Month: September 2025

  • গাজায় ভয়াবহ সামরিক অভিযান, ইসরায়েল নতুন করে একা হয়ে পড়ছে

    গাজায় ভয়াবহ সামরিক অভিযান, ইসরায়েল নতুন করে একা হয়ে পড়ছে

    গাজায় ভয়াবহ সামরিক অভিযানে নিযুক্ত হয়ে আরও একা হতে চলছে ইসরায়েলি সরকার। ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে গাজা শহরে শুরু হয় ইসরায়েলি সেনাদের বিতর্কিত স্থল অভিযান। পরদিন সকালে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা করেন, এই মুহূর্তটি ইসরায়েলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিমান হামলা এবং কামানবর্ষণের মাধ্যমে নির্বিচার হামলার পাশাপাশি, ইসরায়েলি সেনারা শহরের কেন্দ্রীয় এলাকাগুলোর দিকে অগ্রসর হচ্ছেন। দুই ডিভিশন শহরটির কাছে অবস্থান নেওয়া হয়েছে, আর রিজার্ভ টিমের დამატি ডিভিশন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এখন পর্যন্ত সেনারা শহরের উপকণ্ঠে অবস্থান করছেন, এবং তিন দিক থেকে গাজা শহরকে ঘিরে রেখেছেন। বেসামরিক নাগরিকদের জন্য পশ্চিমে উপকূলীয় সড়কটি খোলা রাখা হয়েছে যাতে তারা দ্রুত দক্ষিণের দিকে পালাতে পারেন। তবে অনেক বাসিন্দা এখান থেকে যাচ্ছেন না। আনুমানিক দুই থেকে সাড়ে তিন লাখ মানুষ শহর ছেড়ে গেলেও, এখনও প্রায় ছয় লাখ মানুষ অপারগভাবে অবস্থান করছেন। বহু পরিবার বারবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং স্বজন হারিয়েছে। পরিবহন এবং তাঁবুর দামে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি হওয়ায় নিরাপদে দক্ষিণে পালানো অনেকের জন্য এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে, ক্রমাগত বোমাবর্ষণে সত্ত্বেও অনেক মানুষ গাজা শহরেই থাকছেন। এই পরিস্থিতি মনে হয় প্রথম বড় আক্রমণের পুনরাবৃত্তি, যেখানে ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় ধ্বংসযজ্ঞ চালায় এবং হামাসকে নিশ্চিহ্ন করার প্রতিশ্রুতি দেয়। ইতিমধ্যে দুই বছরে অন্তত ৬৪ হাজার ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছে, যার বেশিরভাগই সাধারণ মানুষ। বাড়ি বাড়ি ধ্বংসের পাশাপাশি বহু এলাকায় মানুষ অনাহারে ভুগছেন। এ পরিস্থিতিতে ইসরায়েলে নতুন করে যুদ্ধবিরোধী মনোভাব বেড়ে উঠছে। ২২ মাস আগে গাজায় প্রথম হামলার সময় জনসমর্থন ছিল বেশ সমর্থনযোগ্য। কিন্তু বর্তমানে সাধারণ ইসরায়েলিরা বেশীরভাগই যুদ্ধ চালিয়ে যেতে না পেরে, বরং যুদ্ধবিরতির পক্ষে। সামরিক প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইইয়াল জামিরও মনে করেন, হামাসকে পুরোপুরি ধ্বংস করা সম্ভব নয় এবং দীর্ঘমেয়াদী এই লড়াইয়ে জিম্মিদের জীবনও ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তিনি সুপারিশ করেন, যুদ্ধবিরতি রাখা উচিত, যাতে জিম্মিদের মুক্তি সহজ হয়। আশঙ্কা করা হচ্ছে, গাজায় অভিযান চলাকালে কিছু জিম্মিকে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। নেতানিয়াহুর বাসভবনের সামনে জেরুজালেমে জিম্মিদের স্বজনরা বিভিন্ন সময় বিক্ষোভ করেছেন, তাঁদের অভিযোগ, এই পদক্ষেপ সন্তানদের প্রাণের ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। আন্তর্জাতিক চাপও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইসরায়েলের রাজনৈতিক এবং সামরিক নেতাদের মধ্যে মতপার্থক্য নতুন কিছু নয়, তবে এইবার বাস্তবতা ভিন্ন। নেতানিয়াহু সব ভেবে ফেলেছেন, কারণ তার টিকে থাকার জন্য অত্যন্ত দক্ষিণপন্থি মিত্রদের সমর্থন প্রয়োজন। অন্যদিকে, জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের বিশেষজ্ঞ প্যানেল ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ এনেছে। ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ, যেমন ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্য, দ্রুত ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি পুনর্বিবেচনা করার হুমকি দিয়েছে। আমেরিকা এখনো ইসরায়েলকে সমর্থন দিচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্রুত হামাসকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, সব বন্ধ করে জিম্মিদের মুক্তি দিতে হবে। তবে কূটনীতিক মহলের ধারণা, এই অভিযান শেষ পর্যন্ত পুরোপুরি হামাসের ক্ষমতাহানিই দুর্বল করতে পারেনা, তাহলে ওয়াশিংটন চাপ দিয়ে যুদ্ধবিরতি আনায়ত্ত করতে চাইবে। এই নতুন আক্রমণ গাজায় ইসরায়েলের জন্য বিজয় নয়, বরং আরও রক্তক্ষয়, ফিলিস্তিনের অসহনীয় দুর্ভোগ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একাকিত্ব বাড়াবে।

