Month: September 2025

  • অর্থ উপদেষ্টার মন্তব্য: জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় ৩০ বিলিয়ন ডলার দরকার, তবে আড়াই বিলিয়ন ডলার আনতে হয় জান বেরিয়ে যায়

    অর্থ উপদেষ্টার মন্তব্য: জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় ৩০ বিলিয়ন ডলার দরকার, তবে আড়াই বিলিয়ন ডলার আনতে হয় জান বেরিয়ে যায়

    জলবায়ু পরিবর্তন এবং তার প্রভাব নিয়ে আলোচনা ব্যাপক হলেও বাস্তবে কাজের অগ্রগতির হার খুবই কম বলে মনে করেছেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি জানান, দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য আমাদের প্রয়োজন ৩০ বিলিয়ন ডলার, কিন্তু আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে এক থেকে দেড় বিলিয়ন ডলার আনতে গিয়েও আমাদের অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়। জান বেরিয়ে যায় অনেক সময়, অর্থশস্যের অভাবে কাজের অগ্রগতি হয় না।

    আজ সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের যৌথ আয়োজনে ‘নেভিগেটিং ক্লাইমেট ফাইন্যান্স: মিডিয়া রিপোর্টিং’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথাগুলো বলেন।

    অর্থ উপদেষ্টা আরও বলেন, মানবসৃষ্ট দুর্যোগ কম নয়, আবার প্রকৃতি ও জলবায়ু সংকটের জন্য মানুষই বেশিরভাগ সময় দায়ী। তিনি মত ব্যক্ত করেন যে, এই সংকট মোকাবিলায় পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পক্ষের একযোগে কাজ করা প্রয়োজন: বিজ্ঞানী, নীতিনির্ধারক, প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা, অর্থের সংস্থানকারীরা এবং সাধারণ জনগণ।

    বাংলাদেশের জনগোষ্ঠী নিজ উদ্যোগে দুর্যোগের মুখে সাহসের সঙ্গে এগিয়ে আসে জানিয়ে সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, স্থানীয় এ প্রচেষ্টা মূল্যবান, কারণ অনেক সময় আমাদের প্রত্যাশা হয়ে থাকে যে, ডেঙ্গু বা অগ্নিকাণ্ডে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ছাড়া অন্য কেউ এগিয়ে আসবেন। তবে বাস্তবে দেখা যায়, আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষই প্রথম ছুটে আসে, এটা আমাদের জন্য ইতিবাচক দিক।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি মানবসৃষ্ট দুর্যোগও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের বছরে কমপক্ষে ৩০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। তিনি জানিয়েছেন, সামনে আইএমএফের সঙ্গে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের নেগোসিয়েশন করবেন।

    সালেহউদ্দিন আহমেদ উল্লেখ করেন, সাংবাদিকদের দায়িত্ব হলো জলবায়ু পরিবর্তন ও এর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা ছড়ানো। জাপানের শিক্ষার্থী ও তরুণরা এই বিষয়ে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি করছে, আমরাও সেই পথে হাঁটতে হবে। শিশুদের ছোটবেলা থেকেই এই বিষয়ে সচেতন করে তুলতে হবে যেন ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হয়।

    অতিথিদের মধ্যে পিকেএসএফের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এই শতাব্দীর সবচেয়ে বিপজ্জনক সমস্যা। এ ব্যাপারে সচেতনতা ও কাজের অগ্রগতি অবিলম্বে প্রয়োজন।

    বিশেষ অতিথি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী বলেন, জলবায়ু তহবিল থেকে অর্থ সংগ্রহের জন্য আমরা নানা প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। এর জন্য আমাদের ক্ষতির গল্পগুলো তুলে ধরা গুরুত্বপূর্ণ, যাতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সহায়তার জন্য চাপ তৈরি হয়।

    আরেকজন বিশেষ অতিথি ও প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সিলেটে দুশ্চিন্তার বিষয় বেড়েছে, যেমন পানি বৃদ্ধি, মাতৃমৃত্যু ইত্যাদি। এসব পরিস্থিতি বৈশ্বিক স্তরে তুলে ধরতে না পারলে, অর্থের জন্য কেস তৈরি হওয়া কম হবে।

