Month: September 2025

  • বাংলাদেশকে সম্মান করলেও আত্মবিশ্বাসে ভরপুর হংকংয়ের পূর্বাভাস

    বাংলাদেশকে সম্মান করলেও আত্মবিশ্বাসে ভরপুর হংকংয়ের পূর্বাভাস

    আগামী বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) এশিয়া কাপে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ হিসেবে তারা খেলবে অপেক্ষাকৃত কম শক্তির দল হংকংয়ের বিপক্ষে। তবে হংকংয়ের দল বাংলাদেশের জন্য এখনও হুমকি তৈরি করে রেখেছে এবং এই ম্যাচে তারা জয় পেতে চায় সব ধরনের সম্ভাবনা দেখছে।

    এই ম্যাচের ফরম্যাট হলো টি-টোয়েন্টি, যা তাদের নিজের সামর্থ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে। অলরাউন্ডার নিজাকাত খান মনে করেন, দলের কয়েকজন খেলোয়াড় ভালো পারফরম্যান্স করলে বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় পাওয়া সম্ভব। তিনি বলেন, আমাদের দলের মধ্যে আছে এমন খেলোয়াড় যারা একাই ম্যাচ বদলে দিতে সক্ষম। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের মূল মজা হলো নির্দিষ্ট দিনে কারা বেশি ভালো খেলবেন, সেটাই ফলাফল নির্ধারণ করে। একসঙ্গে ২-৩ ওভারে খেলা হয়ে থাকায়, কেউ যদি খুব ভালো ব্যাট করে বা বল করে, পুরো খেলার মোড় ঘুরে যেতে পারে। আমাদের দল প্রস্তুত, আমরা বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলার জন্য মুখিয়ে আছি।

    নিজাকাত খান আরও বলেন, টি-টোয়েন্টিতে কোনো ভয় বা আতঙ্কের কিছু নেই। যদি আপনি নির্দিষ্ট দিনে নিজের সেরাটা দেন, তাহলে জেতা নিশ্চিত। শক্তিশালী বা দুর্বল দল মানে না, কারণ অতীতে অনেকবার দেখিয়েছি, পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। তিনি আরও জানান, তাদের প্রস্তুত এবং তারা প্রথম বল থেকেই লড়াই করতে মুখিয়ে।

    বিশেষ করে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা বিশ্বের বিভিন্ন লিগে খেলায় থাকায়, হংকংয়ের এই অলরাউন্ডার তাদের ব্যাপক সম্মান করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন অভিজ্ঞ খেলোয়াড় আছে, যারা টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে বেশ অভিজ্ঞ। তিনি জোড়ালো মন্তব্য করেন, টি-টোয়েন্টিতে আতঙ্কের কিছু নেই—যদি নির্দিষ্ট দিনে ভালো খেলো, আপনি জিতবেন। ম্যাচের ফল নির্ভর করে প্রতিবেশী দলটির শক্তি বা দুর্বলতার উপর নয়। এই বিশ্বাস নিয়ে তারা খেলতে নামে।

    হংকংয়ের জন্য বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় বেশ সুখকর ইতিহাসের অংশ। ২০১৪ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হংকং বাংলাদেশকে দুই উইকেটে হারিয়েছিল। সেই ম্যাচে নিজাকাত তিন উইকেট নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিলো। বাংলাদেশ তখন ব্যাটিং করে ১০৮ রান করে, কিন্তু হংকং সেটা আরো দুই বল হাতে রেখে জয় করে গেল।

    নিজাকাত খান স্মরণ করেন, ওটা অনেক স্পেশাল একটা ম্যাচ ছিল। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ম্যাচ জেতা খুব কঠিন, তবে তারা অন্যতম সেরা দল। তিনি বলেন, ঐ ম্যাচে আমরা খুব ভালো খেলেছি। বাংলাদেশ তখন বেশ ভালো খেলছিল, কিন্তু স্পিন দিয়ে আমরা তাদের নিয়ন্ত্রণে এনে সেই ম্যাচ জিতে উঠেছিলাম। ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে শেষ পর্যায়ে আমরা জয় নিশ্চিত করি। এই জয় আমাদের জন্য খুবই স্মরণীয়।

    নিজাকাত নিজে তৎকালীন ম্যাচে বেশ ভালো বল করেছিলেন, পাশাপাশি নাদিম আহমেদের সঙ্গে তার বোলিং জুটি ছিল শক্তিশালী। এরপর বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন আপ ধ্বংস হয়ে গেলে, হংকং ফিরে আসে এবং ম্যাচ জিতে যায়। এই জয়ের গল্প এভাবেই এগিয়ে চলে।

