ছে এবং রাস্তাটির অবস্থা দিন দিন ক্ষয়িষ্ণু হয়ে পড়ছে।

    প্রাথমিকভাবে, স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্রীড়া সংগঠক সাধন দে জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই রাস্তাটি ছিল জনসাধরণের মালিকানাধীন। কিন্তু দখলের কারণে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। রাস্তাটি ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে এবং এর অবস্থা বেশ উদ্বেগজনক।

    এদিকে, এমএনএস ব্রিক্সসের ম্যানেজার মিজানুর রহমান দাবি করেন, তাদের মালিক মিঠু সাহেব পাঁচ বছরের জন্য এই ইটভাটার জন্য সরকারি রাস্তা ভাড়ায় নিয়েছেন। তিনি বলেন, সরকার ইচ্ছা করলে রাস্তাটি পুনরায় উদ্ধার করতে পারে, এতে কোনো সমস্যা নেই।

    অপরদিকে, নৈহাটী গ্রামের সার্ভেয়ার মোঃ খবিরুদ্দিন জানায়, এই রাস্তা জেলা পরিষদের অধীনস্থ সরকারি রাস্তা। এই রাস্তায় দিয়েই বিভিন্ন গ্রামবাসী নেহালাপুর খেয়াঘাট ও বাজারে আসা-যাওয়া করতেন। তবে, বর্তমানে এর সীমানা নির্ধারণের জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সীমানা চিহ্নিত করে লাল পতাকা টানিয়ে দিয়েও আর কোন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়নি।

    খুলনা জেলা যুবদলের সদস্য ও স্থানীয় বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুক্তাদির বিল্লাহ বলেন, জনসাধারণের চলাচলের গুরুত্বপূর্ন এই রাসটিকে দখল করে রেখেই দীর্ঘদিন ধরে ইট তৈরির কাজ অব্যাহত রয়েছে। তিনি দ্রুত রাস্তাটি পুনরুদ্ধার করার দাবি জানান।

    স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সাবেক সিবিআই ব্রিকসের মালিক আঃ সাত্তার বছরখানেক ধরে এ রাস্তাটিকে দখল করে রেখেছেন। তিনি সরকারি রাস্তার ব্যবহার নিষেধ করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। ঔর সঙ্গে স্তর অনুসারে, সেদিন তাঁরা দখল উচ্ছেদের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে নানা পদক্ষেপ নিলেও ফল পাইনি। গত দুই বছর ধরে, বর্তমান মালিক মোঃ মিঠু তাঁর ইটভাটাকে পাঁচ বছরের জন্য লিজ নিয়ে এই রাস্তাকে দখল করে রেখেছেন। সংলাপে শক্তিশালী হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়ে স্থানীয় প্রশাসনও কিছু পদক্ষেপ নিলেও, তা কার্যকর হয়নি।

    উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সানজিদা আক্তার রিক্তা বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও বিশ্লেষণ করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারা বলίζουν, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই রাস্তা মেরামত ও পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

  • তিন বছরে দারিদ্র্য হার বেড়ে প্রায় ২৮%; খাবার খরচ ৫৫% হয়ে গেছে

    তিন বছরে দারিদ্র্য হার বেড়ে প্রায় ২৮%; খাবার খরচ ৫৫% হয়ে গেছে

    তিন বছরের ব্যবধানে দারিদ্র্য হার কমেনি, বরং আরও বেড়েছে। দেশ এখন দারিদ্র্যের হার Proximately ২৭.৯৩% বা প্রায় ২৮%, যা সরকারের হিসাবেও ২০২২ সালে ছিল ১৮.৭%। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিশিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি)-র এক গবেষণায় এই চিত্র উঠে এসেছে। গবেষণার নাম ‘ইকনোমিক ডায়নামিকস অ্যান্ড মুড অ্যাট হাউজহোল্ড লেভেল ইন মিড ২০২৫।’ এই ফলাফল গত সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এলজিইডি মিলনায়তনে প্রকাশিত হয়। পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিলুর রহমান গবেষণার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