    উল্লেখ্য, এই তিন দিনের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের মোট ৬০ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করছেন।

  • স্বর্ণের দাম চরমে পৌঁছে নতুন রেকর্ড

    স্বর্ণের দাম চরমে পৌঁছে নতুন রেকর্ড

    দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে আবারও ব্যাপক বৃদ্ধি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানা গেছে, স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান স্বাক্ষরিত এই ঘোষণা মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হবে।

    নতুন দাম অনুযায়ী প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ১,২৬০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে, সবচেয়ে মানসম্পন্ন ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮২ হাজার ৮১০ টাকা। অপরদিকে, ২১ ক্যারেটের এক ভরি মানে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৫০৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি ১ লাখ ৪৯ হাজার ৫৬৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি দরে নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৪২ টাকা।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের মূল্য বেড়েছে। তাই সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এর আগে, ৭ সেপ্টেম্বর বাজুস ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম এক লাফে ২৭১৮ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ১ লাখ ৮১ হাজার ৫৫০ টাকা নির্ধারণ করে, যা আগে ছিল ১ লাখ ৭৮ হাজার ৮৩২ টাকা। এটি ছিল তখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ দাম।

  • স্বর্ণের দাম তৃতীয় দিন ধরে বেড়ে চলেছে

    স্বর্ণের দাম তৃতীয় দিন ধরে বেড়ে চলেছে

    দেশের বাজারে স্বর্ণের মূল্য ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে তৃতীয় দিনেও নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে এক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানিয়েছে, ভরির ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের মূল্য বাড়িয়ে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৯৪৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে উচ্চ মূল্য, যা গতকাল থেকে কার্যকর হবে।

    বাজারের পরিস্থিতি বিবেচনা করে, বিশেষ করে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বৃদ্ধির ফলে এই নতুন দাম ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন মূল্য অনুযায়ী, ১১.৬৬৪ গ্রাম বা একটি ভরি ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮৫ হাজার ৯৪৭ টাকা। এর পাশাপাশি অন্যান্য মানের স্বর্ণের দামের মধ্যে ২১ ক্যারেটের ভরি ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫০৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ১ লাখ ৫২ হাজার ১৪৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরি মূল্য ১ লাখ ২৬ হাজার ১৪৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এর আগে গতকাল, অর্থাৎ সোমবার, স্বর্ণের মূল্য সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। সে দিন বাজুস ভরি ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮২ হাজার ৮১০ টাকা নির্ধারণ করে, যা আগের মূল্য থেকে ১ হাজার ২৬০ টাকা বেশি। এর আগে, ৯ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া তুলনায় সেটিও ছিল দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ দামের দেখানো।

    এছাড়া, ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম বেঁধে দেওয়া হয়েছিল ১ লাখ ৭৪ হাজার ৫০৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ১ লাখ ৪৯ হাজার ৫৬৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের জন্য ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৪২ টাকা।

    পূর্ববর্তী দিন, সোমবারের মধ্যে, ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২৭০০ টাকার বেশি বাড়িয়ে ১ লাখ ৮১ হাজার ৫৫০ টাকা নির্ধারণ করেছিল বাজুস। এটা ছিল তার আগে সর্বোচ্চ দামের রেকর্ড।

    এখন পর্যন্ত, এই বছর ৫২ বার স্বর্ণের দামের সমন্বয় করা হয়েছে, যেখানে ৩৬ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং মাত্র ১৬ বার দাম কমেছে।

    অপরদিকে, রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। দেশে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৮১১ টাকায়। অন্যান্য মানের জন্য মূল্য হলো: ২১ ক্যারেটের রুপার জন্য ২ হাজার ৬৮৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২ হাজার ২৯৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম নির্ধারিত হয়েছে ১ হাজার ৭২৬ টাকায়।

  • খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছাড়িয়ে যেতে পারে ৬ লাখ কোটি টাকা

    খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছাড়িয়ে যেতে পারে ৬ লাখ কোটি টাকা

