Month: September 2025

  • নরসিংদীতে গৃহবধূকে গুলি করে হত্যা

    নরসিংদীতে গৃহবধূকে গুলি করে হত্যা

    নরসিংদী সদর উপজেলার আলোকবালী ইউনিয়নের বীরগাঁও সাতপাড়া গ্রামে গত শুক্রবার দুপুরে প্রতিপক্ষের গুলিতে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তি হলেন ফেরদৌসী আক্তার (৩৫), যিনি ওই গ্রামের রায়েস আলীর স্ত্রী। স্থানীয় পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বেশ কিছুদিন ধরে আলোকবালীতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা চলছিল। এ পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার সকালে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়, যেখানে একজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হন। এই ঘটনার পর শুক্রবার দুপুরে একপক্ষের লোকজন অপ্রকাশ্যে গুলি চালানো শুরু করে, যার ফলে ফেরদৌসী গুলিবিদ্ধ হন ও ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন। এরপর এলাকাবাসীর প্রতিরোধে হামলাকারীরা পিছু হটে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন চন্দ্র সরকার জানান, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে আছে। কিন্তু ঘটনাস্থলে পুলিশের মোতায়েন অব্যাহত রয়েছে। এর আগে, বৃহস্পতিবারই দুই পক্ষের সংঘর্ষে ইদন মিয়া নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়, আহত হন আরও পাঁচজন। এই ঘটনাগুলির মাধ্যমে এই এলাকার উত্তেজনা ও অস্থিতিশীলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

  • আওয়ামী লীগের মিছিলে নেতৃত্ব দেয়া তেজগাঁও কলেজের শিক্ষক কারাগারে

    আওয়ামী লীগের মিছিলে নেতৃত্ব দেয়া তেজগাঁও কলেজের শিক্ষক কারাগারে

    আওয়ামী লীগ জাতীয় সংগঠনটির নিষিদ্ধ কর্মসূচিতে অংশ নেয়া এবং হাতবোমা ফাটানোর অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তেজগাঁও কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক এস এম আশরাফুল আলম আসকরকে আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত, তদন্ত কর্মকর্তা তার জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে মঙ্গলবার পর্যন্ত কারাগারে রাখা নির্দেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আরিফ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    আসকের পক্ষ থেকে তার আইনজীবী ঈসমাইল হোসেন পাটোয়ারী জামিনের জন্য আবেদন করেছিলেন, তবে রাষ্ট্রপক্ষে প্রসিকিউটর আজিজুল হক দিদার তা ব refuse করেছেন। শুনানি শেষে আদালত জামিন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর সিদ্ধান্ত জানায়।

    আদালত সূত্রে জানা গেছে, আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দেখা গেছে, তিনি সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। অভিযোগ উপস্থাপনায় বলা হয়, আসকর নিষেধাজ্ঞা থাকা আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের মাধ্যমে ঢাকায় ঝটিকা মিছিলের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন এবং মিছিল আয়োজনের অর্থ যোগান দিচ্ছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যার সত্যতা যাচাই-বাছাই চলছে। অনুমান করা হচ্ছে, জামিনে মুক্তি পেলে তিনি পলিয়ে যেতে পারেন।

    অধ্যাপক আসকর তেজগাঁও কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান। এর পাশাপাশি তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর থানা আওয়ামী লীগ এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও মহানগর আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক। ৭ সেপ্টেম্বর সংসদ ভবন এলাকায় আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের ঘটনাও এখানে উল্লেখ্য।

    এই মিছিলের সময় হাতবোমা বিস্ফোরণের অভিযোগে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে তেজগাঁও থানায় মামালা হয়, যেখানে উল্লেখ করা হয় যে, ওই দিন সকালে তেজগাঁওয়ের মনিপুরীপাড়ার পার্ক টাউন রেস্টুরেন্টের সামনে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ, যুবলীগসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ব্যানারসহ মিছিল করে। পরে তারা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য পরপর দু’টি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কয়েকজনকে আটক করলেও বেশিরভাগ কর্মী পালিয়ে যায়।

