Month: September 2025

  • প্রধান উপদেষ্টা নিউইয়র্ক সফরে ফখরুল, তাহেরসহ চার রাজনীতিবিদের সাথে যাচ্ছেন

    প্রধান উপদেষ্টা নিউইয়র্ক সফরে ফখরুল, তাহেরসহ চার রাজনীতিবিদের সাথে যাচ্ছেন

    জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে অংশগ্রহণের জন্য প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ یونূস আগামী ২১ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে নিউইয়র্কের জন্য ঢাকা ত্যাগ করবেন। তাঁর এই গুরুত্বপূর্ণ সফরে তার সঙ্গে থাকবেন চারজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতিবিদ। তারা হলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতে ইসলামের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুলাহ মুহাম্মদ তাহের, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

    বুধবার বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোঃ তৌহিদ হোসেন এ তথ্য জানান। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে যোগদানের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরতেই এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

    পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, দেশের চলমান পরিস্থিতির কারণে চারজন রাজনীতিবিদ প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন। তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা ২১ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে দেশের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবেন এবং ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক পৌঁছাবেন। তিনি ফিরবেন ২ অক্টোবর।

    ২৬ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রধান উপদেষ্টা তার ভাষণ প্রদান করবেন। এসব ভাষণে তিনি গত এক বছরে দেশে ঘটে যাওয়া সংস্কারগুলো ও ভবিষ্যতে অনুষ্ঠিত হবে এমন নির্বাচন নিয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন।

    এছাড়া, এই বছর পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। কারণ, ৩০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির সভাপতিত্বে ‘হাই লেভেল কনফারেন্স অন দ্য সিচুয়েশন অব রোহিঙ্গা মুসলিমস এন্ড অ্যাথার মাইনোরিটিজ ইন মিয়ানমার’ শীর্ষক একটি উচ্চ পর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হবে। এই সভা রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে, গত মাসে কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক অংশীদার ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি অংশীদার সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল যাতে দ্রুত সমস্যা সমাধানে কার্যকর পরিকল্পনা গৃহীত হতে পারে।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার, সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহমদ প্রমুখ।

  • দায়িত্বশীল নেতৃত্বের মাধ্যমে আস্থা ও উন্নয়নে মনোযোগ বিএনপির

    দায়িত্বশীল নেতৃত্বের মাধ্যমে আস্থা ও উন্নয়নে মনোযোগ বিএনপির

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে আমাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো দেশের প্রতিটি ভোটারদের আস্থা পুনরায় প্রতিষ্ঠা। তিনি আরও উল্লেখ করেন, তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে দলটি তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে সংগঠনের ভিত্তিকে শক্তিশালী করছে। এই প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা চাই স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে বিশ্বাস জোড়াতেল করা।

    বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই কথা ব্যক্ত করেন তিনি। তারেক রহমান লিখেছেন, নানা অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে সাত হাজারের বেশি দলের সদস্যের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও অসদাচরণের কারণে অনেককে বহিষ্কার করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে অনেক কষ্টের হলেও, বাস্তবতা বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া অপরিহার্য ছিল। তিনি বলেন, শৃঙ্খলা দুর্বলতা নয়, বরং আমাদের শক্তির পরিচায়ক; সদস্যদের দায়বদ্ধতা তৈরি করে আমরা আবারও প্রমাণ করতে চাই যে, বিএনপি সততার প্রতি আন্তরিক।

    তারেক রহমান আরও জানান, তরুণরা রাজনীতিকে শুধুমাত্র ক্ষমতার খেলার মাঠ হিসেবে দেখে না, বরং এটি একটি বৃহৎ গণতান্ত্রিক ক্ষেত্র যেখানে সবার অংশগ্রহণ অপরিহার্য। তিনি বলেন, আগামী প্রজন্মের জন্য আধুনিক ও সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্র গড়ে তোলার জন্য বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এর জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পেশা সৃষ্টি, জলবায়ু পরিবর্তন, এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির মতো ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে নীতিমালা গড়ে উঠছে। নারীর সমParticipateতায়ন বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অগ্রগতি আসবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