    অতিরিক্ত ঋণ খেলাপির সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ দেশের খেলাপি ঋণের মোট পরিমাণ প্রায় ৬ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিশেষ করে রাষ্ট্রায়ত্ত চারটি বৃহৎ বাণিজ্যিক ব্যাংকের পরিস্থিতি সবচেয়ে নাজুক। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাস্তব চিত্র প্রকাশে যখনই নতুনভাবে অডিট বা বিশ্লেষণ হয়েছে, তখনই খেলাপি ঋণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এটি অবশ্যই কেবলমাত্র অর্থনৈতিক উপসর্গ নয়; এর পেছনে রয়েছে শিল্পের মালিকদের বিদেশে পালিয়ে যাওয়া, কারখানা বন্ধ এবং অপপ্রয়োগের কারণে ঋণের পরিমাণ বাড়ার প্রবণতা।

  • পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুটি কোম্পানির শেয়ার কারসাজিতে কারাদণ্ড ও জরিমানা

    পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুটি কোম্পানির শেয়ার কারসাজিতে কারাদণ্ড ও জরিমানা

    পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুই কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে কারসাজির মাধ্যমে সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের দায়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) মোট ৪৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা জরিমানা আরোপ করেছে। কমিশনের পরিচালিত তদন্তে জানা গেছে, নিউ লাইন ক্লোথিংস লিমিটেডের শেয়ার কারসাজির জন্য চার ব্যক্তিসহ এক প্রতিষ্ঠানকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সসহ কোম্পানি লিমিটেডের শেয়ার কারসাজির অভিযোগে দুই ব্যক্তির উপরও জরিমানা আরোপ করা হয়। এ জরিমানা আদেশ বুধবারের ৯৭২তম কমিশন সভায় গৃহীত হয়, যেখানে সভাপতিত্ব করছিলেন বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ। সভার শেষে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, নিউ লাইন ক্লোথিংসের শেয়ার লেনদেনের কারসাজিতে জড়িত থাকায় মোঃ রিয়াজ মাহমুদ সরকারকে ১ কোটি ১৪ লাখ টাকা, আবুল বাসারকে ৪ কোটি ২ লাখ টাকা, সরকার প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিশিংকে ৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা, মোঃ সেলিমকে ১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা এবং জামিলকে ২ কোটি ২০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এ সকল শাস্তি ২০২১ সালের ২৪ মে থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত שערকৃত শেয়ার কারসাজির জন্য এ জরিমানা কার্যকর করা হয়। অপরদিকে, পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে কারসাজির দায়ে এনআরবি ব্যাংকের তৎকালীন প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মোহাম্মাদ কামরুল হাসানকে ৭৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে, তাকে পদচূড়ান্ত, চাকরি থেকে বিরত এবং পুঁজিবাজারের সব ধরনের লেনদেন থেকে ৫ বছর জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বীমা কোম্পানিটির পক্ষ থেকে শেয়ার কারসাজির জন্য শেখ ফকরুল আহমেদকে ৩০ কোটি ৩২ লাখ টাকা জরিমানা দেওয়া হয়। এই জরিমানা ২০২১ সালের ২৪ মে থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলমান শেয়ার লেনদেনের সময়কালে করা হয়। একই সম্মেলনে, ফরচুন সুজ লিমিটেডের শেয়ার কারসাজির বিষয়ে অনুসন্ধান ও তদন্ত প্রতিবেদন দুর্নীতি দমন কমিশন ও অর্থমন্ত্রাণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া, এই শেয়ার কারসাজিতে জড়িত মোঃ আবুল খায়ের হিরু ও তার সহযোগীদের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছেও অনুরোধ জানানো হয়েছে।

  • ডাকসু নির্বাচনে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদের মন্তব্য

