Month: September 2025

  • উদারপন্থার রাজনীতি দূরে সরিয়ে ‘উগ্রবাদ’ আনার ষড়যন্ত্র: মির্জা ফখরুল

    উদারপন্থার রাজনীতি দূরে সরিয়ে ‘উগ্রবাদ’ আনার ষড়যন্ত্র: মির্জা ফখরুল

    দেশে উদারপন্থার রাজনীতি অবমূল্যায়ন করে ‘উগ্রবাদ’ আনয়ন করার ষড়যন্ত্র চলছে—এ stevige উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।শুক্রবার সকালে একটি বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন, যা দেশের বর্তমান পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট করে তোলে। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতাকর্মীরা এবং সাংবাদিকরা। অনুষ্ঠানে ‘রক্তাক্ত জুলাই’ শিরোনামের নতুন বইটির প্রকাশনা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে লেখক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দা ফাতেমা সালাম। এই গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে ইতি প্রকাশন।মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে, দেশে একটি ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা চলছে। সেই ষড়যন্ত্রের মূল উদ্দেশ্য হলো, এইদেশের ঐতিহ্যবাহী মধ্যপন্থা ও উদারপন্থি গণতান্ত্রিক রাজনীতিকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে না নিয়ে, উগ্ৰবাদী রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা। এটি আমাদের জন্য খুবই ক্ষতিকর হবে। এজন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে, উদারপন্থি গণতন্ত্রের পক্ষে কাজ করে এই ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে হবে।’তিনি আরও জানান, ‘নির্বাচন না হলে দেশের জন্য খুব বড় ক্ষতি হবে। আমরা জানি, রাজনীতিতে বিভিন্ন মত থাকতেই পারে, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে নাগরিকরা বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েছেন। মানুষ নানা প্রশ্নের মধ্যে রয়েছে—যেমন, কি সংসদ নির্বাচন হবে? এই অস্থিরতা ও শঙ্কা বাড়ছে। আমি মনে করি, নির্বাচনের তারিখ যেটি ঘোষণা করা হয়েছে, সেটি সময়মত হওয়া উচিত। কারণ, না হলে দেশের অস্থিতিশীলতা বেড়ে যাবে এবং স্বৈরাচারী শাসনের ফিরে আসার সুযোগ তৈরি হবে। বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক মহলেও এই বিষয়ে আলোচনা চলছে, যারা ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরতন্ত্রের পক্ষে কাজ করছে। তাই, দ্রুত নির্বাচনের প্রয়োজন। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় ফিরে যেতে পারব—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