    বিষয়ক পুলিশ বলছে, এই ঘটনায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় আসকরকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে দুপুরে আদালতে হাজির করে পুলিশ তাকে কারাগারে রাখার আবেদন জানায়।

  • কানাডার বাংলাদেশ ভ্রমণে উচ্চ সতর্কতা জারি

    কানাডার বাংলাদেশ ভ্রমণে উচ্চ সতর্কতা জারি

    কানাডা বাংলাদেশের ভ্রমণে তাদের নাগরিকদের জন্য সতর্কতা জারি করেছে। দেশটির সরকারীয় ওয়েবসাইটের ‘ভ্রমণ’ বিভাগে শুক্রবার এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এই সতর্কতা জানান। এতে বলা হয়, বাংলাদেশে বর্তমানে যে পরিস্থিতি রয়েছে, সেটি খুবই সংবেদনশীল বা অস্থির। এজন্য বাংলাদেশের পুরো অঞ্চলসমূহে উচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার আহ্বান জানানো হয়। বিশেষ করে পার্বত্য তিন জেলায় ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কানাডা। অর্থাৎ, এই অঞ্চলে প্রবেশ বা ভ্রমণ এড়ানো উচিত। এই সতর্কতামূলক চিহ্নগুলো হলো হলুদ, যা নির্দেশ করে সেখানে নিরাপত্তার জন্য উচ্চ পর্যায়ে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে; এবং লাল চিহ্ন, যা নির্দেশ করে পার্বত্য অঞ্চলে ভ্রমণে সম্পূর্ণ এড়ানো জরুরি। কানাডা সরকারের তরফে সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে সম্ভাব্য বিক্ষোভ, সংঘর্ষ এবং দেশব্যাপী হরতাল-অবরোধের কারণে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। নাগরিকদের বলা হচ্ছে, হয়তো কোনো আগাম সংঙ্কেত ছাড়াই পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে, তাই সদাশয্য থাকতে হবে। বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামে দেশজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, সহিংসতা, অপহরণ এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে ছোটাছুটি সহ নানা অরাজকতা রোধে সেইসব এলাকায় ভ্রমণ এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

  • ড. ইউনূসের গুরুত্বারোপ: পরিচ্ছন্ন ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সমাধান প্রয়োজন

    ড. ইউনূসের গুরুত্বারোপ: পরিচ্ছন্ন ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সমাধান প্রয়োজন

    প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশকে এখনই পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হতে হবে। এতে দেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি গড়তে সাহায্য করবে। গত শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এ এক বার্তায় এ কথা জানান।

    এর আগে, বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে অ্যানথ্রোপোসিন ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান কার্ল পেজ ও তার সহকর্মীদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে ড. ইউনূস এ বিষয় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যান্য ঘনবসতিপূর্ণ ও জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মতো বাংলাদেশও দীর্ঘমেয়াদে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল থাকা সম্ভব নয়। এখন সময় এসেছে বিকল্প ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতে গুরুত্ব দেওয়া, যার মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

    তিনি জানান, গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজের ভাই কার্ল পেজ পরবর্তী প্রজন্মের পারমাণবিক প্রযুক্তির অগ্রগতি ও হাইব্রিড সিস্টেমের উপকারিতা তুলে ধরেন। এগুলো নির্ভরযোগ্য ও শূন্য-কার্বন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য সক্ষম। তিনি আরও বলেন, বার্জ ভিত্তিক পারমাণবিক চুল্লিগুলি সাশ্রয়ী, কম রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন এবং বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান শিল্পের জন্য দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ সরবরাহে সহায়ক।

    পেজ বলেন, পারমাণবিক শক্তি আজ আর বিশ্বব্যাংকের মতো উন্নয়ন অর্থায়ন সংস্থাগুলোর জন্য নিষিদ্ধ নয়। ইন্দোনেশিয়াসহ অন্যান্য দেশ ইতোমধ্যে এই প্রযুক্তি গ্রহণ করেছে এবং নিজেদের জ্বালানি চাহিদা মেটাচ্ছে। তিনি মন্তব্য করেছেন, বাংলাদেশের শক্তিশালী উদ্ভাবনী রেকর্ড থাকায় দেশটি পরিচ্ছন্ন জ্বালানি রূপান্তরমূলক পদক্ষেপে নেতৃত্ব দিতে পারে। এর মাধ্যমে সৃষ্টি হবে কর্মসংস্থান, জ্বালানির দাম স্থিতিশীল হবে এবং শিল্প খাতের প্রতিযোগিতা বাড়বে।

