খুলনার রূপসা উপজেলায় একই নামের দুইটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কারণে সৃষ্টি হয়েছে অপ্রীতিকর বিভ্রান্তি ও জটিলতা। ওই দুটি প্রতিষ্ঠান হলো ‘রূপসা কলেজ’ ও ‘রূপসা সরকারি কলেজ’। এই বিভ্রান্তি দূর করতে বৃহস্পতিবার সকালে রূপসা কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা একটি সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধনের আয়োজন করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রূপসা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ শহিদুল্লাহ, যেখানে তিনি বলেন, ১৯৮৬ সালে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের উত্তর পাশে বাগমারা মৌজায় তিন দশমিক ৪৩ একর জমির উপর এই কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি এলাকার ইতিহাসের স্বাক্ষী। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই কলেজটি স্থানীয় জনগণের আন্তরিকতা, অকৃত্রিম ভালোবাসা ও ঐতিহ্যের সঙ্গে এলাকার অগ্রগামী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত হয়ে আসছে। প্রায় চার দশক ধরে এটি অসংখ্য শিক্ষার্থীকে জ্ঞানচর্চার আলোয় আলোকিত করে যাচ্ছে। অন্যদিকে, রূপসা উপজেলার অপরপ্রান্তে ভৈরব নদীর তীরে ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘বঙ্গবন্ধু কলেজ’। তবে ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পরিবর্তনমূলক সিদ্ধান্তের কারণে এই কলেজের নাম পরিবর্তন করে ‘সরকারি বেলফুলিয়া কলেজ’ রাখা হয়। পরে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ২০২৫ সালের ২৮ মে এই কলেজের নাম আবার পরিবর্তন হয়ে ‘রূপসা সরকারি কলেজ’ হয়। এই নামের পরিবর্তনের ফলে শিক্ষকদের ব্যাখ্যা ও শিক্ষার্থীদের বোঝার ক্ষেত্রে আশঙ্কাজনক বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে অনলাইন ভর্তি কার্যক্রমে শিক্ষার্থীরা ভুলে ‘রূপসা সরকারি কলেজ’ বা ‘রূপসা কলেজ’ এর মধ্যে বিভ্রান্ত হচ্ছে। এই বছর প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী ভুলক্রমে আবেদন করেছেন রূপসা সরকারি কলেজে, যেখানে আসল রূপসা কলেজের জন্য আবেদনকারীর সংখ্যা অনেক বেশি। এছাড়া, উচ্চতর শ্রেণির পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের জন্য প্রতি বছরে যোগ্য শিক্ষার্থীর আবেদন সামান্যই বা হয়াচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানে প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ সরকারের প্রয়োজনীয় নাম পরিবর্তনের জন্য জোর দাবি জানাচ্ছেন, যাতে বিভ্রান্তি দ্রুত দূর হয় এবং রূপসা কলেজের স্বাভাবিক কার্যক্রম আবার সচল হতে পারে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কলেজের বিভিন্ন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা, যারা এই বিভ্রান্তির অবসান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপের আর্জি জানান। Rপসা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ গোপাল চন্দ্র মন্ডল বলেন, একই উপজেলায় দুটি কলেজের নামের মিল থাকার কারণে অনলাইন ভর্তি ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজগুলোতে বেশ ঝামেলা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরো জানান, আগে এই কলেজের নাম ‘বঙ্গবন্ধু কলেজ’ ছিল, যা পরে ‘সরকারি বেলফুলিয়া কলেজ’ নামে পরিবর্তিত হয়, আর এরপর থেকে ‘রূপসা সরকারি কলেজ’ নামকরণ করা হয়েছে। এ সমস্যা এই বিভাগের শিক্ষাব্যবস্থা ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টির জন্য তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত সমাধান কামনা করেন।
Month: September 2025
-

তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে দেশে অসাম্প্রদায়িক ও সার্বজনীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব
বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির খুলনা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুন্ডু বলেছেন, যারা পিআর পদ্ধতির মাধ্যমে জাতীয় সংসদ নির্বাচকে বিলম্বিত করতে চাইছে, তারা প্রকারান্তরে শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায়। ধর্ম ব্যবসায়ী কিছু গোষ্ঠী নতুন করে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোট পেতে নানা ফাঁদ পেছানোর চেষ্টা করছেন। যারা স্বাধীনতার মূল মূল্যবোধের প্রতি বিশ্বাসঘাতক, তারা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকেও এখনও মানতে পারেনি। সন্ত্রাস ও মৌলবাদী গোষ্ঠী কখনোই মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করতে পারে না। তাঁর মতে, যদি তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে বাংলাদেশে একটি অসাম্প্রদায়িক, সার্বজনীন রাষ্ট্র পরিচালনা সম্ভব হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে পাইকগাছা পৌরসভা বিএনপি’র দ্বিবার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের পতনের পর দ্রুত সময়ে নির্বাচন না হলে দেশের উন্নয়ন আবার চাপের মুখে পড়বে। সম্মেলনটি উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়। এতে নতুন করে সভাপতি পদে আসলাম পারভেজ, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কামাল আহমেদ সেলিম নেওয়াজ ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে শেখ রুহুল কুদ্দুস ও মনিরুল ইসলাম মন্টু নির্বাচিত হয়েছেন।
বিএনপি নেতা জয়ন্ত কুন্ডু আরও বলেন, যারা এখন সৎ ও জনগণের জন্য কাজ করার কথা বলে, তারা পূর্বে বিএনপি’র ঘাড়ে চড়ে এমপি ও মন্ত্রী হয়েছিলেন। দলের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি সতর্ক করেন, কেউ শালিস বা বিচার নামে আদালত বসাবেন না। দখলবাজি ও চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়লে দলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন পৌর বিএনপি’র আহবায়ক আসলাম পারভেজ, অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন জেলা বিএনপি’র আহবায়ক মোঃ মনিরুজ্জামান মন্টু। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপি’র যুগ্ম-আহবায়ক মোলামা খায়রুল ইসলাম, শেখ তৈয়েবুর রহমান ও এনামুল হক সজল, সদস্য সচিব সেলিম রেজা লাকী ও কামাল আহমেদ সেলিম নেওয়াজ। এছাড়াও বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক ডাঃ আব্দুল মজিদ ও সদস্য সচিব এসএম ইমদাদুল হক। বিকেলে দ্বিতীয় অধিবেশনে পৌর বিএনপি’র ৫৯৮ ভোটার গোপন ব্যালটে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ভোট প্রদান করেন। নির্বাচনে ৭ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন; সভাপতি পদে আসলাম পারভেজ (ছাতা), সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কামাল আহমেদ সেলিম নেওয়াজ (হাতি), সাংগঠনিক সম্পাদক পদে শেখ রুহুল কুদ্দুস (মই) ও মনিরুল ইসলাম মন্টু (কলস)। এসব ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নির্বাচনে দায়িত্বে ছিলেন জেলা বিএনপি’র গঠিত নির্বাচন কমিশনার প্রবীণ আইনজীবী আব্দুস সবুর।
-

খুলনা বিভাগে ভোক্তা-অধিকার অভিযানে এক লাখ ৫ হাজার টাকা জরিমানা
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এর খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের বিভিন্ন জেলা কার্যালয় থেকে প্রায় এক ডজনের বেশি আঞ্চলিক দল শাহরাস্তি, খুলনা, যশোর, ঝিনাইদহ, নড়াইল, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, বাগেরহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় তদারকিমূলক অভিযান পরিচালনা করে। এই অভিযান চলাকালে মোট ২০টি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে মোট ১ লাখ ৫ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রমের আওতায় ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে পণ্য সরবরাহ, মোড়ক ব্যবহারে অনিয়ম, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি ও ভেজাল বিরোধী অভিযান আরও ব্যাপক আকারে পরিচালিত হয়।