  • তাহেরের মন্তব্য: রোডম্যাপ ঘোষণা সুষ্ঠু নির্বাচন ভণ্ডুলের নীলনকশা

    তাহেরের মন্তব্য: রোডম্যাপ ঘোষণা সুষ্ঠু নির্বাচন ভণ্ডুলের নীলনকশা

    আজ শুক্রবার (২৯ আগস্ট) কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কালির বাজার ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী সমাবেশে বিভিন্ন নেতাকর্মীরা যোগ দেন। সেখানে জামায়াতে ইসলামির নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের তার বক্তব্যে নির্বাচন নিয়ে নির্মম সত্যতা তুলে ধরেন। তিনি বললেন, নির্বাচন সংক্রান্ত রোডম্যাপ ঘোষণা একটি ঐকান্তিক, সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের ভণ্ডুলের জন্য নীলনকশা। তাহেরের মতে, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের জন্য জামায়াতের কোনও আপত্তি নেই। তারা প্রস্তুত, তবে সুষ্ঠ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সমাধান জরুরি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো জুলাই চার্টারকে আইনি ভিত্তি প্রদান ও এর ভিত্তিতেই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। কিন্তু এই প্রক্রিয়া ও আইনি প্রস্তুতি বিনা নথিভুক্তি বা প্রস্তুতির বিনা, নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত রোডম্যাপের মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনা একটি স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন নয় বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন। তাহের আরও বলেন, তারা সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে বাধ্য করবেন জুলাই চার্টার ও পিআর এর মাধ্যমে নির্বাচন কার্যকর করতে। আগে থেকে প্রথাগত পদ্ধতির চেয়ে নতুন পিআর পদ্ধতি বা ট্র্যাডিশনাল পদ্ধতির মধ্যে সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত রোডম্যাপ ঘোষণা একটি বড় ভুল ও অপরাধ। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনকে অবশ্যই এই বিষয়গুলো নিয়ে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। তাহের বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ অপেক্ষা করছে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের। যদি সেই নির্বাচন হয়, তবে দখলদার, দুর্নীতিবাজ, ভারতের আধিপত্যবাদ বিরোধী শক্তিগুলো ভোটের মাধ্যমে বিপুল সমর্থন পাবে। এই নির্বাচনের ফলেই আমরা গড়ে তুলব একটি নতুন, উন্নত বাংলাদেশ।’ এ সময় বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য আব্দুস সাত্তার, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার আমির মোহাম্মদ শাহজাহান অ্যাডভোকেট, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বেলাল হোসাইন, সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রহিম, কালিকাপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আবুল হাশেম প্রমুখ।

  • নির্বাচনী রোডম্যাপ নিয়ে কিছু দলের ধোঁয়াশা দূর করার আহ্বান সালাহউদ্দিনের

    নির্বাচনী রোডম্যাপ নিয়ে কিছু দলের ধোঁয়াশা দূর করার আহ্বান সালাহউদ্দিনের

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, কিছু রাজনৈতিক দল ভোটের প্রস্তুতি ও নির্বাচনী রোডম্যাপের নামে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, যদি কোনও সন্দেহ বা বিভ্রান্তি থাকে, তাহলে আসুন আলোচনার মাধ্যমে তা মুক্ত করি। বিগত দিনগুলোর মতো ফাটল সৃষ্টি বা বিভ্রান্তি ছড়ানোর মানসিকতা এখন আর গ্রহণযোগ্য নয়; বরং ঐক্যবদ্ধভাবে আলোচনা করে সব অজুহাত দূর করতে হবে।

    সালাহউদ্দিন বলেন, আমরা গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করছি এবং এই সংগ্রামের পথ অবশ্যই শান্ত, স্বচ্ছ ও জোরদার হবে। তিনি আরও বলেন, আমাদের স্বপ্ন এমন এক বাংলাদেশ গড়ার, যেখানে গুমের শিকার হয়ে কেউ যেন আর রাস্তায় দাঁড়াতে না হয়। তার বিশ্বাস, জনগণের সচেতনতা ও সক্রিয়তার মাধ্যমে এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব। ২৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন অন্যান্য নেতারা, যারা গুমের শিকার পরিবারের সাথে দীর্ঘদিন ধরে সংযোগ রেখেছেন।

    সালাহউদ্দিন আরও বলেন, এখন পর্যন্ত সরকার উন্নয়ন ও স্বচ্ছতার দাবিতে কাজ করতে না পেরে অন্যায়ের স্বীকার করে আসছে। তিনি বলেন, অপরাধের জন্য তারা অতীতে ক্ষমা চায়নি; বরং একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালিয়েছে—গণঅভ্যুত্থানের নেতাদের প্রতি দোষারোপ। এ প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন, জনগণ কখনো এই ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হবে না।

    তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী রোডম্যাপের বিষয়ে কিছু দল ধোঁয়াশা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। তিনি আহ্বান জানান, এই সংশয় বা বিভ্রান্তি থাকলে আলোচনা করা উচিত, যাতে সবাই একে অন্যের মনোভাব বুঝে নিতে পারে। তাঁর বিশ্বাস, আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে অন্ধকার করেছে এমন বিভ্রান্তি দূর করা সম্ভব।