  • ঘর-বাড়ি থেকে ফিলিস্তিনিদের উৎখাতের চেষ্টা করছে ইসরায়েল

    ঘর-বাড়ি থেকে ফিলিস্তিনিদের উৎখাতের চেষ্টা করছে ইসরায়েল

    গাজা উপত্যকা এখন পুরোপুরি ধ্বংসের স্তূপে পরিণত হয়েছে, চারদিকে বোমা বর্ষণের ফলে বাড়ি-ঘর, দামাল লাশ এবং রক্তে ভিজে রয়েছে পথের প্রকৃতি। এই পরিস্থিতিতে গাজা সিটির বাসিন্দারা জীবন বাঁচানোর জন্য মরিয়া হয়ে ছুটছেন, চেষ্টা করছেন কোথায় যেন নিরাপদ আশ্রয় পেতে।

    বহুকালের ধর্ষণ ও হত্যাযজ্ঞের পর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী একটি অস্থায়ী গেটওয়ে খুলে দিয়েছে গাজার মানুষরা যেন পালাতে পারেন। তবে, এ সুযোগ মাত্র ৪৮ ঘণ্টার জন্য। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা, বিবিসি, এপি, সিএনএন ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    সালাহউদ্দিন সড়ক দিয়ে দক্ষিণের দিকে যাবার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লক্ষ লক্ষ মানুষকে এই পথ দিয়ে যেতে হবে, কিন্তু কোথায় যাবে তার কোনও চূড়ান্ত নির্দেশনা বা গন্তব্য এখনো নিশ্চিত নয়। অজানা ভবিষ্যতের দিকে ছুটে চলা মানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এগিয়ে যাওয়া, যেন এটি মুক্তির পথ নয়, বরং এক অনিশ্চিত জীবনযুদ্ধ।

    ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র অ্যাভিচাই আদ্রি জানিয়েছেন, বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত ৪৮ ঘণ্টা কল্যাণে সালাহউদ্দিন সড়ক ব্যবহার করে গাজা সিটির বাসিন্দারা দক্ষিণে যেতে পারবেন। তবে, এই রুটটি সরাসরি অন্য দিকে যাচ্ছে না; এটি একটি নেটজেরিম করিডর দিয়ে গাজাকে বিভক্ত করে রেখেছে, যা ২০২৪ সালে ইসরায়েল নিরাপত্তা অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করে। এই পথটি মূল রাস্তার তুলনায় প্রায় ১.৬ কিলোমিটার দীর্ঘ। আদ্রি আরও জানিয়েছেন, শহরের কেন্দ্রীয় সালাহউদ্দিন সড়কের ভেতর দিয়ে অন্য একটি বিকল্প পথও খোলা হবে।

    গাজার শেখ রাদওয়ান এলাকার ৩২ বছর বয়সি মা লিনা আল-মাঘরেবী বিবিসিকে বলেছেন, তাঁতের খরচ জোগানোর জন্য গহনা বিক্রি করতে হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই কূটকৌশলটি আসলে গাজাবাসীদের মুক্তির পথ নয়, বরং অবরুদ্ধ জনগোষ্ঠীকে আরও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেওয়ার পরিকল্পনা। কারণ, পথে গেলেও তাদের জীবনের নিশ্চয়তা আপাতত নেই।

    অবশ্য, এই ঘোষণা আসার আগেই শহরটিতে ইসরায়েলির হামলা আরও বাড়ছে। মঙ্গলবার থেকে শুরু হয় ব্যাপক স্থল অভিযান। গাজা সিটির উত্তর-পশ্চিমের শেখ রাদওয়ান এলাকায় বোমা ভর্তি রোবট দিয়ে আঘাত হেনেছে ইসরায়েলি সেনারা। শহরজুড়ে তীব্র হামলা অব্যাহত থাকায় অসংখ্য বাসিন্দা ঘর থেকে বের হয়ে আসছে।