খুলনা বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ সেলিমের নেতৃত্বে নগরীর ট্রাকস্ট্যান্ড এলাকার মেসার্স রয়েল সেভেন ট্রেডার্সকে যথাযথ পণ্য সরবরাহ না করার জন্য ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একইভাবে এস এ এন্টারপ্রাইজকে মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য সংরক্ষণ ও বিক্রির অপরাধে ৩ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। বিভাগের সহকারী পরিচালক দিনারা জামানের নেতৃত্বে নগরীর ট্রাকস্ট্যান্ডের বিভিন্ন স্থানেও মোড়ক ব্যবহারে অনিয়মের জন্য সাদিয়া টি হাউজকে ৫ হাজার টাকার জরিমানা করা হয়।
এছাড়া, মাগুরা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ সজল আহম্মেদের নেতৃত্বে সদর উপজেলার ভয়না বাজারে দুই প্রতিষ্ঠানে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, যশোরের চৌরাস্তা বাজারে একটি প্রতিষ্ঠানে ২ হাজার টাকা, সাতক্ষীরায় রেল স্টেশন বাজারে একটি প্রতিষ্ঠানে ১ হাজার টাকা, ঝিনাইদহের নারিকেলবাড়িয়া বাজারে ১০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। নড়াইলের সদর ও লোহাগড়ায় অভিযান চালিয়ে মোট তিনটি প্রতিষ্ঠানের জরিমানা হয় ৪ হাজার ৫০০ টাকা। চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া ও বাগেরহাটে কর্মকর্তারা পৃথকভাবে প্রতিষ্ঠানগুলোকে জরিমানা করেন। খুলনা নগরীর বাগমারা এলাকায় একটি প্রতিষ্ঠানকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
অভিযানের সময় ব্যবসায়ীদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দর ও ক্রয় ভাউচার পরীক্ষা করা হয় এবং সকল ব্যবসায়ীদের সরকার নির্ধারিত মূল্যেই পণ্য বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়। আর এসব অভিযানের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়, বাজারে প্রয়োজনীয় পণ্যাদির মান ও দাম নিয়ন্ত্রিত রয়েছে।
-

সন্ত্রাসী হামলায় গভীর উদ্বেগ: আমরা সবাই নিরাপদ নই
জেলার বিএনপি সদস্য সচিব শেখ আবু হোসেন বাবুর বাড়িতে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে মহানগর বিএনপি দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছে, হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য তারা আহ্বান জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিনের নেতৃত্বে দলের শীর্ষ নেতারা রূপসার আইচগাতীতে অবস্থিত বাবুর বাড়ি পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা হামলার বিস্তারিত খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতি গভীর সহমর্মিতা ও সমবেদনা জানান। মহানগর বিএনপি’র সভাপতি শফিকুল আলম মনা বলেন, আমরা আতঙ্কিত। গত ৫ অগাস্টের পর থেকে খুলনায় শতাধিক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, কিন্তু এখনো হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতার সম্ভব হয়নি। তিনি আরও বলেন, এই ধরনের সন্ত্রাসের অবসান হওয়া জরুরি, যেন কেউ অন্যের বাড়িতে নিরাপদে থাকাটা স্বাভাবিক মনে করে। তিনি উল্লেখ করেন, আবু হোসেন বাবু একদিনে গড়ে ওঠেননি, তার সংগ্রাম ও আন্দোলনের ফসল তিনি। আজকের এই নৃশংস হামলা একটি অসুস্থ ও দুর্বল ব্যক্তির উপর directed। কেন এ ঘটনাগুলো ঘটছে, তা গভীর উদ্বেগের বিষয়। তিনি অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে মহানগর বিএনপি সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন বলেন, আবু হোসেন বাবু খুলনা জেলার একজন নিবেদিতপ্রাণ বিএনপি নেতা হলেও গত ১০ মাস ধরে তিনি অসুস্থ, স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে থাইল্যান্ডে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সম্প্রতি দেশে ফেরার পরও সম্পূর্ণ সুস্থ হননি। এ অবস্থায় তার বাড়িতে এই ভয়ঙ্কর হামলা আমাদেরকে গভীরভাবে ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ করেছে। তিনি বলেন, আমরা পরিবার থেকে জানলাম–জানি কেঁদে কেঁদে অসহায় হয়ে পড়েছেন আবু হোসেন বাবুর পরিবারের সদস্যরা। সেই দুর্বল ও অসুস্থ মানুষকে এভাবে আঘাত করা আমাদের জন্য দুঃখজনক। এই ঘটনায় পুরো খুলনাই শোকাহত। এই সময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক বেগম রেহেনা ঈসা, সোনাডাঙ্গা থানা বিএনপির সভাপতি হাফিজুর রহমান মনি, দৌলতপুর থানা বিএনপির সভাপতি মুর্শিদ কামাল, অন্যান্য নেতৃবৃন্দসহ প্রমুখ। উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ১০টার দিকে দুর্বৃত্তরা আবু হোসেন বাবুর বাড়িতে দু’টি ককটেল নিক্ষেপ করে এবং তিন রাউন্ড গুলি চালায়, যা সম্পূর্ণ নিন্দনীয় এবং জনসাধারণের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
