মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং খুলনা-২ আসনে ধানের শীষের মনোনয়নপ্রত্যাশী শফিকুল আলম তুহিন বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের জনগণের ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন। তিনি বলেন, এ নির্বাচনে দলের নেতা-কর্মীসহ সাধারণ জনগণকে একযোগে ঐক্যবদ্ধ হয়ে অংশ নিতে হবে। দেশের মানুষ দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। গণতন্ত্রের পতন ঘটিয়ে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টাও চালানো হয়েছে। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে হলে দেশের জনগণের ঐক্যই হবে মূল শক্তি।
Month: September 2025
-

ডুমুরিয়াকে উন্নত ও আধুনিক উপজেলা করার প্রতিশ্রুতি
খুলনা-৫ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলী আসগর লবি বলেছেন, আমি এই ডুমুরিয়ার সন্তান, আপনারা সবাই আমার পরিবারের অংশ। এই এলাকার মানুষের সঙ্গে আমার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। এর আগে এই অঞ্চলে উন্নয়নের কোনও ছোঁয়া লাগেনি। এখনো গ্রামেগঞ্জে যেতে নৌকা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। রাস্তা-ঘাটের অবস্থা এতটাই দুর্বল যে, অনেক সময় পায়ে হেঁটে বাড়ি পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। এখানে পর্যাপ্ত স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসা এবং মন্দিরের ব্যবস্থা নেই। আমি প্রস্তাব করছি, ডুমুরিয়াকে আধুনিক ও যুগোপযোগী উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলে স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নত করব।
বুধবার ডুমুরিয়া উপজেলার খর্নিয়া ইউনিয়নে বিএনপি আয়োজিত উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মহানগর বিএনপি’র সাবেক সহ-সভাপতি সৈয়দ রেহেনা ঈসা। উপস্থিত ছিলেন নগরজাসাসের আহ্বায়ক নুর ইসলাম বাচ্চু, ইউপি সদস্য মোল্লা আবুল কাশেম, নিতাই গাইন, সুভাস বৈরাগী, রফিক মীর, খোরশেদ মোড়ল, আইয়ুব মাস্টার, শেখ জহুরুল ইসলাম, আশরাফ হোসেন, রফিক মীর, হুমায়ুন কবির, ইউপি সদস্য শেখ রবিউল ইসলাম, শেখ আহফাজ উদ্দিন, শাহাবুদ্দিন সরদার, দ্বীন মোহাম্মদ, জিয়া গাজী, খান আসাদুজ্জামান মিন্টো, সাদ্দাম হোসেন মোলা, মোফাজ্জল শেখ, সাদ্দাম শেখ, আমিনুল সরদার, তৈয়বুর শেখ, ইউপি সদস্য পারুল বেগম, কুদ্দুস খান, রাবেয়া বেগম, সফি সরদার, শাজাহান ফকির, বিউটি বেগম, কুলসুম বেগম এবং রবিউল শেখ প্রমুখ।
আলী আসগর লবি খর্নিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও মন্দির পরিদর্শন করেন এবং ব্যক্তিগত খরচে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। সিংঙ্গা স্কুলের শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে তিনি সৌহার্দ্যপূর্ণ সাক্ষাৎ করেন। সন্ধ্যার দিকে তিনি খর্নিয়া ইউনিয়নের দুটি নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধন করেন।
-

কেসিসির বাজেটে ৭১৯ কোটি টাকার লক্ষ্য নির্ধারণ
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। এবার এর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে মোট ৭১৯ কোটি ৫০ লাখ ৩৬ হাজার টাকা, যা গত বছরের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আড়াইশো কোটি টাকা কম। উল্লেখ্য, এই বাজেটে নতুন কোনও কর আরোপ করা হয়নি।
বৃহস্পতিবার সকাল এগারোটায় নগর ভবনের মিলনায়তনে এ বাজেট ঘোষণা করেন কেসিসির প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার মো. ফিরোজ সরকার। গত অর্থবছর ২০২৪-২৫ এর জন্য বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯৮১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা, তবে তা পরে সংশোধিত হয় ৬১৮ কোটি ২৫ লাখ টাকায়।
অধিকারে মো. ফিরোজ সরকার জানান, এটি একটি উন্নয়নমূলক বাজেট। এই বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণ ও তার নিষ্কাশন। পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ বাজেটে ডেঙ্গু মোকাবেলা, নগর জীবনের মান উন্নয়ন, নাগরিক সেবা সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের জন্য নানা পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়াও, ২০২৫ সালের জুনে বেশ কিছু বড় প্রকল্প সম্পন্ন হওয়ার কারণে এবারের বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা কমানো হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
-

বাগেরহাটে চারটি আসন বহাল রাখার দাবিতে দ্বিতীয় দিনের হরতাল
বাগেরহাটে চারটি আসনসংখ্যা পরিবর্তনের প্রতিবাদে দ্বিতীয় দিনের মতো হরতাল চলছে। এই হরতালকে সমর্থন করে বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে বিভিন্ন तरीके নিয়ে অবরোধ চালানো হয়েছে, যার মধ্যে সড়কে আগুন জ্বালানো, বেঞ্চ পেতে, বাস বন্ধ করে ও গাছের গুঁড়ি ফেলে রাস্তা অবরুদ্ধ করা অন্যতম। সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির দাবি, জেলার বিভিন্ন সড়কের অন্তত ১৩৪টি স্থানে নেতাকর্মী ও সাধারণ এলাকাবাসী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অবস্থান নিয়েছেন। এর ফলে বাগেরহাট জেলা দিয়ে অন্যান্য জেলার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এমনকি আন্তঃজেলা সড়ক যোগাযোগও কার্যকারিতা হারিয়েছে, সড়ক অবরোধের কারণে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
-

সুশাসন ও কার্যকর নীতিসংশোধন ছাড়া টেকসই উন্নয়ন অসম্ভব
বিশ্বখ্যাত অর্থনীতিবিদ ও পাবলিক পলিসি বিশ্লেষক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বিশ্বাস করেন যে, বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য আজ দূরদর্শিতা, সুসজ্জিত অর্থনীতি ও কার্যকর নীতিসংশোধন অপরিহার্য। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, টেকসই উন্নয়ন সম্ভব only হয় যখন আমরা সুশাসন প্রতিষ্ঠা করি এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত পরিবর্তন বাস্তবায়ন করি। বিশেষ করে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে চলা এবং এসডিজি (টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য) অর্জনের জন্য যুগোপযোগী নীতি প্রণয়ন অতি জরুরি।
বুধবার, বেলা ১১টায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউআরপি ডিসিপ্লিনের ‘Development Studies’ বিভাগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ‘Bangladesh in Transition: Governance, Economy and Policy Reforms’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তৃতাকালে এসব কথা তিনি বলেন।
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, প্রথমে উদ্যোগের জন্য একটি দৃঢ় চিন্তাধারা তৈরি করতে হবে, যেখানে স্পষ্টভাবে সমস্যার মূল কারণগুলো চিহ্নিত করতে হবে। এরপর, ধারণাগুলোকে কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য দরকার কাঠামোগত পরিবর্তন, নীতিগত সমন্বয়, অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং মূল লক্ষ্য নির্ধারণ। সাথে সাথেই, কোন স্বার্থ বা গোষ্ঠীর অগ্রাধিকার নির্ধারণকে পরিষ্কার করে নিতে হবে।
তিনি আরও জানান, টেকসই সংস্কারে গণতান্ত্রিক পরিবেশ, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও অংশীদারিত্বের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। বিনিয়োগের গতি বাড়াতে হবে এবং সংস্কার প্রক্রিয়াকে সমাজের সর্বত্র গ্রহণযোগ্য ও সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া জরুরি। সংস্কার কোনও একক ব্যক্তি বা সংগঠনের জন্য সম্ভব নয়, এটি একটি সমন্বিত ও সার্বজনীন প্রক্রিয়া। এজন্য প্রগতিশীল রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জোটবদ্ধতার প্রয়োজন। এর পাশাপাশি, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম প্রধান অতিথি হিসেবে বলেন, বাংলাদেশের অগ্রগতিকে আরও গতি দেয়ার জন্য সুশাসন ও নীতিসংশোধনকে যুগের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়া জরুরি; উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় গবেষণা ও শিক্ষার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে প্রস্তুত।
ওই সেমিনার ডিভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের প্রধান ড. কাজী হুমায়ুন কবীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন সমাজবিজ্ঞান স্কুলের ডিন প্রফেসর শেখ শারাফাত হোসেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সহযোগী অধ্যাপক মো. জোবায়ের হোসাইন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সহকারী অধ্যাপক ফারহানা হক ও প্রভাষক আইরিন আজহার ঊর্মি। সেমিনারে ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যকে সম্মাননা ক্রেস্ট উপহার দেওয়া হয়।
উপস্থাপনায় উপস্থিত ছিলেন নানা বর্ষের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। সকালেই, তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিমের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং তাকে বিশেষ ক্রেস্ট দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। তার সঙ্গে ছিলেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হারুনর রশীদ খান, অফিস অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ আশিক উর রহমান, ডিভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের প্রধান ড. কাজী হুমায়ুন কবীর এবং সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডির সহকারী পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান।
-

অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেল স্বর্ণের দাম
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে সবচেয়ে মানসম্মত ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) দাম দুই হাজার ৭১৮ টাকা বৃদ্ধি করে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৮১ হাজার ৫৫০ টাকা। এই নতুন মূল্য সংগত কারণেই উল্লেখযোগ্যভাবে অতীতের সব রেকর্ডকে পিছনে ফেলে এখন স্বর্ণকে বলা হচ্ছে সময়ের চাহিদা ও মূল্যবোধের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ‘মহামূল্যবান’ ধাতু।
রোববার বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায়। নতুন দাম আগামী সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হবে।
তদ্ব্যতীতে, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৭৩ হাজার ৩০৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দামে রাখা হয়েছে এক লাখ ৪৮ হাজার ৫৪১ টাকা। সনাতন পদ্ধতির (সাধারণত বাংলাদেশে ব্যবহৃত) স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ২৩ হাজার ৬৩ টাকা।
অর্থাৎ, যদিও স্বর্ণের দাম বেড়েছে, তবে রূপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ২২ ক্যারেটের রূপার প্রতি ভরি দাম এখনো নির্ধারিত হয়েছে দুই হাজার ৮১১ টাকার মতো, একইভাবে ২১ ক্যারেটের রূপার দাম দুই হাজার ৬৮৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দুই হাজার ২৯৮ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রূপার দাম নির্ধারিত হয়েছে এক হাজার ৭২৬ টাকাতে।
-

৩০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন, তবে মাত্র ২ বিলিয়ন আনতেই ক্ষতি যায়: অর্থ উপদেষ্টা
অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ জলবায়ু সংক্রান্ত আলোচনাগুলো বেশি হয় যদিও কার্যকর তেমন দেখা যায় না বলে মত প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, দুর্যোগগুলো মোকাবিলার জন্য আমাদের ৩০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন, তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে এক থেকে দেড় বিলিয়ন ডলার আনতে গিয়ে আমাদের অনেকটাই সময় ও অর্থ নষ্ট হয়।
সোমবার (০৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘নেভিগেটিং ক্লাইমেট ফাইন্যান্স: মিডিয়া রিপোর্টিং’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থ উপদেষ্টা আরো বলেন, আমরা দু ধরনের দুর্যোগ দেখছি—একটি প্রকৃতির সৃষ্টি, অন্যটি মানবসৃষ্ট। মানবতার অবদান ছাড়া প্রকৃতির ক্ষতি হয় অনেক বেশি। তিনি বললেন, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করতে হবে পাঁচটি পক্ষের—বিজ্ঞানী, নীতিনির্ধারক, প্রতিষ্ঠান, অর্থের সংস্থানকারী ও সাধারণ মানুষ।
বাংলাদেশের মানুষ আগেই দুর্যোগ মোকাবিলা করে আসছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। স্থানীয় লোকজন নিজেদের প্রচেষ্টায় বিপদ মোকাবিলায় এগিয়ে আসে, যা খুবই প্রশংসনীয়। কেউ যদি অপেক্ষা করে থাকেন, ঢাকা থেকে ফায়ার সার্ভিসের লোক এসে সহায়তা করবেন—তা আসলে কাজের কথা নয়। আগুনে পুড়ে গেলে প্রথমে তারা না, বরং সাধারণ মানুষই এগিয়ে আসে। বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে অনেক এগিয়ে গেছে, তবে এ বিষয়গুলোতে সচেতনতা আরও বাড়াতে হবে।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আমরা পৃথিবীর অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। প্রাকৃতিক বিপর্যয় ছাড়াও মানুষের তৈরি দুর্যোগের সংখ্যা বাড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতি বছর কমপক্ষে ৩০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। তিনি জানান, সামনে আইএমএফের সঙ্গে পাঁচ বিলিয়ন ডলার অনুকূল দর Negotiation করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, সাংবাদিকদের সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক রিপোর্টিং করতে হবে। আমাদের দেশেও প্রচুর সচেতনতা বাড়াতে হবে। জাপানের শিক্ষার্থীরা এ ব্যাপারে অনেক বেশি সচেতন, আমাদেরও শিশু-কিশোরদের ছোটবেলা থেকেই জলবায়ু বিষয়ক সচেতনতা তৈরি করতে হবে।
পর্ষদ সভাপতির বক্তব্যে পিকেএসএফের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এই শতাব্দীর অন্যতম ভয়ঙ্কর চ্যালেঞ্জ। এর বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করতে হবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী। তিনি বলেন, আমরা জলবায়ু তহবিল থেকে অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করছি। এজন্য আমাদের ক্ষতির গল্পগুলো তুলে ধরার প্রয়োজন রয়েছে। এজন্য সাংবাদিকদের এ কাজে সহযোগিতা দরকার।
অপর এক বিশেষ অতিথি এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ডেঙ্গু ও পানির বৃদ্ধি, মাতৃমৃত্যুসহ নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে। এসব বিপর্যয়গুলো বৈশ্বিক পর্যায়ে তুলে ধরতে পারছি না বলে মনে করেন তিনি। ফলে অর্থের জন্য চাহিদাসহ এ সংক্রান্ত কেস তৈরি হচ্ছে না।
এই তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে ৬০ জন সাংবাদিক অংশ নিয়েছেন, যারা ভবিষ্যতে জলবায়ু সংক্রান্ত বিভিন্ন রিপোর্ট তৈরি করতে আরও সচেতন ও দক্ষ হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
-