    গাজা সিটির আল-রানতিসি শিশুহাসপাতালেও চলেছে ইসরায়েলি বর্বরতা। হাসপাতালে হামলার নিন্দা জানিয়ে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা এ ধরনের ধারাবাহিক হামলার শিকার হয়েছে; তবে এতে হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ধারণা করা হচ্ছে, কমপক্ষে ৪০ জন রোগী হাসপাতালে থেকে পালিয়ে এসেছে।

    এছাড়াও, দেইর আল-বালাহতে গুলিবর্ষণ ও আর্মড হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনারা। গত ২৪ ঘণ্টায় গাজায় আরও ৫১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই গাজা সিটির বাসিন্দা।

    গাজায় চলমান এ মার্কিন-প্রচণ্ড স্থলহামলায় দুই ডিভিশনের প্রায় ২০ হাজার সেনা অংশ নিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এতে শহরের সুযোগ-সুবিধা যেমন দ্রুত বন্ধ হয়ে গেছে, তেমনি টেলিফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় পুরো শহরটি বিশ্ব থেকে আলাদা হয়ে গেছে।

    অন্যদিকে, ইসরায়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা করছে ইউরোপীয় কমিশন, যা ইসরায়েলের সঙ্গে বিশেষ বাণিজ্য সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলবে। মূলত, ২০২৪ সালে ইসরায়েল ও ইউরোপের মধ্যে মোট বাণিজ্যের ৩৭ শতাংশই এই সুবিধাজনক বাণিজ্য চুক্তির আওতায়।

    ইউরোপীয় বৈদেশিক নীতি প্রধান কাজা কাল্লাস বলেছেন, এই পদক্ষেপ ইসরায়েলের জন্য বিপদ ডেকে আনবে। তবে, এটি কার্যকর করতে হলে ইউরোপের সব সদস্য দেশের সম্মতিপ্রাপ্ত সমর্থন দরকার, যা সহজ নয়।

    এদিকে, গাজার অবরুদ্ধ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে মানবিক সহায়তা জোরদার করতে আহ্বান জানিয়েছেন বিভিন্ন মানবাধিকার ও সাহায্য সংস্থার নেতারা। তারা বলছেন, চলমান যুদ্ধের কারণে এখানে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৬৪ হাজার ৯৬৪ জন, আহত হয়েছেন ১ লাখ ৬৫ হাজার ৩২১ জন। এই ভয়াবহ সংকটে গাজা পুনরুদ্ধারে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজন রয়েছে।

  • পাকিস্তান-সৌদি আরবের মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর: আক্রান্ত হলে একসঙ্গে রক্ষা করবে দু’দেশ

    পাকিস্তান-সৌদি আরবের মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর: আক্রান্ত হলে একসঙ্গে রক্ষা করবে দু’দেশ

    পাকিস্তান ও সৌদি আরব গতকাল বুধবার একটি ঐতিহাসিক কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তি অনুযায়ী, যদি কোনো এক দেশকে আগ্রাসনের মুখোমুখি হতে হয়, তাহলে সেটিকে উভয় দেশের বিরুদ্ধে আখ্যায়িত করে দেখা হবে। অর্থাৎ, এক দেশের ওপর আঘাত এলে উভয় দেশের স্বার্থে মনোভাব প্রকাশ করে রক্ষা করতে এগিয়ে আসবে। এই বিষয়টি জানা গেছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের প্রতিবেদনে।

    প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সৌদি আরব সফরের সময়ে এই চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এদিন তাঁকে আল-ইয়ামামা প্রাসাদে সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান স্বাগত জানান। চুক্তি স্বাক্ষরের পর যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রায় আট দশকের অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে এবং ইসলামি সংহতি ও ভ্রাতৃত্বের স্বার্থে দুই দেশ এই কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।’

    বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এই চুক্তি দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা সম্পর্ককে আরও জোরদার করবে এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তিতে অবদান রাখবে। এর মূল লক্ষ্য হলো, কোনও এক দেশের ওপর আঘাত মানে দুই দেশের বিরুদ্ধে আঘাত হিসেবে বিবেচনা হবে এবং দু’দেশই একসঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন একটি অগ্রগতি, কারণ আগে পাকিস্তান ও সৌদি আরব বিভিন্ন প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যুক্ত হলেও, এবার সম্পূর্ণ নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে — যেখানে এক দেশের ওপর আঘাত হলে তা উভয়ের উপরই আঘাত হিসেবে গণ্য হবে।