    সভায় হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে গুমের শিকার ব্যক্তিদের অনেককে ফিরে পেয়েছেন। তিনি আশা করেছিলেন আরও অনেকের ফিরে আসা সম্ভব হবে, তবে সেটি এখনও সম্ভব হয়নি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে বলেছিলো, গুমের শিকারদের ফিরিয়ে আনবে, তাদের তথ্য দেবে, যাতে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু এতদিন তালিকায় কিছুই জানা যায়নি।

    গুম থেকে ফিরে আসা শায়রুল ইসলাম বলেন, ২০১৭ সালের মার্চে তিনি গুমের শিকার হন। সেই সময় আরো চারজনের সঙ্গে পরিচয় হয়, তাদের মধ্যে তিনি ও আরেকজন ফিরে আসেন। বাকিরা এখনও নিখোঁজ। তিনি বলেন, আমাকে ফিরে পেয়ে আমি উপলব্ধি করেছি, আমাকে এবং অন্যদের গুম করেছিল যারা এখনো সরকারি চাকরিতে রয়েছে। আমার বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলার সাজাও হয়েছে, যা আমাকে এখনো নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রাখে। আমি এখনো পালিয়ে বেড়াচ্ছি, কারণ আমার সঙ্গে থাকা তিনজন এখনো ফেরত আসেনি।

    অন্যদিকে, ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবরে বিএনপির আন্দোলনের সময় রাজধানীর মুগদা থানার শ্রমিকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ফজলুর রহমান কাজলকে আটক করে পুলিশ; এরপর তার মৃত্যুর খবর আসে। তার ছেলে সজল বলেন, তাদের বাড়ির চায়ের দোকান থেকে বাবাকে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে পল্টন থানায় চালান করে, আবার কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারেও দেখা যায়। সেখানে গিয়ে তারা দেখেন, বাবার অবস্থা খুবই খারাপ। চিকিৎসা করানোর জন্য হাসপাতালে নিয়ে গেলে তিনি মারা যান। বাবার মৃত্যুর পর সজল বলেন, বাবার ওপর দিন দিন নির্যাতন চালানো হত। তিনি আর্থিক, শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন, কারণ তার বাবার সঙ্গে আর দেখা করতে পারেননি।

  • নুরের সুস্থতা নিয়ে পরিকল্পনা চলছে: রাশেদ খান

    নুরের সুস্থতা নিয়ে পরিকল্পনা চলছে: রাশেদ খান

    গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের উপর হামলার পর থেকে তার চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যের পরিস্থিতি নিয়ে নানা বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান অভিযোগ করেছেন, তাকে সুস্থ দেখানোর একটি পরিকল্পনা চালু রয়েছে। তিনি বলেন, নুরুল হক নুর এখনো সম্পূর্ণ সুস্থ নয় এবং সেই পরিস্থিতি মিথ্যা প্রচার হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রাশেদ খান এই বিষয়ে বিস্তারিত অভিযোগ করেন।

    তিনি জানান, শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় বর্তমানে নুরুল হক নুর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তার নাক দিয়ে রক্ত পড়ে যাচ্ছে, নাকের আকার পরিবর্তিত হয়েছে, মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, হাঁটতেও পারছেন না এবং মুখ হা-ও করতে পারছেন না। সরকার জানিয়েছে, তার উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশ নিতে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তাকে দ্রুত বিদেশে পাঠানো হবে। তবে, নির্মল পরিস্থিতির যেমন পূর্বে ছিল, এখনো তেমনই অবস্থা বলে তিনি ব্যাখ্যা করেন।

    প্রেস ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে রাশেদ খান বলেন, তারা এখনো নুরুল হক নুরের অবস্থার উন্নতি দেখতে পারেননি এবং তিনি প্লেনে উঠার মতো অবস্থায় নেই। তিনি আরও যোগ করেন, সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার জন্য তাদের দাবি দীর্ঘদিনের, এবং পরিস্থিতি অনুকূল হলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তার ট্রিটমেন্ট শুরু হবে।