  • অচল কাঠমান্ডু, আজ ফেরত আসছেন না বাংলাদেশ ফুটবল দল

    অচল কাঠমান্ডু, আজ ফেরত আসছেন না বাংলাদেশ ফুটবল দল

    নেপালে সরকার বিরোধী আন্দোলনের কারণে দেশটির পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত উত্তপ্ত। এই অস্থিরতার কারণে আজ বাংলাদেশ দলের দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচটি বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। এই ম্যাচটি দশরথ রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে এর আগে গতকালই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বাংলাদেশের ফুটবলাররা এখন নেপালে রয়েছে, কিন্তু পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় তারা দেশে ফেরার জন্য ঠিক সময়ে বের হতে পারছেন না। হাইকমিশন দেশটিতে থাকা বাংলাদেশিদের বাইরে বের না হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

    ম্যাচ বাতিলের কারণেই বাংলাদেশের ফুটবলাররা ফ্লাইট যথাসময়ে পাওয়ার জন্য চেষ্টা করছিলেন, বাংলাদেশের ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) এ জন্য আজই তাদের ঢাকায় ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করেছিল। বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় তাদের ফ্লাইটে ওঠার কথা ছিল।

    তবে পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতি চলে আসায় কাঠমান্ডুতে কারফিউ জারির ফলে ছাত্র-জনতা রাস্তায় আবারও নেমে এসেছে, এবং শহরটি এখন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ দলের ফুটবলাররা হোটেল থেকে বের হতে পারেননি। কাঠমান্ডু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সব ধরনের ফ্লাইট আপাতত বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত হওয়া অবধি তাদের হোটেলেই থাকতে হবে।

    অন্যদিকে, এই আন্দোলনের মুখে নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি পদত্যাগ করেছেন। দেশটিতে চলমান অস্থির পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় সব ফ্লাইট বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এই পরিস্থিতিতে দুঃখ প্রকাশ করেছে। মূলত, স্থানীয় সময় দুপুরের পর থেকে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রয়েছে।

  • আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেন পাকিস্তানি পেসার উসমান শিনওয়ারি

    আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেন পাকিস্তানি পেসার উসমান শিনওয়ারি

    পাকিস্তানের পেসার উসমান শিনওয়ারি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দীর্ঘ ক্যারিয়ার শেষ করে আনুষ্ঠানিক বিদায় জানিয়েছেন। দেশের জার্সিতে তিনি একটি টেস্ট, ১৭টি ওয়ানডে এবং ১৬টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন, তাঁর বয়স মাত্র ৩১ বছর।

    শিনওয়ারির আন্তর্জাতিক অভিষেক হয় ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি ম্যাচ দিয়ে। প্রথম ম্যাচেই তিনি এক ওভার বল করে উইকেটশূন্য থাকেন। এরপর তিনি আরও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেন। ওয়ানডেতে তার অভিষেক ঘটে ২০১৭ সালের অক্টোবরে শারজায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। বলে তখনই তিনি দারুণ সফলতা অর্জন করেন।

    তবে তার প্রথম ও শেষ টেস্ট ম্যাচটি ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে রাওয়ালপিন্ডিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলা হয়, যা ছিল তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ। মূলত পিঠের চোটের কারণে তার ক্যারিয়ার লম্বা হয়নি; বারবার চোটে পড়ে তিনি নিয়মিত দলে থাকতে পারেননি।

    ওয়ানডেতে তার সেরা পারফরম্যান্সটি ছিল অভিষেকের দ্বিতীয় ম্যাচে, যখন তিনি শারজায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২১ বলের মধ্যে ৫ উইকেট তুলে নিয়ে ৩৪ রানে ৫ উইকেট শিকার করেন। ২০১৯ সালে করাচিতে সম্ভবত তার ক্যারিয়ারের শেষ ওয়ানডে ম্যাচে আবারো শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৫ উইকেট নেন।

    মাত্র ১৯ বছর বয়সে তিনি দারুণ আলোচনায় আসেন, যখন বিভাগীয় টি-টোয়েন্টি কাপের ফাইনালে মিসবাহ-উল-হকের নর্দার্ন গ্যাস পাইপলাইনস লিমিটেডের বিপক্ষে ৩.১ ওভারে ৫ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়ে নজর কেড়েছিলেন। সেই পারফরম্যান্সের পরই তাকে জাতীয় দলে ডাক দেওয়া হয়। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফরম্যান্সের মান ধরে রাখতে পারেননি তিনি, যার ফলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার উপস্থিতি দীর্ঘ সময় ধরে স্থায়ী হয়নি।

  • ফাহমিদুল ও মোরসালিনের গোলের সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ জিতলো সিঙ্গাপুরকে

    ফাহমিদুল ও মোরসালিনের গোলের সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ জিতলো সিঙ্গাপুরকে

    এএফসি অ-২৩ চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাই পর্বে বাংলাদেশের যুব দল দুর্দান্ত ফিরে এসেছেন। টানা দুই ম্যাচ হারার পর তাদের মূল পর্বে খেলা এখন অপ্রাশ্রিত হয়ে পড়েছিল। তবে আজভিয়েতনামে অনুষ্ঠিত শেষ ম্যাচে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয় দেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বড় এক সুখবর। এই ম্যাচটি ছিল মূলত ব্যবচ্ছেদের জন্য, কারণ অলিখিতভাবে বাংলাদেশের মূল পর্বের সম্ভাবনা শেষ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু খেলার শেষে বাংলাদেশ ৪-১ গোলে জয়লাভ করে সবাইকে অবাক করে দিল।

    ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম ১০ মিনিটে বাংলাদেশের ছয়টি গোলের প্রবল আক্রমণে সিলেট হয়ে ওঠে। এই সময়ে বাংলাদেশের আক্রমণ বেশ জোরালো ছিল। প্রথম গোলটি করেন ইতালির প্রবাসী বাংলাদেশের তরুণ ফুটবলার ফাহমিদুল। ৩০ গজ দূর থেকে ডিফেন্ডারদের পেছনে ফেলে এক জোরালো শটে গোলটি করেন তিনি। সিঙ্গাপুরের গোলরক্ষক তার শটটি পার হচ্ছেন না। এই গোলটি ছিল ফাহমিদুলের বাংলাদেশের জার্সিতে প্রথম গোল।

    এর দুই মিনিটের মধ্যে বাংলাদেশ দ্বিতীয় গোলটি করে। ফরোয়ার্ড আল আমিনের উদ্দেশ্যে লং বল পাঠানো হয়, আল আমিন সেটি দারুণভাবে রিসিভ করে দারুণ এক ফিনিশিংয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। সিঙ্গাপুরের গোলরক্ষক বক্স থেকে বেরিয়ে আসলেও গোল ঠেকাতে পারেনি।

    পরের ম্যাচে মহসিন আহমেদ গেল করেন। এটি আবারও এক লং বল থেকে। সিঙ্গাপুর ডিফেন্ডার বলটি ঠিকঠাক ক্লিয়ার করতে না পারায় মহসিন সেটি রিসিভ করে এককাকুনি শটে গোল করেন। তার এই দুর্দান্ত গোলের মাধ্যমে দলের অধিনায়ক শেখ মোরসালিন ৮২ মিনিটে দলের চতুর্থ ও শেষ গোলটি করেন। এই গোলের মাধ্যমে বাংলাদেশ বড় জয় আসে। ইনজুরি সময়ে সিঙ্গাপুর একটি consolation গোল করতে সক্ষম হয়।

    প্রথমার্ধের চিত্র ছিল ভিন্ন, যেখানে সিঙ্গাপুরের খেলাটি ছিল বেশ ভালো। তারা বেশ কিছু গোলের সুযোগেরই হাতছাড়া করে। বাংলাদেশের গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ বেশ কয়েকটি অসাধারণ সেভ করেন। যদি না তিনি গুরুত্বপূর্ণ কিছু সেভ করতেন, হয়তো বাংলাদেশ এই ম্যাচে আরও ব্যতিক্রমী পরিস্থিতির মুখোমুখি হতো।

    দলের হেড কোচ সাইফুল বারী টিটু হাসপাতালে থাকায় ডাগ আউটে ছিলেন তার সহকারী কোচ হাসান আল মামুন। আজকের ম্যাচে প্রথমে ফাহমিদুল ইসলামকে দলের বাইরে রাখা হয়, তবে দ্বিতীয়ার্ধে তাকে মাঠে নামানো হলে পরিস্থিতি বদলে যায়। ফাহমিদুলের গতি ও স্কিলের কারণে সিঙ্গাপুরের ডিফেন্স অনেকটাই ভেঙে যায়। শেষ দিকে ইংল্যান্ডে প্রশিক্ষণ নেওয়া কিউবা মিচেলকেও খেলায় আনা হয়।

    অ-২৩ দলের এই জয়টি বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিগত দুই আসরে তারা কোনো ম্যাচই জিততে পারেনি, গোলের মুখ দেখেনি। আজকের এই জয় অনেক দিনের হতাশার মাঝে স্বস্তির সঞ্চার করেছে। বিগত সময়গুলোতে বাংলাদেশের প্রত্যাশা ছিল এএফসি’র মূল পর্বে খেলার, এবং এর জন্য তারা বিশাল প্রস্তুতি নিয়েছিল। বাহরাইনে প্রথমবারের মতো ২৩ দলকে পাঠিয়ে দুটি ম্যাচের ব্যবস্থা করলেও প্রথম দুই ম্যাচে সুবিধা করতে পারেনি। আজকের জয় দেশের ফুটবলসংগঠনের জন্য নতুন দিগন্তের সূচনা।

    অক্টোবরের এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে হংকং ম্যাচের জন্য এই জয় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। মাস চারেক আগে ঢাকায় অনুষ্ঠিত এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের ম্যাচে বাংলাদেশ ভিটামিনের মতো সিঙ্গাপুরের কাছে ২-১ গোলে হেরেছিল। আজ অ-২৩ দলের এই জয়ে দেশের ফুটবল জাগরণ ফিরে আসার আশা জেগেছে। এই জয় আসন্ন চ্যালেঞ্জের জন্য দলের মনোবল বাড়াবে এবং ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক বার্তা দেবে।

  • বিশাল জয় ওএসিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে আফগানিস্তানের

    বিশাল জয় ওএসিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে আফগানিস্তানের