    তিনি উল্লেখ করেন, দেশের বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো ভিন্ন ধরনের, তাই আমাদের পদক্ষেপও হতে হবে নতুন চিন্তার ভিত্তিতে। তবে ইতিহাসে বিশ্বাস রেখে এগিয়ে যেতে চান। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়েছিলেন, যারা জনগণের সংখ্যাশক্তিকে শক্তি হিসেবে কাজে লাগিয়েছিলেন। আর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়েছিলেন। তারা দুজনের সেই লড়াই ও প্রত্যাশাকে সামনে রেখে নতুন যুগে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা।

    তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ঐতিহ্যবাহী, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও ভবিষ্যতপ্রোড পন্থায় এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি জানান, তরুণরা বাস্তব সুযোগ চায়, তারা কুচক্রী বুলি নয়। তারা চায় স্থিতিশীলতা, বিশৃঙ্খলা নয়। বিশ্ব نیز প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ একটি বিশ্বাসযোগ্য ও মর্যাদাসম্পন্ন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হোক। এসব লক্ষ্য পূরণে বিএনপি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

    অंतিমে, তিনি সকল নেতা-কর্মী ও সহকর্মীদের একত্রিত হয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকুন, শৃঙ্খলা রক্ষায় অবিচল থাকুন। নিজের ওপর আস্থা রাখতে বলেতো, তার একটাই বার্তা — একসাথে আমরা প্রমাণ করবো যে, বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহি মূলক রাষ্ট্র তৈরি সম্ভব। ইনশাআল্লাহ, আমাদের স্বপ্নের বাংলাদেশের নির্মাণে আসুন, একসাথে এগিয়ে যাই।

  • বিএনপি ৭ হাজারের বেশি সদস্যকে পদচ্যুত ও বহিষ্কার: তারেক রহমান

    বিএনপি ৭ হাজারের বেশি সদস্যকে পদচ্যুত ও বহিষ্কার: তারেক রহমান

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জানিয়েছেন, দলের মধ্যে বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে এখন পর্যন্ত ৭ হাজারেরও বেশি সদস্যের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আজ বৃহস্পতিবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে এ তথ্য প্রকাশ করেন।

    তারেক রহমান উল্লেখ করেন, দলীয় নীতি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নানা অপ্র ক্লান্তির মধ্যেও এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তিনি জানান, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি এবং অসদাচরণের অভিযোগে অনেককে পদচ্যুত ও বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি বলেন, এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ ছিল না, তবে বর্তমান পরিস্থিতির জন্য এটি খুবই জরুরি ছিল। তার মতে, শৃঙ্খলা হালকা কোনো দুর্বলতা নয়, বরং আমাদের শক্তির ভিত্তি।

    তিনি আরও বলেন, দলের সদস্যদের দায়বদ্ধতা ও আন্তরিকতার মাধ্যমে বিএনপি প্রমাণ করবে, তারা সততার ব্যাপারে অঙ্গীকারবদ্ধ। ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নিজের মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা করে বিএনপি নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিষ্কারভাবে বোঝাচ্ছে।

    তারেক রহমান আশা প্রকাশ করেন, তরুণ প্রজন্মের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে দলটি কঠোর পরিশ্রম করছে। গ্রাম থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত দলটির সাংগঠনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে, যাতে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়।

    তিনি বলেন, আমরা চাই জনগণের আস্থা পুনর্গঠন, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে। তারা কেবল ক্ষমতার খেলা দেখতেই চায় না, বরং চায় সব শ্রেণির মানুষের অংশগ্রহণে গড়ে উঠা একটি সঠিক ও মহান সমাজ।

    তারেক রহমান আরও জানান, বিএনপিকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করে তোলা হচ্ছে। দল জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেবে এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, তরুণদের কর্মসংস্থান, জলবায়ু পরিবর্তন ও ডিজিটাল প্রযুক্তি নিয়ে ৩১ দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে দল চালাবে।

    তিনি যোগ করেন, আমরা অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে চাই, যাতে বেশি নারী, তরুণ ও পেশাজীবী নেতৃত্বের অংশগ্রহণ ঘটাতে পারি, ফলে জাতি আরও এগিয়ে যাবে এবং রাজনীতি সেবামূলক হবে।

    তারেক রহমান আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বিএনপির পরিচয় হবে সেবা, ন্যায়বিচার ও দক্ষতার প্রতীক। তিনি উল্লেখ করেন, বিভাজন বা সুবিধাভোগের পরিচয় নয়, বরং একটি ন্যায্য, সৎ ও কার্যকরী দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