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, গতকাল হাসপাতাল থেকে জানানো হয়েছে যে নুরুল হক নুর সম্পূর্ণ সুস্থ, যা সত্য নয়। তিনি বলেন, বর্তমানে নুরের অবস্থা আরও বেশি গুরুতর, তার নাক থেকে জমাট বাঁধা রক্ত বের হচ্ছে এবং ডাক্তাররা তাকে দেখে দিচ্ছেন। তিনি বলেন, “আমি এখনই তাকে দেখেছি, ডাক্তার ও হাসপাতালের পরিচালকও উপস্থিত ছিলেন। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী তার চিকিৎসা চলছে।” তবে, গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে- নুর সুস্থ হয়ে উঠেছেন, যা তার প্রকৃত حالতের সঙ্গে মিলছে না।

    রাশেদ খান বলেন, তিনি একাধিকবার নুরের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছেন, কিন্তু তিনি এখনো কথা বলতে পারছেন না। তার চোখের নিচে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, মুখ দিয়ে কথা বলতে পারছেন না, মুখের মাড়িতে প্রচণ্ড ব্যাথা এবং মাথায় আঘাতের জন্য তার ব্রেনের কার্যক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত। তিনি বলেন, “নুর এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেননি, তিনি আগের মতোই আছেন। তাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই আঘাত করা হয়েছিল।”

    রাশেদ খান উল্লেখ করেন, নুরের ওপর হামলার ঘটনা ঘিরে দেশবাসীর মধ্যে ক্রমশ একতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি মনে করেন, সরকারের পক্ষ থেকে একটি শক্তিশালী বার্তা দিতে হবে যে, এই ধরনের হামলা আর সহ্য করা হবে না। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য ফ্যাসিজমের সঙ্গে জড়িত দলের কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, যা লজ্জাজনক। সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলছেন, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার নির্দেশনা ব্যতীত এই ধরনের ঘটনা ঘটার নয়। তিনি আরও বলেন, নুরুল হক নুরের ওপর এবং তার নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

    শেষে রাশেদ খান দাবি করেন, নুরের সুস্থতা নিয়ে চালানো পরিকল্পনা কোন লাভ দেবে না। সত্যিকার বিচার, হামলাকারীদের শাস্তি এবং তাদের বিরুদ্ধ ব্যবস্থা গ্রহণই যথাযথ পথ। তিনি বলেন, এই ঘটনার জন্য যেসব ব্যক্তি এবং সংগঠন জড়িত, তাদের দ্রুত বিচারে আনতে হবে এবং ফ্যাসিবাদ বিরোধী শক্তিগুলোর কার্যক্রম বন্ধ করতে সরকারকে সক্রিয় হতে হবে।

  • সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে দেশ মহাবিপর্যয়ের মুখে: আবদুল্লাহ তাহের

    সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে দেশ মহাবিপর্যয়ের মুখে: আবদুল্লাহ তাহের

    জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেছেন, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন না হলে দেশ একটি বড় বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে যাবে। বৃহস্পতিবার ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    তাহের আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় এসে বলেছিল তারা দেশের সংস্কার করবেন। দেশের মানুষও এই সংস্কারের জন্য প্রত্যাশী। তবে এই প্রক্রিয়ায় কিছু দল নোট অফ ডিসেন্ট করছে, যা বোঝায় তারা সংস্কার চান না। তিনি প্রশ্ন করেন, তাহলে কি এই সংস্কারপ্রক্রিয়ায় অংশ নেয়া হচ্ছে না? বর্তমানে নানা ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে এই প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করার জন্য। তিনি আরো বলেন, আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গ্রহণ করেছি, একইভাবে সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।

    তাহের উল্লেখ করেন, ইতোমধ্যে রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছে, তবে নির্বাচন কেমন পদ্ধতিতে হবে সেটি পরিষ্কার করতে হবে। তিনি পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের পক্ষে মত ব্যক্ত করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা এই ফেয়ার পিআর পদ্ধতির বিরোধিতা করছে, তারা কেন্দ্র দখল এবং ভোট জালিয়াতির পরিকল্পনা করছে। সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে দেশের অবস্থা মহাবিপর্যয়ের দিকে যাবে।

