Month: September 2025

  • বাংলাদেশের জন্য সুপার ফোরে যাওয়ার সমীকরণ এখন কী?

    বাংলাদেশের জন্য সুপার ফোরে যাওয়ার সমীকরণ এখন কী?

    এশিয়া কাপের ১৭তম আসরে জীবন রক্ষাকারী জয় দিয়ে শুরু করেছে বাংলাদেশ। আফগানিস্তানকে হারিয়ে তারা প্রথম শর্ত পূরণ করেছে, তবে এখনও নিশ্চিত নয় সুপার ফোরের টিকিট। কাউন্টার এই গন্তব্যে পৌঁছাতে হলে, বাংলাদেশকে তাকিয়ে থাকতে হবে গ্রুপ ‘বি’ এর শেষ ম্যাচের দিকে, যেখানে শ্রীলঙ্কা মুখোমুখি হবে আফগানিস্তানের।

    বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে সহজ সমাধান হলো, শ্রীলঙ্কা যদি জয় লাভ করে বা ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়, তাহলে তারা সরাসরি সুপার ফোরে পৌঁছাবে চার পয়েন্ট সংগ্রহ করে। এর ফলে কোনও জটিল সমীকরণের দরকার পড়বে না।

    তবে যদি আফগানিস্তান জিততে পারে? তখন পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত কঠিন হয়ে যাবে। তিন দলেরই পয়েন্ট হবে ৪, এবং তখন নির্ভর করবে নেট রান রেটে। আফগানিস্তানের বর্তমানে +২.১৫০, শ্রীলঙ্কার +১.৫৪৬, এবং বাংলাদেশের -০.২৭০।

    সম্ভাব্য পরিস্থিতি কীভাবে বদলে যেতে পারে?
    আফগানিস্তান যদি আগে ব্যাট করে ২০০ রান করে, আর শ্রীলঙ্কা ১২৮ রান তোলার মতো পরিস্থিতিতে থাকে, তাহলে বাংলাদেশের সুপার ফোরে যাওয়া নিশ্চিত হবে।

    অথবা, আফগানিস্তান যদি ১৫০ রান করে, তাহলে শ্রীলঙ্কাকে করতে হবে কমপক্ষে ৮৪ রান।

    এছাড়াও, যদি শ্রীলঙ্কা আগে ব্যাট করে, তাহলে আফগানিস্তানের জয় পেতে হলে ১১-১২ ওভারের মধ্যেই ম্যাচটি শেষ করতে হবে। তাতেই বাংলাদেশের জন্য সুপার ফোরে যাওয়া সম্ভব।

    এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মাঝে, বাংলাদেশ শেষ চারে পৌঁছানোর পথে। ক্রিকেটপ্রেমীদের চোখ এখন সেটাই আলাদা করে তাকানো পুরো গ্রুপের শেষ ম্যাচ, শ্রীলঙ্কা বনাম আফগানিস্তানের দিকে।

  • শেষমেষ পাকিস্তানের জয়: এশিয়া কাপের সিদ্ধান্ত আসছে

    শেষমেষ পাকিস্তানের জয়: এশিয়া কাপের সিদ্ধান্ত আসছে

    পাকিস্তান অবশেষে তার জয় ঘোষণা করে এশিয়া কাপের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করছে। এই পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে ভারতীয় ক্রিকেটারদের সঙ্গে পাকিস্তানের অসন্তোষ। পাকিস্তান জানায়, ভারতীয় ক্রিকেটারদের সঙ্গে হাত না মেলানোর ঘটনায় তারা প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফটের ভূমিকা সংক্রান্ত অভিযোগে তাকে এশিয়া কাপ থেকে প্রত্যাহার করার দাবি তোলে পাকিস্তি ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। যদি এই দাবি না মানা হয়, তবে তারা টুর্নামেন্ট থেকে নিজেদের অংশগ্রহণ প্রত্যাহার করে নেয়ার হুঁশিয়ারি দেয়। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে দেয়। এরই মধ্যে পাকিস্তান ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলন বাতিল করে দেয় নিজের দাবিতে অটল থাকায়।