    প্রসঙ্গত, দেশের বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো সময়ের দাবি অনুযায়ী দলের চালকের পরিবর্তন দাবি করছে। কিন্তু বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সংগ্রামকে অস্বীকার করেন না। তারা সেই সংগ্রামের আলোকে এগিয়ে চলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

    তারেক রহমান বলেন, তরুণরা বাস্তব সুযোগ চাই, তারা ভয়াবহ নয়, ফাঁকা বুলি চায় না। জনগণ চায় স্থিতিশীলতা, তারা বিশৃঙ্খলা পছন্দ করে না। তারা চায় বিএনপি একটি বিশ্বাসযোগ্য ও মর্যাদাপূর্ণ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে তুলুক।

    শেষে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আসুন আমরা একত্রে থাকি, শৃঙ্খলাবদ্ধ থাকি এবং জনগণের সেবায় অঙ্গীকারবদ্ধ থাকি। আমি আপনাদের ওপর আস্থা রাখি, আপনাদেরও আমার প্রতি আনুগত্য প্রত্যাশা করি। এই একতা ও বাস্তবতা দিয়ে আমাদের গণতন্ত্রকে আরও উজ্জ্বল করে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।

  • হেফাজত আমিরের বার্তা: ইসলামী দলগুলোর ঐক্য ও সতর্কতা হওয়া জরুরি

    হেফাজত আমিরের বার্তা: ইসলামী দলগুলোর ঐক্য ও সতর্কতা হওয়া জরুরি

    হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল­আমা শাহ মুহিব্বুল­আলাহ বাবুনগরী বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনে এমন কাউের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়া উচিত নয় যারা ভ্রান্ত আকিদার আশপাশে রয়েছে। আমাদের পূর্বপুরুষরা এ বিষয়ে কঠোর সতর্কতা দিয়েছেন। তিনি বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে জমিয়তে উলামা ও আলেমদের উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় উলামা মাশায়েখ সম্মেলনে এই বক্তব্য রাখেন।

    বলেন, ‘আমাদের সবাইকে অবশ্যই সহিহ আকিদার ভিত্তিতে কাজ করতে হবে। যারা ইসলামের ক্ষতি করবে, তাদের সাথে একজ্জো দেওয়া বা ঐক্যবদ্ধ হওয়া থেকে বিরত থাকা আমাদের জন্য জরুরি। আমরা মনে করি, তারা যারা এমন ভুল ধারণার আওতায় আসছে, তাদের ব্যাপারে আমাদের পূর্বপুরুষরা সতর্ক বার্তা দিয়েছেন। তাদের ভ্রান্ত আকিদা সম্পর্কে অনেক লেখা-পত্রও রচিত হয়েছে। সেজন্য আমাদের উচিত তাদের সঙ্গে জোট বাঁধা বা তাদের সমর্থন না দেয়া।’

    আলোচনায় তিনি আরো বলেন, ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের অফিস স্থাপন করা দেশের স্বাধীকারের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। এটি দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য একটি ক্ষতিকর পদক্ষেপ।

    বাবুনগরী আরও উল্লেখ করেন, ‘আপনাদের কখনোই এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন না যা ইসলামের ইলম ও ওহির ক্ষতি করে। দাওয়াতে তাবলিগ ও মসজিদ-মাদরাসাগুলো যেনো কোনভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটাও আপনাদের লক্ষ্য হতে হবে।’

    সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জমিয়তের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা উবায়দুল­াহ ফারুক। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন হাটহাজারী মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা খলিল আহমদ কুরাইশী, হেফাজতের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান, বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক এবং জমিয়তের শীর্ষ নেতারা।

  • অন্তর্বর্তী সরকার ছাড়া জনগণের পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন বাধ্যতামূলক: ইসলামী আন্দোলনের তরফ থেকে ঘোষণা

    অন্তর্বর্তী সরকার ছাড়া জনগণের পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন বাধ্যতামূলক: ইসলামী আন্দোলনের তরফ থেকে ঘোষণা

    ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করিম বলেছেন, যদি কোনও কারণে অন্তর্বর্তী সরকার চাপের মুখে পিআর (প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচনী ব্যবস্থা) পদ্ধতিতে নির্বাচন না দেয়, তবে জনগণ নিজ উদ্যোগে এই পদ্ধতিতেই নির্বাচন সম্পন্ন করবে। তিনি আরও জানান, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন নিয়ে বিএনপির কোনও আপত্তি থাকার কথা নয়, কারণ তাদের উচ্চ পর্যায়ের একজন নেতা ইতিমধ্যে দাবি করেছেন, নির্বাচনে তারা শতকরা ৯০ শতাংশ ভোট পেতে পারেন।

    বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেইটে দলের বিক্ষোভ মিছিল শেষে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

    ফয়জুল করিম বলেন, আমি মনে করি, ভারত এই লক্ষ্যটি পছন্দ করে না। এজন্য ভারতীয় আইনি বুনিয়াদ তৈরি করতে হবে। আপনাদের কি ভারতের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন? অন্তর্বর্তী সরকার কেবল নির্বাচনের জন্যই নয়; এটি আসার আগে তিনটি মূল কাজ সম্পন্ন করতে হবে—সংস্কার, দৃশ্যমান বিচার ব্যবস্থা, এবং নির্বাচন। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের জন্য পিআর পদ্ধতিই উপযুক্ত, কারণ এটি দেশের ৮০ শতাংশ জনগণের পক্ষে দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

    তিনি জানান, পিআর পদ্ধতিতে কোনওভাবেই ফ্যাসিবাদ বা অসচ্চরিত্রতা তৈরি হবে না, কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকবে না এবং ভোট ছিনতাইয়ের সম্ভাবনাও কমে যাবে। এ পদ্ধতিতে নির্বাচিত সংসদে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমন্বয় থাকবে—বাম-ডান, হিন্দু-মুসলিমসহ সকল সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব। ফলে জনগণ রাস্তায় নামার প্রয়োজন হবে না; সকল আন্দোলন সংসদেই হবে। যদি কারও সন্দেহ থেকে থাকে, তাহলে গণভোটের পদ্ধতিও ব্যবহার করা যেতে পারে। জনগণ চাইলে, তাদের ভোটে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের ব্যবস্থা হবে, অন্যথায় হবে না।

    মুফতি ফয়জুল করিম আরও বলেন, প্রাথমিক স্কুলে গান ও নাচের শিক্ষক নিয়োগ করা কোনওভাবেই ঠিক নয়। মুসলমানদের করের টাকায় এই ধরনের শিক্ষক নিয়োগ সুসম্পন্ন নয়, যদি কেউ দিতে চায়, তাহলে তাকে মসনদে থাকার দরকার নেই। শিক্ষকদের জন্য মূলত কম্পিউটার ও ধর্মীয় বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

    মিছিলের সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা উত্তর মহানগরীর সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ ইমতিয়াজ আলম। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মুফতি রেজাউল করিম আবরার, সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ ইবনে কাউয়ুম, ঢাকা-১১ আসনের এমপি প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

    অংশগ্রহণকারীরা শিল্পশক্তি ও গণহত্যার বিচার কেন জরুরি, তা তুলে ধরেন। তারা বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত এবং গণহত্যার বিচার দৃশ্যমান করতে হবে। এছাড়া ভারতের তাবেদার ও ফ্যাসিবাদীদের আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।

    বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্নস্থানে চলমান রাজনৈতিক হামলা সাধারণ মানুষকে ভীতি ও উদ্বেগে ফেলেছে। এ ধরনের অরাজকতা অস্বাভাবিক এবং নিন্দনীয়। দ্রুত হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি ষড়যন্ত্রের পেছনেও অন্যান্য ষড়যন্ত্র আছে কিনা সেটিও খতিয়ে দেখা উচিত।

    তারা উল্লেখ করেন, স্বৈরতন্ত্রের অবসান ও গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধারের জন্য নির্বাচনী ব্যবস্থা সংস্কার অপরিহার্য। জনগণের মতামতকে রাষ্ট্রের সিদ্ধান্তে আনতে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো আন্তঃপ্রতিনিধিত্বের (পিআর) পদ্ধতি। এই পদ্ধতিই দীর্ঘদিন ধরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দাবি করে আসছে। এর ধারাবাহিকতা পালন করে তারা সেপ্টেম্বর মাসব্যাপী সারাদেশে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে।