-

নগরীতে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে অফিসারদের নির্দেশ
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় নগরীর বয়রাস্থ পুলিশ লাইন্স লাউঞ্জ-২ এ অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ জুলফিকার আলী হায়দার। সভার পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খান।
সভায় গত আগস্ট মাসের মধ্যে মাদক এবং অস্ত্র উদ্ধার, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাং এবং হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধের ওপর বিস্তারিত আলোচনা হয়। এর পাশাপাশি নগরীর বিভিন্ন থানার তালিকাভুক্ত ও চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও তাদের সহযোগীদের অবস্থান শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা অনুমোদন করা হয়।
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রতিমা বানানোর সময়, চলাকালীন ও বিসর্জনের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট থানার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সভার শেষে, মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আগস্ট মাসে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখার জন্য বিভিন্ন পুলিশ সদস্যকে পুরস্কৃত করা হয়। পুলিশ কমিশনার বলেন, ফৌজদারি অপরাধ নিয়ন্ত্রণে তথ্যপ্রযুক্তির নতুন কৌশল ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। এ উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট অফিসারদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করেন তিনি।
উপস্থিত ছিলেন পুলিশ কমিশনারের অতিরিক্ত অ্যাডমিন এন্ড ফিন্যান্স আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ, অতিরিক্ত ট্রাফিক কমিশনার মুহাম্মদ শাহনেওয়াজ খালাসহ বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ অফিসারবৃন্দ।
-

স্বর্ণের দাম পৌঁছেছে ইতিহাসের সর্বোচ্চ স্তরে
মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সম্মেলনের আগে ডলার দুর্বল হয়ে পড়ায় স্বর্ণের দাম নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, এই বৈঠকে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে, যা স্বর্ণের মূল্য আরও বৃদ্ধি করতে পারে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে স্পট স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্সে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৬৯৬ দশমিক ০২ ডলারে, যা শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি। দিনের শুরুতে দাম ছিল ৩ হাজার ৬৯৭ দশমিক ৭০ ডলার। তবে ২০২৬ সালে স্বর্ণের দাম চার হাজার ডলার অতিক্রম করার আগে এক শক্তিশালী সংশোধনের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে, বলে ব্যবসায়ী ও শিল্প বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন। ইউবিএস বিশ্লেষক জিয়োভান্নি স্টাউনোভো বললেন, দুর্বল ডলার কিছুটা ভূমিকা রাখলেও মূল বিষয় হলো, ফেড রিজার্ভ এই সপ্তাহে সুদের হার কমাবে, এই প্রত্যাশা বাজারে জোরদার। নির্বাহী সংস্থার ‘ফেডওয়াচ’ টুলের তথ্য অনুযায়ী, ব্যবসায়ীরা নিশ্চিত হচ্ছেন যে, বৈঠক শেষে দুই দিনের মধ্যে ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদের হার কমতে পারে এবং ৫০ বেসিস পয়েন্ট হারে কমানোরও সামান্য সম্ভবনা রয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলেছেন, ফেডের চেয়ার