    ২০২৫ এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টির প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখিয়েছে আফগানিস্তান। তারা হংকংকে ৯৪ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে টুর্নামেন্টের শুভ সূচনা করল। আবুধাবিতে প্রথমে ব্যাটিং করে আফগানিস্তান নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৮৮ রান করে। তাদের শক্তিশালী ব্যাটিং বিভাগের জন্য এটি ছিল একটি চ্যালেঞ্জিং স্কোর। পাল্টা ব্যাট করে হংকং পুরো ২০ ওভার খেললেও তারা মাত্র ৯৪ রান করতে সক্ষম হয়, যা তারাও কোঁচড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় ছিল বন্ধুত্বপূর্ণ। তাদের ব্যাটসম্যানরা বেশ কয়েকটি উইকেট হারিয়ে গেলে, বিশেষ করে দুজন রানআউটের শিকার হন। একেবারে শুরুতেই আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান বাবর হায়াত ৪৩ বলে ৩৯ রান করেন, এর পাশাপাশি অধিনায়ক ইয়াসিম মোর্তজাই ২৬ বলে ১৬ রান তৈরি করেন। অন্য সব ব্যাটসম্যানরা খুব বেশি সুবিধা করতে পারেননি। আফগানিস্তানের নেওয়েল গুলবাদিন নাইব ৮ রানে দুই উইকেট, ফজলহক ফারুকি ১৬ রানে ২ উইকেট পান। আফগান দলের ইনিংসের মূল শক্তি ছিল অতলmostly a low scoring match but the Afghan team’s dominance was evident throughout the game. আবুধাবিতে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন আফগানিস্তানের অধিনায়ক। অতলের ব্যাটে শুরুটা ভালো হলেও পরে তারা দুটি উইকেট হারায়, কিছু সময় চাপের মধ্যে পড়ে যায়। তবে, শেষদিকে আজমতউল্লাহ ওমরজাই দুর্দান্ত ব্যাটিং করে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ফিফটি সংগ্রহ করেন। তার অকালীন ইনিংস ২০ বলে ৫৩ রানে শেষ হয়। আফগানিস্তান ৬ উইকেটে ১৮৮ রানে পৌঁছে যায়। হংকং এর পেসাররা কিছু ভালো বল করলেও তাদের কীভাবে উইকেটের জন্য সংগ্রাম করতে হয় সেটি এই ম্যাচে স্পষ্ট। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অন্যতম ঝঁকিপূর্ণ এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তান নতুন প্রকাশ পেয়েছে, এবং এশিয়া কাপের সুপারিশ সূচনায় তারা সৌন্দর্য্য ও শক্তির পরিচয় দিয়েছে।