    তারা জানিয়েছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন অবশ্যই জুলাইয়ের সনদ অনুযায়ী পিআর পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সব ধরনের আন্দোলন চালিয়ে যাবে।

    অতঃপর, তারা ঘোষণা দেন, আগামীকাল শুক্রবার বিভাগীয় শহরগুলোতে ও ২৬ সেপ্টেম্বর সব জেলা ও উপজেলা কেন্দ্রীয় বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি পালন করবে।

  • তালেবানের আমंत्रণে আফগানিস্তানে যাচ্ছেন মামুনুল হকসহ শীর্ষ সাত আলেম

    তালেবানের আমंत्रণে আফগানিস্তানে যাচ্ছেন মামুনুল হকসহ শীর্ষ সাত আলেম

    ইমারাত এ ইসলামিয়া (তালেবান সরকার) কর্তৃক আমন্ত্রণ পেয়ে বাংলাদেশের শীর্ষ আলেমদের একটি প্রতিনিধিদল আফগানিস্তান সফরে পৌঁছেছেন। এই সফরে তারা প্রধান বিচারপতি, বিভিন্ন মন্ত্রী, শীর্ষ ধর্মীয় নেতা ও উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করবেন। বুধবার সকালে এই দল কাবুলে এসে পৌঁছান। দলটির মধ্যে আছেন খেলাফত মজলিসের চেয়ারম্যান মাওলানা মামুনুল হক, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল হামিদ (মধুপুরের পীর), মাওলানা আবদুল আউয়াল, মাওলানা আবদুল হক, মাওলানা হাবিবুল্লাহ মাহমুদ কাসেমী, মাওলানা মনির হোসাইন কাসেমী ও মাওলানা মাহবুবুর রহমান।
    বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সফরে তারা তালেবান সরকারের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বিষয়ে আলোচনা করবেন। বিশেষ করে মানবাধিকার, নারী অধিকারসহ পশ্চিমা দুনিয়ার সমালোচনা ও তাৎক্ষণিক পরিস্থিতির বিষয়গুলোও আলোচনা হবে। এর পাশাপাশি, বাংলাদেশের আলেমদের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়ন, কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার ও ব্যবসা, শিক্ষা ও চিকিৎসা খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাবে। আরো জানা গেছে, সফরে বাংলাদেশের আলেমরা ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করবেন।
    এর আগে, ১৪ সেপ্টেম্বর, মামুনুল হকসহ বাংলাদেশের আলেমদের এক দল সৌদি আরবের পবিত্র ওমরাহ পালন করার জন্য যান। ওমরাহ শেষ করে বুধবার সকালে তারা সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই হয়ে আফগানিস্তানে পৌঁছান। এভাবেই বাংলাদেশের এই আলেমেরা আফগানিস্তান ছাড়াও মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন দেশে আরও সফর করবেন বলে জানানো হয়েছে।

  • সীমান্ত বিরোধে মামলা ও ভোটের প্রস্তুতি: নতুন সিদ্ধান্ত আসছে

    সীমান্ত বিরোধে মামলা ও ভোটের প্রস্তুতি: নতুন সিদ্ধান্ত আসছে

    সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান আন্দোলন ও বিক্ষোভের কারণে নির্বাচন কমিশন (ইসি) গুরুত্বপূর্ণ যোগবিলম্বে রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, এ ধরনের ভাঙচুর বা উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এগুলো আদালতে পৌঁছেছে। আদালত থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে তা অনুযায়ী কমিশন গুরুত্ব সহকারে কাজ চালিয়ে যাবে। বৃহস্পতিবার তিনি নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের বলেন,

    ‘প্রবাসে থাকা ভোটাররা পোস্টাল ব্যালটের জন্য অনলাইনে নিবন্ধন করলে তারা আর নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন না। নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় অ্যাপ আবার কখন নাগাদ আপডেট হবে, তা পরে জানানো হবে।’

    আখতার আহমেদ আরও জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রাক-নির্বাচনি পর্যবেক্ষক দল ২২ সেপ্টেম্বর ইসিতে আসবে। ইতিমধ্যে ২২ দলের তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং এর প্রতিবেদন আগামী কমিশন সভায় উপস্থাপন করা হবে।

    তিনি বলেন, সংলাপের বিষয়গুলো খুব শিগগিরই ঠিক করা হবে। ৩১ অক্টোবরে তার আগে ১৮ বছর পূর্ণ করা নতুন ভোটারদের তালিকা যোগের কাজ চলমান। এছাড়া দেশের পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধনও প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে।

    সীমানা বিরোধ ও বিক্ষোভের বিষয়টি নিয়ে আখতার আহমেদ বলেন, ‘১৮টি রিট জমা পড়েছে। আমরা আদালতের নির্দেশনার অপেক্ষায় থাকবো।’ তিনি মান্য করেন, ভবিষ্যতে পর্যবেক্ষকদের রিপোর্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    সীমান্ত বিরোধের বিষয় আলোচনায় তিনি বলেন, ‘যেকোনো পরিস্থিতিতে ভাঙচুর একদম অপ্রত্যাশিত ও অনাকাঙ্ক্ষিত। বিষয়টি আদালতে গিয়েছে। সেখান থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে, তা আমাদের জন্য বাধ্যতামূলক। আইনের ধারায় বলা আছে, মামলা গ্রহণযোগ্য হবে না, কারণ এটি মৌলিক অধিকার।’

    অন্যদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি এগিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচনের প্রথম পর্যায়ে, মোট প্রয়োজনীয় উপকরণের ৭০ শতাংশ সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সচিব জানান, মোট ১০ ধরনের উপকরণ কেনা হচ্ছে, তাদের মধ্যে দুটো ইউএনডিপি দেবে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে। বাকি আটটি উপকরণ স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ চলছে।

    প্রস্তুতির অংশ হিসেবে, লাল গালা ঝুড়িতে ৯ হাজার ২০ কেজি, ৫০ লাখ ব্যালট বাক্সের মধ্যে ৬ লাখের লক, ৮ লাখ ৪০ হাজার অফিসিয়াল সিল থেকে ৬ লাখ, মার্কিং সিলের মধ্যে ৩ লাখ ৯৬ হাজার, ব্রাস সিলের মধ্যে ৯ হাজার ৯২০টি, ব্যাগ ও অন্যান্য উপকরণ সবই সংগ্রহে রয়েছে।

    অক্টোবরের মধ্যে ৯ লাখ ৪০ হাজার স্ট্যাম্প প্যাড ও কলম, ১ লাখ ১৫ হাজার গানি ব্যাগের পুনরায় দরপত্রের কাজ চলমান রয়েছে। নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় উপকরণের এগারো ভাগেরও বেশি সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে, যা শিডিউলমাফিক কাজ চলমান।

  • ফেলানীর ভাই আরফান বিজিবিতে যোগ দিলেন

    ফেলানীর ভাই আরফান বিজিবিতে যোগ দিলেন

    কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ির অনন্তপুর সীমান্তে ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি বাংলাদেশের ফেলানী খাতুনকে বিএসএফের গুলিতে হত্যা করা হয়। সেই সময় তার মরদেহ কাঁটাতার ঝুলে থাকায় দেশের মানুষের হৃদয়ে গভীর শোক ও আবেগের সৃষ্টি হয়েছিল। এই ঘটনার পর থেকে ন্যায় এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য পরিবারের লড়াই চলতে থাকলেও আজ অবশেষে তাদের স্বপ্ন পূরণের এক শুভ মুহূর্ত এসেছে।

    গত ২৩ ফেব্রুয়ারি লালমনিরহাটের ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সিপাহী নিয়োগ পরীক্ষায় এ জয় অর্জন করেন আরফান হোসেন। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর, বৃহস্পতিবার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন। এই সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার বাবা মো. নুরুল ইসলাম।

    মাত্র ১৫ বছর বয়সে ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই চালিয়ে যাওয়া ফেলানীর ছোট ভাই এখন দেশের জন্য কাজ করার সুযোগ পেয়ে গর্বিত। এই অর্জন তাকে নতুন জীবনের পথে এগিয়ে নিয়ে গেছে বলে তিনি জানান। সে বলে, ‘বাবা-মায়ের স্বপ্ন ছিল দেশের জন্য কিছু করব। ফেলানীর হত্যার ঘটনা আমাকে আরও বেশি প্রতিবাদী এবং দেশপ্রেমের জন্য উদ্বুদ্ধ করেছে। আজ সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় আমি খুবই আনন্দিত। বিজিবিকে ধন্যবাদ জানাই এই সুযোগ দেওয়ার জন্য।’

    বিজিবির লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম বলেন, ‘বিজিবি সব সময় ফেলানীর পরিবারের পাশে আছে। ফেলানীর ছোট ভাই এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন, আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে প্রশিক্ষণ শুরু করবেন। আমরা আশা করি, প্রশিক্ষণ শেষে তিনি একজন যোগ্য সৈনিক হিসেবে দেশসেবায় নিজেকে নিয়োজিত করবেন। সীমান্তে ভবিষ্যতে কোনও নৃশংসতা আর ঘটবে না, এই জন্য বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও সচেতন হয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

    ফেলানীর বাবাও পরে বলেন, ‘নিজের ছেলেকে এই চাকরি পাওয়া তার স্বনাম অর্জন, সবার দোয়া এবং পরিবারের সমর্থন ছিল। আমি বিশ্বাস করি, ছেলে সততার সঙ্গে কাজ করবে, তখন আমার মেয়ের আত্মা শান্তি পাবে।’

  • রোববার শুভ মহালয়া, ছুটি নেই সরকারি ছুটির তালিকায়

    রোববার শুভ মহালয়া, ছুটি নেই সরকারি ছুটির তালিকায়

    আগামী ২১ সেপ্টেম্বর রোববার পালিত হবে শুভ মহালয়া, যা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসব দুর্গাপূজার সূত্রপাতের দিন। এই উপলক্ষে এই বছর সরকারি কোনো ছুটি ঘোষণা করা হয়নি। ২০২৫ সালের সংক্রান্ত সরকারি ছুটির তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মহালয়ার জন্য আলাদা কোনো ছুটি ধার্য করা হয়নি। একইভাবে, বেশিরভাগ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধিকর্তৃপক্ষের ছুটির তালিকাতেও মহালয়ার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি। তবে অনেক মানুষ এদিন ঐচ্ছিক ছুটি নিয়ে থাকেন।

  • সরকারের সিদ্ধান্ত: দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত পৃথক করা হলো

    সরকারের সিদ্ধান্ত: দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত পৃথক করা হলো

    বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসছে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো, সম্পূর্ণভাবে আলাদা করা হলো দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত। এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য হলো মামলার নিষ্পত্তির গতি বৃদ্ধি ও দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা মামলাজট কমানো। বৃহস্পতিবার আইন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপন জারি করে এই নতুন ব্যবস্থা বাস্তবায়নের ঘোষণা দেয়।

    বর্তমানে, জেলা আদালতের বিচারকরা যুগ্ম জেলা জজ, অতিরিক্ত জেলা জজ এবং জেলা জজ—এই তিন ধরনের পদে কাজ করেন। তাদের একাধিক দায়িত্বে থাকা ও একাধিক ধরনের মামলার বিচার করতে হওয়ার কারণে মামলাজট বাড়ছে, পাশাপাশি বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘ হয়। দেখা যায়, দেশের সকল অধস্তন আদালতগুলোতে প্রায় ১৬ লাখ দেওয়ানি মামলা ও প্রায় ২৩ লাখ ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন, যেগুলোর মধ্যে ফৌজদারি মামলার সংখ্যা বেশি হলেও, সেটি পরিচালনা করতে এককভাবে বিচারকদের দ্বৈত দায়িত্ব রয়েছে। এর ফলে মামলার নিষ্পত্তির গতি কমে যায় এবং মামলা দীর্ঘসূত্রতা সৃষ্টি হয়।

    এই পরিস্থিতি সমাধানে, নতুনভাবে ২০৩টি অতিরিক্ত দায়রা আদালত ও ৩৬৭টি যুগ্ম-দায়রা আদালত প্রতিষ্ঠা করা হয়। এসব আদালত শুধুই ফৌজদারি মামলার বিচার করবে। এর ফলে, বিচারকদের দ্বৈত দায়িত্বের অবসান ঘটবে এবং বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত হবে। এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তে জেলা পর্যায়ে দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত সম্পূর্ণ পৃথক হয়ে যাবে। এর ফলে, উভয় ধরনের মামলার নিষ্পত্তির হার ও গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে, যা আগের চেয়ে মামলাজট কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করছে সংশ্লিষ্টরা।