    এই কর্যক্রম শুধুমাত্র পাকিস্তান-সৌদি সম্পর্ককেই দৃঢ় করছে না, বরং পুরো মুসলিম বিশ্ব ও দক্ষিণ এশিয়ার জন্যই বড় প্রভাব ফেলবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এটিকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    বিশ্লেষকেরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে আঞ্চলিক অস্থিরতা, ইসরায়েলের হামলা, দোহা সম্মেলন এবং মুসলিম বিশ্বে স্বৌরভ ও সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে এই চুক্তির গুরুত্ব অনেক। এটি প্রমাণ করে, সৌদি আরব এখন পাকিস্তানকে অন্যতম নির্ভরযোগ্য ও শক্তিশালী অংশীদার হিসেবে দেখে।

    শাহবাজ শরিফ আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সৌদি যুবরাজকে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি দু’পবিত্র মসজিদির স্বর্গদ্বার ও বাদশাহ সালমানের সুস্বাস্থ্য এবং সৌদি জনগণের উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্য দোয়া করেন। সৌদি বাদশাহও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও জনগণের জন্য সুখ, স্বস্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেছেন।

    বৈঠকে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মোহাম্মদ আসিফ এবং অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ আওরঙ্গজেব উপস্থিত ছিলেন।

  • ভারতীয় বিশ্লেষকদের মত, জনগণ ভোট যাকে দেবে, তাকেই মানতে হবে

    ভারতীয় বিশ্লেষকদের মত, জনগণ ভোট যাকে দেবে, তাকেই মানতে হবে

    আপ্রত্যাশিত দলবদল বা পালাবদলের কারণে অনেকক্ষেত্রে দিল্লির মনোভাব যেমন পরিবর্তিত হয়েছে, এখন ভারতের বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের জনগণ যেই প্রার্থী বা দলকে তাদের ভোট দেবে, তার সঙ্গে মানানসই হতে হবে। বাংলাদেশের পরবর্তী নির্বাচনের পরিস্থিতি বিশ্লেষকরা ধৈর্য্যধার্য করে দেখার পরামর্শ দিচ্ছেন, এখনই কোনো ধরনের প্ররোচনায় অতি দ্রুত প্রতিক্রিয়া শুরুকরার পরিবর্তে অপেক্ষা করাই উত্তম। ভারতের সাবেক শীর্ষজন্য আমলা ও প্রসার ভারতী বোর্ডের প্রাক্তন সিইও জহর সরকার বিশ্বাস বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি আমাদের বুঝতে হবে এবং এ ব্যাপারে মানতেই হবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে নির্বাচনের ফলাফল যা-ই হোক না কেন, আমাদের উচিত অপেক্ষা করে দেখা, কোনও তৎপরতা বা হস্তক্ষেপ এড়ানো।

    বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি ভারতের দিল্লির ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও বিশ্লেষকদের অংশগ্রহণে বাংলাদেশের পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এই আলোচনায় উঠে এসেছে ভারতে কী ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া উচিত এবং ভবিষ্যতের সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন মতামত। তবে বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, এ অনুষ্ঠানে বিস্তারিতভাবে কখন ও কীভাবে আলোচনা হয়েছে, তা জানানো হয়নি।

    জহর সরকার বিশ্বাস আরও বলেন, যদি বাংলাদেশে নতুন সরকার ভারতের স্বার্থের বিরুদ্ধে যেতে থাকে, তবে তা আমাদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের সরকার একটি কেয়ারটেকার সরকার, যাদের জন্য অকারণে গুলি চালানো বা অতিরিক্ত আঘাতের প্রয়োজন নেই। নির্বাচন সম্পন্ন হলে তারা স্বাভাবিকভাবেই ক্ষমতা গ্রহণ করবে।

    অপরদিকে, হর্ষবর্ধন শ্রিংলা, ভারতের সাবেক হাইকমিশনার, বলছেন, যদি বাংলাদেশে ভুল করে কোনো সরকার ক্ষমতায় আসে, তবে তার নিরাপত্তা ও স্বার্থের জন্য এর পরিণতি কি হতে পারে, তা ভেবে তিনি উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, আমরা অবশ্যই আমাদের স্বার্থের জন্য প্রতিরক্ষা চালিয়ে যাব, তবে সবার সঙ্গে সহযোগিতা করার স্পিরিটও বজায় রাখব। তবে ভারতের স্বার্থ রক্ষায় আমাদের কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরও বলেন, যেখানে আমাদের সীমান্ত সংলগ্ন দেশগুলো তারা বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সমস্যা থাকলেও, তখনও আমাদের স্বার্থের প্রশ্ন আসে।