  • ফ্রান্সে আন্দোলন চরমে: সরকার বিরোধী বিক্ষোভে আটক ২ শতাধিক

    ফ্রান্সে আন্দোলন চরমে: সরকার বিরোধী বিক্ষোভে আটক ২ শতাধিক

    ফ্রান্সে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সরকার বিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভের আগুন জ্বলেছে। রাজধানী প্যারিসসহ দেশের বিভিন্ন শহরে এই আন্দোলন জোরদার হয়ে উঠেছে। কোথাও কোথাও পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে, যার ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ২শ’র বেশি আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। প্যারিস ছাড়াও অন্যান্য বড় শহর যেমন লিওন, ন্যান্টেস, গ্রেনোবল, লিল, কেন ও তুলুসের মতো শহরগুলোতে তীব্র আন্দোলনের ঝড় বইছে, যেখানে শহরগুলোতে অচলায়তন সৃষ্টি এবং যানবাহনের চলাচল বন্ধের মতো ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের জন্য মোতায়েন থাকা পুলিশ সদস্য সংখ্যা কম হয়নি; অন্তত ৮০ হাজার পুলিশ ঘটনাস্থলে মোতায়েন রয়েছে। এই আন্দোলন এদিন ‘ব্লোকঁ তু’ বা ‘সবকিছুকেই বন্ধ করে দাও’ কর্মসূচির আওতায় শুরু হয়, যা মূলত তরুণদের দ্বারা পালন করা হয়। এই কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষ তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করতে চায়, যা দ্রুত সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। ফরাসি সংবাদমাধ্যম লো মঁদ জানায়, আন্দোলনকারী যারা শুরুর ঘণ্টা খানেকের মধ্যে আটক হতে শুরু করে, তারা বিভিন্ন সড়ক অবরোধ, রাস্তা জ্বালিয়ে দেওয়াসহ প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। অনেক বিক্ষোভকারী পুলিশের মুখোমুখি হয় এবং সংঘর্ষের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এই আন্দোলনের মূল কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর কঠোর নীতিমালা এবং বাজেট কাটছাঁটে ক্ষুব্ধ জনতা। সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারে এখন এই বিক্ষোভের গতি বাড়ছে, যারা দাবি করছে, সরকারের বাজেট পরিকল্পনা ও ব্যয় সংকোচনের নীতির বিরুদ্ধে তারা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাচ্ছে। গত সোমবার সংসদে আস্থা ভোটে হেরে গেছেন প্রধানমন্ত্রী ফ্রঁসোয়া বায়রু। এর ফলে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়ে, আবার বরাবরের মতোই দেশের অর্থনীতি ও বাজেট ঘাটতি বিষয়টিও এক বিশাল ভূমিকা রাখছে। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, বুধবার এক ঘণ্টার মধ্যে ২০০ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পশ্চিমাঞ্চলের রেনে শহরে এক বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়ার মতো ঘটনা ঘটে। দক্ষিণ-পশ্চিমের রেললাইনে ক্ষতি হয়ে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ব্রনো রেতাইয়ো প্রকাশ করেন, এই আন্দোলন এক পরিকল্পিত পরিবেশ তৈরির চেষ্টার অংশ, যেখানে অনলাইনে সংগঠিত হয়ে কিছু বামপন্থি রাজনৈতিক ব্যক্তিরা এর নেতৃত্ব দিচ্ছে। তারা দেশের অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত ও বৈষম্যের বিরোধিতা করছে। এই আন্দোলনের সূচনায় ছিল একটি ছোট অনলাইন গ্রুপ ‘লেস এসেনটিয়েলস’, যারা জানিয়েছিল, ১০ সেপ্টেম্বর সবকিছু ব্লক করে দেয়া হবে। সরকারবিরোধী এই প্রচেষ্টাকে উচ্চোক্ত করেছে বামপন্থি সংগঠন ফ্রান্স আনবোউড। মূলত বাজেটের ব্যয় সংকোচন ও সামাজিক বৈষম্যের বিরোধিতায় এই আন্দোলন তীব্রতা পেয়েছে। প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর ব্যয় সংকোচন নীতির বিরুদ্ধে এই প্রতিবাদ শুরু হয়, যার পরিপ্রেক্ষিতে ৮ সেপ্টেম্বর পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে হেরে যান প্রধানমন্ত্রী বায়রু। এরপর নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সেবাস্টিয়ান লোকনুর নাম ঘোষণা করেন ম্যাক্রোঁ। অনেক বিক্ষোভকারী মনে করছেন, ম্যাক্রোঁর উচিত ছিল সংসদ ভেঙে দেওয়া বা বামপন্থি একটি নেতাকে প্রধানমন্ত্রী করা। তবে তিনি তার ঘনিষ্ঠজনকেই এই দায়িত্ব দিয়েছে, যা তারা হতাশাজনক বলছে। এই পরিস্থিতি এখন সরকারের কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে, দেশের অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং সামাজিক অসন্তোষের আগুন আরও প্রবল হয়ে উঠছে।

  • নেপালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধের পর সহিংস বিক্ষোভে প্রধানমন্ত্রীর পতন, ভারত সতর্ক

    নেপালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধের পর সহিংস বিক্ষোভে প্রধানমন্ত্রীর পতন, ভারত সতর্ক

    নেপালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধের প্রতিবাদে সহিংস বিক্ষোভের মুখোমুখি হয়ে প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি পদত্যাগ করেছেন। এই ঘটনা দিল্লিকে গভীর চিন্তায় ফেলেছে, কারণ এই অস্থিরতা বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সংকটের মতো পরিস্থিতির সঙ্গে অনেকটাই সাদৃশ্যপূর্ণ। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরেছে।

    সংবাদটি বলছে, গত কিছু বছরে নেপালে সরকারের পতন ঘটিয়ে দিয়ে হিংসাত্মক আন্দোলনের সংখ্যা তিনে পৌঁছেছে। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত অন্তত ২০ জন প্রাণ হারিয়েছেন, এবং পার্লামেন্ট ভবনে আক্রমণ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের বাড়িতে আগুন ধরানো হয়েছে। দেশের নানা প্রান্তে কারফিউ জারি হয়েছে এবং সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কার মতো রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার সময় ভারতের লক্ষ্য ছিল সংকট মোকাবিলায় সচেতন থাকা। তবে এই পরিস্থিতি নেপালে ভারতের জন্য নতুন সতর্কবার্তা সৃষ্টি করেছে। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক্সে (পূর্বের টুইটার) এক বার্তায় বলেছেন, ‘নেপালের এই সহিংসতা হৃদয়বিদারক। এত তরুণ প্রাণহানি আমাদের খুবই দুশ্চিন্তার বিষয়। আমরা আশা করি, নেপালের স্থিতিশীলতা ও শান্তি দ্রুত ফিরবে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘নেপালের সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা ভারতের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’ গত মঙ্গলবার তিনি মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকও করেছেন এই পরিস্থিতি নিয়ে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কার রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ভারতের জন্য অনেক অপ্রস্তুতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল। সেই পরিস্থিতি আবার নেপালে ফিরে আসতে পারে বলে শঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা এতদিনের সম্পর্ককে আরও কঠিন করে তুলবে। বিশেষ করে ওলির দিল্লি সফরের এক সপ্তাহের মধ্যেই তার পদত্যাগ এই বিষয়টিকে আরও গুরুত্বসহকারে দেখার সুযোগ করে দিয়েছে।