    তিনি আরও বলেন, যারা পিআর পদ্ধতি চান, তাদের আহ্বান জানাই আলোচনা করতে। দেশের জন্য কল্যাণকর যে সিদ্ধান্ত হবে, সেটাই গ্রহণ করা হবে। তবে মতের সংঘর্ষ ভালো কিছু আনে না। তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান, পিআর পদ্ধতিকে সামনে রেখে একটি রোডম্যাপ ঘোষণা করার জন্য।

    আবদুল্লাহ তাহের বলেন, নির্বাচনের মাস নিয়ে আমাদের কোনো আপত্তি ছিল না। কিন্তু সংস্কার প্রক্রিয়া শেষ না করেই নির্বাচন তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি নির্বাচনের জন্য নির্বাচনী তারিখ চাই, কিন্তু তার আগে যে প্রতিবন্ধকতাগুলো রয়েছে, সেগুলোর সমাধান করতে হবে।

  • ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা: তারেক রহমান-বাবরের খালাসের রায় স্থায়ী

    ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা: তারেক রহমান-বাবরের খালাসের রায় স্থায়ী

    বহুল আলোচিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ সকল আসামির খালাসের রায় গত বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের আপিল বিভাগ স্থায়ী করলেন। এই রায়ের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে থাকা সকল অভিযোগ খারিজ হয়।

    একইসঙ্গে, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার তদন্ত নিয়ে হাইকোর্টের পূর্বের পর্যবেক্ষণগুলো বাতিল করা হয়েছে। আদালত উল্লেখ করেছেন, মামলার নতুন করে তদন্ত করতে হলে সেটা সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়।

    প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে থাকা ষোড়শ আদালত বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন, যেখানে আরও পাঁচ বিচারপতি উপস্থিত ছিলেন। একই সঙ্গে, আদালত রাষ্ট্রপক্ষের করা মামলা পুনর্বিবেচনা বা আপিলের বিষয়েও সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন।

    সর্বোচ্চ আদালতে তারেক রহমানের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান ও মোহাম্মদ শিশির মনির। অন্যদিকে, বিএনপির আইনজীবীরা ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, রুহুল কুদ্দুস কাজলসহ আরও অনেকে। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক এবং অন্যান্য সহকারী অধিকারিকরা।

    প্রসঙ্গত, গত বছর ১ ডিসেম্বর নিম্ন আদালত এই দুই সাবেক নেতা সহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন দিয়েছিলেন। তখন তারা সবাই বিভিন্ন অংগে অভিযুক্ত ছিলেন, যার মধ্যে ছিলেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রোটিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপ-মন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুও. ২০১৮ সালের ওই কাজে আদালত নির্দেশনা অনুযায়ী, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা অবৈধ বলেছিল, কারণ মূল চার্জশিটে ত্রুটি ছিল।

    এর পর, রাষ্ট্রপক্ষ এই মামলার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালত বা হাইকোর্টে আপিল করে। গত জুনে, আপিল বিভাগ আপিলের অনুমতি দিয়েছেন।

    নিম্ন আদালতের রায়ে, ২০১৮ সালে ২১ আগস্ট হামলা ও হত্যাকাণ্ডের জন্য মোট ১৯ জনের বিরুদ্ধে ফাঁসি ও যাবজ্জীবন সাজা ঘোষণা হয়েছিল। এই রায়ে বয়সের বিচার ও সাবেক নেতাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

    বিশেষ করে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু, বিভিন্ন সেনা কর্মকর্তা ও জঙ্গি সংগঠনের নেতা। অপর পক্ষে, বিষখ্য জেল বা পলাতক অবস্থায় রয়েছেন তারেক রহমান, হারিছ চৌধুরী, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদসহ বেশ কয়েকজন।

    ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বিকেলে, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এই হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। আহত হন শেখ হাসিনা ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এই হামলার ঘটনাটি বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে অন্যতম একটি কালো অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।

  • জিএম কাদের ও তাঁর স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ

    জিএম কাদের ও তাঁর স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ

    সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জিএম কাদের) ও তাঁর স্ত্রী শেরীফা কাদেরের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। গত সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. ইব্রাহিম মিয়া এ আদেশ দেন।

    আজ বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম এই খবর নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মনোনয়ন বাণিজ্যসহ নানা অভিযোগের কারণে দুদক এসব ব্যক্তির দেশে থেকে যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়ে আবেদন করে। আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করেছেন।

    দুদকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দিতে ১৮ কোটি ১০ লাখ টাকার ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ ওঠে, যার মূল সুবিধাভোগী ছিলেন তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের।

    অভিযোগে বলা হয়, অর্থের চুক্তি অনুযায়ী পরিশোধ না করায় দলীয় পদ থেকে অধ্যাপক মাসুদা এম রশীদ চৌধুরীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়, যার বদলে শেরীফা কাদের সংসদ সদস্য হন।

    আরো বলা হয়, জিএম কাদের জালিয়াতির মাধ্যমে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত হন এবং দলীয় পদ ও মনোনয়ন বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ অর্জন করেন, যা পরে তিনি বিদেশে পাচার করেন। কেন্দ্রীয় কমিটি বর্তমানে ৩০১ সদস্যের বদলে তার হাতে রয়েছে ৬০০-৬৫০ সদস্য, যা পদ বাণিজ্যের প্রমাণ দেয়।

    ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে দাখিল করা হলফনামা অনুসারে, জিএম কাদেরের নামে নগদ ৪৯ লাখ ৮৮ হাজার টাকা, ব্যাংকে ৩৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা, এবং ৮৪ লাখ ৯৮ হাজার টাকার একটি জিপ গাড়ি রয়েছে। তাঁর স্ত্রী শেরীফা কাদেরের নামে রয়েছে নগদ ৫৯ লাখ ৫৯ হাজার টাকা, ব্যাংকে ২৮ লাখ ৯ হাজার টাকা এবং ৮০ লাখ টাকার আরেকটি জিপ গাড়ি। তার স্থাবর সম্পদ হিসেবে রয়েছে লালমনিরহাট ও ঢাকা এলাকায় জমি ও ফ্ল্যাট।

    এদিকে, অনুসন্ধানে জানা গেছে, মনোনয়ন বাণিজ্য ও অন্যান্য অনিয়মের মাধ্যমে জিএম কাদের ও তাঁর স্ত্রীর জ্ঞাত আয়বিরোধী সম্পদ অর্জন হয়েছে, যা দুদকের তদন্তে উঠে এসেছে। এ কারণে তারা সম্ভবত যেকোনো সময় দেশ ত্যাগ করতে পারেন, যা অনুসন্ধান কার্যক্রমের জন্য হুমকি সৃষ্টি করে। ফলে, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আদালত তাদের দেশ ত্যাগের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।

    অবশেষে, ১৯৯৬ সালে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে জিএম কাদের বিভিন্নভাবে সংসদীয় ও রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি অবসর জীবনে ২০১৪ সালে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, পাশাপাশি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন।

  • নির্বাচনে আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা: ইসির চ্যালেঞ্জ ও সংবাদমাধ্যমের সহযোগিতা

    নির্বাচনে আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা: ইসির চ্যালেঞ্জ ও সংবাদমাধ্যমের সহযোগিতা

    আগামী নির্বাচনের জন্য স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনায় গণমাধ্যমের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশনাররা জানিয়েছেন, এক্ষেত্রে আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে যেন নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা বজায় থাকে। তবে এভাবেও ভুলের সম্ভাবনা থাকতে পারে, কিন্তু কোনো জরিমানা বা অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। সকলের সহযোগিতায় আমরা পারস্পরিক আস্থা ফিরিয়ে আনতে চাই, যা এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

    বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে নির্বাচন কমিশন ও সাংবাদিকদের সংগঠন রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি) এর সদস্যদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন কমিশনের সদস্যরা।

    নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার মন্তব্য করেন, আমাদের সবাইকেই এখন আস্থার জায়গায় ফিরে আসার প্রয়োজন। বর্তমান এ আস্থার সংকটটি একটি জাতীয় সংকট, যেখানে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস এবং মর্যাদা রক্ষায় সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়ে কাজ করতে হবে।

    অপরদিকে, নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, স্বচ্ছতা চান সবাই, বিশেষ করে সাংবাদিকরা, আমরা চাই। ভবিষ্যতে এই যেন আরও সুদৃঢ় হয়, তার জন্য গণমাধ্যমের সহযোগিতা অপরিহার্য। কমিশন প্রতিজ্ঞা করেছে, কোনও অন্যায় কে আঁকড়ে ধরবে না ও অবাধ, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে কোন রকম ছাড় দেবে না। ভুল হলে হতে পারে, তবে অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না।

    প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশনার বেগম তাহমিদা আহমেদ স্পষ্ট করেন, গোপন কক্ষে নির্বাচন স্বচ্ছতা আনা সম্ভব নয়। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হলে নির্বাচনের proceedings খোলা মাঠে হতে হবে।

    আরও বক্তব্য দেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহ, যিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে স্বচ্ছতা ও বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা প্রয়োজন। এ ছাড়াও, মোতাবেক, নির্বাচন কমিশন প্রণীত সাংবাদিক পর্যবেক্ষক নীতিমালায় উন্নয়ন ও সংশোধনের প্রস্তাব তুলে ধরেন আরএফইডির সভাপতি কাজী জেবেল। সভায় অন্যদের মধ্যে অংশ নেন নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ ও আরএফইডির সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী।

  • অর্থপাচার নিয়ন্ত্রণে নতুন ব্যবস্থা গড়ে উঠছে: ইফতেখারুজ্জামান

    অর্থপাচার নিয়ন্ত্রণে নতুন ব্যবস্থা গড়ে উঠছে: ইফতেখারুজ্জামান

    ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, অর্থপাচার অর্ধেক কমেনি, তবে এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এখন বেশি কার্যকরী হয়েছে। তিনি বলেন, দেশের ব্যাংকিং সেক্টরে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার হওয়ায় পাসের মাধ্যমে ঋণ নিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ পাচারের সুযোগ অনেকটাই বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে আগের মতো ঢালাওভাবে ঋণ নিয়ে বিদেশে টাকা পাঠানোর পথ কঠোরভাবে বন্ধ হয়েছে।

    আজ (বৃহস্পতিবার) রাজধানীর ধানমন্ডির টিআইবির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ইফতেখারুজ্জামান আরও জানান, ব্যাংকিং সেক্টরের অধিকাংশ অপরাধী এখন বিভিন্নভাবে দেশের বাইরে কিংবা বিচারাধীন অবস্থায় আছেন। ফলে, এই ধরনের অপরাধের দিক থেকে ব্যাংকিং সেক্টর এখন অনেকটাই নিরাপদ হয়েছে। এর মধ্যে নতুন কিছু অপরাধী বা অপকর্মের জন্ম হয়নি বলেও তিনি আশ্বাস দেন; তবে পুরোপুরি পরিবর্তন আসেনি, কারণ এখনও কিছু বিষয়ে সংস্কার প্রয়োজন।

    তিনি আরও বলেন, বিদেশে কর্মরত অভিবাসীদের মাধ্যমে বড় অঙ্কের অর্থপাচার হয়। সাধারণত, তারা দেশের বাইরে থেকে আয়ের টাকা সরাসরি ব্যাংকিং চ্যানেলেও পাঠায়। কিন্তু অধিকাংশ সময় তা অপব্যবহার করে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে টাকা পাচার হয়। এখন সেটাও মোটামুটি নিয়ন্ত্রিত হলেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসানো যায়নি।