    একটি ক্রিকববজের প্রতিবেদনে জানা গেছে, করমর্দন বিতর্কে সৃষ্টি হওয়া অনিশ্চয়তা কাটিয়ে এশিয়া কাপের পাকিস্তান দল মাঠে নামতে পারছে। আইসিসির সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা এবং সমঝোতার মাধ্যমে ঈষৎ পথ সুগম হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ওমান ক্রিকেট বোর্ড গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করছে বলে জানা গিয়েছে।

    পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) প্রধান দাবি ছিল—ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফটকে টুর্নামেন্ট থেকে সরানোর প্রয়োজনীয়তা। তবে আইসিসি এই দাবি মানেনি। সূত্রের খবর, আজ (বুধবার) পাকিস্তান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ম্যাচে পাইক্রফট দায়িত্বে থাকবেন না। তার বদলে পারেন দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে আইসিসির অন্য রেফারি রিচি রিচার্ডসনকে। তবে পাইক্রফট এই টুর্নামেন্টে ম্যাচ অফিসিয়াল হিসেবেই থাকবেন। এই বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হয়নি।

    প্রাথমিকভাবে, পিসিবি কঠোর অবস্থান নেয় 당시—যদি পাইক্রফট দায়িত্বে থাকেন, তারা ম্যাচ খেলবেন না। পাকিস্তান অভিযোগ জানায়, ১৪ সেপ্টেম্বর ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে পাইক্রফট পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করেছেন। আইসিসি এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করলে পরিস্থিতির অবনতি হয়, এবং পাকিস্তানের এশিয়া কাপ থেকে সরে যাওয়ার শঙ্কা জেগে ওঠে। পরে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্মকর্তারা আলোচনা শুরু করেন এবং সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। অবশেষে কিছু ‘ফেস সেভিং’ পরিবর্তন আনা হয়, যা পরিস্থিতি শান্ত হয় বলে মনে করা হচ্ছে।

    তবে, এখনো পিসিবি বা আইসিসি থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। তবে গতকাল (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় পিসিবির মুখপাত্র আমির মীর জানান, “আলোচনা চলছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আজ জানানো হবে।” পিসিবির সভাপতি মহসিন নাকভি ইসলামাবাদ থেকে লাহোরে ফিরার পর বোর্ডের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। জানা গেছে, সরকার পর্যায়ের আলোচনায় করমর্দন বিতর্ক, এর প্রভাব, এবং আইসিসির সঙ্গে অবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

  • বিসিবি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা

    বিসিবি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা

    আগামী ৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন। এর জন্য গত সপ্তাহে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র এডভোকেট মোহাম্মদ হোসেনকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে মনোনীত করে তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছিল।

    আজ (১৭ সেপ্টেম্বর) এয়ার কথা জানানো হয়েছে এবারের নির্বাচনের পুরো নির্ধারিত সময়সূচী। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে নির্বাচন প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম। এর ধারাবাহিকতায় ভোটার তালিকা প্রকাশ, মনোনয়নপত্র বিতরণ ও জমা, প্রার্থী যাচাই-বাছাই, চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ, ভোটগ্রহণ ও ফলাফল ঘোষণা সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অনুসরণ করা হবে।

    নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ সময়সূচী হলো: ২০ সেপ্টেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ, ২১ সেপ্টেম্বর দুপুর ১টা পর্যন্ত আপত্তি দাখিলের সুযোগ, ২১ সেপ্টেম্বর বিকাল সাড়ে ৪টায় চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ, ২২-২৩ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র বিতরণ, ২৫ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ সময়, ২৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই এবং বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ, ২৭ সেপ্টেম্বর আপিল এবং শুনানি, ২৮ সেপ্টেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহার ও চূড়ান্ত প্রার্থীদের তালিকা, আবার ২৮ সেপ্টেম্বর ডাক ও ই-ব্যালট বিতরণ, এবং সবশেষে ৪ অক্টোবর হবে ভোটগ্রহণ ও প্রাথমিক ফলাফলের ঘোষণা। অবশেষে, ৫ অক্টোবর ঘোষণা করা হবে চূড়ান্ত ফলাফল।