    পেজ আরও বলেন, বাংলাদেশ উদীয়মান প্রযুক্তির জন্য একটি কৌশলগত কেন্দ্র হতে পারে এবং পারমাণবিক গবেষণায় শান্তিপূর্ণ নেতৃত্ব প্রদান করতে পারে।

    অধ্যাপক ইউনূস জানান, সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকার এক নতুন জাতীয় বিদ্যুৎ নীতি অনুমোদন করেছে, যেখানে সৌর জ্বালানির গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, পারমাণবিক বিকল্পের দিকে যাওয়ার আগে কঠোর গবেষণা ও সম্ভাব্যতা যাচাই অপরিহার্য। তিনি বলেন, এই সব সুযোগ অবশ্যই অনুসন্ধান করতে হবে, তবে গভীর গবেষণা ও প্রস্তুতিতে মনোযোগ দিতে হবে। নিঃসন্দেহে বাংলদেশকে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে দ্রুত সরে আসা জরুরি।

    সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং সরকারের সিনিয়র সচিব ও এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদসহ অন্যান্য পদস্থ কর্মকর্তারা।

  • চরমোনাই পীরের আহ্বান: জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত না করে নির্বাচন হলে জনগণ প্রতিহত করবে

    চরমোনাই পীরের আহ্বান: জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত না করে নির্বাচন হলে জনগণ প্রতিহত করবে

    ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করিম (চরমোনাই পীর) বলেছেন, জরুরি ভিত্তিতে জুলাই সনদের আইনি বৈধতা নিশ্চিত না করে যদি নির্বাচন আয়োজন করা হয়, তাহলে জনতার সম্মিলিত প্রতিরোধ এড়ানো যাবে না। তিনি আরও বলেছেন, স্বাধীনতার ৫৩ বছর পেরিয়ে গেলেও দেশের মৌলিক অধিকার, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদার উন্নয়ন এখনো সম্পন্ন হয়নি, এজন্য দ্রুত পরিবর্তন প্রয়োজন।

    শুক্রবার বাড্ডা ইউলুপ সংলগ্ন যাত্রাবাড়ি এলাকার মেইন রোডে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আয়োজিত পাঁচ দফা দাবি সংবলিত গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানের শুরুতে সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করিম দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা ও স্বাধীনতার পর থেকে চলমান ব্যর্থতা পরিষ্কারভাবে সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার সময় আমাদের মূল তিনটি শ্লোগান ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার। কিন্তু বাস্তবে যারা দেশের ক্ষমতা দখল করে রেখেছে, তারা কোনওটাই পূরণ করতে পারেনি। গত ৫৩ বছর ধরে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকা ব্যক্তিরা জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।

    চরমোনাই পীর উল্লেখ করেন, ২৪শে আগস্টের অভ্যুত্থানে তৈরি নতুন রাজনৈতিক পরিবেশ এখন ইসলামের পক্ষে। দেশের মানুষ বুঝতে পেরেছে, আগের শক্তিগুলি আবার ক্ষমতায় এলে তারা প্রকৃতির অতীতের মতোই আবার জনগণের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে প্রতারণা করবে। তিনি আরো বলেন, এই পরিবর্তনের জন্যই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জনগণের কাছে পরিষ্কার ও শক্তিশালী নীতিমালা-আদর্শ উপস্থাপন করেছে। আমাদের নীতি-আদর্শ নিশ্চিত করে সকল শ্রেণির মানুষের ন্যায়, মর্যাদা ও সাম্যের অধিকার। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যে নীতি-আদর্শ রেখেছেন, তার বাইরে কেউ কখনো শান্তি বা মুক্তি পাবে না। একারণে আমাদের আন্দোলন শুধু রাজনৈতিক নয়, এটি একটি নৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের আন্দোলন।

    সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করিম আরও বলেন, আমরা চাই, দেশের প্রতিটি নাগরিক তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হোক। যারা ক্ষমতা দিয়ে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ, তাদের জন্য পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে এই পরিবর্তন আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করছে। আমাদের লক্ষ্য কেবলমাত্র রাজনৈতিক ক্ষমতা নয়, বরং দেশের প্রতিটি মানুষের ন্যায় ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা।

    সমাবেশে তিনি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নাগরিক অধিকার, সুষ্ঠু নির্বাচনের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি জানান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঐক্যবদ্ধভাবে নীতি-আদর্শের পথ ধরে জনগণের অধিকার রক্ষা ও দেশের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ চালিয়ে যাবে।

  • ইলিয়াস কাঞ্চনের সিনেমার নায়িকা বনশ্রী আর নেই

    ইলিয়াস কাঞ্চনের সিনেমার নায়িকা বনশ্রী আর নেই

    বিনোদন অঙ্গনে শোকের ছায়া ফের ঘনীভূত হয়েছে। বাংলাদেশের জনপ্রিয় ঢাকাই সিনেমার অভিনেত্রী শাহিনা শিকদার বনশ্রী মারা গেছেন। মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু ঘটে। এই খবরটি পরিবারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

    পারিবারিক সূত্র জানায়, মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার শিকদারকান্দি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এই অভিনেত্রী। ১৯৭৪ সালের ২৩ আগস্ট তিনি জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৯৪ সালে ‘সোহরাব-রুস্তুম’ সিনেমার মাধ্যমে তার চলচ্চিত্র জীবন শুরু হয়। এই ছবিতে তিনি ইলিয়াস কাঞ্চনের সঙ্গে জুটি বেঁধেছিলেন, যা তার ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ছিল।

    প্রথম দিকে ইলিয়াস কাঞ্চনের বিপরীতে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের মন কেড়ে নেন। এরপর আরও বেশ কিছু সিনেমায় কাজ করেন, যেখানে তিনি জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছান। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘সোহরাব-রুস্তম’ ও ‘মহা ভূমিকম্প’ সহ বেশ কিছু জনপ্রিয় সিনেমা, যেখানে তাঁর সঙ্গে ছিলেন মাল্টি-স্টার অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন, মান্না, আমিন খান, রুবেলসহ অন্যান্য তারকা।

    তাঁর অভিনয় জগতে অবদান স্বীকৃতি হিসেবে নব্বইয়ের দশকে তিনি বেশ কিছু সিনেমার অভিনেত্রী হিসেবে উচ্চ স্থান পান। তবে সময়ের ছাপে অবসর নিয়ে নিজ এলাকায় ফিরে যান। একসময় আশ্রয়ণ প্রকল্পে একটি ঘরে বসবাস করা শুরু করেন, যেখানে তিনি তাঁর ছেলে মেহেদী হাসান রোমিওকে নিয়ে থাকতেন।

    অবশেষে, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি আর জীবনযুদ্ধে জিতে উঠতে পারেননি। তার মৃত্যুতে বাংলা চলচ্চিত্রের এক আলোচিত ও জনপ্রিয় নায়িকার বিদায় হলো।

  • বলিউড তারকা সোনু সুদের বিরুদ্ধে জুয়া-কাণ্ডের অভিযোগ, ইডির তলব

    বলিউড তারকা সোনু সুদের বিরুদ্ধে জুয়া-কাণ্ডের অভিযোগ, ইডির তলব

    বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা এবং মানবতার জন্য কাজ yapan সোনু সুদ এই মুহূর্তে একটি বড় সমস্যায় পড়েছেন। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সবসময় মানবতার মুখ হিসেবে পরিচিত এই তারকার বিরুদ্ধে এখন জুয়া সংক্রান্ত একটি অণলাইন অ্যাপের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। ভারতের কেন্দ্রীয় সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে এবং তাকে এরপর থেকে তলব করেছে।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট বেটিং অ্যাপ সংস্থার সঙ্গে কেমন শর্তে, কত টাকা বিনিময়ে এবং কত বছরের জন্য তারকার সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল তা বুঝতে চাইছে ইডি। তদন্তের স্বার্থে এই বিষয়ে ফাইনালি প্রশ্ন করতে পারে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা।