    আলোচনা সভায় অংশ নেওয়া অন্য একজন বিশেষজ্ঞ বলা হয়েছেন, ওপি জিন্দাল ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত। তিনি বলছেন, সাম্প্রতিক ঢাকা সফরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তিনি দেখেছেন আয়ত্তের বাইরে যাচ্ছে জামায়াতের শক্তি। তিনি ধারণা করছেন, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরাসরি অংশ নাও করতে পারে, আর ভারতেরও সেই বাস্তবতা বুঝতে হবে।

    শ্রীরাধা দত্তের বিশ্লেষণে উঠে আসে, গত তিনটি নির্বাচন বিতর্ক বা বিএনপি প্রত্যাখ্যানের মধ্যে পরিচালিত হওয়ার কারণে ভারতের দৃষ্টিতে তারা নাদুর্বল হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে এ পরিস্থিতি স্বীকার করে নিতে হবে, ভালো বা মন্দ, সেটি ওরা নিজেরাই ঠিক করবে। এর ফলে, বিভিন্ন দল ও নেতাদের মালিকানা ও মর্যাদা দেওয়ার জন্য রাজনীতিতে নমনীয়তা দেখাতে হবে।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দেশের রাজনৈতিক শক্তিবৃদ্ধি এবং জামায়াতে ইসলামী নতুন করে শক্তিশালী হওয়ার লক্ষণ দৃশ্যমান। বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও জামায়াতের প্রভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা তাদের অপরাধের জন্য নতুন রূপে প্রকাশিত হচ্ছে। হালনাগাদ ঢাকা সফরে, জামায়াতের নেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের সঙ্গে সাক্ষাতের পর, শ্রীরাধা দত্ত বলেছেন, তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, যদি সরকার গড়ার জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক দল পাওয়া যায়, তাহলে কি তারা শরিয়া আইন চালু করতে চান। তিনি উল্লেখ করেছেন, তারা কখনোই এ ব্যাপারে স্পষ্টভাবে বলেনি যে তারা সরকার এলে শরিয়া আইন আনতে চায়।

    শ্রীরাধা দত্তের মতে, জামায়াতের আসলে রয়েছে এক ‘চার্ম অফেনসিভ’, যা দেখানো হয় অপ্রতিরোধ্য ও মারমুখী শক্তি হিসেবে, কিন্তু বাস্তবে তাদের কার্যকলাপ ভিন্ন। ভারতেও এটা স্পষ্ট, জামায়াতের মূল পরিচয় মুসলিম ব্রাদারহুডের অংশ, যেখানে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও হর্ষবর্ধন শ্রিংলার মত বিশ্লেষকরা মনে করেন, জামায়াত কখনোই বাস্তবে পাল্টাবে না।

  • পাকিস্তান-সৌদি প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে ভারতের প্রতিক্রিয়া

    পাকিস্তান-সৌদি প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে ভারতের প্রতিক্রিয়া

    পাকিস্তান ও সৌদি আরব দুটি দেশ সম্প্রতি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তি অনুযায়ী, যদি কোনো এক দেশের ওপর আঘাত হানা হয়, তাহলে সেটি উভয় দেশের জন্য আগ্রাসন হিসেবে গণনা করা হবে। এই বিবৃতি দুদেশের মধ্যে সুদীর্ঘকাল ধরে চলে আসা একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারিত্বের নতুন চেহারা দেখিয়েছে। চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো একে অপরের প্রতিরক্ষা শক্তি জোরদার করা এবং কোন ধরনের হামলার বিরুদ্ধে যৌথভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা। খবরটি জানিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, এই পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে ভারতের সক্রিয় নজরদারি ও গভীর চিন্তাচরণ চলছে। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, “আমরা দেখেছি যে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে এই কৌশলগত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এটি একটি দীর্ঘদিনের অপ্রকাশিত সমঝোতার আনুষ্ঠানিক রূপ। আমরা এই চুক্তির প্রভাব খতিয়ে দেখছি, সেটি আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা, আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তা বিশ্লেষণ করছি। আমাদের দায়িত্ব, যেন দেশের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে ও সর্বস্তরে নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।” এর আগে, সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বাড়ি আল-ইয়ামামায় পাকিস্তান ও সৌদি আরবের যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, এই চুক্তি ঐতিহাসিক সম্পর্কের ভিত্তিতে, যেখানে ইসলামী ভ্রাতৃত্ব ও দীর্ঘদিনের সম্পর্কের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করার পাশাপাশি, একে অপরের বিরুদ্ধে যেকোনো আক্রমণের মোকাবিলায় যৌথ প্রতিরোধ গড়ে তোলার লক্ষ্য আছে। খবরটি প্রকাশের সময়ে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির উপস্থিত ছিলেন। বিশেষত, এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে যখন কাশ্মিরের পেহেলগামে হামলা এবং এর পরবর্তী ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের ঝুঁকি বেড়ে গেছে। অন্যদিকে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারত-সৌদি সম্পর্ক বেশ দৃঢ় হয়ে উঠছে। মোদির তিনবারের সৌদি সফর এবং ২০১৬ সালে তাঁকে দেওয়া ‘কিং আবদুল আজিজ স্যাশ’ সম্মাননা এই সম্পর্কের গভীরতা প্রমাণ করে। বর্তমানে, সৌদি আরব ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। এই সম্পর্কের উন্নতি ও গভীরতা উভয়ের মধ্যে গভীর সমঝোতা ও সহযোগিতা বাড়াচ্ছে।