  • অফসাইডের বিদায় দিয়ে বাংলাদেশকে সঙ্গে নিয়ে সুপার ফোরে শ্রীলঙ্কা

    অফসাইডের বিদায় দিয়ে বাংলাদেশকে সঙ্গে নিয়ে সুপার ফোরে শ্রীলঙ্কা

    বি গ্রুপের হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিদ্বন্দ্বী আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই হয়। এ ম্যাচে জয় লাভ করে শ্রীলঙ্কা, যে তাদের সামনে বাংলাদেশের মতো শক্তিশালী দলের সঙ্গে সুপার ফোরে স্থান করে দেওয়ার সুযোগ করে দেয়। এই সফলতার মূল কারিগর ছিলেন নুয়ান থুসারা, যিনি চার উইকেট শিকার করেন, এবং কুশল পেরেরা, যিনি হাফ সেঞ্চুরি করে দলের জয় নিশ্চিত করেন। শ্রীলঙ্কার এই জয়ে তারা প্রথমে নিজেদের লক্ষ্যে পৌঁছায় এবং পরবর্তী ধাপে আরো এগিয়ে যাওয়ার পথে নিজেদের দৃঢ়সংকল্প প্রকাশ করে।

    আফগানিস্তানের শুরুটা খুবই হতাশাজনক ছিল। ওপেনিং জুটি মাত্র ২৬ রানেই ভেঙে যায়। রহমত উল্লাহ গুরবাজ ৮ বলে ১৪ রান করে শর্ট থার্ড ম্যানের ক্যাচ দেন, এরপরই প্রমোশনের ফলে ট্র্যিকিতুম জানাতকে বোল্ড করে দেন থুসারা। তৃতীয় ওভারে এসে সেদিকউল্লাহ অতলকেকে আউট করেন থুসারা, ফলে প্রথম ৪০ রানে ৩ উইকেট হারায় আফগানরা।

    পাওয়ার প্লে শেষে আফগানিস্তান ৩ উইকেটে ৪৫ রান করে, তবে এরপরই আরও বিপর্যয় শুরু হয়। তারা بسرعة আরও ৩ উইকেট হারায়, ডারউইশ রাসুলীকে থামান দুশমান্থ চামিরা। কুশাল পেরেরা শর্ট বল টপ এজ করে ক্যাচ দেন, এর ফলে তিনি মাত্র ৯ রান করেন। এর পর আজমতউল্লাহ ওমরজাই বেশিক্ষণ থিতু হতে পারেননি, দ্রুত আউট হন স্টাম্পে আঘাত পেয়ে।

    অফরুলাই বাজে স্নায়ুচাপে পড়ে থাকে আফগানিস্তান, যেখানে এক প্রান্তে ইব্রাহীম জাদরান চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে তিনি বেশিদূর যেতে পারেননি। মূলত সিনিয়র অলরাউন্ডার রশিদ খান এবং মোহাম্মদ নবি জুটি পাকড়াও করে পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণকে শক্তিশালী করে। শেষ ওভারটিতে আফগানিস্তান রেটে ১৬৯ রানের মধ্যে ৬ উইকেট হারায়, যেখানে নবি ২২ বলে ৬০ রান করেন, পঞ্চম বোলার হিসেবে সেঞ্চুরি ছুঁই ছুঁই করেন। শেষ বলে রান আউট হন তিনি, কিন্তু এর মধ্যেই দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ৫০ প্লাস রানের ইনিংস উপহার দেন। এই রেকর্ড সংগ্রহের ফলে আফগানিস্তান তাদের সংগ্রহ দাঁড় করায় ১৬৯ রান।