    নেপালের রাজনৈতিক অস্থিরতার পেছনে কূটনৈতিক ও সামরিক দিক থেকেও ভারতের গভীর গুরুত্ব রয়েছে। দেশের উত্তর, উত্তরপ্রদেশ, সিকিম, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বিশাল আকারের সীমান্ত রয়েছে এই দেশে। ভারত এই পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে, কারণ চিনের পশ্চিমাঞ্চলে চীনও নেপালে নিজের প্রভাব বিস্তার করছে। ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইন্দো-গাঙ্গেয় উপকূলে প্রবেশের পথের প্রধান প্রান্ত হচ্ছে এই প্রতিবেশী দেশটি।

    নেপালের এই অস্থিতিশীলতা ভারতের অভ্যন্তরেও প্রভাব ফেলছে। ভারতীয় মহাসংখ্যক নেপালি কর্মী ও পরিবার সেখানে বাস করছে- যার সংখ্যা আনুমানিক ৩৫ লাখের মতো। পাশাপাশি, দুই দেশের মধ্যে পারিবারিক সম্পর্ক গভীর এবং অবাধ যাতায়াত রয়েছে। ভিসা বা পাসপোর্ট ছাড়া নেপালি নাগরিকরা ভারতে আসতে পারে, ও এখানেই কাজ করে থাকেন। এছাড়া, নেপালের প্রায় ৩২ হাজার গুর্খা সেনা বিশেষ চুক্তির অধীনে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কর্মরত।

    নেপাল ধর্মীয় ঐতিহ্যের জন্যও ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবছর হাজারো হিন্দু ভক্ত হুমকিনাথসহ বিভিন্ন নেপালি মন্দিরে তীর্থযাত্রায় যান। দেশের সঙ্গে ভারতের ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিমাণ বছরে প্রায় ৮.৫ বিলিয়ন ডলার, যা মূলত কাঠমান্ডু তেল ও খাদ্যপণ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

    অস্থিরতা কিছুটা শান্ত হলে দেশটির পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু হলেও বিশ্লেষকরা বলছেন, এখন ভারতের জন্য অত্যন্ত সতর্ক নীতিমালা গ্রহণ করা জরুরি। কারণ, তিনটি প্রধান রাজনৈতিক দল— ওলির নেতৃত্বাধীন সিপিএন–ইউএমএল, শের বাহাদুর দেউবার নেপালি কংগ্রেস, এবং পুষ্পকমল দাহালের নেতৃত্বাধীন সিপিএন (মাওবাদী কেন্দ্র)—বিরোধীতায় একত্রিত হয়ে উঠতে পারে।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভারতের উচিত এখন নতুন নেপালি নেতৃত্বের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা, তরুণ প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনতে নানা উদ্যোগ নেওয়া। শিক্ষাবৃত্তি, কর্মসংস্থান ও সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নে আরও মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

    দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর থাকায়, প্রতিবেশী দেশগুলোর এই অস্থিরতা ভারতের জন্য চ্যালেঞ্জ আরও বাড়িয়ে তুলছে। পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক তলানিতে, বাংলাদেশের সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে এবং মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধের কারণে পুরো এলাকা অস্থিতিশীল।

    ভারতীয় অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল অশোক মেহতা বলেন, ‘ভারত বড় শক্তির স্বপ্ন দেখে, কিন্তু আগে আমাদের নিজ স্বার্থে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায়, এই প্রভাবশালী অঞ্চল ও ভবিষ্যৎ আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।’

  • তিন দশকের লুটের বিচার চাই তরুণদের নতুন সংবিধানে

    তিন দশকের লুটের বিচার চাই তরুণদের নতুন সংবিধানে

    নেপালে সহিংস বিক্ষোভের ফলে সরকারের পতনের পর তরুণ প্রজন্মের নতুন করে আশা ও প্রত্যাশা জেগে উঠেছে। জেনারেশন জি নামে ডাকসুর এই তরুণরা দেশ מדר সংকটের সমাধানে নানা গুরুত্বপূর্ণ দাবিও তুলেছেন। তারা দাবি করছেন, নতুন সংবিধান রচনা, সরাসরি নির্বাহী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা, এবং গত তিন দশকের এলোমেলো লুটপাটের ব্যাপক তদন্ত চালানো।

    বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এ তথ্য জানিয়েছে। সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলির নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের পতনের পর এই তরুণরা রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের জন্য ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তুলেছে। তাদের দাবিতে শাসনব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন, এবং গত তিন দশকে রাজনীতিবিদদের অবৈধ সম্পদ লুটের ব্যাপক তদন্ত ও দমন-পীড়নের পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত।

    বিক্ষোভকারীরা ঘোষণা দিয়েছেন, যারা এই আন্দোলনে প্রাণ হারিয়েছেন, তাদেরকে জাতীয় শহীদ হিসেবে ঘোষণা করতে হবে এবং তাদের পরিবারকে সম্মান ও সহযোগিতা দিতে হবে। পাশাপাশি ভোঙের বেকারত্ব দূর করা, অভিবাসন কমানো এবং সামাজিক বৈষম্য নিরসনে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