  • নগরীতে অস্ত্র ও গুলিসহ চার মামলার আসামি গ্রেফতার

    নগরীতে অস্ত্র ও গুলিসহ চার মামলার আসামি গ্রেফতার

    খুলনায় পুলিশ অস্ত্র, গুলি এবং চারটি সন্ত্রাসী মামলার এক গুরুত্বপূর্ণ আসামি তানভীর ইসলাম নিলয়কে গ্রেফতার করেছে। বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার সময় নগরীর রূপসা স্ট্যান্ডের কাছ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। নিলয় এলাকার একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী, মনির হোসেনের ছেলে, এবং সে খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেনেড বাবুর সাথে যোগসাজশে থাকার কথা পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

    খুলনা থানার অফিসার ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনার দিন দুপুরে ইউনুস নামে এক যুবক চাঁদার জন্য স্টান্ডরোডে ডাকে আসেন। এরপর একজন অপার্যায়ী চাঁদা না দিতে চাইলে তার উপর হামলা চালানো হয়। স্থানীয়রা সংবাদ দেন, এর পরেই পুলিশ দরজা খুলে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং ভিকটিম ইউনুুসকেকে উদ্ধার করে। এ সময় পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে নিলয়কে হাতেনাতে আটক করে।

    পরবর্তী সময়ে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তার ঘর থেকে একটি সুটার গান ও এক গুলি উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় থানায় একটি মামলা রুজু করার প্রস্তুতি চলছে।

    শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, এর আগে তিনি সোনাডাঙ্গা থানায় অফিসার ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশ ও তার গ্রুপের বেশকিছু সদস্যকে গ্রেফতার করেছেন। খুলনায় দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি তার প্রথম বড় অভিযান, যার মাধ্যমে তিনি দৃঢ়ভাবে ঘোষণা দেন, এলাকায় কোন সন্ত্রাসীদের স্থান হবে না।