  • পাইক্রফটের ক্ষমা চাওয়া আমাদের জন্য জয়: রমিজ রাজা

    পাইক্রফটের ক্ষমা চাওয়া আমাদের জন্য জয়: রমিজ রাজা

    বাংলাদেশ সময়ের বিপক্ষে ম্যাচের আগে ও পরে আঁকা অ্যান্ডি পাইক্রফটের ক্ষমা চাওয়াকে পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য একটি নৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছেন পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার ও সাবেক বোর্ড প্রধান রমিজ রাজা। তবে তিনি এও মনে করেন, ইংল্যান্ডের রেফারির এই আচরণে ভারতের স্বার্থ প্রতিফলিত হচ্ছে, কারণ ভারতের জন্য এটি সুবিধাজনক।

    এশিয়া কাপের পাকিস্তান-ভারত ম্যাচের সময়টিতে টসের আগে ও পরে ক্রিকেটারদের মধ্যে করমর্দন না করাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফট নিজেই হাত না মিলানোর জন্য খেলোয়াড়দের পরামর্শ দিয়েছিলেন। এর ফলে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এই রেফারির বিরুদ্ধে কঠোর মন্তব্য করে তাকে প্রত্যাহার করার দাবি জানায়। পরবর্তীতে आवश्यक ব্যতিক্রমী বৈঠক ডেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    রাজা বলেন, এটা সত্যিই আমাদের জন্য একটি গুরুত্তপূর্ণ জয়। পুরো পরিস্থিতিটা খুবই জটিল ও উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। তখন আবেগের বশে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলতে চাইলেও, আমরা তা করিনি। যদি টুর্নামেন্ট বর্জন করা হতো, তাহলে দেশের ক্রিকেটের অনেক বড় ক্ষতি হতো। আমি মনে করি, এই পরিস্থিতিতে আমাদের শান্ত ও সংযমী থাকা আবশ্যক, কারণ এর ফলে মাঠে সত্যিকারের ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হয়।

    আশ্চর্যজনকভাবে, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের শেষে সূর্যকুমার যাদব জয় উদযাপন করেন এবং এই জয়কেই দেশের সেনাবাহিনী ও পেহেলগাম হামলার শিকার পরিবারদের কাছেই উৎসর্গ করেন। তবে, রমিজ রাজা বলছেন, এই বিষয়টিতে তাঁর আপত্তি রয়েছে। তিনি মনে করেন, পাইক্রফট ভারতীয় দলের অত্যন্ত প্রিয় একজন রেফারির মধ্যে অন্যতম। প্রশ্ন হচ্ছে, এই ধরনের আচরণ কি সত্যিই সততার পরিচায়ক, না কি কিছু স্বার্থের জন্য চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে?

    তিনি বলেন, আমার সবচেয়ে বড় আপত্তি ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণীর সময় কথাগুলো নিয়ে। যদি ক্রিকেটকে রাজনীতির আঙিনায় রূপান্তর করা হয়, তবে আসল কোনো অর্জনই সম্ভব নয়। এই ধরনের মনোভাব খেলাকে দূষিত করে দিচ্ছে।

    একটি বিষয় যা নজরে আসছে, তা হলো অ্যান্ডি পাইক্রফটের ব্যাপারে রমিজ রাজা জানান, আজ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনায় তিনি সবচেয়ে বেশি দায়িত্ব পালন করেছেন সাউথ আফ্রিকার জন্য—১৩৫টি ম্যাচের মাধ্যমে। এরপর শ্রীলঙ্কা (১৩২), ভারত (১২৪), পাকিস্তান (১০২), ইংল্যান্ড (১০৭), বাংলাদেশ (৮৩) ও অস্ট্রেলিয়া (৮০) ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেছেন। এতে বোঝা যায়, তিনি বিশ্বের শীর্ষ রেফারিদের একজন। তবে, তার পক্ষপাতিত্ব নিয়ে উঠে আসা প্রশ্নগুলোকে যেন তিনি গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছেন, যা ক্রিকেটের স্বচ্ছতা ও নৈর্ব্যক্তীয়তার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

  • পাকিস্তান-সৌদি প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে ভারতের মন্তব্য

    পাকিস্তান-সৌদি প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে ভারতের মন্তব্য

    পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে পাকিস্তান ও সৌদি আরব। এই চুক্তির ভিত্তিতে বলা হয়েছে, যদি কোনো এক দেশের ওপর আঘাত করা হয়, তাহলে সেটি উভয় দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসন হিসেবে বিবেচিত হবে। এই বিষয়টি বিশেষ করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