    বক্তারা বলেন, এই আন্দোলন কোন ব্যক্তির বা দলের জন্য নয়। এটি দেশের তরুণ প্রজন্ম এবং ভবিষ্যতের স্বপ্নের জন্য। শান্তিপূর্ণ আন্দোলন প্রয়োজন, তবে তা কেবল নতুন রাজনৈতিক কাঠামোতে সম্ভব হবে বলে মনে করেন। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, রাষ্ট্রপতি ও সেনাবাহিনী তাঁদের প্রস্তাবগুলোর আশানুরূপ বাস্তবায়ন করবেন।

    তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
    • বর্তমান প্রতিনিধি পরিষদ ভেঙে দেওয়া, কারণ এটি সাধারণ জনগণের আস্থা হারিয়েছে। জনগণ, বিশেষজ্ঞ এবং তরুণদের অংশগ্রহণে সংবিধান সংশোধন বা সম্পূর্ণরূপে নতুন সংবিধান লেখা।
    • অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন ও সুষ্ঠু, স্বাধীন, সরাসরি জনস্বার্থে নির্বাচনের বিষয়টি নিশ্চিত করা।
    • পাশাপাশি সরাসরি নির্বাচিত নির্বাহী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা, গত তিন দশকের লুট হওয়া সম্পদের তদন্ত ও অবৈধ সম্পদ রাষ্ট্রীয়করণ, এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিচার, নিরাপত্তা ও যোগাযোগ— এই পাঁচ খাতে কাঠামোগত সংস্কার গ্রহণ।

    বুধবার ভোর থেকে সেনাবাহিনী কাঠমাণ্ডুসহ অন্যান্য শহরে মোতায়েন হয়ে আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখে। অস্থিরতা দমন এবং বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এর আগের দিন ব্যাপক সহিংসতায় প্রধানমন্ত্রী ওলি পদত্যাগ করে দেশত্যাগ করেন। তবে সরকারের পতনের পরেও অস্থিরতা কমেনি; পার্লামেন্ট ভবনে প্রবেশ করে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। সেনাবাহিনী রাতেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করে এবং কাঠমান্ডু, ললিতপুর, ভক্তপুরসহ বেশ কিছু স্থান কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে আনে।

    এক বিবৃতিতে সেনাবাহিনী জানায়, কিছু গোষ্ঠী দুর্বৃত্তপনা চালিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষতি করছে এবং সরকারি সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সৃষ্টি করছে।

    প্রায় এক সপ্তাহ আগে, গত সোমবার জেনারেশন জি নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের ফলে অন্তত ২২ জনের মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় নিহতদের জন্য দায় স্বীকার করে তারা প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও জানায়। সেই ঘটনা ওলির পদত্যাগের পথ সহজ করে দেয়।

  • ইসরায়েলি হামলায় ইয়েমেনে নিহত কমপক্ষে ৩৫

    ইসরায়েলি হামলায় ইয়েমেনে নিহত কমপক্ষে ৩৫

    ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও আল-জাওফ প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১৩১ জন। তবে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    বুধবার এই হামলা চালানো হয় বলে নিশ্চিত করেছে আল জাজিরা। আলজাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয় যে, এর এক দিন আগে কাতারের রাজধানী দোহার ভূখণ্ডে হামাসের শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্য করে ইসরায়েলি হামলা চালানো হয়।

    ইয়েমেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আলজাজিরা জানায়, সানার আল-তাহরির এলাকার একটি আবাসিক ভবন, একটি চিকিৎসা কেন্দ্র এবং আল-জাওফ প্রদেশের রাজধানী আল-হাজমের সরকারী কমপাউন্ডে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেক মানুষ আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    হুথি নিয়ন্ত্রিত আল-মাসিরাহ টিভি দাবি করেছে, এই হামলায় সানার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত একটি মেডিকেল সেন্টার এবং আল-হাজমে স্থানীয় সরকারি কার্যালয় লক্ষ্যবস্তু হয়। এতে বহু মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন।

    হুথি মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারে জানিয়েছেন, ইসরায়েলি হামলা প্রতিরোধের জন্য তারা আকাশ থেকে সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল ব্যবহারের পাশাপাশি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে। তিনি আরো জানান, ইসরায়েলি বিমান কিছু সময়ের জন্য হামলার জন্য এগোলে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তাদের বাধ্য করে ফিরে যেতে।

    তিনি দাবি করেন, একাধিক সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল ব্যবহারে তারা জায়নবাদী আগ্রাসন বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছে।

    অন্যদিকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা সানা ও আল-জাওফে হুথি গোষ্ঠীর সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছে। এই লক্ষ্যবস্তু ছিল হুথিদের সামরিক শিবির, যোগাযোগের কেন্দ্রস্থল ও জ্বালানি ভাণ্ডার।