  • জনসংখ্যা বাড়লেও স্বাস্থ্যসেবা ও পরিষেবা ঝুঁকিতে: ফিরোজ সরকার

    জনসংখ্যা বাড়লেও স্বাস্থ্যসেবা ও পরিষেবা ঝুঁকিতে: ফিরোজ সরকার

    খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ ফিরোজ সরকার বলেছেন, দেশের জনসংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার ফলে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জেও পড়ে যাচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা এবং পরিষেবাগুলো। তিনি একমত প্রকাশ করে বলেন, এই অতিরিক্ত জনসংখ্যার জন্য স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ব্যবস্থা গঠন অপরিহার্য। এ ধরনের প্রকল্পের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সম্ভাব্যতা যাচাই এবং এর সুষ্ঠু কার্যকরী মনিটরিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সোমবার দুপুরে নগর ভবনের শহিদ আলতাফ মিলনায়তনে ‘‘ক্লাইমেট স্মার্ট ওয়াশ সিস্টেম ইন খুলনা সিটি কর্পোরেশন’’ শীর্ষক প্রকল্পের পরিচিতি অনুষ্ঠানকালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। ইউনিসেফের অর্থায়ন ও কারিগরি সহযোগিতায় খুলনা সিটি কর্পোরেশন ও খুলনা ওয়াসা এই প্রকল্প যৌথভাবে বাস্তবায়ন করবে। তিনি আরও বলেন, প্লাস্টিক পানির ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে সজাগ থাকতে হবে। হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে নির্গত বর্জ্যর সঙ্গে অন্য বর্জ্য মিশে যায়, যা একজনের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি সৃষ্টি করে। নার্স ও ক্লিনারদের প্রশিক্ষণে এমন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন। এছাড়া, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও লবণাক্ত পানির প্রভাবে কৃষি উৎপাদন হ্রাস পাওয়ায় আশপাশের গ্রামীণ ও উপকূলীয় এলাকার মানুষ শহরে আসছে। তারা বিভিন্ন বস্তিতে বাসস্থান গ্রহণ করছে, যেখানে পানি সরবরাহ, স্বাস্থ্যসেবা, স্যানিটেশন ও শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যাপক সমস্যা দেখা দিয়েছে। ফলে মহিলাসহ শিশুরা পানিবাহিত রোগ, চর্মরোগ, শ্বাসকষ্ট এবং প্রজনন সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতায় আক্রান্ত হচ্ছে। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো এমন বস্তিবাসীদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, স্যানিটেশন ও হাইজিনের মান উন্নত করা। প্রাথমিকভাবে, নিরাপদ পানীয় জল সরবরাহের জন্য ওয়াটার এটিএম বুথ, দূষিত পানি পরিশোধনাগার ও মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এতে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ উপকৃত হবেন বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শরীফ আসিফ রহমান। উপস্থিত ছিলেন প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, যোগাযোগ কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কোহিনুর জাহান, পরিকল্পনা অফিসার আবির উল জব্বার, বাজেট কর্মকর্তা মোঃ মনিরজ্জামান, নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মোঃ মাসুদ করিম, আর্কিটেক্ট রেজবিনা খানম, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোল্লা মারুফ রশিদ, ওয়ার্ডের বিভিন্ন কর্মকর্তাগণ। এছাড়াও খুলনা ওয়াসা, ইউনিসেফ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্যরা এই সভায় উপস্থিত ছিলেন।

  • নির্বাচন অফিস ঘেরাও ৩য় দিন অব্যাহত, নেতাকর্মীরা তাবু টানিয়ে অবস্থান করছেন

    নির্বাচন অফিস ঘেরাও ৩য় দিন অব্যাহত, নেতাকর্মীরা তাবু টানিয়ে অবস্থান করছেন

    বাগেরহাটে চারটি সংসদীয় আসন ধরে রাখতে ও তাদের আওতায় আনতে গত তিনদিন ধরে জেলা নির্বাচন অফিসের ঘেরাও ও অবরোধ অব্যাহত রেখেছেন বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই তারা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে একটি তাবু লাগিয়ে অবস্থান নিয়েছেন। সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে মিছিল নিয়ে সেখানে জড়ো হতে শুরু করে।

    আসন্ন দুর্গাপূজার শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির নেতারা। তারা জানিয়েছেন, তাদের দাবি মানা না হলে এ আন্দোলন চলবে এবং প্রয়োজনে আরো কঠোর আন্দোলন করতে তারা প্রস্তুত। এই প্রতিবাদে তারা বলছেন, না মানা পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

    সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির কো-অভিনেতা ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ সালাম বলেন, “আজ তৃতীয় দিন চলছে জেলা নির্বাচন অফিস ঘেরাও ও অবস্থান ধর্মঘট। আমরা ইতিমধ্যে আদালতে রিট দায়ের করেছি, আদালত প্রাথমিকভাবে ১০ দিনের রুল জারি করেছে। আমাদের দাবি মানা না হলে আন্দোলন চালিয়ে যাব।” তিনি আরও জানিয়েছেন, প্রয়োজনে অসহযোগ আন্দোলন চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

    অপরদিকে, বাগেরহাটে চারটি সংসদীয় আসন সংক্রান্ত ঘোষণা নিয়ে হাইকোর্ট এক রুল জারি করেছেন। এতে জানতে চাওয়া হয়েছে, কেন এই চারটি আসন বহাল থাকবে না এবং কেন এক আসন কমিয়ে তিনটি করা হবে না। একইসঙ্গে, কেন নির্বাচনী গেজেটে এই পরিবর্তন অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। আদালত আগামী ১০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

    গত ৩০ জুলাই দুপুরে নির্বাচনের জন্য প্রাথমিকভাবে বাগেরহাটের চার আসনই থাকছে বলে ঘোষণা দেয়া হয়। এরপর থেকেই এলাকায় আন্দোলন শুরু হয়। চারটি আসন বহাল রাখার দাবিতে নির্বাচন কমিশনের শুনানিতেও অংশগ্রহণ করেন বাগেরহাটবাসী। কিন্তু ৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন শুধু সীমানা পরিবর্তন করে তিনটি আসনই চূড়ান্ত করে ঘোষণা করে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে স্থানীয় নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, এতে সাধারণ মানুষের আকাঙ্খা ও দাবিকে উপেক্ষা করা হয়েছে।