    এছাড়া, আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্যে চালান জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থপাচার হয়। ইফতেখারুজ্জামান জানান, আমাদের দেশের অর্থপাচারের বেশির ভাগ অংশই বর্তমানে নিয়ন্ত্রিত। তবে, পুরোপুরি সংস্কার না হওয়ায় বাস্তব ব্যাপারে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ কার্যকর হয়নি। কিছু কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, এবং সরকারের সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ থেকে অর্থপাচার প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ আমাদের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। কারণ, পাসের পর টাকা ফেরত আনা খুবই কঠিন ও জটিল কাজ। অর্থাৎ, টাকা যখন বিদেশে যায় তখন তা ফেরত আনার প্রক্রিয়া খুবই দীর্ঘমেয়াদি এবং জটিল। তাই, প্রতিরোধের জন্য আমাদের কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।

    ইফতেখারুজ্জামান বলেন, যারা দেশের বাইরে টাকা পাচার করে থাকেন, তাদের যদি এই সুযোগ না থাকত তাহলে তারা লন্ডন, কানাডা বা দুবাইয়ে অর্থ লগ্নি করতে পারতো না। এই সুযোগগুলোর ওপর আমাদের নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে হবে। সরকারপ্রয়োগিত আইনগুলো আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে, যাতে অর্থ পাচার প্রতিরোধ সম্ভব হয়।

  • জুলাই গণঅভ্যুত্থান গণতান্ত্রিক চর্চার নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে

    জুলাই গণঅভ্যুত্থান গণতান্ত্রিক চর্চার নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে

    বাংলাদেশে জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থান নতুন করে গণতান্ত্রিক চর্চার পথ প্রশস্ত করেছে। সাম্প্রতিক এই আন্দোলন দেশকে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরতে সহায়তা করেছে। এই ঘটনা দেশের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা করেছে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।

    রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আয়োজিত ‘বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স ২০২৫’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোঃ তৌহিদ হোসেন, যিনি বলেন, আমরা পুরোনো রাজনৈতিক পদ্ধতিতে ফিরে যেতে চাই না। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই বিষয়ে আরও সচেতনতা প্রয়োজন, যাতে তারা ভবিষ্যত নেতৃত্ব গড়ে তুলতে পারে।

    আরেক বক্তা, মালয়েশিয়ার সাবেক শিক্ষামন্ত্রী অধ্যাপক মাজলি বিন মালিক, মন্তব্য করেন, বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি আবার ফিরে এসেছে। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একগুচ্ছ ইতিবাচক পরিবর্তন চলছে, যা সত্যিই প্রশংসনীয়। এতে বোঝা যায়, এই আন্দোলনের ফলে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংস্থা আরও সংযুক্ত হচ্ছে এবং উন্নতির পথে ধাবিত হচ্ছে।

    অতিরিক্ত বলে, এই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট সংস্কারগুলো কেবল দেশের জন্য নয়, বরং বিশ্বের সব দেশের জন্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার ক্ষেত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি বিভিন্ন দেশের জন্য একটি ধারাবাহিক উন্নয়নের নির্দেশক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

    অন্যদিকে, ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যার-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক সিদ্ধার্থ ভারদারাজান বলেন, বাংলাদেশ তার ভবিষ্যতের অর্থনীতি নিয়ে নতুন করে ভাবনা শুরু করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ যে লড়াইয়ে নামছে, তাতে নতুন ইতিহাস তৈরি হচ্ছে। ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপ বা শুল্ক নীতি নিয়ে বাংলাদেশ যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, তা দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরের দিক নির্দেশ করে। এর মাধ্যমে দেখা যায়, দেশের অর্থনীতি এখন আরও শক্তিশালী ও স্থিতিশীল হতে চলেছে।