স্বর্ণের দাম নতুন রেকর্ডে পৌঁছেছে, আরও বেড়েছে মূল্য
সোমবার বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) জানিয়েছে দেশীয় বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও বাড়ানো হয়েছে। স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) থেকে এই নতুন দাম কার্যকর হবে।
প্রতি ভরিতে স্বর্ণের সর্বোচ্চ ১,২৬০ টাকা করে দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, সবচেয়ে মানসম্পন্ন ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮২ হাজার ৮১০ টাকা। tevens, ২১ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৭৪ হাজার ৫০৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি ১ লাখ ৪৯ হাজার ৫৬৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৪২ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায়, সার্বিক পরিস্থিতির বিবেচনায় নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে, গতকাল সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর), ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২,৭১৮ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৮১ হাজার ৫৫০ টাকা নির্ধারণ করেছিল বাজুস। এটি তখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ দামের রেকর্ড ছিল।
-

স্বর্ণের দাম আরও বেড়েছে, চার দিনের মধ্যে তৃতীয় বার রেকর্ড উচ্চতায়
দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম টানা চতুর্থ দিনের মতো বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ যোগ-বাজার ও জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে, ভরিতে ৩ হাজার ১৩৭ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৯৪৭ টাকা। এটি দেশের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ স্বর্ণের দাম।
বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই দাম আগামীকাল বুধবার থেকে কার্যকর হবে। বাজারে স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়ার প্রধান কারণ হলো স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের মূল্য বেড়ে যাওয়া। ফলে সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন দাম নির্ধারণ করতে হয়েছে।
নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৯৪৭ টাকা, যা আগে ছিল ১ লাখ ৮২ হাজার ৮১০ টাকা। পাশাপাশি অন্যান্য ক্যারেটের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে—প্রতি ভরি ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের মূল্য এখন ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫০৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৫২ হাজার ১৪৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের মূল্য ১ লাখ ২৬ হাজার ১৪৬ টাকা।
অগ্রিম জানিয়ে থাকি, এর আগে গতকাল (৮ সেপ্টেম্বর) বাজুস স্বর্ণের দাম আবারও বাড়িয়েছিল, যেখানে ভরিতে ১ হাজার ২৬০ টাকা যোগ করে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করে ছিল ১ লাখ ৮২ হাজার ৮১০ টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দামে ছিল। সেই সময় অন্যান্য ক্যারেটের দামও বৃদ্ধি পেয়েছিল।
এর আগে, সোমবারও স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছিল, তখন ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ভরিতে ২ হাজার ৭১৮ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৮১ হাজার ৫৫০ টাকা নির্ধারণ করে। এটাই ছিল সেই সময়ের সর্বোচ্চ দাম।
এমনই ধারাবাহিক দাম বৃদ্ধি নিয়ে চলতি বছর মোট ৫২ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৬ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং মাত্র ১৬ বার কমানো হয়েছে।
দাম বৃদ্ধির এই প্রভাব রুপার দামে প্রভাব ফেলেনি। দেশে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৮১১ টাকা, ২১ ক্যারেটের ২ হাজার ৬৮৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২ ہزار ২৯৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির ১ হাজার ৭২৬ টাকায়।
-

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুই কোম্পানির শেয়ার কারসাজির মামলায় জরিমানা
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুই কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে কারসাজি করে সিকিউরিটিজ আইনের লঙ্ঘন করার আশংকায় রাজধানীর বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) মোট ৪৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে। এই জরিমানার মধ্যে নিউ লাইন ক্লোথিংস লিমিটেডের শেয়ার কারসাজির জন্য চার ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠানে যথাক্রমে জরিমানা আরোপ করা হয়। অন্যদিকে, পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শেয়ার কারসাজির অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয় ২০২৩ সালের ১৭ই অক্টোবর অনুষ্ঠিত ৯৭২তম বিএসইসি কমিশন সভায়, যার সভাপতিত্ব করেন চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ।