    চূড়ান্ত গেজেটে বাগেরহাটের আসনগুলো হলো: বাগেরহাট-১ (বাগেরহাট সদর, চিতলমারী, মোল্লাহাট), বাগেরহাট-২ (ফকিরহাট, রামপাল, মোংলা) ও বাগেরহাট-৩ (কচুয়া, মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা)।

    প্রাথমিক অবস্থা অনুযায়ী, আগে এই চারটি আসন ছিল: বাগেরহাট-১ (চিতলমারী, মোল্লাহাট, ফকিরহাট), বাগেরহাট-২ (বাগেরহাট সদর, কচুয়া), বাগেরহাট-৩ (রামপাল, মোংলা) ও বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা)। দীর্ঘদিন ধরে এই চারটি আসনের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল।

  • মোংলায় ৬৮৮ পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারী আটক

    মোংলায় ৬৮৮ পিস ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারী আটক

    কোস্ট গার্ড ও পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে মোংলা বন্দরের পুরাতন আবাসিক এলাকার একটি বাড়ি থেকে ৬৮৮ পিস ইয়াবা ও এক নারী মাদক কারবারীকে আটক করেছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের মিডিয়া অফিসার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মুনতাসির ইবনে মহসিন এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

    অভিযানটি গোপন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ঘটেছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর বুধবার দুপুরের পর, কোস্ট গার্ডের নৌবাহিনী ও মোংলা থানার পুলিশ সম্মিলিতভাবে মোংলা পোর্টের পুরাতন আবাসিক এলাকা, কবরস্থান রোড সংলগ্ন এলাকায় এক বিশেষ অভিযান চালায়। এ সময় শুমী বেগম নামে এক নারী মাদক কারবারীকে গ্রেফতার করা হয়। তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৩ লাখ ৪৪ হাজার টাকার সমান মূল্যবান ৬৮৮ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

    আটককৃত শুমী বেগম ও জব্দদ্রব্যের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাকে মোংলা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

    কোস্ট গার্ড এর কর্মকর্তা লে: কমান্ডার মুনতাসীর ইবনে মহসিন জানান, মাদক ব্যাবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের সতর্ক ও কঠোর পদক্ষেপ চালিয়ে যাবে, যাতে মাদক প্রবেশ ও মোটরসাইকেল বন্ধ করা যায় এবং সমাজকে মাদকমুক্ত করা সম্ভব হয়।

  • মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের জন্য হেলমেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক : কেএমপি কমিশনার

    মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের জন্য হেলমেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক : কেএমপি কমিশনার

    খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) কমিশনার মো: জুলফিকার আলী হায়দার স্পষ্ট করেছেন, সব মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীকে অবশ্যই হেলমেট পরতে হবে। তিনি সবাইকে একযোগে কাজ করে খুলনার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সুনিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। বুধবার সকালে বয়রাস্থ পুলিশ লাইন্সে অনুষ্ঠিত কেএমপির কল্যাণ সভায় এই নির্দেশনা দেন তিনি। সভার শুরুতে গত সভার প্রস্তাবনা ও তার বাস্তবায়ন পরিস্থিতি আলোচনা হয়। পাশাপাশি, কমিশনার বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশের সদস্যদের দাবি-দাওয়ার দ্রুত সমাধানে নির্দেশনা দেন। বিবৃতি দিতে গিয়ে তিনি বলেন, সকল স্তরে পুলিশের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আন্তরিকতার সাথে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। পুলিশ লাইন্সের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা এবং স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়েও তিনি প্রশংসা করেন। পুলিশ সদস্যদের শারীরিক সুস্থতা ও রোগ প্রতিরোধের জন্য মৌসুমি ফল খাওয়ার পরামর্শ দেন। সভায় খুলনা বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা: সৈয়দ একেএমএন করিম জানান, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো রোগের প্রতিরোধে সতর্কতা অবলম্বন ও দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার গুরুত্ব রয়েছে। দীর্ঘ চাকরি শেষে দুই পুলিশ সদস্য অবসরে গেলে, তাদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও উপহার দিয়ে সম্মানিত করা হয়। তারা সুস্থ থাকবেন ও দীর্ঘায়ু লাভ করবেন এই কামনা জানানো হয়। সভায় অতিরিক্ত কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ, মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা অংশ নেন।