    প্রসঙ্গত, গত বছর থেকেই অনলাইন বাজি ও জুয়া সংক্রান্ত অ্যাপের প্রচারাভিযানের জন্য বিভিন্ন বলিউড এবং দক্ষিণী সিনেমার তারকাদের পাশাপাশি ক্রিকেটারদেরকেও আইনি ঝামেলায় পড়তে দেখা গেছে। তালিকায় রয়েছে বিজয় দেবেরাকোন্ডা, রানা ডাগ্গুবতী, প্রকাশ রাজের মতো অভিনেতা-অভিনেত্রী এবং ক্রিকেটের তারকা সুরেশ রায়না, হরভজন সিং ও উর্বশী রাওতেলা।

    জুলাই মাসে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তাঁদের কাছ থেকে বয়ান রেকর্ড করে। জানা গেছে, এই তদন্তের অংশ হিসেবে নিষিদ্ধ অনলাইন বেটিং অ্যাপের প্রচার নিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে এবার ডাক পড়েছে সোনু সুদের। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর তাকে অফিসে হাজির থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এরই মধ্যে ইডির ডাকা অনুযায়ী, টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়। ঘণ্টাদীর্ঘ এই জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি স্পষ্ট-বাণী দিয়ে সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। এই শুনানি সফল ভাবে সমাপ্ত হওয়ার পর ইডি সন্তুষ্ট হয়েছে বলে জানা গেছে।

  • অভিনয় ছাড়ার পর রিজিক নিয়ে প্রশ্ন, যা বললেন তামিম মৃধা

    অভিনয় ছাড়ার পর রিজিক নিয়ে প্রশ্ন, যা বললেন তামিম মৃধা

    বর্তমান সময়ের সুখ্যাত অভিনেতাদের একজন ছিলেন তামিম মৃধা। তিনি ছিলেন একজন জনপ্রিয় ইউটিউবার ও গায়ক হিসেবেও। তবে বেশ কিছুদিন ধরে তিনি শোবিজ অঙ্গন থেকেও দূরে থাকছেন এবং ধর্মের পথে হাঁটছেন। তার বাহ্যিক রূপেও ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে; এখন তিনি দাঁড়ি রাখছেন এবং নানা ধরনের ইসলামিক কনটেন্ট প্রকাশ করছেন।

    তামিম মৃধাকে প্রায়ই বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে দেখা যায়, যেখানে তিনি মূলত ইসলামিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেন। এ ছাড়া তিনি রোজকার জীবনে ধর্মের কাজগুলোতে মনোযোগী। সম্প্রতি তিনি অভিনয় ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার পর ভক্তদের মধ্যে রিজিক নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। এর জবাবে তিনি নিজেস্ব অভিজ্ঞতা ও ভাবনা ব্যক্ত করেছেন।

    সম্প্রতি ওমরাহ পালন করে তিনি নিজের একটি ছবি ফেসবুকে প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, অনেকেই তাঁর রিজিকের অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন করেন। সেই প্রশ্নের জবাবে তামিম বলেন, ‘আমি ভাবি, আসলে রিজিক কি?’ তিনি বলেন, ‘ঘুমাচ্ছি, কথা বলছি, হাঁটছি—এসবই আমার রিজিক। আমি যেন শান্তি পেয়ে থাকি, সন্তুষ্ট থাকতে পারি, এটাই আসল রিজিক।’

    তামিম আরও যোগ করেন, ‘আল্লাহকে এবং নিজের প্রতি সন্তুষ্টির মাঝে আমি আমার সবথেকে প্রিয় স্থান খুঁজে পাই। এটাই আমার জীবনে সবচেয়ে বড় সম্পদ, আলহামদুলিল্লাহ।’

    শেষে তিনি দোয়া জানিয়ে বলেন, ‘আল্লাহ যেন আমাদের সবাইকেই অন্তত এক বার এই অবস্থানে আসার তৌফিক দেন, আমিন।’