    গবেষণায় দেখা গেছে, অতি দারিদ্র্যও বেড়েছে। সরকারের হিসাব অনুযায়ী ২০২২ সালে অতি দারিদ্র্যের হার ছিল ৫.৬%, তবে ২০২৫ সালে এটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯.৩৫%। এর মানে হলো, গত তিন বছরে দারিদ্র্য দেশের অর্থনীতিতে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে, এখনও প্রায় ১৮% পরিবার যে কোনো সময় গরিব হয়ে যেতে পারে। এই গবেষণা মে মাসে ৮,০৬৭টি পরিবারের অর্থাৎ ৩৩,২০৭ জন ব্যক্তির মতামতের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়েছে।

    বর্তমান তিন সংকটের প্রভাবও এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। পিপিআরসি বলেছে, দেশে এখন তিনটি বড় ধরনের সংকট চলছে—কোভিড মহামারি (২০২০-২০২২), মূল্যস্ফীতি ও রাজনৈতিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা। এছাড়া, ঘুষ কার্যক্রমও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। গেল বছরের আগস্টের আগে যেখানে ৮.৫৪% মানুষ সেবা নিতে ঘুষ দিত, সেখানে এই হার আগস্টে নেমে এসেছে ৩.৬৯%-এ। তবে সবচেয়ে বেশি ঘুষ যায় সরকারি অফিস, পুলিশ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কাছে।

    শহরের পরিবারে আয় কমেছে, কিন্তু খরচ বেড়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, শহরের একটি পরিবারের গড় মাসিক আয় ছিল ৪০,৫৭৮ টাকা, যেখানে খরচ হয় ৪৪,৯৬১ টাকা। ২০২২ সালে এই পরিবারের আয় ছিল ৪৫,৫৭৮ টাকা। অন্যদিকে, গ্রামের পরিবারে আয় কিছুটা বেড়েছে, গড় আয় ২৯,০২০৫ টাকা, খরচ ২৭,১৬২ টাকা, যা ২০২২ সালে ছিল ২৬,১৬৩ টাকা। সার্বিকভাবে দেশের সাধারণ পরিবার গড় আয় ৩২,৬৮৫ টাকা হলেও খরচ হয় ৩২,৬১৫ টাকা, যার ফলে সঞ্চয় প্রায় নেই বললেই চলে।

    খাবার খরচ এখন গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ, যা গড়ে ৫৫%। একটি পরিবারের মাসিক মোট খরচের অর্ধেকের বেশি খরচ হয় খাবারে, যা গড়ে ১০,৬১৪ টাকা। এছাড়া, প্রতি মাসে শিক্ষায় ১,৮২২ টাকা, চিকিৎসায় ১,৫৫৬ টাকা, যাতায়াতে ১,৪৭৮ টাকা এবং আবাসনে ১,৮৯ টাকা খরচ হয়।

    হোসেন জিলুর রহমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষুদ্র অর্থনীতির তুলনায় বড় অর্থনীতি নিয়ে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনীতি পরিকল্পনায় জনমুখী দৃষ্টি খুবই জরুরী। শুধু জিডিপির উন্নয়নই নয়, সমতা, ন্যায়বিচার, বৈষম্যহীনতা ও নাগরিকের কল্যাণ নিশ্চিত করতে আমাদের আরও বেশি আলোচনা ও উদ্যোগ নেওয়া দরকার।

    তাছাড়া, বর্তমান নানা সংকটের মধ্যে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এগুলির মধ্যে প্রথমটি হলো দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝামেলা, যার জন্য নতুন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, নারী প্রধান পরিবারগুলো সমাজের সর্বনিম্ন স্তরে থাকায় তাদের জন্য বিশেষ সহায়তা দরকার। তৃতীয়ত, ঋণের বাড়বাড়ন্ত বড় সমস্যা। চতুর্থত, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা ক্রমবর্ধমান, যা এখনো ব্যাপক নয়, তবে ধীরে ধীরে বাড়ছে। পঞ্চমত, স্যানিটেশন সংকট রয়েছে, যেখানে বর্তমানে প্রায় ৩৬% মানুষ নন-স্যানিটারি টয়লেট ব্যবহার করছে। এর ফলে নিরাপদ স্যানিটেশনের ব্যবস্থা করে এগিয়ে যাওয়া জরুরি।