    ভারত এই চুক্তির প্রসঙ্গে সতর্কতা প্রকাশ করে জানিয়েছে, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে এই স্বাক্ষরিত চুক্তি দেশের নিরাপত্তা, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তা আমরা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখব। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, “আমরা এই কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির খবর দেখেছি। এটি দুই দেশের দীর্ঘদিনের আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া থাকা সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। আমাদের সে বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে, দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারব।”

    প্রতিবেদনে বলা হয়, এই চুক্তি পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়, যেখানে উল্লেখ করা হয়, কেউ যদি একজনের ওপর আঘাত চালায়, তাহলে সেটি দুজনের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের মতো গণ্য হবে। এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সৌদি সফরের সময়, যেখানে তিনি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। রিয়াদে এই চুক্তি হওয়ার পর তা নিয়ে বাক্যবিনিময় শুরু হয়।

    প্রায় আট দশক ধরে চলা ঐতিহাসিক অংশীদারিত্ব ও ইসলামী ভ্রাতৃত্বের ভিত্তিতে এই চুক্তি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন সৌদি আরব। এর উদ্দেশ্য হলো প্রতিরক্ষা সহযোগিতা শক্তিশালী করা এবং কোনও সংঘর্ষ হলে যৌথভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা। এই বৈঠকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরও উপস্থিত ছিলেন। মূলত এই চুক্তি এমন সময়ে স্বাক্ষরিত হলো যখন চলতি বছরের এপ্রিলে কাশ্মিরের পেহেলগামে হামলা ও ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষের কারণে দু দেশের সম্পর্ক তলানিতে এসে ঠেকেছে।

    অন্যদিকে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে রিয়াদের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক মজবুত হচ্ছে। এই সময়ে ভারত সৌদি আরবের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। মোদির তিনবার সৌদি আরব সফর করার পাশাপাশি, ২০১৬ সালে তিনি দেশটির সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘কিং আবদুল আজিজ স্যাশ’ পেয়ে থাকেন। ভারত ও সৌদি আরবের এই সম্পর্ক আরও গভীর ও দৃঢ় অবস্থানে পৌঁছে পড়েছে।

  • যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ বন্দুক হামলায় তিন পুলিশ কর্মকর্তা প্রাণ হারালেন

    যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ বন্দুক হামলায় তিন পুলিশ কর্মকর্তা প্রাণ হারালেন

    যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ইয়র্ক কাউন্টিতে এক ভয়াবহ বন্দুক হামলায় তিন পুলিশ কর্মকর্তা জীবন হারিয়েছেন। পাশাপাশি আরও দুজনের গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। হামলাকারেরাও ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। এ সংবাদটি কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা আল–জাজিরার প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে।

    পেনসিলভানিয়া পুলিশের মতে, নিহত ও আহত কর্মকর্তারা মূলত একজন পারিবারিক বিরোধসংক্রান্ত ঘটনার তদন্তে অংশ নিতে গিয়ে হামলার শিকার হন। ওই সময় বন্দুকধারী গুলি চালিয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন। আহত দুই পুলিশকর্মীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, তাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকলেও শারীরিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।

    বুধবার স্থানীয় এক হাসপাতালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পেনসিলভানিয়ায় স্টেট পুলিশের কমিশনার ক্রিস্টোফার প্যারিস। তিনি বলেন, ‘শুটার মারা গেছে।’ কিন্তু কীভাবে এই ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটেছে, সে ব্যাপারে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, পেনসিলভানিয়া স্টেট পুলিশ সব ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে এই ঘটনার তদন্তের জন্য।’

    গভর্নর জোশ শাপিরো উপস্থিৎ হন ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছানোর জন্য। তিনি নর্থ কোডোরাস টাউনশিপে নিহত ও আহত কর্মকর্তাদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বার্তায় তিনি বলেন, ‘এটি ইয়র্ক কাউন্টি ও পেনসিলভানিয়ার জন্য একেবারেই দুঃখজনক ও বিধ্বংসী দিন।’