পাওয়েলকে আরও বড় করে সুদের হার কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন। সুইসকোট ব্যাংকিং গ্রুপের বিশ্লেষক কার্লো আলবার্তো দে কাসা মন্তব্য করেন, ব্যবসায়ীরা আশা করছে যে, ফেড আগামী বছরও সুদের হার কমিয়ে যেতে থাকবে, যা স্বর্ণ ব্যবসাকে সমর্থন করবে। স্টাউনোভো বলেন, ফেডের বিবৃতি প্রকাশের সময় আরও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে, বিশেষ করে যদি বাজারে অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, সুদের হার কমানোর সঙ্গে কড়া বার্তা আনা হচ্ছে। ট্রাম্পের এই আগ্রহের কারণে, তিনি মনে করেন, আগামী মাসগুলোতে স্বর্ণের দাম আরও বাড়বে।
-

পাঁচ ব্যাংক একীভূত: প্রশাসক নেতৃত্বে নতুন সংস্থা গঠনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
সমস্যাগ্রस्त শরিয়াভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক চূড়ান্তভাবে অনুমোদন দিয়েছে। এই রূপান্তর প্রক্রিয়ার তত্ত্বাবধানে থাকবে একটি পাঁচ সদস্যের প্রশাসক দল, যা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত বিশেষ বোর্ড সভার পরে মুখপাত্র মোঃ আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে, গভার্নর আহসান এইচ মনসুরের সভাপতিত্বে সভায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বোর্ড সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
মুখপাত্র জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর বোর্ড সভায় সবাই একমত হয়েছেন যে, এই একীভূতকরণ প্রক্রিয়া অবশ্যই সম্পন্ন করতে হবে। এর জন্য ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ’ অনুসারে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া চালু হবে, যা দীর্ঘমেয়াদী সময়সাপেক্ষ। তবে, এই কার্যক্রমের শুরু প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন বলে জানান তিনি, এবং শিগগিরই এটি বাস্তবায়ন হবে।
প্রক্রিয়াটির অগ্রগতি নিশ্চিত করতে, একটি পাঁচ সদস্যের প্রশাসক দল গঠন করা হবে, জানানো হয়েছে। তবে, ব্যাংকগুলোর দৈনিক কার্যাবলী চালানো হবে আগের মতোই থাকছে, অর্থাৎ বর্তমানে নিয়োজিত ব্যবস্থাপনা দলই থাকবে ব্যাংকের পরিচালনায়। পাশাপাশি, প্রতিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তার পদে বহাল থাকবেন।
প্রাসঙ্গিক আরেকটি বিষয় হলো, এই একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার কারণে ব্যাংকের বোর্ডগুলো বাতিল হবে না, তবে ধীরে ধীরে তারা নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে। পরিচালনা কার্যক্রম পরিচালনা করবে একটি নিয়মিত নির্দিষ্ট দল, যারা বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে কাজ করবে। তারা সময়ে সময়ে কার্যাবলীর অগ্রগতি সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংককে আপডেট দেবে।
এছাড়াও, এই বোর্ড সভায় ব্যাংক রেজুলেশন অর্ডিন্যান্স ও বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্ডার বিষয়ক আলোচনা হয়েছে, যেন খেলাপি ঋণ আদায়সহ অন্যান্য বিষয়গুলো আরও স্বচ্ছ ও কার্যকরীভাবে পরিচালিত হয়।
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামি ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক এবং এক্সিম ব্যাংককে একীভূত করে গঠিত হবে একটি ঐক্যবদ্ধ, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক, যার নাম হবে ‘ইউনাইটেড ইসলামি ব্যাংক’। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই নতুন ব্যাংকের জন্য লাইসেন্স ইস্যু করবে।
উল্লেখ্য, গত ২ সেপ্টেম্বর থেকে তিন দিন ধরে এই পাঁচ ব্যাংকের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ফার্স্ট সিকিউরিটি, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংকের পর্ষদ একীভূত হওয়ার পক্ষে মত দেন। অন্যদিকে, সোশ্যাল ইসলামী ও এক্সিম ব্যাংক এই প্রক্রিয়ায় বিরোধিতা জানান।
এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে, গত ৭ সেপ্টেম্বর, সরকার ৩৫ হাজার কোটি টাকার গভীর মূলধন বরাদ্দ প্রদান করে, যার মধ্যে ২০ হাজার ২০০ কোটি টাকা ইতিমধ্যে অর্থায়ন করা হয়েছে।