    ডাকসু নির্বাচনে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদের মন্তব্য

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন শেষ হওয়ার পর বিজয়ীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, যারা নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন, তাদের আমি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। এটি প্রকৃতপক্ষে গণতন্ত্রের একটি স্বাভাবিক রীতি। গণতন্ত্রে সবাইকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে শুভেচ্ছা জানানো একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। তবে, নির্বাচনের সময় কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়েছেও, যা বহুদিন পর হওয়া এই নির্বাচনের স্বাভাবিক একটি অংশ। এজন্য কোনও দুশ্চিন্তার বিষয় নেই বলে তিনি মত ব্যক্ত করেন। বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে এক আলোচনা সভায় এই কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ছাত্র ও যুবশিক্ষার্থীদের আন্দোলনই সামাজিক পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি। তিনি উল্লেখ করেন, বিএনপির নেতা হিসেবে তিনি মনে করেন, বাংলাদেশে ইসলামী ছাত্রশিবির সরাসরি ডাকসু নির্বাচনে অংশ নেয়নি। তবে, শিবির-সমর্থিত অন্য একটি ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের প্রতি তিনি শুভকামনা ও সমর্থন প্রকাশ করেন। এই শিক্ষা জোটের প্রতি তিনি অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, তাদের সঙ্গে আমাদের শুভ সম্পর্ক রয়েছে। তিনি বলেন, ডাকসু ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চাকসু) ভবিষ্যৎ নেতৃত্বগণ বেশিরভাগই বড় রাজনীতিবিদoney হয়েছেন বা হচ্ছেন। আবার অনেকেই এখনো বীক্ষিতভাবে সংগ্রাম করে চলেছেন। এই সবই শিক্ষাঙ্গনের রাজনীতি ও জাতীয় রাজনীতির বাস্তব চিত্রের একটি প্রতিফলন, যা তিনি ‘পোস্টমর্টেম’ হিসেবে অভিহিত করেন। সালাহউদ্দিন আহমদ আরও উল্লেখ করেন যে, বড় রাজনৈতিক দলের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা ছাড়া ডাকসুর নির্বাচিত নেতারা বড় রূপে জাতীয় রাজনীতিতে তেমনভাবে উঠতে পারেননি। তাই, ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে বৃহৎ রাজনৈতিক সম্পর্ক অপরিহার্য বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ছাত্র রাজনীতি এখনো গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, দেশের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পরিবর্তনের অনেকগুলি ধাপ ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে এসেছে। ছাত্র সংসদ ও ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমেই এসব পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে এবং হবে।

  • আমার যাত্রা এখানেই শেষ নয়, ইশতেহারে যা ছিল তা আদায় করব : আবিদুল

    আমার যাত্রা এখানেই শেষ নয়, ইশতেহারে যা ছিল তা আদায় করব : আবিদুল

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ছাত্রদলের সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান বলেছেন, তিনি নির্বাচনে নিজের ইশতেহারে যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা পূরণ করার জন্য সব চেষ্টা করবেন। তার এই যাত্রা এখানেই শেষ হয়নি; বরং নিজের সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি তিনি বিশ্বাস করেন, ছাত্ররাজনীতির নতুন সূচনা তাঁরাই করবেন যারা হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করবেন। বুধবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে, গতকাল মঙ্গলবার তিনি ডাকসু নির্বাচনে শিবিরের প্রার্থী সাদিক কায়েমের কাছে হেরে যান। নির্বাচনের रातে তিনি এক ফেসবুক পোস্টে ফলাফলের কারচুপি ও নির্বাচনকে প্রহসন বলে উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

    উল্লেখ্য, ডাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) শীর্ষ তিন পদে শিবিরের প্যানেল জয়ী হয়েছেন। ভিপি পদে ১৪ হাজার ৪২ ভোট পেয়ে জয় লাভ করেছেন শিবিরের প্রার্থী মোঃ আবু সাদিক কায়েম। অন্যদিকে, ছাত্রদলের আবিদুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৫ হাজার ৭০৮ ভোট।

    বুধবার দুপুরের পর আবিদুল ইসলাম এক পোস্টে লিখেছেন, ‘আমার জীবনের এত বড় সাহসিকতা ও অর্জনে আমি নিজেকে এত দূর আসার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। নির্বাচনের আগের রাতে খালেদ মুহিউদ্দিন ভাই আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, পাঁচ বছর পর নিজেকে কোথায় দেখতে চান? আমি তখন নির্দিষ্ট কোনো উত্তর দিতে পারিনি। আমি আসলে কখনোই জানতাম না, নিজের ভবিষ্যৎ কোথায়। আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে নিজেকে রাজপথে উজাড় করে দিয়েছি, আর সেই পথই আজ আমাকে এত দূর নিয়ে এসেছে।’