    তিনি আরও বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্যও এখন কঠিন বাস্তবতা রয়েছে। বেকারত্বের পরিস্থিতি মারাত্মক হয়ে উঠছে, এজন্য তৎপরভাবে পরিকল্পনা ও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। এবারই সময় উদ্যোগ নেওয়ার, কারণ দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য এই বিষয়ে গভীর আলোচনা এবং পদক্ষেপ জরুরি।

  • এনবিআর চেয়ারম্যানের মন্তব্য: ন্যূনতম কর একটি কালো আইন

    এনবিআর চেয়ারম্যানের মন্তব্য: ন্যূনতম কর একটি কালো আইন

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোঃ আবদুর রহমান খান বলেছেন, ন্যূনতম কর আইন একটি কালো আইন। তিনি উল্লেখ করেন, এই আইনটি ব্যবসায় ও করসংক্রান্ত জটিলতা বাড়িয়ে তোলে। মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে একটি সংলাপে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

    চেয়ারম্যান আরও জানান, অনেকের মধ্যে ন্যূনতম করের প্রবণতা রয়েছে এবং এই আইন স্বভাবতই কালো; এটি আমাদের স্বীকার করতে হবে। তিনি বলেন, ব্যবসায় করের ভিত্তি হয় মুনাফার ওপর। কিন্তু ন্যূনতম কর নির্ধারণের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে এই বিষয়টি ঠিক রাখা যায় না। যেখানে কর আহরণের পরিমাণ কমে যেতে পারে, সেখানে বাস্তবায়ন বেশ জটিল হয়ে পড়ে। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, চলতি বছর আমাদের প্রচেষ্টা হবে ব্যবসায়ীদের জন্য সহজ ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করা, কারণ যদি ব্যবসায়ীদের জন্য কার্যকর সুবিধা না দেওয়া যায়, তবে রাজস্ব সংগ্রহও দুরূহ হয়ে দাঁড়াবে।

    সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির সিনিয়র গবেষক মোঃ তামিম আহমেদ।

    চেয়ারম্যান বলেন, করছাড়ের কারণে কর-উৎসকো অনুপাত বাড়ছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, সরকারের অনেক কর ছাড় দেওয়ার ফলে কর সংগ্রহের হার এখনও পুরোপুরি বৃদ্ধি করতে পারছেন না। তিনি বলেন, দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য অটো ট্যাক্স ছাড় ও রেয়াতের ফলে মোট কর-জিডিপি অনুপাত নিরন্তর কমে যাচ্ছে, যা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য ক্ষতিকর।

    তিনি আরও জানান, দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো নিরবচ্ছিন্ন রাজস্ব আদায়। বর্তমানে দেশের কর-জিডিপি অনুপাত কমে গিয়ে ৬ দশমিক ৬ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে, যা পাকিস্তানের থেকেও কম। এর ফলে রাষ্ট্রের উন্নয়ন কার্যক্রম ও ঋণের বোঝা বাড়ছে। ইচ্ছামতো ঋণ গ্রহণ ও ঋণের সুদ পরিশোধের সমস্যা দেখা দেয়ার পাশাপাশি, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপর ঋণের বোঝা তুলতে হচ্ছে।

    এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় একটি নতুন উদ্যোগ নিয়েছি—অটোমেটেড এনবিআর। এর মাধ্যমে সব কর ও ভ্যাট রিটার্ন ডিজিটাল পদ্ধতিতে চালনা করা সম্ভব হবে। এছাড়াও, অডিটের কোয়ালিটি আরও উন্নত করতে অডিটের ম্যানুয়াল পদ্ধতি বন্ধ করে দিয়েছি। এখন থেকে ঝুঁকি ভিত্তিতে অডিট হবে এবং যতদিন পর্যন্ত পুরো সিস্টেম ডিজিটাল না হবে, ততদিন হাতে-কলমে অডিট বন্ধ থাকবে।

    তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, করজাল বা করের সংখ্যা বৃদ্ধি করার মাধ্যমে কর হার ও ভ্যাট হার কমানো সম্ভব। রিফান্ডগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে করদাতাদের অ্যাকাউন্টে চলে যেতে পারে, যা কর সম্পাদনাকে সহজ করবে।