-

বাংলাল মার্কিন ডলার রিজার্ভ আবারও ছাড়াল ৩১ বিলিয়ন ডলার
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বৃদ্ধি পেয়ে ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। জাতীয় অর্থনীতি ও ব্যাঙ্কিং বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নিয়ম অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুসারে এই রিজার্ভের পরিমাণ এখন ২৬ দশমিক ০৮ বিলিয়ন ডলার। এর আগে, দেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩০ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার, আর আইএমএফের হিসাব মতে এই সংখ্যা ছিল ২৫ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার। তবে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের হিসাব রয়েছে, যেখানে এই সংখ্যা ২১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই রিজার্ভের বৃদ্ধি মূলত প্রবাসী আয়, রফতানি অর্থ, বিদেশি বিনিয়োগ ও ঋণ দ্বারা পরিচালিত। দেশে বর্তমানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্সের প্রবাহে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে, যা বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ ব্যাংককে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করতে হয়নি, বরং ব্যাংকগুলো থেকে ডলার সংগ্রহ করা হয়েছে। গত ৪ সেপ্টেম্বর পাঁচটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কাছ থেকে ১৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার, আর ২ সেপ্টেম্বর আট ব্যাংকের কাছ থেকে ৪ কোটি ৭৫ লাখ ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
অর্থনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক দিক নির্দেশ করবে। চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৪৭ কোটি ৭৯ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশের মোট অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা বহন করছে। আগস্টের পুরো মাসে এই সংখ্যা ছিল ২৪২ কোটি ২০ লাখ ডলার। উল্লেখ্য, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মার্চ মাসে সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা দেশের ইতিহাসে রেকর্ড। সামগ্রিকভাবে, গত বছরে প্রবাসী আয় ছিল ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২৬ শতাংশ বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, দশ বছর আগে ২০১৩ সালের জুন শেষে দেশের রিজার্ভ ছিল মাত্র ১৫ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার। সেই সময় থেকে ধারাবাহিকভাবে this অর্থনীতি গতিপথে এগিয়ে এসেছে। ২০২০ সালে এই পরিমাণ ৩৯ বিলিয়নে পৌঁছে যায়, এরপর কোভিড-১৯ পরিস্থিতির মধ্যেও এই সংখ্যা আরও বেড়ে ২০২১ সালের আগস্টে ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়। তবে এরপর থেকে রিজার্ভে কিছুটা কমে আসছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের শেষে রিজার্ভ ছিল ৩১ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলার।
-

স্বর্ণের দাম রেকর্ডে পতন, আবার কমলো মূল্যে
বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) ঘোষণা করেছে যে, দেশের বাজারে দীর্ঘদিন ধরে চলা দর বৃদ্ধির পর অবশেষে স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছে। এর ফলে প্রতি ভরি স্বর্ণের মূল্য সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪৭০ টাকা মূল্যছাড়ে নির্ধারিত হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, সবচেয়ে মানসম্পন্ন ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের এক ভরি now খুচরা মূল্য ১ লাখ ৮৮ হাজার ১৫২ টাকা হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে। উল্লেখ্য, গত মাসে দু’বার ও চলতি মাসে স্বর্ণের দাম ছয় দফা বাড়িয়ে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৮৯ হাজার ৬২২ টাকা দরে পৌঁছে যায়। বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এই ঘোষণা প্রকাশ করা হয়, যা বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হবে।