    এই হামলার আগে গত ২২ ফেব্রুয়ারি একই এলাকায় ঘটেছিল অন্য এক সহিংস ঘটনা, যেখানে এক পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। ওই সময় এক বন্দুকধারী কিছুজনকে জিম্মি করেছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে ওই কর্মকর্তা মারা যান, এবং বন্দুকধারীও নিহত হন।

    পেনসিলভানিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল ডেভ সানডে এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে বলেছেন, এ ধরনের ঘটনা ‘অকল্পনীয়’। ঘটনার সময় একটি স্থানীয় স্কুলে শিক্ষার্থী ও কর্মীদের নিরাপদে থাকতে ‘শেল্টার-ইন-প্লেস’ নির্দেশ জারি করা হয়, যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তুলে নেওয়া হয়। কাউন্টির কর্তৃপক্ষ জানায়, ঘন্টায় পরিস্থিতির জন্য বিভিন্ন সড়ক বন্ধ থাকায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।

    অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল পামেলা বন্ডি এই হামলার নিন্দা জ্ঞাপন করে বলেছেন, পুলিশে সহিংসতা ‘আমাদের সমাজের জন্য এক ভয়ঙ্কর অভিশাপ’। গভর্নর শাপিরো জানান, বন্ডি ব্যক্তিগতভাবে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং ফেডারেল সরকারের পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছেন।

  • ট্রাম্প বললেন, ভারতসহ ২৩ দেশকে ‘প্রধান মাদক পাচারকারী’

    ট্রাম্প বললেন, ভারতসহ ২৩ দেশকে ‘প্রধান মাদক পাচারকারী’

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আফগানিস্তান, ভারত, চীন, পাকিস্তানসহ বিশ্বের মোট ২৩টি দেশকে বড় ধরনের মাদক উৎপাদক ও পাচারকারী দেশ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তিনি জানান, এই দেশগুলো অবৈধ মাদক এবং এর কাঁচামাল তৈরি ও পাচারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও দেশের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছে। এই ঘোষণা তিনি মামলার চূড়ান্ত রিপোর্ট হিসেবে মার্কিন কংগ্রেসে জমা দেন, যেখানে তিনি তালিকা প্রকাশ করেছেন।

    তালিকায় অন্তর্ভুক্ত দেশের মধ্যে রয়েছে: আফগানিস্তান, বাহামা, বেলিজ, বলিভিয়া, মিয়ানমার, চীন, কলম্বিয়া, কোস্টারিকা, ডোমিনিকান রিপাবলিক, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, হাইতি, হন্ডুরাস, ভারত, জ্যামাইকা, লাওস, মেক্সিকো, নিকারাগুয়া, পাকিস্তান, পানামা, পেরু ও ভেনেজুয়েলা।

    হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ট্রাম্প এই তালিকায় দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ মাদক সরবরাহ ও পাচারে দায়ী করেছেন। অন্যদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এই দেশের মধ্যে আফগানিস্তান, বলিভিয়া, মিয়ানমার, কলম্বিয়া ও ভেনেজুয়েলা মাদকবিরোধী কার্যক্রমে “গুরুতর ব্যর্থতা” দেখিয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য, এই দেশগুলোর উপর চাপ বাড়িয়ে আরও কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া।

    পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, এই দেশগুলির মাধ্যমে অবৈধ মাদক ও এর কাঁচামাল উৎপাদন ও পাচার মার্কিন জনগণের জন্য বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনছে। তবে, তালিকায় থাকার অর্থ এটা নয় যে, ওই দেশের সরকার বা প্রতিষ্ঠানগুলো মাদকবিরোধী অভিযানে সহযোগিতা করছে না। এটি মূলত ভৌগোলিক, বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার উপর ভিত্তি করে, যেখানে কখনো কখনো শক্তিশালী আইন প্রয়োগের পরেও মাদক উৎপাদন ও পাচার কমানো কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