    সংলাপে উপস্থিত এক গবেষণা বলছে, ৮২ শতাংশ ব্যবসায়ী মনে করেন বর্তমান কর হার অন্যায্য এবং ব্যবসার জন্য বড় প্রতিবন্ধক। একই সঙ্গে, বেশিরভাগ ব্যবসায়ী কর কর্মকর্তাদের জবাবদিহির অভাব ও দুর্নীতির বিষয়টিকে বড় সমস্যা হিসেবে তুলে ধরেছেন। ঢাকাসহ আশপাশের অঞ্চলে পরিচালিত ওই সমীক্ষায় দেখা গেছে, ব্যবসায়ীদের বেশিরভাগই নিয়মিত কর দাবির কারণে কর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। কিছু ব্যবসায়ী জানান, স্পষ্ট ব্যাখ্যা বা পূর্বনির্ধারণ ছাড়া কর কর্মকর্তা ইচ্ছেমতো কর আরোপ করেন।

    ভ্যাট সংক্রান্ত পরিস্থিতিও অনেক ব্যবসায়ীর জন্য আবেদন ও পরিচিতি সহায়ক নয়। অংশগ্রহণকারী ৭৩.৫ শতাংশ ব্যবসায়ী জটিল ভ্যাট আইন ও অনির্দিষ্ট নীতিমালা, সহায়তা ও প্রশিক্ষণের অভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, পণ্য ও সেবার শ্রেণিবিন্যাস ও উচ্চ অনুবর্তন ব্যয় তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

    ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের এন্টারপ্রাইজ সার্ভের নির্দেশনা অনুসারে পরিচালিত এই সমীক্ষায় ঢাকাসহ আশপাশের জেলাগুলোর মোট ৩৮৯টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে।

  • ডাক বিভাগের অধীনে থাকবে না ‘নগদ’, এক সপ্তাহের মধ্যে বিজ্ঞাপন আসছে

    ডাক বিভাগের অধীনে থাকবে না ‘নগদ’, এক সপ্তাহের মধ্যে বিজ্ঞাপন আসছে

    বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন যে মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) খাতে প্রতিযোগিতা বাড়াতে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নগদকে বেসরকারিকরণের। তিনি বলেন, আমরা এই খাতে কার্যক্রম ও প্রতিযোগিতা আরও সুদৃঢ় করতে চাই। এজন্য সর্বোচ্চ পর্যায়ে আমরা নগদকে বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং বিনিয়োগকারীদের কাছে এটি নিয়ে যাব। ধারণা করা হচ্ছে, এক সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে বিজ্ঞাপন দেওয়া হবে।

    গভর্নর আরও জানান, বর্তমানে ডাক বিভাগের অধীনে পরিচালিত নগদকে সেখানে থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে, কারণ ডাক বিভাগের পক্ষে এটি চালানো এখন সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘নগদের প্রধান শেয়ারহোল্ডার হিসেবে একটি প্রযুক্তি কোম্পানিকে আনা জরুরি।’ এর মাধ্যমে তিনি আশা প্রকাশ করেন, নগদকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে পারলে এটি এমএফএস খাতে প্রতিযোগীদের সঙ্গে সমান তালে দাঁড়াতে সক্ষম হবে।

    সুত্র: শীর্ষনিউজ।

  • সরকারের কাছে ৬ মাসে ১.২৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব

    সরকারের কাছে ৬ মাসে ১.২৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব

    বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও অন্যান্য সরকারি সংস্থাগুলোর মাধ্যমে গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত মোট ১.২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে। আজ (০৮ আগস্ট) রাজধানীর প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বিনিয়োগ সমন্বয় কমিটির সভায় এই তথ্য জানানো হয়।

    প্রধান উপদেষ্টা ও আন্তর্জাতিক বিষয় সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।

    ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে আসা বিনিয়োগ প্রস্তাবের মধ্যে একা বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ ৪৬৫ মিলিয়ন ডলার বলে জানানো হয়। এছাড়া, স্থানীয় বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলার, এবং যৌথ বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে মোট ৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ এসেছে চীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে, যা প্রায় ৩৩০ মিলিয়ন ডলার। সিঙ্গাপুর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান থেকেও উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে।