    তিনি আরো বলেন, ‘শুরুতেই মিডিয়ার অপপ্রচার ও নানা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন তিনি। তবে তিনি আশাবাদী, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের একটি সুষ্ঠু তদন্ত হবে এবং যথাযথ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

    আবিদ উল্লেখ করেন, ‘আমরা কেউ পারসল না, আমি জানি আমি সবকিছু করতে পারিনি। জীবন আমাকে সেই সুযোগও দেয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ভাই-বোনের জন্য আমি অন্তর থেকে ধন্যবাদ জানাই। মাত্র ২০ দিনের ক্যাম্পেইনে আমি চেষ্টা করেছি প্রত্যেক ছাত্রের কাছে পৌঁছানোর; অনেকের কাছাকাছি যেতে পেরেছি, কিন্তু সবাইকে স্পর্শ করতে পারিনি। তবে এটাই না শেষ, আমার যাত্রা আরও দীর্ঘ।’

    আবিদ নিজেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের একজন নিবেদিত নেতাও উল্লেখ করে বলেন, ‘আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, নির্বাচনে যা যা ইশতেহারে বলেছি, তা আদায় করতে প্রয়োজনীয় সব কিছু করব। নতুন ছাত্ররাজনীতি শুরু আমাদের হাতেই হবে। আমরা রাজপথে সতর্ক পাহারাদার হয়ে থাকব, দেশের সকল শিক্ষার্থীর উন্নয়নের জন্য কাজ করব। ইনশাআল্লাহ, আপনি ভবিষ্যতে দেখতে পাবেন এর ফলাফল। আমি কখনো আপনাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হব না।’

    সবশেষে, মরহুম নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের বিখ্যাত উক্তি দিয়ে তিনি তার বিশ্বাস প্রকাশ করেন: ‘আমাদের অল্প আশাহতিকে গ্রহণ করতে হবে, কিন্তু কখনোই অসীম আশা হারাতে পারি না।’

  • ডাকসু নির্বাচনের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যত জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাব ফেলবে, বলে দাবি মান্নার

    ডাকসু নির্বাচনের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যত জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাব ফেলবে, বলে দাবি মান্নার

    নাগরিক ঐক্যের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক সহ-সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না মনে করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনার পথে অন্যতম মাইলফলক হয়ে উঠছে। বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভার শিরোনাম ছিল ‘বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ: সংস্কার বাস্তবায়নের পথরেখা’ এবং এটি আয়োজন করেছিল গণতন্ত্র মঞ্চ।

    মান্না সতর্ক করে বলেন, বর্তমানে রাজনীতি মূলত মিথ্যাচার, চাঁদাবাজি এবং ক্ষমতা দখলের সংগ্রামের রূপ নিয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদি টেকসই নয়। তিনি বলছেন, রাজনৈতিক দলগুলো এখনো সুযোগ পেলে দাঁড়িয়ে উঠতে পারে, কারণ সাধারণ জনগণ বিকল্পের খোঁজে রয়েছে।

    ডাকসু নির্বাচনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামি এবং ছাত্রশিবিরের মতো কুচক্রী দলগুলো এখন নিজস্ব শক্তি বৃদ্ধি করছে, যা আগে কোনোভাবেই দেখা যায়নি। আগে তারা মাথা না তুলে থাকতে পারত, এখন তারা রাজনৈতিক দুনিয়ায় সুন্দরভাবে নিজেদের জায়গা করে নিচ্ছে, এবং বড় দলগুলোর জন্যও তারা চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। তিনি যোগ করেন, মুক্তি ও স্বাধীন চিন্তাধারা দিয়ে এখন ছাত্ররা নিজেদের ভিন্ন প্রমাণ করছে, যা বড় দের জন্য এক ধরণের সতর্কবার্তা।