    ট্রাম্প আরও জানান, গত ১২ মাসে আফগানিস্তান, বলিভিয়া, মিয়ানমার, কলম্বিয়া ও ভেনেজুয়েলা আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী চুক্তির শর্ত মানতে বা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যাপক ব্যর্থতা দেখিয়েছে।

    চীন প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, দেশটি ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় কাঁচামাল সরবরাহকারী’, যা অবৈধ ফেন্টানিলের উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। পাশাপাশি, নাইটাজিনস ও মেথঅ্যামফেটামিনসহ অন্যান্য কৃত্রিম মাদকও দেশ থেকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে। তিনি বেইজিংকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মাদকের ক্রমবর্ধমান প্রবাহ রোধে আরও কঠোর আইন এবং অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

    এছাড়াও, আফগানিস্তানের তালেবান কর্তৃপক্ষ অবৈধ মাদক উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না বলে অভিযোগ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, তালেবানরা অনেক অংশে এই ব্যবসা থেকে লাভবান হচ্ছে; এর ফলশ্রুতিতে দেশটির মাদক উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে, মেথঅ্যামফেটামিনের উৎপাদন বেড়েছে, যা উদ্বেগের কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    সবশেষে, ট্রাম্পের মতে, ফেন্টানিলসহ বিভিন্ন প্রাণঘাতী মাদক আমদানির কারণে যুক্তরাষ্ট্র এখনো জাতীয় জরুরি পরিস্থিতির মুখোমুখি। এই ড্রাগের কারণে বর্তমানে ১৮ থেকে ৪৪ বছর বয়সী আমেরিকাদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি আরও বলছেন, এই মাদক সংকটের কারণে দেশের স্বাস্ত্য ব্যবস্থা ও সমাজে গভীর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

  • গাজায় অবরুদ্ধ অবস্থায় ক্ষুধা ও অপুষ্টিতে ৪৩৫ জনের মৃত্যু

    গাজায় অবরুদ্ধ অবস্থায় ক্ষুধা ও অপুষ্টিতে ৪৩৫ জনের মৃত্যু

    ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় খাদ্য সংকটের কারণে অনাহারে ভুগে এখন পর্যন্ত ৪৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নতুন করে জানিয়েছে, তাতে আরও চারজনের মৃত্যুর তথ্য যুক্ত হয়েছে, ফলে মোট মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৪৩৫ জনে। প্রায় দুই বছর ধরে ইসরায়েল গাজায় অবরোধ আরোপ করে রেখেছে এবং সেখানে অব্যাহত হামলা চালাচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় খাবার পান করতে পারছে না, যার কারণে খাবারে অভাবে মৃত্যুর হার বেড়ে চলছে। এ পরিস্থিতিতে গাজার বিশিষ্ট শহর গাজা সিটিতে এখন কঠোর স্থল হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েলি সেনারা। এছাড়া, হামাসের শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্য করে কিছুদিন আগে কাতারের দোহার উপর বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। এই হামলার পর থেকে যুদ্ধবিরতিতে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে, এবং গাজা সিটিতে বড় ধরনের স্থল অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অর্থাৎ, দুই সপ্তাহ আগে হামাসের শীর্ষ নেতাদের ওপর হামলা চালানোর মাধ্যমে পরিস্থিতি আরও তিক্ত হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে শহরটি থেকে বহু মানুষ চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, দুই লাখের বেশি মানুষের মধ্যে প্রায় চার লাখ মানুষ অন্যত্র গেছেন। গাজা উপত্যকায় সংঘটিত এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের আঘাতে ৬৫,০০০ এর বেশি মানুষ মারা গেছেন এবং দেড় লাখের বেশি আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেক মানুষ আটকা পড়ায় প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে মনে করছেন কর্তৃপক্ষ। গাজায় চলমান এই সহিংসতা ও মানবিক সংকট চরম্বে পৌঁছেছে, যা এক দিকে মানবতার জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ। সূত্র: মিডেল ইস্ট আই।

  • ফ্রান্সে পেশাজীবী সংগঠনের ধর্মঘট, সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে

    ফ্রান্সে পেশাজীবী সংগঠনের ধর্মঘট, সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে

    ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন এবং তার সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক গণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে দেশের বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন। এই কর্মসূচিতে শুক্রবার অংশ নিয়েছেন শিক্ষক, ট্রেন চালক, ফার্মাসিস্ট এবং হাসপাতালের কর্মীরা। পাশাপাশি বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরাও এই প্রতিবাদে যোগ দিয়েছে। মূল কারণ হলো আসন্ন বাজেট কাটছাঁটের পরিকল্পনা ও জনসেবা খাতে ব্যয় কমানোর উদ্যোগের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই খবর জানিয়েছে।

    সংবাদে প্রকাশ, বর্তমান সরকারের আর্থিক পরিকল্পনা বাতিল করতে ও জনসেবার খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য শ্রমিক, শিক্ষক ও অন্যান্য পেশাজীবীরা আরও কার্যক্রমে নামছে। এর ফলে প্যারিসসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলো অচলাবস্থার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে, বৃহস্পতিবার শহরটির মেট্রো সিস্টেমের বেশির ভাগ লাইন বন্ধ থাকায় ভ্রমণকারীরা দুর্ভোগের স্বীকার হন। এ ছাড়া বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরাও এই ধর্মঘটে অংশ নেয়। নিরাপত্তা বজায় রাখতে পুলিশ মোতায়েনের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে, কারণ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।

    সিজিটি ইউনিয়নের বাস চালক ফ্রেড বলেন, বর্তমান সরকারের শ্রমিকবিরোধী মনোভাব ও অপরাধমূলক নীতির কারণে শ্রমিকদের ক্ষোভ বাড়ছে। অন্যদিকে, শিক্ষক গেয়েতঁ লেগে জানান, আমি জনসেবা রক্ষা করতে এখানে এসেছি এবং দাবি করি, দেশের অর্থনীতি যেন বড় ব্যবসায় বা ধনী ব্যক্তিদের কর ছাড়ের বদলে সাধারণ জনগণের উন্নয়নে ফিরে আসে।

    প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রন ও তার নতুন প্রধানমন্ত্রী সেবাস্টিয়ান লেকর্নু বাজেট কাটছাঁটের পরিকল্পনা নিয়ে সংসদে বোঝাপড়া করতে গিয়ে চাপের মধ্যে রয়েছেন। ইউরোজোনের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির এই দেশটিতে ঘাটতির কারণে বিনিয়োগকারীরাও উদ্বিগ্ন। অভ্যন্তরীণ মন্ত্রীদের সূত্র জানায়, এই ধর্মঘট ও বিক্ষোভে অন্তত আট লাখ মানুষ অংশ নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশের প্রধান শ্রমিক ইউনিয়নগুলো এক যৌথ বিবৃতিতে প্রকাশ করেছে, তারা পূর্ববর্তী সরকারের অবিবেচক আর্থিক নীতির নিন্দা জানাচ্ছে এবং শ্রমিকদের প্রতিনিধি হিসেবে ক্ষুব্ধ তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।

    পূর্ববর্তী অর্থ বছরের বাজেট ঘাটতি, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানদণ্ডের দ্বিগুণেরও বেশি ছিল, তা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে সরকার এই ঘাটতি কমাতে অপ্রতুল। নতুন প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু বাজেটের বিরোধিতায় পিছিয়ে পড়েছেন; তবে তিনি আপোসের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

    অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী ব্রুনো রিটেইলিয়ো জানিয়েছেন, দেশজুড়ে প্রায় ৮০ হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রান্তে রায়টের আশঙ্কা থাকায় তারা কঠোর মনোভাব নিয়ে প্রস্তুত। ড্রোন, সাঁজোয়া যানসহ রেসপন্স টিমদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন জায়গা থেকে ২০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, এটা ফ্রান্সের জনস্বার্থের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবাদ যা দেশের অর্থনৈতিক নীতির পরিবর্তন এবং পেশাজীবীদের অধিকার নিশ্চিত করতে পারে।