    বিডার প্রতিনিধির ভাষ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত এই প্রস্তাবগুলোর মধ্যে ২৩১ মিলিয়ন ডলারের প্রকল্প চূড়ান্তভাবেই অনুমোদন পেয়েছে। অর্থাৎ, প্রথম দফার প্রস্তাব থেকে চূড়ান্ত পর্যায়ে রূপান্তর হয়েছে প্রায় ১৮ শতাংশ। বিশ্বজুড়ে এই রূপান্তর হার গড়ে ১৫ থেকে ২০ শতাংশের কাছাকাছি বলে সভায় জানানো হয়।

    এছাড়াও, চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনারের জট সমস্যা কমানোর উপর আলোচনা হয়েছে। সেখানে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার কন্টেইনার দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকছে। বর্তমান সরকারের সময়ে কন্টেইনারের জট কমানোর জন্য ইতিমধ্যে গত দুই মাসে ১ হাজার কন্টেইনার নিলামে বিক্রি করা হয়েছে। আরেকটী লক্ষ্যে, আগামী মাসে আরও ৫০০ কন্টেইনার নিলামে তোলার কাজ চলমান রয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, এই নিলামের পণ্য হস্তান্তরের কাজও সচল।

    বিনিয়োগ প্রক্রিয়া আরও গতিশীল করতে এবং আরও বেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশ বিজনেস পোর্টাল (বিবিপি) চালুর অগ্রগতি আলোচনা হয়। জানানো হয়, এই অনলাইন প্ল্যাটফর্মের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে এসেছে এবং আগামী সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সফট লঞ্চিং হবে। এর পুরোপুরি কার্যকারিতা setembro মাসের শেষের দিকে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

    বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মকর্তাগণ, চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

  • বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবার ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো

    বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবার ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো

    দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ফের ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বুধবার দিনের শেষে, বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১.৩৩ বিলিয়ন ডলারে। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি (বিপিএম৬) অনুযায়ী রিজার্ভ হয়েছে ২৬.৩১ বিলিয়ন ডলার।

    গত রোববারের তুলনায় এই গতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তখন গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩০.৮৬ বিলিয়ন ডলার এবং আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী ২৫.৮৭ বিলিয়ন ডলার। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংক।

    উল্লেখযোগ্য হলো, গত জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে, বাংলাদেশ এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নে (আকু) মোট ২.২ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করার পর, গ্রস রিজার্ভ কমে দাঁড়িয়েছিল ২৯.৫৩ বিলিয়ন ডলারে। বিপিএম৬ অনুযায়ী, সেই সময় রিজার্ভ ছিল ২৪.৫৬ বিলিয়ন ডলার।

    অপর দিকে, রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি, রপ্তানি আয়ের বৃদ্ধি এবং বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার ঋণ দেওয়ার কারণে, গত জুন মাসের শেষে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার গ্রস রিজার্ভ বেড়ে হয় ৩১.৭২ বিলিয়ন ডলার, যা গত ২৮ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে, মার্চ ২০২৩ এর শুরুতে রিজার্ভ ছিল ৩২ বিলিয়ন ডলার থেকে কম। জুন শেষে বিপিএম৬ অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল ২৬.৬৯ বিলিয়ন ডলার, আর আইএমএফের শর্ত অনুযায়ী, জুনের প্রথম সপ্তাহে তা ছিল ২৪.৭৫ বিলিয়ন ডলার।

    উল্লেখ্য, দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রিজার্ভের রেকর্ড ২০২১ সালের আগস্টে ছিল ৪৮ বিলিয়ন ডলার। তারপর ধাপে ধাপে কমে, গত জুলাইয়ে এটি দাঁড়িয়েছিল প্রায় ২০.৪৮ বিলিয়ন ডলার। সরকার পতনের পরে, অর্থ পাচার রোধ ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রণের কারণে ডলারের পরিস্থিতি উন্নতি হয়েছে।

    বিশেষ করে, হুন্ডি প্রবাহ কমে যাওয়ার ফলে, প্রবাসী আয়ের কারণে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসী আয় প্রায় ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দেশের মুদ্রা তহবিলে এসে পৌঁছেছে ৩০.৩৩ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত।