Month: September 2025

  • নিকটতম কর আইনকে কালো আইন বললেন এনবিআর চেয়ারম্যান

    নিকটতম কর আইনকে কালো আইন বললেন এনবিআর চেয়ারম্যান

    জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোঃ আবদুর রহমান খান আগামীকালিন কর আইনকে একে ‘কালো আইন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে অনুষ্ঠিত একটি সংলাপে ‘করপোরেট কর এবং ভ্যাটে সংস্কার: এনবিআরের জন্য একটি বিচারমূলক দৃষ্টিভঙ্গি’ শিরোনামে এই বক্তৃতা দেন তিনি। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ন্যূনতম কর আইন অবশ্যই একটি অপ্রয়োজনীয় ও অবাঞ্ছিত আইন, যা দেশের ব্যবসা ক্ষেত্রের জন্য ক্ষতিকর। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কর should be based on মুনাফার উপর, তবে বর্তমানে সর্বনিম্ন কর নির্ধারণের প্রক্রিয়া এর বিপরীত। এর ফলে সমস্যা দেখা দেয়, যখন এই নীতিগুলো বাস্তবায়ন করতে গিয়ে কর আহরণ কমে যায়। এ বছরের প্রথমদিকে আমরা ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়েছি। কারণ, যদি ব্যবসায়ীদের জন্য কর সহজ ও সুবিধাজনক করে ধরা না হয়, তবে দেশ থেকে রাজস্ব সংগ্রহ কঠিন হয়ে যাবে।
    উল্লেখ্য, কেন্দ্র ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের পরিচালনায় এই অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির সিনিয়র গবেষক মোঃ তামিম আহমেদ।
    এনবিআর চেয়ারম্যান আরও জানান, করের ছাড়ের প্রবণতার কারণেই কর-জিডিপি অনুপাত কমে যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন খাতে সরকারের দেয়া করছাড়ের ফলে কর আদায়ের পরিমাণ ব্যাপক হারে কমে গেছে। তিনি বলেন, আমাদের অনেক করছাড়ের নীতি চালু রয়েছে, যা দেশের অর্থনৈতিক ও কর্মসংস্থান পরিস্থিতির জন্য জরুরি হলেও এর ফলে করের মোট পরিমাণ কমে যাচ্ছে। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে একাধিক ট্যাক্স হিল্ড ও এক্সেম্পশন চালু থাকায় কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি পাচ্ছে না। এতে দেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অনিশ্চয়তার মুখোমুখি।
    এনবিআর চেয়ারম্যান অতিরিক্ত বলেন, যদি করভুক্তির আওতা বৃদ্ধি করা যায়, তবে করের হার কমানো সম্ভব হবে। তিনি আরও জানান, স্বয়ংক্রিয়ভাবে কর ও ভ্যাট রিটার্নের ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা চলছে, যাতে বোতাম চাপলেই সব কিছু স্বয়ংক্রিয় হয়। এতে অডিট ও করের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারবে। বর্তমানে ম্যানুয়াল অডিট পদ্ধতি প্রকৃত সমস্যা সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, অডিট ঝুঁকি নির্ধারিত ভিত্তিতে হবে, আর যতদিন ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করা যাবে না, ততদিন অডিট ব্যবস্থা বন্ধ থাকবে।
    অবশেষে, তিনি বলেন, করের আওতা বাড়ানো গেলে করহার ও ভ্যাট হার কমানো সম্ভব হবে। একইসঙ্গে রিফান্ড অটোমেটেডভাবে করদাতার অ্যাকাউন্টে চলে যেতে পারে।
    অধ্যয়নে তুলে ধরা হয়, একটি সম্প্রতি পরিচালিত সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৮২ শতাংশ ব্যবসায়ী মনে করেন, বর্তমান কর হার ‘অন্যায্য’ এবং এটি তাদের ব্যবসার জন্য বড় বাধা। অধিকাংশ ব্যবসায়ী বলছেন, কর কর্মকর্তাদের জবাবদিহির অভাবে তারা বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। পাশাপাশি, ৭২ শতাংশ ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, কর প্রশাসনে দুর্নীতি তাদের জন্য বড় সমস্যা। ঢাকায় ও চট্টগ্রামে পরিচালিত এ সমীক্ষায় আরও জানা গেছে, ৬৫ শতাংশ ব্যবসায়ী নিয়মিত কর দাবিকে কেন্দ্র করে কর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিরোধে লিপ্ত হন, যা অনেক সময় উসকানি দেয়।
    ভ্যাট সংক্রান্ত জরিপের ফলাফল বলছে, ৭৩.৫ শতাংশ ব্যবসায়ী মনে করেন, জটিল ভ্যাট আইন তাদের জন্য অন্যতম প্ৰতিবন্ধকতা, এছাড়া অস্পষ্ট নীতিমালা, কর কর্মকর্তাদের সীমিত সহযোগিতা, প্রশিক্ষণের অভাব ও পণ্য ও সেবার শ্রেণিবিন্যাসের জটিলতা তাদের ব্যবসার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ গবেষণায় অংশ নেওয়া ৩৮৯টি প্রতিষ্ঠান ঢাকার আশপাশের এলাকার, যা দেশব্যাপী ব্যবসা ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন হিসেবে চিহ্নিত।

  • বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩১ বিলিয়ন ডলারের বেশি

    বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩১ বিলিয়ন ডলারের বেশি

    দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ৩১ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। বুধবার দিনশেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১.৩৩ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এর হিসাব পদ্ধতি বিপিএম৬ অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ হয়েছে ২৬.৩১ বিলিয়ন ডলার।

    এর আগে গত রোববার দেশের রিজার্ভ ছিল ৩০.৮৬ বিলিয়ন গ্রস রিজার্ভ এবং বিপিএম৬ অনুযায়ী ২৫.৮৭ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংক এ সব তথ্য প্রকাশ করেছে।

    গত জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে, বাংলাদেশ এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন (আকু) এর মাধ্যমে ২.০২ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করার পর, দেশের রিজার্ভ কমে যায় এবং গ্রস রিজার্ভ পৌঁছায় ২৯.৫৩ বিলিয়নে। বিপিএম৬ অনুসারে, এই সময়ে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ২৪.৫৬ বিলিয়ন ডলার।

    অপরদিকে, রেমিট্যান্সের প্রাধান্যসূচক প্রবৃদ্ধি, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার ঋণের কারণে, জুন মাসের শেষে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পুনরায় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১.৭২ বিলিয়ন ডলারে, যা দীর্ঘ ২৮ মাসে সর্বোচ্চ স্তর। এর আগে, মার্চের শুরুতে রিজার্ভ ছিল ৩২ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে গিয়েছিল। জুনের শেষে, বিপিএম৬ অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ২৬.৬৯ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৩ সালের জুনে ছিল ২৪.৭৫ বিলিয়ন ডলার।

    উল্লেখ্য, বাংলাদেশের ইতিহাসে ২০২১ সালে আগস্টে রেকর্ড পরিমাণ এই মুদ্রার রিজার্ভ crossing ৪৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। তবে এরপর ধারাবাহিকভাবে কমতে শুরু করে। ২০২৩ সালের জুলাই শেষে, এই রিজার্ভ ২০.৪৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। সরকার পতনের পর থেকে, অর্থ পাচার কঠোর নিয়ন্ত্রণের ফলে ডলার প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে, হুন্ডির ব্যাপক হ্রাসের কারণে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসী আয় প্রায় ২৭ শতাংশ বাড়িয়ে, ৩০.৩৩ বিলিয়ন ডলার হয়েছে।

  • ডাক বিভাগের অধীনে থাকবে না ‘নগদ’, দ্রুত বিজ্ঞাপন আসছে

    ডাক বিভাগের অধীনে থাকবে না ‘নগদ’, দ্রুত বিজ্ঞাপন আসছে

    বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর নিশ্চিত করেছেন যে, মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) খাতে উন্নতি এবং প্রতিযোগিতা বাড়ানোর জন্য সরকার নগদকে বেসরকারীকরণ করছে। তিনি বললেন, আমরা এ খাতে নতুন দিকনির্দেশনা এবং প্রতিযোগিতা তৈরি করতে চাই। এজন্য সর্বোচ্চ পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, নগদকে সরকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে না রেখেই বেসরকারি উদ্যোগে নিয়ে আসা হবে। এর ফলে, এর বিনিয়োগ ও পরিচালনায় আরও স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আসবে। বুধবার ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে আইসিএমএবি ও মাস্টারকার্ডের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ক্যাশলেস বাংলাদেশ সামিটে এই ঘোষণা দেন তিনি। তিনি আরও জানান, আমরা হয়তো এক সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেবো। শুধু তাই নয়, তিনি বলেন, বর্তমানে যে নগদ ডাক বিভাগের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে, তা থেকে তাকে সরিয়ে নেওয়া হবে। কারণ এখন ডাক বিভাগ এ কার্যক্রম চালানোর জন্য যথেষ্ট সক্ষম নয়। গভর্নর আরও উল্লেখ করেন, নগদের মূল শেয়ারহোল্ডার হিসেবে কোনও প্রযুক্তি কোম্পানিকে আনো দরকার, যাতে এটি নতুনভাবে গড়ে উঠে এবং মোবাইল আর্থিক সেবা খাতে শক্তিশালী প্রতিযোগী হিসেবে দাঁড়াতে পারে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, নতুন গঠনের মাধ্যমে নগদ আরও উন্নত হবে ও গ্রাহকদের জন্য সেবা আরও সহজ ও মানসম্পন্ন হবে। সূত্র: শীর্ষনিউজ।

  • বাংলাদেশে ৬ মাসে ১.২৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব পেয়েছে সরকার

    বাংলাদেশে ৬ মাসে ১.২৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব পেয়েছে সরকার

    বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এবং সরকারের বিভিন্ন সংস্থা জানিয়েছে, গত জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত মোট ১.২৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে আয়োজিত বিনিয়োগ সমন্বয় কমিটির পঞ্চম সভায় এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয় সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী। তিনি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।

    সভায় জানানো হয়, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে প্রাপ্ত প্রস্তাবগুলোর মধ্যে বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ ৪৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। পাশাপাশি, স্থানীয় বিনিয়োগ এসেছে ৭০০ মিলিয়ন ডলার এবং যৌথ বিনিয়োগের প্রস্তাব রয়েছে মোট ৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিদেশি বিনিয়োগ হয়েছে, যা প্রায় ৩৩০ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব এসেছে বিভিন্ন চীনা প্রতিষ্ঠান থেকে।

    এছাড়াও, সিঙ্গাপুর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে। বিডার প্রতিনিধির মন্তব্য, প্রস্তাবগুলোর মধ্যে এখন পর্যন্ত ২৩১ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। বর্তমানে প্রস্তাবের চূড়ান্ত পর্যায়ে রূপান্তর হয়েছে প্রায় ১৮ শতাংশ, যেখানে বিশ্বজুড়ে এ রূপান্তরের হার গড়ে ১৫ থেকে ২০ শতাংশের মধ্যে।

    বৈঠকে চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার জট কমানোর বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়। দীর্ঘদিন ধরে বন্দরে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কন্টেইনার পড়ে রয়েছে। সরকারের ভূমিকাায়, গত দুই মাসে প্রায় এক হাজার কন্টেইনারের নিলাম সম্পন্ন হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিলাম কার্যক্রম আরও গতিশীল করার নির্দেশ দেন।

    আগামী মাসে আরও ৫০০ কন্টেইনারের নিলাম অনুষ্ঠিত হবে এবং পণ্য হস্তান্তর কাজও চলমান। এছাড়াও, বাংলাদেশ বিজনেস পোর্টাল (বিবিপি) চালুর অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

    সফট লঞ্চিং September মাসের প্রথম সপ্তাহে হবে এবং সেপ্টেম্বরের শেষে পুরোপুরি এই অনলাইন প্ল্যাটফর্মটি চালু করা হবে বলে জানানো হয়।

    বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

  • দেশে মাথাপিছু আয় ২৫৯৩ ডলার ছাড়িয়েছে

    দেশে মাথাপিছু আয় ২৫৯৩ ডলার ছাড়িয়েছে

    দেশে বর্তমানে মাথাপিছু গড় আয় ২৫৯৩ ডলারতে পৌঁছেছে, যা পূর্ববর্তী সময়ে উল্লেখিত সংখ্যার চেয়ে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। এই তথ্য প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংকের সম্প্রতি আপডেট হওয়া প্রতিবেদন। বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, এশিয়ার ২০টি দরিদ্র দেশ তালিকায় জর্ডান শীর্ষে অবস্থান করছে, যেখানে দেশের মাথাপিছু আয় ৪৬১৮ ডলার। অন্যদিকে, বাংলাদেশ এই তালিকায় ১২তম স্থানে পৌঁছেছে, যার মাথাপিছু আয় ২৫৯৩ ডলার। জানা গেছে, সরকারের গোপন রিপোর্ট ও ভুয়া তথ্যের ভিত্তিতে পূর্বে বাংলাদেশকে প্রায় ৩০০০ ডলার বলেও দেখানো হয়েছিল। আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সংস্থাগুলোর হিসাব বলছে, এই মুহূর্তে ভারতের মাথাপিছু আয় বাংলাদেশের চেয়ে প্রায় ১০০ ডলার বেশি। শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর, যেখানে তাদের মাথাপিছু আয় প্রায় ৫৯০০ ডলার, যা বাংলাদেশের চেয়ে প্রায় দুই হাজার ডলার বেশি। অন্যদিকে, পাকিস্তানের ক্ষেত্রে, তাদের মাথাপিছু আয় প্রায় ১৬০০ ডলার, যা বাংলাদেশের চেয়ে প্রায় এক হাজার ডলার কম। এশিয়ার সবচেয়ে কম আয়কারী দেশ হিসেবে তালিকায় স্থান পেয়েছে আফগানিস্তান, যেখানে গড় মাথাপিছু আয় মাত্র ৪১৩ ডলার। এই তথ্যগুলো দেশটির অর্থনৈতিক উন্নয়নের বর্তমান চিত্র দেখিয়েছে আর ভবিষ্যত পরিকল্পনাগুলোকে প্রভাবিত করবে বলে অনেকে মতামত ব্যক্ত করেছেন।

  • নুরুল হক নুরের সুস্থতা নিয়ে পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন রাশেদ খাঁন

    নুরুল হক নুরের সুস্থতা নিয়ে পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন রাশেদ খাঁন

    আহতের কারণে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর এখনও সম্পূর্ণ সুস্থ নন। দলটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান অভিযোগ করেছেন যে, তাকে সুস্থ দেখানোর একটি পরিকল্পনা চলমান। বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।

    রাশেদ খান বলেন, নুরুল হক নুর এখনো আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন। তার নাক দিয়ে এখনও রক্ত পড়ছে, নাক বাঁকা হয়ে গেছে। মাথায় আঘাতের কারণে তিনি হাঁটতে পারছেন না এবং মুখ হা-ও করতে পারছেন না। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে নুরকে দ্রুত বিদেশে নিয়ে যাওয়ার জন্য। তার শারীরিক অবস্থা আগের মতোই থাকছে বলে জানানো হলেও, তা মোটেও ঠিক নয়।

    সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নুরুল হক নুর বর্তমানে প্লেনে উঠার মতো অবস্থায় নেই। তবে আমরা সিঙ্গাপুরে নিয়ে তার চিকিৎসার জন্য দাবি জানিয়েছি। আশা করছি, তিনি একটু সুস্থ হলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই তাকে বিদেশে নেওয়া সম্ভব হবে।

    তিনি আরো জানান, গতকাল হাসপাতাল থেকে বলা হয়েছিল যে নুরুল হক নুর সম্পূর্ণ সুস্থ, কিন্তু সেটা সত্য নয়। তিনি এখনো সম্পূর্ণ সুস্থ নন এবং তাকে সুস্থ দেখানোর জন্য পরিকল্পনা চালানো হচ্ছে। সম্প্রতি নুরের অবস্থা দেখার জন্য আমি হাসপাতালে গিয়েছিলাম, যেখানে ডাক্তাররা উপস্থিত ছিলেন। তখন দেখা যায়, তার নাক থেকে জমাট বাঁধা রক্ত বের হচ্ছে। অবিলম্বে ডিরেক্টরকে ফোন করে অবস্থা জানানো হয়, তিনি এসে অন্যান্য ডাক্তারদের সাথে আলোচনা করেন এবং নুরের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসার নির্দেশনা দেন। তবুও গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে, নুরুল হক নুর সুস্থ আছেন, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তার এখনো আগের মতোই অবস্থায় থাকায় আমি বিশ্বাস করি না যে তিনি সুস্থ।

    রাশেদ খাঁন বলেন, আমি নুরের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেছি, কিন্তু তিনি কথা বলতে পারছেন না। তার চোখের নিচে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, মুখ দিয়ে কথা বলতে পারছেন না, মুখের মালিশে প্রচন্ড ব্যথা এবং ব্রেনে আঘাতের চিহ্ন থাকার কারণে তার মস্তিষ্ক ঠিকমতো কাজ করছে না। তিনি আরও বলেন, নুরুল হক নুর এখনো সম্পূর্ণ সুস্থ হননি, এই হামলা তার জন্য ছিল হত্যার উদ্দেশ্যে।

    তিনি আরো যোগ করেন, এই হামলার ফলে জাতি একতাবদ্ধ হয়েছে। দেশের জনগণ চায়, আওয়ামী লীগসহ যারা ফ্যাসিবাদী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, তাদের অবশ্যই নিষিদ্ধ করা হোক। ফ্যাসিবাদের দোসর সাবেক সবাইকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। ফৌজদারি ফাইল থাকা সত্ত্বেও এখনও কারো বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, যা দেশের জন্য লজ্জাজনক। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার অনুমতি না থাকলে এই ধরনের ঘটনা ঘটার কথা নয়। গণতন্ত্রের জন্য কাজ করা এই সংগঠনের নেতা নুরুল হক নুর ও তার নেতাকর্মীদের উপর হামলার জন্য স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবশ্যই অবিলম্বে সরানো উচিত।

    রাশেদ খাঁন দাবি করেন, নুরুল হক নুরকে সুস্থ দেখানোর পরিকল্পনা কখনো ফলপ্রসূ হবে না। হামলার সঠিক বিচার হয়, জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করা হয় এবং যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের যথার্থই শাস্তি পেতে হবে।

  • আবু বাকের জিতলেই আমি জিতে যাব, জানালেন মাহিন সরকার

    আবু বাকের জিতলেই আমি জিতে যাব, জানালেন মাহিন সরকার

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ (বাগছাস) সমর্থিত বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ প্যানেলের জিএস প্রার্থী আবু বাকের মজুমদারকে সমর্থন দিয়ে নিজের পক্ষে অবস্থান স্পষ্ট করেছেন মাহিন সরকার। আজ শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনের সামনের এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন এই ব্যতিক্রমী ছাত্র নেতা।

    তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে যোদ্ধাদের শক্তিকে একত্রিত করতেই তাঁর এই সিদ্ধান্ত। মাহিনরা আশাবাদ ব্যক্ত করে জানান, আবু বাকের যদি নির্বাচিত হন, তবে তিনি নিজেও জিতবেন। এ সময় তিনি সকল সমর্থক ও শুভাকাঙ্ক্ষীর কাছে আবেদন করেন যেন তারা আবু বাকের মজুমদারকে পছন্দের প্রার্থী হিসেবে ভোট দেন।

    মাহিন সরকার আরও বলেন, ‘প্যানেল থেকে জিএস পদে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিলেও আমার প্রতিনিয়তই মনে হয়েছে যে, গণ-অভ্যুত্থানের শক্তিগুলোর মধ্যে ঐক্য থাকা জরুরি। আমি বিশ্বাস করি, ডাকসু নির্বাচনে যদি গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়, তারা শিক্ষার্থীদের জন্য অনেক বেশি কাজ করবে।’

    এসময় তিনি সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘যারা আমাকে সমর্থন করেন, কারণ আমার প্রার্থিতা বাতিলের কোনো সুযোগ নেই, তাই আমার নাম লিস্টে থাকবে। কিন্তু আমি আপনাদের অনুরোধ করবো, বাকেরকে নির্বাচিত করুন। আমি ব্যক্তিগতভাবে তাকে সমর্থন জানাচ্ছি।’

    ডাকসু নির্বাচনের জন্য নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর মাহিন সরকার পৃথকভাবে একটি সমন্বিত শিক্ষার্থী সংসদ নামে নতুন প্যানেল দেন, যেখানে তিনি জিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পাশাপাশি তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক যুগ্ম সদস্য সচিব।

    জনপ্রিয়তা ও দলীয় কারণে, অনুমতি না নেওয়ায় ১৮ আগস্ট এনসিপি মাহিনের প্যানেলকে বহিষ্কার করে। এর পরেও মাহিনের প্যানেলের পক্ষ থেকে গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের নেতা সাব্বির উদ্দিন ও বায়েজিদ হাসান নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

  • জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও আগুনের ঘটনা

    জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও আগুনের ঘটনা

    রাজধানীর বিজয় নগর এলাকায় জাতীয় পার্টির (জাপা) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভয়াবহ ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে এই ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয় পরিবেশকে আতঙ্কিত করে তুলেছে। ফায়ার সার্ভিসের নিশ্চিতকরণ অনুযায়ী, ডিউটি অফিসার রোজিনা আক্তার জানিয়েছেন, তারা জানিয়েছেন কার্যালয়ে আগুন লাগার খবর। তবে তারা এখনও ঘটনাস্থলে পৌঁছায়নি, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই ধরনের সহিংসতার ঘটনায় যোগ দিয়েছে এক ধরনের চরমপন্থা, তাই অনুমতি নিয়ে সঠিক সময়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হবে।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সন্ধ্যার কিছু পরে বিক্ষোভকারীরা প্রথমে কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। তারপর তারা সেখানে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঘটনার পর, সাড়ে সাতটার মধ্যে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তারা টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ সময় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলতে থাকে।

    উল্লেখ্য, এর আগে ৩১ আগস্ট একই স্থান থেকে একদল বিক্ষোভকারীর নেতৃত্বে মারমুখো মিছিল এসে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা চালায় এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। দলটির নেতারা অভিযোগ করে বলেন, এই হামলা বিএনপি সমর্থিত গণঅধিকার পরিষদের নেতৃত্বে হয়েছে। দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য রেজাউল করিম ভূঁইয়া বলেন, “গণঅধিকার পরিষদের ব্যানারধারী মিছিলের অংশ হিসেবে কার্যালয়ে আগুন দেওয়া হয়েছে। তারা জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধের জন্য শ্লোগান দিচ্ছিল।” তিনি আরও বলেন, “আমরা মনে করি, জাতীয় পার্টি কেন ভোটে অংশ নিচ্ছে, তা নিয়ে তারা অপপ্রচার চালাচ্ছে। এর মধ্যে ছাত্রলীগ ও অন্যান্য দলও যুক্ত থাকতে পারে। এটা স্পষ্ট যে বর্তমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে জাতীয় পার্টি একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে এবং আগামী নির্বাচনে বিরোধী শক্তি হিসেবে তুমি থাকতে চায়।”

    এদিকে, রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মাসুদ আলম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি বলেন, “আমরা দেখেছি, কিছু দুষ্কৃতকারী আগুন লাগিয়ে পালিয়ে গেছে। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস উপস্থিত ছিল, জলকামান দিয়ে আগুন মোড়ানো হয় এবং পরিস্থিতি এখন স্থিতিশীল।”

  • ৩০ দল থেকে জাতীয় পার্টির নিষেধাজ্ঞার দাবি

    ৩০ দল থেকে জাতীয় পার্টির নিষেধাজ্ঞার দাবি

    জাতীয় পার্টির (জাপা) রাজনীতি নিষিদ্ধের জন্য দাবি জানিয়েছে ৩০টিরও বেশি রাজনৈতিক দলের নেতারা। শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শাহবাগে গণ অধিকার পরিষদ আয়োজিত একটি সংহতি সমাবেশে তারা একত্রিত হয়ে এই দাবি জানান।

    এই সমাবেশের মূল আগ্রহ ছিল জ আপনি নেত্রীর ওপর হামলার ঘটনা, তার সাথে জড়িতদের দ্রুত বিচার, পাশাপাশি জাপা ও ১৪ দলের রাজনীতি নিষিদ্ধ ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা পদত্যাগের আহ্বান জানানো।

    সমাবেশে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন, জেএসডি, বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, এবি পার্টি, খেলাফত মজলিসসহ অন্তত ৩০টির বেশি স্বনামধন্য দল যোগ দিয়েছিল।

    নেতারা বলেছেন, এখন সময় এসেছে অবিলম্বে জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলীয় জোটের অবসান ঘটানোর। তারা উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগ দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংসের পেছনে দায়ী, এবং সরকারের দোসর হয়ে জাপা ও ১৪ দল শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসনকে বাড়াতে সক্রিয়। সম্প্রতি জাপা’র মাথা চাড়া দিয়ে উঠা একচেটিয়া ক্ষমতা লালন ও এর মাধ্যমে দেশের অস্থিতিশীলতা বাড়ানোর জন্য নেতারা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। অবিলম্বে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলকে নিষিদ্ধ করার দাবি করেন তারা।

    বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন নবী খান সোহেল বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার পালিয়ে গেছে বলে স্বীকার করেন। এখন প্রশ্ন উঠেছে, নুরুল হক নুরের ওপর হামলা কারা করছে? ড. ইউনূসের কাছে বারবার বলা হয়েছে, সরকারের বিভিন্ন স্তরে হাসিনার অনুগত উপদেষ্টারা রয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

    জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, নুরের উপর হামলা কোনো একটি দলের উপর নয়, বরং সেটি দেশের ওপর চালানো একটি হামলা এবং দেশের গণতন্ত্রের প্রতি আঘাত। এটি ছিলো গত জুলাইয়ে রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের প্রতিক্রিয়া। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদ বিরোধী শক্তি বিদায় নিলেও, যারা এই ফ্যাসিবাদ সৃষ্টি করেছিল, তারা এখনও সক্রিয়। এ জন্য দেশের মানুষ একটি স্বচ্ছ, মুক্ত গণতন্ত্রী বাংলাদেশ দেখতে চায়।

    গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বলেন, নুরের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত সেনা ও পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছেন। তিনি চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন, এখনও কাউকেও গ্রেফতার করা হয়নি। সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ জরুরি, নতুবা সরকার ঘেরাও করা হবে। নেতারা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তারা জাপাকে দেশে আবার রাজনীতি করতে দেবে না; আওয়ামী লীগ ও জাপার অপতৎপরতা বন্ধ করতে হবে।

    নাগরিক সংগঠক মোহাম্মদ আতাউল্লাহ বলেন, বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য কিছু অপচেষ্টা হচ্ছে। তবে তারা নতুন করে নির্বাচন চায় এবং সংস্কার করলে নভেম্বরে নির্বাচন হলে তারা অংশগ্রহণ করবে।

    ইসলামী আন্দোলনের নেতা আশরাফ আলী আকন্দ দাবি করেন, তিনি জাপাকে নিষিদ্ধ করতে সমর্থ। তারা চায় যেন ভবিষ্যতে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ আর জন্ম না নেয়।

    হেফাজতের নেতা মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন বলেন, নুরকে আঘাত করা হয়নি, সেই আন্দোলনের নেতারাও ক্ষতিগ্রস্ত। তিনি বলেন, সমস্ত সহযোগি দলকে নিষিদ্ধ করে, আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পক্ষে থাকলেন।

    বেলা ৩টায় সমাবেশের কথা থাকলেও দুপুর থেকেই সমর্থনকারী নেতাকর্মীরা মিছিল শুরু করেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের নেতারা ক্ষত্রে ক্ষত্রে যোগ দিয়ে একে অন্যের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা একত্র হয়ে বক্তব্য দেন এবং তাদের মধ্যে অভ্যুত্থানের দাবির পাশাপাশি দেশকে স্বচ্ছ, গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক হবে বলে প্রত্যাশা প্রকাশ করেন।

  • রিজভীর মন্তব্য: মাজার ভাঙা ও লাশ পুড়িয়ে দেওয়া রাসুলের শিক্ষা নয়

    রিজভীর মন্তব্য: মাজার ভাঙা ও লাশ পুড়িয়ে দেওয়া রাসুলের শিক্ষা নয়

    বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আজ আমাদের সমাজ দ্বিধাবিভক্ত এবং বিভ্রান্ত। কেউ মাজার ভাঙছে, কেউ লাশ পুড়িয়ে দিচ্ছে—এগুলো কখনোই রাসুলুল্লাহ (সা.)’র শিক্ষা নয়। শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী further বলেছিলেন, পৃথিবীর মানুষের জন্য মহামানব হযরত মোহাম্মদ (সা.)’র জীবন আরবের ইতিহাসের এক বৈচিত্র্যপূর্ণ দৃষ্টান্ত। তাকে অনুসরণ করে মানবতা, শান্তি ও ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের এগিয়ে আসা উচিত। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আমরা মোহাম্মদ (সা.)’র আদর্শ থেকে অনেক দূরে। তার থেকে শিক্ষা না নিয়ে বরং বিভিন্ন ফেরকা বিভাজন, ইসলামের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অন্ধকারের মাঝে আমরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছি। সামান্যতম ifলন বা আদর্শ অনুসরণ করলে এই দেশের অঙ্গাঅঙ্গি অসামঞ্জস্য, অন্যায়, বিদ্বেষ, পাপাচার, হানাহানি এবং রক্তপাত অনেকটাই কমে আসত। রিজভী আরও বলেন, আজকের মুসলিম সমাজের সবচেয়ে বড় দুঃখের বিষয়—আমরা মহানবী (সা.)’র আদর্শকে অনুসরণ করি না। তাকে গ্রহণ করি না, তার সাদামাটা জীবন ও ব্যক্তিত্বের মূল্যক্ষণ না করে বরং তার শিক্ষাকে অবহেলা করি। এই কারণে সমাজে দুর্নীতি, অনাচার ও হিংসার আগ্রহ বেড়ে যাচ্ছে। মিলাদ মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, কেন্দ্রীয় নেতা মীর শরাফত আলী শফু। অনুষ্ঠানে দোয়া পরিচালনা করেন ওলামা দলের আহ্বায়ক মাওলানা সেলিম রেজা।