  • ইত্যাদির ‘নাতি’খ্যাত অভিনেতা শওকত আলী তালুকদারের বাবা মারা গেছেন

    ইত্যাদির ‘নাতি’খ্যাত অভিনেতা শওকত আলী তালুকদারের বাবা মারা গেছেন

    মহানগরীর জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদির ‘নাতি’খ্যাত অভিনেতা শওকত আলী তালুকদারের বাবা মৃত্যু বরণ করেছেন। বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে তিনি ইন্তেকাল করেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইত্যাদি অনুষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।

    শওকত আলী তালুকদারের বাবা দীর্ঘ দিন ধরে গলার ক্যান্সারে ভুগছিলেন। এর আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছিলেন এবং পরে উত্তরার আহসানিয়া মিশন ক্যান্সার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে তাঁদের চিকিৎসা চলছিল।

    বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় উত্তরায় বাবার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর লাশ জামালপুরের নিজ গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আরেক দফা জানাজা শেষে মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    শওকত আলী তালুকদার তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে বড়। তাঁর গ্রামের বাড়ি জামালপুর হলেও পরিবারসহ তিনি উত্তরায় বসবাস করেন। জন্মও ঢাকায়। ইত্যাদির পাশাপাশি অন্য কোনো নাটক বা সিনেমায় তাঁকে দেখা যায়নি। এটি তার একমাত্র পরিচিত চরিত্র ও কাজের পরিচয়।

  • দিশা পাটানির বাড়িতে হামলায় পুলিশের গুলিতে দুই সন্দেহভাজন নিহত

    দিশা পাটানির বাড়িতে হামলায় পুলিশের গুলিতে দুই সন্দেহভাজন নিহত

    সম্প্রতি বলিউড অভিনেত্রী দিশা পাটানির বাড়িতে হামলা চালিয়েছে একদল বন্দুকধারী। পুলিশের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত দুই ব্যক্তিকে ধরতে বুধবার একটি অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় পুলিশের সঙ্গে হামলাকারীদের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এই সংঘর্ষে আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি ছোড়ে, যার ফলশ্রুতিতে অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি ঘটনাস্থলে নিহত হন।

    প্রাড়া–প্রার্থী নিহত দুই ব্যক্তির নাম রবীন্দ্র (রোহতক) ও অরুণ (সোনিপত)। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি গ্লক পিস্তল, একটি জিগানা পিস্তল এবং বেশ কয়েকটি গুলির কার্তুজ উদ্ধার করে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যু Gust দেরই গোল্ডি ব্রার গ্যাংয়ের সক্রিয় सदस्य ছিলেন। অভিযানের সময় তারা আত্মসমর্পণ না করে পাল্টা গুলি চালায়। পুলিশ তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালালে গুরুতর জখম হয় এবং পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর তারা মৃত্যুবরণ করে।

    এর আগে, ১২ সেপ্টেম্বর ভোর ৩টার দিকে আশেপাশে অজ্ঞাত পরিচয়ের দুই ব্যক্তি মোটরবাইকে করে এসে প্রায় ১০ থেকে ১২ রাউন্ড গুলি চালায়। এই ঘটনার পরে সেদিনই উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন দিশার পরিবারের সদস্যরা। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দেন, অপরাধীদের খুঁজে বের করে কঠোরভাবে শাস্তি দেওয়া হবে।

    উল্লেখ্য, দিশার বাড়িতে গুলি চালানোর কারণ হিসেবে গোল্ডি ব্রার ও লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং দাবি করেছিল তারা হিন্দু ধর্মকে অপমান করে থাকলেও, দিশা বা তার পরিবারের বিরুদ্ধে এই অভিযোগের প্রমাণ কিছুই দেয়নি। গোল্ডির মতে, দিশার পরিবারের সঙ্গে যুক্ত একজন আধ্যাত্মিক গুরু ও কিছু ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ ছিল। গোল্ডি দাবি করে, এই হামলা হিন্দু ধর্মের অপমানের প্রতিশোধ হিসেবেও হতে পারে। তবে পুলিশের ধারণা, এই ঘটনা পরিকল্পিত অপরাধ ও ধর্মীয় কোনও কারণ নয়।