    মান্না আরও বলেন, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ডাকসু নির্বাচন এবং মানুষের প্রত্যাশা উল্লেখ করে, এখনো অনেকেই প্রশ্ন করেন, ভোট কি হবে? তবে তিনি বলছেন, এই নির্বাচন প্রমাণ করেছে, সুষ্ঠু ভোটাধিকার সম্ভব; যদিও অনেকের জন্য এটি অবিশ্বাস্য শোনায়। ছাত্রসমাজের সাহসকেও তিনি স্বাগত জানান। অতীতে স্বাধীনভাবে প্রার্থী দাঁড়ানো খুবই দুর্লভ ছিল, এখন তা হওয়ায় পরিবর্তনের ভবিষ্যদ্বাণী দৃঢ় হয়। তিনি বিশেষ করে উল্লেখ করেন যে, এখন আর বড় জনসভা নয়, বরং সোশ্যাল মিডিয়া ও তরুণ প্রজন্মের মতো নতুন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে রাজনীতি গড়ে উঠছে। এই বয়সের ছাত্ররা বুঝতে পেরেছে, রাজনীতি মানে আন্তরিকতা, সংগ্রাম এবং অঙ্গীকার; এটি লুটপাট বা ক্ষমতার শর্টকাট রাস্তা নয়।

    মান্না আরো বলেন, ছাত্ররা যেন নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে। তিনি অনুমান করেন, ভবিষ্যতে অখণ্ডতা ও সংস্কার ছাড়া কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তিনি কথাকে সামনে রেখে বলেন, সংকটের সমাধানে সুপ্রিম কোর্টের রায় গ্রহণযোগ্য এবং সব দলকেই সেটি মেনে চলা উচিত।

    তাঁর মতে, রাজনীতি কোনও হালকাভাবে নেওয়ার বিষয় নয়; এটি মানুষের জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত এক গুরুত্বপূর্ণ সংগ্রাম। তাই সবাইকে দায়িত্বশীল, সাহসী ও অংশগ্রহণমূলকভাবে রাজনীতি গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতের জন্য একটি সুন্দর নির্বাচন ও উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে ওঠার সম্ভবনা রয়েছে।

    আলোচনায় আরও অংশ নেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, যিনি বলেন, যদি ডাকসুর মতো ফল অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে হয়, তখনো এর কোনো কারণ নেই চিন্তার। এ নির্বাচনকে সামগ্রিক জাতীয় রাজনীতির সফলতা বা ব্যর্থতার পরিমাপক মনে করা ভুল হবে। তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনে বিপুল ভোটারের বিপরীতে মাত্র ৩২ হাজার ভোটের অর্থ, এটি অনেকটাই সামুদ্রিক একফোঁটা পানির মতো।

    অন্যদিকে, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন মন্তব্য করেন, স্বৈরশাসনের পরিচালনায় দুর্বৃত্তায়িত শাসন ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে, যেখানে গুম-খুন, আয়নাঘরসহ নানা ব্যাধি জন্ম নিয়েছে। এ জন্য যে কাঠামো ও আইনগত সংস্কার প্রয়োজন, এটি দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য আবশ্যক। তিনি বলেন, স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় যে আকাক্সক্ষা ছিল, সেই আন্দোলনের অংশীদাররাই এখন অন্যায়ভাবে শক্তি সঞ্চালন করছে।

    অবশেষে, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ুমের সভাপতিত্বে ও অন্যান্য বিশিষ্ট বক্তাদের অংশগ্রহণে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, যারা গণসংহতি আন্দোলন, নাগরিক ঐক্যসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা ছিলেন।

  • সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে সরকারের সফলতা হবে অপ্রাপ্তি

    সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে সরকারের সফলতা হবে অপ্রাপ্তি