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশের বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের মূল্য কমে গিয়েছে, যার কারণে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের এক ভরি দাম ১ লাখ ৮৮ হাজার ১৫২ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৭৯ হাজার ৬০২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ৫৩ হাজার ৯৪১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ২৭ হাজার ৬৭৪ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।
এছাড়া, রুপার দাম অপরিবর্তিত থাকছে। দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ৩ হাজার ৪৭৬ টাকা, ২১ ক্যারেট ৩ হাজার ৩১৩ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ হাজার ৮৪৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ২ হাজার ১৩৫ টাকা।
বাজুসের আরএকটি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই সরকার-নির্ধারিত ৫% ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬% যোগ করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মান অনুযায়ী মজুরির হার ভিন্ন হতে পারে।
-

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুই কোম্পানির শেয়ার কারসাজিতে জরিমানা
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুটি কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে কারসাজির মাধ্যমে সিকিউরিটিজ আইন লঙ্গনের জন্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) মোট ৪৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা জরিমানা আরোপ করেছে। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বিএসইসির ৯৭২তম কমিশন সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিশনের চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নিউ লাইন ক্লোথিংস লিমিটেডের শেয়ার কারসাজির জন্য পাঁচজনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এই ব্যক্তির মধ্যে মোঃ রিয়াজ মাহমুদ সরকারকে ১ কোটি ১৪ লাখ টাকা, আবুল বাসারকে ৪ কোটি ২ লাখ টাকা, সরকার প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিশিংয়ের জন্য ৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা, মোঃ সেলিমকে ১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা এবং জামিলের জন্য ২ কোটি ২০ লাখ টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। এই শাস্তি ২০২১ সালের ২৪ মে থেকে ৫ জুলাই পর্যন্ত সময়কালে তাদের শেয়ার কারসাজির জন্য দেওয়া হয়েছে।
অপরদিকে, পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের শেয়ার লেনদেনে কারসাজির জন্য এনআরবি ব্যাংকের তৎকালীন প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মোহাম্মাদ কামরুল হাসানকে ৭৫ লাখ টাকা জরিমানার পাশাপাশি পদগ্রহণ, চাকরি থেকে বরখাস্ত এবং পুঁজিবাজারের সব ধরনের অংশগ্রহণ থেকে ৫ বছর নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বীমা কোম্পানিটির শেয়ার কারসাজির দায়ে শেখ ফকরুল আহমেদকে ৩০ কোটি ৩২ লাখ টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়। এই অভিযোগে তাদেরকে ২০২১ সালের ২৪ মে থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দায়েরকৃত শেয়ার লেনদেনের কারসাজির জন্য জরিমানা করা হয়।
একই সভায় ফরচুন সুজ লিমিটেডের শেয়ার লেনদেনে কারসাজির বিষয়টি তদন্তের জন্য বিনিয়োগকারী সংস্থা ও দুর্নীতি দমন কমিশনকে অনুসন্ধান ও তদন্ত প্রতিবেদন পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া, এই ঘটনায় জড়িয়ে থাকা পুঁজিবাজারের আলোচিত ব্যক্তি মোঃ আবুল খায়ের হিরু ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগেও চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত firmness করা হয়েছে।