    প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানান, এই হামলা রামন বিমানবন্দরে হুথির ড্রোন হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই চালানো হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যারা ישראלের ওপর আক্রমণ চালাবে, আমরা তাদের খুঁজে বের করব এবং যথাযথ জবাব দেব।

  • নেপালে সেনা টহল ও আন্দোলনের ‘হাইজ্যাক’ দাবি জেন-জির

    নেপালে সেনা টহল ও আন্দোলনের ‘হাইজ্যাক’ দাবি জেন-জির

    নেপালে বিক্ষোভ ও সংঘাতের পরবর্তী পরিস্থিতি বর্তমানে বেশই অস্থির। রাজধানী কাঠমান্ডুতে সেনাবাহিনী টহল দিচ্ছে যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। এরই মধ্যে, দুই দিন ধরে চলা আন্দোলন ‘হাইজ্যাক’ হয়েছে বলে দাবি করেছে জেনারেশন-জেড (জেন-জি) বিক্ষোভকারীরা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

    খবরে বলা হয়েছে, গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অস্থিতিশীলতার মুখোমুখি হয়েছে নেপাল। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধের মতো ঘটনার কারণে জেন-জির আন্দোলনে সরকারের পতন শুরু হয়েছে। মঙ্গলবারের ঘটনায় এই আন্দোলন ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, প্রধানমন্ত্রী কীপি শর্মা ওলির পদত্যাগের দাবি, রাজনৈতিক নেতাদের বাড়িঘরে হামলা, সরকারি ভবনে অগ্নিসংযোগসহ নানা সহিংস ঘটনা ঘটে। গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে এখন পর্যন্ত ২৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

    জেন-জিরা যা চেয়েছিল, তা সফল হয়েছে, তবে এর মধ্যেই বিতর্কের সূোর হাটে উঠেছে। আন্দোলনকারীরা বলছেন, তারা কোনও সহিংসতা করেনি, বরং দুষ্কৃতকারীরা বা সুযোগসন্ধানীরা এই আন্দোলন ‘হাইজ্যাক’ করেছে। তারা অভিযোগ করেন, ভাঙচুর ও লুটপাটে বাধা দিতে গিয়ে সেনাবাহিনীও সমর্থন দিয়েছে এসব দুষ্কৃতকারীদের। আন্দোলনকারীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়, তাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলবে এবং তারা নাগরিক নিরাপত্তা ও সরকারি সম্পদ রক্ষাে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে মাঠে কাজ করছে। এদিকে, বুধবার আর কোনো কর্মসূচি নেই বলেও জানানো হয়েছে।

    বুধবার কাঠমান্ডুতে কারফিউ জারি থাকায় পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত কিন্তু বেশ কয়েকটি সরকারি ভবন এখনো আগুনে জ্বলছে। দেশটিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী বিক্ষোভকারীদের শান্তি আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। জেন-জির পক্ষ থেকে এক ছাত্রনেতা বিবিসিকে জানিয়েছেন, তারা নতুন দাওয়ার তালিকা তৈরি করছেন।

    জাতীয় পর্যায়ে আজ বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) সকাল পর্যন্ত কারফিউ বলবৎ থাকবে। সেনাবাহিনী সজাগ রয়েছে এবং হুঁশিয়ারি দিয়ে বলছে, সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে, লুটপাট ও হামলার সন্দেহে ২৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ৩১টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়। নেপালের বিভিন্ন স্থানে সেনার চেকপয়েন্ট স্থাপন করা হয়েছে এবং যানবাহনের পরিচয়পত্র পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। সংকেত দেওয়া হয়েছে, অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে ঘরে থাকার জন্য।

    নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাংশ রাজারাম বসনেত জানান, তারা মূলত ষড়যন্ত্রকারীদের নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে যারা লুটপাট ও আগুন লাগানোর মতো কাজে লিপ্ত। কেপি শর্মা ওলির পদত্যাগের পর দেশটি নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়েছে। সমাজচিন্তকরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রয়োজন রয়েছে, তবে কে দায়িত্ব নেবেন বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি সেটা এখনও স্পষ্ট নয়।

    অন্যদিকে মঙ্গলবার, জেন-জি বিক্ষোভকারীরা এক বিবৃতিতে বলেছে, নেপালের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব অবশ্যই স্বাধীন, দলীয় রাজনীতি থেকে মুক্ত হতে হবে। নির্বাচন সরাসরি যোগ্য ও সততার ভিত্তিতে হতে হবে এবং দুর্নীতিগ্রস্ত গোষ্ঠীর কোনো স্থান থাকবে না।

    সামাজিক কর্মী কার্কি বলছেন, নিরপরাধ তরুণদের প্রাণ গেছে, দেশ গভীর অনিশ্চয়তার মাঝে রয়েছে। তাদের দাবি, এবার শান্তি চাই, দুর্নীতির অবসান দরকার, যা মানুষকে রাস্তায় নামতে বাধ্য করেছে। সবাই মিলে এই পরিস্থিতি আর যেন না বাড়ে, সেজন্য সবাইকে সচেতন ও একবtrings।