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সুষ্ঠু, অবাধ এবং নিরপেক্ষ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করা একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ যা অন্তর্বর্তী সরকারকে মোকাবেলা করতে হবে। তিনি এ কথা বলেন বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে নাগরিক কোয়ালিশন দ্বারা আয়োজিত ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে। সেখানে তিনি বলেন, ‘একটি সুষ্ঠু নির্বাচন না হলে, অন্তর্বর্তী সরকারের এখতিয়ার এবং অর্জনগুলোও অপ্রতুল হয়ে পড়বে। আসলে, সফল সরকারী ক্ষমতা অর্জনের জন্য নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ এবং তাদের সফলতা এই নির্বাচন পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘আগামী ফেব্রুয়ারি নির্বাচন সামনে রেখে সব রাজনৈতিক দল একমত রয়েছে। কোনও দলই এ বিষয়ে দ্বিমত করছে না। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে, যেমন গণতন্ত্রের চর্চায় উন্নতি ও বিভিন্ন দিক থেকে ঐক্য। আমরা আশা করবো দ্রুত আলোচনা চালিয়ে গেলে সব পক্ষ ঐক্যমত প্রতিষ্ঠা করতে পারবে।’ সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নির্বাচন কমিশন যে রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে, সেটি অনুযায়ী কার্যক্রম চালিয়া যাচ্ছে। সরকারি ব্যর্থতা ও অক্ষমতার কারণে তিনি বাস্তবতা তুলে ধরেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না হলে, অন্তর্বর্তী সরকারের কোন অর্জনই থাকবে না।’ তিনি বলেন, নির্বাচিত জাতীয় সংসদই সংবিধান সংশোধনের শেষ কর্তৃত্ব রাখে। আলাদা প্রক্রিয়ায় গেলে পরবর্তীতে তা আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। তিনি জানান, শতাধিক সংস্কার প্রস্তাব মাঠে রয়েছে, তবে সব বিষয়ে সব দল একমত হওয়া সম্ভব নয়। তবে দেশের স্বার্থে এবং গণতন্ত্রের অগ্রগতির জন্য, তারা সব পক্ষের মধ্যে একটা সমঝোতা প্রতিষ্ঠা আশা করেন।

  • ডাকসু নির্বাচনে হেরেও প্রশংসায় ভাসছেন ছাত্রদল নেতা হামিম

    ডাকসু নির্বাচনে হেরেও প্রশংসায় ভাসছেন ছাত্রদল নেতা হামিম

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয় না পেলেও ছাত্রদলের নেতা শেখ তানভীর বারী হামিম অর্জন করেছেন সমর্থকদের ভালোবাসা ও সম্মান। তিনি নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে একটি পোস্টে লেখেন, আজকের ভোট অনুষ্ঠান বেশ উৎসবমুখর ছিল, তবে কিছু কেন্দ্রে অনিয়মের ঘটনা দেখা গেছে। বিশেষ করে গণনার সময় মেশিনের ত্রুটি, জালিয়াতি ও কারচুপি চোখে পড়েছে। তারপরও তিনি বললেন, যদি শিক্ষার্থীরা মনে করেন এটাই তাদের রায়, তাহলে আমি সেই রায়কে সম্মান জানাই। আমি শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া আরও শুনতে আগ্রহী। তাঁর এই প্রকাশ্যে মনের কথা জানানোর পর থেকে ছাত্রসমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা শুরু হয়। অনেকেই মন্তব্য করেন, এটা সত্যিই একজন উত্তম নেতা হওয়ার সূচক। শাহ আলম নামের একজন লিখেছেন, ‘সঠিক সিদ্ধান্ত। এটাই নতুনত্ব, এটাই Juli এর চেতনা।’ সাদিকুর রহমান বললেন, ‘আপনাকেই এই প্রত্যাশা ছিল ভাই। এবার হয় নাই, কিন্তু আপনি একদিন বড় নেতা হবেন।’ মিলন হাসান স্বাধীন মন্তব্য করেন, ‘ভাবাজী সহনশীলতাই নেতার গুণাবলি, যা আমরা আপনার কাছে দেখতে পেয়েছি।’ মোহাম্মদ মিলন লিখেছেন, ‘আজিজুল বারী ভাইয়ের ভাতিজা বলে কথা! খানদানী বংশের একজন খাটি রাজনীতিবিদ।’ এই পোস্টে প্রিয় ছাত্রদল নেতাকে শুভকামনা জানিয়ে الكثيرেই মন্তব্য করেছেন। এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ লিখেছেন, ‘এটাই একজন সত্যিকারের নেতার আচরণ,’ যার মন্তব্যে ১১ হাজারের বেশি রিঅ্যাকশন দেখা গেছে। অন্যদিকে, সারজিস আলম বলেছেন, ‘আমাদের ভবিষ্যৎ নেতা,’ যার পোস্টে প্রায় ৬ হাজার রিঅ্যাকশন পড়েছে। এভাবেই নানা ধরনের শুভেচ্ছা ও প্রশংসায় ভাসছেন এই ছাত্রদল নেতা, যা তাকে আরো মানুষের হৃদয়ে স্থান করে দিয়েছে।